নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যেসব কথা এই সামু ব্লগে লিখতে পারি না নানা কারনে- সেসব কথা আমার পার্সোনাল জার্নাল ব্লগে লিখি -- জার্নাল অফ জাহিদ https://journalofjahid.com/

জাহিদ অনিক

জার্নাল অফ জাহিদ

জাহিদ অনিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

দু-দণ্ড শান্তির পরেও যে তৃষ্ণা থাকে : বনলতা সেন মুভি রিভিউ [স্পয়লার এলার্ট]

০১ লা জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪


সিনেমা হলের আলো নিভলে একটা চুক্তি হয়। পরিচালক বলেন; আমাকে বিশ্বাস করো, আমি তোমাকে কোথাও নিয়ে যাব। দর্শক রাজি হয়ে চোখ মেলে বসে থাকেন। মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের বনলতা সেন সেই চুক্তি রাখে; কিন্তু পুরোপুরি না। যতটুকু রাখে, সেটা অসাধারণ। যতটুকু রাখে না, সেটা বেদনাদায়ক; কারণ এই সিনেমার সম্ভাবনা ছিল অপরিসীম।

১) গল্পের কাঠামো; দুটো সমান্তরাল জীবন

জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কবিতা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমা কবিতার আক্ষরিক রূপান্তর নয়। পরিচালক আরো সাহসী পথ বেছেছেন। সিনেমায় দুটো সমান্তরাল গল্প একসাথে চলে। একদিকে আছেন স্বয়ং কবি জীবনানন্দ দাশ; খায়রুল বাসার অভিনীত; দারিদ্র্যে, নিঃসঙ্গতায়, অস্বীকৃতিতে ডুবে থাকা এক মানুষ, যিনি শিল্পের জন্য সংসারের সমস্ত সুখ বিসর্জন দিয়েছেন।

অন্যদিকে আছে মহীন; সোহেল মণ্ডল অভিনীত; এক অদ্ভুত, উদ্ভট, পলায়নপর মানুষ, যে বনলতা সেন কবিতা পড়ে মুগ্ধ হয়ে সেই নারীকে বাস্তবে খুঁজতে বেরিয়ে পড়েছে।

এই দুটো গল্পের সংযোগবিন্দুতেই সিনেমার দার্শনিক প্রশ্নটা দাঁড়িয়ে আছে; বনলতা সেন কি সত্যিই কোথাও ছিলেন? নাকি তিনি কবির মনের ভেতর থেকে জন্ম নেওয়া এক চিরঅধরা আদর্শ?

মূল কাঠামো বোঝার আগে একটা জরুরি কথা: এই সিনেমাটা জীবনানন্দের কবিতার সরাসরি "অ্যাডাপটেশন" না। এটা মৌলিক গল্প, যা কবিতার অনুপ্রেরণায় তৈরি ; কাব্যের মূল সুরকে ঠিক রেখে এক অন্বেষণের গল্প বলে। অর্থাৎ কবিতাটাকে হুবহু দেখানো হয়নি, বরং কবিতার ভেতরের যে "খোঁজ"; সেটাকেই গল্পে রূপ দেওয়া হয়েছে।

বনলতা সেন একটি অসম্পূর্ণ মাস্টারপিস। এটি পূর্ণ সফল নয়, কিন্তু এর ব্যর্থতাও সাধারণ ব্যর্থতা নয়; এ হলো উঁচুতে উঠতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার ব্যর্থতা। এটা মূলত একটা কাব্যিক সিনেমা (Poetic Drama)। এখানে সরাসরি গল্প বলার চেয়ে অনুভূতি, প্রতীক, আর দৃশ্যকাব্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেভাবে জীবনানন্দের কবিতা পড়লে সরাসরি "মানে" বের করা যায় না, কিন্তু একটা অনুভূতি ভেতরে ঢুকে ;এই সিনেমাও সেভাবেই কাজ করে। এটা "বোঝার" সিনেমা না, "অনুভব করার" সিনেমা।



