| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গতকাল জামায়াতের একজন সংসদ সদস্য সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি আবাসনে ওয়াশিং মেশিন, ওভেন ও পর্দার মতো কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসের কথা বলেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ার একটি অংশ এমনভাবে ফ্রেমিং করেছে যেন তিনি কোনো অস্বাভাবিক বা বিলাসী দাবি করে বসেছেন। আমিও প্রথমে বিষয়টি সমালোচনার চোখে দেখেছিলাম।
কিন্তু আজ সংসদের কার্যক্রম শুরু হতেই অতি কথক ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ একই বিষয় নিয়ে যে মন্তব্য করলেন, সেটি আমার কাছে আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ মনে হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি ওই সংসদ সদস্যকে ওয়াশিং মেশিন কিনে দেবেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পর্দা কিনে দেওয়ার অনুরোধ করবেন, আর প্রধানমন্ত্রী নাকি তার সংসার গুছিয়ে দেবেন।
প্রশ্ন হলো, এ ধরনের বক্তব্য কি সংসদীয় শিষ্টাচারের সঙ্গে মানানসই? মতভেদ থাকতে পারে, সমালোচনাও করা যেতে পারে। কিন্তু কাউকে ব্যক্তিগতভাবে বিদ্রূপ করা বা তার আর্থিক-সামাজিক অবস্থানকে উপহাস করা কি গ্রহণযোগ্য?
স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম) বিষয়টি সেখানেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই সংসদ সদস্যের এমন দাবি করা হয়তো অনুচিত হয়েছে, কিন্তু তাই বলে তাকে অপমান বা হেয় করা যাবে না। "আমি কিনে দেব, অমুক কিনে দেবে"—এ ধরনের মন্তব্য একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে অসম্মান করার শামিল।
আসলে পুরো বিষয়টির একটি ভিন্ন বাস্তবতা আছে, যা অনেকেই উপেক্ষা করছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমরা সাধারণত সংসদ সদস্য বলতে বুঝি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, প্রভাবশালী ব্যক্তি বা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণির কাউকে। কিন্তু বর্তমান সংসদে জামায়াতের অনেক সদস্যই সম্পূর্ণ ভিন্ন পটভূমি থেকে উঠে এসেছেন। কেউ স্কুলশিক্ষক, কেউ মাদ্রাসার শিক্ষক, কেউ স্থানীয় পর্যায়ের সমাজকর্মী বা সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী।
তাদের অনেকেরই ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাট, বাড়ি কিংবা আরামদায়ক জীবনযাপনের সুযোগ নেই। নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় দায়িত্ব পালনের জন্য রাজধানীতে থাকতে হচ্ছে, কিন্তু সেই আবাসন ব্যবস্থাপনাই অনেকের জন্য বাস্তব চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াত আগেই ঘোষণা দিয়েছে যে তারা সরকারি প্লট বা স্থায়ী ফ্ল্যাট বরাদ্দ গ্রহণ করবে না। রাজনৈতিকভাবে এই অবস্থানকে অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। কিন্তু এর ফলে একটি বাস্তব প্রশ্নও তৈরি হয়েছে—যেসব মানুষ নিজেদের স্বাভাবিক জীবন ছেড়ে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন, তাদের ন্যূনতম আবাসন ও জীবনযাপনের প্রয়োজন কীভাবে নিশ্চিত হবে?
আজ জামায়াত যদি গর্ব করে বলতে পারে যে তাদের ৬৮ জন সংসদ সদস্য রয়েছে কিংবা তারা উল্লেখযোগ্য ভোটের প্রতিনিধিত্ব করছে, তবে সেই অর্জনের পেছনে বড় অবদান রয়েছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সেইসব সাধারণ নেতাদের, যারা বছরের পর বছর জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছেন, মাঠে কাজ করেছেন এবং দলের ভিত্তি গড়ে তুলেছেন।
তাই বিষয়টিকে শুধু "ওয়াশিং মেশিন" বা "পর্দা"র আলোচনায় সীমাবদ্ধ রাখলে পুরো বাস্তবতা ধরা পড়ে না। প্রশ্নটি মূলত একজন জনপ্রতিনিধির ন্যূনতম আবাসন ও দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিয়ে।
গণতন্ত্রের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো—এখানে একজন সাধারণ শিক্ষক, একজন আলেম বা একজন প্রান্তিক জনপদের মানুষও জাতীয় সংসদে পৌঁছাতে পারেন। আর তারা যেন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সংকটের মুখোমুখি না হন, সেটি নিশ্চিত করাও রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্র—উভয়ের দায়িত্ব।
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৭
রাজীব নুর বলেছেন: জামাত একটি অভিশাপ।