| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হাঙ্কি পান্কি কাহিনী বিগিনস্ হিয়ার
→
আমার মামারা সবাই একসঙ্গে থাকে। যৌথ
পরিবার আরকি। মামাবাড়ি গেলে পাঁচ মামার
বাসায় একসাথে বেড়ানো হয়। তো পূজোর
ছুটিতে সেবার মামাবাড়ি গিয়েছিলাম।
যায়গাটা আমার খুবই প্রিয়। খুবই মজা হয়
বেড়াতে গেলে। এমনি একদিন বিকেলবেলা মামার
বাসার সামনে মনমরা হয়ে বসে আছি।
ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে কয়েকদিন
আগে মোবাইলটা হারিয়েছি। মন চরম খারাপ।
হঠাৎ বাসার সামনে, আমার ঠিক
পাশে একটা রিকশা এসে থামলো।
রিকশা থেকে দুজন নেমে এল। একজন আমার
পরিচিত, আমার ছোট মাসী। আর আরেকজন
কে চিনলাম না। তার
দিকে ভালোমতো তাকিয়ে দেখি আমারি বয়সী এক
কিশোরী বালিকা। রবি ঠাকুর এই
মেয়েকে দেখেন নাই,আমি দেখেছি। তাই আমিই
দিলাম এই মেয়ের রূপের বর্ণনা -
"আহা কী রূপ তার আহারে সুন্দরী
ঈর্ষায়
জ্বলে মরে বেহেস্তের হুরী
কোথা থেকে এল এক ডানাকাটা পরী
দেখে তারে মনে হয় ইন্দ্রের
অপ্সরী!
" এক কথায় অনেক কিউট আর সুইট
একটা মেয়ে। মন চরম খারাপ। এত
রূপবতী একটা মেয়েকে দেখেও আমার তেমন
ভাবান্তর হল না। যা হোক,দেখলাম
ওরা বাসায় ঢুকলো। আমিও কিছুক্ষণ
ওখানে বসে থেকে বাসায় ঢুকে পড়লাম। দিদার
ঘরে গিয়ে দেখি দিদা পান ছেঁচছে। দাঁত নেই
তো তাই!
আমি দিদার ঘরের
টিভিটা ছেড়েছি আর এর মধ্যে আমার
মেঝমামি এসে বলল রূপার (আমার মেঝ মামার
মেয়ে। আমার দুই বছরের ছোট।পড়াশুনায়
ভালো। কিন্তু মারাত্মক পাজি।পুঁচকে মেয়ের
এই বয়সেই বয়ফ্রেন্ড আছে।ও ওর
বয়ফ্রেন্ডকে অনেক জ্বালায়
)
নাকি কয়েকটা অঙ্কে প্রবলেম হচ্ছে।
আমাকে দেখিয়ে দিতে হবে।
ছুটি পড়েছে তো ,তাই হাউজ টিউটর
ছুটিতে গেছে। আবার ছুটি শেষ হতে না হতেই
এক্সাম স্টার্ট হবে। তাই
ছোটখাটো কয়েকটা জিনিস
আমাকে দেখিয়ে দিতে হবে।আমি চরম বিরক্ত।
বেড়াতে এসেছি তাও শান্তি নাই। এখানেও
পড়াশুনা! মানুষ হয়ে জন্ম নেয়াই ভুল হইসে।
গরু-ছাগল হইলেও এর চেয়ে আরামে থাকতাম
কিন্তু যত রাগ সব ভিতরে রাখলাম।
মামিকে বললাম, "আচ্ছা, ঠিক আছে।
আসছি একটু পরে। মনে মনে পড়াশুনার ১৪
গুষ্টি উদ্ধার করলাম। কিছুক্ষণ পর
মহারাণীর(রূপা) রিডিং রুমে গিয়ে দেখি,
মহারাণী মহানন্দে রূপবতীর সাথে গল্প
জুড়ে দিয়েছে যার কিনা ১ সপ্তাহ পর পরীক্ষা।
আমি যেতেই মহারাণী একটা চেয়ার
এগিয়ে দিয়ে বলল, 'ভাইয়া এখানে বস্।' এরপর
ও রূপবতীর সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিল।
রূপবতীর নাম অর্থিতা। কিছুক্ষণ ওর
দিকে তাকিয়ে ছিলাম। ও আমার দিকে তাকাতেই
লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে নেই।
আড়চোখে তাকিয়ে দেখি রূপবতী মুচকি হাসলো।
কি কারনে কে জানে। আর বলল,"রূপা তোমার
এক্সাম না? ভাইয়ার কাছে পড়াগুলা বুঝে নাও।
নাহলে পিসি মারাত্মক রাগ করবে। " এই
বলে রুম থেকে বের হয়ে গেল।
আমি রূপাকে কয়েকটা অঙ্ক
বুঝিয়ে দিয়ে রূপবতীর কথা জিজ্ঞেস করলাম।
জানলাম ওর পুরো নাম অর্থিতা মজুমদার।
ডাকনাম পরী।রূপবতী সম্পর্কে আমার
দুঃসম্পর্কের বোন। আমার মাসীর বাসা আর
ওদের বাসা পাশাপাশি। এখানে পূজোয়
বেড়াতে এসেছে আর কি। যাক ভালোই।
তো মহারাণী কে আরো কয়েকটা সাবজেক্ট এর
প্রবলেম সলভ করে বের হয়ে এলাম।
রূপবতীকে খুঁজলাম। ওকে পেলাম দিদার ঘরে।
দিদার সাথে খুনসুটিতে ব্যস্ত।একটা কথা বলাই
বাহুল্য, আমার দিদা বেশ মজার মানুষ।
ছোটদের সাথে খুব মজা করে। কিন্তু যেহেতু
রূপবতী দিদার ঘরে তাই আমি আর ঢুকলাম না।
আমি পাশের ঘরে বিছানায়
উঠে এমনভাবে বসলাম যেন এঘর থেকেই
রূপবতীকে দেখা যায়। ও
হয়তো কিছুটা বুঝতে পেরেছিল। ও
আমাকে দিদার ঘরে ডাকলো। আমি গেলাম।
রূপবতী আমাকে জিজ্ঞেস করল,"কিছু বলবা?"
