নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে গঠনমুলক লেখা লেখি ও মুক্ত আলোচনা

ডঃ এম এ আলী

সাধারণ পাঠক ও লেখক

ডঃ এম এ আলী › বিস্তারিত পোস্টঃ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্বাবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ৩

০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
প্রথম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব ১
২য় পর্বে থাকা গবেষনাটির সমস্যা লিংক – পর্ব ২

৩য় পর্ব- ১.৩ গবেষণার উদ্দেশ্য (Research Objectives)

১.৩.১ প্রধান উদ্দেশ্য (General Objective)
এই গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সের ভূমিকার সঙ্গে দেশের কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্ভাবনাকে তুলনামূলকভাবে মূল্যায়ন করা এবং বিশ্লেষণ করা যে, কীভাবে একটি বহুমুখী, উৎপাদনমুখী ও টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ইতিবাচক অবদান বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনশীল খাতসমূহ আরও শক্তিশালী হয়ে জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তিকে দীর্ঘমেয়াদে অধিকতর স্থিতিশীল ও আত্মনির্ভর করে তুলতে পারে।

এই গবেষণা কোনো একটি অর্থনৈতিক খাতকে অন্যটির বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস নয়। বরং এর লক্ষ্য হলো বাস্তব তথ্য, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে নির্ণয় করা যে, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশলে রেমিট্যান্স, কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এই চারটি উপাদানের মধ্যে কী ধরনের সমন্বয় সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।

১.৩.২ সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য (Specific Objectives)
এই গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিম্নোক্ত সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যসমূহ নির্ধারণ করা হয়েছে-
(১) বাংলাদেশের রেমিট্যান্স অর্থনীতির সামগ্রিক অবদান মূল্যায়ন
বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান, প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থনৈতিক অবদান, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, জাতীয় আয়, দারিদ্র্য বিমোচন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের প্রভাব বিশ্লেষণ করা।

(২) মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর শ্রমবাজারের সুযোগ ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ
বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রধান গন্তব্য দেশসমূহ, কর্মসংস্থানের প্রকৃতি, দক্ষতার স্তর, আয়, শ্রম অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মূল্যায়ন করা।

(৩) বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের প্রকৃত অর্থনৈতিক সক্ষমতা নির্ণয়
দেশের আবাদযোগ্য জমি, বহু-ফসলি কৃষি, সেচব্যবস্থা, মিঠাপানির মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, দুগ্ধশিল্প এবং কৃষিজ উৎপাদনের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা।

(৪) কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা মূল্যায়ন
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, কোল্ড চেইন, দুগ্ধশিল্প, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, চামড়া, জৈব সার, কৃষিযন্ত্র এবং অন্যান্য কৃষিভিত্তিক শিল্পের মাধ্যমে কী পরিমাণ কর্মসংস্থান ও মূল্য সংযোজন সম্ভব, তা মূল্যায়ন করা।

(৫) বৈদেশিক শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরতা হ্রাসের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা (Feasibility) বিশ্লেষণ
দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৈদেশিক শ্রমবাজারের ওপর অতিনির্ভরতা কতখানি কমানো সম্ভব এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব কী হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করা।

(৬) কৃষিভিত্তিক রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা মূল্যায়ন
উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য, ফল, সবজি, মাছ, চিংড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং অন্যান্য কৃষিভিত্তিক রপ্তানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার, প্রতিযোগিতা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা।

(৭) আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য শিক্ষা নির্ধারণ
নেদারল্যান্ডস, ইসরায়েল, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ব্রাজিল, চীন, এবং দক্ষিণ কোরিয়াসহ কৃষিনির্ভর অর্থনৈতিক রূপান্তরে সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী নীতিগত শিক্ষা চিহ্নিত করা।

(৮) অর্থনৈতিক ব্যয়–সুবিধা (Cost–Benefit) ও তুলনামূলক সুবিধা (Comparative Advantage) বিশ্লেষণ
রেমিট্যান্সনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো এবং কৃষিভিত্তিক উৎপাদনমুখী অর্থনীতির সম্ভাব্য ব্যয়, সুবিধা, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, মূল্য সংযোজন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার তুলনামূলক মূল্যায়ন করা।

(৯) ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অর্থনৈতিক নীতির পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ
মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার, জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থনৈতিক স্বার্থের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা, যাতে অর্থনৈতিক নির্ভরতা কীভাবে পররাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে এ বিষয়ে প্রমাণভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করা যায়। একই সঙ্গে এ কথাও মূল্যায়ন করা হবে যে, রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি সাধারণত বহুমাত্রিক কৌশলগত বিবেচনার ভিত্তিতে গঠিত হয়; তাই কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তকে একক কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা কতখানি যুক্তিসঙ্গত।

(১০) টেকসই অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য নীতিগত সুপারিশ প্রণয়ন
গবেষণার ফলাফল, পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার আলোকে বাংলাদেশের জন্য এমন একটি সমন্বিত নীতিকাঠামো (Integrated Policy Framework) প্রস্তাব করা, যার মাধ্যমে
- কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের আধুনিকায়ন,
-উচ্চমূল্য সংযোজনভিত্তিক উৎপাদন বৃদ্ধি,
-দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন,
-বৈদেশিক কর্মসংস্থানের গুণগত মান বৃদ্ধি,
-কৃষিপণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণ,
-গ্রামীণ শিল্পায়ন,
-এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা
একযোগে নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।

১.৩.৩ গবেষণার প্রত্যাশিত অবদান (Expected Contribution of the Research)
এই গবেষণা থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে প্রচলিত -রেমিট্যান্স বনাম কৃষি- বিতর্ককে একটি নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করবে। গবেষণাটি দেখানোর চেষ্টা করবে যে, উন্নয়নের প্রশ্নটি কোনো একক খাতের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং উৎপাদনশীল কৃষি, আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্প, দক্ষ মানবসম্পদ, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং কৌশলগত বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সমন্বয়েই একটি অধিকতর স্থিতিশীল ও টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠতে পারে।

একই সঙ্গে এই গবেষণা নীতিনির্ধারক, গবেষক, উন্নয়ন পরিকল্পনাবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অর্থনীতি বিষয়ক গবেষকদের জন্য একটি তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণাত্মক কাঠামো প্রদান করবে, যা ভবিষ্যৎ নীতি প্রণয়ন ও গবেষনা সহায়ক হতে পারে ।

চতুর্থ পর্বে গবেষনাটির প্রশ্ন ( Research Questions) পাঠের আমন্ত্রন রইল ।

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:২১

রাসেল বলেছেন: যে দেশে শিয়ালের হাতে মুরগির দায়িত্ব, সে দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ বুঝতে বিশ্ববাজারের দিকে তাকাতে হয় না, বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণও লাগে না। ইতিহাস বারবার এ কথাই প্রমাণ করেছে।

০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:১৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ঠিকই বলেছেন দেশের মানুষ একাট্টা হয়ে দেশের দায়িত্বে যুগ যুগ ধরে শিয়ালদের বসিয়েছে , আর দেশের অর্থনীতির
ভবিষ্যৎ বুঝতে বিশ্ববাজারের দিকে তাকাতে হয় না, বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণও লাগে না বলেইতো কাঁচা মরিচের জন্য
ভারতের কাছে , চালের জন্য ভারতের কাছে গমের জন্য সাত সাগর তের নদী পেরিয়ে আমিরিকার কাছে ধর্না দিতে
হয় , সারের জন্য , কৃষি বীজের জন্য বিদেশের দয়ার উপর থাকতে হয় ।

যাহোক অনেক হতাশা বুকে নিয়েও আশায় আছি যদি কোন দিন এদেশ আবার বিশ্ববাজারের দিকে না তাকিয়েই
সোনার বাংলায় পরিনত হয় তা দেখে যাবার জন্য।

মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

২| ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:০৯

রাজীব নুর বলেছেন: আপনার এই ধারাবাহিকের শিরোনামটা আমার পছন্দ হয়নি।

০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
অনুগ্রহ করে আপনার বিবেচনায় একটি উপযুক্ত শিরোনামের প্রস্তাব দেয়ার জন্য অনুরোধ রইল ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৩| ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: গবেষনা কি আপনি শুরু করবেন নাকি এখানে লিখবেন ? রেমিট্যান্স এবং কৃষি দুইটা বিষয়ের পরিধি অনেক বিস্তৃত । প্রবাসী আয় খারাপ আসছে না । ইরান ক্রাইসিসের কারনে সার সংকট চলছে । দেশে গড়ে একজন কৃষকের বাৎসরিক আয় ৩৪ হাজার টাকা । ফলে কৃষিপেশা সামনে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে । সবাই শিল্প কারখানায় শ্রম, অটোরিকশা চালনা এসবের দিকে ঝুকেছে । এর সাথে জড়িয়ে আছে কীটনাশক এবং রাসায়নিকের অতিরিক্ত ব্যবহার । খাবার ভেজাল হওয়ার কারণে মানুষের জটিল সব অসুখ দেখা দিয়েছে । এখানে আরো যুক্ত করতে পারতেন : উন্নত দেশগুলো তাদের কৃষি পণ্য বাংলাদেশের মতো দেশ গুলোতে প্রবেশ করাতে শুল্ক মুক্ত সুবিধা চায় যেমন আমেরিকা ভারত ও বাংলাদেশে জিএমও পণ্য প্রবেশের সুযোগ চায় । রিসিপ্রোকাল ট্যাক্স কে তারা হাতিয়ার হিসাবে ইউজ করছে । কিভাবে আমরা তাদের এই প্লান কে নিজেদের সুবিধামতো কাজে লাগিয়ে তাদের বাজারে কাজে লাগাতে পারি ।

০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



গবেষনাটি আমি শুরু করেছি । এটি মুলত আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে প্রকাশ লক্ষে করা হচ্ছে এবং মূল গবেষনা পত্রটি
ইংরেজীতে লিখা হচ্ছে । এখানে এর বাংলা ভারশন তুলে ধরছি যদি আপনাদের মত গুণী ব্লগারদের নিকট হতে কোন
মুল্যবান মতামত পাওয়া যায় তাহলে আমার জন্য ভাল হবে । পক্ষে বিপক্ষে সকল মতামতই আমার কাছে খুবই মুল্যবান।
জানি হাতে গোনা ২/৪ জনের বেশি কেও এ পোস্টের লেখা পাঠ করবেন না তার পরেও লেখটি ধারাবাহিকভাবে এখানে
প্রকাশ করে যাব হাতে হয়েকজন গিণি জ্লজানর মুল্যবান মন্তব্যগুলি হতে ।

আপনার মন্তব্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাঠামোগত প্রশ্ন উঠে এসেছে। বিশেষ করে রেমিট্যান্স, কৃষকের আয়, কৃষি
থেকে শ্রমশক্তির সরে যাওয়া, রাসায়নিক কৃষির বিস্তার, খাদ্যনিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এসবকে আলাদা
আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখলে বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ বোঝা যাবে না। এগুলো আসলে বাংলাদেশের অর্থনীতির একই
বৃহত্তর কাঠামোর পরস্পর-সংযুক্ত অংশ।

প্রথমত, রেমিট্যান্স ভালো আসছে এটি অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়লেই অর্থনীতির মৌলিক
উৎপাদনশীল সক্ষমতা বেড়ে যায় না। রেমিট্যান্স মূলত বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়ায় এবং বৈদেশিক লেনদেনের
চাপ সামলাতে সহায়তা করে। কিন্তু সেই অর্থ যদি প্রধানত ভোগব্যয়ে ব্যবহৃত হয় এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগে
পর্যাপ্তভাবে প্রবাহিত না হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর ঘটাতে পারে না।

এখানেই কৃষির সঙ্গে রেমিট্যান্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র তৈরি করা যায়। প্রবাসী আয়ের একটি অংশ যদি কৃষি
ভিত্তিক শিল্প, খাদ্য সংরক্ষণ, কোল্ড চেইন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, আধুনিক সেচ, কৃষি-প্রযুক্তি, লজিস্টিকস
এবং রপ্তানিমুখী agro-processing-এ বিনিয়োগের সুযোগ পায়, তাহলে রেমিট্যান্স শুধু ভোগের অর্থ না হয়ে
উৎপাদনশীল মূলধনে পরিণত হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, কৃষকের আয় নিয়ে আলোচনাটি আরও গভীরভাবে দেখা প্রয়োজন। কৃষকের আয় কম হওয়ার পেছনে শুধু
উৎপাদন কম হওয়া দায়ী নয়। এর সঙ্গে জড়িত আছে উৎপাদন ব্যয়, জমির আকার, বাজার কাঠামো, কৃষিঋণের খরচ, মধ্যস্বত্বভোগী, সংরক্ষণব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজারে তথ্যের অসমতা এবং কৃষিপণ্যের মূল্য ওঠানামা।

অর্থাৎ কৃষক বেশি উৎপাদন করলেই বেশি আয় করবেন এমন সরল অর্থনৈতিক সমীকরণ এখানে কাজ করে না।

কৃষক যদি উৎপাদনের ঝুঁকি বহন করেন, অথচ মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা অন্যদের হাতে থাকে, তাহলে কৃষি একটি
low-return, high-risk profession-এ পরিণত হয়। তখন তরুণ প্রজন্মের কৃষি থেকে বেরিয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক
ভাবে খুবই স্বাভাবিক আচরণ। তারা যেখানে তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও নিশ্চিত নগদ আয় দেখতে পাচ্ছে, সেখানেই
যাবে।

এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আমরা একটি structural transformation-এর উল্টো দিক দেখতে পারি কৃষি
থেকে শ্রমশক্তি বেরিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কৃষির উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় একই গতিতে বাড়ছে না। ফলে
একদিকে খাদ্য উৎপাদনের ভিত্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা
বাড়তে পারে।

তৃতীয়ত, কৃষিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশকের ব্যবহারকে শুধু ‘কৃষকের ভুল’ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
এটি অনেকাংশে একটি incentive problem। কৃষক যদি স্বল্পমেয়াদে বেশি উৎপাদনের জন্য চাপের মধ্যে
থাকেন, নিরাপদ কৃষি প্রযুক্তির পর্যাপ্ত জ্ঞান ও সহায়তা না পান এবং বাজারে নিরাপদ পণ্যের জন্য অতিরিক্ত
মূল্য না পান, তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই স্বল্পমেয়াদি উৎপাদন বৃদ্ধির পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেবেন।

তাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে শুধু কৃষককে দোষারোপ করলে হবে না। প্রয়োজন-
উন্নত কৃষি সম্প্রসারণ ব্যবস্থা + মাটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা + সঠিক মাত্রায় সার ও কীটনাশক ব্যবহার + নিরাপদ
খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ + traceability + কৃষকের জন্য বাজার প্রণোদনা।

অর্থাৎ খাদ্যনিরাপত্তাকে কৃষি উৎপাদনের বাইরে আলাদা কোনো বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

চতুর্থত, আপনার মন্তব্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতির যে প্রসঙ্গ এসেছে, সেটিই সম্ভবত সবচেয়ে কৌশলগত বিষয়।

বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় অর্থনীতিগুলো শুধু পণ্য বিক্রি করে না; তারা market access, tariff policy,
standards, subsidies, intellectual property, sanitary and phytosanitary measures এবং
বিভিন্ন বাণিজ্যিক শর্তের মাধ্যমে বাজারের কাঠামোও প্রভাবিত করে।

তাই বাংলাদেশকে কেবল ‘আমরা বিদেশি পণ্য আমদানি করব কি না’ এই প্রশ্নে আটকে থাকলে চলবে না।
বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত: আমাদের বাজারের বিনিময়ে আমরা কী অর্জন করছি?

