| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শওকত আলীকে ধন্যবাদ। তিনি একটি ট্যাবু ভেঙে দিয়েছেন। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় জন্মদিন উপলক্ষে একটি বাউল গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এই খবর প্রচার হওয়ার পরপরই শুরু হলো ষড়যন্ত্র। আমাদের এনসিপি নামক দলটির স্থানীয় এক নেতার মাথায়ও তৌহিদি জনতার ভূত ভর করেছে ।
আতাহার আলী রাহাত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দিরাই উপজেলা শাখার আহ্বায়ক। নারী শিল্পীরা গান পরিবেশন করলে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষার নামে অনুষ্ঠানটি বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন তাঁরা। এনসিপি মুখে বলে এক কথা, আর তাদের স্থানীয় নেতাদের কারও কারও কাজ সম্পূর্ণ উল্টো।
শুরুতে প্রবাসী শওকত আলী কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত থাকলেও হয়তো তাঁকে গাজীপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাটি অনুপ্রেরণা দিয়েছে। সেখানে এক শিশুর বাবা, যিনি একজন বডিবিল্ডার, সন্তানের ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত এক হুজুরকে প্রকাশ্যে চড় মেরে মাটিতে ফেলে দিয়েছেন যার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে সেই বাবা অনেকের কাছে হিরো হয়ে গেছেন।
অবশ্য আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনো সমাধান নয়। কিন্তু মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ জমেছে, সেটিও অস্বীকার করার উপায় নেই। গাজীপুরের ওই মাদ্রাসার মালিক জামায়াতে ইসলামীর লোক বলে খবর চাউর হয়েছে । অভিযোগটি সত্য কি না, তা অবশ্য যাচাই করা দরকার।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অপরাধের অভিযোগ উঠলে সেটির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। অপরাধীর পরিচয় হুজুর, শিক্ষক কিংবা রাজনৈতিক নেতা যা-ই হোক না কেন, তার বিচার হওয়া প্রয়োজন। প্রবাসী শওকত আলী হয়তো সেই চড় মারার ভিডিও দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, তিনি বাউল গানের আয়োজন করবেনই । শওকত আলীর মতো মানুষের পাশে সমাজের বিবেকবান মানুষদের দাঁড়ানো উচিত।
সুনামগঞ্জে জন্মেছেন বিখ্যাত বাউল শিল্পী শাহ আবদুল করিম। অথচ সেই সুনামগঞ্জে আজ কী হচ্ছে ? কোনো দিন ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে হামলা, কোনো দিন মেয়েদের ফুটবল খেলায় বাধা, আবার আজ নারী বাউল শিল্পীদের গান গাওয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা। যে মাটিতে শাহ আবদুল করিমের জন্ম, সেই মাটিতে বাউল গান নিয়ে এত আপত্তি কেন ? বিষয়টি ভাবলেও অবাক লাগে।
আজকাল জন্মদিনের অনুষ্ঠানে হিন্দি আর ইংরেজি গান বাজানো খুব স্বাভাবিক ঘটনা। সেখানে শওকত আলী জন্মদিনে বাংলা বাউল গানের আয়োজন করে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছেন। লোকটাকে স্যালুট করি। আমার ধারণা, তিনি প্রবাসী হওয়ার পাশাপাশি কিছুটা প্রভাবশালী। তা না হলে পুলিশের বাধার পরও সবার সহযোগিতায় অনুষ্ঠান আয়োজনের সাহস দেখানো সহজ কথা নয়। সাধারণ কোনো মানুষ হলে হয়তো এতক্ষণে অনুষ্ঠান বাতিল করে বাড়িতে বসে থাকতেন।
