নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

হাফপ্যান্ট ফুলপ্যান্টের দেশে

০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:২৮


বাংলাদেশে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখতে ভালোবাসেন, তারা সাধারণত খুব নিরীহ বিষয় পছন্দ করেন। এর একটা কারণও আছে। বেশিরভাগ মানুষই অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চলতে চান। এমন কোনো বিষয় নিয়ে লেখা ভালো, যেটা নিয়ে দু’জন পরিচিতের সঙ্গে একটু হালকা তর্ক করা যাবে, কমেন্ট বাক্সে কিছু মজার রিয়েকশন পাওয়া যাবে, অথচ নিজের বাস্তব জীবনে যার জন্য কোনো বড় ঝামেলা পোহাতে হবে না।

তাই আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝে মাঝে এমন সব ঘটনা ‘জাতীয় ইস্যু’ হয়ে যায়, দেখে মনে হয় দেশবাসী বুঝি এতদিন ঠিক এই সমস্যাটিরই অপেক্ষায় ছিল। একটি ছোট ঘটনা ঘটল। তারপর লেখা হলো। পাল্টা লেখা হলো। ভিডিও হলো। লাইভ হলো। প্রতিবাদ হলো। আবার সেই প্রতিবাদ নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হলো। শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি যতটা না বড় ছিল, তাকে নিয়ে লেখালেখি আর হইচই তার চেয়ে শতগুণ বড় হয়ে গেল।

এই মুহূর্তে এর দুটি চমৎকার উদাহরণ হলো ‘হাফপ্যান্ট বিতর্ক’ এবং ‘তিন অবিবাহিত মেয়ের নেপাল ভ্রমণ বিতর্ক’। একজন ক্রীড়াবিদ হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গিয়ে বাধা পেলেন। ব্যস! শুরু হয়ে গেল তুমুল প্রতিবাদ, লেখালেখি আর চুলচেরা বিশ্লেষণ। এরপর শত শত মানুষ হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠে প্রতিবাদ করলেন। ছবিও উঠল। ভিডিও হলো। একপর্যায়ে মনে হলো, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ বুঝি ওই হাফপ্যান্টের দৈর্ঘ্যের ওপরই নির্ভর করছে।

অথচ ঘটনাটি পরের দিনই মোটামুটি শেষ। মেট্রোরেল চলছে। মানুষ দিব্যি অফিসে যাচ্ছে। কেউ হাফপ্যান্ট পরে উঠছে, কেউ ফুলপ্যান্ট পরে উঠছে। জীবন যথারীতি নিজের গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আরেকটি ঘটনা হলো তিনজন অবিবাহিত মেয়ের একসঙ্গে নেপাল ভ্রমণ করতে গিয়ে ইমিগ্রেশনে বাধা পাওয়ার ঘটনা। বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন, তাই এ নিয়ে বাড়তি কিছু বলা ঠিক হবে না।

কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার উন্মাদনা দেখলে মনে হয়, তিনজন মেয়ে নেপাল যেতে পারল কি না, তার ওপরই যেন বাংলাদেশের নারী স্বাধীনতা, পর্যটননীতি, ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা এবং পুরো সভ্যতার ভবিষ্যৎ আটকে আছে! এসব বিষয় নিয়ে লেখা যাবে না, তা নয়। অবশ্যই লেখা যাবে। কেউ প্রতিবাদ করবেন, কেউ মজা করবেন, কেউ বা সিরিয়াস বিশ্লেষণ করবেন। সমস্যা লেখায় নয়। সমস্যা হলো, আমরা একটা ছোট ঘটনা নিয়ে লিখতে লিখতে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাই যে মূল সংকটগুলো সেই লেখার পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে দম বন্ধ হয়ে মারা যায়।

বাংলাদেশে প্রতিদিন কত যে ঘটনা ঘটে, তার কোনো হিসাব নেই। কত মানুষ বাজারে গিয়ে জিনিসপত্রের হিসাব মেলাতে না পেরে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন, কত ছোট ব্যবসায়ী খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, কত পরিবার রান্নার গ্যাস কিনতে গিয়ে অন্য খাতের খরচ ছাঁটাই করছেন, আর কত মানুষ মাসের মাঝামাঝি এসেই বুঝতে পারছেন না পুরো মাসের বেতনটা আসলে কোথায় উবে গেল!

