| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সেনা বাহিনী বিডিয়ারে গিয়ে কি করে দেখেন !!!!
পারভেজ খান, উত্তরাঞ্চল সীমান্ত এলাকা থেকে ফিরে
সেলিম ও রাহাত জানাল, তারা দুজনই একসময় ছিনতাইকারী ছিল। ধরা পড়লে গণধোলাই খেয়ে মরতে হতে পারে, এ আশঙ্কায় পুলিশের হাত ধরে বছর পাঁচেক হলো চোরাচালানের লাইনম্যানের কাজ শুরু করেছে। এখন দুজন মিলে ঢাকার উত্তরখানে বাড়ি করেছে দুটি। ওই বাড়ি ভাড়া দিয়ে রেখেছে। সেখান থেকে আসে মাসে নব্বই হাজার টাকা। দিনাজপুরে রাইস মিল করেছে দুজনে মিলে। সেখান থেকেও ভালো আয় আসে। এত কিছুর পরও প্রতিদিনের নগদ প্রাপ্তির লোভে এখনো তারা চোরাকারবারের লাইনম্যানের কাজ করে চলেছে।
কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত এলাকার যেকোনো লোককে জিজ্ঞেস করলে শোনা যাবে প্রায় এক সুর_আয়-ইনকাম এখন ভালো না। চোরাচালান আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। নেই বললেই চলে। অথচ সীমান্ত এলাকার মাটিতে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলেই দেখা যাবে প্রকাশ্যে চলছে চোরাচালান। কারো কোনো বাধা নেই। বিএসএফ,
বিডিআর, পুলিশ_সবার সামনে দিয়েই আনা-নেওয়া হচ্ছে চোরাই পণ্য। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা অবাধে মালামাল এপার-ওপার হচ্ছে।
বখরার রেট : চাল প্রতিকেজি এক টাকা, লবণ প্রতিকেজি এক টাকা, চিনি কেজি এক টাকা, পেঁয়াজ এক টাকা, ডাল এক টাকা, জিরা প্রতিকেজি দুই টাকা, এলাচ দুই টাকা, শাড়ি বা থ্রিপিস প্রতিটি কাপড় ভেদে পাঁচ থেকে ২০ টাকা, ২০ হাজার টাকার প্রসাধনী ২০০ টাকা, মোটরসাইকেল প্রতিটি এক হাজার টাকা, আর ফেনসিডিল প্রতি বোতল ১০ টাকা ও ইয়াবা ট্যাবলেট প্রতিটি তিন টাকা_জয়পুরহাট ও দিনাজপুরের সীমান্ত এলাকায় চোরাইপথে ওপার থেকে এসব পণ্য এপারে আনলে থানা-পুলিশ, ডিবি, র্যাব, বিডিআর আর জিআরপি থানা-পুলিশকে পৃথক স্লিপের মাধ্যমে এই দরেই টাকা দিতে হয়। মাঝে-মধ্যে অবশ্য এই দর ওঠা-নামাও করে। করলেও তবে এই বাজারের আরেক নাম হচ্ছে কালোবাজার। দুই জেলার কয়েকটি সীমান্ত এলাকা ঘুরে চোরাকারবারিসহ বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
আসে-যায় : ভারত থেকে চোরাচালান হয়ে এখন বাংলাদেশে আসছে ভেজাল ও নকল সার (পটাশ ও ডিএপি), কাপড়, চিনি, গরম মসলা, চাল, পেঁয়াজ, লবণ, চিনি, ধান ও পাটের বীজ, ডাল, নতুন ও চোরাই মোটরসাইকেল, কসমেটিকস, ইমিটেশনের গয়না, গার্মেন্ট সামগ্রী, যৌন উত্তেজক বড়ি, নেশার ইনজেকশন, ইয়াবা ও ফেনসিডিল। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে সিমেন্ট, মাছের পোনা, তামা, পিতল, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার, ইলিশ মাছ, বেনসন সিগারেট, সুপারি, গার্মেন্টসামগ্রী (বিশেষ করে জিনসের) ইট ও পাট। আর এসব মালামাল পারাপার করতে হলে দুপারেই আইনশৃঙ্খলা রাক্ষাকারীদের ওপরে উলি্লখিত হারে টাকা দিতে হয়। এই টাকা আদায় করার জন্য আছে লাইনম্যান ও কালেক্টর।
পালাক্রমে লাইনম্যান : কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে জানা গেছে, জয়পুরহাট শহরে পুলিশ, বিডিআর ও র্যাবের লাইনম্যান হিসেবে কাজ করছে দুই শতাধিক বেকার ও বিপথগামী তরুণ ও যুবক। তাদের কাজই হচ্ছে চোরাচালানিদের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা, তাদের কাছ থেকে যথাযথ কমিশন নিয়ে সেভাবে দেখভাল করা আর নিরাপদে রাস্তা পার করে দেওয়া। এদের রয়েছে বিশাল নেটওয়ার্ক। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এরা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করে অতি সতর্কতার সঙ্গে। ফলে কোনো চোরাকারবারির পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না পুলিশ, র্যাব বা বিডিআরের চোখ ফাঁকি দিয়ে মালামাল এপার-ওপার করা। আর কেউ চেষ্টা চালিয়ে ধরা পড়লে চোরাচালানের পুরো পণ্যই গায়েব হয়ে যাবে।
অনুসন্ধানে জয়পুরহাটে চোরাচালানের নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী লাইনম্যানদের নেতা হিসেবে যাদের নাম পাওয়া গেছে, তারা হলো_তুহিন, ইসলাম, ফিরোজ, বিপ্লব, কালু, বাবু, শান্ত, সাগর, মাসুদ, নয়ন, ভাতিজা ফায়জুল, মান্নান, সেলিম, রাহাত, রোজ, রাজ, ফরিদ, ময়না, কুসুম, আনিসুর ও নয়ন কমিশনার।
পুলিশের স্লিপ, র্যাব-বিডিআরের নগদ : লাইনম্যান সেলিম ও রাহাত এ প্রতিবেদককে আরো জানায়, জয়পুরহাট সদর এলাকা থেকে ডিবি, সদর থানা, কালাই থানা, আক্কেলপুর থানা, ক্ষেতলাল, পাঁচবিবি থানাসহ বগুড়া সদর ও শিবগঞ্জ থানার লাইনম্যানরা চোরাচালানিদের কাছ থেকে টাকা উঠিয়ে তাদের হাতে পৃথক স্লিপ ধরিয়ে দেয়। পথে তল্লাশিতে পড়লে ওই স্লিপ দেখালে ছেড়ে দেওয়া হয়। র্যাব ও বিডিআর কোনো স্লিপ দেয় না। তারা নগদ টাকা নিয়ে ইশারায় ছেড়ে দেয়। বিডিআরকে টাকা দিতে হয় ঘাট (প্রবেশপথ) ও চেকপোস্টে পৃথকভাবে। লাইনম্যানরাই এই টাকা তুলে তাদের হাতে উঠিয়ে দেয়। আর হিলি থেকে টাকা ওঠানো হয় হাকিমপুর, বিরামপুর, ফুলবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ থানার।
