নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

এসএসসি - এইচএসসি বাচ্চারা সাবধান হয়ে যাও।

২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৩২


ছবিতে আমাদের সবার প্রিয় মিলন স্যার। বয়স ৭০ এর কাছাকাছি হলেও স্যারের ছোটাছুটি থামেনি, বরং মনে হয় বয়সটা স্যারের কাছে একটা সংখ্যা মাত্র, যেটা স্যার পাত্তাই দেন না। স্যারের শরীরে এখনো এত অ্যাড্রেনালিন যে পাশে দাঁড়ালে নিজেও একটু চার্জ হয়ে যাওয়ার কথা। SSC-HSC সহ যত পাবলিক পরীক্ষা আছে, সব কটায় না জানি এবার কী হয়। পোলাপানের উচিত এখনই সতর্ক হয়ে যাওয়া, কারণ বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘা, আর মিলন স্যার ছুঁলে ছত্রিশ ঘা।

নকল আর হবে না, গ্রেস দেওয়া হবে না, ওয়াশরুমে গেলে দুই মিনিটের মধ্যে ফিরতে হবে পরীক্ষার হলে। কেন্দ্রে CCTV না থাকলে কেন্দ্র সচিব সহ সবার খবর আছে। এই ঘোষণাগুলো শুনে মনে হচ্ছিল স্যার পরীক্ষার হল পরিচালনা করবেন না, একটা মিলিটারি অপারেশন পরিচালনা করবেন । ইশ, স্যার যদি আমাদের সময় শিক্ষামন্ত্রী থাকতেন, তাহলে ধর্মে আমার A+ মিস হতো না। কিন্তু পোড়া কপাল নিয়ে জন্মেছি, আমাদের সময় শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন নুরুল ইসলাম নাহিদ।

নুরুল ইসলাম নাহিদ সাহেবকে ভালোভাবে চিনেছিলাম যখন তিনি বলেছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অফিসারকে কম করে ঘুষ খান। মানে ঘুষ খাওয়া বন্ধ করেন এটা বলেননি, বলেছেন কম খান। এই হলো সংস্কারের নমুনা। একদিকে বলতেন দেশে আর নকল করে পাস করা যাবে না, অন্যদিকে পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন Facebook-এ পাওয়া যেত । আমার এক মামা বলতেন নাহিদ সাহেব বাম রাজনীতি করতেন, তিনি শিক্ষাখাত বদলে দেবেন। আসলেই বদলে দিয়েছিলেন, তবে কোন দিকে বদলেছিলেন সেটা আমরা সবাই কমবেশি টের পেয়েছি।

আগামীকাল ২০২৬ সালের SSC পরীক্ষা। এই ব্যাচটা করোনার সময় ক্লাস ফাইভে ছিলো। এরা মনে হয় ২০২৩ বা ২০২৪ সালের নতুন কারিকুলামও এক-দুই বছরের জন্য পেয়েছিল, তারপর আবার পুরনো কারিকুলামে ফেরত। মানে এই বাচ্চাগুলোর কপালে যা জুটেছে সেটা দেখলে সত্যিই একটু মায়া লাগে, তবে মিলন স্যারের মায়া লাগছে না এটা নিশ্চিত।

ক্লাস ফাইভ থেকে সিক্সে উঠলে সৃজনশীল প্রশ্নের পরীক্ষা দিতে হতো, তখন কোচিং সেন্টারে পোলাপানের ঢল নামত। সেই সময় কোচিং সেন্টারে আমি ছিলাম সর্বকনিষ্ঠ শিক্ষক, আর ছাত্ররা আমার পা ধরে সালাম করত। ঘটনাটা আমার জন্য বড়ই লজ্জার ছিল, কারণ পা ধরা ছাত্রের বয়স আর আমার বয়সের পার্থক্য খুব বেশি ছিল না। যাই হোক, সামনে কোচিং ব্যবসার বাম্পার সিজন আসছে। পুরনো পরিচিত কোচিং সেন্টারের শিক্ষকরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, বেশি বেশি রুম ভাড়া করছেন, ক্লাস ওয়ান থেকেই কোচিং চালু করবেন বলে ঠিক করেছেন। শুধু মিলন স্যারের ফাইনাল সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।