এসব নিয়ে অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় এত জোরালো লেখালেখি হয় না। দেখলে মনে হয়, আমাদের দেশে বুঝি আর কোনো বড় সমস্যা নেই। দেশবাসীর একমাত্র সমস্যা হলো, হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে ওঠা যাচ্ছে না এবং তিন তরুণী নেপাল যেতে পারছেন না। এই দুটি সমস্যার সমাধান হয়ে গেলেই বাকি বাংলাদেশ মোটামুটি ঠিকঠাক আছে!

অথচ এই মুহূর্তে অন্তত তিনটি বিষয় নিয়ে দেশে প্রধান আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। সরকার ১২.৫ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১,৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষকে বাধ্য হয়ে ২,০০০ টাকা বা তারও বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ পর্যন্ত দিতে হয়েছে। রান্নার গ্যাসের দাম যদি সরকারি দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা করে বেড়ে যায়, সেটি কি হাফপ্যান্টের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ?

এলপিজি কোনো বিলাসী পণ্য নয়। এটা দিয়ে মানুষ রান্না করে খায়। এর দাম বাড়লে সরাসরি পরিবারের মাসিক বাজেট ছোট হয়ে আসে। আন্তর্জাতিক বাজারে সংকট থাকতে পারে, আমদানি খরচ বাড়তে পারে। এগুলো বাস্তবতা। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের সংকটের কথা বলেই কি রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়?

Deep Sea LPG terminal নিয়ে কথা হওয়া দরকার ছিল। আমদানি ও সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে পলিসি মেকারদের মাথা ঘামানোর কথা ছিল। ভবিষ্যতে চাহিদা বাড়লে কীভাবে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা যাবে, সেটি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা ব্যস্ত রইলাম কনটেন্ট বানিয়ে লাইক কুড়াতে।

সয়াবিন তেলের বাজারে বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র আধিপত্য ও কারসাজির ইতিহাস নতুন নয়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরকারি সর্বোচ্চ খুচরা দাম বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা থেকে ২০৪ টাকা লিটার করা হলেও, বাজারের বাস্তব চিত্র ছিল অস্বস্তিকর। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ঢাকার অনেক বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছিল। কিছু দোকানে ১ লিটারের বোতলই পাওয়া যাচ্ছিল না, আবার ৫ লিটারের বোতল প্রায় ১,০২০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছিল।

একদিকে দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে সরবরাহের সংকট। এই দ্বিমুখী চাপ সামলাতে গিয়ে সাধারণ ক্রেতার নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে দাম বাড়ানোর দাবি করছে, সরকার যাচাই বাছাইয়ের কথা বলছে। কিন্তু তেলের লিটার যখন ২১৭ টাকা ছুঁইছুঁই করবে, তখন সাধারণ পরিবারের রান্নার হাঁড়ি কীভাবে চড়বে, সেই হিসাব করার ফুরসত কি আমাদের আছে?

পোলাও বা সুগন্ধি চাল এখন আর শুধু উৎসবের অনুষঙ্গ নয়। অনলাইন ফুড ব্যবসা, হোম ডেলিভারি এবং ঘরে বসে খাবার বিক্রির কারণে এটি হাজার হাজার মানুষের ব্যবসার কাঁচামাল হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে আজ হাজার হাজার নারী ঘরে বসে ফেসবুক পেজ খুলে বিরিয়ানি, পোলাও বা লাঞ্চবক্স বিক্রি করে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন। তাদের কোনো বড় শোরুম নেই, বড় মূলধন নেই, ব্যাংক ঋণ নেই। আছে শুধু একটা রান্নাঘর আর একটা ফেসবুক পেজ।

বর্তমান বাজারে ভালো মানের পোলাও চালের কেজি ২৫০ টাকা বা তারও বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতার পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন ছোট উদ্যোক্তারাও। এখন তাদের এলপিজির দাম বাড়তি দিতে হচ্ছে, তেলের চড়া দাম দিতে হচ্ছে, পোলাও চাল ও অন্যান্য উপাদানের বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে। রান্নার প্রতিটি উপকরণের দাম একটু একটু করে বাড়তে বাড়তে শেষ পর্যন্ত পুরো ব্যবসাটাই ব্যয়বহুল হয়ে যাচ্ছে।

