| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কখনো কি জানতে ইচ্ছে করে, যে পৃথিবীতে আমরা বেঁচে আছি তা আসলে কত বড়? মাথার উপরের আকাশটার শেষ কোথায়, নাকি আকাশের ওপারেও রয়েছে অন্য আকাশ, রয়েছে অন্য এক অচেনা পৃথিবী? কিছু প্রশ্ন করা হয় না কোনোদিন, তাই কিছু প্রশ্নের উত্তর চিরকালই থেকে যায় অজানা। আসুন না, আজকে একটু বেরিয়ে আসি পৃথিবীর বাইরে থেকে। মহান রবের অসীম সৃষ্টিকে নিজের মত একটু বুঝার চেষ্টা করি। দেখি পারি কিনা?
.
আমরা যে গ্রহে বাস করছি তার নাম যে পৃথিবী একথা সবারই জানা। এই পৃথিবী তার সাথে আরও ৭ টি গ্রহ ও তাদের শতাধিক উপগ্রহ নিয়ে সূর্য নামক নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এই ৮ টি গ্রহ, উপগ্রহসমূহ ও সূর্যকে নিয়েই আমাদের সৌরজগৎ। কতগুলো গ্রহ-উপগ্রহ ও সূর্যকে নিয়ে যেমন সৌরজগৎ গঠিত হয়, তেমনি এরকম অসংখ্য সৌরজগৎ নিয়ে গঠিত হয় একটি ছায়াপথ বা গ্যালাক্সি। মিল্কিওয়ে হল এই রকম একটি গ্যালাক্সি, যার মাঝেই আমাদের পৃথিবীর অবস্থান।
.
একজন সাধারন মানুষের পক্ষে পৃথিবীটা আসলে কত বড় তার সঠিক আন্দাজ করা সত্যি কঠিন। ছোট্ট একটি পরিসংখ্যান দেই, তাহলে বুঝতে সহজ হবে। বর্তমানে পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন। ২০৩০ সাল নাগাদ এই জনসংখ্যা প্রায় ৮.৫ বিলিয়নে দাঁড়াবে। মজার ব্যাপার হল, এই সকল মানুষকে যদি একসাথে আমেরিকার টেক্সাস স্টেটে রেখে দেয়া হয় তারপরও টেক্সাসের অনেক জায়গা খালিই রয়ে যাবে। পুরো পৃথিবীর কথা না হয় বাদ ই দিলাম।
.
পৃথিবীর পৃষ্ঠের আয়তন হচ্ছে ১৯৬.৯ মিলিয়ন স্কয়ার মাইল। একজন একজন মানুষ যদি পাশাপাশি এবং সামনে পেছনে করে দাঁড়ায় তবে ৭৯০ কোয়াডরিলিয়ন মানুষ (অর্থাৎ এক বিলিয়ন দুই বিলিয়ন করে করে হিসেব করলে প্রায় ৭৯ কোটি বিলিয়ন মানুষ) দরকার হবে পৃথিবীকে মানুষ দ্বারা পূর্ণ করতে।
.
পৃথিবী থেকে ১০ লক্ষ গুন বড় হচ্ছে সূর্য। আর Eta Carinae নামক নীহারিকা সূর্য থেকেও ৫০ লক্ষ গুন বড়। আবার Betelgeuse নামক নক্ষত্র সূর্য থেকে ৩০ কোটি গুন বড়। আর VY Canis Majoris সূর্য থেকে বড় হচ্ছে ১০০ কোটি গুন। আমাদের মিল্কিওয়ে গালাক্সিতে সূর্যের মত আরও ৩০০ বিলিয়ন গ্রহ আছে।
.
মিল্কিওয়ে গালাক্সি এতবড় যে, এক সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার বেগে চলে অর্থাৎ এক সেকেন্ডে পৃথিবীকে ৭ বার ঘুরে আসতে পারে এমন কোনো যানবাহনে করে মিল্কিওয়ে গালাক্সিকে একবার ঘুরে আসতে ১ লক্ষ বছর সময় লেগে যাবে।
.
