| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সকাল গড়িয়ে এখন দুপুরের শেষ প্রায় । মনটা ভালো নেই আকাশের । বাসা থেকে রাগ করে বেরিয়ে এসেছে । সকাল থেকেই রাস্তায় রাস্তায়, অলিগলিতে ঘুরে বেরাচ্ছে আকাশ । মনুমিয়ার চায়ের দুকানের একটু পরে হাতের ডানদিকে একটা এতীমখানা রয়েছে । ভাবছে ওখানে যাবে একটু। হাতের চিগারেটটা শেষ করে হাটতে লাগল এতীমখানার উদ্দেশে । কিন্তু এতীমখানাটা কয়েকদিন আগেও যেখানে ছিল আজ আর সেটা সেখানে নেই । একটু চমকে উঠল আকাশ । ভাবতে ভাবতে মনুমিয়ার চায়ের দুকানে এসে আরেকটা চিগারেট ধরাল আকাশ । চিগারেট খেতে খেতে জিজ্ঞেস করল মনুমিয়াকে
– এইখানে একটা এতীমখানা ছিল না ?
-ছিল। এখন আর নেই ।
-নেই কেন ?
-এখানকার সব শিশুদের দেশের নিঃসন্তান লোকেরা নিয়ে গেছে তাদের বাড়ি।
-হুমমমম.........
অন্যদিন রাস্তায় বের হলে ডজন খানেক ভিক্ষুকের দেখা মেলে । কিন্তু আজকে এতক্ষন ধরে একটা ভিক্ষুকও দেখেনি আকাশ । দেশের সব ভিক্ষুককে নির্বাসন দেয়া হইসে নাকি ? নিজেকে প্রশ্ন করে আকাশ ।
এতক্ষণে বাসা থেকে ফোন আসল আকাশের । ফোনটা কেটে দিয়ে মোবাইলটা আবার পকেটে ভরে রাখল । অন্যদিনের চেয়ে আজ গরমটা একটু বেশি । মহাকালের সাক্ষী এই গাছটা কত পথিককে ছায়া দিয়ে গেছে যুগ যুগ ধরে । কত পাখি বাসা বাধে তার বুকে । শিক্ষা অফিসের সামনের শিরিশ গাছটার নিছে বসে ভাবছিল আকাশ । পেছন থেকে একটা শক্ত হাতের স্পর্শে মোহ কাটে আকাশের ।
-আরেহ গনি চাচা যে,কেমন আছেন ?
-বুড়ো হয়ে গেছি ,রোগ শোক নিয়ে আছি একরকম ।
-রিক্সা চালান না আর ?
-না। মেয়েটার বিয়ে দিয়ে দিছি । জামাই অনেক ভালো । দেখাশুনা করে । ছেলেটাও পুলিশে চাকরি করে। এই বয়সে শরীর মানে না আর ।
-তাহলেত ভালই ।
ব্যাপারটা যেন কিছুতেই মিলছে না । যে গনি চাচার মেয়ের এতদিন ধরে বিয়ে হচ্ছে না টাকার অভাবে এখন নাকি গ্রামের লোকজনেরা মিলে সাহায্য তুলে বিয়ে দিয়ে দিসে। এতদিন কোথায় ছিল গ্রামের মানুষ ? অযতাই মেয়েটার বয়স বাড়াল ।
বিকেল হয়ে যাচ্ছে প্রায় । রজতের ফোন ।
- কই তুই ?
- কেন?
- খেলতে যাবি না ?