অবিশ্বাস্য আয় : স্থানীয় কয়েকজন লাইনম্যান ও চোরাচালানির কাছ থেকে জানা গেছে, জয়পুরহাট ও হিলি এলাকা এখন চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য। অবিশ্বাস্য মনে হলেও জানা গেছে, শুধু হাকিমপুর, পাঁচবিবি ও জয়পুরহাট সদর থানার প্রতিদিনের আয় সাত লাখ টাকা। এ ছাড়াও জয়পুরহাট ও হিলির আশপাশের ২৪টি পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন বিডিআর পাঁচ লাখ, ডিবি দুই লাখ, আক্কেলপুর, কালাই, ক্ষেতলাল, বিরামপুর, ফুলবাড়ী, শিবগঞ্জ ও গোবিন্দগঞ্জ থানা দেড় লাখ টাকা করে, র্যাব দেড় লাখ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আড়াই লাখ ও জিআরপি থানা এক লাখ টাকা করে পাচ্ছে। এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তিকেও প্রতি মাসে নিয়মিত টাকা দিতে হয়।
লাইনম্যানরা জানায়, তারা একেকজন একেক সংস্থার হয়ে কাজ করে। একজন দুই সংস্থার কাজ করতে পারে না। সব ঘাটে জমা দেওয়ার পর একজন লাইনম্যানের প্রতিদিন চার-পাঁচ হাজার টাকা করে থাকে। আর বড় চালান হলে আয়ের পরিমাণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে হেরোইন, ইয়াবা বা ফেনসিডিলের বড় চালান হলে মোটা অঙ্কের টাকা থাকে। এসব চালানে কোনো স্লিপ দেওয়া হয় না। এই লাইনম্যানের কাজ পেতে অনেক সময় বড় বড় চোরাচালানিকে অগ্রিম হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা জামানত দিতে হয়।
জরুরি ক্লিয়ারেন্স : লাইনম্যানরা আরো জানায়, তাদের প্রত্যেকের কাছে মোবাইল ফোন আছে। চোরাচালানিরা মালামাল এপার-ওপার করার আগে তাদের কাছে লাইন ক্লিয়ারেন্স চায়। এ সময় তারা বিডিআর, বিএসএফ, পুলিশসহ সবার সঙ্গে কথা বলে তাদের সম্মতি নিয়েই লাইন ক্লিয়ারেন্স দেয়। তাদের কাছ থেকে ক্লিয়ারেন্স না নিয়ে কেউ মালামাল আনা-নেওয়া করলে তার দায়িত্ব লাইনম্যানদের নয়। আর তাদের ক্লিয়ারেন্সের পরও যদি কোনো মালামাল আটক হয়, তা ছাড়িয়ে আনার দায়িত্বও লাইনম্যানদের। এ ক্ষেত্রে চোরাচালানির কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। ওই মালামালের ক্রেতা বা মহাজনরাই এই টাকা দিয়ে থাকে। এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও তাদের সরাসরি সহায়তা করেন বলে লাইনম্যানরা জানায়।
র্যাবসহ স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান নতুন কিছু নয়। দেশ বিভক্ত হওয়ার পর থেকেই এটা চলে আসছে। তবে এখন তুলনামূলক বেশি এবং যে যাই বলুক, দিন দিন ক্রমেই চোরাচালান বাড়ছে। আর এত অল্পসংখ্যক পুলিশ ও বিডিআরের পক্ষে এই চোরাচালান রোধ করা সম্ভব নয়।
কর্তৃপক্ষের প্রত্যয় : জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক এ ব্যাপারে গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, তিনি মাত্র কিছুদিন আগে এখানে যোগ দিয়েছেন। তার কাছে মনে হয়েছে, শুধু আইন দিয়ে এই চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন জনগণের সম্পৃক্ততা আর জনসচেতনতা বাড়ানো। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি তিনি এ ব্যাপারেও জোরালো ভূমিকা রাখার উদ্যোগ নিয়ে আজ থেকেই কাজ শুরু করবেন বলে জানান।
পুলিশের বিরুদ্ধে লাইনম্যানদের মাধ্যমে স্লিপ দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে পুলিশ সুপার বলেন, 'আগেই বলেছি, আমি এখানে নতুন। এরপরও বলছি, পুলিশের বিরুদ্ধে এরকম অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোরতর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক অশোক কুমার বিশ্বাস গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, চোরাচালান রোধে আজ থেকে জয়পুরহাটে বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযান শুরু হবে। এজন্য প্রয়োজন সব শ্রেণীর মানুষের সহযোগিতা।
চোরাচালান আর মাদক প্রতিরোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কঠোর সমালোচনা করে ডিসি বলেন, 'তাদের দায়িত্ব পালনের ধরন আর কর্মকাণ্ডে আমি ক্ষুব্ধ। এ ব্যাপারে তাদের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমি কথা বলব।'
বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. রফিকুল ইসলাম গতকাল কালের কণ্ঠকে জানান, সীমান্তে চোরাচালান রোধ বিডিআরের দ্বিতীয় দায়িত্ব। চেষ্টা করা হচ্ছে এটা রোধের। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় গড়ে প্রতি ৯ কিলোমিটারে মাত্র একটি করে বিওপি (বর্ডার আউট পোস্ট)। নতুন করে এর সংখ্যা বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। এটি হলে চোরাচালান কমে আসবে।
বিডিআরের সঙ্গে চোরাচালান আর লাইনম্যানদের সম্পৃক্ততার অভিযোগের ব্যাপারে মহাপরিচালক বলেন, কিছু কিছু অসৎ সদস্য আছে, যাদের কারণে বিডিআরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তাদের ওপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আর যারা ধরা পড়ছে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। ![]()
২|
০১ লা নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:২৯
টুকলিফাই বলেছেন: ![]()
