নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি ও বলতে চাই !

ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন

ব্লগিং হউক সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার।

ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও সংবিধান বনাম গণআকাঙ্ক্ষার দ্বন্দ্ব

১৮ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১৭

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আদি এবং অকৃত্রিম পাঠ আমাদের একটি মৌলিক ধ্রুবসত্য শেখায় রাষ্ট্র কোনো জড় পদার্থ নয়, বরং এটি একটি জীবন্ত রাজনৈতিক সত্তা যার প্রাণভোমরা হলো " পপুলার সভরেন্টি " বা জনগণের সার্বভৌমত্ব। বিখ্যাত দার্শনিক ও আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক জঁ-জাক রুসো তাঁর কালজয়ী " সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট " বা সামাজিক চুক্তি তত্ত্বে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, রাষ্ট্রের বৈধতার একমাত্র উৎস হলো জনগণের " সাধারণ ইচ্ছা " । যখন কোনো ভূখণ্ডের শাসনব্যবস্থা বা তার লিখিত দলিল তথা সংবিধান সেই সাধারণ ইচ্ছার বিপরীতে অবস্থান নেয় এবং শাসকের শোষণের হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন সেই সংবিধান তার নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা হারায়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখি, বিগত দেড় দশকে বিশেষ করে ২০১৩, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলো ছিল জনগণের সেই সাধারণ ইচ্ছার ওপর আইনি কাঠামোর এক নিষ্ঠুর ও নগ্ন আধিপত্য। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার বারবার সংবিধানের দোহাই দিয়েই জনগণের মৌলিক ভোটাধিকার হরণ করেছিল। তারা সংবিধানকে জনগণের সুরক্ষাকবচ নয়, বরং নিজেদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী বা দীর্ঘস্হায়ী করার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, কৃত্রিম আইনি কাঠামো দিয়ে জনস্রোতকে আটকে রাখা যায় না। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান সেই তথাকথিত সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাইকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে।

পৃথিবীর ​ইতিহাসের কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তন বা গণঅভ্যুত্থান কোন সংবিধানের ধারা মেনে সম্পন্ন হয় নাই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম স্থপতি টমাস জেফারসন বলেছিলেন, "আইন ও প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই মানুষের মনের অগ্রগতির সাথে হাত মিলিয়ে চলতে হবে।" যদি সংবিধান একটি অপরিবর্তনীয় পাথরে পরিণত হয়, তবে তা সমাজের অগ্রগতির পথে এবং ন্যায়বিচারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের চব্বিশের এই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি সরকার পরিবর্তন ছিল না, এটি ছিল একটি রাষ্ট্রতাত্ত্বিক 'প্যারাডাইম শিফট'। যখন বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে রাজপথে নেমে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে, তখন সংবিধান কি জিনিস তা তাদের মাথায় ছিল না। বরং তারা লড়াই করেছে প্রাকৃতিক ন্যায়ের ভিত্তিতে তাদের হারানো মালিকানা ফিরে পাওয়ার জন্য। ফলে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন বা পরবর্তী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনটাই সংবিধান মেনে হয় নাই। বরং তা হয়েছে সম্পুর্ন ভাবে গণআকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে।

​বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বিচিত্র দ্বিচারিতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপির কোনো কোনো নেতার কণ্ঠে বিদ্যমান সংবিধানের প্রতি যে অতি ভক্তি ও দরদ প্রকাশ পাচ্ছে, তা সাধারণ মানুষ ও সংস্কারপন্থী মহলে গভীর বিভ্রান্তি তৈরি করছে। অথচ দলটির ইতিহাস ভিন্ন কথা বলে। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজেই এক সময় গণআকাঙ্ক্ষার প্রয়োজনে সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা বলেছিলেন, যা ছিল মূলত জনগণের সার্বভৌমত্বকে আইনি শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার একটি সাহসী রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আজ যদি বিএনপি নেতৃত্ব সেই পুরোনো ও বিতর্কিত সাংবিধানিক কাঠামোর দোহাই দিয়ে গণভোট কিংবা প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করতে চায়, তবে তা হবে চব্বিশের বিপ্লবের শহীদের রক্তের সাথে এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা। দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিলেন, তখন দেশ এক চরম অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে কেবল সামরিক বা আইনি ফরমান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী বৈধতা পাওয়া সম্ভব নয়। তাই তিনি গণভোটের মাধ্যমে তাঁর নেতৃত্বের বৈধতা নিয়েছিলেন। তিনি জানতেন, জনগণের রায়ই হলো চূড়ান্ত আদালত।

​বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হ্যান্স কেলসেনের " বেসিক নর্ম" বা " গ্রুন্ডনর্ম " তত্ত্ব অনুযায়ী, যখন একটি সফল বিপ্লব বা অভ্যুত্থান ঘটে, তখন পুরোনো আইনি কাঠামো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে পড়ে এবং বিপ্লবের বিজয়ই নতুন আইনের উৎসে পরিণত হয়। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশে সেই নতুন " গ্রুন্ডনর্ম " তৈরি করেছে। তাই ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বা পরবর্তী রাষ্ট্রকাঠামোকে যদি কেউ কেবল পুরোনো সংবিধানের চশমা দিয়ে দেখতে চান, তবে তিনি রাজনৈতিক ও তাত্ত্বিকভাবে মারাত্মক ভুল করবেন। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আজ আর সেই সংবিধান রক্ষার বয়ান শুনতে পছন্দ করে না যা দিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর তাদের সম্পুর্ন গনতান্ত্রিক ও মানবাধিকার হরনকরা হয়েছিল, আয়নাঘর বানানো হয়েছিল এবং জনপদকে ভয়ের জনপদে পরিণত করা হয়েছিল। বিএনপিকে এটি অনুধাবন করতে হবে যে, তারা যদি জনগণের এই নতুন আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে আওয়ামী লীগের মতোই তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। গণভোটের দাবিকে তুচ্ছজ্ঞান করা মানে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও তাদের সার্বভৌম ক্ষমতাকে অস্বীকার করা।

​বাস্তবতা হলো, সংবিধান মানুষের জন্য তৈরি হয়, মানুষ সংবিধানের জন্য নয়। একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন, আদালত এবং সংবিধান সবই জনগণের ইচ্ছার অধীন। চব্বিশের গনঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে যদি আবারও সংবিধানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জনমতকে বা জনগনের সংস্কারের দাবিকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করা হয়, তবে তা হবে গণতন্ত্রের লেবাসে নতুন এক ফ্যাসিবাদের জন্ম দেওয়া। বিএনপিকে তাদের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা স্মরণ করতে হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সেই গণভোটের দর্শনকে মনে রেখে জনগণের সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করে নেওয়াই হবে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। অন্যথায়, ইতিহাসের আবর্তে তারা আবারও সেই তিমিরেই হারিয়ে যেতে পারে, যা তারা গত দেড় দশকে অশেষ ত্যাগের বিনিময়ে অতিক্রম করে এসেছে। চব্বিশের গনঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভিতরে একটি বড় মানসিক পরিবর্তন ঘটে গেছে। আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রের ক্ষমতাশীনদের আত্মোপলব্ধির সময় এসেছে যে তারা আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন। যখন একটি রাষ্ট্রে গনঅভ্যুত্থান বা বিপ্লবের মাধ্যমে একটি স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয় এবং সরকার প্রধান সহ সকল ক্ষমতাসীনরা দেশ ছাড়েন, তখন স্পষ্টতই রাষ্ট্রের পুরোনো রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামো বাস্তবে অকার্যকর হয়ে পড়ে। এই সন্ধিক্ষণে মূল প্রশ্ন হয়ে দাড়ায় তখন রাষ্ট্র কে গড়বে? কীভাবে গড়বে? এবং সেখানে সাধারণ জনগণের প্রকৃত ভূমিকা কী হবে? দুঃখজনকভাবে আমরা দেখছি, জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুন রাষ্ট্র গঠনের যে বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, সেটি সুকৌশলে পাশ কাটিয়ে পুরোনো সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থাই আবার জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বর্তমান ক্ষমতাসীনদের কেউ কেউ।

