| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য না। আবার কেউ বলছেন উন্নত দেশে তো মানুষ ড্রাইভিং করতে লজ্জা পায় না, ভিসা নিয়ে বিদেশে গিয়ে অনেকেই এই পেশায় ঢুকে যান, সমস্যা শুধু বাংলাদেশেই কেন। কথাগুলো শুনতে ভালো লাগলেও বিষয়টা এতো সহজ না ।
প্রথম কথা হলো, রাবেয়া আপা যা করছেন সেটা তার নিজের দক্ষতা এবং সাহসের ফসল। এই সাহসকে সম্মান জানানো উচিত। যারা দীর্ঘদিন ধরে বাস চালান, তাদের শরীরে যে ধকল যায়, যে রোগবালাই জমে, সেটা একজন নারীর জন্য আরও কঠিন। এই কাজটা যে কেউ করতে পারে না, বিশেষ করে আমাদের সমাজে যেখানে বাসচালকদের আচার আচরণ নিয়ে অনেক অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। যারা এই পেশায় টিকে থাকতে পারেন তাদের সালাম জানানো উচিত।
প্রশ্ন থেকে যায় অন্য জায়গায়। রাবেয়া আপা একজন সরকারি কর্মী, বিআরটিসির আওতায় চাকুরি করেন। পিংক বাসের বেশিরভাগ চালক বিআরটিসি ইনস্ট্রাক্টর। এই চাকুরি করার ন্যূনতম যোগ্যতা ছিল এইচএসসি পাশ। ধাপে ধাপে ১৬তম গ্রেড থেকে ১৪তম গ্রেডে প্রমোশন পাওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতা ছিল জেএসসি পাশ। অথচ যিনি এই পদে কাজ করছেন তিনি অনার্স মাস্টার্স পাশ। এটা শুধু রাবেয়া আপার গল্প না, এটা দেশের হাজার হাজার অনার্স মাস্টার্স পাশ তরুণ তরুণীর গল্প।
চাকরির বাজারে এমন একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে যেখানে তুলনামূলক নিচু পদের জন্যও ক্রমশ উঁচু ডিগ্রি লাগছে। বিশতম গ্রেডের চাকুরির পরীক্ষায় এখন এসএসসি পাশ করে চাকরি পাওয়া যায় না। যারা চাকরি পাচ্ছেন তারা প্রায় সবাই অনার্স মাস্টার্স পাশ। কয়েক বছর আগে একটা খবরে দেখেছিলাম অনার্স মাস্টার্স পাশ করা তরুণেরা রেলের খালাসির চাকরি করছেন। এই প্যাটার্নটা প্রতিবছর আরও বাড়ছে ।
এর পেছনের কারণ খুঁজতে গেলে দেখা যায়, যেখানে সেখানে কলেজ খুলে অনার্স মাস্টার্স ডিগ্রি বিতরণ করা হয়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। কলেজ খোলার কারণে অনেকে শিক্ষক হিসেবে চাকরি পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু যখন সরকার এমন সিদ্ধান্ত নেয় তখন তার ফলাফলের দিকেও নজর দেওয়া দরকার। শুধু ডিগ্রি বিতরণ করলেই তো আর কর্মসংস্থান তৈরি হয় না।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, অনার্স চতুর্থ বর্ষে থাকতে কিছুদিন বিজনেস ম্যাথ পড়িয়েছিলাম। আমাদের কোচিংয়ের একজন কম্পিউটার অপারেটর ছিলো , সে এখন সরকারি চাকরিতে টাইপিস্ট পদে ভালো অবস্থানে আছে। কোচিংয়ে টাইপিং শিখেই চাকরিটা পেয়েছিলো। একদিন সে অনুরোধ করে তার কিছু বন্ধুকে বিজনেস ম্যাথ পড়িয়ে দিতে, যাদের বেসিক প্রায় শূন্যের কোঠায়। অল্প ফি নিয়ে পড়াতাম তাদের। করোনার সময় কোচিং সেন্টার বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর একদিন মা বললেন, আমার এক ছাত্রকে নাকি রাস্তার পাশে কাপড় বিক্রি করতে দেখা গেছে। শুনে অবাক হয়েছিলাম। মা তখন প্রশ্ন করলেন, এত পড়াশোনা করে আজকাল ছেলেমেয়েরা দেশে চাকরি পাচ্ছে না কেন। আমি শুধু বলেছিলাম, চুরি তো করছে না, পরিশ্রম করে জীবিকা চালাচ্ছে। এই কথাটা মায়ের মনঃপুত হয়নি পুরোপুরি, কিন্তু বাস্তবতা এটাই।
রাবেয়া আপা নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলেছেন, এটা প্রশংসার যোগ্য নিঃসন্দেহে। কিন্তু তার গল্পটা যতটা না ব্যক্তিগত সাফল্যের, তার চেয়ে বেশি একটা সিস্টেমের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। যেখানে উচ্চশিক্ষিত তরুণ তরুণীদের নিম্নপদের চাকরিতে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে, সেখানে প্রশ্ন তোলা উচিত শিক্ষাব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান নীতির দিকে। দেশে শিক্ষার যে অবমূল্যায়ন চলছে, সেদিকে নীতিনির্ধারকরা কবে সত্যিকারের দৃষ্টি দেবেন ?
