| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

গুলশান দুই এর মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি, অতিরিক্ত গরম, রোদের তেজ দেখে মনে হচ্ছে সূর্য আজ ব্যক্তিগত শত্রুতা নিয়ে উঠেছে, এমন সময় চোখ পড়ল রাস্তার ওপারে,
একটা রিকশার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সে, সেই একই রকম মাথার তালুতে টাক পড়া চুল, একই স্টাইলের হালকা ছাঁটের দাড়ি, একই রকম ফুলহাতা লেমন কালারের শার্ট, লেমন কালারের শার্ট প্যান্ট ব্লেজার তার বিশেষ পছন্দের ছিল, এমনকি দাঁড়িয়ে থাকার ভঙ্গিটাও হুবহু একরকম।
অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম তার দিকে, আমি ড্যাম সিওর, এই লোক আমার আগের কোম্পানির এমডি স্যার!
কিন্তু উনার আজ এ কী হাল! এই অবস্থা হলো কি করে! কি হতে পারে? হয়তো তার কোম্পানি ডুবে গেছে টাইটানিক জাহাজের মত, হয়তো সব সম্পত্তি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে ব্যাংক লোন পরিশোধের জন্য, যে মানুষটা একসময় শত শত কর্মচারীকে ধমকের আর অর্ডারের উপর রাখতেন, আজ তিনি রিকশা চালিয়ে সংসার চালান? কি আশ্চর্য ঘটনা।
খুশি মনে ভাবলাম, আল্লাহর বিচার সত্যিই বোঝা বড় দায়, ঠিকই আসতে হলো ঘুরেফিরে আমার পায়ের কাছে! কি ছিল না তার! অর্থ বিত্ত, সন্মান আর অহংকার।
থাক তার ঐ আকাশ ছোঁয়া অহংকারের কথা আর নাই বা বললাম, তিনি তার বিগত দিনের কর্মফল এত দ্রুত হাতে পেয়েছে, এই যথেষ্ট।
আমার মতো একজন ভালো কর্মচারীকে কতটা অন্যায়ভাবে অপমান করে মিথ্যা দোষ দিয়ে চাকরি থেকে বের করেছিলেন সে শুধু আমার আল্লাহ জানেন।
মনে মনে বললাম শেষ পর্যন্ত আসতে হলো তো আমার কাছে!? নে এবার সালাম কর, দুই পায়ে হাত দিয়ে ধরে মাফ চা ফাজিল,ভাগ্য ভালো হলে কোম্পানি ফেরত পেলেও পেতে পারিস বেয়াদব।
এমডি স্যার আমার দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত ভদ্র স্বরে বললেন
- স্যার, কোথায় যাবেন?
স্যার, কোথায় যাবেন মানে!! শয়তানটার মুখে স্যার শুনে বুকের ভেতর আকাশে বাতাসে আনন্দ ঝলমল করে উঠলো আমার।
এক সময় আমি তাকে স্যার, স্যার বলতে বলতে মুখ শুকিয়ে ফেলতাম। আজ সেই বেয়াদব এমডি আমাকে স্যার বলছে!!
জীবন সত্যিই গোল।
আমি বললাম যাবো,
- বনানী ১১।
তিনি বিনা দরদামে রাজি হয়ে গেলেন।
ভাবলাম, আমি উনার কোম্পানির এক্স এমপ্লয়ী বলে হয়তো সম্মান দেখাচ্ছেন।
রিকশায় বসে আমার ভেতরে প্রতিশোধ পরায়ণ ভাব জেগে উঠলো অনেক।
ইচ্ছে করেই বললাম,
- বনানী ১১ যাব না তুই বরং গুলশান এক যা, মেইন রোড দিয়ে যাইতে না দিলে ভেতর দিয়ে ঘুরে ঘুরে যা,
তুই বলে আনন্দে মনটা ফুরফুরে হয়ে গেলো বললাম তোর কোম্পানি টাইটানিক হইছে কিভাবে জানিস, অত্যাচারী বেইমান শাসক ছিলি তুই হাজার মানুষের অভিশাপে আজকে তোর এই হাল, কি থেকে কই নামছিস ভাবা যায়?
এমডি স্যার কোন কথা বলছেন না মনে হয় যেন আমার কথা শুনতেই পারেননি, একমনে রিক্সা চালাচ্ছে, এত নিখুঁত রিক্সা ড্রাইভ শিখলো কবে বেয়াদবটা।
বললাম,
- এইখানে দাঁড়া একটু পর আসতেছি কাজ আছে,
তারপর মিনিমাম দেড় ঘন্টা দাঁড় করিয়ে রাখলাম ফাজিলটারে এই গরমের মধ্যে।
এমডি স্যার অভিযোগ করল না, এমন ভালো লোক হয়ে গেছে সে এখন! কি হাস্যকর এরকম ভালো যদি আগে হতো আজকে কি তার এই দশা হয়!