সরেজমিন চোরাচালান - ২ ফেনসিডিল কারখানাগুলো শুধুই বাংলাদেশের জন্য
পারভেজ খান, উত্তরাঞ্চল সীমান্ত এলাকা থেকে ফিরে
হিলি স্টেশনের পেছনে ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলা। স্টেশনের অদূরেই এ জেলার ত্রিমোহনী মোড়। এখানে পুলিশ ফাঁড়িও আছে। এ পুলিশ ফাঁড়ির কাছাকাছিই রয়েছে শন্টু ভৌমিক, টুম্পা ভৌমিক, অনীল আর ফড়িংয়ের ফেনসিডিল কারখানা। অনীল এলাকায় কাকাবাবু নামে পরিচিত। তার বাড়িতে ঢুকতে গেলে দুর্গন্ধে নিজের অজান্তেই নাক চেপে ধরতে হয়। নর্দমা আর ডাস্টবিনে ঘেরা এ বাড়িতেই বসবাস করে অনীল কাকার ছেলে দুলাল।
দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। একটি তেল চিটচিটে পর্দা ঝুলছে। দুলাল নিজেই বারান্দায় বসে বালতিতে বানানো ভেজাল আর নকল ফেনসিডিল বোতলজাত করছে।
অনীল জানায়, তাদের কাছে আসল জিনিসও আছে। যারা কম দামে খেতে চায়, তাদের জন্য এই নকল ফেনসিডিলের ব্যবস্থা। ফার্মেসি থেকে কিনে আনা কম দামের কফ সিরাফ, গুঁড়া চা পাতার পানি আর হালকা ঘুমের ট্যাবলেট (পরিমিত) মিশিয়ে নকল ফেনসিডিল বানানো হচ্ছে। অনীলের দাবি, এর মান আসল ফেনসিডিলের চেয়ে খুব একটা খারাপ না। তারা ব্যবহৃত ফেনসিডিলের পুরনো বোতল টোকাইদের কাছ থেকে কিনে নেয়। এ ছাড়া বাজার থেকে ওই বোতলের মতোই দেখতে অন্য বোতল কিনে এনে নিজেদের ছাপানো লেবেল এঁটে তাতেও নকল ফেনসিডিল ভরে বিক্রি এবং সরবরাহ করে। বিক্রির জন্য আছে নানা কৌশল। এমনকি ফেনসিডিল সরবরাহের জন্য পাইপলাইন পর্যন্ত বসানো আছে। আর এসবের জন্য স্থানীয় পুলিশ ও বিএসএফকে সপ্তাহ চুক্তিতে রুপি দিতে হয়।
বাংলাদেশের দিনাজপুরের হিলি ও জয়পুরহাটের সঙ্গে ভারতের প্রায় ৭২ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। কালের কণ্ঠের সরেজমিন অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্যমতে, এই দীর্ঘ সীমান্তের ওপারে অন্তত ৩০টি এবং এপারে অন্তত ৭০টি নকল ও ভেজাল ফেনসিডিল তৈরির কারখানা রয়েছে। কারখানাগুলো সীমান্তের আশপাশের লোকালয়ের বাসাবাড়িতে গড়ে উঠেছে। রাতের আঁধারে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এসব নকল ও ভেজাল ফেনসিডিল প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০ হাজার বোতল করে পাচার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে।
বিডিআর ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, ভারতের অভ্যন্তরের ফেনসিডিলের কারখানাগুলো হলো সাইন্দ্যপাড়া, তেরকাতি, শ্রীরামপুর, আগ্রা, গোসাইপুর, নন্দীপুর, হাসপাতাল মোড়, দক্ষিণ পাড়া, সীমান্ত শিখা মোড়, হিলি বাজার, গোবিন্দপুর, ত্রিমোহনী মোড়, চকপাড়া, বকশিগঞ্জ, বৈকণ্ঠপুর, শ্যামবাজার, কামারপাড়া, ঠাকুরকুড়া, ঘাসুড়িয়া ও হাড়িপুকুরে। এসব অবৈধ কারখানা সীমান্ত থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত।
এর মধ্যে বড় কারখানাগুলো হচ্ছে হিলি বাজারের দক্ষিণে ভারতের অভ্যন্তরে শন্টু ভৌমিক, টুম্পা ভৌমিক ও ফড়িংয়ের বাড়িতে এবং হাড়িপুকুরের আতিয়ার রহমান, নাজির উদ্দীন, আশরাফুল, মাহবুবুুল আলম ও নজরুলের বাড়িতে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতের কয়েকজন ফেনসিডিল ব্যবসায়ী কালের কণ্ঠকে জানায়, আসল ফেনসিডিলের ব্যবসায় লাভ যেমন বেশি, ঝুঁকিও তেমনি বেশি। অনেকে লোকসান দিয়ে পথের ভিখারিও হয়ে গেছে। আর এ কারণেই তারা এখন ভেজাল ও নকল ফেনসিডিল তৈরির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। জয়পুরহাটের ভুটিয়াপাড়া, কয়া, হাটখোলা, চেঁচড়া এবং দিনাজপুরের হিলি বিওপির উত্তর গোপালপুর, জিলাপিপট্টি, ফুটবল খেলার মাঠ, কালিবাড়ী, রেলওয়ের পিডবি্লউ এলাকা, চেকপোস্ট গেট, ধরন্দা, বাসুদেবপুর বিডিআর ক্যাম্পের অধীনের হিন্দু মিশন, হাড়িপুকুর, মংলা বিশেষ ক্যাম্পের অধীনের রাইভাগ, নন্দীপুর, ঘাসুড়িয়া ও মংলা সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৫০ হাজার বোতল ভেজাল ও নকল ফেনসিডিল বাংলাদেশে যাচ্ছে। এ ছাড়া তারা তেলের বড় বড় গ্যালনে করে ফেনসিডিল বাংলাদেশে পেঁৗছে দেয়। সীমান্ত এলাকায় ইদানীং পাইপ দিয়েও ফেনসিডিল পাচার হয় বলে জানা গেছে। ক্রেতা ও বিক্রেতার দূরত্ব কম হলে সাধারণত চিকন নল বা পানির পাইপ ব্যবহার করা হয়। ওপারে কারখানায় বা কোনো নিরাপদ স্থানে ড্রামে ফেনসিডিল রেখে ওই নল দিয়ে তা ক্রেতার কাছে থাকা পাত্রে সরবরাহ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ফেনসিডিল টেনে নেওয়ার জন্য ইলেকট্রিক যন্ত্রও ব্যবহার করা হয়। তবে তা খুবই কম। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছ থেকে জানা যায়, কিছু অভিযানে দেখা গেছে, মাটির নিচ দিয়েও অনেক সময় এ পাইপলাইন পদ্ধতিতে ফেনসিডিল পাচার হয়।
সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, শুধু বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যেই এ কারখানাগুলো বানানো হয়েছে। ১০০ মিলিমিটারের বোতলের পাশাপাশি এখন ৫০ মিলিমিটার বোতলেও ফেনসিডিল পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে শুধু ১০০ মিলিমিটার পাওয়া যেত। বোতলের গায়ে হিমাচল, বেঙ্গালুরু, কলকাতা ও লক্ষ্নৌ লেখা থাকলেও মূলত এগুলো স্থানীয়ভাবেই তৈরি। ১০০ মিলিলিটারের এক বোতল ফেনসিডিলের দাম ৬৫ থেকে ৭২ রুপি এবং ৫০ মিলিলিটারের দাম ৩৫ থেকে ৩৭ রুপি। পাচার হয়ে আসার পর ১০০ মিলিলিটার ফেনসিডিল এলাকাভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঢাকায় সেটা এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায়।
সড়কপথে প্রাইভেট গাড়িতে, ট্রেনে, পণ্যবোঝাই ট্রাকে এবং যানবাহনের পাটাতনে বিশেষ ব্যবস্থায়, বোরকা পরা নারীদের শরীরে বেঁধে, কোমল পানীয়র বোতলে ভরে এবং আরো অনেক কৌশলে পাচার হয় ফেনসিডিল। শিশুদেরও ফেনসিডিল পাচার বা বহনকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। চোরাকারবারিরা ফেনসিডিল পাচারে বিরামপুর, ঘোড়াঘাট, গোবিন্দগঞ্জ, জয়পুরহাট ও বগুড়া রুট ব্যবহার করে টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকায় পাঠাচ্ছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হিলি এলাকায় থেকে ফেনসিডিল ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে মাঠপাড়ার লোকমান হোসেন বেলাল ওরফে হুন্ডি বেলাল, মনতাজ হোসেন, চুড়িপট্টির হযরত আলী সরদার, শামীম সরদার, স্টেশনপট্টির কামাল হোসেন, হিলি বাজারের ফেরদৌস রহমান, পারভেজ, ফকিরপাড়ার সাজ্জাদ, নুর আলম, ফারুক, শাহাবুদ্দিন, সেলিম কমিশনার, নিলামকারী জাহিদ, অপু ওরফে পাবনাইয়া অপু, নোয়াখাইল্যা হারুন, কালীগঞ্জের মোফা, লেবার সুলতান, মধ্য বাসুদেবপুরের কাহের মণ্ডল, রায়হান হাকিম, চণ্ডীপুরের মিন্টু কমিশনার এবং সাতকুড়ির দেলোয়ার।
বাংলাদেশের ফেনসিডিল ব্যবসায়ী আরমান আলী ও হযরত (ঢাকার ফুলবাড়িয়া এলাকার) কালের কণ্ঠকে জানায়, ভারত থেকে এসব নিম্নমানের ফেনসিডিল তাদের কেনা পড়ে বড় বোতল (১০০ মিলিমিটার) ৮০ রুপি এবং ছোট বোতল (৫০ মিলিমিটার) প্রায় ৪০ রুপি। কিন্তু ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফ, বাংলাদেশের বিডিআর ও পুলিশ (জিআরপি, ডিবি, থানা), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন খাতে টাকা দিতে দিতে সীমান্ত এলাকা পার হয়ে গাড়িতে উঠতেই প্রতি বোতলের দাম দাঁড়ায় চার-পাঁচ শ টাকার মতো। এরপর মূল গন্তব্যে পেঁৗছাতে পথেঘাটে আরো অনেক খরচ আছে।
জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোজাম্মেল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ফেনসিডিল চোরাচালান এখন আগের চেয়ে অনেক কম। বর্তমানে বাজারে চড়া দাম দেখেই বোঝা যায়, সীমান্ত এলাকায় কড়াকড়ি আছে। এর পরও পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং মাঝেমধ্যে ধরাও পড়ছে।
এসপি এ কথা বললেও জয়পুরহাট সদর থানার ওসি আবু হেনা মোস্তফা কামাল বললেন অবাক হওয়ার মতো কথা। তিনি জানান, তাঁর থানায় চোরাচালানিদের কোনো তালিকা নেই। এর কারণ হচ্ছে, জয়পুরহাট এলাকায় কোনো চোরাচালানি নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক র্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, সীমান্ত এলাকার অঘোষিত করিডরগুলোতে বিডিআর প্রহরা আরো জোরালো না করা হলে ফেনসিডিল চোরাচালান রোধ করা সম্ভব নয়। তবে এর আগে দরকার এ এলাকায় চোরাচালান রোধে যাঁরা নিয়োজিত, তাঁদের এ ব্যাপারে আরো সততা দেখানো।
ওপারে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বে নিয়োজিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সৈয়দ হোসেন মির্জা ফেনসিডিল চোরাচালানের ব্যাপারে কালের কণ্ঠকে জানান, সীমান্ত এলাকায় উৎপাদন দূরে থাক, ফেনসিডিল বহন বা বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ চোরাচালানি চক্রকে ধরতে তাঁদের নেটওয়ার্ক বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করে যাচ্ছে। কালের কণ্ঠে অস্ত্র চোরাচালান নিয়ে সংবাদ প্রচারিত হওয়ায় তাঁরা এ বিষয়গুলো আরো সতর্কতার সঙ্গে নতুনভাবে খতিয়ে দেখছেন বলে তিনি জানান।
৩|
০১ লা নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:৩৩
টুকলিফাই বলেছেন: ভারতীয় ছিটমহল তেরঘর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার বোতল ফেনসিডিল আসছে বেনাপোলে
ভারতীয় ছিটমহল তেরঘরকে ল্যান্ডিং পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে গাতিপাড়া এবং দৌলতপুর দিয়ে
প্রতিদিন হাজার হাজার বোতল ফেন্সিডিল পাচার হয়ে আসছে বন্দর নগরী বেনাপোলে।
একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে লাখ লাখ টাকার মাদক পাচার করে আনছে
বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থল বন্দরে। এই বন্দর থেকে অভিনব কায়দায় বাস, ট্রাক, ট্রেন, কন্টেইনার,
কভার ভ্যান, মটর সাইকেল এবং ভ্যানে করে পৌঁছে যাচ্ছে মরণনেশা ফেন্সিডিল ঢাকাসহ দেশের
অন্যান্য শহরে। ভারতীয় ৫৭ রুপী মূল্যের এই ফেন্সিডিল ঢাকাছাড়া বিভাগীয় শহরে বিμি হচ্ছে সাড়ে
৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকার মধ্যে। ব্যবসাটি অধিক লাভজনক হওয়ায় অনেকেই এই ব্যবসায় পুজি
খাটাচ্ছে।