ক্রেতা যখন দাম কমাতে বলেন, তখন তারা বিপাকে পড়েন। আবার দাম বাড়ালে ক্রেতা মুখ ফিরিয়ে নেন। এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যখন বাজারের বাড়তি খরচের চাপে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন, তখন অর্থনীতিতে একটি নীরব ধাক্কা লাগে। একজনের রান্নাঘর বন্ধ হয়, একজনের আয় বন্ধ হয়, একজনের হয়তো আরও দুজনকে কাজ দেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়। কিন্তু এ নিয়ে আমাদের কোনো হেলদোল নেই।

সরকার এখনো নতুন। স্বাভাবিকভাবেই তাদের সামনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কিন্তু জনগণ তো শুধু নতুন মুখ দেখার জন্য সরকার বদলায় না। মানুষ নিজের জীবনে শান্তি ও স্বস্তি দেখতে চায়। বাজারে, চাকরির বাজারে, ব্যবসার পরিসরে এবং সবচেয়ে বেশি নিজের পকেটের স্থিতিশীলতায়।

অথচ সরকারের ওপর জনগণের সঠিক ও কার্যকর চাপ তৈরি হয় না। কারণ, আমরা ভুল জায়গায় শক্তি ক্ষয় করছি। একজন গৃহিণী যদি প্রতিদিন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, “আজ আবারও এলপিজি কিনতে অতিরিক্ত ৪০০ টাকা বেশি লেগেছে”, সেটি একটা ডেটা। একজন ছোট উদ্যোক্তা যদি লেখেন, “কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আজ আমার রান্নাঘরের চুলা বন্ধ রাখতে হলো”, সেটি বাজারের নিখাদ সত্য

কিন্তু আমরা এসব লিখি না। আমরা লিপ্ত থাকি চটকদার বিতর্কে। আমরা বাহাস করি কার প্যান্টের দৈর্ঘ্য কতটুকু হওয়া উচিত আর কার বিদেশযাত্রার ছাড়পত্র মিলল তা নিয়ে। ফলে যে সমস্যাগুলো প্রতিদিন মানুষের সংসারে ঢুকছে, সেগুলো নিয়ে সামাজিক চাপ তৈরি হওয়ার সুযোগও কমে যাচ্ছে।

জনগণ যতদিন গ্যাস, তেল আর চালের বাড়তি দামের চেয়ে অন্যের হাফপ্যান্টের মাপ নিয়ে বেশি উত্তেজিত থাকবে, ততদিন বাজারের শক্তিশালী খেলোয়াড়দের খুব বেশি দুশ্চিন্তা করার কারণ থাকবে না। কারণ বাজারের দাম কমানোর জন্য শুধু একজন ক্রেতার ক্ষোভ যথেষ্ট নয়। দরকার সেই ক্ষোভের দৃশ্যমানতা, ধারাবাহিকতা এবং জনপরিসরে আলোচনা।

হাফপ্যান্টের বিতর্ক একদিন শেষ হয়ে যাবে। নেপাল ভ্রমণের বিতর্কও একদিন শেষ হবে। কিন্তু এলপিজি, সয়াবিন তেল আর চালের বাড়তি দাম পরদিন সকালে আবার বাজারে হাজির হবে। বাস্তব জীবন ফেসবুকের ট্রেন্ডিং টপিকে থাকে না। বাস্তব জীবন থাকে বাজারের ব্যাগে, রান্নাঘরে আর মাসের শেষ সপ্তাহের হিসাবের খাতায়।






মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




লেখাটি পড়তে গিয়ে মনে হলো, এটি মূলত হাফপ্যান্ট বা নেপাল ভ্রমণের বিতর্ক নিয়ে লেখা নয়; বরং আমরা
একটি সমাজ হিসেবে কোন বিষয়কে কতটা গুরুত্ব দিই এবং কেন দিই সেই প্রশ্নটি সামনে আনার চেষ্টা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বভাবই এমন যে, তুলনামূলকভাবে দৃশ্যমান, সহজে বোঝানো যায় এবং আবেগ তৈরি
করতে পারে এমন বিষয় দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফলে একটি পোশাক, একটি ভ্রমণ, একটি মন্তব্য কিংবা
একটি ছোট ঘটনাও কখনো কখনো ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিতে পারে। লেখাটি যথার্থভাবেই দেখিয়েছে, সেই
আলোচনার পরিমাণ সবসময় সমস্যাটির সামাজিক বা অর্থনৈতিক গুরুত্বের সমান হয় না।