আমি কী বলব কিছু বুঝে উঠতে পারলাম না।
আগেই বলেছি,দিদা খুবই রোমান্টিক আর
মজার। আমার কানে কানে ফিস ফিস
করে বলল,"কি দাদুভাই,
মেয়েটাকে ভালো লেগেছে? "! আমি চরম
লজ্জা পেলাম। দিদা আবার বলল,"হয়রে দাদু,
এ বয়সে এমন হয়! " আমি দিদাকে মৃদু
ধাক্কা দিয়ে বললাম,
"যাহ্,দিদা তুমি যে কি বল না বল।
বুড়ি হয়ে গেছ তাও! "
রূপবতী আমার
দিকে তাকিয়ে আছে।
বুঝে ফেলেছে দিদা আমাকে কি বলল।
ধুত্তোরি দিদা টা যে কি। আমি রূপবতীর
দিকে তাকিয়ে দেখি ওর গালগুলো অসম্ভব
রকম লাল হয়ে উঠেছে। আচ্ছা লজ্জা পেলে সব
মেয়ের গাল কি এমন হয়ে যায়? কে জানে। শুধু
দেখলাম ও দিদাকে ফিস ফিস করে কি যেন
বলল। কেউ ফিসফিস করে কিছু
বললে মেয়েরা বুঝে ফেলে কিন্তু
ছেলেরা বুঝতে পারে না কেন?ধুর্। কিছুক্ষণ পর
রূপবতী ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। দিদা বলল,
"যা দাদু ,তুইও একটু বাইরে বেড়িয়ে আয়।
পুজোয় বেড়াতে এসেছিস
এভাবে ঘরকুনো হয়ে বসে আছিস কেন?" দিদার
এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
আমি মামাবাড়ি গেলে সারাদিন
টো টো করে বাইরে বাইরে ঘুরি। দিদাকে কিছু
না বলে ঘর থেকে বেরুলাম। অন্যমনস্ক
ভাবে হাঁটতে হাঁটতে মহারাণীর পড়ার
ঘরে গেলাম। ও জিজ্ঞেস করল,"ভাইয়া কিছু
বলবি?" আমি না সূচক মাথা নেড়ে ওই ঘর
থেকে বের হয়ে আসলাম। ভাবলাম
একটা হাঁটা দিব। হিমু টাইপ হাটা। এক ঘন্টার
আগে কোনো থামাথামি নাই। এমন সময়
আমার আরেক কাজিন মৌমিতা (আমার সেজ
মামার মেয়ে। নিতান্তই ভালো একটি মেয়ে।
আমার ২ বছরের ছোট। আমি আদর
করে মৌ ডাকি। )
দৌঁড়ে এসে বলল,"ভাইয়া রেকেট খেলবি ?"
আমি বললাম, "হুঁ,খেলা যায়। " "আরে ঠিক
বলনা খেলবি কিনা?" "আরে বাবা বললাম
তো খেলব। " তারপর অন্যমনস্ক
ভাবে জিজ্ঞেস করে ফেলি, "রূপবতী খেলবে?"
"রূপবতী কে?" "কেউ না। যা রেকেট নিয়ে আয়।
" মৌ ভেতরে গেল।
আমি বাইরে এসে দাঁড়ালাম। পাড়ার
পূজো মন্ডপ টা এখান থেকেই দেখা যাচ্ছে।
ঢাকের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। আমাদের
বাসা আর মন্ডপের মাঝখানে বিশাল
একটা পুকুর। পুকুরের এই পাড়ে আমরা আর ওই
পাড়ে পূজো। একেবারে যেন বাড়ির পাশের
পুজো। সবমিলিয়ে পরিবেশটা চরম। কিছুক্ষণ
পর মৌ রেকেট আর ফ্লাওয়ার(কক) নিয়ে এল।
ওর পেছনে দেখি মহারাণীও এসেছে। মারাত্মক
ফাঁকিবাজ দেখা যায়। ওকে একটা ধমক
লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি ,ঠিক তখন
দেখি রূপবতীও বেরিয়ে এল। মহারানীকে আর
কিছু বললাম না। এরপর রূপবতীর
সাথে আরো অনেক কথা হয়। ওই শেষে আগ
আগ বাড়িয়ে হাত এগিয়ে দিয়ে বলে, "frndz?"
