| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ফজরের আগের সেই নীরব সময়টা—যখন আকাশ আর জমিনের মাঝে এক অদৃশ্য দরজা খুলে যায়।
আমি ওযু করে নামাজের জন্য দাঁড়ালাম। চারপাশে এমন নীরবতা, যেন পৃথিবীটা কারো গভীর চিন্তার মধ্যে ডুবে আছে।
সেজদায় গেলাম।
হঠাৎ মনে হলো—আমার কপাল মাটিতে না, বরং কোনো অচেনা শূন্যতায় ঠেকেছে।
চোখ খুলতেই দেখি—আমি আর আমার ঘরে নেই। চারপাশে কুয়াশার মতো সাদা আলো, আর দূরে একটা গ্রামবাংলার মাটির পথ… ঠিক যেন আমার শৈশবের সেই চেনা পথ, কিন্তু সবকিছু অস্বাভাবিকভাবে স্থির।
সেই পথ ধরে একজন আসছে।
কাছে আসতেই বুকটা কেঁপে উঠল—
সে আমি।
কিন্তু তার চোখে এক অদ্ভুত শান্তি, আর ঠোঁটে হালকা হাসি।
সে বলল,
“তুমি তো শুধু দোয়া করো… কিন্তু যাকে ডাকো, তাকে কখনো অনুভব করো?”
আমি চুপ হয়ে গেলাম।
চারপাশে হঠাৎ অসংখ্য দৃশ্য ভেসে উঠল—
আমার ভুলগুলো, গোপন কষ্ট, অপূর্ণ স্বপ্ন… এমনকি সেই দোয়াগুলোও, যেগুলো আমি কখনো মন থেকে করিনি।
সে ধীরে আমার পাশে বসে পড়ল,
“প্রতিটা সেজদা শুধু শরীরের না… আত্মারও হয়।”
হঠাৎ দেখি—আমার ছায়াটা আমার থেকে আলাদা হয়ে তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
আমি বুঝতে পারলাম—সে আমার সেই অংশ, যেটা আল্লাহর কাছে যেতে চায়, কিন্তু আমি দুনিয়ার ব্যস্ততায় তাকে আটকে রেখেছি।
দূর থেকে আজানের শব্দ ভেসে আসল।
সবকিছু ভেঙে পড়তে লাগল।
আমি আবার নিজের ঘরে—সেজদায়।
কিন্তু এবার মনে হলো—আমার কপাল শুধু মাটিতে না, বরং এমন এক দরজায় লেগে আছে…
যেখানে শব্দ নেই, কিন্তু সবকিছু শোনা যায়।
সেদিনের পর থেকে—
আমি আর শুধু নামাজ পড়ি না…
আমি আমার ছায়ার সাথে কথা বলি।
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার লেখাখানি পড়িয়া ভাবের জগতে চলিয়া গেলাম।