| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু
লেখালেখির মাধ্যমে আমি নতুন ভাবনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল প্রকাশ খুঁজে পাই। আমার লেখার লক্ষ্য পাঠকদের ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি অর্থবহ আলোচনা তৈরি করা।
কুয়ালালামপুর অপারেশনের ঠিক সাতদিন পর। ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের ‘নগুরা রাই’ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন একটি প্রাইভেট চার্টার্ড বিমান ল্যান্ড করল, তখন বালির আকাশ জুড়ে গোধূলির রক্তিম আলো।
বিমান থেকে নামল পিবিআই-এর বিশেষ টিম। এবার ওঁদের দলগত ভারসাম্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঢাকা হেডকোয়ার্টার থেকে সরাসরি ফ্রন্টলাইনে চলে এসেছে বর্ষা—ও এখন আর ঘরের কোণে বসে থাকা হ্যাকার নয়, ও এখন টিমের প্রধান ডিজিটাল ফরেনসিক ও ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট। ওঁর সাথে আছেন তানভীর, যিনি শুধু একজন সহকারী নন, বরং পিবিআই-এর অন্যতম সেরা আন্ডারকভার অপারেটিভ ও ভাষা বিশেষজ্ঞ, যিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক উপভাষাগুলোতে অনর্গল কথা বলতে পারেন। আর সবার সামনে আরিয়ান।
আরিয়ানের চোখের নিচে কালচে ছায়া। তিন বছর আগে ওঁর মেন্টরের মৃত্যুর পর থেকে ‘অনিদ্রা’ ওঁর নিত্যসঙ্গী হয়েছে। প্রতি রাতে চোখ বন্ধ করলেই ওঁর মনে হয়, অধ্যাপক রেহান আশরাফের সেই ঠান্ডা চালের কাছে উনি হেরে যাচ্ছেন। এই ব্যর্থতার ভয়টাই ওঁর ভেতরের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট।
“বালিতে স্বাগতম, স্যার,” বর্ষা ওঁর ল্যাপটপ ব্যাগটা কাঁধে ঠিক করতে করতে বলল। “কুয়ালালামপুরের সেই ৬০% ডেটা অ্যানালাইসিস করে আমি নিশ্চিত হয়েছি, আসাফউদ্দৌলা ছিলেন এই ‘ব্লু ওশান ট্রাস্ট’-এর শত শত ক্লায়েন্টের মধ্যে একজন সাধারণ চুনোপুঁটি মাত্র। এই ট্রাস্ট আসলে বিশ্বের শীর্ষ কোরাপ্ট ফিন্যান্সিয়াল এলিটদের ব্ল্যাক-মানি ক্রিপ্টোর মাধ্যমে পরিচালনা করে। আর অধ্যাপক রেহান হলেন এই সমান্তরাল বিশ্ব-অর্থনীতির মূল স্থপতি।”
“গেমটা এবার জিও-পলিটিক্যাল, স্যার,” তানভীর স্থানীয় বালিনিজ ভাষায় পাশ দিয়ে যাওয়া এক ট্যাক্সি ড্রাইভারের সাথে কথা বলে এসে ফিসফিসিয়ে বললেন। “আমি লোকাল নেটওয়ার্কে খোঁজ নিয়েছি। বালির উলাওয়াতু ক্লিফের ওপর অবস্থিত একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ক্যাসিনো রিসোর্টের আড়ালে আদি উইজায়া নামের এক ইন্দোনেশিয়ান ধনকুবের এই ট্রাস্টের প্রথম ফিন্যান্সিয়াল নোডটা অপারেট করছে।”
উলাওয়াতু ক্লিফের ওপর আছড়ে পড়ছে ভারত মহাসাগরের বিশাল ঢেউ। আরিয়ান ও ওঁর টিম ইন্দোনেশিয়ান পুলিশের বিশেষ কাউন্টার-টেররিজম ইউনিটের (Densus 88) লজিস্টিক সাপোর্ট নিয়ে আদি উইজায়ার ব্যক্তিগত ক্যাসিনো ভিলা পরিবেষ্টন করল।
তানভীর ওঁর আন্ডারকভার এক্সপার্টাইজ ব্যবহার করে ক্যাসিনোর সিকিউরিটি গার্ডদের মনোযোগ ডাইভার্ট করলেন, আর বর্ষা ওঁর ডিজিটাল জ্যামার দিয়ে ভিলার সিকিউরিটি সিস্টেম অবশ করে দিল। আরিয়ান এবং তানভীর নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল মুভ নিয়ে ভিলার মেইন আইটি স্যুটে হিট করলেন। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকেই আরিয়ান ওঁর পিস্তল উঁচিয়ে ধরলেন, “ডোন্ট মুভ, উইজায়া!”