ফটোকার্ড ক্রেডিট: বাংলাদেশ টাইমস
২|
২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৩
শ্রাবণধারা বলেছেন: আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সাধারণত পেশাগত দক্ষতা তৈরি করে না, এ কারণেই সমস্যা।
কিন্তু সে যাক। কানাডায় আমার একজন পরিচিত ভদ্রলোক ছিলেন, যিনি দেশে ডাক্তার ছিলেন। এখানে এসে কয়েক বছরের চেষ্টায় বাসচালক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ভালো উপার্জন করেন এবং অর্থনৈতিকভাবে ভালো আছেন।
এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার সময় এক ভারতীয় সহপাঠীর সাথে পরিচয় হয়েছিল। তিনি বাসচালক হিসেবে কাজ করতেন এবং পেশা পরিবর্তনের জন্য পড়ালেখা করছিলেন। নিজের পেশা নিয়ে তার একমাত্র আক্ষেপ ছিল, কাজের কারণে তাকে অধিকাংশ দিন রাতের শিফটে কাজ করতে হতো, যেটা তার পরিবারিক জীবনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল।
৩|
২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৫৮
মাথা পাগলা বলেছেন: শুভকামনা রইল, নারী শক্তি এগিয়ে যাক। রাবেয়া আপার সাহস ও পরিশ্রম দুটোই প্রশংসার যোগ্য। তবে এমন উচ্চশিক্ষিত মানুষকে কেন এই ধরনের চাকরিতে আসতে হয়েছে - সেই প্রশ্নটা আমাদের ভাবা উচিত।
৪|
২০ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:৫৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
মহিলা বাস , নারী ড্রাইভার , নারী হেলপার বেশ উদ্যোগ তবে একে পিছন দিক দিয়ে কারা চালাবে সেটাই চিন্তার
বিষয় , কারণ আজকে প্রথম দিনেই এই গোলাপী বাস সার্ভিসের বেশ কিছু সমস্যার কথা সৃবাদ ভাষ্যে উঠে এসেছে।
যাহোক এই পোস্টের প্রেক্ষিতে -
একটি বিষয় শুরুতেই এই মর্মে পরিষ্কার করে নিচ্ছি যে কোনো সৎ ও বৈধ কাজকে ছোট করে বলছিনা কোনমতেই,
এই পোস্টে থাকা নারী ড্রাইভার সহ সকলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই যথাযোগ্য সন্মান দিয়েই বলছি প্রত্যেক কাজেরই
সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য আছে। সমস্যাটি কাজের মর্যাদায় নয়; বরং একজন ব্যক্তির অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও
সম্ভাবনার তুলনায় যদি তার কর্মক্ষেত্র দীর্ঘমেয়াদে অনেক নিচু মাত্রার হয় এবং তার দক্ষতা ব্যবহারের সুযোগ না
থাকে, তখন যে কাঠামোগত সমস্যার সৃষ্টি হয়, সেটিই চিন্তার বিষয় ।
একটি দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী সেই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ।একটি সমাজে যদি উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী
তরুণদের উল্লেখযোগ্য অংশকে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও প্রত্যাশার তুলনায় বেশ নিচু শিক্ষাগত
যোগ্যতার কাজ বা চাকরিতে প্রবেশ করতে হয়, তাহলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত কসমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না।
এর সঙ্গে দেশের শ্রমবাজার, অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা, সামাজিক মর্যাদাবোধ, শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা,
মেধার সঠিক ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার সিদ্ধান্ত সবকিছুই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।
অবশ্য এর সম্ভাব্য ইতিবাচক আনেক প্রভাবো রয়েছে যথা বেকারত্বের পরিবর্তে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় ।
