| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।
সীমান্ত নিরাপত্তায় জনসম্পৃক্ততাঃ সময়ের দাবি- একটি প্রশিক্ষিত সীমান্ত রিজার্ভ বাহিনী....
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষ অতীতেও এবং বর্তমানেও দেশের সীমান্তরক্ষীদের নীরব সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। চোরাচালান প্রতিরোধ, অনুপ্রবেশ শনাক্তকরণ, সীমান্ত সংঘাত কিংবা যেকোনো আপৎকালীন পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণই সর্বপ্রথম বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
সেক্ষেত্রে এই বিপুল জনশক্তিকে আমরা যথাযথভাবে প্রস্তুত ও দক্ষ করে তুলতে পারিনি।
আমার মতে, দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার সক্ষম নারী, যুবক ও প্রৌঢ় নাগরিকদের জন্য পর্যায়ক্রমে বাধ্যতামূলক প্যারা-মিলিটারি ও সিভিল ডিফেন্স প্রশিক্ষণ চালু করা উচিত। এর মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত, প্রশিক্ষিত ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সীমান্ত রিজার্ভ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বিশেষ পরিস্থিতিতে তারা সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সহায়তা করতে পারবে, আর যুদ্ধকালীন বা জাতীয় সংকটের সময় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। একইসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, উদ্ধার কার্যক্রম, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং জননিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রেও এই প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে।
দেশের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় এই প্রশিক্ষিত জনবলকে পূর্ণকালীন আর্থিক কাঠামোয় নিয়ে আসা সম্ভব না। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র যখন তাদের সময়, শ্রম ও দক্ষতা ব্যবহার করবে, তখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য সৌজন্য সম্মানি বা মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা যুক্তিযুক্ত। এতে একদিকে যেমন জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে, অন্যদিকে সীমান্ত এলাকায় কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধও শক্তিশালী হবে।
বিশ্বের অনেক দেশেই প্রশিক্ষিত রিজার্ভ ফোর্স জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সীমান্ত এলাকার জনগণকে নিরাপত্তা কাঠামোর অংশীদার করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
সীমান্ত শুধু সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দায়িত্ব নয়; সীমান্ত রক্ষা পুরো জাতির দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজন প্রস্তুতি, প্রশিক্ষিত ও সংগঠিত জনশক্তি।
০৭ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:১৯
জুল ভার্ন বলেছেন: আপনার মন্তব্যের সাথে সম্পুর্ণ একমত।
আমিও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বাংলাদেশের ১৮ বছর ঊর্ধ্ব সকল সক্ষম ছেলে-মেয়ের জন্য মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং অন্তত দুই বছর রাষ্ট্রীয় সেবামূলক সামরিক দায়িত্ব পালন বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।
এটাকে কেবল যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বরং এটা হবে একটি দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজ গঠনের প্রকল্প।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অগ্নিকাণ্ড কিংবা অন্যান্য জাতীয় দুর্যোগের সময় প্রশিক্ষিত লাখো তরুণ-তরুণী উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। রাষ্ট্র তখন একটি বিশাল প্রশিক্ষিত জনশক্তিকে জরুরি প্রয়োজনে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে।
অন্যদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধ বা জাতীয় নিরাপত্তা সংকটের সময় এই প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী সামরিক বাহিনীর সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারবে, প্রয়োজন হলে সরাসরি প্রতিরক্ষা কার্যক্রমেও অংশ নিতে সক্ষম হবে। এতে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সামরিক প্রশিক্ষণ একজন মানুষকে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ, নেতৃত্ব, দলগত কাজ এবং নিয়ম মেনে চলার শিক্ষা দেয়। শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, মানসিক দৃঢ়তা তৈরি হয় এবং নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে ওঠে। এসব গুণাবলি পরবর্তী কর্মজীবন, সামাজিক জীবন এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আমরা প্রায়ই দক্ষ জনশক্তি, শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের অভাবের কথা বলি। বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ সেই ঘাটতি পূরণের একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। একটি প্রশিক্ষিত জাতি শুধু যুদ্ধের সময় নয়, শান্তিকালেও রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি।
২|
০৭ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:১৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সীমান্ত রক্ষা পুরো জাতির দায়িত্ব।
.......................................................
যে জাতি লুটপাটকে সমর্থন করে,
যে বা যাহারা ব্যাংক লুটপাট করে বহাল তবিয়তে আছে
যাহারা দ্বৈত নাগরিকক্ত নিয়ে মাথার উপর ছড়ি ঘুড়াঁয়ে
জাতিকে ১৫ বৎসরের গোলাম বানায়,
তাদের জাতীয় দ্বায়িত্ব বোধ আছে নাকি ???
০৭ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২০
জুল ভার্ন বলেছেন: আসুন আমরা নিজ নিজ নাগরিক দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হই। নিশ্চয়ই সবার চেষ্টায় ভালো কিছু হবে।
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:২৭
ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, বাংলাদেশের ১৮ বছর উর্ধ্ব সকল ছেলে-মেয়েকেই সামরিক প্রশিক্ষণ নেয়া এবং অন্তত দু'বছর সামরিক বাহিনীতে সময় দেয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত। আমার ধারনা এতে করে এই বিশাল জনসংখ্যার বেশ বড় একটা অংশ যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দেশের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে ও সেই সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধকালীন সময়ে সামরিক বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কিংবা প্রত্যক্ষভাবেও বাহিনীতে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়াও তাদের এই সামরিক প্রশিক্ষণ, শারীরিক পরিচর্যা, সময়ানুবর্তিতা, নিয়ম মেনে চলার মতো বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ কর্ম জীবনে গভীর প্রভাব রাখবে। ধন্যবাদ।