নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

খুব সাধারণ একজন মানুষ। বিনয়ে বলা সাধারণ নয়, সত্যিকারের সাধারণ। রূঢ় ভাষায় বললে \"গুড ফর নাথিং\"।

বিষাদ সময়

বিষাদ সময় › বিস্তারিত পোস্টঃ

নারীর প্রতি সম্মানের উপকথা

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ রাত ১০:৪৩




কিছুদিন আগে আমাদের জাতীয় ক্রিকেট দলের এক খেলোয়াড়ের ফেসবুকে করা নারীদের সম্পর্কিত কিছু কথায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বয়ে গেল। বাংলাদেশের অন্য সব বিষয়েের মতো সেখানেও মূলতঃ রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই প্রায় সবাই পক্ষে বিপক্ষে বিভক্ত হয়ে গেছে। যার বেশির ভাগই ছিল যুক্তিহীন্ বিপরীত পক্ষের উপর বিদ্বেষ প্রসূত কথাবার্তা।

এ ঘটনার প্রেক্ষাপটেই নারীদের সম্মান করা বা না করার কিছু বিতর্কিত কথা মাথায় আসে । এ লেখাটি সে সব চিন্তা ভাবনার আক্ষরিক উপস্থাপন।

সম্মান বিষয়টি একপাক্ষিক না, বহুপাক্ষিক, তা না হলেও মিনিমাম দ্বিপাক্ষিক। অর্থাৎ এক পক্ষকে সম্মান দিতে জানতে হবে অপর পক্ষকে সেটা নেয়ার মত যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। নারীর সম্মান শ্রমিক অধিকারের মতো কোন বিষয় নয় যে জোর করে সেটা আদায় করা যাবে। নারীর প্রতি সম্মানের (প্রকৃতপক্ষে যে কোন সম্মানের ) বিষয়টি মনসতাত্তিক তাই এ বিষয়টি রাতারাতি পরিবর্তিতও হবে না। এ জন্য সমাজকে সভ্য করে তুলতে হবে। সমাজকে বলতে পুরো সমাজকে, নারী পূরুষ সবাইকে সভ্য করে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে শুধু নারী শিক্ষা বা নারীর ক্ষমতায়ন দিয়ে এ লক্ষ অর্জন করা যাবে না। নারী শিক্ষার চেয়ে পুরুষের সু-শিক্ষা এ ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।এ ব্যাপারে কয়েকটি নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা বলে লেখা শেষ করতে চাই-

১) যখন কলেজে পড়ি তখন কখনও কল্পনাও করতাম না যে আমি বাসে সিটে বসে আছি আর আমার পাশে একজন নারী দাড়িয়ে যাতায়াত করবে। সম্মান, শ্রদ্ধা বা ভালবাসার কারণে কোন মেয়ে বা মহিলাকে বাসে দাড়িয়ে থাকতে দেখলে নিজের সিটটা সবার আগে ছেড়ে দিতাম। এখন মহিলাদের জন্য বাসে নয়টি সিট বরাদ্দ করা হয়েছে সাথে নিজেরও বয়স হয়েছে। এখন খুব বয়স্ক মহিলা না হলে নিজের সিট ছেড়ে দেইনা।

---অর্থাৎ আইন করে সম্মান আদায় করা যায় না।


২) ছোট বেলায় দেখেছি আমাদের গ্রামের অনেক স্বামীই তার স্ব্রীর গায়ে হাত তোলেন। আবার হয়তো স্ত্রী পরের দিনই স্বামীর সাথে হাসি মুখে কথা বলেন। কখনও ভাবী সম্পর্কিত কাউকে ঠাট্টা করে বলেছি এই না দেখলাম কালকে দিল আজ আবার হাসিমুখে কথা বলছেন্।
উত্তরে কেউ বলেছেন -তোমার ভাই হইলো স্বামী হের তো অধিকার আছে বউ শাসন করার, আবার কেউ বলেছেন- মারে আবার আদরও তো করে।
সেখানে স্ত্রী তার গায়ে স্বামীর হাত তোলাটা ন্যায়সঙ্গত বলে মেনে নিয়েছে আর স্বামী জানে এটা তার অধিকার। দিন শেষে তারা মোটামুটি সুখি।
এখন স্বামীর আগেই যদি আমরা স্ত্রীকে তার অধিকারের শিক্ষাটা দেই তবে গণ্ডগোল বাধবে আরো বেশি।
স্বামী জানবে স্ত্রীকে শাসন করাটা তার অধিকার আর স্ত্রী কে শেখানো হয়েছে এটা অন্যায় এবং অপমানকর। ফলাফল হবে নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি এবং স্ত্রীর যে সুখটুকু ছিল তার অবসান।