উচ্চশিক্ষিত তরুণরা যদি তাদের কাঙ্ক্ষিত পেশা না পেলেও কোনো বৈধ ও সম্মানজনক কাজে প্রবেশ করেন, তাহলে
অন্তত সম্পূর্ণ বেকার থাকার ঝুঁকি কমে। তারা আয় করতে পারেন, পরিবারকে সহায়তা করতে পারেন এবং কর্ম
জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা মূলত তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান করলেও কর্মক্ষেত্র মানুষকে বাস্তব জীবনের সমস্যা মোকাবিলা
করতে শেখায়। ফলে একজন উচ্চশিক্ষিত তরুণ তুলনামূলক কম দক্ষতার কোনো কাজে যুক্ত হলেও সময়
ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ, দলগত কাজ, গ্রাহকসেবা, দায়িত্বশীলতা এবং বাস্তব সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো দক্ষতা
অর্জন করতে পারেন। দেখা যাচ্ছে দেশে কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা থাকায় অনেক তরুণকে চাকরির পরিবর্তে
উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে এটাকে একটি ভাল দিক হিসাবেও দেখা যেতে পারে । অর্থাৎ কর্মসংস্থানের
সংকট কখনো কখনো সৃজনশীল বিকল্প তৈরির প্রেরণাও দিতে পারে।
উচ্চশিক্ষিত একজন ব্যক্তি যখন বিভিন্ন ধরনের কাজের বাস্তবতা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, তখন তিনি বুঝতে
পারেন যে শ্রমের মর্যাদা শিক্ষাগত সনদের ওপর নির্ভর করে না। এতে 'শুধু অফিসের চাকরিই সম্মানজনক' এ ধরনের
সামাজিক ধারণা কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
ইতিবাচক দিক থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠী যদি ব্যাপকভাবে তাদের যোগ্যতার তুলনায় অনেক নিচু
স্তরের কাজে আটকে যায়, তাহলে এর প্রভাব ব্যক্তি থেকে শুরু করে পুরো রাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। মেধা ও
মানবসম্পদের অপচয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক প্রভাবগুলোর একটি।
আবার তরুণরা যদি দেখতে পান যে বহু বছর পড়াশোনা করেও তাদের জন্য উপযুক্ত পেশাগত সুযোগ তৈরি হচ্ছে
না, তাহলে সমাজে একটি প্রশ্ন তৈরি হতে পারে এত পড়াশোনা করে লাভ কী? এই মানসিকতা ধীরে ধীরে উচ্চ
শিক্ষার সামাজিক মূল্যকে দুর্বল করতে পারে। পরিবারগুলোও ভবিষ্যতে সন্তানকে দীর্ঘমেয়াদি উচ্চশিক্ষায়
বিনিয়োগ করার ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত হতে পারে।'সনদ আছে, কাজ নেই' সংস্কৃতি তৈরি হতে পারে।
শুধু ডিগ্রি অর্জন করলেই যে কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে এমন ধারণা যদি বাস্তবতার সঙ্গে বারবার সাংঘর্ষিক হয়,
তাহলে একদিকে শিক্ষিত বেকারত্ব এবং অন্যদিকে নিম্নমানের কর্মসংস্থান দুটিই বাড়তে পারে।এতে সমাজে
একটি বিপজ্জনক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হতে পারে ।
শিক্ষা সাধারণত মানুষের প্রত্যাশা বাড়ায়। একজন উচ্চশিক্ষিত তরুণ নিজের জন্য একটি নির্দিষ্ট পেশাগত ভবিষ্যৎ
কল্পনা করেন। বাস্তবে যদি তাকে দীর্ঘদিন এমন কাজে থাকতে হয় যেখানে তার শিক্ষা ও দক্ষতার কোনো মূল্যায়ন
নেই, তাহলে হতাশা, আত্মবিশ্বাসের সংকট এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।এক পর্যায়ে এই
ব্যক্তিগত হতাশা বৃহত্তর সামাজিক অসন্তোষেও রূপ নিতে পারে, কোমল মতিরা হয়ত বা বিগত জুলই মাসের
মত আবার এক দফার দাবীতে রাস্তায় নামতে পারে । তখন তাকে কী সেই আগের মত করে্ই ঠেকাবে !!!
