নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্তরের নিরন্তর সন্তরন

ওয়ালিউর রহমান টুটুল

একজন প্রোএক্টিভ নিরীহ টাইপের মানুষ যে অহংকার কিংবা খামোখা শো-অফ করাকে প্রতিবন্ধী মানসিকতা বলে মনে করে। আরশি নগরের পড়শির খোঁজে নিরন্তর পেরেশান। ভাবতে ভাল লাগে একদা গ্রাম্য সহজ সরল সাদামাটা জীবনযাত্রা। নিজে যেমন সত্য বলাতে অকপট তেমনি যারা ভনিতার আশ্রয় গ্রহন করে তাদেরকে তীব্র ঘৃণা করি। গল্প, কবিতা, স্মৃতি বিজড়িত ঘটনাগুলোকে আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখতে ভাল লাগে।

ওয়ালিউর রহমান টুটুল › বিস্তারিত পোস্টঃ

শক্তের ভক্ত নরমের জম

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ভোর ৬:৫৫







ছোটবেলায় যখন গ্রামের বাড়িতে দাদির কাছে ছিলাম তখনকার একটি ঘটনা এখনো মনে দাগ কেটে আছে| সময়ে অসময়ে সেই ঘটনাটির সাথে অহরহ কত মিল খুঁজে পাই| আমাদের বাড়িতে একটি নেড়ি কুকুর আসা যাওয়া করত সব সময়| মালিক বিহীন হওয়ায় সারা গ্রামেই ছিল তার অবাধ বিচরণ| তবে বিচরণ ক্ষেত্রটি বেশির ভাগ সময়ে রান্নাঘর কেন্দ্রিকই হয়ে থাকত| প্রায়শই এবাড়ি ওবাড়ির ভাত তরকারিতে মুখ ডুবিয়ে বসতো| ফলাফল মুগুর পেটা| এভাবেই সুখে দুঃখে দিন কাটছিল নেড়ি কুকুরটির|





সেদিন কি হলো কে জানে, দুপুরের দিকে আমার ছোট ছোট চাচাতো ভাইবোনরা বাহির বাড়ির উঠানে খেলছিল| বয়স কতই বা হবে ওদের!! ৩, ৪, ৫ এর বেশি না| হটাত কোত্থেকে এই নেড়ি এসে তীব্র আক্রোশে ঘেউ ঘেউ করে ওদের সবাইকে আতংক গ্রস্ত করে তোলে| একপর্যায়ে ওদেরকে তাড়া শুরু করে| কচি অবুঝ শিশুর দল তারস্বরে চিত্কার করে প্রাণ হাতে নিয়ে দিগ্ব্বিদিগ দৌড়াচ্ছে| ঠিক তখন আমার জিলু কাকা মাঠ থেকে হাল চাষ শেষ করে জোড়া গরুর সাথে লাঙ্গল কাধে করে বাড়ি ফিরছিল| এমনিতেই ছিল ক্লান্তের চূড়ান্ত, তার উপর বাড়ির উঠানে এমন দৃশ্য দেখে মাথা ঠিক রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে| তাড়াতাড়ি করে কাধ থেকে লাঙ্গল নামিয়ে রেখে গরুগুলিকে দাড় করিয়ে পাযোন হাতে নেড়ির দিকে ছুটে গেলো| হাতের লম্বা পাযোন (হাল চাষে গরু পিটানো লাঠি) দিয়ে নেড়িকে মারলো একটা বারি| কুই কুই করতে করতে নেড়ি দেয় এক ভো দৌড়| নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে ফিরে তাকায়| জিলু কাকা যখন আবার পাযোন উচিয়ে ভেংচি কাটে তখন নেড়ি কুকুর কুই কুই করে লেজ গুটিয়ে পিছনের দুই ঠ্যাঙ্গের ভিতর ঢুকিয়ে গায়ের পথে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়|





খবর: বর্তমানে ভারত সফরে চীনের প্রধানমন্ত্রী| ভারতের পক্ষ থেকে চীনা প্রধানমন্ত্রীকে লাদাখ সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে ঢুকেপড়া চীনা সৈন্যদের প্রত্যাহারের অনুরোধের কোনো পাত্তা তো দেইই নাই উল্টা আরো বেশি সৈন্যের সমাগম| নেড়ির মত ভারতের কুই কুই লেজ গুটানো প্রতিবাদ| এর বেশি আর কিছু করার "হেডম" থাকলে তো করবে? শক্তের ভক্তের চরম পরকাষ্টা আর কাকে বলে!! আর অন্যদিকে আমাদের সীমান্তে ভারত আমাদের মানুষদেরকে প্রতিনিয়ত পাখির মত গুলি করে মেরে তৃপ্তির ঢেকুর তোলে| যত বাহাদুরি কেবল অপেক্ষাকৃত দুর্বলের উপরেই দেখানোর মৌকা নেয়া| এই ধরনের নরমের জমকে কেবল নপুংসুক কাপুরুষতা বলেই ধিক্কার জানানো যেতে পারে|





মোরাল: যখনি কেউ শক্তের ভক্ত নরমের জম হয়ে আবির্ভূত হয় তখনি প্রাকৃতিক ভাবে, যেমন কুকুর তেমন মুগুরের আগমন ঘটে থাকে|

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.