সরেজমিনে বেনাপোল চেকপোষ্ট থেকে ৩ কিঃমিঃ দক্ষিণে গাতিপাড়া ও দৌলতপুর গ্রামের মাঝে যেয়ে
দেখা গেল ভারতীয় ১৩ ঘর নামক ছোট্ট ছিটমহল। পূর্বে এই ছিটমহলের ভিতর বিএসএফ-এর একটি
ক্যাম্প ছিল। প্রায় ৩ বছর আগে বিএসএফ এই ক্যাম্প প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ভারতীয় ১৩টি পরিবার
বাস করার কারণেই ছোট্ট এই ছিটমহলের নাম ১৩ ঘর। কিন্তু এখন আর ১৩ পরিবার ঐ ছিটমহলে
বসবাস করে না। সর্বমোট ৬/৭ পরিবার ঐ ছিটমহলে বাস করে। ভারতীয় ভূ-খন্ড দখলে রেখে
মাদকসহ অন্যান্য চোরাচালান ব্যবসা করার জন্যই ঐ সকল পরিবারের বাস। যাদের সকলেরই
ঘরবাড়ি, ফসলের জমি সবই রয়েছে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের বনগাঁ শহরের আশেপাশে।
১৩ ঘর ছিটমহলের দু’পাশে সমতল ভূমিতে রয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের দুটি পোষ্ট।
বাংলাদেশের সমতল ভূমি গাতিপাড়া গ্রামের মাটির সাথে মিশে আছে ১৩ ঘর ছিটমহল। সামনে ছোট
হাওড় ও পরে মেহেন্দীর টেক নামে একটি টিলা। যেখানে বাস করে ৪টি পরিবার। এলাকাবাসী জানায়,
বর্ষা মৌসুমে নৌকা এবং শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটেই বনগাঁ শহরে যাতায়াত করে।
ভারত এবং বাংলাদেশের শক্তিশালী সি-িকেট একত্রিত হয়েই ফেন্সিডিলের ব্যবসা করে। ওপারের
একটি সূত্র জানায়, ফেন্সিডিল বাংলাদেশে পাচারে বিএসএফ কোন বাধা দেয় না। ফলে বনগাঁ শহর
থেকে অনায়াসে ১৩ ঘর ছিটমহলে ফেন্সিডিলের চালান চলে আসে। যেখান থেকে প্রায় প্রত্যেক ঘরেই
ল্যান্ড করে ফেন্সিডিল। তবে ঐ ছিটমহলে লক্ষ্মী বৌদির কথা সবারই জানা। সেই সবচেয়ে বেশি
ফেন্সিডিল মজুদ রাখে।
প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গাতিপাড়ার পাকা রাস্তা থেকে ১৩ ঘর ছিটমহলের লক্ষ্মী বৌদির ঘর পর্যন্ত
আসা-যাওয়া করতে চোরাচালানীদের সময় লাগে মাত্র ১০ মিনিট। যার কারণে এই রুটেই বেশি
ফেন্সিডিল পাচার হয়ে আসছে। বেনাপোল বন্দর থেকে ৩৮ কিঃমিঃ রাস্তা পেরিয়ে ফেন্সিডিল চলে যায়
যশোর শহরে। প্রশাসনের টোকেন সিস্টেম থাকার কারণে কোথাও ফেন্সিডিলের চালান আটক হয় না।
ফেন্সিডিল বহনের জন্য বাস, ট্রাক বা ট্রেন কভার ভ্যান
ছাড়াও বিশেষ সিস্টেমে ট্রাকে ডবল পার্ট বডি তৈরী করা হয়। বর্তমানে ফেন্সিডিল বহনের জন্য
ভ্যানগাড়িরও ডবল পার্ট বডি তৈরী হচ্ছে। ভ্যানের কাঠের তৈরী বডির নাট খুলেই কাগজে ১০ পিচ করে
ফেন্সিডিল বেঁধে মোট ২২৫ পিচ ফেন্সিডিল বডিতে লুকিয়ে আবার নাট আটকিয়ে দেয়া হয়।
অপরদিকে মোটর সাইকেলে ৩ জন আরোহীর মাঝখানে বসা ব্যক্তির গায়ে বিশেষ জ্যাকেটে পকেট
সিস্টেম করে ১২০ বোতল ফেন্সিডিল বহন করা হচ্ছে।
৪|
০১ লা নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:৪১
৫|
০১ লা নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:০৯
ক্ষতিগ্রস্থ বলেছেন: সেনাবাহিনীকে কীভাবে টেনে আনলেন, মূল অংশে সেটাইত নাই. পুরানো অভ্যাস?
০১ লা নভেম্বর, ২০১০ রাত ৯:২৭
টুকলিফাই বলেছেন: আপনি ইহা কি কহিলেন। এত কম জেনে সমাজের বোঝা হন কেন ?
আর জানার জন্য জ্ঞানী হইতে হয় না। কেবল কমনসেন্সটা থাকলেই হয়। আর কমনসেন্সটা হলো আপনি যে সমাজে বসবাস করেন তার সম্পর্কে বোধ বুদ্ধি থাকা। এক কথায় চিন্তাচেতনায় সৎ থাকা।
যাক উপরের ঘটনাগুলোর লোকেশন সীমান্ত এলাকায়। সীমান্তের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে আইন শৃংখলা সহ সামাজিক কর্মকান্ডও বিডিআর এর আইন দারা ও অবগতিতে পরিচালিত হয়। এটাই নিয়ম। আর বিডিয়ার একটি বাহিনী যার কমান্ড সেনা বাহিনীর হাতে। সেনা বাহিনীর অফিসারেরা কমান্ড করতে জানে না এটা বিশ্বাস করতে বলবেন না। কারন তাদের হাতে দেশের পুরো সীমান্ত এলাকা দেখাশুনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বেড়া দেয়া ক্ষেতের ফসল বেড়ায় না খাইলে ক্ষেতের এই অবস্থা এইটা দৃশ্যমান মিথ্যা।
০১ লা নভেম্বর, ২০১০ রাত ৯:৩২
টুকলিফাই বলেছেন: আপনি ইহা কি কহিলেন। এত কম জেনে সমাজের বোঝা হন কেন ?
আর জানার জন্য জ্ঞানী হইতে হয় না। কেবল কমনসেন্সটা থাকলেই হয়। আর কমনসেন্সটা হলো আপনি যে সমাজে বসবাস করেন তার সম্পর্কে বোধ বুদ্ধি থাকা। এক কথায় চিন্তাচেতনায় সৎ থাকা।
যাক উপরের ঘটনাগুলোর লোকেশন সীমান্ত এলাকায়। সীমান্তের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে আইন শৃংখলা সহ সামাজিক কর্মকান্ডও বিডিআর এর আইন দারা ও অবগতিতে পরিচালিত হয়। এটাই নিয়ম। আর বিডিয়ার একটি বাহিনী যার কমান্ড সেনা বাহিনীর হাতে। সেনা বাহিনীর অফিসারেরা কমান্ড করতে জানে না এটা বিশ্বাস করতে বলবেন না। কারন তাদের হাতে দেশের পুরো সীমান্ত এলাকা দেখাশুনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বেড়া দেয়া ক্ষেতের ফসল বেড়ায় না খাইলে ক্ষেতের এই অবস্থা ? এইটা দৃশ্যমান মিথ্যা।
৬|
০১ লা নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:০৯
গডফাদার০২ বলেছেন: @ক্ষতিগ্রস্থঃ বি ডি আর এর কমান্ডে তো সেনা বাহিনীর কর্মকর্তারাই এখনো আছেন? এসব চোরাচালানে উনাদের কোন ভুমিকা বা লাভ ক্ষতি আছে বলে আপনি কি মনে করেন?