যদি কোনো দেশ বাংলাদেশের বাজারে তাদের কৃষিপণ্য বা খাদ্যপণ্যের জন্য অধিকতর বাজার-সুবিধা চায়, তাহলে বাংলাদেশেরও আলোচনার টেবিলে সমপর্যায়ের স্বার্থ সামনে রাখতে হবে।

যেমন তাদের পণ্যের জন্য market access → বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য market access।
তাদের শুল্ক সুবিধা → বাংলাদেশের পণ্যের জন্যও শুল্ক সুবিধা।

তাদের বিনিয়োগের সুযোগ → বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্যও বিনিয়োগ ও বাজারের সুযোগ।

এটাই হওয়া উচিত একটি reciprocal and strategic trade policy-র ভিত্তি।

তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি GMO বা কোনো নির্দিষ্ট দেশের কৃষিপণ্যকে কেন্দ্র করে আমাদের
নীতি যেন আবেগনির্ভর না হয়। GMO হলেই পণ্য ভালো বা খারাপ এমন সরল সিদ্ধান্তও অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক
ভাবে যথেষ্ট নয়। বরং আমাদের প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক ঝুঁকি মূল্যায়ন, biosafety, labeling, traceability এবং
ভোক্তার জানার অধিকার নিশ্চিত করা।

একইভাবে বিদেশি কৃষিপণ্যের প্রতিযোগিতা থেকে দেশীয় কৃষককে রক্ষা করতে গিয়ে যদি আমরা দীর্ঘমেয়াদে
অদক্ষতা তৈরি করি, সেটিও সমাধান নয়। আবার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত বাজার দিয়ে যদি ভর্তুকিপ্রাপ্ত বিদেশি পণ্য এসে
দেশীয় উৎপাদককে অপ্রতিযোগিতামূলক করে ফেলে, সেটিও জাতীয় স্বার্থের জন্য ভালো নয়।

তাই প্রয়োজন smart protectionism নয়, smart competitiveness অর্থাৎ যেখানে প্রয়োজন সেখানে সাময়িক
সুরক্ষা, কিন্তু একই সঙ্গে কৃষির উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি, মান ও বাজার দক্ষতা বাড়ানো।

এখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হলো আমাদের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার।

আমরা যদি ১৭ কোটি মানুষের বাজারকে শুধু ভোক্তার বাজার হিসেবে দেখি, তাহলে আমরা অর্ধেক সুযোগই দেখছি।
এটিকে ব্যবহার করা যায় economies of scale তৈরির জন্য। বড় অভ্যন্তরীণ বাজারে উৎপাদন বাড়িয়ে, প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ করে, মান উন্নত করে তারপর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করা সম্ভব।

অর্থাৎ আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত-
Farmer → Aggregation → Processing → Branding → Certification → Export
এই সম্পূর্ণ value chain তৈরি করা।

আজকের কৃষি যদি শুধু ধান, সবজি, ফল বা মাছ উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে কৃষকের আয় সীমিতই
থাকবে। কিন্তু উৎপাদনের সঙ্গে যদি processing, packaging, cold storage, logistics, branding এবং
export যুক্ত করা যায়, তাহলে একই কৃষিপণ্য থেকে বহু গুণ বেশি economic value সৃষ্টি করা সম্ভব।

এখানেই কৃষি এবং শিল্পকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর পরিবর্তে agriculture-industry nexus তৈরি করা জরুরি।

কৃষক উৎপাদন করবেন, শিল্প প্রক্রিয়াজাত করবে, লজিস্টিকস পণ্য পরিবহন করবে, ব্যাংক অর্থায়ন করবে, প্রযুক্তি উৎপাদনশীলতা বাড়াবে এবং রপ্তানি খাত বৈদেশিক মুদ্রা আয় করবে এভাবেই একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক
ecosystem তৈরি হতে পারে।

আর এই জায়গায় সরকারের ভূমিকাও নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা দরকার।

সরকারের কাজ শুধু সার বা কৃষি উপকরণে ভর্তুকি দেওয়া নয়। বরং সরকারের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত বাজারের ব্যর্থতা (market failure) যেখানে আছে সেখানে intervention করা।

যেমন কৃষকের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী অর্থায়ন;কৃষি বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা;আধুনিক সংরক্ষণ অবকাঠামো;কোল্ড চেইন;
কৃষিপণ্যের মান নির্ধারণ;ডিজিটাল বাজার তথ্য;গবেষণা ও উন্নয়ন;উন্নত বীজ ও প্রযুক্তি;কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প;
আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন certification; এবং রপ্তানির জন্য কার্যকর trade diplomacy।

এগুলো করতে পারলে কৃষিকে শুধু গরিব মানুষের পেশা হিসেবে দেখার সংস্কৃতি বদলাবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কৃষিকে দয়া বা ভর্তুকিনির্ভর খাত হিসেবে নয়, একটি strategic economic
sector হিসেবে দেখতে হবে।

কারণ কৃষি দুর্বল হলে শুধু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন না। খাদ্যের দাম বাড়ে, আমদানির প্রয়োজন বাড়ে, বৈদেশিক মুদ্রার
ওপর চাপ পড়ে, গ্রামীণ কর্মসংস্থান কমে এবং সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হয়।

অন্যদিকে একটি উৎপাদনশীল কৃষি ব্যবস্থা খাদ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে পারে, গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল
রাখতে পারে, কৃষিভিত্তিক শিল্পকে কাঁচামাল দিতে পারে এবং রপ্তানি বাড়ানোর ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

সুতরাং আমার দৃষ্টিতে সমস্যাটিকে কৃষক বনাম শিল্প শ্রমিক কিংবা কৃষি বনাম রেমিট্যান্স হিসেবে দেখলে ভুল হবে।

আমাদের প্রয়োজন একটি integrated national economic strategy, যেখানে

রেমিট্যান্স হবে বৈদেশিক মুদ্রা ও বিনিয়োগের উৎস,
কৃষি হবে খাদ্য ও কাঁচামালের ভিত্তি,
শিল্প হবে value addition-এর মাধ্যম,
প্রযুক্তি হবে productivity বৃদ্ধির হাতিয়ার,
আর বাণিজ্যনীতি হবে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের স্বার্থ আদায়ের কৌশল।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি হলো আমরা কি শুধু অন্য দেশের নীতির প্রতিক্রিয়া জানাব, নাকি নিজেদের বাজার, শ্রমশক্তি,
কৃষি, ভোক্তা এবং ভূ-কৌশলগত অবস্থানকে bargaining power হিসেবে ব্যবহার করব?

আমার মনে হয়, দ্বিতীয় পথটিই বাংলাদেশের জন্য বেশি কার্যকর।

আমাদের ১৭ কোটি মানুষের বাজার কোনো দুর্বলতা নয় এটি একটি negotiating asset। আমাদের কৃষক কোনো
বোঝা নন ,তিনি খাদ্যনিরাপত্তার strategic asset। আমাদের প্রবাসী শ্রমিক শুধু রেমিট্যান্স পাঠানো মানুষ নন,তাঁরা
দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম ভিত্তি। আর আমাদের কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা নয়,এটি শিল্প,
কর্মসংস্থান, রপ্তানি ও গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি।

তাই বিদেশি বাণিজ্যচাপকে শুধু হুমকি হিসেবে দেখলে হবে না। সঠিক কৌশল থাকলে একই চাপকে market
access, investment, technology transfer এবং export opportunity আদায়ের হাতিয়ার হিসেবেও
ব্যবহার করা সম্ভব।

আমাদের দরকার এমন একটি বাণিজ্য ও কৃষিনীতি, যেখানে বাংলাদেশ শুধু অন্যের বাজারের জন্য উন্মুক্ত হবে না;
বরং বাংলাদেশের বাজারের বিনিময়ে বাংলাদেশের কৃষক, উদ্যোক্তা, শ্রমিক ও রপ্তানিকারকদের জন্যও বাস্তব ও
পরিমাপযোগ্য সুবিধা আদায় করবে।

শেষ কথা হলো-

কৃষিকে বাঁচানো মানে শুধু কৃষককে বাঁচানো নয়।
কৃষিকে বাঁচানো মানে খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষা করা।
খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষা মানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ মানে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করা।
আর কৃষিকে শিল্প, প্রযুক্তি ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত করা মানে বাংলাদেশের
অর্থনীতিকে আরও উৎপাদনশীল ও বৈদেশিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করা।

সুতরাং আমাদের এখন প্রয়োজন স্লোগান নয় ডেটাভিত্তিক নীতি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং দক্ষ অর্থনৈতিক কূটনীতি।

কারণ বিশ্ব অর্থনীতিতে আজ যে দেশ নিজের বাজারকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করতে পারে, নিজের উৎপাদন-
শীলতা বাড়াতে পারে এবং অন্যের বাজারে প্রবেশাধিকার আদায় করতে পারে শেষ পর্যন্ত সেই দেশই লাভবান হয়।

শুভেচ্ছা রইল

৪| ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:০৫

ঢাবিয়ান বলেছেন: আপনার এই গবেষনা খুবই বাস্তবভিত্তিক এবং দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যপক ভুমিকা রাখতে সক্ষম। কিন্তু বর্তমান সরকারের কর্মকান্ডে এসব বিষয়ে সদিচ্ছা আছে বলে মনে হয় না। বিগত সরকারের মত তারাও কেবল চায় জমি জিরাত বিক্রি করে দালালের মাধ্যমেই হোক বা ভুমধ্যাগরে নৌকায় পারি দিয়ে হলেও প্রবাসে যাক এবং স্বদেশে রেমিটেন্স পাঠিয়ে অর্থনীতির চাকা চালু রাখুক।

এনসিপির শ্যডো কেবিনেট আত্মপ্রকাশের কথা শোনা যাচ্ছে। বিশিষ্ট ব্যক্তিরা পেছনে থাকবে বলেই বোঝা যায়। আপনি চাইলে তাদের কাছেও পাঠাতে পারেন এই গবেষনাপত্র।

০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। বিশেষ করে আপনি যে জায়গাটিতে আলোচনাটিকে নিয়ে গেছেন,
সেটিই আসলে বিষয়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক,আমরা কি রেমিট্যান্সকে শুধু অর্থনীতির তাৎক্ষণিক ‘লাইফলাইন’
হিসেবে দেখব, নাকি এটিকে দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীল অর্থনীতিতে রূপান্তরের একটি কৌশলগত উপাদান হিসেবে
ব্যবহার করব?

বর্তমান বা অতীত কোনো সরকারকেই শুধু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করলে এই সমস্যার গভীরে যাওয়া
সম্ভব নয়। আমার মনে হয়, আমাদের মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতি ও প্রণোদনার কাঠামো কী
ধরনের আচরণকে উৎসাহিত করছে।

যদি একজন কৃষক বছরের পর বছর পরিশ্রম করেও পর্যাপ্ত আয় না পান, একজন তরুণ দেশে দক্ষতার উপযুক্ত
কর্মসংস্থান না পান এবং একজন পরিবার জমি বিক্রি করে কিংবা ঋণ করে সন্তানকে বিদেশে পাঠানোকে সবচেয়ে
নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করে তাহলে সমস্যাটি শুধু ব্যক্তির সিদ্ধান্তের নয়; এটি অর্থনীতির কাঠামোগত সমস্যার
প্রতিফলন।

আপনার মন্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাটি এখানেই নিহীত আছে।
আমরা যদি দেশের উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারি এবং ক্রমাগত মানুষকে বিদেশে পাঠিয়ে
রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ি, তাহলে সেটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিকল্প হতে পারে না।

প্রবাসী শ্রমিক আমাদের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ,এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু একজন মানুষকে দক্ষ
শ্রমশক্তি হিসেবে তৈরি করে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে পাঠানো আর একজন মানুষকে দেশে উৎপাদনশীল
কর্মসংস্থান দিতে ব্যর্থ হয়ে ‘রেমিট্যান্স আয়ের উৎস’ হিসেবে বিদেশে ঠেলে দেওয়া এই দুটি বিষয় এক নয়।

প্রথমটি হতে পারে strategic labour export; কিন্তু দ্বিতীয়টি দীর্ঘমেয়াদে একটি structural dependency
তৈরি করতে পারে।

আর সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যদি কৃষিজমি বিক্রি করে, পারিবারিক সম্পদ বন্ধক রেখে কিংবা উচ্চ সুদের ঋণ
নিয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে, তাহলে বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের একটি অংশ আবার সেই
হারানো সম্পদ পুনরুদ্ধারেই ব্যয় হতে পারে। অর্থাৎ আমরা একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছি, অন্যদিকে দেশের উৎপাদনশীল সম্পদ ও জনশক্তির একটি অংশ হারাচ্ছি।

তাই আমাদের নীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘মানুষকে বিদেশে পাঠিয়ে রেমিট্যান্স আনা’ নয়; বরং ‘দেশে উৎপাদনশীল
কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যারা বিদেশে যাবেন তাদের দক্ষতা ও আয় সর্বোচ্চ করা।’

এখানে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্র যদি কৃষিকে লাভজনক করতে পারে, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে পারে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য
অর্থায়ন সহজ করতে পারে, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে পারে এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের নতুন ক্ষেত্র
তৈরি করতে পারে, তাহলে বিদেশে যাওয়া হবে একটি choice, desperation নয়।

আমার কাছে উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোর একটি হলো একজন তরুণ কি দেশে থেকে সম্মানজনক আয়
করার বাস্তব সুযোগ দেখছেন?