২) মহীন; সিনেমার সবচেয়ে জীবন্ত সৃষ্টি

সোহেল মণ্ডলের মহীন চরিত্রটি এই সিনেমার সবচেয়ে বড় অর্জন।
মহীনকে প্রথম দেখা যায় আমেরিকান কাউবয় পোশাকে, ঘোড়ায় চেপে, একটা গ্রামীণ চায়ের দোকানে। এই দৃশ্যটা absurd; কিন্তু সেই absurdity-ই তার পরিচয়। কাউবয় পশ্চিমা সংস্কৃতিতে একাকী পথিকের প্রতীক, যে কোনো সীমানায় বাঁধা পড়ে না। আর বাংলার গ্রামীণ চায়ের দোকান একদম শেকড়ের প্রতীক। মহীন এই দুই জগতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে; সে বাংলার সন্তান, অথচ তার ভেতরে একটা চিরঅস্থির wanderer।

মহীনের ছোট ঘরটি একটি পূর্ণ কবিতা। বই আর বই; মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত। দিনের পর দিন স্নান নেই, সংসারের কোনো চিহ্ন নেই। আর সিলিং থেকে ঝুলছে একটা মানুষের মূর্তি; ঝাঁপ দেওয়ার ভঙ্গিতে; যার নাম সে দিয়েছে "মরিবার হলো তার সাধ।"

মৃত্যুকে সে দূরে রাখেনি, নাম দিয়ে কাছে রেখেছে। জীবনানন্দের সেই মৃত্যুচিন্তা; যা তাঁকে সারাজীবন তাড়া করেছিল; মহীন সেটাকে ঘরের সাজসজ্জায় পরিণত করেছে।

মহীন আসলে জীবনানন্দের সেই অংশ যেটা জীবনানন্দ কখনো হতে পারেননি। যে বিদ্রোহ বাইরে আসেনি, যে সাহস কবিতায় আটকে গেছে; মহীন তার শরীরী রূপ। জীবনানন্দ বনলতাকে সৃষ্টি করেছিলেন কিন্তু বাস্তবে কখনো খোঁজেননি। মহীন সেই খোঁজটাই নিজে করতে বেরিয়েছে; কারণ সে জীবনানন্দের অপ্রকাশিত সাহস।

সিনেমায় বারবার দেখি; মহীন কিছু একটার গন্ধ পায়। সাদা রুমাল নাকে চেপে দৌড়ে পালায়।
এটা দেখে আমার বুকে কিছু একটা টনটন করে উঠল। কোনো এক অদৃশ্য গন্ধ পেয়ে সে সাদা রুমাল নাকে চেপে দৌড়ে পালায়। এই motif-টি সিনেমার সবচেয়ে কাব্যিক উদ্ভাবন।

জীবনানন্দের কবিতায় গন্ধ স্মৃতির, শিকড়ের, অতীতের প্রতীক। মহীন যে গন্ধ পাচ্ছে সেটা হয়তো বনলতার অস্তিত্বের গন্ধ; সে কাছে আছে; কিন্তু সেই উপস্থিতি এত তীব্র যে সহ্য হয় না। যা তুমি সারাজীবন খোঁজো, তার সত্যিকারের সামনে দাঁড়ালে ভয় লাগে; এই সত্যটাই মহীন বারবার দৌড়ে বলে যায়।

জীবনানন্দ কবিতায় বনলতাকে পেয়েছিলেন; সেটাই তাঁর কাছে যথেষ্ট ছিল। কবিতার ভেতরে সেই দুদণ্ড শান্তি পেয়েছিলেন। বাস্তবে গিয়ে খোঁজার সাহস বা ইচ্ছা কোনোটাই তাঁর ছিল না। মহীন হলো সেই সাহস যেটা জীবনানন্দের ছিল না।

মহীন বলছে; "তুমি যদি সত্যিই বিশ্বাস করো বনলতা আছে, তাহলে খুঁজতে বেরোও।" জীবনানন্দ পারেননি, তাই তাঁর শ্যাডো সত্তা সেই কাজটা নিজে করতে বেরিয়েছে।

এটা আরেকভাবেও পড়া যায় —
মহীন আসলে পাঠকের প্রতিনিধি। আমরা যারা বনলতা সেন পড়ি, আমরাও মহীনের মতোই ভাবি; এই নারী কি সত্যিই ছিলেন? কোথায় ছিলেন? মহীন সেই প্রশ্নটাকে সরাসরি action-এ রূপ দিয়েছে।

সিনেমায় দেখা যায় এক বাংলার অধ্যাপিকার সাথে মহীনের বই লেনদেন ও আবেগ ও ব্যক্তিগত একটা দৃশ্য। এই দৃশ্যটাও প্রতীকী। দুজন মিলে বনলতাকে নিয়ে গবেষণা করছে; জীবনানন্দ কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সিংহল, মালয়, হাজার পথ; এবং একই সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে।

