| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাধা মানিনা
দুনিয়াটা এমনই হয়, যে অন্যায় করলো, বিচারক তার কথাই শুনলো, তার পক্ষেই রায় দিলো....
ইসলামের ইতিহাসে কারবালাই শেষ ট্র্যাজেডি নয় । কারবালার মাত্র দুই বছর পর, ৬৩ হিজরিতে মদিনার পবিত্র মাটিতে ইয়াজিদি বাহিনী যে তাণ্ডব চালিয়েছিল, তার নাম 'ওয়াকিয়ায়ে হাররা'। এটি এমন এক কালিমালিপ্ত অধ্যায় যা পড়লে যে কোনো মুমিনের কলিজা ফেটে যাবে।
কারবালায় ইমাম হোসেন (রা.)-কে শহীদ করার পর ইয়াজিদের দুঃশাসন যখন মদিনাবাসী মেনে নিতে অস্বীকার করল, তখন ইয়াজিদ তার সেনাপতি মুসলিম বিন উকবার নেতৃত্বে এক বিশাল বাহিনী পাঠাল। সেই বাহিনী মদিনার উপকণ্ঠে 'হাররা' নামক স্থানে সাহাবী ও তাবেয়ীদের ওপর যে নৃশংসতা চালিয়েছিল, তা চেঙ্গিস খানের বর্বরতাকেও হার মানায়।
ইয়াজিদের নির্দেশে মদিনা মুনাওয়ারাকে তিন দিনের জন্য তার সৈনিকদের কাছে 'হালাল' ঘোষণা করা হয়েছিল। ভাবুন তো, যে শহরকে নবীজি (সা.) পবিত্র ঘোষণা করেছিলেন, সেখানে তিন দিন ধরে চলল লুণ্ঠন আর পৈশাচিকতা। ইতিহাসের কিতাবগুলো সাক্ষ্য দেয়, ইয়াজিদি সৈন্যরা মসজিদে নববীতে ঢুকে পড়েছিল এবং রওজায়ে পাকের পাশে ঘোড়া বেঁধে সেটিকে আস্তাবল বানিয়েছিল। এমনকি ঘোড়ার বিষ্ঠা পর্যন্ত নবীজির মিম্বরের পাশে পড়ে ছিল।
সবচেয়ে কলঙ্কজনক বিষয় হলো—মদিনার শত শত কুমারী সাহাবী কন্যাদের ওপর চালানো হয়েছিল পাশবিক ধর্ষণ। বলা হয়, সেই ঘটনার পর মদিনায় এমন অনেক শিশুর জন্ম হয়েছিল যাদের পিতৃপরিচয় ছিল অজ্ঞাত। হাজার হাজার সাহাবী ও আনসারদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল, আর যারা বেঁচে ছিলেন তাদের বাধ্য করা হয়েছিল ইয়াজিদের 'কেনা গোলাম' হিসেবে আনুগত্যের শপথ নিতে।
মদিনা ধ্বংস করার পর ইয়াজিদি বাহিনী কাবার দিকে রওনা হয় এবং পাথর নিক্ষেপ করে, পবিত্র কাবার গিলাফ জ্বালিয়ে দেয় ও দেয়াল ধসিয়ে দেয়। অথচ আজ অনেক চাটুকার আলেম 'ফিতনা' এড়ানোর দোহাই দিয়ে এই ইতিহাস ধামাচাপা দিতে চায়। তারা চায় না আপনি জানুন যে, আকিদাগত বিচ্যুতি আর ক্ষমতার দালালি কীভাবে ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলোকে অপবিত্র করেছিল।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ইয়াজিদ কি একদিনে তৈরি হয়েছিল? না। ইয়াজিদ এক বিশাল রাজনৈতিক ও পারিবারিক চক্রান্তের ফসল। যারা ক্ষমতার লোভে খেলাফতকে রাজতন্ত্রে রূপান্তর করেছিল এবং যারা ইয়াজিদের মতো এক মদ্যপ ও লম্পট ব্যক্তিকে শাসনের 'বৈধতা' দিয়েছিল, ইতিহাস তাদের দায় এড়াতে পারে না। তৎকালীন সময়ে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব রাজনৈতিক কৌশলের দোহাই দিয়ে ইয়াজিদকে বায়াত (আনুগত্যের শপথ) দিয়েছিলেন এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলেন।
ব্রিটিশরা যেমন পরে ওহাবী-সৌদ জোটকে ব্যবহার করেছে, ইয়াজিদকেও তেমনি ব্যবহার করা হয়েছিল ইসলামি সাম্যের মূলে কুঠারাঘাত করতে। আজ যখন অনেক আলেমকে ইয়াজিদের পক্ষে সাফাই গাইতে দেখি বা হাররার ঘটনা নিয়ে 'রহস্যময় নীরবতা' পালন করতে দেখি, তখন বোঝা যায় ইয়াজিদের সেই অনুসারী গোষ্ঠী আজও জিন্দা আছে।
ইয়াজিদ কেবল মাত্র কোনো ব্যক্তি নয়, ইয়াজিদ হলো একটি মানসিকতা—যা আজও সেইসব আলেমদের মাঝে বেঁচে আছে যারা জালেমের জুলুমকে 'তাকদির' বলে চালিয়ে দেয়। ইতিহাস আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় যে, যখন আলেম সমাজ সত্য বলতে ভয় পায় এবং ক্ষমতার পা চাটতে শুরু করে, তখন মদিনার পবিত্রতাও ভূলুণ্ঠিত হয়। হাররার সেই রক্ত আজ আমাদের কাছে বিচার চায়—আমরা কি হোসেনি কাফেলায় থাকব, নাকি সেই নীরব ইয়াজিদি আলেমদের কাতারে?
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আপনার এই লেখার রেফারেন্স কোথায় ?
কেন সবাই বিশ্বাস করবে ???