যাষ্ট আপনার মতামত জানার জন্য এ প্রশ্ন ।
৭|
০১ লা নভেম্বর, ২০১০ রাত ৯:২৪
ক্ষতিগ্রস্থ বলেছেন: @ গডফাদার০২: হ্যাঁ, কমান্ডে সেনা কর্মকর্তারা আছেন. কিন্তু পুরো লেখার কোথাও সেটার উল্লেখ প্রয়োজন ছিল. আর প্রতিবেদনটি সেনা কর্মকর্তাদের দায়দায়িত্ব নিয়ে নয়, এর বিষয়বস্তু ভিন্ন. আপনি চোরাচালানিতে সেনা কর্মকর্তাদের দায়দায়িত্ব নিয়ে একটা পোস্ট দিন, সেখানে উত্তর দেয়া যাবে. আপাতত, লিন্ক দেখুন.
সেনাবিদ্বেষ : আত্মপক্ষ সমর্থন-৭
সেনাবিদ্বেষ : আত্মপক্ষ সমর্থন-৮
ধন্যবাদ.
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:২৬
টুকলিফাই বলেছেন:
সরেজমিন চোরাচালান - ১ ওপারের বাজার থেকে এপারে ব্যাগভর্তি অস্ত্র
পারভেজ খান, উত্তরাঞ্চল সীমান্ত এলাকা থেকে ফিরে
চোরাকারবারিদের বিচিত্র কর্মকাণ্ড আর অভিনব সব কৌশল খুব কাছ থেকে দেখা যেকোনো সাংবাদিকের জন্য দুর্লভ অভিজ্ঞতা। উত্তরাঞ্চল সীমান্তের এপার-ওপার ঘুরে চোরাচালানের আদ্যোপান্ত দেখে এসেছেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি। দুই দেশের অন্ধকার জগতের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য নিয়ে চার পর্বের সরেজমিন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব ছাপা হলো আজ।
ভারতীয় বিক্রেতার কাছ থেকে একটি ব্যাগ নিয়ে এক যুবক কিছু দূর এগিয়ে গেল। তার পরনে লাল শার্ট ও লুঙ্গি। ৪০-৫০ গজ দূরে গিয়ে সে শার্ট আর লুঙ্গি খুলে ফেলল। ভেতর থেকে বেরিয়ে এল আগে থেকে পরে থাকা হাফ প্যান্ট আর সাদা গেঞ্জি। এরপর যুবক আরেকটু এগিয়ে গিয়ে ব্যাগটি আরেকজনের কাছে হাতবদল করল। এই ব্যক্তির পরনে ফুলপ্যান্ট। সে-ও যুবকের মতোই কিছু দূর এগিয়ে পোশাক পাল্টে ব্যাগটা অন্য আরেকজনের হাতে দিল। সে-ও একই কাজ করল। এভাবে পোশাক আর হাতবদল হতে হতে কমপক্ষে আট-দশ কিলোমিটার ঘুরে সেই ব্যাগটি পেঁৗছাল বাংলাদেশি ক্রেতার হাতে। ক্রেতা কিন্তু দাঁড়িয়ে আছে বিক্রেতার কাছাকাছিই। তাহলে কেন এই লুকোচুরি? এত পথ ঘুরে আসা?
কারণ, ব্যাগের ভেতরের পণ্যটা হলো অস্ত্র। এভাবে অতি সুকৌশলে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বিকিকিনি হচ্ছে দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্তের ওপারে ভারতীয় গ্রাম হাঁড়িপুকুরে।
এই তথ্য ও কৌশলের কথা জানা গেল বেলাল আহমেদ নামে ভারতীয় এক অস্ত্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে। বাংলাদেশের পরিবহন মালিক সমিতির নেতা পরিচয় দিয়ে এবং ঢাকার এক সন্ত্রাসীর সূত্র ধরে অনেক চেষ্টা-চরিত্রের পর বেলালের আস্থা অর্জন করা সম্ভব হয়। শুধু তাই নয়, একপর্যায়ে হাঁড়িপুকুরে গিয়ে অস্ত্র বিকিকিনির সব দুর্লভ দৃশ্যও সচক্ষে দেখার সৌভাগ্য হয়। বেলাল প্রথমেই নিয়ে যায় শম্ভু চাচা নামে পরিচিত একজনের বাড়িতে। সেখান থেকে কারো সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে বেলাল। এরপর ত্রিমোহনী পুলিশ ফাঁড়ি হয়ে বালুরঘাট বাজারে। বাজারের অদূরে তিনতলা বাড়ির নিচে একটি রেডিও-টেলিভিশন মেরামতের দোকান। পাশে একটি চায়ের দোকান। বেলালের সঙ্গে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় সেখানে। হঠাৎ করে বেলাল সেখান থেকে রিকশায় করে একটি খেলার মাঠের পশ্চিম পাশের রাস্তা দিয়ে কিছুদূর এগিয়ে পুরনো রংচটা একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। ডান-বাঁয়ে কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা তাকে অনুসরণ করতে বলে বেলাল ঢুকে পড়ল বাড়ির ভেতর। অপ্রশস্ত সিঁড়ি বেয়ে দোতলার ড্রয়িং রুমে খানিকক্ষণ বসতেই হলুদ রঙের পুরনো ব্যানার জাতীয় কাপড়ে পেঁচিয়ে তিনটি অস্ত্র নিয়ে হাজির হলো দুই যুবক ও এক নারী_রিভলভার ও পিস্তল। বেলাল জানালো, রিভলভার ও পিস্তল ১৫ হাজার টাকা করে। আর শটগানের দাম পড়বে ৩০ হাজার টাকা। পিস্তল ও রিভলবার কিনলে কমপক্ষে ১০টি কিনতে হবে। এর কম হলে দাম পড়বে কিছু বেশি। বেশি দামি অস্ত্রও মিলবে। তিন-সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত। ঘড়ি ধরা তিন মিনিট। অস্ত্র বহনকারীরা চলে গেল। আধঘণ্টার মধ্যে আমরাও ফিরে এলাম।
বেলাল জানাল, কারো বাড়িতে অস্ত্র বেচাকেনা হয় না। দেখে, দামে বনলে পরে কৌশলে (যে কৌশলের কথা প্রথমেই বলা হলো) পেঁৗছে দেওয়া হয় বহনকারীর মাধ্যমে। এটি ছাড়াও আরো অনেক কৌশল আছে। এসব কাজে অনেক রকম সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। প্রায় ক্ষেত্রেই অস্ত্র ক্রেতার হাতে পেঁৗছানোর সময়সূচি ঠিক রাখা হয় না। দিন-তারিখেও হেরফের করা হয়। আগেই দাম পরিশোধ করতে হয় হুন্ডির মাধ্যমে। তা ছাড়া প্রথম বহনকারী বাদে বাকি কেউ অস্ত্র বিক্রেতাকে চেনে না। এমনকি ব্যাগ বা প্যাকেটের ভেতরে কী আছে, সেটাও অনেক সময় বহনকারীরা জানে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের বলা হয়, ভেতর চোরাচালানের পণ্য আছে। কারণ, লাইনম্যান আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যরা অস্ত্রের চালান সহজে ছাড়তে চায় না। চাইলেও এত বেশি টাকা দাবি করে যে কোনো লাভই থাকে না।
