| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এখন বাংলাদেশে টেলিভিশনকে বিনোদন আর খবর দেখার একটি যন্ত্র বলা যায়। বাংলাদেশ টেলিভিশন সরকারি দলের প্রচারণার একটি মাধ্যম ছিল বেশ আগে থেকেই। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ টেলিভিশন কেবল সরকারের মিথ্যাচারের ক্ষেত্র নয়, এটি সরকার সমর্থকদের আয় এবং কর্মসংস্থানের একটি ক্ষেত্র।
আর বেসরকারি টেলিভিশন বলতে সস্তা বিনোদন আর খবর। আবার খবর বলতে দেশের রাজনীতির খিস্তিখেউরই প্রধান।
কিন্তু জাতি গঠনে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান কই? আমাদের দেশে অনেকে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান বলতে ছোটদের নাচ-গান আর কবিতা আবৃত্তি বোঝেন। ওসব খারাপ নয়। কিন্তু বাইরের দেশে টেলিভিশন কিভাবে শুধু শিশুদের নয় বড়দেরও উপকারের আসছে তার উদাহরণ দেবার দরকার মনে হয় নেই।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানগুলোও বেশ চমৎকার ছিল। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টাও বাংলাদেশে শিক্ষামূলক টিভি চ্যানেলের পক্ষে বলেছিলেন। কিন্তু দেশে আজ পর্যন্ত শিক্ষামূলক টিভি চ্যানেল হল না। হল সংসদ চ্যানেল।
যতদিন যাচ্ছে আমার ততই এ বিশ্বাস বাড়ছে যে খুব সচেতনভাবেই আমাদের রাজনীতিকরা আমাদের মেরুদন্ড তথা শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে দিচ্ছেন। আর সমর্থকরা বলছে ওরা শিক্ষা ক্ষেত্রে অত্যন্ত সফল। পাঠ্যবইয়ের কনটেন্ট কমানো, ভুলে ভরা পাঠ্যবই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, এসব কিভাবে শিক্ষার উন্নয়নে সহায়ক হয় আমি বুঝি না।
আরেকটি সমস্যা মৌলিক শিক্ষার প্রতি অবহেলা। এদেশে মৌলিক শিক্ষাকে যেভাবে অবহেলা করা হয় তার পেছনে উদ্দেশ্য আছে বলেই মনে হয়। পশ্চিমারা চাইছে আমরা তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকি। আমরাও যেন তাই চাই। মৌলিক শিক্ষা ছাড়া কোন জাতির পক্ষে স্বনির্ভরতা অর্জন করা সম্ভব নয়। পৃথিবীর সব যুগান্তকারী আবিষ্কার মৌলিক শিক্ষার হাত ধরেই হয়েছে। এই মৌলিক শিক্ষার ভিতটাও মজবুত করতে পারে টেলিভিশনের মানসম্পন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান।
আবার শিক্ষা চ্যানেল যদি বিটিভি মার্কা হয়, সেটা না হওয়াই ভালো। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে শিক্ষানুরাগীদের মাধ্যমে একটি শিক্ষা চ্যানেল দ্রুত চালু হওয়া দরকার। ডিসকভারী আর ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলের অদ্ভুত বাংলায় তথ্যমূলক চ্যানেল না চালিয়ে বাংলাদেশের বাংলা রীতি অনুসরণ করে দেশ বিদেশের শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানগুলো অনুবাদ করা খুব দরকার। শিক্ষাখাতে ব্যয় মানে ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ।
©somewhere in net ltd.