কিন্তু কোনো প্রতিরোধ এলো না। আদি উইজায়া ওঁর রিভলভিং চেয়ারে বসে ছিলেন, ওঁর মাথাটা পেছনের দিকে হেলানো, চোখ দুটো নিস্প্রাণ। ওঁর গলার কাছে একটা সুক্ষ্ম সিরিঞ্জের দাগ—সায়ানাইড পয়জনিং। ওঁর মৃত্যুর বয়স বড়জোর দশ মিনিট। ওঁর সামনের ল্যাপটপের স্ক্রিনে দাউদাউ করে জ্বলছে একটি ইংরেজি বর্ণ—‘R’।
ঠিক তখনই বর্ষা চিৎকার করে উঠল, “স্যার! এই সার্ভারটা আদি উইজায়ার নয়, এটা একটা মিরর প্রক্সি! কেউ আমাদের ভুল আইপি অ্যাড্রেস ফিড করে এখানে পাঠিয়েছে এবং আমাদের আসার খবর অধ্যাপক রেহান আগে থেকেই জানতেন!”
আরিয়ানের মগজে বজ্রপাত হলো। উনি একটি মারাত্মক সিদ্ধান্তগত ভুল করে ফেলেছেন। হুট করে রেইড দেওয়াটাই ভুল হয়েছে। হঠাৎ পুরো ক্যাসিনো ভিলার রেড-অ্যালার্ট বেজে উঠল। ডেনসু ৮৮-এর যে অফিসারটি ওঁদের ব্যাকআপ দিচ্ছিল, সে হঠাৎ ওয়্যারলেসে উধাও হয়ে গেল।
আরিয়ান বুঝতে পারলেন, ওঁদের নিজেদের সিস্টেমের ভেতরই কেউ একজন বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, যে তথ্য সরাসরি রেহানের কাছে পাচার করে দিচ্ছে। প্রথম চালের এই ভয়ংকর পরাজয় আরিয়ানের আত্মবিশ্বাস গুঁড়িয়ে দিল। ওঁর হাত কাঁপতে লাগল। রেহান ওঁর চেয়ে তিন চাল এগিয়ে আছেন।
“ভেঙে পড়লে চলবে না, আরিয়ান স্যার,” একটি গোপন মোটেল রুমে বসে বর্ষা ওঁর ল্যাপটপের দিকে তাকাল। ওঁর আঙুলগুলো কিবোর্ডে ঝড় তুলছে। “উইজায়াকে খুন করার ঠিক এক মিনিট আগে ওঁর পার্সোনাল ক্রিপ্টো ওয়ালেট থেকে একটা বিশাল ট্রানজেকশন হয়েছে। আমি ওটার ব্লকচেইন লেজার ট্র্যাক করেছি। ওটার সোর্স বালির মূল ভূখণ্ড থেকে ২০ মাইল দূরে নূসা পেনিডা দ্বীপের কাছে সমুদ্রের তলদেশে অবস্থিত একটি প্রাইভেট আন্ডারওয়াটার ডেটা সেন্টারে যাচ্ছে!”
