| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
খায়রুল আহসান
অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।
অষ্টম পর্বের লিঙ্কঃ পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫ এর মায়াময় স্মৃতি….(৮)
১০ই জিলহজ্জ্ব তারিখে (০৬ জুন ২০২৫) সূর্যোদয়ের আগেই আমরা মুযদালিফা থেকে রওনা হয়ে সকাল সকাল ‘বড় জামারাত’ বা জামারাত আল আক্বাবায় গিয়ে ‘রামি’ করে, অর্থাৎ সাতটি পাথর নিক্ষেপ করে মিনায় প্রত্যাবর্তন করলাম। মাথার উপরে ছিল গনগনে সূর্য, মনে হচ্ছিল যেন মগজগুলো মাথার খুলি ঠিকরে বের হয়ে আসবে। পথের উভয় পার্শ্বে ৫০/৬০ গজ পর পর মুখমণ্ডলে ও মাথায় ঠাণ্ডা পানির স্প্রে করা হচ্ছিল। এতে সাময়িক কিছুটা আরাম হচ্ছিল বটে, তবে জুন মাসের সৌদি গরম মোকাবিলায় তা অপ্রতুল ছিল। ইতোমধ্যে আমাদের পশু কুরবানি হয়ে যাবার সচিত্র বার্তা এলো। আমরা একটা সেলনে গিয়ে আমাদের মাথামুণ্ডন করে এসে গোসল করে নিলাম এবং সাময়িকভাবে এহরাম পরিত্যাগ করে স্বাভাবিক পোষাক পরে নিলাম। এ পর্যায়ে এই ‘partial exit from Ihram’ বা এহরাম পরিধান হতে সাময়িক অবকাশ এর অনুমতি রয়েছে, তবে শর্ত থাকে যে একই দিনে পরে সুবিধেমত সময়ে মক্কায় গিয়ে ‘তাওয়াফ আল ইফাদাহ’ (হজ্জ্বের ফরয তাওয়াফ) ও সা’ঈ করতে হবে।
সম্ভাব্য সব সুবিধা অসুবিধার কথা বিবেচনা করে আমাদের দলনেতা (দেশি মুয়াল্লেম) ও অন্যান্য মুরুব্বিরা সাব্যস্ত করেছিলেন যে আমরা ঐদিন রাতে এশার নামাযের পরপরই পুনরায় এহরাম পরে হারাম শরীফে গিয়ে হজ্জ্বের ফরয তাওয়াফ ও সা’ঈ সম্পন্ন করবো। আমি আন্দাজ করতে পেরেছিলাম যে এটা পালন করতে গিয়ে আমাদের সারা রাত পার হয়ে যেতে পারে। কারণ, সেটা ছিল হজ্জ্বের পূর্ণতার দিন ও রাত। বিশ লক্ষাধিক হাজ্জ্বীর মধ্যে প্রায় সকল হাজ্জ্বীই ঐ সময়ে ‘তাওয়াফ আল ইফাদাহ’ ও সা’ঈ করার জন্য মক্কায় উপস্থিত থাকবেন। ফলে, চলাচলের সুবিধা সীমিত হয়ে পড়বে, স্বাভাবিকের চেয়ে চলাচলের সময় অনেক বেশি লাগবে। লক্ষাধিক হাজ্জ্বীর সাথে তাল মিলিয়ে হাঁটার কারণে সময় ৩/৪ গুণ বেশি লাগবে। মূল হারাম শরীফ প্রাঙ্গণে ঠাঁই পাওয়া দুষ্কর হবে, উপরের তলায় যত উপরে ওঠা হবে, একেকটি তাওয়াফের পরিধি ততই বৃ্দ্ধি পাবে। হাঁটার কদম সংখ্যাও নিচের প্রাঙ্গণের চেয়ে ৩/৪ গুণ বৃ্দ্ধি পাবে। এসব সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে তাই সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত আমি এবং আমার স্ত্রী নামাযের সময় ব্যতীত পর্যাপ্ত ঘুম দিয়ে নিলাম।
