| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মঞ্জুর চৌধুরী
আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি, আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’। আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ। আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল, আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’ পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’ ফিং দিয়া দিই তিন দোল; আমি চপলা-চপল হিন্দোল। আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা, করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পান্জা, আমি উন্মাদ, আমি ঝন্ঝা! আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর; আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ন চির-অধীর! বল বীর - আমি চির উন্নত শির!
আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮। বাংলাদেশে ১৮ এর নিচেও ছেলেমেয়েরা অনায়াসে মদ কিনতে পারে, কেউ লাইসেন্স চেক করার তোয়াক্কাও করেনা।
এখন আপনি যদি ২০ বছরের যুবক হয়ে আমেরিকান কোন বারে/লিকার স্টোর/গ্যাস স্টেশন বা গ্রোসারি শপ এমনকি রেস্টুরেন্টেও যদি মদ কিনতে চান, তাহলে বিক্রেতা অবশ্যই আপনার "ভ্যালিড আইডি" দেখতে চাইবে। যদি আপনি আইডি দেখাতে না পারেন, তাহলে আপনার কাছে সে এলকোহলযুক্ত ড্রিংক বিক্রি করবে না। আপনি যতই ইউরোপ/বাংলাদেশের দোহাই দেখান, সে রাজি হবেনা, কারন অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক কারোর কাছে এলকোহলিক বেভারেজ বিক্রির অভিযোগে পুলিশ ওকে ধরে জেলে ঢুকিয়ে দিবে। সে চাকরি হারাবে। সে যদি দোকানের মালিক হয়ে থাকে, তাহলে বিজনেস লাইসেন্স হারাবে। কাজেই ব্যাপারটা সিরিয়াস।
আর আপনি যদি আন্ডারএজ হয়ে ফেক আইডি দেখিয়ে মদ কিনেন, তাহলে আপনাকে পুলিশ ধরে জেলে ভরে দিবে।
আপনি কান্নাকাটি করতেই পারেন, ইউরোপে একই বয়সী তরুণ মদ কিনতে পারলে আমেরিকায় কেন না? বাংলাদেশে আরও ছোট অবস্থায় সে মদ কিনতো, তখনতো কেউ কিছু বলেনি, তাহলে আমেরিকা নিজেকে কি মনে করে? "টেরাম্পের পাস্সি চায়" আওয়াজ তুলতে পারেন - কিছুই যাবে আসবে না, কারন এইটা এই দেশের আইন।
আমেরিকায় বহু স্টেটে গাঁজা সেবন লিগ্যাল। আপনি যদি আমেরিকায় গাঁজা খান, সেসব স্টেটে আপনার কিছুই হবেনা। বাংলাদেশেও গাঞ্জা সেবন এখন ওয়ানটুর বিষয়। লালন আখড়ায়, বিভিন্ন মাজারে, ফকির মিসকিন থেকে শুরু করে ধনাঢ্য পরিবারেও এখন দেখা যায় গাঁজা সেবন কোন বিষয়ই না। কিন্তু মালয়েশিয়া সিঙ্গাপুরে গাঁজা স্মাগলিং করতে গেলে আপনার ফাঁসি হয়ে যেতে পারে।
আপনি বলতেই পারেন সামান্য গাঁজার জন্য ওরা এত সিরিয়াস কেন?
এই সেদিন বাংলাদেশী এক মা মেয়েকে আমেরিকা ডিপোর্ট করেছে।
মেয়েটা লেখাপড়া করতে এসেছিল। মা এসেছিল ওকে দেখতে। এক সকালে মায়ের ইচ্ছা হলো চুরি করবে। মেয়েকে বললেন "চলো আজকে নর্ডস্ট্রমে চুরি করা যাক।"
মেয়ে বলেছে "গ্রেট আইডিয়া! চলো যাই!"
মাতা কন্যা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে দোকানে ঢুকে। নর্ডস্ট্রম হচ্ছে লাক্সারি ব্র্যান্ডের দোকান। মেসি'স ডিলারডসে যা পাওয়া যায়, ওখানে আরও দামি ব্র্যান্ডের জিনিসপত্র পাওয়া যায়। চুরিই যখন করবো, ফকির মিসকিনের থালায় কেন হাত দিব? ব্রলোকসের দোকানই লুটবো!