​যদি সত্যিই বিদ্যমান সংবিধান অক্ষরে অক্ষরে মানা হয়, তবে তো নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৯ সালে। তাহলে কেন ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ বাংলাদেশের জনগন ভোটের মাধ্যমে নতুন সরকার নির্বাচিত করেছেন? আবার যদি দাবি করা হয় ১২ ফেব্রুয়ারীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ই ফসল, তবে মৃতপ্রায় পুরোনো সংবিধানের বৈধতা নিয়ে এত টানাটানি কেন? এই দুই অবস্থান একসাথে সত্য হতে পারে না। রাষ্ট্রক্ষমতা কখনো শূন্য থাকে না। যখন একটি সরকার ভেঙে পড়ে, তখন ক্ষমতার নতুন বিন্যাস তৈরি হয়। সেই মুহূর্তে ক্ষমতা সরাসরি জনগণের হাতে যাওয়ার একটি পথ তৈরি হয়। কিন্তু জনগনের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার সেই সুযোগটিই এখন দখল করে নিতে চাইছে কোন কোন রাজনৈতিক নেতা বা ক্ষমতাসীনদের কেউ কেউ সেই সাথে আমলাতন্ত্র এবং পুরোনো এলিট শ্রেণী। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পুরোনো শাসনব্যবস্থা দুর্বল হলেও সেই শূন্যতা জনগণ এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে পূরণ করতে পারেনি। প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো চাচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থা দাঁড় করাতে, যাতে ক্ষমতার মৌলিক কাঠামো অক্ষত থাকে শুধু ক্ষমতার চেয়ারে বসা মুখগুলো বদলে যায়। ​এই ব্যবস্থায় লুটেরা ও মাফিয়া শ্রেণীর প্রভাব অত্যন্ত গভীর। যারা রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ব্যাংক লুট করেছে, অর্থ পাচার করেছে এবং গুম-খুনের সংস্কৃতির মাধ্যমে ভীতির রাজত্ব কায়েম করেছিল, তাদের জন্য সবচেয়ে বড় ভয় হলো একটি সত্যিকারের নতুন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। কারণ নতুন রাষ্ট্র গঠিত হলে সেখানে প্রকৃত জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, বিগত আমলের অপরাধীদের বিচার হবে এবং লুণ্ঠিত সম্পদ ফেরত আনার গণদাবি উঠবে। তাই নিজেদের রক্ষা করতে এই কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর কাছে পুরোনো সংবিধান ও রাষ্ট্রকাঠামো টিকিয়ে রাখা জীবন-মরণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে, সংবিধান রক্ষা করার এই আকুতি 'আইনের প্রতি শ্রদ্ধা' থেকে আসছে না, বরং এটি গণবিরোধী ক্ষমতার চরিত্রকে অক্ষত রাখার একটি সুনিপুণ কৌশল মাত্র। বিদ্যমান সংবিধান এমনভাবে সাজানো, যেখানে নির্বাহী প্রধানের হাতে প্রায় সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত। এই কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা ভাঙ্গার অর্থ হলো ক্ষমতার প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ যা বর্তমান ক্ষমতার অংশীদার বা উচ্চাভিলাষী রাজনৈতিক দলগুলো কখনোই মন থেকে চাইবে না।

​একটি গণঅভ্যুত্থান মানে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের ভিত্তিপ্রস্তর নতুনভাবে স্থাপনের সুযোগ। সেই সুযোগে সবচেয়ে যৌক্তিক পদক্ষেপ হতে পারতো একটি " গণপরিষদ " গঠন যেখানে জনগণ সরাসরি ভোটাধিকারের মাধ্যমে নতুন একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করবে। এতে আন্দোলনের অংশীজন এবং সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীসহ সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হতো। ইতোমধ্যে সেই লক্ষ্যে সকল রাজনৈতিক দলের মতামতে ভিত্তিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথেই অনুষ্ঠিত হয় গনভোট যেখানে ৬০.২৬% ভোট পড়েছে হ্যাঁ এর পক্ষে। কিন্তু আজ ক্ষমতাসীনদের গনভোটের মাধ্যমে জনগনের দেওয়া মতামতকে উপেক্ষা করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। ​পরিশেষে প্রশ্নটি নৈতিক এবং আদর্শিক। যারা রাজপথে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, যারা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে বুক পেতে দিয়েছিল তাদের সেই মহান ত্যাগ কি শুধু একজন ব্যক্তির বদলে আরেকজন ব্যক্তিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ছিল? নাকি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং মানবিক রাষ্ট্রের জন্য? একদিকে সংবিধানের বাইরে গিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন করা, অন্যদিকে সংস্কারের প্রশ্নে সংবিধান রক্ষার দোহাই দেওয়া এটি কোনো আদর্শিক রাজনীতি হতে পারে না। এটি নিছক ক্ষমতাকে নতুন করে দীর্ঘস্হায়ী করার ই পায়তারা মাত্র। আমাদের আজ স্পষ্ট হতে হবে আমরা কি পুরোনো ক্ষমতার কাঠামোতে সামান্য তালি লাগানো সংস্কার চাই, নাকি চব্বিশের স্পিরিট অনুযায়ী বাংলাদেশকে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে পুনর্গঠন করতে চাই? বিএনপি যদি শহীদ জিয়ার গণভোটের দর্শন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জনগনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার এবং পুরোনো ফ্যাসিবাদের সংবিধান ছুড়ে ফেলে জনগনের সংবিধান রচনার যেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং জনগণের সার্বভৌমত্বকে ধারণ করতে পারে, তবেই তারা চব্বিশের গণআকাঙ্ক্ষার মিত্র হিসেবে টিকে থাকবে। অন্যথায়, সংবিধানকে ঢাল বানিয়ে জনমতকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করলে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.