আসলে আমাদের প্রান্তিক বাউল শিল্পী এবং লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত মানুষদের ধীরে ধীরে কোণঠাসা করে ফেলা হচ্ছে। এই নারী বাউল শিল্পীরা যদি গান গাইতে না পারেন, তাহলে তাঁদের সংসার চলবে কীভাবে ? তাঁরা তো গান গেয়েই পেট চালান। একের পর এক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হলে একসময় বাধ্য হয়ে তাঁরা পেশা পরিবর্তন করবেন। তখন আর বাউল গান গাওয়ার মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। এভাবেই একটা সংস্কৃতিকে ধীরে ধীরে শেষ করে দেওয়া সম্ভব।
একই ঘটনা ঘটছে মেয়েদের ফুটবল খেলার ক্ষেত্রেও। যে মেয়েরা ফুটবল খেলতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছিল, তাদের অনেকের কাছেই খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, আয়েরও একটি উৎস। তাদের খেলা বন্ধ করে দিলে তারা কোথায় যাবে? একদিকে মেয়েদের খেলতে দেওয়া হবে না, অন্যদিকে গান গাইতেও দেওয়া হবে না। তাহলে তারা করবে কী? ঘরের মধ্যে বসে থাকবে? এভাবে মানুষের চলাফেরা, পেশা আর বিনোদনের ওপর একের পর এক বাধা সৃষ্টি করে একটা বদ্ধ সমাজ তৈরির চেষ্টা চলছে।
মানুষ আস্তে আস্তে প্রতিবাদী হয়ে উঠছে। এত দিন ধর্মের কথা বলে ভয় দেখালেই অনেকে চুপ করে যেতেন। এখন সেই পরিস্থিতি কিছুটা হলেও বদলাতে শুরু করেছে। মানুষ যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছে যায়, তখন এভাবেই ঘুরে দাঁড়ায়। শওকত আলীর ঘটনাটি হয়তো তারই একটি ছোট উদাহরণ।
গাজীপুরের ঘটনাটি ইতিমধ্যে দেশব্যাপী ভাইরাল হয়েছে। আমাদের সিনিয়র ব্লগার জুল ভার্ন সাহেব বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন। তাই এখানে সেই ঘটনা নিয়ে আর বিস্তারিত লেখার প্রয়োজন মনে করছি না।
সুনামগঞ্জে আপত্তি উপেক্ষা করেই বসলো বাউল গানের আসর, গাইলেন নারী শিল্পীরাও-টিবিএস রিপোর্ট
যৌন নিপীড়নের কারনে শিক্ষককে থাপ্পড় দেওয়া সেই রুমির বার্তা :‘আমাকে হুমকি দিয়ে দমিয়ে রাখার স্বপ্ন দেখো না- বিডি টুডে
ফটোকার্ড : টিবিএস রিপোর্ট
২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আসলে আরো আগে থেকেই টাইট দেয়া উচিত ছিলো। আপনার সাথে সহমত ।
২|
২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:০৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: লোক জাগরণ বা সত্যর অনুসন্ধান শুরু হয়
তৃনমূল থেকে, বাধঁ ভাঙার আওয়াজ আসবে সেখান থেকেই
সেই সুদিনের আশায় , অপেক্ষায় থাকলাম ।
২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:১৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সবাই সুদিনের অপেক্ষা করছে ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫০
মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: যেখানে মোল্লারা ধর্মের অবমাননার গুজব সৃষ্টি করে মানুষ হত্যা করে ফেলে (তাও হাসপাতালের চিকিৎসাধীন মানুষকে..)। জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারে (দিপু চন্দ্র দাস)। মৃত মানুষের লাশ (এক জন পীরের লাশ)....তুলে পোড়ায় তখন প্রশাসন এদের দমন করে না, তামাশা দেখে।
তাহলে আইন নিজে হাতে তুলে নেয়ার অধিকার কি কেবল মোল্লাদেরই আছে? প্রশাসন আইন প্রয়োগ না করলে পরিস্থিতি এমনটাই হবে যে সবাই নিজের হাতে আইন তুলে নিতে চাইবে। ব্যাক্তিপর্যায়ে, নিজস্ব capacity তে অন্যায়ের সমাধান করতে চাইবে। সাধারন মানুষ আর কতকাল মোল্লাদের ভিকটিম হবে। পাল্টা আঘাত সেও করতে চাইবে।
এ যাবতকাল মোল্লারা মব সন্ত্রাস করে যত মানুষ হত্যা করেছে, সে হিসেব বিবেচনা করলে, যে ভদ্রলোক কোন এক মোল্লাকে যে ফুল সাইজ থাপ্পর দিয়েছেন, তা একেবারে justified বরং কম হয়ে গেলো। আরো বেশি দেয়া উচিত।