নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার ডায়রি

ইব্রাহীম সাজ্জাদ

নিজের সম্পর্কে বলার মতো তেমন কিছুই নাই

ইব্রাহীম সাজ্জাদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

এরই নাম কি বিয়ে? ঘটনাটি পড়লে রাগে গা জ্বলে উঠবে যে কারো।

১৩ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ২:৪০

এরই নাম কি বিয়ে – বোন বড় হয়েছে। বিয়ের কথা বার্তা চলছে। পারিবারিক ভাবে মতের মিল হওয়ার পর আকদ এর দিন ধার্য্য করা হয়। অনুষ্টানের শেষে ছেলের বাড়ি থেকে নাকি রাতে ৫০ জন আমার বোনকে দেখতে আসবে।নতুন আত্মীয়। তাদের জন্য যেমন তেমন খাবার করা যাবেনা। অনেক টাকার বাজার করলাম। দেখলাম ওরা বেশকিছু মিষ্টি নিয়ে এসেছে।ওরা চলে যাবার পর মা জানালো সকালে বোনের শ্বাশুর বাড়িতে মিষ্টি নিতে হবে আরো সাথে কত কী!!

কয়েক কেজি আর সস্তা মিষ্টি চলবেনা। দামী নিতে হবে তাও কমপক্ষে দশ কেজি। বরপক্ষ নাকি সমাজকে দিতে হবে। নয়তো সমাজ নাকি বদনাম করবে।এ কেমন সমাজ মাথায় আসেনা। ব্যাপারটা এমন যে মিষ্টি কোনোদিন চোখে দেখে নাই। আকদের দিন মসজিদে সমাজীদের মিষ্টি খাওয়ানো হইসে সেটা যথেষ্ট না।

আকদ এর আগে বিয়ের চুক্তি গুলো হয়ে যায়। আমার বাবা এলাকার মুরব্বীদের সাথে কথা বলে ফাইনাল সিদ্ধান্ত নেয় যে কাবিন ১৫ লক্ষ টাকা, স্বর্ণ দশ ভরি দিলে ওনি আত্নীয়তা করতে রাজি।

বরপক্ষও কনফার্ম করে যে এক হাজার মানুষ না খাওয়ালে আর ফার্ণিচার ঠিকঠাক না দিলে ওরা আত্নীয়তা করবেনা।শেষ পর্যন্ত সবকিছু মেনে নিয়ে বিয়েটা ঠিক হয়। এসব বিষয়ে বড়দের মুখের উপর বলতে নেই দেখে কিছু বলতে পারলাম না।বরপক্ষ একহাজার। আমাদের ৫০০-৭০০ মানুষ হবে এমন একটা হিসাব করে আয়োজন করা হয়। বাসায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল অমুকের তমুককেও দাওয়াত করতে হবে। কাজে কামে নাকি আত্নীয়স্বজনের পরিচয়। তাই বলে লতা দিয়ে পাতা!! ঐ যে বড়দের উপর কথা বলতে নেই।

বিয়ের দিন দেখলাম আমি যে বড় ভাইকে দাওয়াত দিলাম ওনি মোটর সাইকেলের পিছনে আরো দুজন নিয়ে হাজির। ছোট ভাইয়ের বন্ধুরা নিজেদের বন্ধুদের নিয়ে হাজির যাদের কিনা ছোট ভাই নিজেই চিনেনা। ফলাফল খাবার সংকট। মানসম্মানের ব্যাপার। দ্রুত অতিরিক্ত বাজার করে রান্না করতে হল।

প্রচলিত নিয়ম মেনে বিয়ের পর দিন বোনের শ্বাশুর বাড়িতে আমাদের দুইশ জনের দাওয়াত। বৌ ভাত যাকে বলে। নিয়মের বাইরে যাওয়া যাবেনা বলে কিছু বলতে পারলাম না।

অনেক টাকা গাড়ীভাড়া, অন্যানা খরচ গেলেও লতা দিয়ে পাতা হওয়া আত্নীয়দেরও দাওয়াত খাওয়াতে নিয়ে গেলাম। এরপর নাকি জামাইর বাড়ির দুশজন খাওয়াতে হবে। নয়তো কথা থেকে যাবে। সেটাও করতে হল ইচ্ছার বিরুদ্ধে।বাসায় প্রশ্ন করলাম এতকিছুর দরকার কি? বলল এটাই করতে হবে। এটাই সঠিক। আমাদের মেয়েকে এরা সুখে না রেখে যাবে কই? কিন্তু আসলেই কি এটা সুখ? লতা দিয়ে পাতা হওয়া আত্নীয়কে দাওয়াত করে খাওয়ালে সুখ!!