---অর্থাৎ শুধু নারী শিক্ষা এবং ক্ষমতায়ন দ্বারা শান্তি বা সম্মন আসবে না এর জন্য প্রয়োজন নারী পুরুষ উভয়ের সুশিক্ষা।


৩) কোয়ার্টারে যখন আমরা ছিলাম তখন এক পরিবারের সাথে আরেক পরিবারের সম্পর্ক ছিল আত্মীয়ের মত। সিনিয়র জুনিয়র মিলে প্রচুর বন্ধু বান্ধব। যাহোক আমাদের কোন এক বন্ধু ছিল দেখতে তেমন ভাল না, পড়া লেখায়ও সুবিধার না তবে স্বভাব চরিত্র ভাল। একদিন আমরা রাস্তায় দাড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছি পাশ দিয়ে বেশ সেজে গুজে যাচ্ছিল ওই বন্ধুরই বিল্ডিং এর তার জুনিয়র এক মেয়ে। বন্ধুটি সরল ভাবেই বলল-তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে রুমা। রুমা গিয়ে তার নিজের মাকে দিল নালিশ। রুমার মা এসে সবার সামনে আমাদের সেই বন্ধুকে ধুয়ে ছেড়ে দিল। তার ক'দিন পর আমাদের আরেক বন্ধু যে বেশ ভাল ছাত্র তবে স্বভাব ভাল না রুমাকে দেখে বলল- তোমাকে দেখে আমার মাথা গরম হয়ে গেছে।
রুমাা কিছুটা প্রশ্রয়ের সুরে বলল- আমাকে দেখলে আপনারর মাাথাা গরম হবে কেন?
বন্ধুটি তার কানের কাছে গিয়ে এর আদি রসাত্বক ব্যাখ্যা দেয়ার পর রুমা হাসতে হাসতে দুহাত দিয়ে মুখ ঢেকে চলে গেল।
তারপর ফলাফল হল বন্ধুটির বাড়িতে রুমার ঘনঘন যাতায়াত।

অনেকের মানসিকতা যদি এ রকম হয় তবে সম্মান নামক বিয়য়টি এ সমাজের প্রেক্ষাপটে সহজে আসবে না।

------অর্থাৎ নারী, পুরুষ উভয়ের মানসিকতারও পরিবর্তন দরকার।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ রাত ১২:৪৪

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: মেয়েরা কেন জানি দুষ্টলোকের ফাঁদে বেশি পড়ে। না কি দুষ্টলোকদের পছন্দ করে কে জানে। ৩ নাম্বার ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত বেশ কিছু ঘটনা আমার জানা আছে।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ সকাল ১০:০৫

বিষাদ সময় বলেছেন: আপনার মন্তব্য পড়ে বুঝা যাচ্ছে ৩ নং ঘটনা যথেষ্টই ঘটে।
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

২| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ভোর ৬:৪৬

সোনাগাজী বলেছেন:



এখন আপনার বয়স কত?

