| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
১. আটকের মেয়াদ এবং গোপন বন্দিশালার প্রকৃতি
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের আটকের মেয়াদ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম ছিল।
• কোনো কোনো ব্যক্তিকে মাত্র ৪৮ থেকে ৬০ ঘণ্টা আটক রাখা হয়েছিল।
• অনেকের ক্ষেত্রে এই আটকের মেয়াদ ছিল কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস।
• আবার কাউকে কাউকে দীর্ঘ আট বছর পর্যন্ত চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে বন্দি জীবন কাটাতে হয়েছে
সাধারণত ধারণা করা হয় যে, গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেবল গোপন সেলেই (Secret Cell) রাখা হতো। তবে বেঁচে ফিরে আসা ব্যক্তিদের বিশদ সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই প্রচলিত ধারণার বিপরীত চিত্রও পাওয়া গেছে। জানা গেছে, অনেক ভুক্তভোগীকে এমন সব সেলেও রাখা হয়েছিল, যেখানে বৈধভাবে আটক বা গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। গোয়েন্দা শাখা বা ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) কর্তৃক আটককৃতদের ক্ষেত্রে এর সুস্পষ্ট উদাহরণ পাওয়া যায়। একই স্থাপনার ভেতরে বৈধ এবং অবৈধভাবে আটক ব্যক্তিদের একসঙ্গে রাখার এই বিষয়টি তাদের আটকের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছিল।
এছাড়া, অবৈধ আটকের বিষয়টি গোপন রাখার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীদের একই স্থাপনার ভেতরে এক সেল থেকে অন্য সেলে, অর্থাৎ গোপন সেল থেকে বৈধ সেলে স্থানান্তরের ঘটনাও ঘটেছে। এই ধরনের স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি প্রায়শই এমনভাবে পরিচালনা করা হতো, যাতে তা আদালতে হাজিরার সময়ের সঙ্গে মিলে যায় এবং আটককৃতদের বৈধভাবে আটক হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়।
জীবিত ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে কমিশন তাদের আটককালে অবস্থানের একটি মানচিত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
• একটি নির্দিষ্ট ঘটনায়, এক ভুক্তভোগী একটি বিশেষ ধরনের দরজার বর্ণনা দিয়েছিলেন।
• সেই বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে কমিশন একটি কক্ষ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়, যা একসময় তিনটি সেলে বিভক্ত ছিল।
• যদিও পরিদর্শনের সময় সেই বিভাজনগুলো ভেঙে ফেলা অবস্থায় পাওয়া যায়, তবুও সেখানে প্রাপ্ত অন্যান্য প্রমাণ ভুক্তভোগীর সাক্ষ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
এই ধরনের সাক্ষাৎকারগুলো একই স্থাপনার ভেতরে বৈধভাবে আটক ব্যক্তিদের রাখার এলাকাগুলো শনাক্ত করতেও সহায়তা করেছে। একই ভবনে বৈধ ও অবৈধ সেলের মধ্যে বন্দি স্থানান্তরের এই ধারা গুমের মতো অপরাধ আড়াল করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টাকেই প্রমাণ করে এবং এ বিষয়ে আরও গভীর অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
অনুসন্ধান চলাকালে কমিশন ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর মোট ১২টি কার্যালয় পরিদর্শন করেছে। এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষগুলো যাচাই করা, আটককৃতদের বসবাসের সরঞ্জামাদি পর্যবেক্ষণ করা, প্রয়োজনীয় তথ্য ও সাক্ষ্য সংগ্রহ করা এবং আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা।
এই প্রক্রিয়ায় সারা দেশে অন্তত আটটিরও বেশি গোপন আটক কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো মূলত ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) কর্তৃক পরিচালিত হতো। পরিদর্শনের সময় কিছু কেন্দ্র অক্ষত অবস্থায় থাকলেও কিছু কেন্দ্র ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল।
পরিদর্শিত কার্যালয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
• ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (DGFI)
• কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (CTTC)
• ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (DB) সদর দপ্তর এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ
• চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ
• র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ১, ২, ৪, ৭ ও ১১ নম্বর ইউনিট (যার মধ্যে র্যাব ২, সিপিসি ৩ অন্তর্ভুক্ত)
• র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর
• চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার
• ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (NSI), চট্টগ্রাম বিভাগ
২. প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত নির্যাতন
ভুক্তভোগীদের ওপর চালানো নির্যাতনের যে বিবরণ নথিবদ্ধ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত ভয়াবহ, নির্মম এবং পদ্ধতিগত (Methodical)। তবে সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর পরিচালিত স্থাপনাগুলোতে নির্যাতনের ধরনে সুস্পষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে।
বেসামরিক বাহিনীর নির্যাতন পদ্ধতি: ডিবি (DB) এবং সিটিটিসি (CTTC)-এর মতো বেসামরিক বাহিনীগুলোর স্থাপনায় নির্যাতন ছিল তাদের দৈনন্দিন দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডের একটি সাধারণ অংশ।
• বিশেষায়িত নির্যাতনের সরঞ্জাম ব্যবহৃত হলেও, এসব কাজ সেই একই স্থানে পরিচালিত হতো যেখানে কর্মকর্তারা তাদের স্বাভাবিক কাজ করতেন।
• আটক ব্যক্তিরা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তারা কর্মকর্তাদের অত্যন্ত শান্তভাবে ডেস্কে বা কম্পিউটারে কাজ করতে দেখেছেন, অথচ তাদের চারপাশেই তখন নির্যাতনের শিকার মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল।
• এটি প্রমাণ করে যে, এই কার্যালয়গুলোতে নির্মম নির্যাতন কার্যক্রমকে ভয়ংকরভাবে স্বাভাবিক (Normalized) হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছিল।
সামরিক বাহিনীর নির্যাতন পদ্ধতি: অন্যদিকে, র্যাব এবং ডিজিএফআই-এর মতো সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন স্থাপনাগুলোতে নির্যাতনের জন্য আরও বেশি বিশেষায়িত অবকাঠামো ব্যবহার করা হতো।
• সেখানে শব্দরোধক (Soundproof) কক্ষ এবং শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা যান্ত্রিক যন্ত্রপাতিসহ বিশেষ সরঞ্জাম রাখা হতো।
• ২০১০ সালের একটি ঘটনায় জানা যায়, র্যাব ধানমন্ডি থেকে এক তরুণকে অপহরণ করে এবং কোনো ধরনের অ্যানাস্থেসিয়া ব্যবহার না করেই তার ঠোঁট সেলাই করে দেয়। ভুক্তভোগী এই অমানবিক প্রক্রিয়াটিকে 'গরুর চামড়া সেলাইয়ের' সঙ্গে তুলনা করেছেন।
• আট বছর পর ঘটা আরেকটি ঘটনায় এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি জানান, র্যাবের একটি স্থাপনায় তার যৌনাঙ্গ ও কানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা হয়েছিল।
ভৌগোলিক ও সময়ের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও নির্যাতনের এই ধরনগুলোতে যে সামঞ্জস্য পাওয়া যায়, তা প্রমাণ করে যে এসব কর্মকাণ্ড কেবল পদ্ধতিগতই ছিল না, বরং গুমকারী বাহিনীগুলোর ভেতরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই চালু ছিল।
৩. বিচারবহির্ভূত হত্যা (Elimination) ও লাশ গুম
গুমের শিকার অধিকাংশ ব্যক্তির পরিণতি দুটি উপায়ে নির্ধারিত হতো: হয় তাদের হত্যা করা হতো, নয়তো মিথ্যা মামলা দিয়ে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় হস্তান্তর করা হতো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যারা মুক্তি পেয়েছেন, তাদের মতো খুব সামান্য সংখ্যক ব্যক্তিকেই কোনো মামলা ছাড়া মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
যেসব ভুক্তভোগীকে হত্যা করা হয়েছিল, তাদের বিষয়ে যাচাইকৃত প্রতিবেদনে অত্যন্ত লোমহর্ষক তথ্য পাওয়া গেছে।
