| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সন্ধি কাকে বলে: ‘সন্ধি’ শব্দটির একটি অর্থ মিলন। বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি বলতে বোঝায় সন্নিহিত দুটো ধ্বনির মিলন। আমরা যখন দুটি শব্দ পাশাপাশি উচ্চারণ করি, তখন শব্দ দুটির কাছের বর্ণ দুটি অনেক সময় আলাদাভাবে উচ্চারিত হয় না। দুয়ে মিলেমিশে যায়। এভাবে পাশাপাশি দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
যেমন: বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়, চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র, সৎ + জন = সজ্জন, দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা।
সন্ধির বৈশিষ্ট্য: অনেক সময় পাশাপাশি অবস্থানে দুটি ধ্বনির উচ্চারণ স্বাভাবিকভাবেই একীভূত হয়ে যায়। ব্যাকরণে এই স্বাভাবিক নিয়মকে বলা হয়েছে ‘নিত্য’।
১. একপদে নিত্যসন্ধি হয়। যেমন: নে অন-এ রকম আলাদা আলাদাভাবে উচ্চারিত হয় না। এক পদে পরিণত হওয়ার সময় সন্ধিবদ্ধ হয়ে ‘নয়ন’ রূপে উচ্চারিত হয়। যেমন: (নে + অন = নয়ন)
২. শব্দের সঙ্গে উপসর্গ যোগ করার সময় অনেক সময় সন্ধি হয়ে যায়। যেমন: নিঃ + দয় = নির্দয়।
৩. সমাস অর্থাৎ দুই বা বহুপদ একপদে পরিণত হওয়ার সময় নিত্য সন্ধি হয়।
যেমন: সূর্যের অস্ত = সূর্য + অস্ত = সূর্যাস্ত।
সন্ধির ক্ষেত্রে ধ্বনির মিলন চার রকমের হতে পারে: ১. উভয় ধ্বনি মিলে একধ্বনিতে পরিণত হয়। ২. একটি ধ্বনি বদলে যায়। ৩. একটি ধ্বনি লোপ পায়। ৪. উভয় ধ্বনি বদলে গিয়ে নতুন একটি ধ্বনির সৃষ্টি হয়।
সন্ধির প্রয়োজনীয়তা: ১. সন্ধি করলে পাশাপাশি দুটি বা ততোধিক শব্দের তাড়াতাড়ি উচ্চারণ সহজ ও সংক্ষিপ্ত হয়। যেমন: বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়। ‘আমি বিদ্যা আলয়ে যাচ্ছি’-এর চেয়ে ‘আমি বিদ্যালয়ে যাচ্ছি’ বেশি সহজ ও সংক্ষিপ্ত। অনেক সময় দুটি ধ্বনি পাশাপাশি একসঙ্গে উচ্চারণ করার সময় সন্ধি আপনা থেকেই হয়ে যায়। যাহোক, সহজে উচ্চারণ করার জন্য সন্ধির প্রয়োজন। ২. সন্ধি করলে ভাষা শ্রুতিমধুর হয়। সুতরাং শ্রুতিমাধুর্যের জন্য সন্ধির প্রয়োজন।
সন্ধির প্রকারভেদ: সন্ধি দুই প্রকার। স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধি।
স্বরসন্ধি: স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে স্বরসন্ধি বলে।
যেমন: অ + অ = আ, হিম + আলয় = হিমালয়।
ব্যঞ্জনসন্ধি: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি, ব্যঞ্জনধ্বনি ও স্বরধ্বনি এবং ব্যঞ্জনধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
যেমন: সৎ + জন = সজ্জন।
বিসর্গসন্ধি বলে ব্যঞ্জনসন্ধির একটি প্রকারভেদ আছে। বিসর্গ আসলে ‘র’ এবং ‘স্’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। বিসর্গের সঙ্গে স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনির সন্ধি হলে, তাকে বিসর্গসন্ধি বলে। যেমন: পুনঃ + বার = পুনর্বার, দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা ইত্যাদি।