কোচিং ব্যবসায়ীরা অবশ্য হাসনাত আব্দুল্লাহর উপর খুশিতে গদগদ। তিনি সংসদে প্রস্তাব তুলেছিলেন যে অ্যাডমিশন টেস্ট ছাড়া ক্লাস ওয়ানে ভর্তি নেওয়া হবে কেন। অ্যাডমিশন টেস্ট ছাড়া লটারিতে ভর্তি হলে শিক্ষক বাবার ছেলে সুযোগ না পেয়ে মুদি দোকানদারের ছেলে সুযোগ পায়, এই যুক্তিতে তিনি অ্যাডমিশন টেস্ট ফেরানোর কথা বলেছেন। মানে জন্মের আগে থেকেই যাদের মাথায় আইনস্টাইনের ব্রেন আছে, তাদেরকেই ভালো স্কুলে ভর্তি হতে দাও, বাকিরা পড়ল কি পড়ল না তাতে সমাজের কিছু যায় আসে না। এই দর্শন শুনে মনে হলো অভিজাত শ্রেণি শিক্ষিত হবে, আর বাকিরা তাদের সেবা করার জন্য থাকবে, এই ব্যবস্থাটা বেশ পাকাপোক্তভাবেই রাখার পরিকল্পনা চলছে।

তবে শেষ পর্যন্ত পোলাপান মিলন স্যারকে নিয়ে যতই মজা করুক, ভেতরে ভেতরে সবাই একটু ভয় পাচ্ছে। কারণ স্যার এবার ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তার মানে পরীক্ষার হলের ছাদেও নিরাপদ না, আকাশেও না। মিলন স্যার যেভাবে এগোচ্ছেন, মনে হচ্ছে পরীক্ষার সিস্টেমটা একটু হলেও সিরিয়াস হবে এবার। আর সেটাই এখন দরকার সবচেয়ে বেশি ।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৫৮

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আগামীকাল ২০২৬ সালের SSC পরীক্ষা।
.......................................................................
এবার নাকি স্যাটেলাইট নিয়োগ দেয়া হচ্ছে,
নকল প্রতিরোধের জন্য ,
গরীবের হলো ঘোড়া রোগ ;
আর কিছু না পারলেও হম্বি তম্বি চলে
ফ্যাশান শো !!!

২| ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:২০

ইসিয়াক বলেছেন:





এই লোক কাজের চেয়ে কথা বেশি বলছে। সবসময় আলোচনায় থাকতে পছন্দ করে মনে হয়। দুই মাস হল কেবল ক্ষমতায় এসেছেন তার মধ্যে এত এত হুমকি ধামকি।এত কথার তো দরকার নেই। নকল হলে, প্রশ্ন ফাঁস হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হোক। হুটহাট নানা কথা বলে বাচ্চাদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করায় কোন কৃতিত্ব নেই। আর একটা কথা এবারের এস এস সির ব্যাচ এর আগে কোন বোর্ড এক্সাম দেয়নি।এরা মূলত সেই করেনাকালীন ফাইভ এর ব্যাচ যারা পি ই সি (P E C)/ জে এস সি (J S C) কোন পাবলিক পরীক্ষায় বসেনি।স্বাভাবিকভাবেই বোর্ড এক্সাম এ তারা একেবারেই নতুন। অনেকই শিক্ষা মন্ত্রীর কথায় বেশ ভয় পাচ্ছে। কি না কি হয়! বারবার জানতে চাচ্ছে ঘাড় ঘোড়ালেই কি এক্সপেল করে দেবে? সাইলেন্ট এক্সপেল সত্যিই কি হবে?


আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.