বর্ষার এই অসামান্য ক্রিপ্টো অ্যানালাইসিস আরিয়ানকে আবার খেলায় ফিরিয়ে আনলো।
পরদিন রাতে, একটি সাধারণ ট্যুরিস্ট ইয়াটের ছদ্মবেশে আরিয়ান, তানভীর এবং বর্ষা সেই নির্দিষ্ট স্থানাঙ্কে পৌঁছালেন। সমুদ্রের তলদেশে গভীর ডাইভিং গিয়ার পরে নামলেন আরিয়ান ও তানভীর। জলের নিচে, প্রবাল প্রাচীরের আড়ালে লুকানো ছিল এক অত্যাধুনিক মনোলিথিক স্ট্রাকচার—ব্লু ওশান ট্রাস্টের মূল ক্রিপ্টো সার্ভার স্টেশন।
ওয়াটার-টাইট এয়ারলক চেম্বার দিয়ে আরিয়ান ও তানভীর ভেতরে ঢুকলেন। বর্ষা বোটের ওপর থেকে স্যাটেলাইট লিংকের মাধ্যমে ওঁদের গাইড করছিল। সার্ভার রুমের ভেতর ঢুকতেই চারপাশের গ্লাসের ওপাশে সমুদ্রের নীল জলের নিচে হাঙর সাঁতার কাটছিল। এই দৃশ্য স্রেফ অবিশ্বাস্য—বালি দ্বীপের এই ভূপ্রকৃতিই এই অপরাধের জন্ম দিয়েছে।
আরিয়ান ওটিজি ডিভাইস কানেক্ট করতেই বর্ষা ওপর থেকে ডেটা ক্লোনিং শুরু করল। “স্যার! পেয়েছি! বিশ্বের সেরা ১০টি দেশের অর্থমন্ত্রীদের বেনামী ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্ট, আসাফউদ্দৌলার পুরো ব্যাকআপ—সব এই সার্ভারে!” বর্ষা উত্তেজিত হয়ে বলল।
ঠিক তখনই সার্ভার রুমের বিশাল প্রজেক্টর স্ক্রিনটি নিজে থেকেই অন হয়ে গেল। সমুদ্রের নীল আলোর মাঝে স্ক্রিনে ভেসে উঠল অধ্যাপক রেহান আশরাফের সেই চিরপরিচিত, অত্যন্ত পরিশীলিত এবং বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা। ওঁর ঠোঁটের কোণে এক তাচ্ছিল্যের মৃদু হাসি। ওঁর চোখ দুটো হাড়হিম করা শান্ত।
আরিয়ান স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ওঁর পিস্তল উঁচিয়ে ধরলেন, “খেলা শেষ, রেহান! তোমার ব্লু ওশান ট্রাস্টের পুরো ডেটাবেস এখন আমাদের হাতে। তুমি আর পার পাবে না।”
রেহান ওঁর কফি কাপে একটা চুমুক দিয়ে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও ইঙ্গিতপূর্ণ গলায় বললেন, “আইন দিয়ে বিচার করছ আমার, আরিয়ান? যে আইন পৃথিবীর এক শতাংশ মানুষকে বাকি ৯৯ শতাংশ মানুষের রক্ত চুষে খাওয়ার লাইসেন্স দেয়? আমি অপরাধী নই, আমি এই পঙ্গু পুঁজিবাদী বাজারের বিবর্তনের প্রতিনিধি মাত্র।”
“তুমি নিজেকে রবিনহুড ভেবে নিজের অপরাধ ঢাকতে পারো না, রেহান!” আরিয়ানের গলা কাঁপছিল। “তুমি স্রেফ একজন স্বার্থপর খুনি!”
“তোমার এই সততার আবেগটাই তোমাকে আমার চেয়ে সবসময় পিছিয়ে রাখে, আরিয়ান,” রেহান এবার ওঁর সেই বিখ্যাত মনস্তাত্ত্বিক চালটি চাললেন। “এই আন্ডারওয়াটার বেসের সেলফ-ডেকস্ট্রাকশন মোড অন হতে আর তিন মিনিট বাকি আছে। তুমি কি ডেটা ড্রাইভ নিয়ে পালাবে, নাকি আমার সাথে তর্ক করতে করতে এই ঘরেই মরবে? চয়েস ইজ ইয়োরস।”
রেহান পুরো দর্শন ব্যাখ্যা করলেন না, শুধু একটা নির্মম বাস্তবতার মুখে আরিয়ানকে দাঁড় করিয়ে স্ক্রিন বন্ধ করে দিলেন।
“স্যার! আপনাদের এখনই বের হতে হবে! বেসের প্রেশার ভালভগুলো লক হয়ে যাচ্ছে!” বর্ষা ওয়্যারলেসে চিৎকার করে উঠল।
বুদ্ধির চালে আরিয়ানকে আবার হারিয়ে দিয়ে রেহান অদৃশ্য হয়ে গেলেন। আরিয়ান এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেলেন—ব্যর্থতার ভয় আর মেন্টরের মৃত্যুর প্রতিশোধ ওঁর পা দুটোকে অবশ করে দিচ্ছিল। কিন্তু তানভীর ঠিক সময়ে আরিয়ানের কাঁধ ধরে টান দিলেন, “স্যার, আবেগ নয়! ড্রাইভটা নিন, আমাদের বাঁচতে হবে!”
আরিয়ান তানভীরের হাত ধরে ডেটা ড্রাইভটি পকেটে নিয়ে এয়ারলকের দিকে ছুটলেন। পেছনে সমুদ্রের জলের প্রচণ্ড চাপে কাঁচের দেয়ালগুলো ভাঙতে শুরু করেছে। তীব্র স্রোতের সাথে লড়াই করে ওঁরা যখন সমুদ্রের ওপরে বর্ষার বোটে এসে উঠলেন, তখন ওনাদের পেছনে সমুদ্রের পানি এক বিশাল বিস্ফোরণে ফুলে উঠল। অধ্যাপক রেহান ওঁর নিজের ডেটা সেন্টার ধ্বংস করে ওঁর সেই কালো ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টারে চড়ে আবার কুয়াশার মাঝে মিলিয়ে গেলেন। তবে ওটা ঘুরে যাওয়ার সময়, সার্চলাইটের তীব্র আলোয় হেলিকপ্টারের কালো দরজার পাশে মাত্র এক সেকেন্ডের জন্য নীল রঙের একটি সমুদ্র-তরঙ্গ চিহ্ন দেখতে পেল আরিয়ান—যা হুবহু মিলছে বর্ষার খুঁজে পাওয়া সেই ‘ব্লু ওশান ট্রাস্ট’-এর মনোগ্রামের সাথে!
পরদিন সকালে, বালির এক নিরাপদ ডেরায় বসে বর্ষা সেই উদ্ধার করা ৬০% ডেটার চূড়ান্ত ডিক্রিপশন ফাইলটা ওপেন করল। তানভীর ও আরিয়ান ওঁর পাশে দাঁড়িয়ে।
“স্যার, ডেটার মাত্র ৬০% উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর মধ্যেই রয়েছে ব্লু ওশান ট্রাস্টের আসল চালিকাশক্তি,” বর্ষা স্ক্রিনে ফাইলগুলো দেখাল। ওঁর মুখের অভিব্যক্তি হঠাৎ বদলে গেল। “কিন্তু স্যার... এই ট্রাস্টের মূল ফিন্যান্সিয়াল রুট যেখানে শেষ হয়েছে, ওটার প্রোফাইলটা দেখুন...”