এটা বলছে; বনলতার খোঁজ শুধু বুদ্ধিবৃত্তিক না, এটা আবেগের, শরীরের, পূর্ণ মানবিক অভিজ্ঞতার। মহীন বনলতাকে শুধু কাগজে-কলমে খুঁজছে না; সে পুরো সত্তা দিয়ে খুঁজছে।

৩) শোভনা, লাবণ্য এবং প্রশ্ন:

সিনেমার emotionally জটিল অংশ হলো জীবনানন্দের দুই নারীকে নিয়ে। শোভনা; কবির কাজিন, প্রথম প্রেম, যে প্রেম সমাজ পূর্ণ হতে দেয়নি। জীবনানন্দ স্বীকার করেন তিনি সব লেখাই শোভনাকে ভেবে লেখেন। শোভনা তাঁর creative origin; যে ক্ষত থেকে কবিতার জন্ম।
আর লাবণ্য গুপ্ত; স্ত্রী, দারিদ্র্যের সঙ্গী, বাস্তবের আশ্রয়। তিনি একদিন বনলতা সেনের খসড়া পড়েন। এবং কবিকে বলেন; "আমিই বনলতা সেন।"

এই দৃশ্যটি সিনেমার হৃদয়। লাবণ্যের এই কথাটি দাবি নয়, আর্তনাদ। তিনি বলছেন; এত কাছে থেকেও কি তোমার কবিতায় আমার জায়গা নেই? কবি চুপ থাকেন। কারণ উত্তর দেওয়া অসম্ভব। লাবণ্যকে "না" বলা নিষ্ঠুরতা, "হ্যাঁ" বলা মিথ্যা। বনলতা শোভনাও না, লাবণ্যও না; সে সেই চিরঅধরা আদর্শ যাকে কোনো বাস্তব মানুষ ধারণ করতে পারে না।

শিল্পীর জীবনের সবচেয়ে পুরনো ট্র্যাজেডি এখানে; যে মানুষ তোমাকে সৃষ্টি করতে অনুপ্রাণিত করে, আর যে মানুষ তোমাকে বাঁচিয়ে রাখে; এই দুজন কখনো এক হয় না।

৪) কমলালেবু এবং Magical Realism:

সিনেমার সবচেয়ে সাহসী দৃশ্য হলো জীবনানন্দের ট্রাম দুর্ঘটনার মুহূর্ত। ট্রামের চাকার নিচে পড়ে যাওয়ার সময় তাঁর শরীর থেকে অজস্র কমলালেবু ঝরে ঝরে পড়তে থাকে।
এটি Magical Realism; লাতিন আমেরিকার সাহিত্যে যেটি গার্সিয়া মার্কেজের হাতে পরিণতি পেয়েছিল, বাংলা সিনেমায় এভাবে প্রায় আসেনি। কমলালেবু এখানে নিছক ফল নয়; এটি জীবনের রস, প্রকৃতির সাথে কবির সংযোগ, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে; সেই সব অলিখিত কবিতা যেগুলো আর লেখা হবে না। একজন কবির মৃত্যু মানে শুধু একজন মানুষের মৃত্যু নয়; তার ভেতরে জমে থাকা সব না-বলা কথাও মরে যায়। সেই না-বলা কথাগুলোই কমলালেবু হয়ে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ছে।

৫) সিনেমার শেষ; "দু-দণ্ড কেন?



সিনেমার শেষপর্বে মহীন অবশেষে বনলতার মুখোমুখি হয়। দুজনের মধ্যে দীর্ঘ, ধীর, শাব্দিক আলাপ; প্রেম, শান্তি, জীবনের অর্থ নিয়ে। তারপর তিনজনের দেখা; মহীন, বনলতা, এবং কবি।

এই মুহূর্তে বনলতা কবিকে জিজ্ঞেস করেন; "শান্তিই যখন পেলে, কেবল দু-দণ্ড কেন?"
এই প্রশ্নটি সিনেমার সবচেয়ে গভীর উচ্চারণ। শান্তি স্থায়ী হলে আর শান্তি থাকে না, অভ্যাস হয়ে যায়। তৃষ্ণা থাকলেই খোঁজ চলে, খোঁজ থাকলেই সৃষ্টি। দু-দণ্ড শান্তিই যথেষ্ট; কারণ তারপরেই আবার লেখার শক্তি ফিরে আসে।