কেউ কেউ বিসর্গসন্ধিকে আলাদা একটি শ্রেণীতে ফেলে সন্ধিকে তিন প্রকার বলেছেন। আসলে বিসর্গসন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধিরই অন্তর্ভূক্ত।
শব্দের উৎস অনুসারে সন্ধিকে আবার দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
ক. তৎসম সন্ধি খ. খাঁটি বাংলা সন্ধি
ক. তৎসম সন্ধি: বাংলা ভাষায় ব্যবহূত তৎসম শব্দের সন্ধি হলে তাকে তৎসম সন্ধি বলে। তৎসম সন্ধি স্বর ও ব্যঞ্জনভেদে দুই প্রকার।
ক. তৎসম স্বরসন্ধি খ. তৎসম ব্যঞ্জনসন্ধি
খ) খাঁটি বাংলা সন্ধি: বাংলা ভাষায় দেখা যায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে তৎসম সন্ধির নিয়ম প্রয়োগ না করে, ভিন্ন নিয়মে সন্ধি করা হয়েছে। এ প্রকারের সন্ধিকে বলা হয় খাঁটি বাংলা সন্ধি।
জেনে রাখো: ভাষা সব সময় নিয়ম মেনে চলে না। ব্যাকরণ দেখে দেখে তো ভাষার সৃষ্টি হয়নি। বরং ভাষার বিশ্লেষণ করেই ব্যাকরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই দেখা যায় ভাষায় নিয়ম ও শৃঙ্খলা যেমন আছে, তেমনি ব্যতিক্রম বা বিকল্পও আছে। যখন নিয়ম খাটে না, তখন তাকে ব্যাকরণে বলে ব্যতিক্রম বা নিপাতনে সিদ্ধ
এবার ব্যতিক্রমী বা নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির পরিচয় দেব। নিচে সন্ধির নিয়ম ও উদাহরণ উপস্থাপন করা হলো।
সন্ধির নিয়ম ও উদাহরণ: ১. স্বরসন্ধি। ১. ক. তৎসম স্বরসন্ধি
(১) অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়। আ-কার পূর্ব বর্ণে যুক্ত হয়। যেমন: অ + অ = আ,
নর + অধম = নরাধম, শাক + অন্ন = শাকান্ন, নব + নবান্ন = নবান্ন,
পরম + অণু = পরমাণু। অ + আ = আ, শরণ + আগত = শরণাগত,
হিম + আলয় = হিমালয়, সিংহ + আসন = সিংহাসন, জল + আতঙ্ক = জলাতঙ্ক। আ + অ = আ, বিদ্যা + অভ্যাস = বিদ্যাভ্যাস, মহা + অর্ণব = মহার্ণব,
কথা + অমৃত = কথামৃত, তথা + অপি = তথাপি। আ + আ = আ,
বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়, ক্ষুধা + আতুর = ক্ষুধাতুর, মহা + আশয় = মহাশয়।
(২) ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয় মিলে ঈ-কার হয়। ঈ-কার পূর্ব বর্ণে যুক্ত হয়। যেমন: ই + ই = ঈ, রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র, মণি + ইন্দ্র = মণীন্দ্র, অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র। ই + ঈ = ঈ
পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা, অধি + ঈশ্বর = অধীশ্বর, নীতি + ঈশ = নীতিশ, প্রতি + ঈক্ষা = প্রতীক্ষা, গিরি + ঈশ = গিরীশ। ঈ + ই = ঈ, শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র, ফণী + ইন্দ্র = ফণীন্দ্র, মহী + ইন্দ্র = মহীন্দ্র, অবণী + ইন্দ্র = অবণীন্দ্র। ঈ + ঈ = ঈ, শ্রী + ঈশ = শ্রীশ, সতী + ঈশ = সতীশ।
(৩) উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয় মিলে ঊ-কার হয়। ঊ-কার পূর্বের বর্ণে যুক্ত হয়। যথা: উ + উ = ঊ, মরু + উদ্যান = মরূদ্যান, সু + উক্তি = সূক্তি, কটু + উক্তি = কটূক্তি, উ + ঊ = ঊ, লঘু + ঊর্মি = লঘূর্মি, তরু + ঊর্ধ্ব = তরূর্ধ্ব, ঊ + ঊ = ঊ, ভূ + ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব।
