| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আপনি কি কখনও চিন্তা করে দেখেছেন যে ক্যান্সার টিউমারকে কেন শরীর এর রোগ প্রতিরোগ করা ইমিউন সেল (যেমন টি সেল) একেবারে ধ্বংস করতে পারে না!!! যেখানে টি সেল এর কাজই হল এবনরমাল সেলকে (যেমন ইনফেকটেড সেল, ক্যানসার সেল) ধংস করা, সেখানে সে ক্যান্সার সেল কে ধ্বংস করতে ফেইল। টি সেল এর বাইরের আবরন PD-1 নামের 'প্রোটিন' থাকে যেটা আপনার নরমাল কোষগুলিকে টি সেল এর ধ্বংসাত্মক একশান থেকে সুরক্ষা করে, নাহলে টি-সেল অটোইমিউন মোডে নরমাল সেল কেও ধ্বংস করে দেয়। যাতে টি সেল নরমাল সেল কে ধ্বংস করতে না পারে, আপনার ইনফেকশান বিহীন নরমাল সেল PD-L1 নামের প্রোটিন বানায় আর তা টি-সেল এর PD-1 প্রোটিন এর সাথে বাইন্ড করে টি সেল কে 'নিস্কৃিয়' করে দেয়।
ক্যান্সার কোষের ডিএনএ তে প্রচুর মিউটেশন এর ফলে তার মাঝে নতুন ধরন এর নানা রকম 'এবনরমাল' প্রোটিন তৈরী হয় (যে টাকে neoantigen বলে), আর টি সেল সেই neoantigen কে চিনতে পারে যে এটা ক্যান্সার কোষ কিন্তু যখনই টি সেল ক্যান্সার কোষ কে ধ্বংস করতে যায়, ধূর্ত ক্যান্সার সেল নরমাল সেল এর মত PD-L1 প্রোটিন বানায় আর তা টি-সেল এর PD-1 প্রোটিন এর সাথে বাইন্ড করে টি সেল কে 'নিস্কৃিয়' করে দেয়। আর ক্যান্সার সেল বিজয়ী এর হাসি হেসে বাড়তে থাকে.....
বিজ্ঞানীরা নতুন ড্রাগ বানালো....যেটা টি সেল এর PD-1 নামের প্রোটিন এর সাথে বাইন্ড করে (নাম Keytruda: এক ইনজেক্শান এর দাম $15,000)। ক্যান্সার সেল এর তখন ত্রাহি অবস্হা ...আতি-পাতি করে টি-সেল এর PD-1 প্রোটিন কে খুজতে থাকে বাইন্ড করে নিস্কৃিয় করা জন্য কিন্তু PD-1 এর সাথে Keytruda বাইন্ড করে থাকাতে ক্যান্সার সেল আর টি সেলকে কে 'নিস্কৃিয়' করতে পারে না; এতে টি সেল ক্যান্সার সেল এর neoantigen কে চিনতে পারে 'শত্রু' (not own cells) হিসাবে এবং খুব সহজেই ক্যান্সার সেলকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এই পদ্ধতি বিভিন্ন ক্যান্সার এ কাজ করছে তবে ১০০% সাকসেসফুল না....।এবং সব ক্যান্সার এ কাজ ও করে না।
এখন আসলো পারসোনাল ক্যান্সার ভ্যাকসিন। টি সেল এর সাথে ক্যান্সার সেল যে হাইড এন্ড সিক গেইম খেলে, তার একটা হল ক্যান্সার সেল বিভিন্ন পদ্ধতি ইউজ করে তার মাঝে যে neoantigen আছে সেগুলিকে লুকিয়ে রাখতে টি সেল থেকে যাতে টি সেল ক্যান্সার কোষ কে 'বিদেশী' সেল হিসাবে সনাক্ত না করতে পারে। ক্যান্সার ভাকসিন সেই neoantigen কে ইনজেকশান হিসাবে শরীরে প্রবেশ করায় যাতে টি সেল খুব সহজেই শরীর এর ক্যান্সার সেল এর প্রতিক এই neoantigen কে চিনতে পারে, আর তাতেই সে ক্যান্সার সেল কে সনাক্ত করতে পারে এবং ক্যান্সার সেল এখানেই কাবু....Keytruda তার ধূর্ত পদ্ধতি ( PD-1 কে বাইন্ড করে টি সেল কে নিস্কৃিয় করা) বন্ধ করে আর পারসোনাল ভ্যাকসিন ক্যান্সার সেল এর লুকানো neoantigen কে চিনতে সাহায্য করে। আর এই দুই পদ্ধতি একসাথে ক্যান্সার সেল কে ধরাশায়ী করে দেয়।