সিনেমার শেষে কবিতার visual; হাজার বছরের পথ চলা, সিংহল, মালয়, বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগৎ, হাল ভাঙা নাবিক। এটা দেখতে দেখতে মনে হলো; জীবনানন্দ আসলে বলছিলেন ক্লান্তির কথা। হাজার বছর ধরে মানুষ হাঁটছে; যুদ্ধে, দুর্ভিক্ষে, নদীতে, পাহাড়ে। সভ্যতার পুরো ভার বুকে নিয়ে।

এত পথের পরে একটাই চাওয়া; কেউ একজন চোখ তুলে জিজ্ঞেস করুক: "এতদিন কোথায় ছিলেন?"
এটাই বনলতা সেন। স্বীকৃতি। দেখতে পাওয়া। কেউ একজন তোমাকে খুঁজেছে; এই বোধ।


প্রতিটা কবি এই বোধের জন্যই লেখেন। কোনো একদিন কেউ একজন কবিতাটা পড়বে এবং বলবে; "এটা যেন আমার কথাই।" সেই মুহূর্তটাই দু-দণ্ড শান্তি। দেখানো হয় বৌদ্ধ দর্শনের সাথে জীবনানন্দের গভীর সংযোগ; কীভাবে বুদ্ধের অনিত্যতার ভাবনা তাঁর কবিতায় বারবার ফিরে এসেছে। এবং শেষে —
"তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, 'এতদিন কোথায় ছিলেন?' পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।"


৬) যেখানে সিনেমা নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি

এত কিছুর পরেও সৎভাবে বলতে হবে; বনলতা সেন তার নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষার সমতুল্য হতে পারেনি সবসময়। কিছু দৃশ্যে কারিগরি দুর্বলতা এতটাই প্রকট যে কবিতার মতো বোনা আবহ হঠাৎ ছিঁড়ে যায়। শোভনা ও জীবনানন্দের নদীর পাড়ের দৃশ্যে একটি চিলের উড়ে যাওয়া দেখানো হয়; যেটি দেখতে হাতে-ধরা খেলনার মতো লাগে, CGI-র নামমাত্র প্রচেষ্টা। এই একটি দৃশ্য পুরো মুহূর্তের কাব্যিকতাকে ভেঙে দেয়।

সম্পাদনায় দ্বৈততা আছে; কখনো দৃশ্য এবং সংলাপ এত দ্রুত বদলায় যে দর্শক ধরতে পারেন না, আবার কখনো গতি এতটাই মন্থর হয়ে পড়ে যে মনোযোগ টলে যায়। এই ভারসাম্যহীনতা একটা কাব্যিক সিনেমার জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর; কারণ কবিতার ছন্দ যেমন একটু এদিক হলেই পুরো লাইন ভেঙে পড়ে, সিনেমার গতিও তেমনই সংবেদনশীল।

কিছু কিছু সংলাপ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ব্যাখ্যা করে; যা দর্শকের কল্পনাশক্তিকে সম্মান করে না। একটা ভালো কাব্যিক সিনেমা দর্শককে শেষটুকু নিজে পূরণ করতে দেয়। মাঝে মাঝে মনে হয়েছে পরিচালক দর্শকের উপর পুরো বিশ্বাস রাখতে পারেননি। এত সীমাবদ্ধতার পরেও বনলতা সেন এমন কিছু দৃশ্য ও মুহূর্ত তৈরি করেছে যা বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে বিরল।

খায়রুল বাসারের জীবনানন্দ শুধু অভিনয় নয়; চেহারার অলৌকিক মিল এবং তিন বছরের প্রস্তুতির ফলে পর্দায় যা দেখা গেছে তা রীতিমতো আতঙ্কজনক, অর্থাৎ সত্যিকারের অর্থে। সোহেল মণ্ডলের মহীন এই সিনেমার প্রাণ; উদ্ভট, বেদনার্ত, হাসি-কান্নার মাঝামাঝি এক সত্তা। নাবিলার বনলতা অধরা থেকেও অধরা; ঠিক যেমনটা হওয়া উচিত।

সিনেমা হলে যখন সিনেমাটা দেখছিলাম, তখন একটা তৃষ্ণা ছিল; তৃষ্ণাটা বনলতা সেন'কে খুজে পাওয়ার বা কবিকে ধারন করার না; তৃষ্ণাটা ছিল এই যে, হয়ত পরের দৃশ্য ও প্লটটা পরিচালক আরেকটু ভালো করে গড়ে তুলবেন; যা আসলে হয় নি।