তবে এখানে একটি ভারসাম্যের কথাও মনে রাখা দরকার। হাফপ্যান্ট পরে গণপরিবহনে ওঠার অধিকার, নারীর
স্বাধীনভাবে ভ্রমণের সুযোগ কিংবা ইমিগ্রেশনে নাগরিকের সঙ্গে আচরণ এসবও একেবারে তুচ্ছ বিষয় নয়। ব্যক্তি
স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। একইভাবে বাজারদর, জ্বালানি, ভোজ্যতেল,
চাল এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যয়বৃদ্ধিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যাটি তাই একটি বিষয়কে বাদ দিয়ে আরেকটি বিষয়
বেছে নেওয়া নয়; বরং সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তাদের প্রকৃত গুরুত্ব অনুযায়ী আলোচনায় রাখার সক্ষমতা তৈরি করা।

এই জায়গাটিতেই লেখাটির বক্তব্য আমার কাছে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ডিং বিষয়
আর জনজীবনের দীর্ঘমেয়াদি সংকট এক জিনিস নয়। একটি বিষয় একদিন প্রবল উত্তেজনা তৈরি করে পরদিন
হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু বাজারদর, জ্বালানি ব্যয় বা ছোট ব্যবসার সংকট প্রতিদিন মানুষের জীবনে ফিরে আসে।
তাই ক্ষণস্থায়ী আলোচনার পাশাপাশি এসব ধারাবাহিক সমস্যার তথ্য, অভিজ্ঞতা ও নীতিগত কারণ নিয়েও জন
পরিসরে আলোচনা হওয়া দরকার।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রসঙ্গটি গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষের ছোট্ট ঘরোয়া ব্যবসা হয়তো জাতীয় অর্থনীতির
পরিসংখ্যানে খুব বড় সংখ্যা হিসেবে দেখা যায় না, কিন্তু সেই ব্যবসাটিই তার পরিবারের আয়, কখনো অন্য কারও
কর্মসংস্থান এবং তার নিজের আত্মনির্ভরতার ভিত্তি। কাঁচামাল, গ্যাস, তেল ও পরিবহন ব্যয়ের সম্মিলিত চাপ সেই
ছোট অর্থনৈতিক কাঠামোটিকে নড়বড়ে করে দিতে পারে। এই ক্ষুদ্র বাস্তবতাগুলোই বৃহত্তর অর্থনীতির মানবিক
চেহারা তৈরি করে।

লেখাটির আরেকটি ভালো দিক হলো, আপনি শুধু সাধারণ মানুষের মনোযোগের সমালোচনা করেননি; বরং বলেছেন
নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতাও জনআলোচনার উপাদান হতে পারে। একজন গৃহিণীর বাড়তি গ্যাসের খরচ, একজন
উদ্যোক্তার বাড়তি কাঁচামাল ব্যয় কিংবা একজন ক্রেতার বাজারের অভিজ্ঞতা এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; সঠিকভাবে
নথিবদ্ধ ও যাচাই করা গেলে এগুলো বৃহত্তর বাজারচিত্র বোঝার উপকরণ হতে পারে।

তবে হাফপ্যান্টের চেয়ে এলপিজি বেশি গুরুত্বপূর্ণ এ ধরনের তুলনা মূল বক্তব্যকে তীক্ষ্ণ করলেও বাস্তবে দুটি
বিষয়কে একই দাঁড়িপাল্লায় মাপা সম্ভব নয়। একটি নাগরিক অধিকার বা সামাজিক আচরণের প্রশ্ন, অন্যটি
অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রশ্ন। বরং বলা যায়, একটি সুস্থ জনপরিসরে দুটিই আলোচিত হওয়ার জায়গা
পাবে, তবে কোনো একটি ক্ষণস্থায়ী বিতর্ক যেন মানুষের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোকে আড়াল করে
না ফেলে।

শেষ পর্যন্ত লেখাটি আমাকে যে প্রশ্নটির সামনে দাঁড় করিয়েছে তা হলো আমরা কি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে '
কথা বলার সময় দিই, নাকি যেটি সবচেয়ে সহজে উত্তেজনা তৈরি করে সেটিকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করি?