গতকাল মডার্নরা কোম্পানী প্রায় ১২০০ লোকে স্কিন ক্যান্সার এর উপর পরীক্ষা করে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এর ফল প্রকাশ করেছে। ক্যান্সার ভ্যাকসিন এবং Keytruda এক সাথে ব্যবহার করে দেখা গিয়েছে যে একলা Keytruda ইউজ করার চেয়ে অলমোস্ট ৫০% বেশী ইফেক্টিভ ক্যান্সার নিরাময়ে (নিরাময় মানে শরীরে কোন ক্যান্সার না থাকা) যখন দুইটা একসাথে ইউজ করা হয়...। এটা বিশাল খবর.... আমার মতে হয়ত বেশী বয়স্ক লোকেরা তত উপকার পাবে না তবে অল্প বয়সে ক্যান্সার ধরা পড়লে, এত দুই পদ্ধতি যে ভাবে আগাচ্ছে হয়ত সেদিন বেশী দুরে না যে ক্যান্সার ডায়াবেটিস এর মতই ম্যানেজএবল পর্যায়ে যাবে।
পারসোনাল ক্যান্সার ভ্যাকশিন মানে কাস্টম মেইড ভ্যাকসিন.. একেক জনের একেক রকম এর ভ্যাকসিন কাস্টম মেইড হবে। কারন প্রায় সবার ক্যান্সার এর neoantigen ডিফারেন্ট ফ্রম আদার্স। সবার ক্যান্সার সেল এর মিউটেশান ও ডিফারেন্ট, তাই neoantigen ও ডিফারেন্ট। তাই টিউমার এর ডিএনএ সিকোয়েন্স করে নরমাল সেল (যেমন আপনার থুথু থেকে) ডিএনএ সিকোয়েন্স এর সাথে কমপেয়ার করে দেখা হয় কোন কোন ডিএনএ মিউটেশান ক্যান্সার সেল এ আছে। তা জানার পর ই, ল্যাবে আপনার ক্যান্সার মিউটেশান স্পেসিফিক neoantigen বানিয়ে শরীরে ইনজেকশান দেওয়া হয় আর এতে টি সেল খুব সহজেই ক্যান্সার সেল এর লুকিয়ে রাখা neoantigen কেভ্যাকসিন এর দ্বারা চিনতে পারে।
এই সাফল্য ই এখন অন্যান্য ক্যান্সার ও ট্রায়াল হচ্ছে এই দুই পদ্ধতি কে এক সাথে করে এবং আমি মনে করি সেগুলিও সাকসেসফুল হবে..অচিরেই মানব জাতি ক্যান্সার 'বিজয়' এর আশা করতেই পারে।
লিখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সুবিধার জন্য চ্যাট জিপিটি দ্বারা একটা ছবি আকালাম নিচে
আমার এই লিখা হয়ত যারা 'বৈজ্ঞানিক' মুফতি ইবরাহিমের ফলোয়ার তাদের কাছে ভাল লাগবে না...তারা তাদের স্বপ্নে পাওয়াঔষুধ অথবা তাবিজ/জিন এসব দিয়েই ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যস্ত থাকুক ..এত কস্ট করে ঔষুধ বানানো বোকামি...
২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:১০
কলাবাগান১ বলেছেন: এইডসের টিকা সহজেই হবে না কেন না এই ভাইরাস খুব দ্রুত মিউটেশান হয় যেমন কভিড/ফ্লু দেখবেন যে বছর বছর টিকা নিতে হয় (গত সপ্তাহে কভিডের টিকা নিলাম)।
চার্চের এর ভিতর যদি কোন নরনারী অনৈতিক কাজ করে, বড় জোড় তাদের কে রিপেন্ট করতে বলা হবে পাদ্রীদ্বারা, তাই বলে গলা কেটে????? মুসলিম ধর্মকে মিছে মিছে পশ্চিমা বিশ্ব রা ভয় পায় না.................।
২|
২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৮
নতুন বলেছেন: কাস্টমাইজড অষুধ বা টিকা অবশ্যই বিরাট ব্যাপার।
২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০
কলাবাগান১ বলেছেন: এখন দেখছি নতুন ট্রেন্ড যেটাকে বলে Founder's Mode যেটার প্রথম পথ দেখিয়েছেন Sid Sijbrandij। উনার নিজের যখন ক্যান্সার সব চিকিৎসা 'ফেইল' করল, উনি তখন নিজেই নিজের ফান্ড দিয়ে এআই এর সাহায্য নিয়ে নিজের ট্রিটমেন্ট আরম্ভ করেন। এখন অনেকেই (বড়লোকেরা) এই ভাবেই নিজেই নিজের ক্যান্সার চিকিৎসা আরম্ভ করছেন। উনার ওয়েবসাইটে উনি নিজে সব শেয়ার করছেন
৩|
২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩
প্রগতি বিশ্বাস বলেছেন: ফলাফল দেখার জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করবো!