জীবনানন্দ লিখেছিলেন দু-দণ্ড শান্তির কথা। এই সিনেমা তার চেয়ে বেশি দিতে পারেনি হয়তো; কিন্তু সেই দু-দণ্ড? সেটা দিয়েছে।
এবং কবিতার জগতে দু-দণ্ডই যথেষ্ট।



--------------------
বনলতা সেন, মুভি রিভিউ - জাহিদ অনিক
বনলতা সেন | ২০২৬ | পরিচালক: মাসুদ হাসান উজ্জ্বল

মন্তব্য ১৬ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫২

শ্রাবণধারা বলেছেন: অসামান্য একটা পোস্ট। এত ভালো মুভি রিভিউ এই ব্লগে আগে পড়েছি বলে মনে পড়ে না।

মুভির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে জীবনানন্দকে নিয়ে আপনি যে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, সেটাও আমার কাছে অসামান্য লেগেছে। বিশেষ করে শোভনা ও লাবণ্য দাশকে নিয়ে আলোচনাটা খুবই ইন্টারেস্টিং।

"আমিই বনলতা সেন...লাবণ্যের এই কথা দাবি নয়, আর্তনাদ।" অতি চমৎকার! আমার মনে হলো, লাবণ্য দাশ হয়তো জীবনভর কবিকে জ্বালিয়েছেন, "কাঁচা মরিচ শেষ হয়ে গেছে..." - এই ধরনের কথা বলে। তারপরও বড় পুরস্কারটা বোধ হয় তাঁরই পাওয়া উচিত!

"হায় চিল, সোনালি ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে/ তুমি আর কেঁদোনাকো উড়ে-উড়ে ধানসিড়ি নদীটির পাশে!"
হায়রে আমাদের ধানসিড়ি নদীর কবি, তার নামে সামান্য কি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন না কিসের যেন নামকরণ করা হয়েছিল, সেটাও মুছে ফেলা হয়েছে!

০২ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৬

জাহিদ অনিক বলেছেন: হ্যালো শ্রাবণধারা অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা রইলো চমৎকার একটা মন্তব্য করার জন্য। মন ভাল করে দেয়ার মত মন্তব্য করেছেন আপনি।

হায়রে আমাদের ধানসিড়ি নদীর কবি, তার নামে সামান্য কি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন না কিসের যেন নামকরণ করা হয়েছিল, সেটাও মুছে ফেলা হয়েছে!

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'কবি জীবনানন্দ দাশ অ্যাকাডেমিক ভবন'-এর নামকরণ পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আগে 'কবি জীবনানন্দ দাশ অ্যাকাডেমিক ভবন' নামে একটি ভবন ছিল। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট ও অন্যান্য নাম পরিবর্তনের একটি সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তের অধীনেই জীবনানন্দ দাশের মতো অরাজনৈতিক, স্বনামধন্য সাহিত্যিকের নাম মুছে ফেলে ভবনটির নাম কেবল 'অ্যাকাডেমিক ভবন ০৩' করে দেওয়া হয়েছে।

২| ০১ লা জুন, ২০২৬ রাত ১১:১৮

শায়মা বলেছেন: ভালোই হাই থট রিভিউ হয়েছে।

আমার অবশ্য মনে হচ্ছে ম্যুভিটা তেমন মনের মত হবে না!!! :(

০২ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭

জাহিদ অনিক বলেছেন: শায়মা বলেছেন: ভালোই হাই থট রিভিউ হয়েছে।
খাইছে!!

একটা ডিসুম ডিসুম সিনেমা দেখে আসা উচিত। অনেকদিন দেখি না। অনন্ত জলিল আমার ফেভারিট ছিল!!!!!

৩| ০২ রা জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৭

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বনলতা সেন একটি অসম্পূর্ণ মাস্টারপিস।
.................................................................
তাহলে এটা নিয়ে হই চই কেন ???

০২ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬

জাহিদ অনিক বলেছেন: মাস্টারপিস কি না, সেটা নিয়ে অবশ্যই মতভেদ থাকতে পারে। আমার লেখাতেও আমি সিনেমাটিকে নিখুঁত বা ত্রুটিহীন বলিনি।

তবে হৈচৈ হওয়ার কারণটা শুধু সিনেমার গুণগত মান নয়। আমার মনে হয় এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ আছে।

প্রথমত, জীবনানন্দ দাশ বাংলা ভাষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি। তাঁর "বনলতা সেন" কবিতাটি শুধু একটি কবিতা নয়, বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ। ফলে সেই নাম ও সেই জগতকে কেন্দ্র করে নির্মিত কোনো চলচ্চিত্র স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হবে।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের মূলধারার সিনেমায় এমন সাহিত্যনির্ভর, ধীরগতির, ভাববাদী বা কাব্যিক চলচ্চিত্র খুব বেশি তৈরি হয় না। আমাদের অধিকাংশ চলচ্চিত্র গল্প, বিনোদন বা বাণিজ্যিক উপাদানকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। ফলে যখন কোনো নির্মাতা অপেক্ষাকৃত ভিন্ন ভাষা ও আঙ্গিকে কাজ করার চেষ্টা করেন, তখন সেটি স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা তৈরি করে।

তৃতীয়ত, আলোচনার বড় অংশই সিনেমাটি কতটা সফল, কতটা ব্যর্থ, কতটা জীবনানন্দকে ধারণ করতে পেরেছে বা পারেনি, তা নিয়ে। অর্থাৎ প্রশংসা যেমন আছে, সমালোচনাও আছে। এই বিতর্কই আসলে আলোচনাকে আরও বাড়িয়েছে।

সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের দেশে বছরে অনেক সিনেমা মুক্তি পায়, কিন্তু খুব কম সিনেমাই মানুষকে হলের বাইরে এসে তর্ক করতে, লিখতে বা মতামত দিতে বাধ্য করে। সেই অর্থে *বনলতা সেন* একটি সাংস্কৃতিক ঘটনা হয়ে উঠেছে। সবাই একমত না হলেও, সবাই এটিকে নিয়ে কথা বলছে। আর সেটাই সম্ভবত এর সবচেয়ে বড় সাফল্য। লোকজন যেটা বুঝতে পারে না বা কম বুঝে সেটা নিয়েই বেশি হইচই করে।

৪| ০২ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ১:১৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অসামান্য।

মুভি আর কী দেখবো, আপনার লেখাটাই তার চাইতে অনেক বেশি স্বাদ ও তৃপ্তি দিল মনে হয়।

০২ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৬

জাহিদ অনিক বলেছেন: সোনাবীজ ভাইয়া, আপনার এই পোস্টে আসা আর বিশাল ভালোলাগা জানিয়ে যাওয়া অবশ্যই আমার জন্য বিরাট পাওয়া। :)
আপনি ইদানিং গান নিয়ে আছেন; -
আপনার রম্য, কবিতা এবং অন্যান্য লেখা গুলা খুজি ব্লগে এলে।

আর বনলতা সেন, মুভিটা হলে গিয়ে দেখতে পারেন ভাইয়া।
কে কী বললো এসব না শোনাই ভালো। রিভিউ অনেক আসছে বা আসবে যেহেতু একটু ব্যতিক্রমী সিনেমা। যখন হলে বসে লাইভ দেখছিলাম, অনেক কিছুই বেশ যন্ত্রনাদায়ক মনে হচ্ছিলো ঐ সময়ে। পরে যদিও জাবর কাটতে কাটতে মানিয়ে নিয়েছি।

এই সিনেমা একবার দেখবার পরে একটা করে অনলাইন টোকেন দেয়া উচিত যে, ঠিক আছে আপনি একবার হলে এসে দেখেছেন এবার নিজ নিজ পিসিতে এই টোকেন ইউজ করে দেখতে পারবেন; তাহলে ব্যাপারটা আরও মজা হতো। হা হা

যাইহোক ভাইয়া- পরিচালক কী বুঝাতে চেয়েছে সেটা যদিও আপ্নার কাছে অজানা কিছু না। বনলতার খোজ। আপনার কাছে মন্দ লাগবে না মনে হয়।

ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন!

৫| ০৩ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০৫

রাজীব নুর বলেছেন: সময়ের অভাবে মুভিটা দেখা হচ্ছে না।
আগামী সপ্তাহে দেখিব। আর আপনি রিভিউ খুব সুন্দর করে লিখেছেন।

০৭ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৩

জাহিদ অনিক বলেছেন: রাজীব নুর ভাই, আশা করি ভালো আছেন। বিশ্বকাপ উত্তেজনা আর লাইফের চাপে পড়ে ব্লগে আসা হলেও মন্তব্যের রিপ্লাই দেয়া হয় নাই। আশা করি মন খারাপ করেন নি।

মুভিটা কি দেখেছিলেন? আমি অপেক্ষা করতেছি আবার একবার দেখার জন্য যদি কোনো ওটিটি ওটিটি প্লাটফর্মে আসে।

আর আপনি রিভিউ খুব সুন্দর করে লিখেছেন। থ্যাংকিউ ভেরিমাচ ভাই। ভালো করে বুঝতে পারলে ভালো করে লিখা যায়, আর যখন দেখি নিজের লেখা অন্যদের সাথে কানেক্ট হচ্ছে। দ্যাটস দ্যা রিফ্রেসমেন্ট উই লুক ফর।

অনেকদিন আপনার ডায়েরী পড়ি না। শীঘ্রই ঢু দেব !

৬| ৩০ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: একটি অসাধারণ রিভিউ পড়লাম। এই ব্লগে আমার পড়া এটা একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ রিভিউ, অবশ্যই। + +
একসাথে দুটো সমান্তরাল গল্প বলা এই সিনেমাটি আপনি কতটা নিবিষ্ট মনে দেখেছেন, তা রিভিউ পড়লেই বুঝা যায়। আর উদ্ধৃত প্রতিটি দৃশ্যের উপর রাখা বক্তব্যের লাইনে লাইনে একটি কবি মনের প্রচ্ছন্ন ছাপ বা প্রভাব (impression) লক্ষ্যনীয়ভাবে ফুটে ওঠে।

"কবিতার ভেতরের যে 'খোঁজ', সেটাকেই গল্পে রূপ দেয়া হয়েছে" - এই বোধটুকুই বা শতকরা কতজন দর্শকের উপলব্ধিতে স্থান পায়! যেমনটি আপনি আরও বলেছেন, "এটা 'বোঝার' সিনেমা না, এটা 'অনুভব করার' সিনেমা"।

"যে বিদ্রোহ বাইরে আসেনি, যে সাহস কবিতায় আটকে গেছে, মহীন তার শরীরী রূপ। জীবনানন্দ বনলতাকে সৃৃষ্টি করেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে কখনো খোঁজেননি। মহীন সেই খোঁজটাই নিজে করতে বেড়িয়েছে..."। একটি অনন্যসাধারণ পর্যবেক্ষণ!

০৭ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৩

জাহিদ অনিক বলেছেন: শ্রদ্ধেয় খায়রুল ভাই, আপনার মন্তব্য পড়ে সত্যিই ভালো লাগলো। "এই ব্লগে পড়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ রিভিউ" — এটা শুনতে পাওয়া একজন লেখকের জন্য বিরাট পাওয়া, বিশেষ করে আপনার মতো একজন অভিজ্ঞ কবি ও ব্লগারের কাছ থেকে। প্রায় সবগুলো লাইন বেশ নিখুত ও দারুণভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন; এবং মন্তবব্যে সেটা স্পষ্ট। সত্যিই ভালো লাগা কাজ করে যখন এভাবে কেউ আমার মত ছোট লেখকের লেখা পড়ে। :)
আপনার প্লাসের জন্য অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। ভালো থাকবেন।

৭| ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:২৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: "যা তুমি সারাজীবন খোঁঁজো, তার সত্যিকারের সামনে দাঁড়ালে ভয় লাগে; এ সত্যটাই বারবার মহীন দৌড়ে বলে যায়" - কথাটা যে কতটা সত্য, তার অনুভবের স্মৃতি নিশ্চয়ই আমাদের সবার মনে কখনো না কখনো উদয় হয়। অতএব, কথাটাকে সার্বজনীনভাবে সত্য বলে মনে করি।

"লাবণ্যের এই কথাটি দাবী নয়, আর্তনাদ" - সঠিক! পাঠক-দর্শকদের মনেও এ আর্তনাদটি অনুরণন তোলে।

"লাবণ্যকে 'না' বলা নিষ্ঠুরতা, 'হ্যাঁ বলা মিথ্যা। বনলতা শোভনাও না, লাবণ্যও না" - অসাধারণ সত্যকথন।

ট্রাম দুর্ঘটনার মুহূর্তে জীবনানন্দের শরীর থেকে অজস্র কমলালেবু ঝড়ে ঝড়ে পড়তে থাকার দৃৃশ্যের উল্লেখ এবং তার ব্যাখ্যাটা এক কথায় অসাধারণ হয়েছে।