এখানেই শেষ নয়। এ তো গেলো আমাদের গালাক্সির কথা। চলুন ঘুরে আসা যাক আমাদের পাশের গালাক্সি এন্ড্রোমিডা থেকে যা কিনা মিল্কিওয়ের চেয়ে দ্বিগুণ বড়। অর্থাৎ, সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার বেগে চলমান বাহনে করে এন্ড্রোমিডা গালাক্সিকে একবার ঘুরে আসতে ২ লক্ষ বছর সময় লেগে যাবে।
.
তাহলে এবার ভাবুন, Messier-81 এবং IC-1011 নামক গালাক্সি একবার ঘুরে আসতে কত বিলিয়ন বছর সময় লেগে যাবে, যা কিনা মিল্কিওয়ে গালাক্সি থেকে যথাক্রমে ৬০ গুন ও ৬০০ গুন বড়।
.
যেভাবে গ্রহেরা মিলে গালাক্সি তৈরি হয়, তেমনি গালাক্সিরা মিলে হয় ক্লাস্টার। আমাদের পৃথিবী যে ক্লাস্টারে আছে তার নাম Virgo Cluster । এতে প্রায় ৪৭০০০ গালাক্সি আছে। আবার, ক্লাস্টাররা একে অপরের সাথে মিলে তৈরি করে সুপার ক্লাস্টার। আমাদের পৃথিবী যে সুপার ক্লাস্টারে আছে তার নাম Local supercluster। এতে ১০০টা ক্লাস্টার আছে। ধারনা করা হয়, এরকম এক কোটি সুপার ক্লাস্টার আমাদের মহাবিশ্বে নির্মান করেছে সুক্ষ জালের মত অবয়ব। সুবহানাল্লাহ।
.
এজন্যই মহান আল্লাহ্ তায়লা কোরআনে উল্লেখ করেছেনঃ
.
“তারা আল্লাহকে যথার্থরূপে বোঝেনি। কেয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোতে এবং আসমান সমূহ ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে তাঁর ডান হাতে। তিনি পবিত্র। আর এরা যাকে শরীক করে, তা থেকে তিনি অনেক উর্ধ্বে।।” (সূরা আল-যুমারঃ ৬৭)
.
আর তাই ‘আল্লাহু আকবার’ শব্দেরও ব্যাপ্তিক অর্থ দাঁড়ায়ঃ আল্লাহ সবচেয়ে মহান, সবার চেয়ে বড়, তাঁর উপরে কেউ নেই এবং তাঁর সমতুল্যও কেউ নেই।
.
হে আমাদের প্রতিপালক, আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন সহজ করে দিন। আমিন। ছুম্মা আমিন।
২|
৩০ শে এপ্রিল, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩৫
হাফিজ রাহমান বলেছেন: ভাইজান ! বেশ ভাল লাগল। অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর একটি পোস্ট দেবার জন্যে। ভাল থাকুন।
৩|
৩০ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৯:৩৯
রাজীব নুর বলেছেন: পড়লাম। ভালো লাগল।
৪|
০১ লা মে, ২০১৭ রাত ৩:২৪
হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
যে এত বিশাল সৃষ্টিকর্তা তার মন এত ছোট কেন?
আমরা তো ছোটকাল থেকেই জানি আল্লা এক।
কিন্তু উনি
সারাক্ষণ আল্লা এক, আল্লা এক জিগির করতে বলে কেন?
কোন বান্দা সামান্য বেয়াদবি করলে অন্য বান্দারে বলে কোবা হালারে।
উনি তো নিজেই ফু দিলে ব্যাদ্দপ ভ্যানিষ হইয়া যাওয়ার কথা।
©somewhere in net ltd.
১|
৩০ শে এপ্রিল, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩৩
চাঁদগাজী বলেছেন:
আপনার মতে, বেশীরভাগ মানুষ গ্যালাক্সী, ক্লাস্টারকে কল্পনাও করতে পারবে না; তা'হলে যিনি এসব ক্লাস্টার ঐরি করেছেন, তাঁকে মানুষ কিভাবে কল্পনা করলেন? এবং সেই কল্পনা কতটুকু বাস্তব?