| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।
১৮ বছর পর্যন্ত সবাই শিশু!
শিশুর অধিকার রক্ষা অবশ্যই সভ্য সমাজের দায়িত্ব। কিন্তু প্রশ্নটা তখনই কঠিন হয়ে ওঠে, যখন ১৭ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়সী কেউ ধর্ষণ বা হত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধ করে। পৃথিবীর জঘন্যতম দুইটি অপরাধ হচ্ছে- ধর্ষণ এবং হত্যা। ধর্ষণ একমাত্র অপরাধ যা পরিকল্পনা করে করা হয়।
বাংলাদেশের শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, ১৮ বছরের নিচের সবাই শিশু। এইসব ১৮ বছরের শিশুরা গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেও মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন বা সাধারণ কারাদণ্ড দেওয়া যায় না; ধারা ৩৪ অনুযায়ী গুরুতর অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং সর্বনিম্ন ৩ বছর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার বিধান রয়েছে। এমনকি আদালত চাইলে দণ্ড না দিয়ে শিশুকে সতর্ক করে উপযুক্ত অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দিতে পারে কিংবা ভালো আচরণের জন্য প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে মুক্ত রাখতে পারে।
অথচ ১৭ বছর বয়সেই বাংলাদেশ সেনা-নৌ-বিমান বাহিনীর কমিশন অফিসার পদে আবেদনের যোগ্য হয়। ১৮ বছর বয়সে একজন নাগরিক ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। পরিবার ও সন্তানের দায়িত্বও নিতে পারে। কিন্তু গুরুতর অপরাধ করেও এরা শিশু অধিকার আইনে পার পেয়ে যায়!
এবার দেখা যাক- আমাদের দেশের ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বমঞ্চে অনন্য গৌরব ও অবদান রেখেছেন এমন কয়েকজন কীর্তিমান ব্যক্তিদের তালিকা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম লালু (বীর প্রতীক)। তিনি বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। টাঙ্গাইলের এই সাহসী কিশোর হানাদার বাহিনীর বাংকারে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শন করেছিলেন।
সাদাত রহমানঃ সাইবার বুলিং থেকে শিশুদের রক্ষা করতে মোবাইল অ্যাপ ‘সাইবার টিনস’ তৈরি করে তিনি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এই অনন্য অবদানের জন্য তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে নেদারল্যান্ডসে ২০২০ সালের মর্যাদাপূর্ণ International Children's Peace Prize অর্জন করেন।
সুবোর্ণ আইজ্যাক বারীঃ বিশ্বজুড়ে ‘পৃথিবীর সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক’ হিসেবে পরিচিত এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিস্ময় বালক মাত্র ১২ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের মালভন অব দ্য নিউ ইয়র্ক কলেজ থেকে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের ওপর স্নাতক সম্পন্ন করার পাশাপাশি সেখানে শিক্ষকতা শুরু করেন। মাত্র সাড়ে ৮ বছর বয়সে তিনি তৎকালীন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট থেকে স্বীকৃতিপত্র পান।
ফাহিম উল করিমঃ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা (ডুশেন মাসকুলার ডিস্ট্রফি) সত্ত্বেও তিনি হুইলচেয়ারে বসেই ফ্রিল্যান্সিং ও গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ শিখে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন এবং মাত্র ১৬-১৭ বছর বয়সে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০১৯’-এ ভূষিত হন।
ফাহমিদা আজিমঃ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই চিত্রশিল্পী ও অলঙ্করণকারী (Illustrator) অত্যন্ত কম বয়স থেকেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। উইঘুরদের ওপর চীনা নির্যাতনের একটি সচিত্র প্রতিবেদনের জন্য তিনি ২০২২ সালে আমেরিকার মর্যাদাপূর্ণ পুলিিৎজার পুরস্কার অর্জন করেন তখন তার বয়স মাত্র ১৭ বছর।
সুকান্ত ভট্টাচার্যঃ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিগুলো লিখেছিলেন ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই। কিশোর বয়সেই তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা প্রতিবাদী ও বিপ্লবী কবি হিসেবে নিজের স্থান করে নেন।
এবার আসেন আমাদের দেশের বিয়ে-শাদি প্রেম করা কীর্তিমানদের কীর্তিগুলো জানতে-
★বংগ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিয়ে করেছিলেন ১৫ বছর বয়সে ১১ বছর বয়স্কা ফজিলাতুন্নেছাকে।
★আসিফ আকবর নামক শিল্পী ("ওপ্রিয়া ওপ্রিয়া তুমি কোথায়" গানের জন্য বিখ্যাত) বিয়ে করেছিলেন ১৬ বছর বয়সে এবং ১৮ বছর বয়সে প্রথম বাবা হন।
★ডুমুরেরফুল সিনেমার লাড্ডু চরিত্রে অভিনয় করে বিখ্যাত শিশু শিল্পী সাকিল আহমেদ ১৫ বছর বয়সে বিয়ে করে ১৭ বছর বয়সে কন্যা সন্তানের জনক হন।
(বিয়ে করে স্বামী-স্ত্রী কি করবে সেটা কোনো শিশুদের যে শিখিয়ে দিতে হয়না তার প্রমাণ উল্লেখ্য দুই শিল্পীর সন্তানের জনক হওয়া)!
এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াড ও বিভিন্ন বৈশ্বিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় প্রতি বছরই বাংলাদেশের অসংখ্য অনূর্ধ্ব-১৮ কিশোর-কিশোরী স্বর্ণ ও ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করে চলেছেন।
অতএব, প্রশ্নটা শিশু অধিকারবিরোধী নয়- প্রশ্নটা ন্যায়বিচারের ভারসাম্য নিয়ে। অপরাধীর বয়স যেমন বিবেচনায় থাকবে, তেমনি ভুক্তভোগীর জীবন, স্বপ্ন, শরীর, মানসিক যন্ত্রণা এবং পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতও কি সমান গুরুত্ব পাবে না?
একজন অপরাধীর ভবিষ্যৎ রক্ষার নামে যদি একজন ভুক্তভোগীর পুরো ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে আইনের মানবিকতার বিপরীত প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির জন্য আমাদের আইনের দায়টা কোথায়?
মিঃ আইন, অবশ্যই শিশুকে রক্ষা করুন।
কিন্তু শিশুর পরিচয়ের আড়ালে ভয়াবহ অপরাধকে এমনভাবে দেখবেন না, যাতে ভুক্তভোগীর যন্ত্রণা, কষ্ট-কান্না, আর্তনাদটা আইনের কাছে সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়ে।
ন্যায়বিচার শুধু অপরাধীর বয়স দেখে নয়-
অপরাধের ভয়াবহতা এবং ভুক্তভোগীর ক্ষতও দেখুক।
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩
জুল ভার্ন বলেছেন: অপরাধ প্রবণতার লাগাম টানতে অত্যন্ত জরুরী ভিত্তিতে শিশু অপরাধ আইন সংস্কার করা উচিৎ।
২|
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৩
নতুন বলেছেন: যে মানুষ ১৫ বছর বয়সে কারুর মাথায় বাড়ী দিতে পারে তাকে সেই কাজের সাজা নেবারও ক্ষমতা আছে।
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯
সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: আমার মনে হয় এই আইনটি নিয়ে এখন ভাববার সময় হয়েছে।