যদি উত্তর ‘না’ হয়, তাহলে শুধু রেমিট্যান্সের প্রবাহ দিয়ে অর্থনীতির মৌলিক দুর্বলতা ঢেকে রাখা সম্ভব, কিন্তু দূর করা
সম্ভব নয়।

গবেষনা পত্র পাঠানোর বিষয়ে আমি মনে করি, এটি শুধু কোনো একটি রাজনৈতিক দল বা প্ল্যাটফর্মের কাছে
পাঠানোর বিষয় নয়; বরং দেশের সব রাজনৈতিক দল, নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, কৃষি বিশেষজ্ঞ, প্রবাসী কল্যাণ
বিশেষজ্ঞ এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে এ ধরনের গবেষণা আলোচনার জন্য উন্মুক্ত করা দরকার আর সে
লক্ষ্যেই এটি এখানে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি । আমি জানি লগইন না করেও দেশের নীতি
নির্ধারকদের একটি বিশেষ অংশ এ ব্লগে উকি ঝুকি দিয়ে দেখে যান এখানে কী লেখালেখি হচ্ছে । আমার
লেখালেখির সাথে নীতি নির্ধারকদের অনেকের পরিচিতি আছে কারণ আমি স্বনামে লেখি । তাই আমাকে
অনেকটাই সংযতভাবে লিখতে হয়।

যাহোক কৃষি, রেমিট্যান্স, কর্মসংস্থান, অভিবাসন, বাণিজ্যনীতি এবং খাদ্যনিরাপত্তা এসব কোনো দলের একক
রাজনৈতিক সম্পদ নয়। এগুলো রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বিষয়।জানিনা Shadow Cabinet এর আয়ু কতদিন হবে তবে
যদি সত্যিই ভবিষ্যৎ নীতির বিকল্প কাঠামো তৈরির উদ্দেশ্যে কোন বিরোধী রাজণেতিক দল কাজ করে, তাহলে
তাদের কাছে শুধু গবেষণাপত্র পাঠালেই যথেষ্ট হবে না। বরং তাদের সামনে কয়েকটি নির্দিষ্ট policy question
রাখা যেতে পারে:

১. কৃষিকে কীভাবে low-return livelihood থেকে high-productivity economic sector-এ রূপান্তর করা হবে?
২. রেমিট্যান্সের কতটা কীভাবে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে আনা যায়?
৩. বিদেশগামী শ্রমিকদের কীভাবে ‘unskilled labour’ থেকে skilled এবং higher-income labour force-এ
রূপান্তর করা যায়?
৪. কৃষিজমি বিক্রি করে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কীভাবে উৎপাদনশীল সম্পদে রূপান্তর করা যায়?
৫. বাংলাদেশের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারকে কীভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় bargaining power হিসেবে
ব্যবহার করা যায়?
৬. কৃষিপণ্যকে কাঁচামাল হিসেবে রপ্তানি না করে value-added product হিসেবে রপ্তানির জন্য কী ধরনের
agro-industrial ecosystem প্রয়োজন?
৭. বিদেশি বাজারে বাংলাদেশের কৃষি ও শিল্পপণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়াতে কী ধরনের trade diplomacy প্রয়োজন?
৮. ভবিষ্যৎ সরকার কীভাবে এমন অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করবে যেখানে একজন তরুণের জন্য বিদেশে যাওয়া
একটি সুযোগ হবে, বাধ্যবাধকতা নয়?

আমার মনে হয়, এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া শুধু ‘রেমিট্যান্স বাড়ছে’ এটিকে অর্থনৈতিক সাফল্যের চূড়ান্ত সূচক হিসেবে
দেখা ঠিক হবে না।

আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত-
Remittance → Investment → Production → Employment → Export—এই চক্র তৈরি করা।

অর্থাৎ একজন প্রবাসী যে অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন, সেটি যদি শুধু ভোগে না গিয়ে কৃষি, শিল্প, প্রযুক্তি, আবাসন,
লজিস্টিকস, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে বিনিয়োগ হয়, তাহলে সেই অর্থ দ্বিতীয়বার
আয় সৃষ্টি করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যতে আরও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সক্ষমতা তৈরি করবে।
এটাই হতে পারে রেমিট্যান্সের প্রকৃত development multiplier।

আর কৃষির ক্ষেত্রেও একই দর্শন প্রয়োজন:
Farmer → Aggregation → Processing → Branding → Certification → Export

এই value chain তৈরি করতে পারলে কৃষক শুধু উৎপাদক থাকবেন না; তিনি একটি বৃহত্তর agro-industrial
economy-র অংশ হয়ে উঠবেন।

সুতরাং আপনার প্রস্তাবটি আমি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছি। গবেষণাপত্রটি যদি কোনো Shadow Cabinet,
রাজনৈতিক দল কিংবা নীতিনির্ধারকের কাছে যায়, তাহলে সেটির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত কোনো পক্ষকে সমর্থন বা
বিরোধিতা করা নয়; বরং নীতিনির্ধারণের টেবিলে একটি বিকল্প, তথ্যভিত্তিক এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চিন্তা
তুলে ধরা।

কারণ সরকার বদলালেই যদি অর্থনৈতিক দর্শন না বদলায়, তাহলে কাঠামোগত সমস্যাগুলোও থেকে যাবে।

আমাদের দরকার এমন একটি রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক দর্শন যেখানে মানুষ শুধু রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য বিদেশে যাবে না;
দক্ষতা ও উচ্চ আয়ের জন্য যাবে।

কৃষক শুধু উৎপাদন করবেন না; value chain-এর ন্যায্য অংশীদার হবেন।
রেমিট্যান্স শুধু ভোগে যাবে না; উৎপাদনশীল বিনিয়োগে যাবে
দেশ শুধু আমদানির বাজার হবে না; রপ্তানিরও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হবে।
আর কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদন করবে না; শিল্প, কর্মসংস্থান ও রপ্তানির ভিত্তিও তৈরি করবে।

আপনার পরামর্শ অনুযায়ী, গবেষণাটি যদি সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও সম্ভাব্য Shadow Cabinet-এর কাছে পৌঁছানো
যায়, তাহলে অন্তত একটি অর্থবহ নীতিগত আলোচনার সূচনা হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কোনো সরকার বা রাজনৈতিক
দলের চেয়ে বড় হলো বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ।

আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি অর্থনীতি তৈরি করা, যেখানে মানুষকে সম্পদ বিক্রি করে, ঝুঁকিপূর্ণ পথে
কিংবা দালালের ওপর নির্ভর করে বিদেশে যেতে হবে না; বরং দেশে থেকেই উৎপাদন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষ
কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক মর্যাদা অর্জনের সুযোগ থাকবে।

রেমিট্যান্স আমাদের শক্তি কিন্তু রেমিট্যান্সনির্ভরতা যেন আমাদের দুর্বলতা না হয়ে ওঠে।
কৃষি আমাদের ভিত্তি কিন্তু কৃষক যেন সেই ভিত্তির সবচেয়ে বঞ্চিত অংশ না থাকেন।
আর বিদেশে যাওয়া সুযোগ হতে পারে, কিন্তু দেশের ভেতরে সুযোগের অভাব যেন বিদেশযাত্রার
প্রধান কারণ না হয়।

এই জায়গাটিতেই সম্ভবত আমাদের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
শুভেচ্ছা রইল

৫| ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৩২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: গবেষণাটি পড়ে জানার আগ্রহ বেড়ে গেলো । আপনি বলছেন কৃষি কাজের পাশাপাশি এগ্রো প্রসেসিং এর দিকে ফোকাস করতে হবে । কৃষক যেখানে মূলধন উঠাতে হিমশিম খায় সেখানে কিভাবে এগ্রো প্রসেসিং নিয়ে কাজ করতে হবে । আপনার যুক্তি হলো সরকার কে এখানে এগিয়ে আসতে হবে । আপনি চান রেমিটেন্সের আয় প্রডাক্টিভ কাজে লাগানো যাতে উৎপাদিত পণ্য রফতানি করি আমরা আরো বেশি পরিমাণে ডলার আয় করা। বাংলাদেশের মতো দেশের প্রেক্ষপটে এটা কি আসলে সম্ভব ? রেমিটেন্সের টাকায় এগ্রো প্রসেসিং কারখানা করলো সরকার । বাংলাদেশে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান লাভ করতে পারে না । এদের পরিচালন ব্যয় মেটাতে সরকার আবার জনগণের করের টাকা থেকে ভুর্তকি দেয় । প্রবাসীরা যদি মুনাফা না পায় তাহলে কেন তারা আগ্রহী হবে ? সমবায় সমিতি এখানে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে আপনার প্লানে ? আমি দেখেছি বেসরকারি এনজিও গুলা চড়া সুদে লোন দেয় ; এদিকে কৃষক ফসল ফলিয়ে লাভ করতে পারে না । কখনো কখনো আলু ও পেয়াজের দাম পায় না । পাশাপাশি বাংলাদেশে জলবায়ু ও পানি সংকট প্রকট রুপ ধারণ করেছে । আপনি চান শিল্প মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ যেটা বুঝতে পারলাম । পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এখানে যুক্ত হতে পারে কিভাবে ? যাকাত ফান্ড কিংবা কর্জে হাসানা থেকে আমরা কৃষকদের জন্য কিছু করতে পারি ? আসল চ্যালেন্জ হলো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাঝে সমন্বয় সাধন করা । আমাদের মন্ত্রণালয় গুলা সব সময় silo effect দ্বারা প্রভাবিত । কোথাও কোনো সমন্বয় নেই ।

০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:০০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। সত্যি বলতে, আপনার প্রশ্নগুলোই গবেষণাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার
জায়গা। ‘কৃষিতে agro-processing দরকার’, রেমিট্যান্সকে productive investment-এ আনতে হবে এই
কথাগুলো বলা যত সহজ, বাস্তবে কীভাবে করা হবে সেটিই আসল প্রশ্ন। এবং আপনার আপত্তিগুলো যথেষ্ট যৌক্তিক।
আমার গবেষনা পত্রের দৃস্টিকোন হতেই আপনার মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে এখানে অলোচনা করব ।

আপনি বিশেষ একটি প্রশ্ন তুলেছেন যে কৃষক নিজের উৎপাদন খরচের মূলধন জোগাড় করতেই হিমশিম খান,
তিনি কীভাবে agro-processing করবেন? এর উত্তর হলো, কৃষককে একা agro-processing-এর উদ্যোক্তা
বানানো আমার প্রস্তাব নয়। বরং এখানেই আমাদের প্রচলিত চিন্তার পরিবর্তন দরকার।

কৃষককে কারখানার মালিক নয়, value chain-এর মালিকানা অংশীদার করতে হবে।

আমরা সাধারণত agro-processing বলতে একটি বড় কারখানা, বড় বিনিয়োগকারী এবং বড় ঋণের কথা ভাবি।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে একজন ক্ষুদ্র কৃষকের পক্ষে এটি অসম্ভব।

কিন্তু agro-processing-এর কাঠামোকে যদি collective ownership এবং decentralized processing-
এর ভিত্তিতে গড়ে তোলা যায়, তাহলে চিত্রটি ভিন্ন হতে পারে।

ধরা যাক, একটি ইউনিয়ন বা কয়েকটি গ্রামের ৫০০-১,০০০ কৃষক একই ধরনের আলু, পেঁয়াজ, আম, টমেটো,
মরিচ, দুধ কিংবা অন্য কোনো কৃষিপণ্য উৎপাদন করছেন। প্রত্যেকে আলাদাভাবে একটি processing plant
স্থাপন করবেন না। বরং কৃষকের সমবায়, private investor, ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রয়োজন হলে
সরকারের অবকাঠামোগত সহায়তায় একটি Farmer-Owned Processing Enterprise গড়ে উঠতে পারে।

এখানে কৃষক শুধু কাঁচামাল বিক্রি করবেন না; তিনি প্রতিষ্ঠানের shareholder হবেন।
অর্থাৎ মডেলটি হতে পারে:
কৃষক → সমবায় → সংগ্রহ → grading → storage → processing → branding → domestic
market/export

এবং লাভ হলে তার একটি অংশ কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য হিসেবে ফিরে আসবে, আরেকটি অংশ সমবায়ের
মূলধন বাড়াবে এবং প্রয়োজন হলে অংশীদারদের dividend হিসেবে বিতরণ হবে।
এটি মূলত cooperative agro-industrial model।
সরকারকে কারখানা চালাতে হবে এমন কথা আমি বলছি না।

আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপত্তি এখানেই ,সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রায়ই অদক্ষতা, অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়,
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং জবাবদিহিতার অভাবে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ফলে জনগণের করের
টাকা দিয়ে বারবার ভর্তুকি দিতে হয়।

আমি এ ধরনের মডেলকে সমর্থন করি না।
রাষ্ট্রের কাজ ব্যবসা করা নয়; রাষ্ট্রের কাজ এমন একটি ecosystem তৈরি করা, যেখানে বেসরকারি খাত, কৃষক
ও সমবায় লাভজনকভাবে ব্যবসা করতে পারে।

অর্থাৎ সরকার নিজে processing plant-এর মালিক ও পরিচালক না হয়ে জমি বা শিল্প অবকাঠামো দিতে পারে;
রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানি, cold chain-এর মতো common infrastructure তৈরি করতে পারে;কৃষকের জন্য দীর্ঘ
মেয়াদি ও কম খরচের অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে পারে;
credit guarantee দিতে পারে;
quality certification ও testing laboratory তৈরি করতে পারে;
export facilitation করতে পারে;
বাজার তথ্য সরবরাহ করতে পারে;
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কৃষক ও বিনিয়োগকারীর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি contractual relationship তৈরিতে সহায়তা
করতে পারে।

অর্থাৎ Government as facilitator, not government as entrepreneur.