জানা গেল, বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, পাবনা ও ফরিদপুর এলাকায় অস্ত্রের ক্রেতা বেশি। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থীরাও তাদের কাছ থেকে নিয়মিত অস্ত্র কিনছে বলে বেলাল জানায়। এই সীমান্ত থেকে প্রতিদিন গড়ে কম করে হলেও ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বেচাকেনা হয়। এমনকি বাংলাদেশের পুলিশ ও র্যাবও লোক পাঠিয়ে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র কিনে নিয়ে যায় বলে বেলাল দাবি করে।
অস্ত্র বিকিকিনির এই জমজমাট হাট হাঁড়িপুকুর হিলির ওপারেই ভারতের বালুরঘাট এলাকার একটি অংশ। দিনাজপুরের হাকিমপুর থানা এলাকার নওপাড়া, রায়ভাগ, নন্দীপুর আর মংলা ঘাসুদিয়া দিয়ে অবাধে যাতায়াত করা যায় হাঁড়িপুকুরে। প্রবেশ পথে বিডিআর জওয়ানরা দাঁড়িয়ে থাকলেও কোনো রকম বাধা দেয় না। জিজ্ঞাসাও করে না কিছু। রেললাইন পার হয়ে সোজা হাঁটা শুরু করে শুধু ওদের হাতে ২০ টাকা গুঁজে দিয়ে বলতে হবে, 'ওপারে যাচ্ছি ডাইল খেতে।' ব্যাস, পাসপোর্ট ছাড়াই মিলে যাবে ভিসা।
হাঁড়িপুকুর মসজিদ ঘাটে বা পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে কিংবা গলির মাথার মুদি দোকানটিতে বসে বাংলাদেশের দিকে তাকালেই দেখা যায়, থেকে থেকে, দলে দলে আসছে মানুষ। কোনো দলে চারজন। কোনো দলে সাত থেকে আটজন। অনেকে ওপারে বিডিআরের পাহারায় মোটরসাইকেল রেখে চলে আসছে এপারে। এপার থেকেও একই ভাবে যাচ্ছে ওপারে। কে বাংলাদেশি আর কে ভারতীয়, বোঝার কোনো উপায় নেই।
অস্ত্র ব্যবসায়ী বেলালের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিটি অস্ত্র বিক্রি করে তার লাভ থাকে তিন থেকে চার হাজার টাকা। জার্মান রিভলভার ও পিস্তল বলা হলেও মূলত এগুলো ভারতীয় এবং বেশ উন্নতমানের। সচরাচর ছিনতাইকারীদের কাছ থেকেই বিক্রেতারা আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে থাকে। অস্ত্র রাখার অর্ধশতাধিক বাড়ি আছে হাঁড়িপুকুর এলাকায়।
হাঁড়িপুকুরে ঢুকলেই প্রথমে মনে হবে গ্রাম এলাকার ছোট কোনো বাজারে ঢুকছি। অধিকাংশ ঘরবাড়ি মাটির। প্রতিটা ঘরে-বারান্দায় দোকান। বারান্দায় ভারতীয় থ্রি-পিস, শাড়ি আর প্রসাধনের পসরা। আর ঘরগুলো ব্যবহার হচ্ছে 'মিনি বার' হিসেবে। হাঁড়িপুকুরে এ ধরনের বার আছে ৩৫টির মতো। ভেতরে ঢুকে দেখা গেল অবাধে মদ আর ফেনসিডিল খাওয়ার দৃশ্য। গাঁজা আর হেরোইনও চলছে। বিএসএফের সদস্যরাও এসে দোকানে বসে চা খাচ্ছে। তবে বিডিআর জওয়ানরা ভারতের সীমানায় ঢুকছে না। এসব ঘরেরই বেশ কয়েকটিতে আগ্নেয়াস্ত্র বেচাকেনা হয়। তবে তা খুবই সতর্কতার সঙ্গে। যে কোনো খদ্দেরের কাছে তারা যে কোনো পণ্য বিক্রি করবে। কিন্তু চেনা খদ্দের ছাড়া অস্ত্র বেচাকেনা নিয়ে কোনো আলোচনাই করবে না। সাফ জানিয়ে দেবে, এখানে এসব চলে না।
স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্র মতে, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্ত এলাকার কোরিয়া, হাটখোলা, চেচড়া, আটাপাড়া, বাগজানা স্টেশন, সদর থানার, জয়পুরহাট সদরের আমদই, পাগলা দেওয়ান, ধলাহার, চকবরকত, রতনপুর ও শালপাড়া এবং দিনাজপুরের হিলির আটাপাড়া, স্টেশন, ফকিরপাড়া, চুরিপট্টি, ফুটবল মাঠ, ডাববাগান ও বালুর মাঠ এলাকায় অস্ত্র ব্যবসায়ীদের একাধিক চক্র আছে। পাশের জয়পুরহাটের ধামইরহাটে রয়েছে আলিম ও ডালিম নামে দুই সন্ত্রাসীর পৃথক চক্র। হিলি স্টেশন এলাকায় অস্ত্র বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত কামাল, জামাল, হযরত, শাহিন ও টগর মলি্লক। এ ছাড়া বিভিন্ন সূত্র মতে, হিলি স্টেশন পট্টির কামাল হোসেন, রায়হান, মুহাড়াপাড়ার মাহে আলম, মাঠপাড়ার জাহাঙ্গীর আলম (বর্তমানে অস্ত্র মামলায় জেলহাজতে), ভারতের হাঁড়িপুকুরের আতিয়ার রহমান, সিরাজুল ইসলাম, নাজির উদ্দীন, শাহাবুল ও বেলাল এই অস্ত্র ব্যবসায় জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রমতে পুরো জয়পুরহাট সদর, পাঁচবিবি ও হিলি এলাকার অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বেচাকেনা আর চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করে ১০ প্রভাবশালী ব্যক্তির একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রের প্রধান হচ্ছে চন্দন। এলাকায় তিনি অপরাধ জগতের গডফাদার হিসেবে পরিচিত। বাকিরা হচ্ছে_ অবসর চৌধুরী, আঙ্গুর, সাবু চেয়ারম্যান, মোস্তাক ওরফে মাদক মোস্তাক, রনী, চিনি ইসলাম, নীলমনি ও বুলেট। নন্দলাল পার্সী বলে আরেকজনের নাম শোনা গেলেও তার ব্যাপারে জোরালো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে এরা প্রত্যেকেই এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। অথচ কয়েক বছর আগেও এদের কয়েকজন ছিল পেশাদার ছিনতাইকারী বা ছিঁচকে সন্ত্রাসী।
অভিযুক্ত গডফাদারদের বয়ান : চন্দন কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা। এসব মিথ্যা প্রচারণার কারণে তিনি এখন এলাকায় না থেকে ঢাকায় থাকেন। একটি মহল রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
চন্দন জানান, তিনি ১৯৯৩ সালে নবাবগঞ্জ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এর পর আর লেখাপড়া করেননি। বড় ভাইয়ের ব্যবসা দেখাশোনা করেন। তাঁর দাবি, বর্ডার এলাকার লোকজন পুলিশ ও বিডিআরকে ম্যানেজ করে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান চালিয়ে যাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার। চন্দন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে ১০-১২টি মামলা ছিল, তা এখন আর নেই। মামলাগুলোও ছিল মিথ্যা। অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় তাঁকে দুইবার ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ধরা হয়েছিল।