হয়তো সমাধান সোশ্যাল মিডিয়া ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং আমাদের আলোচনার পরিধি একটু বড় করা। হাফপ্যান্ট
নিয়ে আলোচনা থাকুক, নেপাল ভ্রমণ নিয়েও আলোচনা হোক; পাশাপাশি রান্নাঘরের হিসাব, বাজারের ব্যাগ, ছোট
ব্যবসার টিকে থাকা এবং সাধারণ মানুষের মাসের শেষ সপ্তাহের আর্থিক বাস্তবতাও যেন আলোচনার কেন্দ্র থেকে
হারিয়ে না যায়।

কারণ একটি সমাজের প্রকৃত চিত্র শুধু তার ট্রেন্ডিং পোস্টে দেখা যায় না; অনেক বেশি দেখা যায় তার মানুষের
বাজারের তালিকায়, মাসের হিসাবের খাতায় এবং আগামীকাল নিয়ে তাদের উদ্বেগে।

এই দিক থেকে লেখাটি নিছক কোনো চলতি বিতর্কের সমালোচনা নয়; বরং আমাদের সামাজিক মনোযোগ কোথায়
ব্যয় করছি সে বিষয়ে একটি প্রাসঙ্গিক আত্মসমালোচনার আহ্বান।
শুভেচ্ছা রইল

০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সবার আগে জ্বালানী নিরাপত্তা এরপর বাদ বাকি সব ।

২| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০৭

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মূলত হাফপ্যান্ট বিতর্ক বা নেপাল ভ্রমণের তিন তরুণীর ভ্রমন বিতর্ক
................................................................................................
সামাজিক প্রেক্ষাপটের সমসাময়িক তুচ্ছ ঘটনা , কিন্ত কিছু প্রশ্ন রেখে যায় ।
আমরা কি আধুনিক সমাজে বাস করব নাকি গুহা যুগে ফিরে যাব ।
বা কিছু লোকজন এ ধরনের আচরন করছে কেন ?

আবার সাধারণ মানুষের গভীরতম সমস্যা, অস্হির অর্থনীতি ,
গ্যাসের দাম ও সরবরাহ অস্হিরতা
বিদ্যুৎ,র দাম ও সরবরাহ অস্হিরতা
দৈনিক বাজারের দাম ও সরবরাহ অস্হিরতা

প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার প্রদান
এসবের চাপ সরকার কিভাবে সমাধন করবে ? না হলে এমনতর
উদ্ভট সব আচরন আমরা দেখতে পাবো ।

০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সরকার হাওয়া হাওয়ায় দিন পার করছে ।

৩| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২২

কলাবাগান১ বলেছেন: আজকাল সবাই এআই ইউজ করে মন্তব্য করছে (প্রতিস্ঠিত নামী ব্লগার রাও)। আমি খুবই খুদ্র ব্লগার, আমি এআই ইউজ করে মন্তব্য করলাম
"লেখাটা খুব জরুরি একটা অস্বস্তি ধরেছে। হাফপ্যান্ট আর নেপাল ভ্রমণের বিতর্ক আসলে ‘নিরাপদ রাগ’—এতে লাইকও আসে, পরিচিতদের সঙ্গে হালকা তর্কও হয়, অথচ নিজের রান্নাঘরের হিসাব খাতায় কোনো ঝুঁকি থাকে না। আর গ্যাস, তেল আর চালের দাম সেই হিসাব খাতায় প্রতিদিন নতুন করে নাম লেখে।

আপনার কথাটা আরও তীক্ষ্ণ এই জন্য যে, আপনি শুধু ‘আমরা ভুল বিষয় নিয়ে ব্যস্ত’ বলছেন না। আপনি দেখাচ্ছেন, এই ব্যস্ততা বাজারের শক্তিশালী খেলোয়াড়দের জন্য কতটা সুবিধাজনক। একজন গৃহিণী বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার নীরব ক্ষোভ যতক্ষণ ফেসবুকের ট্রেন্ডে না ওঠে, ততক্ষণ সে ক্ষোভ রাজনৈতিক চাপ হয়ে ওঠে না। ফলে রাষ্ট্র ও সিন্ডিকেট দুই পক্ষই জানে—জনগণের রাগ আজ অন্য জায়গায় ব্যয় হচ্ছে।