আরিয়ান স্ক্রিনের দিকে তাকালেন। ওঁর চোখ দুটো বিস্ময়ে স্থির হয়ে গেল।
স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে, ‘ব্লু ওশান ট্রাস্ট’ আসলে কোনো একক মালিকের কোম্পানি নয়। এটি একটি বিশাল আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের অংশ, যার অন্যতম প্রধান শেয়ারহোল্ডার এবং পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নাম রয়েছে সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক একটি অতি গোপন ও প্রভাবশালী সংস্থার। অধ্যাপক রেহান আশরাফ আসলে সেই সিন্ডিকেটেরই একজন গ্লোবাল অপারেটর মাত্র!
কিন্তু আরিয়ানের চোখ সেই ফাইলের নিচে থাকা অন্য একটি এনক্রিপ্টেড কোডের দিকে আটকে গেল। সেই কোডটি ডিকোড করতেই আরিয়ানের মুখের সমস্ত রক্ত যেন শুষে নেওয়া হলো।
বালিতে ওঁদের প্রতিটি পদক্ষেপের তথ্য ডেনসু ৮৮ বা কোনো বিদেশি এজেন্ট লিক করেনি। তথ্য পাচার হয়েছে ঢাকা থেকে। পিবিআই-এর একদম উচ্চপদস্থ এবং আরিয়ানের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এক শীর্ষ কর্মকর্তার ডিজিটাল সিগনেচার সেখানে জ্বলজ্বল করছে। অর্থাৎ, তথ্য ফাঁসকারী বিশ্বাসঘাতক আসলে পিবিআই-এর ভেতরেই বসে আছেন!
রেহানের একটা নতুন মেসেজ স্ক্রিনে পুশ করা হলো:
"তুমি আমার সেরা প্রতিপক্ষ, আরিয়ান। কিন্তু ‘ব্লু ওশান ট্রাস্ট’ তো পুরো খেলার মাত্র প্রথম স্তর। এর পেছনে যে আসল ‘সিন্ডিকেট’ আছে, আর তোমার চারপাশের যে মানুষগুলোকে তুমি নিজের ভাবো, তাঁদের আসল রূপ দেখতে হলে তোমাকে এবার আসতে হবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। আই উইল বি ওয়েটিং, মাই বয়।"
— R
আরিয়ান ল্যাপটপের স্ক্রিনটা সজোরে বন্ধ করলেন। ওঁর মনে এক গভীর ব্যক্তিগত হাহাকার আর মনস্তাত্ত্বিক উপলব্ধি জেগে উঠল। ওঁর চিরকালের বিশ্বস্ত পিবিআই হেডকোয়ার্টারের দিকে ওঁর মনে এক তীব্র সন্দেহের কালো ছায়া নেমে এলো।
কিন্তু আরিয়ানের ঠোঁটের কোণে এবার ফুটে উঠল এক আত্মবিশ্বাসী, ভয়ঙ্কর হাসি। ওঁর চোখের ভেতরের আগুন এখন এক চূড়ান্ত জিঘাংসায় রূপ নিয়েছে।
“তানভীর, বর্ষা... ব্যাগ গুছিয়ে নাও,” আরিয়ান ওঁর জ্যাকেটটা কাঁধে তুলে নিলেন। ওঁর অনিদ্রা আর ক্লান্তি এক নিমেষেই কর্পূরের মতো উড়ে গেল। “বালির এই নীল গোলকধাঁধা আমরা পার করেছি। এবার আমাদের পরবর্তী গন্তব্য—জেনেভা, সুইজারল্যান্ড। রেহান আমাদের জন্য পথ তৈরি করে রেখেছে, আর এবার আমি ওঁর খেলা ওঁর নিজের মাঠেই শেষ করব। আর খুঁজে বের করব আমাদের ঘরের ভেতরের সেই সাপটাকে।”
২০ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৩
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
২|
২০ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: লেখা পড়লাম। চালিয়ে যান ।
২০ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: গল্পটা চলতে থাকুক, রহস্য আরও জটিল হোক ।