| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।
"মশক নিধনের কৌশল শেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই; বাংলাদেশের যে কোনো শহর বা গ্রামের ডোবা-নালার পাশে কয়েক ঘণ্টা দাঁড়ালেই মশার প্রকৃতি, বিস্তার এবং নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব"- নোটসটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রধানমন্ত্রীর একটি সরল কিন্তু বাস্তবসম্মত পর্যবেক্ষণ।
কিন্তু বিষয়টি শুধু মশক নিধন শেখার নয়; এর চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো- সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে সরকারি কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধিদের বিদেশ সফর।
বিগত সরকারের আমলে ‘পুকুর কাটা শিখতে ২০ সরকারি কর্মকর্তার নেদারল্যান্ডস ভ্রমণ’, ‘টয়লেট পরিচালনা শিখতে বিদেশ যাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা’, ‘চর দেখতে সরকারি কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া সফর’, 'স্কুল ছাত্রদের টিফিন খিচুড়ি পাকানো প্রশিক্ষণ নিতে আমেরিকা যাচ্ছেন শিক্ষা সচিব সহ চল্লিশ কর্মকর্তা'- এ ধরনের সংবাদ দেখে অভ্যস্ত।
ব্যবসার জগতে "ফ্রি" বলে কোনো শব্দ নেই। কোনো বিদেশি কোম্পানি মানবসেবার মহান উদ্দেশ্যে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিয়ে যায় না। "পরিদর্শন", "প্রশিক্ষণ", "অভিজ্ঞতা বিনিময়" কিংবা "উদ্ভাবনী কার্যক্রম দেখা"- এসব কেবল ব্যবসায়িক কূটকৌশলী মোড়ক মাত্র। বাস্তবে এগুলো ঘুষ, উপঢৌকন এবং প্রভাব বিস্তারের একটি পরিশীলিত পদ্ধতি।
প্রথমে কয়েকজন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তাকে বিদেশ সফর করানো হয়। সঙ্গে থাকে বিলাসবহুল হোটেল, দৈনিক ডলারভিত্তিক ভাতা, আপ্যায়ন এবং নানা ধরনের উপহার। দুর্নীতিবাজ আমলারা এটাকে "আতিথেয়তা" বললেও ব্যবসায়িক ভাষায় এর নাম "ইনভেস্টমেন্ট"। কারণ কোম্পানি জানে, আজ যে ডলার খরচ করা হচ্ছে, আগামীকাল সরকারি ক্রয়াদেশের মাধ্যমে তার বহুগুণ তুলে নেওয়া সম্ভব।
ফলাফল কী হয়?
একটি পণ্যের প্রকৃত মূল্য যদি এক টাকা হয়, তাহলে সেই মূল্যের সঙ্গে পাঁচ, সাত কিংবা দশ টাকার অতিরিক্ত বোঝা যুক্ত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ পরিশোধ করে জনগণ। জনগণের করের টাকা দিয়ে কেনা হয় অতিমূল্যায়িত পণ্য, আর রাষ্ট্র হারায় হাজার হাজার কোটি টাকা। তাই প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল শুধু সফরটি স্থগিত করা নয়, বরং একটি স্পষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করা- যে কোনো সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি বা ক্রয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে কোনো ধরনের বিদেশ সফর, উপহার, সম্মানী বা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।
কারণ দুর্নীতির আরেক নাম শুধু ঘুষ নয়; দুর্নীতির আরেক নাম হলো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে "শিক্ষা সফর"। আর সেই সফরের বিল শেষ পর্যন্ত গুনতে হয় দেশের সাধারণ জনগণকেই।
২|
০২ রা জুন, ২০২৬ রাত ১১:২০
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
ভালো লিখেছেন। সহমত।
৩|
০২ রা জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৫
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
ভালো লিখেছেন। একজন অসুস্থ রোগীকে থাইল্যান্ড - সিঙ্গাপুর নিয়ে গিয়েছে সাথে গিয়েছে ১৫ জন / ২০ জন। একজন মানুষের কফিন উঠাতেও ১৫জন লাগে না। দেশের টাকার এই অপচয় করে দেশের ভালো কিছু তো আজ পর্যন্ত হলো না!
©somewhere in net ltd.
১|
০২ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ১:১০
আলামিন১০৪ বলেছেন: আম্রিকার মশক নিধনের কৌশলের বিস্তারিত শিখতে ওদের দেশে না গিয়ে কারিগরী কিস্তারিত তথ্য মেইলে আনা যায় না? তবে প্রয়োগের আগে স্বল্প পরিসরে ঢাকার একাংশে পাইলটিং করে কার্যকারিতা পরিক্ষা করা যেতে পারে। ফ্রি তে কৌশল শেয়ার না করলে কিছু দক্ষিণা দিতে বাঁধা কোথায়?