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ সকাল ১০:০১

বিষাদ সময় বলেছেন: যদিও কারো বয়স পাবলিকলি জানতে চাওয়াটা মনে হয় অনুচিত। কিন্তু আপনি সিনিয়র জানতে চেয়েছেন দেখে বলছি আমার বয়স এখন ৫০+।

৩| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ দুপুর ১২:২২

নতুন বলেছেন: নারীরা মিস্টি কথায় বেশি ভুলে যায়। আর দুস্ট লোকেরা মিস্টিকথা বলে বেশি।

এটা অভিঙ্গতার অভাবের কারনে হয়।

বর্তমানে পুরুষের অনেক বড় একটা অংশ নারীদের নিয়ন্ত্রনের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করে। তারাই এইসব সাকিবের কথায় জজবা পায়।

নারীকে মানুষ হিসেবে সন্মান করলেই তো হয়। তাদের উপরে সুবিধা নেওয়ার ধান্দা না করলেই তো কোন সমস্যা থাকেনা।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ দুপুর ১:০৭

বিষাদ সময় বলেছেন: আপনার যুক্তিনির্ভর,পরিশীলিত এবং যথাযথ মন্তব্য সব সময় গুরুত্বের সাথে বিবেচনার দাবী রাখে।
ধর্মের নামে বা অন্য কোন অজুহাতে নারীদের নিয়ন্ত্রনের আমিও বিরোধী।
আবার নারী স্বাধীনতার নামে কোন কোন ক্ষেত্রে নারীকে পণ্য বানানোর চেষ্টার পক্ষেও আমি নই।

নারীদের মানুষ হিসাবে সম্মান প্রাপ্তি একটি জন্মগত অধিকার বলে মনে করি। তবে বেশির ভাগ নারী শুধু মানুষ হিসাবে নয় তাদের স্বপরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত এবং সম্মানিত হতে চান।
ধন্যবাদ।

৪| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ দুপুর ১:৪০

নতুন বলেছেন: তবে বেশির ভাগ নারী শুধু মানুষ হিসাবে নয় তাদের স্বপরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত এবং সম্মানিত হতে চান।

যদি পুরুষ স্বপরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত এবং সম্মানিত হতে পারে তবে নারীর চাওয়াতে পুরুষের কোন কিছু ভাবার অবকাশ নাই।

আমাদের দেশের পুরুষের ভাবনা হইলো। আমি আয় করবো আর স্ত্রী সংসার করবে, সন্তান দেখবে, স্বামীর কথা শুনবে।

পুরুষ নারীর চেয়ে উন্নত এটা তাদের ভাবনা। ( ধর্ম ই এই ভাবনা পুরুষকে দিয়েছে)

নারীরা কম অভিঙ্গ বিশ্ব সম্পর্কে কিন্তু সেটার কারন ও পুরুষই।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে কাজ করে বুঝেছি যে নারীরা পুরুষের চেয়ে কোন অংশেই কম যায় না। তাদেরও অনেক বড় বড় প্রতিস্টানে বড় বড় পদে কাজ করছে এবং নিজের জোগ্যতায়ই করছে। ( স্বামী বা বাবার নামে না ;) )

নারী পুরুষের বিষয়টা হউয়া উচিত দুজনের সমান সন্মানের।

আমি বাইরে কাজ করছি, তেমনি আমার স্ত্রী ঘর সামলাচ্ছে, ডানাকে বড় করছে। আমরা ৩ জন মিলে আমাদের সময় এই পৃথিবিতে একটা সময় পার করছি।

এখানে যদি স্ত্রী ঘর না সামলায় তবে আমার জীবন এতোটা সুন্দর হবেনা। তেমনি আমি যদি আয়ের দিকটা না দেখি তবেও ওদের জীবনটা অন্য রকম হবে।

তাই স্ত্রীকে সন্মান করতে হবে। দাসীর মনিবের মতন সম্পর্ক থাকা উচিত না।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ বিকাল ৩:১৬

বিষাদ সময় বলেছেন: ফিরে এসে আবার মন্তব্য করায় কৃতজ্ঞ।
এখন একটু ব্যাস্ত। রাতে এসে আপনার মন্তব্যের বিস্তারিত উত্তর দিব। ধন্যবাদ।

