| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাহাদাত উদরাজী
[email protected] ০১৯১১৩৮০৭২৮গল্প ও রান্না udrajirannaghor.wordpress.comপ্লে স্টোরে ‘গল্প ও রান্না’ এন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন! আনন্দ সংবাদ! বাংলা রেসিপি নিয়ে এই প্রথম প্লে স্টোরে এন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন! ‘গল্প ও রান্না’ এখন Play Store এ Apps হিসাবে আপনার হাতের কাছে। নেট কানেশন বা WiFi জোনে থেকে Play Store এ যেয়ে golpo o ranna বা “Golpo O Ranna” বা “com.udraji.rannaghor” লিখে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন। খুব সহজেই আপনি আপনার এন্ড্রয়েড মোবাইলে ‘গল্প ও রান্না’র আইকন ইন্সটল করে নিতে পারেন। ফলে আপনাকে আর মোবাইলে আমাদের সাইট দেখতে লিঙ্ক বা কোন ব্রাউজার ব্যবহার করতে হবে না। নেট কানেশন বা ওয়াইফাই জোনে থাকলেই আপনি ওয়ান ক্লিকেই গল্প ও রান্না দেখতে পাবেন।
একজন মায়ের একাকি করুন মৃত্যুর ঘটনা জাতি দেখলো, তার তিন ছেলে সন্তান উচ্চ শিক্ষিত, উচ্চ পদে, মেয়ে উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষক, পাশাপাশি সবাই ধনী। এই মায়ের করুন মৃত্যুর পরে অনলাইনে আরো এক শ্রেণীর অমানুষ দেখা যাচ্ছে, যারা মাকে দায়ী করছে বা মায়ের অতীত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, মানে এই নির্মন একাকী মৃত্যুর জন্য সন্তানেরা দায়ী নয়, দায়ী তিনি নিজেই! ব্যাড পেরেন্টিং, মায়েদের জিদ, রাগ ক্ষোভ ইত্যাদি সামনে আনছেন। আমি সব সময়ে বলি, মা চরিত্রে নারীরা সেরা, এই চরিত্রে মায়েদের ভুল নেই। হ্যাঁ, মায়েরা বৃদ্ধ হলে আরো জিদ্দি, আরো অবিবেচক, আরো একাকি পছন্দ করেন বা চান। কিন্তু তাতে সমস্যা কি? একজন মা তার চার সন্তান মানুষ করতে কি পরিমান শ্রম দিয়েছেন তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন? তিনি কি পেয়েছেন, তিনি কি ভোগ করেছেন, তার কষ্ট যন্ত্রনা কি কখনো চিন্তা হয়, মানুষ তো আকাশ থেকে পড়েই বড় হয় না, বড় চাকুরী পায় না, বড় শিক্ষিত হয় না!
যাই হোক, কিছু নিজেদের কথা বলি, যদিও এমন বলা ভাল দেখায় না! ধরেন জাস্ট কয়েক মিনিট আগে আমি আমার মায়ের সাথে কথা বললাম, তিনি এখনো সুস্থ্য, বয়স ৭৫/৭৭ তো হবেই, নিজের কাজ নিজে করতে পারেন, গ্রামে থাকতে পছন্দ করেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, আজ দুপুরে কি রান্না করেছেন, তিনি জানালেন মাছ ও পুঁইশাক। আমরাও তিন ভাই এক বোন, বোন ইটালীতে থাকে। আমাদের ছোট ভাইয়ের সাথে আম্মার বন্ডিং ভাল, আমি তাকে ফুল সাপোর্ট দেই, তার কথার উপরে কথা বলি না, শুধু মায়ের কারনে, যেহেতু সে মাকে ভাল দেখবাহাল করে। বড় ভাই কিছুটা দূরে থাকে, যদিও তার মেয়ের বিয়ে হয়ে এখন সে মায়ের কাছেই থাকতে পারে, হয়ত সামনে এমন দিন আসবে। গত শনিবার বাড়ি গিয়ে ৩ দিন মায়ের কাছে থেকে এলাম (মাসে একবার যেতে চেষ্টা করি), মায়ের সাথে এখনো কত কি আলাপ করি, এবার ইচ্ছা করে সব