(৪) অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয় মিলে এ-কার হয়। এ-কার পূর্ববর্তী বর্ণে যুক্ত হয়। যেমন: অ + ই = এ, স্ব + ইচ্ছা = স্বেচ্ছা, শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা, নর + ইন্দ্র = নরেন্দ্র, দেব + ইন্দ্র = দেবেন্দ্র। অ + ঈ = এ, অপ + ঈক্ষা = অপেক্ষা, গণ + ঈশ = গণেশ, খগ + ঈশ = খগেশ। আ + ই = এ, যথা + ইচ্ছা = যথেচ্ছা, যথা + ইস্ট = যথেষ্ট, মহা + ইন্দ্র = মহেন্দ্র। আ + ঈ = এ, মহা + ঈশ্বর = মহেশ্বর, ঢাকা + ঈশ্বরী = ঢাকেশ্বরী, রমা + ঈশ = রমেশ।
(৫) অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয় মিলে ও-কার হয়। ও-কার পূর্ব বর্ণে যুক্ত হয়। যেমন: অ+উ=ও, পর+ উপকার =পরোপকার, নীল+উৎসব=নীলোৎসব, শীত+উষ্ণ=শীতোষ্ণ, সূর্য + উদয়=সূর্যোদয়, জল+উচ্ছ্বাস=জলোচ্ছ্বাস। অ+ঊ=ও, চল+ঊর্মি = চলোর্মি, নব+ঊঢ়া=নবোঢ়া। আ+উ=ও, কথা+উপকথন=কথোপকথন, মহা+উপকার=মহোপকার, মহা+উৎসব=মহোৎসব, যথা+উচিত=যথোচিত।
আ+ঊ=ও, মহা+ঊর্মি=মহোর্মি, গঙ্গা+ঊর্মি=গঙ্গোর্মি।
সন্ধির নিয়ম ও উদাহরণ: (৬) অ-কার কিংবা আ-কারের পর ঋ-কার থাকলে উভয় মিলে অর্ হয় এবং অর্-এর ‘র্’ রেফ (র্ )-রূপে পূর্ব বর্ণে যুক্ত হয়। যেমন:
অ+ঋ=অর্ দেব+ঋষি=দেবর্ষি, সপ্ত+ঋষি=সপ্তর্ষি, উত্তম+ঋণ=উত্তমর্ণ, অধম+ঋণ=অধমর্ণ।
আ+ঋ=অর্, মহা+ঋষি=মহর্ষি, রাজা+ঋষি+রাজর্ষি।
তবে ‘ঋত’ শব্দ পরে থাকলে ‘অর’ না হয়ে ‘আর’ হয়।
যেমন: ক্ষুধা+ঋত=ক্ষুধার্ত, শীত+ঋত=শীতার্ত।
(৭) অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয় মিলে ঐ-কার হয়। ঐ-কার পূর্ব বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন: অ+এ=ঐ, হিত+এষী=হিতৈষী, জন+এক=জনৈক , সর্ব+এব=সর্বৈব। অ+ঐ=ঐ, মত+ঐক্য=মতৈক্য, চিত্ত+ঐশ্বর্য=চিত্তৈশ্বর্য, আ+এ=ঐ, সদা+এব=সদৈব, তথা+এব=তথৈব। আ+ঐ=ঐ, মহা+ঐশ্বর্য=মহৈশ্বর্য।
(৮) অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয় মিলে ঐ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ব বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন: অ+ও=ঔ, বন+ওষধি=বনৌষধি, জল+ওঘ=জলৌঘ, আ+ঔ=ঔ, মহা+ঔষধ=মহৌষধ
(৯) ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার ভিন্ন অন্য স্বরবর্ণ থাকলে ই বা ঈ এর স্থানে ‘য’ হয়। ‘য’ বর্ণটি ‘য’-ফলা’ (্য) রূপে পূর্ব বর্ণে যুক্ত হয়।
যথা: ই+অ=য্+অ= ্য: অতি+অন্ত=অত্যন্ত, যদি+অপি=যদ্যপি, বি+অবস্থা=ব্যবস্থা, বি+অর্থ=ব্যর্থ, প্রতি+অক্ষ=প্রত্যক্ষ, প্রতি+অহ=প্রত্যহ, অধি+অক্ষ=অধ্যক্ষ।
ই+আ=য্+আ=্যা: অতি+আচার=অত্যাচার, ইতি+আদি=ইত্যাদি, প্রতি+আশা= প্রত্যাশা, পরি+আলোচনা=পর্যালোচনা।
ই+উ=য্+উ= ু ্য: অভি+উদয়=অভ্যুদয়, প্রতি+উপকার=প্রত্যুপকার, প্রতি+উত্তর= প্রত্যুত্তর।
ই+ঊ=য্+ঊ= ূ ্য: নি+ঊন= ন্যূন, প্রতি+উষ=প্রত্যুষ।
ই+এ=য্+এ= ্যে: প্রতি+এক=প্রত্যেক।
ঈ+অ=য্+অ=্য: নদী+অম্বু=নদ্যম্বু।
(১০) উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ছাড়া অন্য স্বরবর্ণ থাকলে উ বা ঊ-এর জায়গায় ‘ব’ হয় এবং পরবর্তী স্বরবর্ণ ‘ব’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন: উ+অ=ব,+অ=ব, অনু+অয়=অন্বয়, মনু+অন্তর=মন্বন্তর, সু+অল্প=স্বল্প।