আরেক অভিযুক্ত গডফাদার মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক একসময় ছিল ছিঁচকে সন্ত্রাসী। এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। মোস্তাক তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলে, 'একসময় অসৎ বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। তবে এখন ছেড়ে দিয়েছি। বরং বলতে পারেন, আমি এখন চোরাচালান আর মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে আমি এসব করি, তাহলে আমি এলাকা ছেড়ে চলে যাব।' লোকজন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছে বলে তিনি দাবি করেন।
জয়পুরহাটের চোরাচালান সাম্রাজ্যের যুবরাজ হিসেবে পরিচিত অবসর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র বা মাদক চোরাচালানের যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা ঠিক নয়। পাঁচবিবি বা হিলি এলাকায় তাঁর কোনো যাতায়াত নেই। তাঁর বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো ছিল তাও মিথ্যা। তিনি জয়পুরহাট সরকারি কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা এবং বর্তমানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা বলে জানান। অল্প বয়সে রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠায় তাঁর বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র বলে তাঁর দাবি।
অবসর চৌধুরী আরো বলেন, তাঁর বাবা জেলা আওয়ামী লীগের নেতা। বাবা দুই বছর সাজা খেটে ছাড়া পাওয়ার পর দশ বছর এলাকায় ছিলেন না। কোনো চোরাচালানির সঙ্গে তাঁর পরিচয় নেই বলে অবসর দাবি করেন।
অস্ত্র চোরাচালান চক্রের গডফাদারদের নাম জানতে চাইলে যে নামটি অনেকের মুখ থেকেই বের হয়ে আসে তিনি হচ্ছেন নন্দলাল পার্সী। তবে সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন তিনি। বর্তমানে জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, তিনি আগে বাম রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো ছিল তা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। ভবিষ্যতে পৌর মেয়র পদে নির্বাচন করবেন এবং এ কারণেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এসব বাজে কথা রটাচ্ছে।
আরেক অভিযুক্ত গডফাদার চিনি ইসলামও সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো দিনই অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে ওপার থেকে এপারে যারা ভারতীয় চিনি নিয়ে আসত, তাঁদের কাছ থেকে তিনি তা কিনতেন। তবে এখন সেটাও ছেড়ে দিয়ে সীমান্ত এলাকায় মাছের খামার দিয়েছেন।
প্রশাসনের দাবি : বিডিআর ও র্যাবের একাধিক সূত্র জানায়, জয়পুরহাট সদর, পাঁচবিবি, হিলি ও বিরামপুর সীমান্ত এখন অস্ত্র পাচারের নিরাপদ রুট। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, অস্ত্র ব্যবসায়ীদের অভিনব কৌশল আর পদ্ধতির কাছে তারা অসহায়। সুনির্দিষ্ট আগাম খবর ছাড়া অস্ত্র আটক সম্ভব নয়। এর পরও চলতি বছরে এই সীমান্ত এলাকা থেকে ২০টি বিদেশি অস্ত্র, ১২টি ম্যাগাজিন, ৬২টি গুলিসহ চারজন অস্ত্র ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
সূত্র জানায়, অস্ত্র চোরাচালানিরা বিয়ের গাড়ি আর বর-কনে সাজিয়ে সেই গাড়িতে করে অস্ত্র চোরাচালান করে। এই গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলসহ আরো কয়েকটি গাড়ির বহরও থাকে। আবার জীবিত কাউকে লাশ সাজিয়ে কফিনের ভেতরেও অস্ত্র চোরাচালান হয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ ধরনের ঘটনা ধরাও পড়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে টোকেন দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, চোরাচালান রোধের মূল দায়িত্ব বিডিআরের হলেও পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলছে। সীমান্ত এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় বিডিআরের চৌকি কম। আর সীমান্ত অধিবাসীদের সচেতনতার খুবই অভাব। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে গণসচেনতা বাড়ানো ও স্মাগলিং জোন এলাকায় আরো ফাঁড়ি করার চিন্তা-ভাবনা করছে পুলিশ। তবে দুর্গম এলাকায় অভিযান চালানোর মতো প্রয়োজনীয় যানবাহন তাদের নেই বলে তিনি জানান।
র্যাব-৫-এর সিও কর্নেল মঈনুদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, অস্ত্র চোরাচালানিরা মাঝে-মধ্যেই ধরা পড়ছে, অস্ত্রও উদ্ধার হচ্ছে। এর সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত। তবে আগের তুলনায় এখন কম। আসলে কোনো পণ্যের চাহিদা থাকলে সরবরাহ থাকবেই। সীমান্ত এলাকা অনেক বড়। সেই তুলনায় র্যাবের জনবল কম। আবার বিডিআর সদস্যও প্রয়োজনের তুলনায় কম। তাদের মধ্যে আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি সচেতনতা এসেছে বলে তিনি মনে করেন।
জয়পুরহাট-হিলির দায়িত্বপ্রাপ্ত বিডিআরের সিও লে. কর্নেল আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। বিডিআরের অন্য কোনো কর্মকর্তাও এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।