"প্রতিটা কবি এই বোধের জন্যই লেখেন। কোন একদিন কেউ একজন কবিতাটা পড়বে এবং বলবে, 'এটা যেন আমার কথাই'। সেই মুহূর্তটাই দু'দণ্ড শান্তি"...। --আলবৎ।

কুম্ভীলকদের অত্যাচারে মূল পোস্ট থেকে কপি-পেস্ট করার সুবিধেটুকু উঠিয়ে নিতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েছেন। এমতাবস্থায়, কষ্ট হলেও, আপনার কথাগুলো এতটাই ভালো লেগেছে যে কপি-পেস্ট করেই আমি অনেকগুলো উদ্ধৃতি দিলাম।

পোস্টে তৃতীয় প্লাস। + +

০৭ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৭

জাহিদ অনিক বলেছেন: খায়রুল আহসান ভাইয়া, এভাবে লাইন ধরে ধরে উদ্ধৃতি দিয়ে মন্তব্য করাটা রীতিমতো সম্মানের ব্যাপার।

খায়রুল আহসান বলেছেন: "যা তুমি সারাজীবন খোঁঁজো, তার সত্যিকারের সামনে দাঁড়ালে ভয় লাগে; এ সত্যটাই বারবার মহীন দৌড়ে বলে যায়" - কথাটা যে কতটা সত্য, তার অনুভবের স্মৃতি নিশ্চয়ই আমাদের সবার মনে কখনো না কখনো উদয় হয়। অতএব, কথাটাকে সার্বজনীনভাবে সত্য বলে মনে করি।

বনলতা সেনের খোজ অবশ্য মানুষ মাত্রই করে বলে আমার মনে হয়; সবারই ব্যক্তিগত বনলতা সেন থাকে, নারী পুরষ সবার।
কেউ কেবল কবির মত দু লাইন লিখেই তৃপ্তিটা পেয়ে যেত্যে চায়, কেউবা তাকে সত্যিই মহীনের মত খুজতে বের হয়; আবা কেউ বা মনে মনে সারাজীবন তার নাম জপে...

"কুম্ভীলকদের অত্যাচারে কপি-পেস্ট বন্ধ" — এই কষ্টের কথা শুনে হাসিও পেলো, খারাপও লাগলো। তবু আপনি যে কষ্ট করে উদ্ধৃতিগুলো টাইপ করে দিয়েছেন, এটা আমার জন্য বিশাল প্রাপ্তি।

লাবণ্যের "না বলা নিষ্ঠুরতা, হ্যাঁ বলা মিথ্যা" লাইনটা যে আপনার মনে সাড়া ফেলেছে, শুনে ভালো লাগলো — এই দ্বন্দ্বটাই তো শিল্পীর জীবনের সবচেয়ে পুরনো ট্র্যাজেডি।

তৃতীয় প্লাসের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় কবি। এমন উষ্ণ সাড়া পেলে লেখার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।

৮| ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২

খায়রুল আহসান বলেছেন: "লাবণ্য দাশ হয়তো জীবনভর কবিকে জ্বালিয়েছেন, 'কাঁচা মরিচ শেষ হয়ে গেছে...' - এই ধরনের কথা বলে (শ্রাবণধারা'র মন্তব্য)" -্- :)
শুধু এই টুকু বলে ছেড়ে দিলে তাও তো চলতো! :)

০৭ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২০

জাহিদ অনিক বলেছেন: হা হা, খায়রুল ভাইয়া, শ্রাবণধারা আপুর সেই "কাঁচা মরিচ শেষ হয়ে গেছে" লাইনটা আপনারও ভালো লেগেছে দেখে মজা পেলাম! সত্যিই, লাবণ্য দাশের প্রতিদিনকার সংসারের কথাগুলোই হয়তো জীবনানন্দের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা ছিল — কবিতার বনলতার পাশাপাশি এই দিকটাও তো একটা সত্যি গল্প।

পুরুষ সে কবিই হোক আর সচিবই হোক; বউ এর - '' বাজার নেই, তেল নেই, কী রান্না করবো? ইত্যাদি মধুর যন্ত্রণা থেকে যেন কারও নিস্তার নেই।

প্রিয় কবি-
আপনার তিনটে মন্তব্যই মন ভরিয়ে দিলো। এতো মনোযোগ দিয়ে পড়া আর প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন, নিয়মিত এভাবেই সঙ্গে থাকবেন আশা করি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.