আমি যা ভেবেছিলাম, ঠিক তাই হলো। আমাদের বাস হারাম শরীফ থেকে বেশ কিছুটা দূরেই আমাদেরকে নামিয়ে দিল, কারণ সৌদি পুলিশ আশেপাশের রাস্তাগুলো বাসের জন্য বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে বিভিন্ন দিক থেকে পায়ে হাঁটা জনস্রোত কা’বা শরীফের দিকে ধাবিত হচ্ছিল। আমাদের গ্রুপে বিভিন্ন বয়সের হাজ্জ্বী ছিলেন, যাদের বয়স ৩০-৩৫ থেকে ৬০-৭০ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তাই আমাদের দলনেতা (দেশি মুয়াল্লেম) জনাব আব্দুল্লাহ আল মাহবুব শাহীন শুরু থেকে সম্মিলিত তাওয়াফের আগে একটা বিষয়ের উপর খুব জোর দিতেন। সেটা হলোঃ আমরা কেউ কাউকে পেছনে ফেলে নিজেরা অগ্রসর হবো না। আমরা কনুইবদ্ধ হয়ে একসাথে প্রতিটি পদক্ষেপ নিব। এটা কঠোরভাবে মেনে চলা কঠিন ছিল। মাঝে মাঝে বন্ধন ছুটে গিয়েছিল, কিন্তু তারপরেও আমরা কাছাকাছি ছিলাম, একে অপরের দৃষ্টিসীমার মধ্যে ছিলাম এবং সময় সূযোগমত পুনরায় কনুইবদ্ধ হয়েছিলাম।
আমরা সবাই একাগ্রচিত্ত ছিলাম কী করে হজ্জ্বের এই ফরয তাওয়াফ (তাওয়াফ আল-ইফাদাহ) ও ওয়াজিব সা’ঈ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা যায়। হারাম শরীফে প্রবেশ করেই আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করার চেষ্টা করি কা’বা ঘরের প্রতি, কিন্ত কা’বা ঘরকে শুধু দূর থেকেই দেখে গিয়েছি, অত্যধিক ভিড়ের কারণে নিকটে যাবার কোন উপায় ছিল না। আমাদের চেষ্টা ছিল, দূর থেকে হোক, আমরা আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ধীরে সুস্থে নিব, কোথাও তাড়াহুড়ো করবো না। সাতবার তাওয়াফের মাঝে শরীর ক্লান্ত হয়ে গেলে স্লো ডাউন করেছি, দোয়া দরুদ পড়েছি, সাথে রাখা জমজমের পানি পান করেছি। সাতবার তাওয়াফ শেষ হয়ে যাবার পর আরও কিছু করণীয় থাকে, সেগুলো করেছি (যেমন মাকা’মে ইব্রাহীমে দু’রাকাত নফল নামাজ পড়ে দোয়া দরুদ পড়া)। তাওয়াফ শেষে ক্ষণিকের তরে বিশ্রাম নিয়ে ওয়াশরুমের কাজ ইত্যাদি শেষ করে রওনা হয়েছি সা’ফা পাহাড়ের উদ্দেশ্যে, সা’ঈ করার জন্য। তীর্থযাত্রীদের এত বিরাট জনস্রোতের ক্ষুদ্র একটি অংশ হিসেবে কাফেলার সাথে পায়ে পায়ে হেঁটে সা’ফাতে পৌঁছাতেও অনেক সময় লেগে গেলো। সা’ঈ শেষ করে আমরা কা’বা প্রাঙ্গণে পুনরায় প্রবেশ করলাম। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে নিতে ফজরের নামাযের সময় হয়ে গেল। সারা রাত এভাবে ফরজ ইবাদতে কেটে গেল। তবুও, দিনের প্রখর রৌদ্রতাপের মধ্যে এই ইবাদতসমূহ পালনের চেয়ে রাতের বেলায় পালন করাই তুলনামূলকভাবে অনেক আরামদায়ক ছিল।
ঢাকা
২০ এপ্রিল ২০২৬
শব্দ সংখ্যাঃ ৬১৬
২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৯
খায়রুল আহসান বলেছেন: ওটা আমার জানার বিষয় নয়, তবে বোধকরি আপনি গুগল ঘেটে সেটা জেনে নিতে পারেন।
২|
২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: গত বছর আমি ও হজ্জ করেছি,
আমাদের মোয়াল্লেম আমার চাহিদা মতো সাহায্য
করে নাই বিধায়, মুযদালিফা থেকে পায়ে হেটেঁ রওনা হয়ে ‘বড় জামারাত’
যেতে বেলা ১১টা বেজে যায়, আর সেই হাটাঁর ব্যথায় ঢাকা এসে একমাস
সম্পূর্ণ রেষ্ট ও ডাক্তার এর পরামর্শে ওষধ খেতে হয় ।
২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২
খায়রুল আহসান বলেছেন: আমাদের মোয়াল্লেম সাহেব অবশ্য যথাসম্ভব সহযোগিতা করেছেন। তবে তার মধ্যেও কিছু ত্রুটি ছিল, যা আমি হজ্জ্বের স্পিরিটে ইগনোর করেছি।
৩|
২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩
নতুন নকিব বলেছেন:
একটানে পুরোটা পাঠ করলাম, আলহামদুলিল্লাহ, আগের পর্বগুলোর মতই সুখপাঠ্য। আপনার হজ্জের এই স্মৃতিকথা পড়তে গিয়ে মনে হলো যেন আমরাও সেই পবিত্র সফরের অংশ হয়ে গেছি। প্রতিটি মুহূর্তের অনুভূতি, কষ্ট, ধৈর্য এবং ইবাদতের প্রতি আপনার একাগ্রতা অত্যন্ত জীবন্তভাবে এই পর্বেও ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে ভিড়ের মাঝেও দলগত শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ধীরে-সুস্থে ইবাদত সম্পন্ন করার বিষয়গুলো সকলের জন্যই অত্যন্ত শিক্ষণীয়। আমি মনে করি, এ ধরনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ হাজীদের জন্য বাস্তব গাইডলাইন হিসেবেও কাজ করবে, ইনশাআল্লাহ।
আপনার লেখা সামগ্রিকভাবে খুবই সুন্দর, ধারাবাহিক এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। হজের মাসায়েল ও কার্যক্রমের বর্ণনাও মূলত সঠিক আছে। তবে শেষের একেবারে প্যারায় একটি ছোট টেকনিক্যাল সংশোধন প্রয়োজন:
আপনি লিখেছেন: “ফরয উমরাহ (তাওয়াফ ও সা’ঈ)” - এখানে শব্দচয়নটি একটু সংশোধন করা উচিত। সঠিক হবে: “হজ্জের ফরয তাওয়াফ (তাওয়াফ আল-ইফাদাহ) ও ওয়াজিব সা’ঈ”। কারণ হজ্জের অংশ হিসেবে এটি উমরাহ নয়, বরং হজ্জেরই ফরয/ওয়াজিব আমল।
আল্লাহ তায়ালা আপনার এই হজ্জকে হজ্জে মাবরুর হিসেবে কবুল করুন, আপনার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন এবং এই পবিত্র স্মৃতিগুলোকে আপনার জন্য আখিরাতে নাজাতের অসিলা বানিয়ে দিন। আল্লাহ আপনাকে ও আপনার পরিবারকে বারবার তাঁর ঘরের মেহমান হওয়ার তাওফিক দান করুন।
اللهم تقبل منا حجنا واجعله حجاً مبروراً وسعياً مشكوراً وذنباً مغفوراً
আমীন।
৪|
২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:১৩
করুণাধারা বলেছেন: লিঙ্ক ধরে আগের দুটো পর্ব পড়ে (সপ্তম পর্বে একটা মন্তব্য রেখে এসেছি) এই পর্বে এলাম। এতদিন পর্যন্ত তেমন কষ্ট অনুভব হয়নি কিন্তু এই পর্বে এসে প্রথমবারের মতো গরমকালে হাজীদের কষ্ট অনুভব করলাম। শুনেছিলাম হাঁটার সময় রাস্তার পিচ গলে যাওয়ায় একজনের স্যান্ডেল আটকে গিয়েছিল।
যা হোক শেষ পর্যন্ত কাঙ্খিত হজ্ব স্বস্তির সাথে সমাপ্ত হলো!
এইসব কারণেই মনে হয় হজ্ব করার জন্য শারীরিক সক্ষমতা আবশ্যিক করা হয়েছে।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯
রাজীব নুর বলেছেন: হজ্ব থেকে সৌদির কি পরিমান ইনকাম হয় বছরে?