যাই হোক সব শেষ করলাম। কিছু টাকা ঋণ নিতে হল বোনের সুখ কেনার জন্য। কিন্তু পরিপূর্ণ সুখ কিনতে রমজানের ঈদে জামাইর বাড়ির চৌদ্দ গোষ্ঠীর জন্য কাপড় দিতে হল। কোরবানীর ঈদে গরু দিতে হল। আর বারো মাসে তেরো রকমের জিনিস দিতে হল।

এর মধ্যে বোনের বাচ্চা হয়। আকীকা করানোর সময় আবার গরু দিতে হল। বোনের দেবর, ননদের বিয়ে হয় স্বর্ণ দিতে হল। দাওয়াত খাওয়াতে হল। এতকিছু করতে করতে ঋণের টাকা অনেক মাথায়।নিজের বিয়ের বয়সটাও চলে যাচ্ছে। ঋণ শোধ করে, নিজের বিয়ের জন্যও এতকিছু করার প্রস্তুতি নিতে হবে। ততদিনে বুড়া হয়ে যাব। বিয়ের আর দরকার কী!!

দুঃখের বিষয় হল যার সুখের জন্য এতকিছু করলাম, পারিবারিক জটিলতার কারণে তারই ডিভোর্স হয়ে গেল। তাহলে সুখ কই? সুখ এমন এক জিনিস যেটা টাকাতে পাওয়া যায় না। এর জন্য শিক্ষা আর সুন্দর একটা মন দরকার।

সুখের জন্য এসব জাস্ট তিন নাম্বার হাত “অযুহাত” এই চট্টগ্রামে। এটা নিয়ে গর্বের কিছু নাই। নিজের পরিশ্রমের টাকা লতা দিয়ে পাতা হওয়া আত্মীয়দের খাওয়ানোর দরকার নেই। কেউ খুশি মনে সামর্থ্য আছে বলে এসব করলে বাধা নেই। তবে নিয়ম মেনে করতে গেলে অবশ্যই আমার চুলকানি আছে।

এ কেমন সংস্কৃতি, যে নিয়মে বিয়ে করতে পাচ-সাত লক্ষ খরচ করতেই হবে!! টাকা কি গাছে ধরে? আর দাওয়াত দিলে নিজের সাথে মোটরসাইকেল আছে বলে হুদাই অতিরিক্ত দুজন নেয়া বন্ধ করুন। দুইশ টাকা খরচ করলে খাবার রেষ্টুরেন্টে অভাব নাই। অত ক্লোজ কেউ না হলে দাওয়াত পাওয়া মাত্র দৌড় দিয়েন না।এসব অপসংস্কৃতির কারণে চট্টগ্রামে একটা মেয়ে বিয়ে দিতে যেমন বাপ ভাইয়ের পাছার চামড়া চলে যায়, তেমনি ছেলে বিয়ে করতে গেলেও বয়স হয়ে মাথার চুল চলে যায় এত লক্ষ টাকা ম্যানেজ করতে।

আবার অনেক মেয়েকে এমন বলতে শুনা যায়… আমি বাবার একমাত্র মেয়ে সুতরাং আমার জন্য খরচ না করে কার জন্য করবে…..

আসুন আমরা শিক্ষিত জেনারেশন সব বুঝি, ছেলেমেয়ে উভয়ই নিজ অবস্থান থেকে বদলে যাই


বিঃ দ্রঃ চট্টগ্রামের এক বন্ধুর ওয়াল থেকে নেয়া!

মন্তব্য ১৩ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৮ ভোর ৫:৩৫

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: কষ্টদায়ক পোস্ট।

২| ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:৩২

সনেট কবি বলেছেন: থাক আর পড়লাম না।

৩| ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:৩৮

সৈকত জোহা বলেছেন: একেক অঞ্চলের একেক রীতি । দেনমোহর অনেক টাকা ধরা হয়। ঈদের সময় জামা ছেলেরাও দেয়। কোরবানি পশু নেয়ার প্রচলন নেই বললে চললে। কারণ উপহার পাওয়া পশু দিয়ে কোরবানি জায়েজ না।
বড়জোর বিয়ের এক বছর পর্যন্ত মেয়ের পক্ষের খরচ হয়। তারপর শ্বশুরবাড়ির ঘানি ছেলদের বহন করতে হয়। শ্বশুরপক্ষের কারো বিয়েতে দামি উপহার না দিলে সে জামাইরে কেউ গোনায় ধরে না।