তবে একটা সূক্ষ্ম প্রশ্ন থেকে যায়। ছোট ঘটনা কি সবসময় অর্থহীন? কখনো কখনো পোশাক বা চলাফেরার ওপর নিয়ন্ত্রণ বড় ক্ষমতার ছোট নমুনা হয়ে দেখা দেয়। সমস্যা হয় যখন সেই নমুনা পুরো বাস্তবতাকে গ্রাস করে ফেলে। অর্থনৈতিক সংকটকে ‘নীরস’ মনে হয় বলে আমরা তাকে এড়িয়ে চলি; আর নৈতিক-সাংস্কৃতিক বিতর্ককে ‘জরুরি’ মনে হয় বলে তাকে ফুলিয়ে-ফাপিয়ে তুলি। এই পছন্দটাই আমাদের দুর্বলতা।

যতদিন বাজারের দাম নিয়ে লেখা হবে ‘অভিযোগ’, আর প্যান্টের মাপ নিয়ে লেখা হবে ‘আন্দোলন’, ততদিন বাস্তব জীবন ফেসবুকের নিচে চাপা পড়ে থাকবে। আপনার পোস্ট সেই চাপা পড়া জীবনকে আবার সামনে তুলে ধরেছে—এটাই এর আসল মূল্য।"

এই সমস্ত মন্তব্যের কানাকড়ি এর মূল্য নাই

০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এআই এখন সবার কাজ সহজ করে দিয়েছে ।

৪| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

শ্রাবণধারা বলেছেন: তিন মেয়েকে ইমিগ্রেশনে আটকে দেওয়াটা খুব বড় একটা ইস্যু।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, এলপিজি গ্যাস, সয়াবিন তেলের দাম বাড়াটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ঘটনা হলো, ইসলামপন্থিরা যখন ক্ষমতার কেন্দ্রে, তখন ওই হাফপ্যান্ট আর নারী ইস্যুই বড় হয়ে যায়। কেননা অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সমস্যার চেয়েও মনের স্বাধীনতার প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা যায়।

ভারতে দেখবেন, তাদের সকল আন্দোলন, আলোচনা অর্থনীতি, বেকারত্ব - এসব নিয়ে। আফগানিস্তান, পাকিস্তানের জঙ্গি রাষ্ট্রের সমস্যা, নারী স্বাধীনতা, ধর্ম এইসব। না খেয়ে মরে গেলেও আফগান, পাকিরা এইসব নিয়েই থাকবে।

০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: তিন মেয়েকে ইমিগ্রেশনে আটকে দেওয়াটা খুব বড় একটা ইস্যু।

এখানে আরো ঘটনা রয়েছে। মেয়েদের বয়ান মিডিয়াতে শুনতে পারলে ভালো হতো ।

৫| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৭

কামাল১৮ বলেছেন: পড়লাম।

০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৪৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আশা করি ভালো আছেন ।

৬| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫৯

রাজীব নুর বলেছেন: কেউ না খেয়ে থাকলে- খাবার দেয় না।
টাকার অভাবে চিকিতসা না করাতে পারলে, কেউ সহযোগিতা করে না।
একজন দরিদ্র পিতা, তার সন্তানদের টাকার অভাবে লেখাপড়া করাতে পারে না। কেউ এসে সেই খোজ নেয় না।

অথচ হাফ প্যান্ট পড়লে হাউকাউ লেগে যায়। বেশির ভাগ মানুষই অজাকের কাজি।

০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৪৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার মন্তব্য পড়ে হুমায়ন আজাদের কথা মনে পড়ে গেলো।

৭| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

অর্ক বলেছেন: দীর্ঘ বিচারিক প্রকৃয়ায় আদালতে দূর্নীতির দায়ে দণ্ডিত। যার বিরুদ্ধে এফবিআই তদন্ত করে বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়েছে। ১৭ বছর ধরে পলাতক আসামি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড। যার বিরুদ্ধে হাজারো দূর্নীতির ডিটেইল দালিলিক তথ্য, প্রমাণ আছে। বিভিন্ন সময় **** সাথে মিটিংয়ের সিসিটিভি ফুটেজ আছে। তার ওপর ভরসা করে আছেন দেশ উদ্ধারে। ভাই, আপনি ময়লা একটা লুঙ্গি পরে খালি গায়ে গুলিস্তানের গোলাপ শাহর মাজারে পাছা দোলায় দোলায় সেই একটা ডান্স দেন। দেশ উদ্ধার হবে। কোনও ইস্যুই আর থাকবে না। সব ফকফকা হবে।

০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: কারো উপর ভরসা করে বসে নেই । সিচুয়েশন এমন হয়েছিলো যে ভাইয়া ছাড়া উপায় ছিলো না ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.