- না ! বাসা থেকে রাগ করে বেরিয়ে এসেছি সকালে । খাওয়াদাওয়া
হয়নি এখনও।
-তো !!!! কি হইসে । বাসায় চলে আয় একসাথে খাব । দেরি করিস না ।
দুটানায় পরে গেল আকাশ । আকাশ মুসলমান হওয়ায় রজতের মা বাসায় যাওয়া আসা খুব একটা পছন্দ করেন না । বাসা থেকে রাগ করে বেরিয়ে এসেছি আর যাই হোক বাসায় যাওয়া যাবে না এই ভেবে রজতের বাসার দিকে রওনা দিল আকাশ । কলিং বেল চাপতেই রজতের মা দরজা খুলে দিলেন । আশ্চর্যের ব্যাপার অন্যদিনের মত আকাশকে দেখে রজতের মার মুখে যে বিরক্তির চাপ থাকে আজ তা নেই !!! রজত ও আজকে তার মার সামনেই কোলামেলা ভাবে কথা বলছে । যে রজত তার মায়ের সামনে আকাশের সাথে কথাই বলে না আজ তার মুখে খৈ ফুটছে । রজতের মা একটু গোত্রবাদী হওয়ায় মনে হয় অন্যদিন আকাশের সাথে কথা বলতে মানা করতেন ! কিন্তু আজ............
হাতমুখ ধুয়ে আসতে বললেন রজতের মা ! খাবার টেবিলে অনেক ধরনের খাবার । আকাশ আসবে শুনে ফ্রিজে থাকা ইলিশ মাছটা ভাজি করেছেন রজতের মা ! নিজের হাতে ভাত বেড়ে দিচ্ছেন । খাওয়া শেষ করল আকাশ আর রজত ।
রজতের তাড়ায় খাওয়া শেষ করেই বেরিয়ে পরল দুজন খেলতে যাওয়ার জন্য । রজতের সাথে রিক্সা করে যেতে যেতে একদম ভালো লাগে না আকাশের । এর চেয়ে যত দুরই হোক হেটে যাওয়াই উত্তম !! কারন একটাই ২ টাকা কম বেশি ! রিকশাওয়ালাকে ২ টাকা বেশি দিতে রাজি না রজত । মনে মনে রজতকে গালি দিতে দিতে পৌঁছে গেল মাঠে । কিন্তু আশ্চর্যের কাণ্ড রজত ৫ টাকা বেশি দিয়েছে রিকশাওয়ালা কে । মনে মনে হাসে আকাশ । এ যেন মেঘ না চাইতে বৃষ্টি !!
মাঠে তাকিয়ে চোখ কপালে উঠলো আকাশের । যে মাঠে ৫/৬ বছর আগে কন্সট্রাকসন এর বিল্ডিং বানানো হয়েছিল সেই মাঠ আজকে আবার ফিরে আসল কিভাবে । নিজেকে চিমটি কাটে আকাশ । দূরে শাহিনকে দেখা যাচ্ছে । হাত নারিয়ে তাদের সাথে খেলতে ইশারা করল আকাশকে । সবকিছুই আজকে অবাক লাগছে আকাশের ! যে শাহিন এর জ্বালায় পাড়ায় সবাই অস্তির ! যে শাহিনের সাথে রোজ আকাশের ঝগড়া হত মাঠ দখল নিয়ে , খেলা নিয়ে সেই শাহিন আজকে আর ঝগড়া করছে না । মাঠের এক অংশে খেলছে আর বাকি অংশটাতে আমরা খেলব ।
ঠোটের কোনে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠে আকাশের ।
ফোনের রিং টা বেজে উঠল হটাত করে । ঘুম ভাঙল আকাশের । ঘড়িতে এখন ৫ টা বাজে । সেই ২ টার সময় খেয়ে ঘুমিয়ে ছিল !! বিছানা থেকে উঠতে ইচ্ছা করছে না আকাশের । স্বপ্নগুলো এখনও যেন ভাসছে চোখের সামনে !। আকাশের স্বপ্নগুলো কি আদৌ সত্যি হবে কোনদিন ? আজ খেলতে যায় নি আকাশ !!
স্বপ্ন নাকি কখনো রঙ্গিন হয় না ! আমি বলব কখনো কখনো স্বপ্নও রঙ্গিন হয় ! যা বার বার সেই স্বপ্নটা দেখার ইচ্ছা জাগায় ।
সেই স্বপ্নটা আবার দেখার ইচ্ছা নিয়ে রাতে ঘুমোতে যায় আকাশ ।
আকাশের মত হয়ত অনেকেই পরিবর্তনের এইরকম স্বপ্ন দেখে !!
©somewhere in net ltd.