নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি ও বলতে চাই !

ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন

ব্লগিং হউক সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার।

ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

নির্বাচনী মাঠে ঋণখেলাপিরা জুলাই গনঅভ্যুত্থানের সাথে প্রতারণার নামান্তর

২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার মহিমান্বিত গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে কেবল একটি সরকার পরিবর্তন ছিল না এটি ছিল দেড় দশকের রুদ্ধশ্বাস স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের এক বজ্রশপথ। পনেরো বছরের দুঃশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক লুণ্ঠন থেকে মুক্তি পেয়ে দেশের সাধারণ মানুষ একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত এবং জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিল। এই গনঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষাই ছিল এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যেখানে সাধারণ মানুষের আমানত সুরক্ষিত থাকবে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ মুষ্টিমেয় কিছু লুটেরার পকেটে যাবে না। কিন্তু গনঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কারের এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমরা যখন ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছি, তখন দেশের আর্থিক খাত ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বর্তমান চিত্র আমাদের সেই অর্জিত বিজয়কে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের অবাধ অংশগ্রহণের সুযোগ আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব ও গনঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সংকটাপন্ন করে তুলছে।

বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে কার্যত একটি মৃতপ্রায় অবস্থায় এনে দাঁড় করানো হয়েছিল। বিগত দেড় দশকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যক্তিস্বার্থ ও গোষ্ঠীস্বার্থ পূরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এক নগ্ন মহোৎসব শুরু হয়েছিল। শেখ হাসিনার পরিবার এবং তাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একের পর এক বেসরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংক দখল করে নিয়ে নিজেদের ব্যক্তি সম্পদের মতো ব্যবহার শুরু করে। বিশেষ করে এস আলম গ্রুপের মতো প্রভাবশালী চক্র যেভাবে গায়ের জোরে দেশের বেশ কয়েকটি প্রধান ব্যাংক দখল করে নিয়েছিল, তা বিশ্বের আর্থিক ইতিহাসে এক অনন্য কলঙ্কজনক দৃষ্টান্ত। তারা কেবল ব্যাংক দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং সাধারণ মানুষের আমানতের হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণের নামে সরিয়ে নিয়ে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়ে বিদেশে নিজেদের আয়েশি জীবন যাপন নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, গত দেড় দশকে ব্যাংকিং খাত থেকে নামে-বেনামে প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ পাচার ও আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মূলত এ দেশের সাধারণ মানুষের ট্যাক্স আর ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের ফল।

ব্যাংকিং খাতের এই ভঙ্গুর দশার কারণে সাধারণ মানুষ নিজের জমানো টাকা তুলতে পারছে না। যে মানুষটি তিল তিল করে অর্থ জমিয়েছিলেন তার বার্ধক্যের জন্য কিংবা সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য, আজ তাকে নিজেরই টাকা ফেরত পেতে ব্যাংকের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রায় ডুবতে বসা ছয়টি ব্যাংককে একীভূত করে প্রতিষ্ঠিত হয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক তার পরও তারল্য সংকট কাটেনি এই ব্যাংকের। অনেক ব্যাংকের ভল্টের ই অবস্হা আজো করুন। কারণ বিগত সরকারের আমলে লুটপাট হওয়া অর্থ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই বিশাল ঋণের অব্যবস্থাপনার দায় আজ কোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা পলাতক লুটেরারা বইছেন না, বরং বইতে হচ্ছে আমাদের সাধারণ কৃষক, শ্রমিক ও নিম্ননমধ্যবিত্ত মানুষকে। মুদ্রাস্ফীতির কশাঘাত আর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ আজ সেই দুঃশাসনের দণ্ড ভোগ করছে।

আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করেছিলাম যে, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি থেকে চিরতরে দুর্নীতিবাজ ও ব্যাংক লুটেরাদের বিতাড়িত করবে। কিন্তু আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে গতিপ্রকৃতি আমরা লক্ষ্য করছি, তা আমাদের রীতিমতো আতঙ্কিত করছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, কমপক্ষে ৪৫ জন প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। এটি কেবল অনৈতিক নয়, বরং দেশের বিদ্যমান আইনের চরম লঙ্ঘন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর ১২(১)(এম) ধারা এবং ব্যাংকিং কোম্পানি আইনে খুব স্পষ্ট করে বলা আছে যে, কোনো ঋণখেলাপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এমনকি ঋণের কিস্তি পরিশোধে সাত দিন অতিবাহিত হলেও তাকে অযোগ্য বলে বিবেচিত হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের নির্বাচন কমিশন কোনো এক রহস্যময় কারণে এই সকল চিহ্নিত ঋণখেলাপিদের প্রার্থিতা বৈধ বলে ঘোষণা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে । এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রব্যবস্থার গভীরে এখনো সেই ফ্যাসিবাদী প্রেতাত্মারা ঘাপটি মেরে বসে আছে, যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে লুটেরাদের সুরক্ষা দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এই নমনীয়তা এবং বিশেষ বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দেওয়া জুলাই-আগস্টের শহীদদের রক্তের সাথে এক ধরনের নির্লজ্জ প্রতারণা। যে তরুণেরা বুকের রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে, তারা এমন একটি সংসদ দেখতে চায়নি যেখানে আবার সেই চোর, লুটেরা, খুনিদের রাজত্ব কায়েম হবে। যখন একটি রাজনৈতিক দল জেনেশুনে একজন ব্যাংক লুটেরা বা চিহ্নিত ঋণখেলাপিকে মনোনয়ন দেয়, তখন বুঝতে হবে সেই দলের মূল লক্ষ্য জনকল্যাণ নয়, বরং রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে লুটপাটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। যদি এই সকল ব্যক্তিরা জয়ী হয়ে সংসদে আসেন, তবে তারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বসে এমন সব আইন তৈরি করবেন যা তাদের অতীত ও ভবিষ্যতের লুটপাটকে বৈধতা দেবে।

