| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাধা মানিনা
দুনিয়াটা এমনই হয়, যে অন্যায় করলো, বিচারক তার কথাই শুনলো, তার পক্ষেই রায় দিলো....
বিয়ের উনিশ বছর পর গত এক মাস যাবত হাজবেন্ড রাতে একটানা নিস্বারে ঘুমিয়ে থাকে। স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরছে না বা ঘুম ভেঙ্গে পাশ ফিরেও শুচ্ছে না। এটা কি তার কোন চারিত্রিক সমস্যা না কি শারিরিক সমস্যা?
বিয়ের দীর্ঘ ১৯ বছর পর জীবনসঙ্গীর আচরণের এমন আকস্মিক পরিবর্তন দেখে আপনার মনে উদ্বেগ বা সংশয় তৈরি হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। তবে এটিকে সরাসরি কোনো "চারিত্রিক সমস্যা" বা আপনার প্রতি অবহেলা হিসেবে ধরে না নিয়ে, এর পেছনে গভীর কিছু শারীরিক ও মানসিক কারণ থাকতে পারে তা বিবেচনা করা জরুরি।
মানুষের বয়স এবং দৈনন্দিন জীবনের চাপের সাথে সাথে ঘুমের প্যাটার্ন এবং শারীরিক আচরণে অনেক পরিবর্তন আসে। নিচে সম্ভাব্য প্রধান কারণগুলো আলোচনা করা হলো:
১. শারীরিক ও ক্লান্তিজনিত কারণ
অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি: বয়স বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত দায়িত্ব বা মানসিক চাপের কারণে শরীর প্রচণ্ড ক্লান্ত থাকতে পারে। শরীর যখন চরম ক্লান্ত থাকে, তখন মস্তিষ্ক গভীর ঘুমে (Deep Sleep) চলে যায়। একে "নিসাড়ে ঘুমানো" বা একটানা ঘুমিয়ে থাকা বলে। এই অবস্থায় শরীর এতটাই শিথিল হয়ে পড়ে যে, রাতে স্বাভাবিক নড়াচড়া বা পাশ ফেরার শক্তিও থাকে না।
স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea) বা ঘুমের ব্যাঘাত: এটি এমন একটি সমস্যা যেখানে ঘুমের মধ্যে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হয় এবং শরীর ক্লান্ত দূর করার জন্য অতিরিক্ত গভীর ঘুমে তলিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
হরমোনের পরিবর্তন: মাঝবয়সে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন (Testosterone) হরমোনের মাত্রা কমতে শুরু করে। এর ফলে শারীরিক শক্তি হ্রাস পাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং ঘুমের মধ্যে সঙ্গীকে জড়িয়ে ধরার বা শারীরিক নৈকট্য প্রকাশের স্বাভাবিক প্রবণতা কমে যেতে পারে।
২. মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ
ডিপ্রেশন বা তীব্র দুশ্চিন্তা: কোনো কারণে তিনি যদি তীব্র মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যান (যা হয়তো তিনি প্রকাশ করছেন না), তবে সেটি তার ঘুমের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিষণ্ণতা বা দুশ্চিন্তার কারণে মানুষ অনেক সময় নিজের অজান্তেই গুটিয়ে থাকে।
আপনার করণীয় কী?
যেহেতু পরিবর্তনটি মাত্র এক মাস যাবত দেখা যাচ্ছে, তাই এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছে বিষয়টি একটু গুরুত্ব সহকারে এবং সহানুভূতির সাথে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
খোলামেলা কথা বলুন (সবচেয়ে জরুরি): কোনো ধরনের অভিযোগের সুরে না গিয়ে, শান্তভাবে এবং ভালোবাসার সাথে তার সাথে কথা বলুন। তাকে জিজ্ঞেস করুন, "গত কিছুদিন যাবত দেখছি তুমি খুব নিসাড় হয়ে ঘুমাচ্ছো, তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে বা অফিসে কোনো বাড়তি চাপ যাচ্ছে?"
শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন: তিনি কি সারাদিন ক্লান্ত বা বিষণ্ণ থাকেন? সেদিকে খেয়াল রাখুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: যদি কথা বলার পর মনে হয় তিনি শারীরিক দুর্বলতা বা অতিরিক্ত ক্লান্তিতে ভুগছেন, তবে একজন সাধারণ চিকিৎসক (Medicine Specialist) বা ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে কিছু রুটিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা (যেমন- থাইরয়েড, হরমোন প্রোফাইল বা ডায়াবেটিস) করিয়ে নেওয়া ভালো।
©somewhere in net ltd.