| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সত্যপথিক শাইয়্যান
আমি একজন চিন্তুক, সমাজ নিয়ে চিন্তা করি! সমাজের ভালোর জন্যে গান-গল্প-ছড়া লিখি ও আইডিয়া শেয়ার করি। আপনি?
প্রাচীন গ্রিক দর্শনের মহান পুরুষ সক্রেটিসের আত্মানুসন্ধান বা "নিজেকে জানো" তত্ত্বটি মানুষের ভেতরের ঘৃণা, গোঁড়ামি এবং অজ্ঞানতা দূর করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। সক্রেটিসের মতে, মানুষের সমস্ত নৈতিক স্খলন ও মনের কলুষতা আসে মূলত নিজের সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকে।
⛵️দেলফির বাণী এবং সক্রেটিসের উপলব্ধি:
গ্রিসের দেলফি মন্দিরে খোদাই করা ছিল একটি অমর বাণী: "Know Thyself" (নিজেকে জানো)। দেলফির দেববাণী ঘোষণা করেছিলো যে, সক্রেটিসই পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ। সক্রেটিস এতে অবাক হোন, কারণ তিনি জানতেন তিনি কিছুই জানেন না। এরপর তিনি সমাজের তথাকথিত জ্ঞানী, পণ্ডিত ও গোঁড়া ব্যক্তিদের সাথে কথা বলতে শুরু করেন। তিনি আবিষ্কার করেন, অন্য মানুষেরা আসলে কিছুই জানে না, অথচ তারা ভাবছে তারা সব জানে। সক্রেটিস বুঝলেন, তার জ্ঞান এখানেই যে - তিনি অন্তত নিজের অজ্ঞতা সম্পর্কে সচেতন। একে দর্শনের ভাষায় বলা হয় 'সক্রেটিক আইরনি'।
⛵️মনের কলুষতা ও অজ্ঞতার সম্পর্ক:
সক্রেটিসের দর্শনের একটি মূল ভিত্তি হলো - "সদগুণই জ্ঞান"। তার মতে, কোনো মানুষ জেনে-বুঝে স্বেচ্ছায় অন্যায় বা পাপ করে না। মানুষ যখন অন্যকে ঘৃণা করে বা গোঁড়ামি আঁকড়ে ধরে, তখন সে আসলে এক গভীর 'অজ্ঞতা'-র মধ্যে বাস করে। সে মনে করে ঘৃণা বা অহংকার প্রকাশ করে সে সঠিক কাজ করছে। সক্রেটিসের আত্মানুসন্ধান তত্ত্ব বলে, মানুষ যখন নিজের মনকে পরীক্ষা করে এবং নিজের ভেতরের এই অজ্ঞতাকে চিনতে পারে, তখনই তার ভেতরের অন্ধত্ব বা মনের কলুষতা কেটে যায়।
⛵️ সক্রেটিক পদ্ধতি বা দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি:
আত্মানুসন্ধানের জন্য সক্রেটিস যে পদ্ধতি ব্যবহার করতেন, তাকে বলা হয় দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি বা প্রশ্নোত্তর পদ্ধতি। তিনি মানুষকে সরাসরি কোনো উপদেশ দিতেন না। বরং গভীর ও যৌক্তিক প্রশ্ন করে মানুষের মনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ভুল ধারণা, কুসংস্কার ও গোঁড়ামিকে টেনে বের করতেন। পানি যেমন কাপড়ের ওপরের ময়লা ধুয়ে দেয়, সক্রেটিসের এই প্রশ্নোত্তরের প্রক্রিয়াটি ঠিক তেমনি মানুষের মনের ভেতরের অন্ধ বিশ্বাস ও কুযুক্তিকে ধুয়ে-মুছে সাফ করে দিত। এর মাধ্যমে মানুষ নিজেই নিজের ভুল বুঝতে পেরে সত্যের আলো খুঁজে পেতো।
⛵️ অপরীক্ষিত জীবন বাঁচার যোগ্য নয়:
সক্রেটিসের সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তিগুলোর একটি হলো - 'অপরীক্ষিত জীবন বেঁচে থাকার যোগ্য নয়'। যে মানুষ নিজের চিন্তাভাবনা, নিজের আচরণ এবং নিজের বিশ্বাসকে কখনো প্রশ্ন করে না, সে আসলে একটি অন্ধ বা গোঁড়া জীবন যাপন করে। আত্মানুসন্ধান হলো প্রতিদিন নিজের মনের ভেতরে তাকানো: "আমি কেন এই মানুষকে ঘৃণা করছি?", "আমার এই বিশ্বাসের পেছনে কি কোনো যুক্তি আছে?"। এই আত্ম-নিরীক্ষণই মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করে তোলে।
©somewhere in net ltd.