নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শিবিরের পিকেটিং আর আমার ডেটিং

জিংকানীর গান

জিংকানীর গান › বিস্তারিত পোস্টঃ

শিবিরের পিকেটিং আর আমার ডেটিং

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:০৫

আজ আমার প্রেমিকার জন্মদিন।আব্দুল জলিল অনন্ত নই,তাই ঢাকাইয়া সিনেমার ইমোশোনাল হিরো ওমরসানির মত আমার পকেটে টাকা না থাকাই প্রেম করা আর কতটুকু ভালবাসি বোঝানোর একমাত্র উপায় আঁতলামি। পাশের বাড়ির বারান্দা থেকে তিনটা পোকা খাওয়া গোলাপ চুরি করে রওনা দিলাম ডেটিং এর উদ্দেশ্যে। রাস্তার মোড়ে যেতেই ন্যান্টা কাল থেকে পরিচিত শিবিরের সালেহিন ভাই এর সাথে দেখা। তার স্বভাব মতই আমাকে দেখেই বুকে জড়াই ধরলো। আমি বললাম ভাই তাড়া আছে, একটু জরুরি কাজ আছে ।শুনে সালেহিন ভাই হেসে বললেন “ধুর মিয়া খালি পকেটে কি ডেটিং জমে নাকি,আমার সাথে আসো।” চমকাই উঠলাম, এই ব্যাটা এতো খবর পাই ক্যামনে!!! পেটের নাড়ি থেকে বাড়ির হাড়ির খবর যে জানে তার সাথে বেশি পাকামু মারা ঠিক না।তাই অনুগত শিষ্যের মত তার পিছু পিছু হাঁটা শুরু করলাম ।কিুছু দূর গিয়ে দেখি পরিচিত অনেকেই ।সবার হাতেই ব্যাট স্ট্যাম্প ।যেনো ক্রিকেট খেলতে যাচ্ছে। আমার হাতেও একটা স্ট্যাম্প ধরাই দিল। বুঝলাম কি করতে হবে। পিছু হটা মানে হিজড়া উপধি পাওয়া।হাজার হলেও বীরপুরুষ...এইসব কোন ব্যাপার হইলো!!

বাসের সামনের কাঁচ ভাঙ্গা এতো কষ্ট আগে বুঝিনি। এত জোরে মারি তাও কিছুই হয়না। রক্ত আরও গরম হইয়ে যাই...সবাই আমাদের দেখে ভয়ে পালাচ্ছে, চিৎকার করছে দেখে কিযে আনন্দ!!!বাসে আগুন ধরাই এ দিলাম। পাশে দুইটা পুলিশ অসহায় ভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। গিয়ে তাদের অস্ত্র কেড়ে দিলাম মার ।বহুদিনের শখ ছিল!!! মারতে মারতে কখন নিজের হাতের তালু ফেটে রক্ত বেরাই গেছে খেয়াল ই করিনি। লোকজন আসার আগে সটকে পরলাম।। সাড়ে এগারো মিনিটে কাজ শেষ।অপারেশন সাক্সেসফুল।

হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে উঠে দাঁড়াতেই সালেহিন ভাই এসে জড়াই ধরে বললো”বাঘের বাচ্চা বাঘডাশা তোরে দিয়েই হবে। পকেটে এক হাজার টাকার দুইটা ময়লা নোট গুঁজে দিয়ে বললেন, সবার থেকে তোকে বেশি দিছি। সবার গার্লফ্রেন্ডের তো আজ জন্মদিন না্‌।হাঃ হাঃ।” কথা শুনেই চোখ আনন্দে ভিজে যাই। এই ব্যাটা এতো খবর পাই ক্যামনে!!!

পোকা খাওয়া গোলাপ গুলো ফেলে দোকান থেকে দামি বিদেশী ফুল কিনে বাস এ উঠলাম। কতদিনের শখ দেবযানী কে নিয়ে একটা দামী হোটেলে খেতে যাবো। স্যার ম্যাডাম বলে ডাকবে ওয়েটার । খাওয়ার পর মোটা অংকের বকশিশ। আর মাত্র কিছুক্ষন পর ওকে নিয়ে দামি কোন জায়গায় খেতে গেলে ও কিরকম অবাক হবে ভেবেই আনন্দে বুক ভরে যাচ্ছে। হঠাৎ করে কোথা থেকে বুকের মাঝে ভয় এসে চেপে ধরলো। যদি আমার মত কেও আমার অথবা দেবযানীর বাসে আগুন দেয়? বুকটা কেঁপে উঠলো।চাপা ভয় নিয়ে রমনা পার্ক এর সামনে নামলাম।