২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫০
কলাবাগান১ বলেছেন: যে দেশের মা-বাবারা ছেলে-মেয়েদের কে বিজ্ঞাান ভিত্তিক পড়ালিখার চেয়ে মাদ্রাসা র পড়ালিখা কে দাম দেয়, সে দেশের অপেক্ষা করা ছাড়া কোন উপায় নাই
৪|
২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:১৫
অপলক বলেছেন: দেখা যাক, শেষোবধি কি হয়...
২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৪৮
কলাবাগান১ বলেছেন: নিজেদের ভাগ্য নিজেদের তৈরী করার জন্য যা প্রয়োজন রাস্ট্র সেদিকে মন দিচ্ছে না...ধর্ম ভিত্তিক কোন দেশ জ্ঞানে-বিজ্ঞানে আগানোর কোন উদাহরন নাই
৫|
২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৫
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ব্যক্তিগত ক্যান্সার ভ্যাকসিন ও Keytruda-এর মতো ইমিউনোথেরাপির সমন্বয় ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন আশার
আলো দেখাচ্ছে এটি অবশ্যই একটি শুভ সংবাদ । তবে রোগ পুনরাবৃত্তি বা মৃত্যুর ঝুঁকি কমাকে সম্পূর্ণ নিরাময় বলার
এখনো সম্ভবত হয়নি, আর সব ক্যান্সারে এ চিকিৎসা সমান কার্যকর হবে কীনা সে বিষয়েও াআরো গবেশনা প্রয়োজন,। ব্যক্তিগত ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও প্রাপ্যতা নিয়েও আরও গবেষণা প্রয়োজন।
রোগীদেরও সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছি । ইমিউনোথেরাপিতে ক্লান্তি, র্যাশ, ডায়রিয়া এবং থাইরয়েড, লিভার
বা ফুসফুসে প্রদাহের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে এবং বিরল ক্ষেত্রে তা প্রাণঘাতীও হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে চিকিৎসা পরিবর্তন বা বন্ধ না করে কোনো নতুন চিকিৎসা গ্রহণের আগে
এর কার্যকারিতা, ঝুঁকি ও অনুমোদন যাচাই করে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়াও প্রয়োজন। অবশ্ই নব
উদ্ভাবনে আশা রাখছি , তবে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত হবে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শের ভিত্তিতে।
যাহোক ধন্যবাদ জানাই বিজ্ঞানিদেরকে সাথে বিষয়টি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনার প্রতিউ
রইল ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা ।
২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৪
কলাবাগান১ বলেছেন: এআই এর উত্তরে বিভ্রান্ত হবেন না। যারা এই ব্যাপারে রিসার্চ করছে তারা জেনে-শুনেই করছে। যখন লাভ-ক্ষতির হিসাব করা হয় বেনিফিট যদি লসের চেয়ে বেশী হয়, তখন সেটাকেই গ্রহন করতে হয়। লিং দিলাম একজনের পারসোনাল ক্যান্সার জার্নি যেখানে সর্তকতা থেকে যদি উনি উনার ডাক্তার এর কথা মত মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতেন, এতদিন তার বেচে থাকার কথাও ছিল না..।মাঝে মাঝে বোল্ড পদক্ষেপ নিতে হয়...
https://centuryofbio.com/p/sid
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আগামী কয়েক দশকে ক্যান্সার এবং এইডসের টিকা বা ওরাল মেডিসিন বের হয়ে যাবে । এআই গবেষণায় গতি বৃদ্ধি করবে । মুফতি ইব্রাহীমর মতো মানুষেরা দেশে কবিরাজি করবেন আর বিদেশে গিয়ে ওরাল মেডিসিন খাবেন ।