এখানে সরকারের ব্যয় থাকবেই, কিন্তু সেটি কোনো লোকসানি সরকারি কারখানার operational subsidy না
হয়ে হবে public infrastructure investment।
এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে প্রবাসীরা কেন বিনিয়োগ করবেন?
আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসী যদি মুনাফা না পান, তাহলে তিনি কেন বিনিয়োগ করবেন?
অবশ্যই করবেন না।
তাই রেমিট্যান্সকে দান বা আবেগনির্ভর বিনিয়োগ হিসেবে দেখলে চলবে না। প্রবাসীর অর্থও একটি capital;
তারও risk-return expectation আছে।

আমাদের এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে যেখানে একজন প্রবাসী চাইলে সরাসরি নিজের গ্রামের
agro-processing enterprise-এ বিনিয়োগ করতে পারবেন এবং বিনিয়োগের বিপরীতে equity,
dividend কিংবা নির্দিষ্ট contractual return পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

এটি হতে পারে-
Diaspora Investment → Farmer Cooperative → Processing Enterprise → Market/
Export → Profit → Dividend

এখানে সরকার শুধু regulatory protection, transparency এবং প্রয়োজনীয় guarantee mechanism
দিতে পারে।

ধরা যাক, একজন প্রবাসী ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলেন। তিনি যেন শুধু ‘দেশের জন্য কিছু করছি’ এই আবেগে
বিনিয়োগ না করেন; বরং তাঁর সামনে পরিষ্কার business plan থাকবে।
কাঁচামাল কোথা থেকে আসবে, কারখানার capacity কত, কত টাকায় পণ্য কেনা হবে,processing cost কত,
কোথায় বিক্রি হবে,রপ্তানির সম্ভাবনা কী,কত revenue হবে,কত operating cost,কত profit,
এবং বিনিয়োগকারী কীভাবে তার অংশের মুনাফা পাবেন। তার নীজের ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা কী ভাবেনিশ্চিত
হবে , তার বিনিয়োগের অর্থ যথা নিয়মে তার নীজ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা/সুবিধা নিশ্চিত হবে।
অর্থাৎ রেমিট্যান্সকে charity নয়, investable capital-এ রূপান্তর করতে হবে।

এখানে digital transparency, independent audit এবং professional management অপরিহার্য।
সমবায় এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হতে পারে।

আপনি যে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কথা বলেছেন, আমার মনে হয় এই আলোচনার সবচেয়ে সম্ভাবনাময়
জায়গাগুলোর একটি এখানেই।

কারণ ক্ষুদ্র কৃষকের সবচেয়ে বড় সমস্যা শুধু টাকা নেই আরেকটি বড় সমস্যা হলো scale নেই।
একজন কৃষক ৫০ মণ আলু উৎপাদন করেন, আর একটি বড় processing company-এর দরকার হয় হাজার
হাজার টন। ফলে কৃষকের bargaining power থাকে না।সমবায় সেই fragmentation কমাতে পারে।

একটি কার্যকর কৃষক সমবায় করতে পারে-
Input purchase → Production planning → Collection → Storage → Processing → Marketing
→ Export

অর্থাৎ কৃষকের আলাদা আলাদা ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে একটি বৃহৎ collective enterprise-এ রূপান্তর করা।

তবে এখানে একটি বড় সতর্কতা আছে।বাংলাদেশে ‘সমবায়’ শব্দটি থাকলেই সমবায় সফল হবে না।
অতীতে বহু সমবায় রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতার অভাব এবং সদস্যদের অনাস্থার কারণে কার্যকর
হতে পারেনি। তাই নতুন সমবায় ব্যবস্থায় তিনটি বিষয় বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত-
১. Professional management
২. Independent audit এবং digital accounting
৩. Member-owned কিন্তু professionally managed governance

কৃষক সমবায়ের সদস্য ও shareholder হবেন, কিন্তু প্রতিদিনের ব্যবসা পরিচালনা করবেন প্রশিক্ষিত পেশাদার
ব্যবস্থাপক।
এতে ‘কৃষক সব জানবেন এবং নিজেই সব চালাবেন’এমন অবাস্তব ধারণাও থাকবে না; আবার ‘বাইরের ব্যবসায়ী
এসে কৃষকের মালিকানা নিয়ে নেবেন’ এমন ঝুঁকিও কমবে।
আলু-পেঁয়াজের উদাহরণটিই আমাদের শিক্ষা দেয়।আপনি খুব যথার্থভাবেই আলু ও পেঁয়াজের কথা বলেছেন।

কৃষক যখন বাজারে পণ্য নিয়ে এসে দেখেন দাম উৎপাদন খরচের কাছাকাছি বা তার নিচে নেমে গেছে, তখন তিনি
উৎপাদনের ঝুঁকি নিয়েও লাভ করতে পারেন না।

এখানে সমস্যা শুধু উৎপাদনের নয়; এটি post-harvest management এবং market timing-এর সমস্যা।
যদি কৃষকের কাছে পর্যাপ্ত storage থাকে, তাহলে তাকে harvest season-এর সর্বনিম্ন দামে সব পণ্য বিক্রি
করতে হবে না।আর যদি processing facility থাকে, তাহলে surplus production নষ্ট না হয়ে অন্য পণ্যে
রূপান্তরিত হতে পারে।

অর্থাৎ
Storage creates time value.
Processing creates value addition.
Collective marketing creates bargaining power.
এই তিনটি একসঙ্গে কৃষকের আয়কে স্থিতিশীল করতে পারে।

জলবায়ু ও পানি সংকটকে বাদ দিলে পুরো পরিকল্পনাই অসম্পূর্ণ,আপনার জলবায়ু ও পানি সংকটের বিষয়টিও অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ।আগামী দিনের কৃষি শুধু ‘আরও উৎপাদন’ করার কৃষি হতে পারে না। আমাদের প্রয়োজন climate-smart agriculture।অর্থাৎ কম পানি, কম জমি ও পরিবর্তিত জলবায়ুর মধ্যে বেশি মূল্য সৃষ্টি করতে হবে।

সেখানে কৃষি গবেষণা, drought/flood/salinity-tolerant varieties, efficient irrigation, rainwater
harvesting, soil management এবং crop diversification গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এখানে আবার কৃষি মন্ত্রণালয় একা সমস্যার সমাধান করতে পারবে না।পানি ব্যবস্থাপনায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়,
অর্থায়নে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক,কৃষি উৎপাদনে কৃষি মন্ত্রণালয়,processing-এ শিল্প মন্ত্রণালয়,
সমবায় সংগঠনে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়,রপ্তানিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়,প্রবাসী বিনিয়োগে প্রবাসী কল্যাণ ও
বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সবাইকে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।

এবং এখানেই আপনি আলোচনার সবচেয়ে গভীর সমস্যাটি চিহ্নিত করেছেন:
Silo effect-ই হয়তো সবচেয়ে বড় বাধা
আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় অনেকটা নিজস্ব সীমানার মধ্যে কাজ করে।
কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষি দেখে। শিল্প মন্ত্রণালয় শিল্প দেখে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাণিজ্য দেখে।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সমবায় দেখে।পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় পানি দেখে।
অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থ দেখে।

কিন্তু কৃষক যে একই সঙ্গে কৃষক, উদ্যোক্তা, ঋণগ্রহীতা, ভোক্তা এবং একটি value chain-এর অংশীদার
এই সমন্বিত বাস্তবতাটি কোনো একটি মন্ত্রণালয়ের সীমার মধ্যে পড়ে না।

তাই আমার প্রস্তাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ আসলে কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় নয়; বরং institutional coordination mechanism।
প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে আলাদাভাবে কাজ করার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট agro-value-chain-এর জন্য joint programme
তৈরি করা যেতে পারে।
ধরা যাক, ‘আলু’কে একটি pilot value chain হিসেবে নেওয়া হলো।তাহলে একটি যৌথ programme-এর অধীনে
কৃষি মন্ত্রণালয় → উৎপাদন ও কৃষি প্রযুক্তি
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় → কৃষক সংগঠন
শিল্প মন্ত্রণালয় → processing infrastructure
অর্থ মন্ত্রণালয়/ব্যাংক → finance ও guarantee
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় → market/export
পানি সম্পদ → irrigation/water management
প্রবাসী কল্যাণ/বিনিয়োগ সংস্থা → diaspora investment
এবং একটি নির্দিষ্ট lead agency বা empowered coordination authority পুরো value chain-এর
ফলাফল পরিমাপ করবে।তখন কেউ বলতে পারবে না‘আমার মন্ত্রণালয়ের কাজ শেষ’।
কারণ লক্ষ্য হবে একটি ফলাফল:
কৃষকের net income কত বাড়ল?
পচন ও অপচয় কত কমল?
processing capacity কত বাড়ল?
কত কর্মসংস্থান হলো?
কত রপ্তানি হলো?
কত বৈদেশিক মুদ্রা এলো?
এগুলোই হবে performance indicator।

যাকাত ও কর্জে হাসানা এখানেও সম্ভাবনা আছে, তবে কাঠামো দরকার
আপনি যাকাত ফান্ড এবং কর্জে হাসানা-র কথা বলেছেন এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্ভাবনা।
তবে এখানেও সতর্কতা জরুরি।

যাকাতের অর্থকে শুধু নগদ সহায়তা হিসেবে দিলে একটি পরিবার হয়তো সাময়িকভাবে উপকৃত হবে। কিন্তু যদি
যোগ্য উপকারভোগীকে উৎপাদনশীল asset, livestock, কৃষি উপকরণ, ক্ষুদ্র processing equipment বা
income-generating activity-তে যুক্ত করা যায়, তাহলে যাকাতের অর্থ consumption support থেকে
productive asset creation-এ রূপ নিতে পারে শরিয়াহসম্মত কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট আলেম/বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
আর কর্জে হাসানা হতে পারে স্বল্পমেয়াদি উৎপাদন ঋণের একটি সামাজিক অর্থায়ন ব্যবস্থা।
তবে এর জন্য একটি revolving fund প্রয়োজন।
কৃষক কর্জে হাসানা নিলেন → ফসল উৎপাদন করলেন → বিক্রি করলেন → মূল টাকা ফেরত দিলেন → সেই
টাকা আবার অন্য কৃষক পেলেন।এভাবে একই মূলধন বারবার ঘুরতে পারে।

কিন্তু এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্জে হাসানা যেন রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত অনুগ্রহের অর্থে পরিণত না হয়।

এর জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ eligibility criteria, digital disbursement, repayment tracking, audit এবং
স্থানীয় পর্যায়ে বিশ্বাসযোগ্য governance।তবে সব কৃষককে ঋণ দেওয়াই সমাধান নয়
এখানে আমি আপনার NGO-গুলোর উচ্চ সুদের ঋণের প্রসঙ্গটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।

কৃষকের সমস্যা শুধু ‘ঋণ পাচ্ছেন না’ নয়।অনেক সময় সমস্যা হলো
ঋণ + উচ্চ সুদ + অনিশ্চিত বাজার + উৎপাদন ঝুঁকি = ঋণের ফাঁদ।
তাই কৃষিকে শুধু credit দিয়ে লাভজনক করা যাবে না।

প্রয়োজন:
Affordable finance + crop insurance + guaranteed/contract market + storage + price
information এই পাঁচটি একসঙ্গে কাজ করতে হবে।অন্যথায় কৃষক ঋণ নেবেন, ফসল ফলাবেন, বাজারে দাম
পড়ে যাবে, ঋণ পরিশোধ করতে আবার সম্পদ বিক্রি করবেন।এটি উন্নয়ন নয়; এটি debt cycle।

তাহলে কি বাংলাদেশের মতো দেশে এই মডেল সম্ভব?
আমার উত্তর হ্যাঁ, সম্ভব; কিন্তু রাতারাতি জাতীয় পর্যায়ে নয় এবং সরকার নিজে সব করবে এমন মডেলেও নয়।
আমার মতে, প্রথমে pilot → evaluate → improve → scale পদ্ধতিতে এগোতে হবে।
একটি জেলা বা কয়েকটি নির্বাচিত value chain দিয়ে শুরু করা যায়।

যেমন:
আলু → cold storage + processing
আম → pulp/juice/dried mango
দুধ → dairy processing
টমেটো → paste/sauce
মসলা → cleaning/grading/packaging
মাছ → cold chain + value-added processing

প্রথমে ২–৩টি value chain-এ মডেলটি পরীক্ষা করা হবে।

যেখানে দেখা হবে-
কৃষকের আয় কত বাড়ছে,processing cost কত,বিনিয়োগের return কত,সমবায়ের governance কেমন,
প্রবাসী বিনিয়োগকারীর return কেমন,সরকারের প্রতি টাকা ব্যয়ে কত economic value সৃষ্টি হচ্ছে।
যে মডেল কাজ করবে সেটিই বড় করা হবে। যে মডেল কাজ করবে না সেটি বন্ধ করা হবে।

এখানে সরকারের সবচেয়ে বড় গুণ হওয়া উচিত ব্যর্থতা স্বীকার করে দ্রুত course correction করার ক্ষমতা।
শেষ পর্যন্ত এটি agro-processing-এর চেয়েও বড় একটি প্রশ্ন
আমার কাছে আপনার মন্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শেষের দুটি শব্দ“Silo effect.”

আমি মনে করি, আমাদের উন্নয়ন সমস্যার বড় একটি অংশ প্রকল্পের অভাব নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের অভাব।
একটি কৃষকের জীবনে কৃষি মন্ত্রণালয়, সমবায় মন্ত্রণালয়, ব্যাংক, স্থানীয় সরকার, পানি, বাণিজ্য, শিল্প সবই একই
বাস্তবতার অংশ। কিন্তু রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে তারা আলাদা আলাদা ঘরে বসে কাজ করে।

তাই দেশের যে কোন সরকারের জন্য আমার প্রস্তাব হবে Ministry-based planning-এর পাশাপাশি Value-chain
-based planning চালু করা।অর্থাৎ কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প’ নয়, বরংবাংলাদেশ আলু Value Chain Programme”

অথবা
“National Agro-Processing and Farmer Income Programme”

এর মতো ফলাফলভিত্তিক আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মসূচি।প্রতিটি programme-এর একজন accountable lead থাকবে,
নির্দিষ্ট budget থাকবে, measurable target থাকবে এবং প্রতি বছর independent evaluation হবে।

তাহলেই বোঝা যাবে সরকারের টাকা কোথায় গেল, কৃষকের কী লাভ হলো এবং দেশের অর্থনীতিতে কত value
সৃষ্টি হলো।

আমার মূল বক্তব্য তাই একটু সংশোধন করে বলা যায়:

সরকারকে agro-processing-এর মালিক হতে হবে না; সরকারকে agro-processing-এর ecosystem
তৈরি করতে হবে।

কৃষককে কারখানা বানাতে হবে না; কৃষককে value chain-এর মালিকানা ও ন্যায্য অংশীদারিত্ব দিতে হবে।

প্রবাসীকে দান করতে হবে না; তাকে স্বচ্ছ, লাভজনক ও নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে।

সমবায়কে শুধু কাগজে সংগঠন বানালে হবে না; তাকে professionally managed farmer-owned enterprise
-এ রূপান্তর করতে হবে।
যাকাত ও কর্জে হাসানাকে রাজনৈতিক বণ্টন নয়; স্বচ্ছ ও উৎপাদনশীল সামাজিক অর্থায়নের কাঠামোয় আনতে হবে।
আর মন্ত্রণালয়গুলোকে আলাদা আলাদা প্রকল্প না করে একই value chain-এর যৌথ ফলাফলের জন্য দায়বদ্ধ
করতে হবে।

শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যটা খুব সরল:কৃষক যেন শুধু বেশি উৎপাদন করে বেশি ক্ষতি না করেন; বরং কম ঝুঁকিতে বেশি মূল্য পান।
প্রবাসী যেন শুধু টাকা পাঠান না; চাইলে সেই অর্থ দিয়ে লাভজনক উৎপাদনশীল সম্পদের অংশীদার হতে পারেন।
সরকার যেন ব্যবসা না করে; বরং ব্যবসা করার জন্য সঠিক পরিবেশ তৈরি করে।

সমবায় যেন শুধু সনদধারী সংগঠন না হয়; কৃষকের collective bargaining এবং collective ownership
এর শক্তিতে পরিণত হয়। সবচেয়ে বড় কথা-

একজন কৃষকের সমস্যাকে কোনো একক মন্ত্রণালয়ের সমস্যা হিসেবে না দেখে ‘জাতীয় অর্থনৈতিক value-chain problem’ হিসেবে দেখতে হবে।তাহলেই হয়তো আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত চক্রটি তৈরি করতে পারব:
Remittance → Investment → Cooperative → Production → Processing → Export → Foreign Exchange → Reinvestmentএবং এর কেন্দ্রে থাকবে একজন মানুষ কৃষক।

কারণ কৃষককে বাদ দিয়ে agro-processing হবে শিল্পের প্রকল্প; কিন্তু কৃষককে alue chain-এর কেন্দ্রবিন্দুতে
রাখলে সেটিই হয়ে উঠতে পারে গ্রামীণ অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রকল্প।

আমার কাছে তাই এই আলোচনার পরবর্তী প্রশ্ন আর ‘agro-processing সম্ভব কি না’ নয়।

প্রশ্ন হওয়া উচিত আমরা কি এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে পারি, যেখানে কৃষক, সমবায়, প্রবাসী বিনিয়োগকারী, বেসরকারি উদ্যোক্তা, ব্যাংক এবং রাষ্ট্র প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে লাভবান হবে, অথচ জাতীয় অর্থনীতিও একই সঙ্গে লাভবান হবে?

আমি মনে করি, বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য বাস্তবসম্মত পথটি ঠিক এখানেই।

শুভেচ্ছা রইল

৬| ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: যতটুকু বুঝলাম, আপনি স্পেশাল ইকোনমিক জোনের আদলে একটা এগ্রো প্রসেসিং স্পেশাল জোনের কথা বলছেন, যেখানে সরকার নিজে ক্যাপিটাল না ঢেলে প্রবাসীদের একটা ইনভেস্টমেন্ট চ্যানেল হিসেবে ব্যবহার করবে যাতে তারা ভালো একটা রিটার্ন পান। ধারণাটা আসলেই ভালো, তবে ফাইন্যান্সিয়াল দিক থেকে কিছু জায়গা আরেকটু খোলাসা হওয়া দরকার মনে হচ্ছে। প্রথমেই মাথায় আসে টেকনোলজির প্রশ্নটা। সাধারণত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিজেরাই বিনিয়োগের সাথে সাথে টেকনোলজি নিয়ে আসেন। এখানে সেই টেকনোলজিটা ঠিক কে আনবে, সেটা একটু জানা দরকার। এরপর আসে ইনভেস্টরের ইনসেন্টিভের ব্যাপারটা। প্রবাসীরা তো ব্যাংকে টাকা রাখলেও একটা নিশ্চিত রিটার্ন পান, বা এর চেয়ে ভালো রিটার্ন দেয় এমন জায়গাও আছে বাজারে। তাহলে ঝুঁকি আর রিটার্নের হিসাব করলে তারা কেন এখানে বিনিয়োগ করবেন, আর ঠিক কী ধরনের সুবিধা পাবেন, সেটা স্পষ্ট থাকা দরকার। কৃষিপণ্য যেহেতু দ্রুত পচনশীল, তাই প্রবাসীরা এই ঝুঁকিটা নিয়ে দ্বিধায় পড়তে পারেন। এখানে এমন কোনো ব্যবস্থা রাখা যায় কিনা যাতে যে অঞ্চলের প্রবাসীরা বিনিয়োগ করছেন তারাই সেই জোনের তৈরি পণ্যগুলো কেনার সুযোগ পান, সেটাও ভেবে দেখার মতো একটা বিষয়। এতে অন্তত চাহিদার একটা নিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

এই ধরনের প্রসেসিং জোনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস আর বিদ্যুৎ সরবরাহ খুবই জরুরি, অথচ দেশে এই দুটোরই সংকট চলছে এখন। বায়োগ্যাস বা বর্জ্য থেকে জ্বালানি তৈরির মতো বিকল্প কিছু এখানে কাজে লাগানো যায় কিনা ? জোন তৈরির জন্য জমি লাগবে। সেটা অধিগ্রহণ করে করা হবে, নাকি কৃষকদের সাথে মিলে একটা সমবায় ধরনের মডেলে যাওয়া যায়, এই সিদ্ধান্তের ওপর প্রজেক্টের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই নির্ভর করবে। এখানে আরেকটা বিষয়ও ভাবার আছে। প্রসেসিং প্ল্যান্ট, ওয়্যারহাউজ, এসবের জন্য আলাদা করে জমি লাগবে। এখন শেয়ার মডেলে যদি কৃষকের কাছ থেকেই জমিটা নিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে কৃষিপণ্য উৎপাদন হবে কোথায়? কারণ প্রসেসিং জোনের জমি আর চাষের জমি তো এক জিনিস না, দুটো আলাদা দরকার হয় । কৃষকের যে জমিতে তিনি ফসল ফলান, সেটা যদি জোনের ভেতরে চলে যায়, তাহলে তার উৎপাদনের জমি কমে যাচ্ছে। তাই এখানে স্পষ্ট করা দরকার, জোনের জন্য আলাদা একটা নির্দিষ্ট জমি, হয়তো অনাবাদি বা কম উর্বর জমি বেছে নেওয়া, যাতে কৃষকের চাষের জমি অক্ষত থাকে আর উৎপাদনও ব্যাহত না হয়। প্রবাসীরা যে মুনাফার আশা করবেন, সেটার নিশ্চয়তা আসলে কে দেবে, এটাও একটা মূল প্রশ্ন। এটা ছাড়া ইনভেস্টরের আস্থা তৈরি হওয়া কঠিন। আর কৃষক তার পণ্য কীভাবে জোন পর্যন্ত পৌঁছে দেবেন, শ্রমিক কারা হবেন, আর পুরো ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে কারা থাকবেন, এই অপারেশনাল দিকগুলোও পরিষ্কার হওয়া দরকার। দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকের উৎপাদন খরচ তো এক না। তাহলে দাম ঠিক হবে কীভাবে, আর কৃষক কেনই বা অন্য কোথাও না বেচে এখানেই তার পণ্য বিক্রি করবেন ?

০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:০৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার মুল্যবান মন্তব্যের উত্তর দেয়ার পুর্বে আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাতে চাই যে এখন পর্যন্ত যে কয়টি
পর্ব এখানে তুলে ধরা হয়েছে তা গবেষনা পত্রটির ১ম অধ্যায়ের ভুমিকার অংশ বিশেষ মাত্র । এখন পর্যন্ত পর্ব ১ এ
গবেষনাটির পটভুমি , ২ পর্বে গবেষনার সমস্যা , ৩য় পর্বে গবেষনার উদ্দেশ্য ও ৪র্থ পর্বে গবেষনার প্রশ্ন তুলে ধরা
হয়েছে। ,এর পরের পর্ব ৫ এ থাকবে গবেষনার হাইপোথেসিস , ৬ষ্ট পর্বে থাকবে ,গবেষনার মেথডলজি তথা পদ্ধতি,
সপ্তম পর্বে থাকবে গবেষণার পরিধি ও সীমাবদ্ধতা, ৮ম পর্বে থাকবে গবেষণার গুরুত্ব ও অবদান এবং ৯ম পর্বে
থাকবে ১ম অধ্যায় তথা ভুমিকা অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ ।

দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে শুরু হবে বর্তমান অবস্থার পর্যালোচনা পর্ব যা শেষ হতে বেশ কটি পর্ব লেগে যাবে। প্রায় ১০ টি
অধ্যায়ে রচিত গবেষনা পত্রটি ধাপে ধাপে এখানে তুলে ধরা হবে । তাই আপনার অনেক প্রশ্নের উত্তর যথা সময়ে
যথাযথভাবে পাবেন বলে ধারনা করছি ।

এখন আপনার মন্তব্যের উত্তর দানের পুর্বে আরো একটি বিষয়ে আপনাকে জানাচ্ছি যে আপনি হয়তবা আমার পুর্বেকার
পোস্টগুলি পাঠ করেন নি । তাই অপনাকে অনুরোধ করব আমার বিশাল আকারের নিন্মোক্ত লেখাটি বিশেষ করে সেই
পোস্টের মধ্যভাগ হতে শুরু হওয়া “ভিলেজ সেন্টারে গৃহায়নের পাশাপাশি গ্রামীন এলাকায় ইন্ডাসট্রিয়াল এস্টেট/শিল্প
পার্ক স্থাপন” অংশটি পাঠ করার জন্য। সেটি পাঠ করলে দেখতে পাবেন প্রতিটি ভিলেজ সেন্টারে ১টি করে ইন্ডাসট্রিয়েল
এস্টেট করার জন্য আমি বিস্তারিত রূপকল্প তুলে ধরেছি ।
গ্রামীণ এলাকায় হরাইজনটাল এবং ভার্টিকেল গৃহ নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সৃজনের লক্ষ্যে একটি রূপকল্প

যাহোক, আপনি সেটি পাঠ করুন, এরিমধ্যে আমি আপনার মন্তব্যের প্রতিটি বিষয়ে আমার মতামত তুলে ধরার
জন্য কলম ধরি । আলোচনা মনে হয় বেশ বড় আকারের হবে। তাই বিরক্ত বোধ না করে ধৈর্য ধরে পাঠের জন্য
অনুরোধ থাকল ।

আপনার মন্তব্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বরং বলা যায়, আপনি যে প্রশ্নগুলো তুলেছেন সেগুলোই একটি ধারণাকে ‘ভালো
আইডিয়া’ থেকে বাস্তবসম্মত investment-grade development model-এ রূপান্তর করার জন্য অপরিহার্য।
আমি শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই আমার প্রস্তাবের উদ্দেশ্য কোনো সরকারি মালিকানাধীন ‘Agro
Processing Corporation’ তৈরি করা নয়, যেখানে সরকার মূলধন দেবে, কারখানা করবে, লোক নিয়োগ করবে
এবং পরে লোকসান হলে জনগণের করের টাকা দিয়ে তা চালাবে। বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এ
ধরনের মডেলকে আমি অর্থনৈতিকভাবে টেকসই মনে করি না।

আমার চিন্তাটি বরং Special Economic Zone-এর ধারণা, farmer cooperative, private investment,
diaspora capital এবং local economic development এই কয়েকটি ধারণাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর
মধ্যে আনা।
অর্থাৎ-
সরকার অবকাঠামো ও নীতিগত পরিবেশ তৈরি করবে;
বেসরকারি খাত প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা আনবে;
প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগকারী মূলধন দেবেন;
কৃষক কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে equity/ownership দেবেন;
আর পুরো ব্যবস্থাটি professional management-এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

এখন আপনার প্রতিটি প্রশ্ন ধরে বিষয়টি একটু বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করছি।
১. এটি শুধু Agro-Processing Zone নয় আমি এটিকে ‘Local Agro-Industrial Ecosystem’ হিসেবে
দেখতে চাই।
আপনি যে Special Economic Zone-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন, সেটি যথার্থ। তবে আমার ধারণায় প্রতিটি
অঞ্চলের Agro-Processing Zone একটি বিচ্ছিন্ন শিল্পাঞ্চল হবে না। এটি হবে একটি স্থানীয় অর্থনৈতিক
ecosystem-এর কেন্দ্র।

বছর কয়েক আগে আমি দেশের সমগ্র এলাকায় একটি করে Village Centre গড়ে তুলে তার সঙ্গে একটি করে
Industrial Estate স্থাপনের একটি রূপকল্প নিয়ে পোষ্ট দিয়াছিলাম সে কথা পুর্বেই আপনাকে জানিয়েছে। সেই
ধারণার মূল দর্শন ছিল উন্নয়নকে শুধু রাজধানী বা বড় শহরকেন্দ্রিক না রেখে স্থানীয় পর্যায়েই এমন একটি অর্থনৈতিক
কেন্দ্র তৈরি করা, যেখানে স্থানীয় মানুষের উৎপাদন, সেবা, ক্ষুদ্র শিল্প, কৃষি ও বাজার সবকিছুর মধ্যে সংযোগ তৈরি
হবে।

এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল এটি সম্পূর্ণভাবে সরকারের অর্থে করার প্রয়োজন নেই; বরং self-financing বা locally
mobilised capital model-এর মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করা যায়।
আজকের Agro-Processing Zone-এর ধারণাটিকে আমি সেই পুরনো Village Centre/Industrial Estate
ধারণার একটি sector-specific এবং আধুনিক সংস্করণ হিসেবে দেখতে চাই।
অর্থাৎ প্রতিটি উপজেলায় একই ধরনের কারখানা নয়; বরং এলাকার কৃষি উৎপাদনের ধরন অনুযায়ী
Potato Processing Zone
Mango Processing Zone
Dairy Processing Cluster
Fish Processing Cluster
Spice Processing Cluster
Vegetable Processing & Cold Chain Cluster
ইত্যাদি তৈরি হতে পারে।
এতে ‘একটি মডেল সারা দেশে’ নয়; বরং local comparative advantage-based industrialisation হবে।

২. প্রযুক্তি কে আনবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
আপনার প্রযুক্তি-সংক্রান্ত প্রশ্নটির উত্তর হলো প্রযুক্তি সরকারের আনার প্রয়োজন নেই।
বরং আমি এখানে তিন স্তরের technology sourcing দেখতে চাই।
প্রথমত Strategic/foreign investor।
যেসব আন্তর্জাতিক কোম্পানির নির্দিষ্ট agro-processing technology, processing line, packaging
technology, cold-chain technology বা quality-control expertise রয়েছে, তাদের Joint Venture
বা FDI-এর মাধ্যমে আনা যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত দেশীয় private sector।
বাংলাদেশের খাদ্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে ইতোমধ্যে যারা কাজ করছে, তাদেরকে anchor investor হিসেবে যুক্ত
করা যায়।
তৃতীয়ত Technology Licensing/Joint Venture ।nvestment ( JVI)
কোনো বিদেশি কোম্পানিকে পুরো মালিকানা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তারা technology, machinery,
technical know-how ও quality management দিতে পারে; স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা capital দিতে পারেন।
অর্থাৎ মডেল হতে পারে:
Foreign Technology + Local Capital + Diaspora Capital + Farmer Supply + Professional Management
এটি FDI-এর একটি বিকল্প নয়; বরং FDI-কে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার একটি উপায়।
আর এখানেই সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ ব্যবস্থার ভূমিকা থাকবে। সব প্রযুক্তিই
বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে এমন ধারণাও ঠিক নয়। কিছু প্রযুক্তি স্থানীয়ভাবেই adaptation ও
development করা সম্ভব।

৩. প্রবাসীরা কেন বিনিয়োগ করবেন?
এটি সম্ভবত পুরো মডেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ financial question।
প্রবাসীকে দেশপ্রেমের দোহাই দিয়ে বিনিয়োগ করানো যাবে না।Investment decision is based on risk-adjusted return.
একজন প্রবাসী যদি ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র, property বা অন্য কোনো বিনিয়োগে তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে নির্দিষ্ট
return পান, তাহলে তিনি কেন একটি নতুন agro-processing venture-এ যাবেন?
অতএব প্রবাসী বিনিয়োগের জন্য তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে:
১. Competitive return
২. Risk mitigation
৩. Transparency
সরকারের কাজ ‘মুনাফার গ্যারান্টি’ দেওয়া নয়। কোনো ব্যবসায় সরকারকে artificial profit guarantee দিলে
সেটি আবার fiscal liability তৈরি করতে পারে।
বরং সরকার করতে পারে
credit guarantee; political/regulatory risk mitigation; transparent land lease;
tax/customs incentives; infrastructure support; export facilitation; insurance framework;
dispute resolution; independent audit এবং disclosure।
অর্থাৎ government guarantees the environment, not the profit.
লাভ করবে কি না সেটি business model নির্ধারণ করবে।
এখানে প্রবাসীদের জন্য Diaspora Investment Fund বা region-based investment vehicle তৈরি করা
যেতে পারে।
ধরা যাক, একটি উপজেলার ১০,০০০ প্রবাসী আছেন। তাদের প্রত্যেককে আলাদা আলাদা কারখানা করতে হবে না।
একটি professionally managed investment company বা cooperative investment vehicle গঠন
করা হলো।
কেউ ১ লাখ টাকা, কেউ ৫ লাখ, কেউ ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলেন।
তাহলে হাজার হাজার ছোট remittance flow একত্রিত হয়ে institutional capital তৈরি করতে পারে।
এটি মূলত
Small Individual Capital → Pooled Investment → Large Productive Asset
এই রূপান্তর।

৪. ‘যে অঞ্চলের প্রবাসী, সেই অঞ্চলের পণ্য’ আপনার ধারণাটিও অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে
আপনার এই প্রস্তাবটির মধ্যে behavioural economics-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে।
একজন প্রবাসী নিজের এলাকার পণ্যকে অন্য এলাকার পণ্যের তুলনায় বেশি গ্রহণ করতে পারেন
এখানে community affinity কাজ করে।
কিন্তু এটিকে শুধু আবেগের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বরং এটিকে commercial market mechanism-
এ রূপ দেওয়া যায়।
উদাহরণস্বরূপ, একটি অঞ্চলের agro-processing enterprise তাদের পণ্য প্রথমে
Diaspora Community → Ethnic Grocery/Restaurant → Regional Market → National
Market → Export Market এই ধাপে বাজারজাত করতে পারে।
প্রবাসীরা এখানে শুধু investor নন; তাঁরা diaspora market access partner-ও হতে পারেন।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রাখতে হবে—কৃষিপণ্যের জন্য ‘guaranteed buyer’ ধারণা যেন monopoly
তৈরি না করে।
প্রবাসী বিনিয়োগকারী পণ্য কিনতে পারেন, কিন্তু competitive pricing এবং quality standard বজায় রাখতে হবে।

৫. কৃষিপণ্যের perishability কীভাবে মোকাবিলা করা হবে?
এখানেই Agro-Processing Zone-এর মূল অর্থনৈতিক যুক্তি।
কৃষকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি অনেক সময় উৎপাদন নয়; post-harvest risk।
ফসল উঠল, কিন্তু বাজারে দাম নেই।
তখন কৃষককে উৎপাদন খরচের নিচে বিক্রি করতে হয়।
তাই Zone-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে:
Collection Centre + Grading + Sorting + Cold Storage + Warehouse + Processing + Packaging
এগুলোকে আলাদা প্রকল্প হিসেবে না দেখে একটি integrated chain হিসেবে দেখতে হবে।
যেমন আলুর ক্ষেত্রে—
Farmer → Collection → Grading → Cold Storage → Processing → Chips/Flakes/Starch/Frozen Product → Domestic/Export Market
তখন বাজারে আলুর দাম পড়ে গেলেও কৃষকের পণ্য সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হবে না।
অর্থাৎ processing becomes a buffer against price volatility.

৬. গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
আপনি যথার্থই বলেছেনএকটি processing industry নিরবচ্ছিন্ন power এবং energy ছাড়া টিকতে পারবে না।
এখানে আমি জাতীয় grid-এর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল মডেলকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করি।
প্রতিটি Agro-Industrial Zone-কে একটি distributed energy system হিসেবে পরিকল্পনা করা যায়।
যেখানে থাকতে পারে
Solar + Grid + Battery + Biogas + Biomass + Waste-to-Energy
বিশেষ করে কৃষিপণ্যের বর্জ্য এখানে একটি economic resource।
ধানের তুষ, ভুট্টার অবশিষ্টাংশ, আখের বর্জ্য, ফল-সবজির waste, animal waste—এসব থেকে biogas/biomass energy উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।
অর্থাৎ—
Agricultural Waste → Energy → Processing → By-product → Fertilizer
একটি circular economy তৈরি করা যায়।
তবে এখানেও প্রযুক্তিগত feasibility study অপরিহার্য। সব এলাকায় সব ধরনের renewable energy একইভাবে কার্যকর হবে না।

৭. জমির প্রশ্নে কৃষকের চাষের জমি নষ্ট করা যাবে না
আপনার এই আপত্তির সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত।
Agro-processing Zone বানাতে গিয়ে যদি কৃষিজমি ধ্বংস করতে হয়, তাহলে আমরা এক সমস্যা সমাধান
করতে গিয়ে আরেকটি বড় সমস্যা সৃষ্টি করব।তাই পরিকল্পনার মৌলিক নীতি হওয়া উচিত:
Productive Agricultural Land Protection
Zone-এর জন্য প্রথম পছন্দ হতে পারে-
অনাবাদি জমি; কম উৎপাদনশীল জমি; পরিত্যক্ত শিল্প জমি;সরকারি উপযুক্ত জমি;
বিদ্যমান industrial cluster-এর সম্প্রসারণযোগ্য এলাকা;অথবা পরিকল্পিত land pooling।
এখানে Land Acquisition হওয়া উচিত সর্বশেষ বিকল্প।

৮. কৃষকের জমি কি share capital হিসেবে নেওয়া যায়?
যায়, কিন্তু অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে।
কৃষকের জমি নিয়ে তাকে ‘shareholder’ বানানোর ধারণাটি আকর্ষণীয় হলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায়
land-based equity model-এর মধ্যে বড় সামাজিক ও আইনি ঝুঁকি আছে।
কারণ একজন দরিদ্র কৃষক আজ জমির প্রকৃত বাজারমূল্য না বুঝে share-এর বিনিময়ে জমি দিয়ে দিলে
ভবিষ্যতে তার সম্পদ হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তাই আমি land ownership transfer-এর চেয়ে long-term lease বা land pooling-কে বেশি নিরাপদ মনে করি।
কৃষক জমির মালিক থাকবেন।সমবায় বা SPV দীর্ঘমেয়াদি lease নেবে।
কৃষক পাবেন
Lease Income + Cooperative Share + Profit Participation
অর্থাৎ জমি বিক্রি করে কৃষক এককালীন টাকা নিয়ে সম্পদ হারাবেন না।
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৯. কৃষকের জমি আর processing zone দুটিকে আলাদা রাখতে হবে
আপনি একেবারে সঠিক প্রশ্ন করেছেন।
Zone-এর জমি এবং production land আলাদা হতে হবে।
বরং Zone-এর চারপাশের কৃষিজমিগুলোকে contract farming / cooperative supply network-এর
সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে।
তখন Zone হবে processing hub এবং আশেপাশের কৃষিজমি হবে production belt।
এটি অনেকটা এমন:
Production Belt → Collection Network → Processing Hub → Market/Export
এখানে কৃষকের উৎপাদন জমি অক্ষত থাকে, কিন্তু তিনি processing economy-এর অংশীদার হন।

১০. কৃষক কেন Zone-এ পণ্য বিক্রি করবেন?
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ incentive question।
কৃষককে কোনো আইন দিয়ে জোর করে পণ্য Zone-এ বিক্রি করানো উচিত নয়।
তাকে এমন সুবিধা দিতে হবে যাতে তিনি নিজেই সেখানে বিক্রি করতে চান।
যেমন:
স্বচ্ছ ওজন; দ্রুত payment; market-based pricing; quality premium;transportation support;
grading সুবিধা; storage সুবিধা; input support; crop advisory;advance contract; এবং সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ হল অন্য বাজারের তুলনায় competitive net return ।
কৃষক যেখানে বেশি net price পাবেন, সেখানেই বিক্রি করবেন।এটি বাজারের মৌলিক নিয়ম। তাই Zone-কে
competitive হতে হবে।

১১. কৃষিপণ্যের দাম কীভাবে নির্ধারণ হবে?
এখানেও arbitrary government price নির্ধারণ করলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
আমি একটি transparent formula-based pricing mechanism-এর কথা ভাবছি।
উদাহরণ:
**Reference Market Price
– Quality Adjustment
– Processing/Logistics Cost
Quality Premium = Farmer Procurement Price
অথবা উৎপাদন খরচের একটি benchmark রাখা যেতে পারে।
এখানে কৃষকের cost of production data অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ দেশের সব জেলার উৎপাদন খরচ এক নয়।
তাই district-wise বা agro-climatic zone-wise cost index তৈরি করা যেতে পারে।
এতে ‘সব কৃষকের জন্য একই দাম’ নয়, বরং একটি transparent pricing formula তৈরি হবে।

১২. শ্রমিক কোথা থেকে আসবে?
এখানেও স্থানীয় অর্থনীতির বড় সুযোগ আছে।
Processing Zone-এ স্থানীয় তরুণদের জন্য skill development programme চালু করা যায়।
যেমন
Food Processing, Machine Operation, Cold Chain Management,Quality Control
Packaging, Digital Inventory, Logistics, Maintenance ইত্যাদি ।
এগুলোতে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান করা সম্ভব।
অর্থাৎ Zone শুধু কৃষকের বাজার তৈরি করবে না; গ্রামেই non-farm employment সৃষ্টি করবে।
এতে কৃষি থেকে মানুষ পুরোপুরি বেরিয়ে না গিয়ে কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত শিল্প ও সেবাখাতে স্থানান্তরিত হতে
পারবেন। এটাই একটি সুস্থ structural transformation।

১৩. Management কার হাতে থাকবে?
এখানে আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেব professional management-কে।
কৃষক মালিক হতে পারেন, প্রবাসী shareholder হতে পারেন, সরকার facilitator হতে পারে কিন্তু কারখানা
পরিচালনা রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হাতে দেওয়া যাবে না।
একটি independent Special Purpose Vehicle (SPV) গঠন করা যেতে পারে।
উদাহরণ:
40% Farmer Cooperative
30% Private/Diaspora Investors
20% Strategic/Technology Investor
10% Institutional/Development Capital
এটি শুধু একটি illustrative structure; প্রকল্পভেদে অনুপাত পরিবর্তিত হবে।
Board-এ কৃষক, investor এবং independent professional director থাকতে পারেন।
কিন্তু CEO, CFO, , production manager, export manager সবাই হবে professionally recruited।

১৪. ‘Profit guarantee’ নয়‘risk-adjusted investment architecture’
আপনার প্রশ্ন ছিল প্রবাসীর মুনাফার নিশ্চয়তা কে দেবে?
এখানে আমার মতে শব্দটি একটু পরিবর্তন করা দরকার।
Profit guarantee দেওয়া রাষ্ট্রের কাজ নয়।
বরং রাষ্ট্রের কাজ হলো এমন ব্যবস্থা তৈরি করা যাতে
Risk is identifiable, measurable and manageable.
এর জন্য থাকতে পারে: Political Risk Insurance, Credit Guarantee, Crop Insurance
Property/Asset Insurance, Contract Enforcement,Independent Audit,Escrow Account,
Digital Financial Reporting তাহলে investor জানবেন তাঁর ঝুঁকি কতটা।
এটাই একটি mature investment ecosystem-এর লক্ষণ।

১৫. সরকারের ভূমিকা কোথায়?
আমার প্রস্তাবে সরকার হবে না Factory Owner, হবেনা Factory Manager হবেনা
Permanent Subsidy Provider
বরং সরকার হবে Infrastructure Provider, হবে Regulator , হবে Risk Mitigator হবে Standard
Setter হবে Facilitator, হবে Coordinator এই distinction অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার যদি ১০০টি processing factory নিজে বানায়, তাহলে ১০০টি সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ার ঝুঁকি আছে।
কিন্তু সরকার যদি ১০০টি business ecosystem তৈরি করে, তাহলে সেখানে হাজার হাজার private enterprise
জন্ম নিতে পারে।
এটাই পরিকল্পনাগতভাবে অধিক কার্যকর।