উ+আ=বা, সু+আগত=স্বাগত। উ+এ=ব্+এ=বে, অনু+এষণ=অন্বেষণ।
(১১) ঋ-কারের পর ঋ-কার ছাড়া অন্য স্বরবর্ণ থাকলে ঋ-স্থানে ‘র’ র-ফলা ( ্র)-রূপে পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন: ঋ + অ = র্ + অ = র্, পিতৃ + অনুমতি = পিত্রনুমতি।
ঋ + আ = র্ + আ = রা, পিতৃ + আলয় = পিত্রালয়।
ঋ + ঈ = রী, কর্তৃ + ঈ = কর্ত্রী, ধাতু + ঈ = ধাত্রী।
(১২) স্বরবর্ণ পরে থাকলে এ-কারের স্থানে অয়, ঐ-কারের স্থানে আয়, ও-কারের স্থানে অব্ এবং ঔ-কারের স্থানে আব হয়।
যেমন: এ + অ = অয়, নে + অন = নয়ন, শে + অন = শয়ন।
ঐ + অ = আয়, গৈ + অক = গায়ক, নৈ + অক = নায়ক।
ও + অ = অব
পো + অন = পবন, ভো + অন = ভবন, গো + এষণা = গবেষণা।
ঔ + অ=আব, পৌ + অক=পাবক, ভৌ + উক=ভাবুক।
ঔ + ই = আবি, নৌ + ইক = নাবিক।
তৎসম (সংস্কৃত) স্বরসন্ধির ক্ষেত্রে নিপাতনে সিদ্ধ বা নিয়মের ব্যতিক্রমের কিছু দৃষ্টান্ত:
প্র + উঢ় = প্রৌঢ় (নিয়ম অনুসারে হওয়া উচিত ছিল ‘প্রোঢ়’)
কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়)।
স্বর + ঈর = স্বৈর। (স্বের নয়)
এরূপ: গো + অক্ষ = গবাক্ষ, গো + ইন্দ্র = গবেন্দ্র, প্র + এষণ = প্রেষণ ইত্যাদি।
১) খ. তৎসম ব্যঞ্জনসন্ধি:
১) স্বরধ্বনির পর ছ্ থাকলে ছ্-স্থানে চ্ছ হয়। যেমন: পরি + ছদ = পরিচ্ছদ, প্র + ছদ = প্রচ্ছদ, তরু + ছায়া = তরুচ্ছায়া।
২) ক্, চ্, ট্, ত্, প্-এর পর স্বরধ্বনি থাকলে ক্-স্থানে গ্, চ্-স্থানে জ্, ট-স্থানে ড্, ত্-স্থানে দ্ এবং প-স্থানে ব্ হয়। যেমন: দিক্ + অন্ত = দিগন্ত, প্রাক্ + ঐতিহাসিক = প্রাগৈতিহাসিক, অচ্ + অন্তা = অজন্তা, সৎ + ইচ্ছা = সদিচ্ছা, জগৎ + ঈশ = জগদীশ, সুপ + অন্ত = সুবন্ত।
৩) ত্ কিংবা দ্-এর পর চ্ কিংবা ছ্ থাকলে ত্ ও দ্-স্থানে চ্ হয়।
যেমন: উৎ + চারণ = উচ্চারণ, চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র, উৎ + ছেদ, সৎ + চরিত্র = সচ্চরিত্র, উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ, উৎ + ছল = উচ্ছল।
৪) ত্ কিংবা দ্-এর পর জ কিংবা ঝ থাকলে ত্ ও দ্-স্থানে জ্ হয়। যেমন—
উৎ + জ্বল = উজ্জ্বল, সৎ + জন = সজ্জন,
তৎ + জন্য = তজ্জন্য, যাবৎ + জীবন = যাবজ্জীবন, কুৎ + ঝটিকা = কুজ্বটিকা।
৫) ত্ কিংবা দ্ -এর পর ড্ কিংবা ঢ্ থাকলে ত্ ও দ্ স্থানে -স্থানে ড্ হয়। যেমন—
উৎ + ডীন = উড্ডীন, বৃহৎ + ঢক্কা = বৃহড্ঢক্কা।
৬) ত্ কিংবা দ্-এর পর ল্ থাকরে ত্ ও দ্ স্থানে ল্ হয়।
যেমন: উৎ + লেখ = উল্লেখ, উৎ + লাস = উল্লাস।
৭) ত্ কিংবা দ্-এর পর শ্ থাকলে ত্ ও দ্-স্থানে চ্ এবং শ্ স্থানে ছ হয়। যেমন—উৎ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল, উৎ + শ্বাস=উচ্ছ্বাস।
৮) ত্ ও দ্-এর পর হ্ থাকলে ত্ ও দ্-স্থানে দ্ এবং হ্ স্থানে ধ হয়। যেমন—উৎ + হত = উদ্ধত, উৎ + হার = উদ্ধার, পদ + হতি = পদ্ধতি।
৯) ‘ম্’-এর পরে যদি কোনো স্পর্শবর্ণ থাকে তাহলে ম-এর জায়গায় ওই স্পর্শবর্ণ যে বর্গের অন্তর্গত, সেই বর্গের নাসিক্য বর্ণ হয়। যেমন:
ম্-এর পর ‘ক’ থাকলে ম্-স্থানে ‘ঙ’ হবে।
যেমন: শম + কা = শঙ্কা।
©somewhere in net ltd.