৪| ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:১৩

খাঁজা বাবা বলেছেন: লেখাটা সম্ভবত আগেও পড়েছি।
যাইহোক, বাস্তব কথা।

৫| ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:৩০

সুমন কর বলেছেন: দুঃখজনক এবং প্রতিকার কি হবে !!!!!! X( X((

৬| ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:০৯

মনিরা সুলতানা বলেছেন: খুবই বাজে নিয়ম সব ।
জরুরী প্রতিকার দরকার।

৭| ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:৩০

বলেছেন: বিয়ে তো আমিও করেছি। যৌতুক বলতে বিয়ের জামাকাপড়, ঘড়ি, একটা খাট, আলমিরা আর ড্রেসিং টেবিল ছাড়া আর কিছু পাইনি। বিয়েতে মাত্র ২৫০ অতিথি নিয়ে বরযাত্রী করেছি। আমার শ্বশুরবাড়ি আর্থিকভাবে অনেক স্বচ্ছল। ঢাকায় নিজস্ব বাড়ি গাড়ি ছাড়াও দেশের বাড়িতে বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক। তারপরেও আমাদের বিয়ে একদম যতটা সম্ভব সাদাসিধাভাবে হয়েছে। দেনমোহরের ১০ লাখ বাদ দিলে বিয়ে ও বৌভাতের মোট খরচ মনে হয় ৫/৬ লাখ ছাড়াবেনা। কনের ১০ ভরি অলঙ্কারের দাম দেনমোহরের মধ্যে ইনক্লুডেড।

আমাদের দাম্পত্যজীবনের ৫ বছর হতে চলল, ছোটখাট ঘটনা বাদ দিলে চরম সুখেই দিন কাটছে এখনও।

৮| ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:১৪

নীল আকাশ বলেছেন: লেখাটা ২ বার এসেছে। কপি পেষ্ট করার সময় মনে হয় খেয়াল করেন নি। ঠিক করে দিন।

যা বলেছেন সেটা নিদারুন সত্য কথা। আমি চিটাগাং এ থাকি প্রায় ১৫ বছর। এই ধরনের ঘটনা খুবই স্বাভাবিক এখানে। অমানবিক পন্থা। যার ৩ বা আরো বেশি মেয়ে আছে সেতো প্রায় মারা যাওয়ার মতও অবস্থা। বিয়ের জন্য লোন নিতে নিতে মেয়ের ফ্যামিলি প্রায় নি:স্ব হয়ে যায়। খুবই দু:খজনক হলেও সত্য, এখানে বাবা মা, মেয়েদের পালিয়ে বিয়ে করার জন্য ইনডারেক্ট সায় দেয়, কারন এতে কোন খরচ লাগে না......কি জঘন্য ব্যাপার। আমি সারা বাংলাদেশে কোথাও এতোও কুৎসিত জিনিস দেখিনি......।

বাসার কাজের লোকদের এই বিয়ের সময় মেয়ের মা হলে, সাহায্য করতে যেয়ে আমার খবর হয়ে যায়। না দিয়েও পারি না, বিয়ে আটকে থাকে......বিবেক বলে তো কিছু একটা আছে।

এরা মানুষ না মানুষরূপী পশু বা তার চেয়েও অধম.........

চমৎকার একটা সামাজিক বিষয় নিয়ে এসেছেন। এই বিষয়ে একটা নিজের চোখে দেখা সত্য ঘটনা লিখতে শুরু করেছিলাম, আপনার লেখা পড়ে মনে হলো এটা শেষ করে পোষ্ট দেয়া দরকার।

ভালো থাকুন আর এই সব সামাজিক সমস্যা গুলি সবার সামনে তুলে ধরুন।
শুভ কামনা রইল!





৯| ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫২

ইব্রাহীম সাজ্জাদ বলেছেন: ধন্যবাদ নীল আকাশ ভাই

১০| ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৩৩

রাজীব নুর বলেছেন: এটা আবার কোণ নিয়ম!!!

১১| ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:০৭

কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: এদেশে চাটগাঁইয়া আর সিলডি -রা বিয়ে নিয়ে সবসময় বেশি বাড়াবাড়ি করে X((

১২| ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ৭:০১

চাঙ্কু বলেছেন: বিয়ে নিয়ে এত বাড়াবাড়ি কেন? X((

১৭ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১:০১

ইব্রাহীম সাজ্জাদ বলেছেন: আল্লাহ-মাবুদই ভালো জানেন!!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.