১৬. এখানে আমারর আগের ‘Village Centre + Industrial Estate’ ধারণাটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক
কয়েক বছর আগে আমি যে রূপকল্পটি তুলে ধরেছিলামদেশের গ্রামীন এলাকায় Village Centre স্থাপন এবং তার
সঙ্গে একটি করে self-financing Industrial Estate গড়ে তোলা আজকের আলোচনার সঙ্গে সেটির একটি
সরাসরি সম্পর্ক আছে।
সেই ধারণার মূল উদ্দেশ্য ছিল, গ্রামের অর্থনীতিকে শুধু কৃষির ওপর নির্ভরশীল না রেখে
Agriculture + Small Industry + Processing + Services + Market + Finance
একটি স্থানীয় অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা।
তখনও মূল প্রশ্ন ছিল সরকার কি প্রতিটি শিল্পাঞ্চলের জন্য বিপুল টাকা দেবে?
আমার উত্তর ছিল না।
Local resource mobilisation + private investment + cooperative ownership + diaspora capital + institutional finance
এর সমন্বয়ে একটি self-financing local industrial ecosystem গড়ে তোলা সম্ভব।
আজ Agro-Processing Zone-এর ধারণাটি সেই বৃহত্তর Village Centre/Industrial Estate model-এর একটি বিশেষায়িত প্রয়োগ হতে পারে।
অর্থাৎ Village Centre হবে local economic node, আর তার Industrial/Agro-Industrial Estate হবে
production and value-addition hub।

১৭. অর্থায়নের একটি সম্ভাব্য কাঠামো
এখানে একটি illustrative financing architecture দেওয়া যায়:
Farmer Cooperative Equity

Diaspora Investment

Private Strategic Investor

Bank/Institutional Finance

Credit Guarantee/Development Finance

Project SPV
এখানে সরকারের capital contribution শূন্যও হতে পারে, যদি প্রকল্পটি সম্পূর্ণ private/cooperative
finance-এ viable হয়।
সরকারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে শুধু সেই infrastructure-এ, যার সামাজিক return private investor
একা বহন করবে না।
যেমন
Road + Drainage + Grid Connection + Water + Common Facility Centre + Testing Lab
এগুলো public infrastructure হিসেবে করা যেতে পারে।

১৮. রেমিট্যান্সকে কীভাবে এখানে আনা যায়?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সংস্কার দরকার।
আজ প্রবাসীর টাকা সাধারণত পরিবারভিত্তিকভাবে আসে।
আমাদের চাই
Family Remittance → Investment Choice
অর্থাৎ প্রবাসী যখন টাকা পাঠাবেন, তখন তার কাছে একটি বৈধ, স্বচ্ছ ও regulated investment option থাকবে:
“আপনি চাইলে আপনার এলাকার agro-industrial project-এ বিনিয়োগ করতে পারেন।”
এটি হতে পারে একটি digital diaspora investment platform-এর মাধ্যমে।
প্রবাসী দেখতে পারবেন:
Project → Capital Requirement → Expected Return → Risk → Management →
Financial Statements → Investment Status
তখন রেমিট্যান্স শুধু consumption-এর অর্থ থাকবে না; তার একটি অংশ productive capital formation-
এ যেতে পারে।

১৯. তবে এখানে সবচেয়ে বড় সতর্কতা কোনো প্রকল্পকে শুধু ‘প্রবাসীর টাকা আছে’ ধরে নেওয়া যাবে না
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রবাসীর টাকা কোনো free money নয়।প্রকল্পকে আগে প্রমাণ করতে হবে:
Market exists, Raw material exists.Technology works.Energy is available.
Management is capable. Logistics is feasible.Export opportunity exists.
Financial return is attractive.তারপর investment আহ্বান করতে হবে।
অর্থাৎ
Investment first নয়; feasibility first.
প্রথমে bankable project, তারপর capital mobilisation।

২০. একটি Pilot Model দিয়েই শুরু করা উচিত
সারা দেশে একসঙ্গে ৫০০টি Zone করার চেষ্টা করা ঠিক হবেনা ।
প্রথমে ৩–৫টি অঞ্চলে pilot করতে হবে ।
উদাহরণস্বরূপ—
একটি আলুভিত্তিক অঞ্চল,
একটি ফলভিত্তিক অঞ্চল,
একটি dairy cluster,
একটি fish-processing cluster,
একটি spice/vegetable cluster।
প্রতিটির জন্য পাঁচ বছরের measurable target থাকবে।
যেমন—
Farmer income +30%
Post-harvest loss -25%
Diaspora investment return = market-competitive
সংখ্যাগুলো feasibility study-এর পর নির্ধারণ করতে হবে।
তারপর যে মডেল সফল হবে, সেটি scale-up করা হবে।

২১. শেষ পর্যন্ত বিষয়টি শুধু agro-processing নয় এটি একটি নতুন rural economic architecture
আপনার মন্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো আপনি মূলত একটি প্রশ্ন করেছেন:
“এই পুরো ecosystem কে চালাবে এবং কে ঝুঁকি নেবে?”
আমার উত্তর হবে কেউ একা নয়।
কৃষক নেবেন production risk।
Investor নেবেন capital risk।
Private operator নেবেন business/management risk।
Insurance নেবে নির্দিষ্ট insurable risk।
Government নেবে policy/infrastructure risk-এর একটি অংশ।
আর cooperative তৈরি করবে collective bargaining power।
এটাই একটি সুস্থ অর্থনৈতিক কাঠামো।
রাষ্ট্র যদি সব ঝুঁকি নেয়, তাহলে রাষ্ট্রের ওপর fiscal burden পড়ে।
কৃষক যদি সব ঝুঁকি নেন, তাহলে তিনি দরিদ্রই থাকবেন।
প্রবাসী যদি সব ঝুঁকি নেন, তাহলে তিনি বিনিয়োগ করবেন না।
Private sector যদি সব infrastructure cost নেয়, তাহলে অনেক project bankable হবে না।
তাই প্রয়োজন risk sharing architecture।

উসংহারে বলতে চাই
আপনার মন্তব্যটি আমাকে আসলে আমার আগের Village Centre-Industrial Estate-এর রূপকল্পটিকে
নতুন করে ভাবার সুযোগ দিয়েছে।
আমি এখন এটিকে আরও বিস্তৃতভাবে দেখি:
Village Centre → Farmer Cooperative → Agro-Industrial Estate → Processing →
Local Employment → Diaspora Investment → Export → Foreign Exchange
এটি শুধু একটি শিল্প প্রকল্প নয়; এটি হতে পারে rural economic transformation model।
এবং এর মূল দর্শন হবে
“Government does not have to own the economy; government has to enable the economy.”
সরকার কারখানা চালাবে না।
কৃষকের জমি কেড়ে নেবে না।
প্রবাসীর মুনাফার কৃত্রিম নিশ্চয়তা দেবে না।
বেসরকারি উদ্যোক্তার জায়গা দখল করবে না।
বরং সরকার এমন একটি institutional architecture তৈরি করবে যেখানে
কৃষক মালিকানা ও ন্যায্য মূল্য পাবেন,
প্রবাসী competitive return-এর সুযোগ পাবেন,
বেসরকারি উদ্যোক্তা profit করতে পারবেন,
প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী technology monetise করতে পারবেন,
স্থানীয় তরুণ কর্মসংস্থান পাবেন,
আর রাষ্ট্র পাবে উৎপাদন, রপ্তানি ও করের একটি শক্তিশালী ভিত্তি।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃষিজমি রক্ষা করেই কৃষিকে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হলো কোনো একক ‘mega project’ নয়; বরং
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নিজস্ব কৃষি ও অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে শত শত ছোট ও মাঝারি,
financially viable, locally anchored agro-industrial clusters গড়ে তোলা।
এগুলোকে কেন্দ্র করে আবার Village Centre, local logistics, skill development, financial services
এবং digital market linkage তৈরি করা যায়।
তাহলে উন্নয়ন শুধু ঢাকায় GDP বাড়াবে না; গ্রামেই income, employment, enterprise এবং investment
-এর নতুন কেন্দ্র তৈরি করবে।
এবং তখন রেমিট্যান্সের অর্থের একটি অংশ যদি সেই স্থানীয় উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রবেশ করে, সেটি শুধু একটি পরিবারের ভোগক্ষমতা বাড়াবে না একই টাকা বহুবার অর্থনীতির ভেতরে ঘুরে উৎপাদন, কর্মসংস্থান, মুনাফা, কর এবং রপ্তানি
আয় সৃষ্টি করতে পারে।
সেখানেই আসল লক্ষ্য:
Remittance → Investment → Local Enterprise → Processing → Employment → Export
→ Foreign Exchange → Reinvestment.
আর এই পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে থাকবে কৃষক, প্রান্তে নয়।

আপনার উত্থাপিত প্রশ্নগুলো তাই আমার কাছে কোন আপত্তি নয়; বরং এই রূপকল্পকে বাস্তবায়নযোগ্য করার জন্য
অত্যন্ত প্রয়োজনীয় feasibility checklist। কারণ একটি ভালো পরিকল্পনার মূল্য তার আকর্ষণীয় ধারণায় নয়
তার ঝুঁকি কোথায়, অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে, কে লাভ করবে, কে ঝুঁকি নেবে এবং ব্যর্থ হলে ক্ষতি কে বহন
করবে এসব প্রশ্নের বাস্তবসম্মত উত্তর দিতে পারার মধ্যেই তার প্রকৃত মূল্য। তাই আপনার এই অতি মুল্যবান
মন্তব্যটির জন্য আমার কৃতজ্ঞতা জানবেন । অমার পরবর্তী পর্বগুলিতে এমনই ভাবে মুল্যবান মন্তব্য দিয়ে
আমার গবেষনা কর্মটিকে আরো ফলপ্রসু করে তোলার জন্য বিনীত অনুরোধ থাকল ।

শুভেচ্ছা জানবেন ।

৭| ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:৪৮

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়লেই অর্থনীতির মৌলিক উৎপাদনশীল সক্ষমতা বেড়ে যায় না।
...........................................................................................................................
শুধুমাত্র রেমিট্যান্সের মাধ্যমে একটি দেশ টিকে থাকতে পারেনা ।
আমাদের দেশ হলো সমতট ভূমি, অর্থাৎ জন্মগত ভাবেই আমাদের জমি উর্বর ও
কৃষি কাজ উপযোগী , শ্রম অন্য দেশে র তুলনায় এখনও সস্তা । তবে আমাদের অধিকাংশ
কৃষক এখনো শিক্ষিত নয় বলে উৎপাদন খরচ, উৎপাদন সময় ও প্রতিকূল আবহাওয়ায়
কিভাবে চাষকে লাগসই করতে হবে সেখানে পিছিয়ে আছে ।
তবে একথাও সত্য , কৃষি কাজের সাথে সাথে এগ্রো প্রসেসিং ও এগ্রো বেইজড কারখানার
প্রয়োজনীয়তা অত্যাধিক ।
এখানে ফাইন্যান্সের বিষয়টি উপেক্ষা করলে চলবেনা । একজন কৃষক তার উৎপাদন কাজে
আর্থিক যোগানের জন্য ব্যাংকের কাছে যাবে, কিন্ত ব্যাংক তার ব্যবসায়িক লাভের জন্য ১৫% সুদ
চার্জ করবে তা কিছুতেই হতে পারেনা । ব্যাংকের ব্যবসা লাভজনক বিধায় বাংলাদেশে ব্যাঙের ছাতার
মতো এত ব্যাংকের আগমন । বিদেশে এসব ক্ষেত্রে ২% থেকে ৪% এর উপর চার্জ নেই ।
কেন আমরা কৃষি কাজে তা প্রয়োগ করছিনা ???

===============================================================
মূল কথা আমরা এদেশের জনগনের ভোটে নির্বাচন করে বিদেশী স্বার্থ দেখি তাই নির্বাচনের পূর্বে
গোলামী চুক্তি করি, যেখানে ১৩২টি নাকে খত দিয়ে আমাদের মেরুদন্ড কৃষি ও শ্রম খাতকে ধংশ করে
দেবার সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করেছি ।
আমি অপেক্ষা করছি কোনদিন আন্দোলন হবে কৃষককেরা বাঁচার জন্য আন্দোলনে আসবেন এই জন্য যে
তাদের সমস্ত অসুবিধা সমূহ দূর করতে হবে, বিশেষ করে, ফসল উৎপাদনে ২% এর বেশী ব্যাংকের
চার্জ কাটতে পারবেনা , তখনই তারা লাভভান হবেন ও কৃষি উৎপাদন বাড়তে থাকবে ।

০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৩৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার মুল্যবান মন্তব্যের সঙ্গে একটি মৌলিক জায়গায় সম্পূর্ণ একমত । রেমিট্যান্স বাড়া মানেই দেশের
উৎপাদনশীল সক্ষমতা বেড়ে যাওয়া নয়। রেমিট্যান্স আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান, বৈদেশিক লেনদেনের
ভারসাম্য এবং লাখ লাখ পরিবারের আয়কে সহায়তা করে; কিন্তু রেমিট্যান্স নিজে কোনো উৎপাদনশীল সম্পদ
নয়, যতক্ষণ না এর একটি অংশ সঞ্চয়, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামোর মতো খাতে
প্রবাহিত হয়ে নতুন আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।

আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশের জন্য তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত
Remittance → Saving → Productive Investment → Production → Employment →
Export → More Foreign Exchange

অর্থাৎ রেমিট্যান্সকে শুধু অর্থনীতির ‘লাইফ সাপোর্ট’ হিসেবে ব্যবহার না করে capital formation-এর একটি
সম্ভাব্য উৎসে পরিণত করা।

আপনি বাংলাদেশের উর্বর ভূমি, কৃষির সম্ভাবনা এবং তুলনামূলক সস্তা শ্রমের কথা বলেছেন এগুলো নিঃসন্দেহে
আমাদের বড় comparative advantage। কিন্তু শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ বা সস্তা শ্রম কোনো দেশকে দীর্ঘমেয়াদে
সমৃদ্ধ করতে পারে না। সেই সুবিধাকে productivity advantage-এ রূপান্তর করতে হয়।

এখানেই কৃষকের শিক্ষা, প্রযুক্তি, উৎপাদন পরিকল্পনা, আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, উন্নত বীজ, পানি ব্যবস্থাপনা,
যান্ত্রিকীকরণ, সংরক্ষণ এবং সর্বোপরি post-harvest value addition অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একজন কৃষক যদি বেশি উৎপাদন করেন কিন্তু harvest-এর পর পণ্য সংরক্ষণ করতে না পারেন, বাজারে দাম
পড়ে গেলে বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করেন, কিংবা উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্য মূল্য না পান তাহলে উৎপাদন
বাড়লেও কৃষকের আয় বাড়বে না।

তাই কৃষির ভবিষ্যৎ শুধু “more production” নয়; বরং
More productivity + Lower cost + Less post-harvest loss + Better price + Value addition
এই পাঁচটি একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।

আর এখানেই Agro-processing-এর প্রয়োজনীয়তা

কৃষক শুধু ধান, আলু, পেঁয়াজ, আম, টমেটো বা দুধ উৎপাদন করবেন—আর পরবর্তী মূল্য সংযোজনের বড় অংশ
অন্যরা নিয়ে যাবে—এই কাঠামো দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।

আমাদের প্রয়োজন এমন একটি value chain যেখানে
কৃষক → সংগ্রহ → grading → storage → processing → packaging → branding → domestic market/export

এই পুরো ব্যবস্থার সঙ্গে কৃষক যুক্ত থাকবেন এবং মূল্য সংযোজনের একটি ন্যায্য অংশ তিনি পাবেন।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে—কৃষককে নিজে কারখানা করতে হবে, এমন নয়।

কৃষক সমবায়, private investor, strategic investor, প্রবাসী বিনিয়োগকারী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে processing enterprise গড়ে উঠতে পারে। কৃষক সেখানে শুধু কাঁচামাল সরবরাহকারী নন; প্রয়োজনে cooperative equity-এর মাধ্যমে অংশীদারও হতে পারেন।

এখন আসি আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে কৃষি ঋণের সুদ প্রসঙ্গে ।
কৃষকের জন্য উচ্চ ব্যয়ের অর্থায়ন যে কৃষির অন্যতম বড় সমস্যা, এ বিষয়ে দ্বিমত থাকার কারণ নেই।

তবে এখানে “ব্যাংক ১৫% নেয়, বিদেশে ২-৪%, তাই বাংলাদেশেও কৃষিঋণ সর্বোচ্চ ২% হওয়া উচিত
এই তুলনাটি একটু সতর্কতার সঙ্গে দেখা দরকার।

কারণ ব্যাংকের lending rate শুধু ব্যাংকের মুনাফা দিয়ে নির্ধারিত হয় না।

ব্যাংকের অর্থের cost, আমানতের সুদ, পরিচালন ব্যয়, খেলাপি ঋণের ঝুঁকি, inflation, capital requirement, provisioning, transaction cost এবং কৃষির বিশেষ ঝুঁকি সবকিছু এর সঙ্গে যুক্ত।

অন্য দেশের ২–৪% ঋণের হার দেখলে সেই দেশের inflation, policy rate, deposit rate, credit guarantee, government subsidy, insurance system এবং default risk-ও একই সঙ্গে দেখতে হবে।

অর্থাৎ শুধু nominal interest rate তুলনা করলে প্রকৃত অর্থনৈতিক চিত্র পাওয়া যায় না।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের কৃষককে উচ্চ সুদের ঋণেই কৃষিকাজ করতে হবে।

বরং আমার মতে, এখানে একটি targeted agricultural finance architecture প্রয়োজন।
কৃষির জন্য আলাদা অর্থায়ন কাঠামো কেন প্রয়োজন?কারণ কৃষি সাধারণ ব্যবসার মতো নয়।
কৃষকের আয় seasonal।বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে তার খরচ বেশি হয়, কিন্তু আয় আসে harvest-এর পর।
তার ওপর রয়েছে বন্যা;খরা;অতিবৃষ্টি; রোগবালাই;বাজারদর পতন;পচনশীল পণ্য;input price volatility।
অতএব কৃষকের জন্য শুধু কম সুদের ঋণ দিলেই হবে না; প্রয়োজন-
Low-cost credit + Crop insurance + Storage + Market linkage + Price information
এই সমন্বিত ব্যবস্থা। ২% সুদের দাবি লক্ষ্য হিসেবে যৌক্তিক হতে পারে, কিন্তু পদ্ধতিটা গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য আমি বুঝতে পারছি কৃষকের অর্থায়ন ব্যয় এমন পর্যায়ে আনতে হবে যাতে
উৎপাদন করে তিনি প্রকৃত লাভ করতে পারেন।এই লক্ষ্যটির সঙ্গে আমি একমত।
কিন্তু সরাসরি বলা “ব্যাংক কৃষিকে ২%-এর বেশি চার্জ করতে পারবে না” এটি বাস্তবায়নের আগে অর্থায়নের
ঘাটতি কে বহন করবে, সেটিও নির্ধারণ করতে হবে।

যদি ব্যাংকের প্রকৃত cost of fund এবং risk-adjusted cost ৮% হয়, কিন্তু কৃষককে ২%-এ ঋণ দিতে বাধ্য
করা হয়, তাহলে অবশিষ্ট ৬% কে বহন করবে?সরকার?তাহলে সেটি হবে interest subsidy।সেক্ষেত্রে সরকারকে
স্বচ্ছভাবে budgetary allocation দিতে হবে।অথবা Development Finance Institution/guarantee fund-
এর মাধ্যমে risk-sharing করতে হবে।অথবা crop insurance-এর মাধ্যমে ব্যাংকের risk কমাতে হবে।
অর্থাৎ ২% কৃষিঋণ একটি policy objective হতে পারে; কিন্তু তার অর্থনৈতিক কাঠামোও তৈরি করতে হবে।

নইলে কাগজে সুদ কমে গেলেও বাস্তবে কৃষকের কাছে formal credit পৌঁছাবে না, ব্যাংক কৃষিকে high-risk
sector হিসেবে এড়িয়ে যাবে এবং কৃষক আবার অনানুষ্ঠানিক মহাজনি ঋণের দিকে চলে যেতে পারেন।
এটি আরও বিপজ্জনক।তাই আমার প্রস্তাব হবে Cheap Credit নয়, Affordable Productive Credit
এই দুটির মধ্যে সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে।
শুধু সস্তা ঋণ দিলে হবে না; ঋণটি এমন কাজে যেতে হবে যেখান থেকে কৃষকের আয় সৃষ্টি হবে এবং ঋণ ফেরত
দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হবে।
যেমন Irrigation equipment, Farm machinery,Quality seed,Greenhouse/controlled cultivation
Cold storage participation,Small processing equipment,Dairy/livestock,Aquaculture
Post-harvest facilities এসব productive asset-এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও কম ব্যয়ের অর্থায়ন বেশি কার্যকর।
অন্যদিকে কৃষকের স্বল্পমেয়াদি crop loan-এর জন্য seasonal repayment schedule থাকা উচিত।
অর্থাৎ ঋণের কাঠামো কৃষির cash-flow-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

আরেকটি বিষয় কৃষককে শুধু ঋণ দিলেই লাভবান করা যাবে না এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ধরা যাক একজন কৃষক ২% সুদে ঋণ পেলেন। কিন্তু harvest-এর সময় আলুর দাম অর্ধেকে নেমে গেল।
তাহলে কম সুদের ঋণও তাকে লাভজনক করতে পারবে না।
আবার পেঁয়াজ উৎপাদন করে যদি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে harvest-এর সময় অতিরিক্ত সরবরাহের
কারণে দাম পড়ে গেলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
তাই কৃষি অর্থায়নকে দেখতে হবে একটি integrated risk management system হিসেবে।
Cheap Credit + Storage + Insurance + Processing + Market Access
এই সমন্বয়ই কৃষকের প্রকৃত নিরাপত্তা তৈরি করতে পারে।

ব্যাংকের সংখ্যা বেশি হলেই কৃষকের অর্থায়ন সস্তা হবে এমনও নয়
আপনি ব্যাংকিং খাতের বিস্তারের বিষয়টি যথার্থভাবেই তুলেছেন। তবে প্রতিযোগিতা থাকলেই যে কৃষিঋণের সুদ
স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে, অর্থনীতিতে তার নিশ্চয়তা নেই।

কারণ কৃষিঋণের সমস্যা শুধু competition নয়; এটি risk, information asymmetry, transaction cost
এবং collateral-এর সমস্যাও।একজন ক্ষুদ্র কৃষকের জমি আছে, কিন্তু তার cash flow অনিয়মিত। তার হিসাবরক্ষণ
নেই। তার উৎপাদন ও বাজারদরের তথ্য ব্যাংকের কাছে নেই।ফলে ব্যাংকের কাছে সে একটি high-information-cost borrower।এখানে technology ব্যবহার করা যেতে পারে।
Digital farmer profile + production history + mobile transaction history + crop data + satellite/
weather information + warehouse receipt
এসবের মাধ্যমে কৃষকের creditworthiness মূল্যায়ন করা গেলে collateral-এর ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।

কৃষকের জন্য নতুন ধরনের অর্থায়ন ব্যবস্থাও প্রয়োজন, আমি এখানে কয়েকটি স্তরের financing model দেখতে চাই:

১. Seasonal Crop Credit কম ব্যয়ে স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ।
২. Long-term Agricultural Investment Loan
যন্ত্রপাতি, irrigation, greenhouse, livestock, processing equipment ইত্যাদির জন্য।
৩. Credit Guarantee Fund কৃষকের জামানত/ঝুঁকি কমাতে।
৪. Crop Insurance প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঋণগ্রহীতাকে সুরক্ষা দিতে।
৫. Warehouse Receipt Finance
কৃষক পণ্য সংরক্ষণ করে warehouse receipt-এর বিপরীতে ঋণ নিতে পারবেন।
৬. Cooperative Finance সমবায়ের মাধ্যমে collective borrowing।
৭. Diaspora Investment প্রবাসী মূলধনকে equity investment হিসেবে আনা।

এভাবে ব্যাংকই কৃষির একমাত্র অর্থায়ন উৎস হবে না।সমবায় এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
একজন কৃষকের ৫ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত হতে পারে। কিন্তু ৫০০ কৃষকের সমবায় যদি একটি কার্যকর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হয়, তাহলে তারা অনেক বড় economic unit হিসেবে কাজ করতে পারে।

সমবায় করতে পারে Input bulk purchase; Collective production planning;Collective storage
Collective marketing ;Processing investment;Export contracting তখন কৃষকের bargaining power
বাড়ে এবং transaction cost কমে।তবে সমবায় মানেই সফল হবে এমন ধারণাও ঠিক নয়।
বাংলাদেশে সমবায়ের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে professional management, digital accounting, independent audit এবং member ownership নিশ্চিত করতে হবে।

আর আপনার মন্তব্যের শেষের রাজনৈতিক অংশটি নিয়েও একটি কথা
কৃষক যে দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী নীতি-অবহেলা, বাজার ঝুঁকি, উৎপাদন ব্যয়, অর্থায়ন সংকট এবং মধ্যস্বত্বভোগীর
চাপের মুখে আছেন এটি অস্বীকার করার উপায় নেই।
কিন্তু “আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিদেশি স্বার্থ দেখি” এটাও সত্য । তবে ধরনের গুরুতর রাজনৈতিক
অভিযোগকে রাজণেতিকভাবে মোকাবেলা করা উত্তম । একে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের অংশ করতে হলে নির্দিষ্ট
চুক্তি, নীতি, শুল্ক কাঠামো, বাজার প্রবেশাধিকার বা পরিসংখ্যান সহ আলোচনা করলে তা ফলপ্রসু হবে ।
অন্যথায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক আলোচনাও রাজনৈতিক অভিযোগের মধ্যে হারিয়ে যেতে পারে।

আমার মনে হয়, কৃষকের স্বার্থ রক্ষার সবচেয়ে শক্তিশালী পথ হলো evidence-based policy bargaining
কোন চুক্তিতে কৃষির কী লাভ-ক্ষতি, কোন শুল্কে কোন পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কোন আমদানিতে কৃষকের উৎপাদন
ব্যাহত হবে, কোথায় রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে এসব তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় নীতি প্রভাবিত করা।

কারণ কৃষিকে রক্ষা করতে শুধু আবেগ বা আন্দোলন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও
তথ্যভিত্তিক নীতি।শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত কৃষককে ভর্তুকিনির্ভর নয়, উৎপাদনশীল ও লাভজনক করা

আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা কৃষককে চিরকাল কম সুদের ঋণ, ভর্তুকি কিংবা সহায়তার
ওপর নির্ভরশীল রাখতে চাই না।আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি কৃষি অর্থনীতি তৈরি করা যেখানে
উৎপাদন খরচ কমবে → উৎপাদনশীলতা বাড়বে → অপচয় কমবে → সংরক্ষণ বাড়বে → value addition
হবে → বাজার সম্প্রসারিত হবে → কৃষকের net income বাড়বে।
তখন কৃষক ঋণ নেবেন, বিনিয়োগ করবেন এবং লাভ থেকে ঋণ পরিশোধ করবেন।

এটাই একটি সুস্থ কৃষি অর্থনীতির লক্ষণ।আর এখানেই রেমিট্যান্সের সঙ্গেও কৃষির যোগসূত্র তৈরি করা যায়।
প্রবাসীর পাঠানো অর্থের একটি অংশ যদি শুধু ভোগে না গিয়ে
Farmer Cooperative → Agro-processing → Storage → Machinery → Irrigation → Export
এই উৎপাদনশীল চক্রে প্রবেশ করে, তাহলে রেমিট্যান্সও দেশের productive capital formation-এর অংশ
হয়ে উঠতে পারে।

তখন রেমিট্যান্স শুধু বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ থাকবে না; এটি হয়ে উঠতে পারে কৃষি ও গ্রামীণ শিল্পায়নের
একটি সম্ভাব্য বিনিয়োগ উৎস।

সুতরাং আমি বলব কৃষককে ২% সুদে ঋণ দেওয়াই চূড়ান্ত সমাধান নয়; কৃষকের প্রকৃত অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমিয়ে
এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করাই আসল সমাধান, যেখানে অর্থায়ন সাশ্রয়ী, বাজার নিশ্চিত, উৎপাদন দক্ষ, প্রযুক্তি
সহজলভ্য এবং পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত।আর সেই ব্যবস্থার কেন্দ্রে থাকতে হবে কৃষককে ঋণের গ্রহীতা হিসেবে
নয়, একটি আধুনিক কৃষি-অর্থনীতির উদ্যোক্তা ও অংশীদার হিসেবে।

শেষ পর্যন্ত আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত:
কৃষককে শুধু ঋণ দেওয়া নয় কৃষকের জন্য এমন একটি লাভজনক অর্থনৈতিক ecosystem তৈরি করা, যেখানে
ঋণ তার বোঝা নয়, উৎপাদনশীল সম্পদে পরিণত হয়।তখনই কৃষি শুধু টিকে থাকবে না; কৃষিই বাংলাদেশের
পরবর্তী পর্যায়ের উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান, খাদ্যনিরাপত্তা, রপ্তানি এবং গ্রামীণ শিল্পায়নের অন্যতম প্রধান
চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।

আপনার মুল্যবান মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ তৈরী করে দেয়ার জন্য
ধন্যবাদ ।

শুভকামনা রইল

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.