নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

জুল ভার্ন

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।

জুল ভার্ন › বিস্তারিত পোস্টঃ

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন আমরা সহজেই বলি- “মানুষের নৈতিকতা নষ্ট হয়ে গেছে।”

হ্যা নৈতিকতা, মানবিকতা হারিয়ে গেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- এই অবক্ষয়ের দায় আসলে কার?
শুধু ব্যক্তির?
শুধু পরিবারের?
নাকি পুরো সমাজব্যবস্থার?

সত্যি বলতে, দায়টি একক কারও নয়।
ব্যক্তির দায় আছে।
কারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত নিজের কাজের জন্য নিজেই দায়ী। লোভ, মিথ্যা, প্রতারণা, অন্যায় ও অপরাধকে জেনেশুনে বেছে নেওয়ার দায় অন্যের ওপর চাপানো যায় না।

পরিবারের দায়ও আছে।
শিশুর প্রথম বিদ্যালয় পরিবার। বাবা-মা যদি সন্তানকে শুধু অর্থ, প্রতিযোগিতা ও সাফল্যের শিক্ষা দেন, কিন্তু সততা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শিক্ষা না দেন- তাহলে তার চরিত্রের ভিত দুর্বল হওয়াই স্বাভাবিক।

সমাজেরও দায় আছে।
যে সমাজ সৎ মানুষকে বোকা এবং অসৎ মানুষকে সফল বলে প্রতিষ্ঠা করে, সেখানে নৈতিকতা ধীরে ধীরে মূল্যহীন হয়ে পড়ে। আমরা অনেক সময় অন্যায়কে ঘৃণা করার বদলে অন্যায়কারীকে অনুসরণ করি- যদি তার অর্থ, ক্ষমতা কিংবা সামাজিক প্রভাব থাকে।
সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দায় আরও গুরুত্বপূর্ণ।

আইনের শাসন দুর্বল হলে, অপরাধের যথাযথ বিচার না হলে, যোগ্যতার বদলে তদবির ও ক্ষমতার মূল্য বেশি হলে এবং দুর্নীতির শাস্তি না হলে মানুষ একটি বিপজ্জনক বার্তা পায়- “অন্যায় করেও পার পাওয়া যায়।”

আর শিক্ষা ব্যবস্থার দায়ও কম নয়।

আমরা পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার শিক্ষা দিই, কিন্তু ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা কতটা দিই? বর্তমানে বড় সংকট সম্ভবত জ্ঞান ও নৈতিকতার বিচ্ছিন্নতা।
মানুষ শিক্ষিত হচ্ছে, কিন্তু সেই শিক্ষা সবসময় তাকে মানবিক করছে না। প্রযুক্তি আমাদের যোগাযোগ বাড়িয়েছে, কিন্তু সম্পর্কের গভীরতা কমিয়েছে। অর্থনৈতিক সাফল্য বেড়েছে, কিন্তু আত্মিক ও নৈতিক সমৃদ্ধি একই হারে বাড়েনি।

তবে একটা কথা মনে রাখা জরুরি-
অবক্ষয়ের দায় সবার হলেও, পরিবর্তনের দায়িত্বও সবার।
পরিবারকে বদলাতে হবে পরিবার থেকেই।
শিক্ষাকে ফিরতে হবে চরিত্র গঠনের দিকে।
সমাজকে সম্মান দিতে হবে সততা ও যোগ্যতাকে।
রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে ন্যায়বিচার ও আইনের সমতা।
আর ব্যক্তিকে নিজের কাছে প্রশ্ন করতে হবে-
“আমি কেমন সমাজ চাই?”
“আমি নিজে কেমন সমাজ তৈরি করছি?”

কারণ সমাজ আকাশ থেকে তৈরি হয় না।
আমাদের প্রত্যেকের চরিত্র, আচরণ ও সিদ্ধান্তের সমষ্টিই সমাজের চরিত্র হয়ে দাঁড়ায়।
তাই ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় খুঁজতে নিজ বিবেকের সামনে দাঁড়াতে হবে।
দোষী শুধু ‘অন্যরা’ নয়- আমাদের প্রত্যেকের কিছু না কিছু দায় আছে।
আর পরিবর্তনের শুরুটাও হতে পারে ঠিক সেই বিবেক থেকেই।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

নতুন বলেছেন: যদি শিশুর বাবা মা থাকে তবে সন্তানের শিক্ষা বাবা মায়ের দেওয়া। শিশু যখন কোন অন্যায় করে সেটার দায় বাবা মায়ের।

যদি শিশুর বাবা মা না থাকে তবে তাকে বড় করার দায়ীত্ব সমাজ/রাস্টের।

দেশের মানুষ দূনিতি, ভন্ডামীতে বিশ্বের রেঙ্কিং এ টপ ১০ এ থাকবে। সেই দেশে সমাজে ভালো কিছু হবে না সেটা স্বাভাবিক ।

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৬

জুল ভার্ন বলেছেন: নিজের ভুল দেখতে আমাদের আয়না লাগে না,
অন্যের ভুল দেখতে মাইক্রোস্কোপ লাগে!
আর ব্যক্তিগত আত্মঅহংকারের এই সংস্কৃতি যখন পরিবারে ঢুকে পড়ে, তখন বিপদটআমি ভালো, আমার পরিবার ভালো;
খারাপ শুধু অন্যরা! নিজের দোষ দেখতে পাই না, অথচ অন্যের দোষ খুঁজতে আমাদের জুড়ি নেই।
এই মানসিকতার সবচেয়ে বড় শিকার হয় আমাদের সন্তানরা।

২| ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫০

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:

গ্লোবালাইজেশনের ফলে প্রযুক্তির অপব্যবহার, খেলার মাঠ সংকোচন, মাদকের সহজলভ্যতা

মানুষের চাহিদা বৃদ্ধি ইত্যাদি।‌

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৩

জুল ভার্ন বলেছেন: প্রাকৃতিক কারণে এই সমস্যা থেকে আমাদের বের হবার কোনো পথ নাই।

৩| ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আমাদের মধ্যে সম্ভবত নার্সিসাস সিন্ড্রোম কাজ করে। আমরা নিজেরা ভালো বাকি সবাই খারাপ। নিজেদের দোষ দেখতে পাইনা। এটা ব্যক্তিগত দিক দিয়ে। অপরদিকে পরিবারে আমরা কি সচেতন বাচ্চাদের সামনে কথা বলার সময়? আমরা বেশিরভাগ সময় বাচ্চাদের সামনে অন্য আত্নীয়স্বজণদের বিষয়ে অনেক ধরনের কটুক্তি করি। এগুলো শিশুদের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৪

জুল ভার্ন বলেছেন: আমরা কি কখনো ভাবি- বাচ্চাদের সামনে কী বলছি?
আত্মীয়স্বজনের নামে কটূক্তি, অন্যকে ছোট করা, কারও চরিত্র নিয়ে আলোচনা- এসবের প্রতিটি শব্দ শিশুর মনে দাগ কাটে।

শিশু হয়তো চুপ থাকে, কিন্তু সে শেখে।
আমরা তাকে যা বলি, তার চেয়ে বেশি শেখাই আমরা নিজেরা যা করি।

তাই নৈতিক অবক্ষয়ের প্রথম পাঠ স্কুলে নয়-
আমাদের নিজেদের ঘরেই শুরু হয়।
সন্তানকে ভালো মানুষ বানাতে চাইলে,
আগে নিজেদের আচরণটা ভালো করতে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.