৫| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ সন্ধ্যা ৭:৫৫

কামাল১৮ বলেছেন: কারো গায়ে হাত দেয়া ফৌজদারী অপরাধ,ধর্মে অনুমতি আছে মৃধু প্রহার করার।আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ রাত ৯:১০

বিষাদ সময় বলেছেন: আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন নামে এ সম্পর্কে কঠোর আইন অলরেডি আছে। এ আইনের বিভিন্ন ধারা ভঙ্গ করা জামিন অযোগ্য অপরাধ। নিরীহ নারীদের এ আইন তেমন কোন সুরক্ষাই দিতে পারছে না কিন্তু প্রভাবশালী নারীরা এ আইন বলে স্বামীর পরিবারকে হেনস্তা করছে।
নারী পুরুষের সম্পর্কটা শ্রমিক মালিকের মত সম্পর্ক না যে সেটা শুধু আইন দিয়ে কাভার দেয়া যাবে। উপরেই বলেছি এর জন্য যেমন আইন দরকার তেমনি দরকার মানসিক উন্নয়ন।

ধর্মে অনুমতি আছে মৃধু প্রহার করার।

কেউ কেউ আজকের সমাজের সাথে হাজার বছর আগের আইনকে খাপ খাওয়াতে গিয়ে লেজে গোবরে করছে। আবার আপনি আজকের প্রেক্ষাপটে হাজার বছর আগের আইনকে তুলনা করে তালগোল পাকাচ্ছেন।
আইনে Quasi-Parental Authority বলে একটা কথা সভ্য সমাজেও প্রচলিত আছে যে ক্ষমতা এক সময় স্বামীর হাতেও ছিল।

৬| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ রাত ১০:০০

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: একমত আপনার পোস্টের সাথে। তানজিম সাকিবের পোস্ট নিয়ে নীচের ইসলামিক স্কলারের বক্তব্য আমার ভালো লেগেছে।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ রাত ১১:১৭

বিষাদ সময় বলেছেন: পোস্টে এসে মন্তব্য করায় অত্যন্ত খুশি হলাম।
উনার বক্তব্য অনেক শুনেছি। শায়খ আহমাদুল্লাহ ডক্টর আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির এর উত্তরসূরী। তবে আমার মনে হয় ডক্টর আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির এর কাছাকাছি প্রজ্ঞাও উনার নাই। এটা আমার ব্যাক্তিগত মতামত।

উনি যে সমস্ত কথা বলেছেন তা ইসলামী কন্টেটেক্সট এ সঠিক। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমাদের সংবিধান, আইসিসির আইন আন্তার্জাতিক আইন যে কোন ধর্মীয় আইন থেকে কিছুটা আলাদা। যখন আপনি আইসিসির কোন টুর্নমেন্টে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তখন উল্লেখিত আইনগুলোকে আপনি শ্রদ্ধা করেন এটাই ধরে নেয়া হবে।
সাকিব এর লেখা নিয়ে আমরা মারামারি করছি। কিন্তু বিসিবি তাকে সতর্ক করা ছাড়া আর কিছু করেছে বলে জানা নাই।
কিছু ব্যাক্তি বলে বেড়াচ্ছেন সাকিব নারীদের ব্যাপারে এ রকম কথা বলায় নাকি বেশি হৈচৈ হচ্ছে কিন্তু কোন নারীর সাথে রাত কটালে নাকি এ রকম হতোনা। শায়খ সাহেবও এ রকমই বললেন।
কিন্তু বাস্তব কথা হচ্ছে বাংলাদশের জাতীয় ক্রিকেট দলের যে কোন খেলোয়াড় যদি কোন নারীর সাথে রাত কাটিয়ে ফেসবুকে কোন স্ট্যাটাস দেন তবে তার খেলোয়াড় জীবনের সেখানেই পরিসমাপ্তি ঘটবে এটা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি।
আসলে কিছু মানুষ কে, কোন অবস্থানে থেকে , কোথায় কি বলা উচিত এটার পার্থ্যক্য নির্ধারণ করতে পারেন না।

শুভ কামনা, ভাল থাকবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.