ফোনের পর ফোন আর ভয় নিয়ে অপেক্ষার পর ও এলো।ওকে দেখেই থমকে গেলাম...ধরম আলাদা হলেও আমি কখনও আমার ধর্মের কিছু করতে বাধ্য করিনি ।শাড়ী পরতে ভালবাসে। সাথে টিপ ।তাতেই মনে হত অপ্সরী...ওর মা বিয়ের অনেক আগে ৭১ এ পাকিস্তানি ক্যাম্প এ ৭ দিন আটক ছিল।।ওর মুক্তিযোদ্ধা বাবা বীরাঙ্গনার সম্মান জানতেন। অনেকেই জানেন ।কিন্তু নিজের বেলাই তাকে বরণ করা বড় কঠিন সেই কঠিন কাজটাই তিনি গভীর ভালোবেসে করে গেছেন। তাদের দুজনের কাওকে দেখার ভাগ্য হইনি।তবু যত বার তাদের গল্প শুনেছি ততবার চোখ ভিজেছে।দেবযানী শুধু বলে আমি যেন ওর বাবা যেভাবে ওর মা কে ভালবাসতো সেরকম করে ওকেও ভালবাসি।ওর যখন ১০ বছর তখন ওর মা মারা গেছেন।বাবাই এত বড় করেছেন।

ভেবেছিলাম আজ শাড়ী পড়ে আসবে।ওকে যখন আজ বোরখা পরে দেখলাম তখন বুকের মাঝে কেমন যেন করে উঠল। আজ জামাত শিবিরের হরতাল তাই আর সেজে বেরানোর ভরসা পাইনি ।মা এর কাহিনি মেয়ে কে অতীতের স্মৃতিতে নিষ্প্রাণ করে দিয়েছে।।আমাকে দেখে শুকনো মুখে হাসি দিয়ে আমার হাত থেকে ফুল নিতে গিয়ে আমার হাতের ব্যান্ডেজ দেখেই চোখ ছলছল আর হাজার প্রশ্ন। আমারও আবেগ বাড়ানো বানানো জবাব। ওকে নিয়ে দুপুরে গেলাম দামী রেস্টুরেন্ট এ। রেস্টুরেন্টে সবসময় আমার ব্যান্ডেজ করা হাত ধরে ছিল ।খাবার নিজের হাতে কেবল দুই চামচ আমার মুখে তুলে দিয়েছে তখন ই ওর ফোন।।আমি দেখছি ওর দুচোখ দিয়ে অঝরে পানি পরছে।কি হইসে জিজ্ঞেস করতেই হাউ মাউ করে কেঁদে উঠলো আমাকে জড়াই ধরে।ওর বাবা পুলিশের চাকরি করে।ডিউটি ছিল মিরপুর এ ।হরতাল এ পিচকেটিং এ কারা হামলা চালিয়ে মাথা ফাটাই দিছে, হাত ভাঙ্গছে। অবস্থা খুব খারাপ ।রাজারবাগ পুলিশ লাইনের হাসপাতালে আছেন।

দেবযানী কে কেবিনের ভিতরে পাঠিয়ে আমি বাইরে দাঁড়িয়ে আছি। ভিতরে যাওয়ার সাহস নেই।চোখের সামনে অসহায় যাত্রী, বাসের চালক হেল্পার আর মার খাওয়ার সময় দেবযানীর বাবা আর অন্য পুলিশের অসহায় মুখটা ভেসে উঠছে। যেই হাত তাকে মারতে গিয়ে কেটেছে সেই হাত তার মেয়ে যেই গভীর মমতাই ধরেছিল তার মমতার দাম আমি দিতে পারিনি।সন্ধ্যা হইয়ে আসছে। দেবযানী হাসপাতালে। আমি মিরপুর ১০ এ নেমে ভাবছি,আশ্চয হলেও সত্যি গাড়ি ভাঙ্গার সময় কিংবা পুলিশ মারার সময় একবারও দেবযানীর গল্প গুলো মনে পরেনি।ভাবছি বাড়িতে গিয়ে ঘুম দিব নাকি থানার দিক গিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করবো।

সাহসে কুলালো না।তাই এক কাপ চা খেয়ে সিগারেট ধরিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম...।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.