| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।
বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?
প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে তিন সদস্যের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সামরিক শিল্প ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।
অর্থাৎ এটি নিছক আনুষ্ঠানিক কোনো রাজনৈতিক ঘোষণা নয়; মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা সমীকরণে এটি একটি নতুন মাত্রা।
আর এখানেই বাংলাদেশ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে যদি সত্যিই Bangladesh First- অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে, তাহলে মক্কা চুক্তির সম্ভাবনাটিও আমাদের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে কোনো অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোয় বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাকে সরকার ইতিবাচকভাবে দেখছে- তবে সিদ্ধান্ত হবে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনায়।
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বক্তব্য।
কারণ বাংলাদেশের জন্য তুরস্ক ও সৌদি আরবের মতো সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর অর্থ শুধু অস্ত্র কেনাবেচা নয়। এর অর্থ হতে পারে- প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া, সামরিক শিল্প, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের সুযোগ তৈরি হওয়া। মক্কা চুক্তির কাঠামোতেও এসব সহযোগিতার বিষয় রয়েছে।
অবশ্যই বাংলাদেশকে আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। কোনো সামরিক জোটে যোগ দেওয়া মানেই অন্য কারও বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া- এমন ধারণাও ঠিক নয়। তিন চুক্তিভুক্ত দেশই বলেছে, এটি প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে তৈরি নয়।
তাই বাংলাদেশের প্রশ্নটিও হওয়া উচিত খুব সরল-
এই চুক্তিতে যুক্ত হলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, অর্থনীতি ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ কতটা শক্তিশালী হবে?
উত্তর যদি ইতিবাচক হয়, তাহলে শুধু কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র কী ভাববে- সেটি বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের প্রধান বিবেচনা হতে পারে না।
বাংলাদেশ কারও বিরুদ্ধে নয়।
বাংলাদেশ কারও অধীনও নয়।
আমরা চাই সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কিন্তু সেই বন্ধুত্ব হবে সমমর্যাদা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে।
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া শেষ পর্যন্ত হবে কি না, সেটি সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় ইতোমধ্যেই পরিষ্কার- বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির পরিসর বদলাচ্ছে।
আর যদি সত্যিই নতুন বাংলাদেশ নিজের কৌশলগত পরিসর বাড়াতে চায়, তাহলে মক্কার দরজায় দাঁড়িয়ে প্রশ্নটি করা অযৌক্তিক নয়-
বাংলাদেশ কি এবার শুধু দর্শক থাকবে, নাকি নিজের জাতীয় স্বার্থের হিসাব কষে নতুন নিরাপত্তা সমীকরণের অংশীদার হবে? সিদ্ধান্ত যাই হোক, সেটি যেন হয় বাংলাদেশের স্বার্থে, বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে।
২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:২৫
জুল ভার্ন বলেছেন: সার্বিক বিবেচনায় এই চুক্তি থেকে বাংলাদেশের দূরে থাকা উচিৎ। ইতিহাস সাক্ষী- হাজার বছর আগে একই জায়গায় আরেকটি চুক্তি হয়েছিল, যা হুদায়বিয়ার সন্ধি নামে পরিচিত। যেখানে মক্কার মতো দুটি অঞ্চলের ভেতরকার উত্তেজনা প্রশমিত করতে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ছিল। ১০ বছর দীর্ঘ সেই চুক্তিটি ২ বছরের মাথায় শর্ত ভেঙে আক্রমণ করা হয়। তখন মদিনা থেকে মুহাম্মদ (সা) এর নেতৃত্বে মক্কা শহরটি দখলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, কারণ মক্কা অঞ্চলের কুরাইশ গোত্রটি চুক্তিটি ভঙ্গ করেছিল। হুদায়বিয়ার সন্ধি ভঙ্গের জেরেই মক্কা বিজয় লাভ করে।
হুদায়বিয়ার সন্ধির সাথে বর্তমান মক্কা চুক্তির বড় পার্থক্য হলো, এটি অঞ্চলভিত্তিক কোন শান্তি চুক্তি নয়। এমন দেশগুলো চুক্তি করছে, যাদের সাথে মক্কা বা সৌদি আরবের সীমানা কেন্দ্রিক জটিলতা নেই। এমনকি দেশগুলোর কোন অভিন্ন শত্রুও নেই। পাকিস্তানের রয়েছে ভারতের সঙ্গে বৈরি সম্পর্ক, তুরস্কের জন্য সমস্যা হলো সিরিয়া জটিলতা, সৌদি আরবের সঙ্গে ইরান একটি প্রতিদ্বন্দ্বী। অভিন্ন এই জটিলতা নিয়ে তিনটি দেশ এক হয়েছে, পারস্পরিক নিরাপত্তা ও সামরিক শক্তিকে জোটবদ্ধ করার জন্য। যেখানে বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ রক্ষা হবে না।
২|
২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:০৫
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এ চুক্তিতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য সুবিধার চাইতে জটিলতা অনেক বাড়বে বলে আমার অভিমত। এটা একটা ভালো বিশ্লেষণ - প্লিজ এখানে ক্লি করুন।
লিংকের আর্টিকেলের এ কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ :
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো—বাংলাদেশ অন্য দেশের যুদ্ধের দায় নিজের ওপর নিতে পারে। ভারত–পাকিস্তান সংঘাত, সৌদি–ইরান যুদ্ধ অথবা তুর্কিয়ের কোনো বৃহৎ সামরিক সংকট বাংলাদেশের সরাসরি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত না হলেও ঢাকা সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ার চাপের মুখে পড়তে পারে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও আরও জটিল হতে পারে। বর্তমান সম্পর্ক যেমনই হোক, ভূগোল পরিবর্তন করা যায় না। সীমান্ত, নদীর পানি, যোগাযোগ, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। পাকিস্তান-অন্তর্ভুক্ত সামরিক জোটে বাংলাদেশের পূর্ণ সদস্যপদকে নয়াদিল্লি বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখবে।
আরেকটি উদ্বেগ হলো বাংলাদেশের কৌশলগত স্বাধীনতা। সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ সার্বভৌমত্ব, সমতা, অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেয়। প্রতিরক্ষামূলক জোট এসব নীতির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাংঘর্ষিক নয়; কিন্তু কোনো চুক্তিই বাংলাদেশের নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া উচিত নয় যে কখন তার সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধে যাবে।
চীনের সঙ্গেও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তান জোটের সদস্য হওয়ায় বেইজিং হয়তো সরাসরি বিরোধিতা করবে না, কিন্তু নতুন ব্যবস্থাটি যেন চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষতি না করে—তা নিশ্চিত করতে হবে।
অর্থনৈতিক স্বার্থও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রেমিট্যান্স উৎসে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশ, চীন, ভারত এবং অন্যান্য বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। (The Business Standard) নিরাপত্তা বাড়াতে গিয়ে যদি রপ্তানি, বিনিয়োগ বা রেমিট্যান্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সামগ্রিক জাতীয় শক্তি বরং দুর্বল হতে পারে।
বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করা এখন অত্যন্ত জরুরি। ভারতের সাথে কোনো স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নয়, ছোটোভাই-বড়োভাই সম্পর্কও নয়, একটা ভারসাম্যপূর্ণ বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্ক অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মক্কা চুক্তি আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কগুলো বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটা বড়ো অন্তরায় হয়ে ওঠে কিনা, সেটা ভেবে দেখা খুবই জরুরি।
শত্রু না বাড়াইয়া শত্রুর সংখ্যা যত কমানো যায়, দেশের জন্য তত মঙ্গল।
২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:২৭
জুল ভার্ন বলেছেন: সোনা ভাই, বাস্তবতার নিরিখে আপনার বিশ্লেষণ মূলক মন্তব্যটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছি।
ধন্যবাদ।
৩|
২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১০
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে কোনো অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোয়
বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাকে সরকার ইতিবাচকভাবে দেখছে-
তবে সিদ্ধান্ত হবে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনায়।
.............................................................................................................
বাংলাদেশ কি ইরান বা ঈসরায়েলের বিপক্ষে যুদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে ?
নাকি মায়ানমার আক্রমন করলে চীন সমর্থন দেবে ?
বাস্তবে এইসব ত্রিমুখী বা দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো থেকে কার স্বার্থ হাসিল হচ্ছে
তা ঠান্ডা মাথায় বুঝতে হবে ।
পাকিস্হানের বিষয়টি আলাদা, তাদের অর্থনৈতিক অবস্হা খারাপ থাকলেও
পারমানবিক বোমা আছে , যেমন মরা হাতির দাম লাখ টাকা ।
৪|
২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:০৭
রিফাত হোসেন বলেছেন: বাস্তবতা হলো, কোনো সামরিক জোটে পুরোপুরি যুক্ত হলে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা অনেক বেশি। এর চেয়ে বাংলাদেশ যদি কোনো জোটে না গিয়ে তুরস্ক বা সৌদি আরবের সাথে কেবল দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি চুক্তি বজায় রাখে তবে ঝুঁকি এড়িয়ে উপকার বেশি পাওয়া সম্ভব।
আর যদি কোনো সহযোগিতার কথা আসেই তবে তা হওয়া উচিত অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। যেমন মক্কার সার্বভৌমত্ব বা নিরাপত্তা কোনো সশস্ত্র আক্রমণের মুখে পড়লে বাংলাদেশ কেবল সেই পবিত্র স্থান রক্ষায় সীমিত পরিসরে প্রতিরক্ষামূলক ও কারিগরি সহায়তা দেবে। এর বাইরে আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক সংঘাতের দায় না নিয়ে নিজের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখাই বাংলাদেশের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
৫|
২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বাংলাদেশের এখন কোনো জোটে যাওয়ার দরকার নেই । আগে অর্থনীতি সামলানোর দিকে মনোযোগ দিতে বলেন সরকারকে ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪
নতুন বলেছেন: আমার মনে হয় না আমাদের পাক ভারত ঝামেলার ভেতরে জড়ানোর তরিকাতে থাকা উচিত হবে।
এই চুক্তি সৌদির জন্য দরকার, আর আসলে কোন দরকারও নাই, ইরান সৌদির জন্য কাকের মতন কাকা করবে আর দুই একটা ঠোকর দেবে , কিন্তু সৌদির আসল ক্ষতি করবে আমেরিকা আর ইসরাইল যারা রক্তচুষে খাবে।
এই চুক্তি পাকিদের সুবিধার জন্য, তাদের লাভ সবচেয়ে বেশি, রাজনিতিক আর অর্থনৈতিক।
তাই আমার মনে হয় না বাংলাদেশের এই চুক্তিতে যাওয়া উচিত। কারন তাতে পাকিরা আমাদের আর্মির সাথে চুক্তির বাহানায় ভারত বিরোধী সুবিধা নেবে এবং ভারত ও সেই বাহানায় বাংলাদেশের সাথে শত্রুতা বাড়াবে।