নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি ই ওয়াসিম, আমি ই হ্যাভেন ! আমি ও বলতে চাই !

ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন

ব্লগিং হউক সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার ।

ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

৩২-এ আতংক

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:০৮

বিটিবি তে প্রচারিত সৈয়দ বোরহান কবীর এর উপস্থাপনায় "পরিপ্রেক্ষিত" নামের অনুসন্ধানী অনুষ্ঠানের কথা আমাদের অনেকের ই মানে আছে ১৯৯৬ /৯৭ এর দিকে "পরিপ্রেক্ষিত" নামের অনুসন্ধানী অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী । আওয়ামীলিগের প্রভাবশালী সাংসদ জয়নাল হাজারী কিংবা খুলনার কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের কথা দেশবাসী জানতে পেরেছিল বিটিভি তে প্রচারিত এই "পরিপ্রেক্ষিত" অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই । যার ফলশ্রুতিতেই সরকার আইনের অতায় আনতে পেরেছিল কিংবা জয়নাল হাজারিরা রাজনীতির মুলধারা থেকে ছিটকে পরতে বাধ্য হয়েছিল । বর্তমানে ও আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটি টিভি চ্যানেলেই বিভিন্ন অনুসন্ধানী রিপোর্ট ভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করে আসছে সেই সাথে অন্যান সংবাদমাধ্যম ও নানান অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করে আসছে যার জনপ্রিয়তা মোটে ও কম নয় । এ সব অনুষ্ঠান দেখে একদিকে আমারা সাধারন যেমন সতর্ক হতে পারছি তেমনি সরকার তথা প্রশাসন ও অপরাধীদের দমনে কার্যকরী ব্যবস্হা গ্রহন করতে পারছে বলে আমার ধারনা ।

তথ্য প্রযুক্তি আইন -২০০৬ ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন সংশোধনী- ২০১৩ এর ৫৭ ধারা যা আমাদের স্বাধীন মত প্রকাশের অন্তরায় । তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের জন্য সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ দাবী জানিয়ে আসছিল । আর এই দাবীর প্রেক্ষিতে সরকার তথ্য প্রযুক্তি আইনের কালো ধারা ৫৭ বাতিল করলেও ৫৭ ধারার বিষয়গুলিকে ছরিয়ে ছিটিয়ে চারটি ধারায় মিলিয়েদিয়েছে । তবে সবচেয়ে ভয়ংকর ও আতংকের বিষয় হলো সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া " ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ " । এই আইনের ৩২ ধারা দেশ ও জাতির জন্য এক ভয়ংকর অভিশাপ হিসেবে অপেক্ষায় আছে । এই আইনের ৩২ ধারা নিয়ে দেশের প্রায় প্রতিটি বিবেকবান মানুষই আজ চিন্তিত । প্রাস্তাবিত " ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ " এর ৩২ ধারায় বলা হয়েছে " যদি কোনো ব্যক্তি বেআইনি প্রবেশের মাধ্যমে কোনো সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ কোনো সংস্থার কোনো ধরনের অতিগোপনীয় বা গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ধারণ, প্রেরণ বা সংরক্ষণ করেন বা করিতে সহায়তা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে কম্পিউটার গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ। " জাতি হিসেবে আজ আমাদের কপালের দুর্নীতির তামাকা অনেক পুরোনো জাতির জনকের সেই ঐতিহাসিক জিজ্ঞাসা " সাত কোটি বাঙালির সাড়ে সাত কোটি কম্বল, আমার কম্বল কই " . সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সাত কোটি মানুষের জন্য সাড়ে সাত কোটি কম্বলের ভেতরে নিজের কম্বলখানাই খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছিলেন । সঈ থেকে আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কোন অপরাধ বা দুর্নীতির জন্য বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষ কি জরিত ছিলেন ? না কি রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পৃক্ত রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তি ও সরকারী কর্মকর্তা ও তাদের বেসরকারী দোসররা জরিত ? কোন দুর্নীতিগ্রস্হ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোন দিন ই কোন সংবাদ মধ্যমকে সহযোগিতা করবেনা তা দুর্নীতি প্রচারের জন্য । তাই কোন ভাবেই প্রকাশ্য তাদের কাছ থেকে কি দুর্নীতির সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভব ? ভুয়া মুক্তিযুদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের সনদ জালিয়াতি করে সরকারী কর্তাব্যক্তিদের পদোন্নতি বিদেশি বন্ধুদের সম্মাননা পদকে সোনা জালিয়াতি , সরকারি কর্মকর্তার গুনে গুনে ঘুষখাওরার চিত্র সহ অনেক রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কিংবা চোরাকারবারিদের তথ্য জানতে পেরেছি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে যার পুরোটাই ছিল গোপনে ধারন করা । শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ই না দুনিয়ার কোথাও দুর্নীতিবাজরা তাদের নুন্যতম তথ্য সংবাদ মাধ্যমকে সঠিক ভাবে প্রদান করেছে এমন প্রমান নাই । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশে ও ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারি তথ্য মার্কিনীরা জানতে পেরেছিল ডেমোক্র্যাট দলের সদর দফতরে বাসানো আড়িপাতার যন্ত্রের মাধ্যমেই ।


একটি গনতান্ত্রীক রাষ্ট্রে আইন তৈরি করেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা । সংসদীয় গনতান্ত্রিক ধারার রাষ্ট্রহিসেবে বাংলাদেশের আইন তৈরি করে থাকেন আমাদের জাতীয় সংসদের সদস্যরা । অথচ তোফায়েল আহমেদের মত এক জন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা ও সরকারের একজন গুরুত্বপুর্ন মন্ত্রী যখন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য বলতে পেরেছেন যে "আপনারা গণমাধ্যমে যেভাবে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেন, তাতে তাঁদের মান-ইজ্জত থাকে না। তাঁদের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়। তাঁরা তো জনপ্রতিনিধি। এ আইনের বলে এখন হয়তো এমন পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে । " তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই এধরনে বির্তকিত আইন দেশের মানুষকে কিছুটা হলে চিন্তিত করে । কারন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খড়গ শুধু মাত্র সাংবাদিক বা সংবাদ মাধ্যমের উপর নামছে না এটা পুরো রাষ্ট্রের স্বাধীন চিন্তা ও মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেও বিরাট চ্যালেঞ্জ । একটি স্বাধীন ও সুষ্ঠগনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের ই স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার আছে । আর পেশাগত ভাবে একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব সমাজের সন্ত্রাস দুর্নীতি সহ নানান অবক্ষয় তুলে ধরা । সত্যতুলে ধরার কারনে কারো সম্মানের হানী হলে সেই দায় শুধু মাত্র সন্ত্রাস দুর্নীতি সহ আপকর্মের সাথে জরিতদের । কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠির স্বার্থরক্ষার জন্য কোন কালো আইন কখনো ই কোন সভ্য সমাজ তথা রাষ্ট্রের সভ্য মানুষ মেনে নিতে পারে না । তাই আমরা ও চাইবো না কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠির স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনে ৫৭ ধারা বা ৩২ ধারা যুক্ত কোন কালো আইন প্রণয়ন করে আমাদের সুস্হ্য স্বাধীন মত প্রকাশের পথ রোধকরা হউক ।



মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:৩১

আবু তালেব শেখ বলেছেন: সরকারের সুবিধা মোতাবেক আইন পাশ হবে আপনার আমার সুবিধার্থে নয়

২| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ৯:৫৯

রাজীব নুর বলেছেন: আবু তালেব শেখ বলেছেন: সরকারের সুবিধা মোতাবেক আইন পাশ হবে আপনার আমার সুবিধার্থে নয় ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.