| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য
যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে গলা কাঁপিয়ে বলছেন- সুইডেনের ৭২ শতাংশ মানুষ নাকি নিজের বাবার পরিচয়ই জানে না! ব্রাজিল-জার্মানিতে নাকি সবাই "ফ্রি সেক্স" করে বেড়ায়!
সংখ্যাটা কোথা থেকে এলো? কেউ জানে না। কেউ জিজ্ঞেসও করল না।
সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্যটা হলো- এই আজগুবি, ভিত্তিহীন কথাগুলো যখন অবলীলায়, পুরো আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলা হচ্ছে, সামনে বসে থাকা এক ঝাঁক তরুণ তখন করতালিতে ফেটে পড়ছে।
যে বলছে, সে ছাত্র। যারা তালি দিচ্ছে, তারাও ছাত্র।
আর এখানেই আসল সমস্যা- সমস্যাটা ভুল তথ্যের নয়। ভুল মানুষ বলতেই পারে, অজ্ঞতা থেকে ভুল হতেই পারে। আসল ভয়ংকর ব্যাপারটা হলো- নিজের অজ্ঞতাকে সত্যের সিংহাসনে বসিয়ে দেওয়া।
নিজের যুক্তির সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই, অথচ সারা পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ কীভাবে জীবনযাপন করবে, কোন সমাজ ভালো, কোন সংস্কৃতি খারাপ, তার চূড়ান্ত সার্টিফিকেট দেওয়ার ইজারা যেন এদেরই হাতে!
আর সবচেয়ে বড় কৌতুকটা তো এখনো বাকি।
এদেরই কেউ কেউ একদিন স্কলারশিপ নিয়ে ঠিকই আমেরিকা-জার্মানি-ইউরোপে পাড়ি জমাবে। সেখানে পড়বে, চাকরি করবে, নাগরিকত্বের জন্য দিনরাত এক করবে। নিজে না পারলেও অন্তত সন্তানেরা যেন "ওখানে" বড় হতে পারে, সেই স্বপ্নে বিদেশ-বিভুঁইয়ে বসেই দুই-তিনটা বাচ্চাও নিয়ে নেবে।
তারপর ফেসবুকে বসে লিখবে-
"আমেরিকা-জার্মানি সব নষ্ট হয়ে গেছে। ভালো শুধু বাংলাদেশ।"
সঙ্গে যোগ করবে, দেশে শরিয়া আইন চালু হলে ভালো হতো, ছেলেমেয়েকে সাধারণ স্কুলের বদলে মাদ্রাসায় দেওয়া উচিত!
তারপর সামারের ছুটিতে দেশে আসবে। দুই সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই শুরু হবে আসল সুর-
বাতাস খারাপ।
পানি খারাপ।
বাচ্চা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।
ট্রাফিকে বসে থাকা যায় না।
"সিস্টেম" নাকি পুরোটাই নষ্ট!
তারপর দ্রুত টিকিট কেটে এয়ারপোর্টে বসে গাজার কোনো হৃদয়বিদারক ছবি শেয়ার করবে, ক্যাপশনে লিখবে, "মানবতা আজ কোথায়?"
এই বৈপরীত্যটাই বোধহয় আমাদের সময়ের সবচেয়ে হাস্যকর, সবচেয়ে বিপজ্জনক বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতারণা।
একদিকে যে সমাজের স্বাধীনতা, শিক্ষা, সুযোগ-সুবিধা নিজের জীবনের জন্য অপরিহার্য, অন্যদিকে সেই একই সমাজকে প্রতিনিয়ত নৈতিকভাবে "অধঃপতিত" বলে গাল দেওয়া। যে জ্ঞানব্যবস্থার সিঁড়ি বেয়ে পৃথিবীকে চেনার সুযোগ মিলছে, সেই জ্ঞানব্যবস্থাকেই আবার অস্বীকার করা।
সমস্যাটা বিশ্বাসে নয়। সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন বিশ্বাসকে যুক্তির বিকল্প বানিয়ে ফেলা হয়।
আর সবচেয়ে ভয়ংকর মুহূর্তট! যখন প্রশ্ন করার বদলে শুধু হাততালি বেজে ওঠে।
২|
১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪০
রানার ব্লগ বলেছেন: ওকে এইগুলাই শেখানো হয় ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:২৬
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আমাদের সময়ের সবচেয়ে হাস্যকর,
সবচেয়ে বিপজ্জনক বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতারণা।
.....................................................................
সমাজে যখন পচন ধরে, সবদিক থেকেই দুর্গন্ধ ছড়ায়,
আমরাও বর্তমানে নষ্ট সমাজের মাঝ দিয়ে যাচ্ছি,
আমি ইউরোপে দেখছিনা তো ঐ ধরনের নষ্টামি ?
তবে রেড এরিয়া এই সব সমাজে আছে তবে শহর এলাকায়, আর আছে
পারস্পরিক ভালোবাসা বা সমঝোতা হলে বিয়ে ছাড়াই একত্রে থাকা
যা বৃটিশ ইউরোপে বহু পূর্ব থেকেই প্রচলিত আছে ।