তাই এই সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রথমত, কোন খাতে ভবিষ্যতে কত ধরনের দক্ষ জনবল প্রয়োজন হবে তার ভিত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে
workforce planning করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক বাড়াতে হবে, যাতে শিক্ষাক্রম বাস্তব কর্মক্ষেত্রের
প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
তৃতীয়ত, internship, apprenticeship এবং industry-linked training-এর সুযোগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি
করা প্রয়োজন।
চতুর্থত, তরুণদের শুধু সরকারি বা প্রচলিত চাকরির দিকে না ঠেলে উদ্যোক্তা, গবেষণা, প্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও
নতুন অর্থনীতির ক্ষেত্রেও সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
পঞ্চমত, উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ করে
তুলতে হবে।দেশের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন তার মানুষের শিক্ষা, দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে
একটি কার্যকর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।
উচ্চশিক্ষিত তরুণ কোনো অপেক্ষাকৃত কম দক্ষতার কাজে কাজ করছেন এটিকে এককভাবে ব্যর্থতা বলা ঠিক হবে
না। কারণ কোনো সৎ কাজই অসম্মানজনক নয় এবং কর্মজীবনের শুরুতে সাময়িকভাবে যোগ্যতার নিচের কাজ
করাও স্বাভাবিক হতে পারে।
একটি সুস্থ অর্থনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু প্রত্যেক তরুণের একটি চাকরি আছে নিশ্চিত করা নয়; বরং এমন
ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে প্রত্যেক তরুণ তার শিক্ষা, দক্ষতা, মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোত্তম ব্যবহার করার সুযোগ
পায়।কারণ শিক্ষিত তরুণের কর্মসংস্থান শুধু একজন ব্যক্তির জীবিকার বিষয় নয়; তার সঙ্গে একটি দেশের
উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়ন সরাসরি জড়িত।
সুতরাং জাতীয় উন্নয়নের মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত আমরা কতজনকে শিক্ষিত করেছি? এর পাশাপাশি আমরা তাদের
শিক্ষাকে কতটা উৎপাদনশীল কাজে রূপান্তর করতে পেরেছি?এই দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরই শেষ পর্যন্ত আমাদের
দেশের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রকৃত সফলতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হয়ে উঠবে ।
পোস্টের সুবাদে এ বিষয়ে কিছু আলোচনা করার সুযোগ তৈরী করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল
৫|
২০ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:২৪
আহমেদ জী এস বলেছেন: সৈয়দ কুতুব,
এটাই বাস্তব ----
রাবেয়ার গল্পটা যতটা না ব্যক্তিগত সাফল্যের, তার চেয়ে বেশি একটা সিস্টেমের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। যেখানে উচ্চশিক্ষিত তরুণ তরুণীদের নিম্নপদের চাকরিতে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে, সেখানে প্রশ্ন তোলা উচিত শিক্ষাব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান নীতির দিকে।
৬|
২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:০২
মিরোরডডল বলেছেন:
বাংলাদেশে ড্রাইভ করাটাই একটা সাহসের কাজ, যেহেতু সেখানে রোড রুলস মেইনটেইন হয়না, যে যার মতো চালায়, আর সেখানে প্যাসেঞ্জার বাস চালানো অবশ্যই সাহসের বিষয়।
বেকার থাকার চেয়ে একটা মেয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট হয়ে কাজ করছে, ফ্যামিলি সাপোর্ট করছে, মেইনলি, বাস চালাচ্ছে তাই তাকে সাধুবাদ এবং শুভকামনা।
আমি বলবো না মাস্টার্স পাস করে কেনো এই কাজ করছে, কারণ বাংলাদেশে প্রতি বছর লক্ষ ছেলেমেয়ে এরকম মাস্টার্স করে বেকার থাকে। অন ডিম্যান্ড সাবজেক্ট নিয়ে ভালো ইনস্টিটিউট থেকে পাস করলে জব হয়, তা না হলে প্রাথমিকভাবে বেকার থাকে, তারচেয়ে ভালো টেকনিক্যাল কাজ শিখে স্বাধীনভাবে উপার্জন করা। It's nothing wrong.