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক প্রভাব ও অসাধু ব্যবসায়িক স্বার্থের এই ক্ষত একদিনে তৈরি হয়নি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ব্যাংকগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত করার মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও আশির দশকে বেসরকারি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক প্রভাবে ঋণ বিতরণের সংস্কৃতি আরও প্রকট হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে স্থান পান, যা ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে পেশাদারত্বের বদলে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দিতে শুরু করে। এটি কেবল ঋণ আত্মসাৎ নয়, বরং একটি ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিমগোষ্ঠী তৈরি করেছে। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে এই ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে, তখন মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২২,৪৮১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লসখ ৪৬ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ, বিগত ১৫ বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৫ গুণের বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, অবলোপনকৃত ঋণ এবং আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা ঋণ যুক্ত করলে এর পরিমাণ ৫ থেকে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ ( সিপিডি) এর তথ্যমতে, গত ১৫ বছরে বড় বড় ২৪টি কেলেঙ্কারির মাধ্যমে ব্যাংক খাত থেকে ৯২,২৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায়, ১৯৮০ এর দশকের শেষে বিশেষায়িত ব্যাংক যেমন বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক এবং বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থার ঋণের প্রায় ৯০% থেকে ৯৫% খেলাপি হয়ে পড়েছিল। ১৯৮৩ সালে এরশাদ সরকার প্রথমবারের মতো বেসরকারি ব্যাংক খাতের দুয়ার উন্মোচন করলেও লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে পেশাদারত্বের চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। এমনকি শেখ মজিবর রহমানের শাসনামলেও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অভিজ্ঞ ব্যাংকারের অভাবে একধরণের পারমিট কালচার গড়ে উঠেছিল, যেখানে দলীয় কর্মীদের আমদানি-রপ্তানি ও ঋণের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হতো। সেই সময়কার সুবিধাভোগী গোষ্ঠীই মূলত পরবর্তী সামরিক শাসন আমলগুলোতে বড় বড় ঋণ জালিয়াতির পথ প্রশস্ত করে দেয়।

আর্থিক খাতের এই অরাজকতা কেবল একটি খাতের সমস্যা নয়, এটি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। যখন একটি দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তখন সেই দেশের সার্বভৌমত্বও সংকটের মুখে পড়ে। সাধারণ মানুষের আস্থা যখন ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে উঠে যায়, তখন তারা অপ্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে অর্থ লেনদেন করতে শুরু করে, যা অর্থনীতিকে এক অন্ধকার গহ্বরের দিকে ঠেলে দেয়। আমরা যদি এখনই এই ঋণখেলাপি ও লুটেরাদের রাজনীতির ময়দান থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে না পারি, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এক দেউলিয়া রাষ্ট্রের বোঝা বইতে হবে। জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের পর আমরা যে নতুন বাংলাদেশের কথা বলছি, সেই বাংলাদেশে কোনোভাবেই এই পুরনো পাপীদের স্থান হতে পারে না।আমাদের মনে রাখতে হবে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না, এটি ছিল রাষ্ট্রের সামগ্রিক সিস্টেম পরিবর্তনের লড়াই। সেই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ হতে হবে রাজনীতি ও অর্থনীতিকে দুর্বৃত্তায়নমুক্ত করা। যদি আসন্ন নির্বাচনে আবার সেই একই লুটেরা গোষ্ঠী জয়ী হয়ে ফিরে আসে, তবে সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস ও পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আবারও রাজপথে আছড়ে পড়বে। ব্যাংক লুটেরারা যেন কোনোভাবেই পুনরায় এ দেশের ভাগ্যবিধাতা হয়ে বসতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের সবার নৈতিক ও জাতীয় দায়িত্ব। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যেন লুটেরাদের পুনর্বাসনের উৎসবে পরিণত না হয়। নতুবা আমাদের হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ এবং একটি সুন্দর আগামীর স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাবে। দেশের মানুষ এখন বিচার চায়, আমানতের নিরাপত্তা চায় এবং একটি কলঙ্কমুক্ত পবিত্র জাতীয় সংসদ চায়।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩২

মেঠোপথ২৩ বলেছেন: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ (আরপিও) বিভিন্ন আইনে ঋণখেলাপিদের আটকানোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ৪৫ জন ঋণখেলাপির মনোয়ন বৈধতা পেয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নিজেই বলেছেন, মনে কষ্ট নিয়ে তারা ঋণখেলাপি প্রার্থীদের ছাড় দিয়েছেন। ‘আমরা ঋণখেলাপি যাদের ছাড় দিয়েছি, মনে কষ্ট নিয়ে দিয়েছি।


শুধু ঋনখেলাপিই নয় দুই ডজন দ্বৈত নাগরিকের নোমিনেশনও বৈধতা পেয়েছে। এইসব দ্বৈত নাগরিকেরা মুলত বিদেশে টাকা পাচারকারী বেগম পাড়ার বাসিন্দা। ঋন খেলাপি ও বেগম পাড়ার বাসিন্দারা বিপুল পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে ভোট প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে। এদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে। কোন অবস্থাতেই এদের নির্বাচন করতে দেয়া যাবে না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.