আমি হাত মিলিয়ে বললাম, "ma pleasure
". আমার মায়ের হাত ছাড়া অন্য কারো হাত
আমার কাছে কোনোদিন এত কোমল লাগেনি।
যাই হোক,এরপর ওরা আর বেশিক্ষণ থাকেনি।
ওরা যখন চলে যাবে তখন আমি, আমার
মা আর নিশিতা দি (আমার বড় মামার মেয়ে।
সবসময় বড় বোন বড় বোন টাইপের ভাব
নিতে পছন্দ করে। বয়ফ্রেন্ড
আছে কিনা যানি নাহ।) ওদের
এগিয়ে দিতে গেলাম। সচরাচর কেউ
এলে আমি এগিয়ে দিতে যাই না। তা সে যত
আপন আত্মীয়ই হোক।আজকে নিয়মের
ব্যতিক্রম করলাম। আমার মন বলছিল,
আজকে কিছু না কিছু ঘটবে।
প্রকৃতি হয়তো চেয়েছে আমারো স্পেশাল
কেউ থাকুক! ফালতু কথা বাদ,আসল কথা বলি।
ওরা সবাই মন্ডপের সামনে একটু থামলো।
সম্ভবত প্রনাম করার জন্য।
আমি পিছিয়ে পড়েছিলাম। হাটার
গতি বাড়িয়ে রূপবতীর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। ও
বুঝলো কিন্তু কিন্তু কিছু বলল না। আমি ওর
দিকে তাকিয়ে রইলাম মুগ্ধ হয়ে ,অপলক।
এরপরের কাহিনী অনেকটা সিনেমার মত
(বাংলা না অবশ্যই)। হঠাৎ
করে কোনো একটা সমস্যার কারনে মন্ডপের
সব ইলেকট্রিক লাইট, বাল্ব, আর টিউবলাইট
গুলা বন্ধ হয়ে যায়। তখন কারেন্টও ছিল না।
ফল যা হবার তাই। সব অন্ধকার হয়ে গেল।
আমি তখনো ওর দিকে তাকিয়ে আছি।
আবছা চাঁদের আলোয় ওকে খুব খুব খুব
মিষ্টি লাগছিল। অর্থিতা অনেক ফ্রেন্ডলি।
কথাবার্তায় অপরিচিত ভাবটা এখন আর নেই।
ও আমার দিকে তাকালো। তারপর
বলল,"আমাদের বাসায় একদিন যাবা। "
"কিভাবে ?!" "তোমার মাসীর বাসায় আসবা।
তখন আমাদের বাসায়ও ঘুরে যাবা। " "দেখি। "
"তোমরা তো পরশুদিন চলে যাবা। কালকেই
আসার চেষ্টা করবা। " "মা'কে বলে দেখি। "
তারপরের ঘটনা আমার নিতান্ত অপ্রত্যাশিত
এবং ভয়াবহ। কেউ দেখলে চরম
লজ্জা পেতে হত। ভাগ্যিস অন্ধকার ছিল।
রূপবতী আমার ডান হাতটা ধরে বলল,
"তোমাকে অনেক মিস করব। প্লিজ আইসো।
আসবা তো?" এই পাগল মেয়ের
কান্ডে আমি হতভম্ব। ও নিজের
পাগলামি বুঝতে পেরে লজ্জা পেয়ে হাত
ছেড়ে দিল। আমি বুঝতে চেষ্টা করলাম কেউ এই
পাগলির কর্মকাণ্ড বুঝে ফেলল কিনা। না, কেউ
বুঝতে পারে নি। যাক বাবা বাঁচা গেল! এর দুই
তিন মিনিট পর সব আলো জ্বলে উঠে।
ওরা চলে যায়। আমি ওদের গমন পথের
দিকে চেয়ে থাকি। মনে হতে থাকে,আমার
হৃদয়ের একটা বড় অংশ কেউ একটু আগে দখল
করে নিল। আমার কিশোর মন
আবেগে ভরে ওঠে। বুকের গহীন কোন থেকে ওর
জন্য ভেসে আসা তীব্র আবেগটা অনুভব করি।
এটাই বুঝি ভালবাসা? না এটা ভালোবাসা না।
আজ আমি বুঝি, ক্ষনিকের দেখায়
ভালোবাসা হয় না। হতে পারে বড়জোর
ভালোলাগা। সেটাই হয়েছে আমার সাথে।
আমার হৃদয় আমাকে দিয়েছে বিরাট বড় ধোকা।
তবুও সেই ক্ষনিকের স্মৃতি হৃদয়ে লালন
করে যাই সযতনে।।
————————————————
★★★THE END★★★
©somewhere in net ltd.