প্রশ্ন হচ্ছে এই রাবেয়া কি মেয়েদের বাসের ড্রাইভার না হয়ে নরমাল পাবলিক বাসের ড্রাইভার হতে পারতো?
the answer is no, because of insecurity.
পিঙ্ক বাসের প্রয়োজন হলো কেনো?
Again, the answer is insecurity.
তারেক কে বলবো, চান্দু, তুমি জোড়াতালি দিয়ে টেম্পরারি সলিউশনের চেষ্টা না করে আসল সমস্যা কে ফোকাস করো।
Is this what you learned about development after living in a developed country for seventeen years?
Have you ever seen separate buses for women for security reasons?
আমাদের দেশের পাবলিক ট্রান্সপোর্টে মেয়েরা সেক্সচুয়ালি এবিউজ হয়, রেইপ হয়।
তাদের সেফটির জন্য আলাদা বাস কি সল্যুশন!!!
মেয়েদের নিরাপত্তা দেয়া মানে আলাদা করে ফেলা না, এটা করে স্টাব্লিশ করছে পুরুষরা নারীদের জন্য সেইফ না।
সকল পুরুষের জন্য অপমানজনক। কিন্তু সব পুরুষ একরকম না।
বিকলাঙ্গ আইনকে সচল করতে হবে, যেসকল পুরুষ এই অপকর্ম করে, সেই কুলাঙ্গারগুলোকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে যাতে অন্যরা সতর্ক হয়।
মেয়েদের জন্য আলাদা বাস করে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া ডেভেলপমেন্ট না, বৈষম্য।
উন্নয়নের নামে আমরা রাস্তায় কোন পিঙ্ক বাস দেখতে চাই না।
দেখতে চাই দেশের মানুষ প্রপার শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছে, অসভ্য বর্বরগুলো সভ্য হয়েছে।
দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দেখতে চাই।
নারীদের সেক্স টয় আর ভিনগ্রহের এলিয়েন না ভেবে মানুষ ভাববে এবং তাদের প্রতি রেস্পেক্টফুল হবে।
আইনের সুশাসন চাই, নারী পুরুষ সবার নিরাপত্তা চাই।
নারী শুধুই নারীদের বাস চালক হবে না, প্রয়োজনে সে যেন নিরাপত্তার সাথে যেকোন যেকোন বাস উবার চালাতে পারে।
পাবলিক ট্রান্সপোর্ট হবে সবার, যেখানে নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধ সবাই একসাথে নিশ্চিন্তে ট্র্যাভেল করতে পারে।
সেদিন বুঝবো দেশের উন্নয়ন হয়েছে।
৭|
২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৫
মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: @মিরোরডডলঃ
**যারা ৯২% মুসলমানের দেশে.............এই কথাগুলো বলে আলোচনা শুরু করে মূলতঃ তাদের জন্যঃ
মুসলিম নারীর অধঃপতনের জন্য ঘরের শত্রু, মুসলিম পুরুষরাই দায়ী।
/কারণ মুসলিম পুরুষরা অক্ষম। সে তার নিজের উপার্জনে, না তার বউয়ের ভরণপোষণ দিতে পারে, না একটা বাচ্চা জন্ম দেয়ার সাহস করতে পারে।
/এক হাতে তালি বাজে না অথচ অপকর্ম সম্মিলিতভাবে করলেও মুসলিম নারী হয়ে যায় পতিতা কিন্তু মুসলিম পুরুষ পতিত হয় না।
/মুসলিম পুরুষ মানসিকভাবে দুর্বল। শূন্য আত্ম-বিশ্বাসের অধিকারী। শুধুমাত্র মেয়েদের মুখমণ্ডল দেখেই নিজেকে সে খুব ভালনারেবল ফিল করে, সে নিজের দৃষ্টিকে সামলাতে পারে না। তাই সে মনে প্রাণে চায় মেয়েদের আপাদমস্তক বস্তা বন্দী করে রাখতে।
অথচ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে একজন পুরুষেরও যে দৃষ্টি সামলে চলতে হয় সেদিকে তার কোন খেয়াল নেই। এ নিয়ে কোন আলোচনাও নেই। সে কেবল একতরফা নারীর হিজাব নেকাব নিয়ে বিস্তর গবেষণা করে। জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করে।
/চাকরির বাজারে প্রবেশের মাধ্যমেই হোক আর আর লাক্স সুন্দরী হিসেবে গ্রুমিং এর মাধ্যমেই হোক নারীদেরকে ভোগ্য পণ্যে রূপান্তরিত করার উদ্যোক্তা কারা? ভোক্তা শ্রেণী কারা?
/পাবলিক ট্রান্সপোর্টে বা অফিসে সেক্সুয়াল হারাসমেন্ট কারা করে? সুযোগটা কারা নেয়?
/এত জ্ঞানী গুণী ঈমানদার মুসলিম পুরুষদের তো কখনো বলতে শুনলাম না যে,
-যে রাষ্ট্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সেই দেশে পতিতাবৃত্তি আইনগতভাবে স্বীকৃত পেশা কিভাবে হতে পারে?
-রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে মদ উৎপাদনের কারখানা কিভাবে থাকতে পারে? গনমানুষের ব্যাপক চাহিদার চিনি নামক বস্তুটির উৎপাদনের জন্য চিনি পাওয়া যায়না কিন্তু মদ তৈরির জন্য চিনির অভাব হয় না। এখানেই শেষ নয়। দেদারসে এলাকাগুলোতে বার চালু হচ্ছে। উপরন্তু, সেখানে পুরুষদের মনোরঞ্জনের জন্য স্বল্প বসনা পরিহিত নারীদের নৃত্য-গীতের ব্যবস্থাও আছে।
/নারী ধর্ষণ বা নারীকে গণধর্ষণ কে করে? (হাশরের মধ্যে ময়দানে, এ বলে কিন্তু পার পাওয়া যাবে না যে, "নারী ছিল স্বল্প বসনা, তাই উহাকে দর্শন মাত্রই ধর্ষণ করিয়া ফেলিয়াছি"
।
/এ যুগে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে যখন রিলেশনে যায় তখন,
-শরীরি প্রেমের ব্যাপারে চাপ প্রয়োগটা প্রথম কে করে?
-কে এই কমন ডায়লগ কারা দেয় যে, "তুমি যদি ফিজিক্যাল না হও তাহলে তুমি আসলে রিলেশনশিপের ব্যাপারে কমিটেড না"?
-তারপর আবার একশতভাগ সুখানুভূতি ও নিরাপত্তা সে নিশ্চিত করতে চায়, তার পার্টনারকে ইমারজেন্সি কন্ট্রাসেপটিভ পিল খাওয়ানোর মাধ্যমে। অথচ শিক্ষিত সবাই জানে যে, যথেচ্ছ ইমার্জেন্সি কন্ট্রাসেপটিভ ব্যবহারে ভবিষ্যৎ সন্তান ধারনে নারীর সমস্যা কি হতে পারে।
/নারীদেরকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে পুরুষ কর্তৃক ভোগ করার চাহিদা বা এইরুপ মানসিকতা বজায় রেখে আবার নারীদেরই দোষারোপ করাটা কি ডাবলস্টান্ডার্ড এর মধ্যে পড়ে না?
/আর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে বোনদের অংশ বুঝিয়ে দেয়ার সময় আসলে ভাইদের (মুসলিম পুরুষদের) ঈমানী জোশ কোথায় যেন হাওয়া হয়ে যায়।
/মুসলমান পুরুষদের, এ সকল অপকর্ম স্বীকার করার সৎ সাহসও নেই, এমনই নামধারী মুসলমান এরা।
মুসলিম নামধারী এই সকল ঘরের শত্রু শুধরে গেলেই সব সমস্যার সমাধান।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৩
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন।
...........................................................................................
অবশ্যই তিনি সম্মানিত, তবে জাতির জন্য দু:খজনক বার্তা এই পেশার
জন্য নির্ধারিত যোগ্যতার মূল্যায়ন হলোনা । তিনি আরও উচ্চ পেশার
যোগ্যতা রাখেন , দেশে যদি সঠিক কাজে সঠিক মূল্যায়ন না হয়, তবে
মেধা পাচার হবে এবং দেশ কখনোই সঠিক ট্রাকে উঠার যোগ্যতা পাবেনা ।