তার অফিসে তো আমাকে কম জ্বালায় নাই কম অপমান করেন নাই আজ একটু হলেও হিসাব সমান হলো।
দুপুরের দিকে ক্ষুধা লাগল। একটা বাংলা হোটেলে ঢুকে ভাত তরকারি অর্ডার করলাম। এমডি স্যারকে খেতে সাধলাম তবে অপমান করার জন্য কড়া গলায় বললাম যেহেতু তুই এখন রিকশাওয়ালা লোক তোর সাথে এক টেবিলে বসে খাওয়া আমার উচিত হবে না।
এমডি স্যার রিকশা রেখে পাশের টেবিলে খুশি মনে খেতে লাগলেন।
দৃশ্যটা দেখে অদ্ভুত আরাম লাগছিল।
এক সময় তার অফিসে আমি উনার সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস পর্যন্ত পেতাম না। কাজ ছাড়া তো যেতামই না তার সামনে, বেশিরভাগ সামনে যেতাম ফাইল সাইনের জন্য, সাইন করতে করতে দু চারটা কথা বলে অপমান না করে তিনি সুস্থ থাকতেই পারতেন না; আর আজ! আজ তিনি আমার পাশের টেবিলে ডাল আর করলা ভাজি দিয়ে ভাত খাচ্ছেন অবশ্য শেষে ওয়েটারকে বলে এক বাটি গরুর মাংস দিলাম; জীবে দয়া করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর; কি আর করা।
সারাদিন ঘুরিয়ে সন্ধ্যার দিকে ওকে ভাড়া মিটিয়ে দিলাম, না ঠকাইনি, তার মত খারাপ মানুষ আমি না, ন্যায্য ভাড়াই দিয়েছি, সে খুশি মনে টাকাটা পকেটে ভরে নিল।
আমি একটা বিরাট হাসি আটকে রেখে বললাম,
- স্যার, আমাকে চাকরি থেকে বের করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত
কোম্পানির অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গেল যে রিকশা চালাতে হচ্ছে?
লোকটা কয়েক সেকেন্ড আমার দিকে থমথমে চেহারা করে তাকিয়ে রইল।
তারপর কপাল কুঁচকে বলল,
- ভাই, আপনি কি নেশা টেশা কইরা বাসা থেকে বাইর হইছিলেন সারাডা দিন আমারে স্যার স্যার করলেন, আপনেগো মত স্যার হইলে কি আমি রিক্সা চালাই?
আমি আর কিছু বললাম না। নিরুত্তাপ চোখে ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম! সারাদিন ধরে আমি এমডির ওপর প্রতিশোধ নিলাম আর সে কিছুই বুঝলো না, কোম্পানি হারিয়ে শোকে কি ম্যামোরি লুজ হয়ে গেছে ব্যাটার!!
পকেটে ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল, বউ,
ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে বলল, শোনো, আজ বিকেল পাঁচটায় ডা. সেজদারীর সঙ্গে তোমার কাউন্সেলিংয়ের অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে। আগেরবারের মতো ভুলে যেও না, আর ডাক্তার বলেছিলেন, মানুষের চেহারা চিনতে কতটা প্রবলেম ফেস করো সেটা অবশ্যই খুলে বলবে তাকে।
ধূর কি কাউন্সিলিং! কে যাবে ডক্টর ফক্টরের কাছে, আমার কিছু হয়েছে নাকি!!
ফিরে আসতে আসতে পিছন থেকে স্যারের গলা শুনতে পেলাম একা একা বলতেছে হালার ব্যাডায় পাগল।
রিকশাওয়ালা হওয়ার পরে স্যারের ভাষাও আরো খারাপ হয়ে গিয়েছে।
২|
১৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সে কিছুই বুঝলো না, কোম্পানি হারিয়ে শোকে কি
ম্যামোরি লুজ হয়ে গেছে ব্যাটার!!
............................................................................
তাহলে এই নাও তার কাব্য :-
...........................................................................
বড় এক কোম্পানি গড়েছিলাম আমি ভাই,
বাজার ধসে সব হারিয়ে আজ কিছু নাই।
ব্যাংক নিল চেয়ার-ফোন, সিন্দুকের চাবি,
রাস্তায় ফেলে গেল করে হা-হুতাশ সবি।
আঘাতে মাথায় আমার ধরল এমন জট,
স্মৃতিশক্তি উড়ে গেল—মস্তিষ্ক পুরো ফাঁকা পট!
বউকে তাকিয়ে শুধাই, "তুমি কে গো নারী?"
বলল,"ট্যাক্স আর ঘরভাড়া বাকি, দিতে হবে তাড়াতাড়ি!"
আমি বলি, "টাকা কী জিনিস? চিনি না তো ভাই,
স্মৃতি বড় দুর্বল আমার, মাথায় কিছু নাই!
ভুলে গেছি সব দেনা-পাওনা, সব ভয়ের টান,
ভুলিনি তবে ফ্রিজে কোথায় লুকানো আছে ঠাণ্ডা কোকের ক্যান!
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০৩
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মানুষের চেহারা চিনতে কতটা প্রবলেম ফেস করো সেটা অবশ্যই খুলে বলবে তাকে।
......................................................................................................................
আমরা স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক,
সৎ না অসৎ,
সামাজিক না অসামাজি ক ?
এসবের তুলনা হয় অন্যকে দিয়ে বা পারির্পাশ্বিক বিবেচনা দিয়ে ।
কেতাবের সংজ্ঞায় আসলে বহু লোককে পাগল বলে গারদ খানায়
পাঠাতে হবে ।