• উদ্ধারকৃত লাশগুলোর ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, ভুক্তভোগীদের মাথায় সরাসরি গুলি করা হয়েছিল।
• মৃতদেহগুলো যাতে পানিতে ভেসে উঠতে না পারে, সেজন্য দেহের সঙ্গে সিমেন্টভর্তি ব্যাগ বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। র্যাবে কর্মরত সামরিক কর্মকর্তারা এটিকে তাদের 'প্রচলিত পদ্ধতি' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
• লাশ গুম করার প্রধান স্থানগুলোর মধ্যে বুড়িগঙ্গা নদী, কাঞ্চন ব্রিজ এবং পোস্তগোলা ব্রিজ ছিল অন্যতম।
• পোস্তগোলা ব্রিজের কাছে সুন্দরবনের জলদস্যুদের কাছ থেকে জব্দ করা একটি নৌকা মেরামত করে এই লাশ গুমের কাজে ব্যবহার করা হতো।
এই হত্যাকাণ্ডগুলোতে বাহিনীর কর্মকর্তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন।
• র্যাবের একজন সাবেক ব্যাটালিয়ন কমান্ডার সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তার র্যাবে যোগদানের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে তৎকালীন র্যাব গোয়েন্দা প্রধানের নেতৃত্বে একটি "অরিয়েন্টেশন" সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সেশনে তার চোখের সামনে দুজন ভুক্তভোগীকে সেতুর ওপর গুলি করে হত্যা করা হয়।
• র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগে দায়িত্ব পালন করা অপর এক সেনা সদস্য জানান, এক ভুক্তভোগী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে টেনে তুলে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যা করা হয়।
• হত্যার বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে ট্রেনের নিচে ফেলে লাশ টুকরো টুকরো করা কিংবা মহাসড়কে চলন্ত গাড়ির সামনে ভুক্তভোগীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনার প্রমাণও পাওয়া গেছে।
হত্যার পদ্ধতিগুলোতে বৈচিত্র্য থাকলেও মূল উদ্দেশ্য ছিল একটাই—ভুক্তভোগীদের চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া এবং এমনভাবে লাশ গুম করা যাতে তা কখনোই উদ্ধার করা সম্ভব না হয়। এই ঘটনাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন দুষ্কৃতিকারীর কাজ নয়, বরং একাধিক সংস্থা ও স্থানের সমন্বয়ে সংঘটিত সুপরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ।
৪. মুক্তি, ভিত্তিহীন মামলা এবং বিচারিক ব্যর্থতা
গুম থেকে বেঁচে ফেরা ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য এই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এমনকি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের জবানবন্দি থেকে দেখা যায়, দীর্ঘ নির্যাতন ও জিজ্ঞাসাবাদের পর আটককারীরা প্রায়ই স্বীকার করত যে ভুক্তভোগীরা কোনো অপরাধে জড়িত নন। তা সত্ত্বেও গুমের অবৈধ প্রকৃতিকে আড়াল করার জন্য ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হতো।
• ভুক্তভোগীদের গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে মনগড়া ও মিথ্যা অভিযোগ উপস্থাপন করা হতো।
• গণমাধ্যমগুলোও কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই বা প্রশ্ন ছাড়াই সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুতর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরবরাহকৃত গল্প হুবহু প্রচার করত।
• অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সাথে বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আর্থিক লেনদেনসহ সুসম্পর্ক থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
• সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এই মিথ্যা গল্পের কারণে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারগুলোকে সামাজিকভাবে চরম হেনস্তা ও বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মূলত সন্ত্রাসবিরোধী আইন (২০০৯), অস্ত্র আইন (১৮৭৮), বিস্ফোরক দ্রব্য আইন (১৯০৮), বিশেষ ক্ষমতা আইন (১৯৭৪), এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (২০১৮) বা সাইবার নিরাপত্তা আইনের (২০২৩) অধীনে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হতো। এর ফলে তারা দীর্ঘমেয়াদে একটি ত্রুটিপূর্ণ আইনি ব্যবস্থার মধ্যে নিদারুণ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী (চিত্র ১), প্রাথমিকভাবে বিশ্লেষিত ৭৫৮টি অভিযোগের মধ্যে ২৭% ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং ৭৩% ব্যক্তি জীবিত ফিরে এসেছেন। তবে প্রকৃত গুমের সংখ্যা এই পরিসংখ্যানের তুলনায় অন্তত তিন থেকে চার গুণ বেশি বলে ধারণা করা হয়।
বিচারব্যবস্থাও এক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা কোনো প্রকার যাচাই বা জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার অধীনে পুলিশের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি হুবহু লিখে রাখতেন। অনেক সময় গুমের সাথে জড়িত দলের সদস্যই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং আসামিকে পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করার সুযোগ পেতেন।
এছাড়া, একাধিকবার গুমের শিকার হওয়া কিছু ব্যক্তিকে ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হওয়ার শর্তে ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
৫. আন্তঃদেশীয় সংশ্লিষ্টতা এবং ভারতে হস্তান্তর
বাংলাদেশের গুম প্রক্রিয়ায় ভারতের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি একটি 'প্রকাশ্য সত্য' হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সুখরঞ্জন বালীকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে অপহরণ করে ভারতের জেলে পাওয়া যাওয়া এবং বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের ঘটনা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
• গুমের শিকার হুম্মাম কাদের চৌধুরী তার বন্দিদশায় সেলের বাইরে হিন্দিভাষী লোকজনকে তার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুনেছিলেন।
• ২০১৫ সালে আটক হওয়া সালাহউদ্দিন আহমেদকে একটি নির্জন সেলে রাখা হয়েছিল, যেখানে টয়লেট হিসেবে কেবল একটি গর্ত ছিল এবং তাকে দেওয়া কম্বলে "TFI" (Task Force for Interrogation) লেখা ছিল।
• সেই সময়ে একমাত্র কার্যকরী TFI কেন্দ্রটি ঢাকার উত্তরায় র্যাব-১ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের ভেতরে র্যাব ইন্টেলিজেন্স উইং দ্বারা পরিচালিত হতো।
• কমিশন ওই স্থান পরিদর্শন করে নিশ্চিত হয়েছে যে, র্যাব ইন্টেলিজেন্স এখনও ওই ভবনের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যদিও ভেতরের সেল ও নির্যাতন কক্ষগুলো সম্প্রতি ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদকে পরবর্তীতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ে ভারতীয় কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই হস্তান্তরের সময় ভারতীয় ভূখণ্ডে 'জম টুপি' পরিহিত বাংলাদেশি নিরাপত্তা কর্মীদের উপস্থিত থাকার বিষয়টি দুই দেশের সরকারের উচ্চমাত্রার সমন্বয়কে প্রমাণ করে।
এছাড়াও, র্যাব ইন্টেলিজেন্সে কর্মরত এক সেনাসদস্যের সাক্ষ্য থেকে জানা যায় যে, ২০১১ সালের দিকে তামাবিল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে বন্দি বিনিময় ঘটেছিল।
• ভারতের কাছ থেকে গ্রহণ করা তিনজন বন্দির মধ্যে দুজনকে বিনিময়ের পরপরই সড়কের পাশে হত্যা করা হয় এবং একজনকে অন্য দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
• বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকেও র্যাব ইন্টেলিজেন্স দুজন বন্দিকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করেছিল।
০১ লা জুন, ২০২৬ রাত ১১:৩৭
মেহেদী আনোয়ার বলেছেন: পোস্ট ভালো করে পড়ে তারপর মন্তব্য করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫
মাথা পাগলা বলেছেন: কোন প্রতিবেদন? এসব লিখলে সোর্স সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক।