| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হলুদপরী
সকাল থেকেই রায়হান সাহেবের মেজাজ গরম। বারান্দায় বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছেন আর কি নিয়ে যেন মাঝে মাঝে মজিদকে ধমকাচ্ছেন । মিলি - রায়হান সাহেবের বড় মেয়ে। ইউনিভার্সিটিতে পরে । অনেক আদরের মেয়ে । কেউ কিচ্ছু না বলায় আদর পেয়ে পেয়ে একদম মাথায় উঠেছে । সারারাত ফেসবুক আর মুভি দেখে কাটিয়ে এখন ঘুম থেকে উঠেছে । বেলা ১১টা বাজে । শিউলি এতক্ষনে স্কুল থেকে বাসায় ফিরেছে । মিলির ছোট বোন শিউলি । বয়স আট বছর। দেখতে মিলির মতই ফর্সা আর নাকটা একটু মোটা । ক্লাস থ্রিতে পরে । মিলিকে এখন ঘুম থেকে উঠতে দেখে সুযোগে কয়েকটা পাকা পাকা কথা বলে পেলল শিউলি। মিলির মা দুজন কে থামিয়ে দিয়ে নাস্তার জন্য ডাকলেন ।
এতক্ষনে রায়হান সাহেব চেয়ার থেকে উঠলেন । ধমক দিয়ে মজিদ কে বাজারের ব্যাগ আর কি কি লাগবে জেনে আসতে বললেন ।
কলিং বেল এর আওয়াজ শুনে দরজা খুলল শিউলি । ফাহাদ ভাইয়া যে, ভিতরে আসুন । ফাহাদ মিলির খালাত ভাই । কিছুদিন আগে এমবিএ শেষ করল । চাকরির খুজ করছে আপাতত। শিউলি ড্রয়িংরোম রুমে ফাহাদকে বসতে দিয়ে ভেতরে চলে গেল। খবরের কাগজটা হাতে নিয়ে উলটিয়ে পালটিয়ে কি যেন দেখল ফাহাদ । এমনিতে খবরের কাগজ খুব একটা পড়ে না । সময় কাটানোর জন্য একটু হাতে নিল এই আরকি ।
এক গ্লাস পানি আর চা নিয়ে এগিয়ে আসল মিলি । কেমন আছেন ফাহাদ ভাই – জিজ্ঞেস করল মিলি। শর্মি আপুর সাথে কি আর যোগাযোগ হয় ? শর্মি ফাহাদের ক্লাসমেট । গত দুবছর দুজনের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। দু মাস আগে বিয়ে হয়ে গেছে । শর্মির কথা শুনে মুখটা কেমন যেন হয়ে গেল ফাহাদের । পড়ালেখা কেমন চলছে -কথা কাটিয়ে মিলিকে জিজ্ঞেস করল ফাহাদ । মুটামুটি- জবাব দিল মিলি। আপনি চা খান আমি আম্মুকে ডাকি বলে ভেতরে গেল মিলি । রেহানা কয়েকদিন ধরে কাজে না আসায় সব কাজ করতে হচ্ছে মিলির মাকেই । রান্নাঘর গুছাতে ব্যাস্ত মিলির মা।
-ফাহাদ ভাই এসেছে, ড্রয়িংরুমে অপেক্ষা করছে – বলল মিলি।
-অপেক্ষা করতে বল আমি আসছি ।
মিলির মাকে দেখে দাড়িয়ে সালাম করল ফাহাদ । কিচ্ছুক্ষন আলাপের পর চলে গেল ফাহাদ ।
রায়হান সাহেব বাজার থেকে ফিরলেন। মনটা আগের চেয়ে একটু ভালো হয়েছে বোঝা যাচ্ছে । শিউলিকে ডাকলেন এদিকে আসত শিউলি মা । শিউলির আসতে একটু দেরি হওয়ায় আবার ডাক দিলেন । মোবাইল হাতে নিয়ে শিউলি এগিয়ে এল । এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি আর চশমাটা নিয়ে আসতে বললেন । আজকে সকালে খবরের কাগজ পড়া হয়নি তার ।
রাতে ঘুমানোর সময় মিলি ভাবতে থাকে কি করে ফাহাদ ভাই এর মত একজনকে কেউ কষ্ট দিতে পারল । ফাহাদের জন্য মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল মিলির । শিউলি তখনো ঘুমায় নি । শিউলিকে ঘুমানোর জন্য বলে টেবিল লাইটটা অফ করে দিল মিলি ।
অনেক সুন্দর একটা সকাল। মেঘের আড়ালে সুর্য লুকিয়ে আছে। বেশি রোদ নেই। হালকা বাতাস বইচে । তাছাড়া রায়হান সাহেবও আজকে চেঁচামেচি করছেন না । ঘুম ভাঙ্গার পর থেকেই মিলির শরীরটা ভালো লাগছে না । মাথাটাও আজ হঠাৎ করে বেথা করছে । ফাহাদের কথা ভাবতে ভাবতে ছাদে গেল মিলি। বেশিক্ষন থাকল না নিছে চলে আসল আবার ।
ফাহাদের জন্য সত্যিই খারাপ লাগছিল মিলির । ছেলেটা দেখতে শুনতে খারাপ না । গায়ের রঙ্গ শ্যামলা । লম্বায় প্রায় পাঁচ ফুট নয় বা দশ ইঞ্চি হবে । নম্র আর অনেক শান্ত একটা ছেলে । ফাহাদকে আরও আগে থেকেই মিলির পছন্দ । খালাত ভাই তাছাড়া ফাহাদ কখনও বোনের চেয়ে বেশি কিচ্ছু হয়ত ভাবেনি । মিলির পছন্দের কথা শুনলে হয়ত খারাপ ভাববে এই ভেবে মিলি কখনও বুজতে দেই নি ফাহাদকে । শর্মির সাথে ফাহাদের সম্পর্কের সব কিছুই জানে মিলি । শর্মির সাথে ফাহাদের সম্পর্কের সময় মিলি একবারও ভাবেনি ফাহাদ কে নিয়ে। আজ অনেক বেশি মায়া হচ্ছে ফাহাদের জন্য। দরদ ছাড়া কি ভালোবাসা হয় ?
©somewhere in net ltd.