ভাই বোনের কথা জিজ্ঞেস করলাম, কে উনাকে কিভাবে হেল্প করে। এবার তিনি জানালেন, আমাদের ইটালীতে থাকা বোনটা আম্মাকে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে মাসে দশ হাজার টাকা করে দিয়েই যায়, ঈদে চাঁদে তো দেয়ই! কথাটা আমি জানতাম না, কারন কখনো জানতে চাই নাই, নিজের যা দেয়ার সামর্থ্য তাই দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমার মাকে আমার বোন প্রায় প্রতিদিন ফোন/ ভিডিও কল দেয়, ইটালীতে বসেও সে সব জানে কার কোথায় কি হল। দূরে থেকেও যে খোঁজ নেয়া যায় তার উদাহরণ আমার বোন। তার রেগুলার টাকা দেয়ার উৎস জানতে চাইলে আম্মা জানায়, সে এখন চাকুরী করে, সে নিজেই টাকা পায়, স্বামীর টাকা না নিজের টাকা থেকেই দেয়, তারো দুই ছেলে মেয়ে তারাও বড় হয়েছে, এখন সে সেখানে চাকুরী করে ফ্রি টাইমে। 
যাই হোক, কথা গুলো বললাম এই জন্য যে, মায়ের খবর রাখা সন্তানের পুরাই ইচ্ছার উপর নির্ভর করে, সে যদি মানুষ হয়, সে যদি জ্ঞানের হয় তবে মা যেখানেই থাকুক মায়ের খবর নিবেই, বাবার খবর নিবেই, মরে গেলে কবরের সামনে দাঁড়িয়ে দোয়া করবেই। আজরাইল স্ত্রীর সাথে থেকেও মায়ের খবর নেয়া যায়, মাকে টাকা দেয়া যায়, মায়ের কাছে যাওয়া যায়, নিশ্চিতভাবেই। স্ত্রী মায়ের নামে কিছু বললেই তা থামিয়ে দেয়া যায় এক নিমিষেই। মা মাই, মায়ের ভুল হয় না, মাকে দেখে রাখতেই হবে, এটাই আমাদের ধর্মীয় শিক্ষা, পরকালের মুক্তির উপায়। 
এবার আমার ফুফু চাচীদের কথা বলি, এরাও সবাই বৃদ্ধ কিন্তু সন্তানেরা সফল হলেও তাদের কাছে থাকতে চান না, উনারা গ্রামেই স্বাচ্ছন্দ ফিল করেন (আমার আম্মার অবস্থাও তাই)। আমি এবার আমার বড় ফুফুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে অবাক, আমার এই ফুফু অনেক আগে থেকেই জিদ্দি এবং রাগী, আমাদের ছোট বেলায় দেখেছি তিনি যা বলতেন তাই করতেন। উনার সব ছেলে মেয়েরাই সফল, কিন্তু তিনি ঢাকা চট্রগ্রাম ছেলেদের আলীশান বাড়ি থাকলেও তাতে থাকতেন না, গ্রামেই থাকেন। এবার দেখলাম ছেলেরা উনাকে গ্রামে গুলশানের বাড়ির মত করে বাড়ি বানিয়ে দিয়েছেন, আছে লোকবল, গাড়ি ড্রাইভার। ফুফু বলা চলে অজপাড়া গ্রামে রাজরানীর মত করে থাকেন। কথাটা এই জন্য বললাম যে, চাইলে সন্তানেরা এই সব না করেও দিতে পারত, নিজেরা উপভোগ করতে পারত, গ্রামে এমন বাড়ি গাড়ি না হলেও চলত, রুমে এসি না হলে কি আসে যায়।
তা হলে সন্তানেরা কেন এমন করল, কারন মা, মায়ের বিকল্প হয় না, মায়ের জন্য করলে লস নেই লাভ। দুনিয়া এবং আখিরাতে, মায়ের ভুল ধরার অধিকার কোন সন্তানের নেই, ধরতে হয় না, অনুচিত! মা যা ইচ্ছা করবে, তিনি ও তার আল্লাহ জানবেন! মায়ের দোয়া বড় দোয়া।
©somewhere in net ltd.
১|
০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১১:১১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এসব ঘটনা বিব্রতকর ; বাবা-মা বাকা চোখে তাকায়। যাদের মা মারা গিয়েছেন উনারা কেউ জেন-জি নয় । তাহলে এরা এতো সেলফিশ হলো কিভাবে ?