তা এইসব দোকানের দামি জিনিসে সিকিউরিটি ডিভাইস লাগানো থাকে।
মাতা কন্যা তাই নিজেদের ব্যাগে করে কেঁচি, ছুরি ইত্যাদি নিয়ে গেছে সেইসব ডিভাইস কাটার উদ্দেশ্যে।
তারপরে ধরা খেয়েছে।
পুলিশের কাছে অনেকক্ষন আজাইরা কথাবার্তা বলছিল। বলছিল ওরা এমনিতেই ব্যাগে ছুরি চাকু রাখে। যে ব্যাগটা ওরা মেরে দিয়েছিল, সেটাতে কোন ডিভাইস লাগানো ছিল না।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, "চাকরিতে আজই আমার প্রথম দিন না। এইসব বুলশিট আমাকে বলে লাভ নাই।"
তা পুলিশি জেরায় মাতাকন্যা শেষ পর্যন্ত নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেন।
বাংলাদেশের জন্য পরম সুনাম বয়ে আনার কারনে ওদেরকে দেশ থেকেই বের করে দেয়া হয়েছে।
লক্ষ্য করুন, যে মেয়ে আমেরিকায় পড়তে এসেছে, এবং মা মেয়েকে ভিজিট করতে এসেছে, সে নিশ্চই ফকির মিসকিনের বাড়িতে জন্মায়নি। টাকা পয়সার অভাব থাকার কথা না। চুরির জন্যও বেছে নিয়েছে নর্ডস্ট্রম মল। টার্গেট/ওয়ালমার্ট না।
এখন এই একই কাজ বাংলাদেশে ঘটালে নিজেদের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে হয়তো পুলিশি হেফাজত থেকে সহজেই মুক্তি পেত। নেটওয়ার্ক না থাকলে ভিন্ন কথা। পাবলিকের হাতের মাইর খেতো নিশ্চিত।
সৌদি বা মিডল ইস্টের যেকোন দেশে এই কাজ করলে হাত খোয়াতো।
আপনি একজন বাংলাদেশী হিসেবে বলতে পারেন "সামান্য চুরির জন্য হাত কেটে ফেলা! দেশ থেকে বের করে দেয়া! এ কেমন কথা!"
আবারও বলি, যে দেশের যে আইন। আইনটা কতটা ন্যায্য, কতটা যৌক্তিক ইত্যাদি প্রসঙ্গ আমাদের বিষয় না। ওটা সেখানকার নাগরিকদের, আইনপ্রণেতাদের বিষয়।
এই পর্যন্ত ক্লিয়ার?
তাহলে এখন আসি সৌদি আরবে বাঙালি যুবক যুবতীর শিরোচ্ছেদের ঘটনায়।
আমরা প্রথমেই "বাঙালি" এবং "সৌদি" শুনে মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে যেহেতু সৌদি আরব জালিম, নিশ্চই ছেলেটি নির্দোষ এবং এখানে কোন ঘাপলা ঘটেছে। এই ধারণা আরও জ্বালানি পায় যখন বাংলাদেশ এম্বেসী জানায় যে ওদেরকে কিছুই জানানো হয়নি।
কথা এগুবার আগে ডিসক্লেইমার দিয়ে দেই। কারন বেশিরভাগ পাঠকই ধরে নিবে, সৌদি আরবের পক্ষ নিচ্ছি। ওদের পক্ষ নেয়ার কোন ভিত্তিই নাই। আমি সৌদিতে থাকিনা। ওদের খাইও না, পড়িও না। ওদের "ওয়াহাবিজম" আমার ধর্মমতের সাথে মিলে না। মক্কা-মদিনা ওদের দেশে পড়ার মানে ওদের সরকারের গোলামী করতে হবে। সৌদি রাজ পরিবার ইসলামের স্তম্ভ না। আপনি ওদেরকে গালাগালি করলেও খাঁটি মুসলিমই থাকবেন।
কাজেই "সৌদির দালাল" জাতীয় মূর্খামি ট্যাগিং দিয়া নিজের ভাগ্যে গালাগালি টানিয়া আনিবেন না।
সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট দিয়েছে সেখানে ঘটনার ডিটেইল জানা যায়না।
ব্যস, এই আবেগ এবং অজ্ঞতার ফায়দা তুলতে একটা মিথ্যেবাদী হিটখোর একটা বানোয়াট গপ্প ফাঁদে। যেখানে সে ছেলে মেয়েকে বিবাহিত দম্পতি বানায়, হানিমুনের স্থলে মেয়েটির ইচ্ছায় উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়া দেখায়, মসজিদে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের সময়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে স্ত্রীর কপালে চুমু খাওয়া দেখায়, এক পাকিস্তানী ষড়যন্ত্রকারী ভিলেন বানায় যে ভিডিও করে মসজিদ কর্তৃপক্ষকে দিয়ে ছেলে/মেয়েকে ফাঁসায় এবং মাত্র চার মাসের মধ্যেই অতি গোপনীয়তায় ওদের মৃত্যুদন্ড কার্যকরের ঘটনা দেখায়।
এতে আপনার সাবকনশাস মাইন্ড সহজেই ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত "ওমরাহ" পালনকেও ভিলেন বা নেগেটিভ অর্থে টেনে আনছে।
এনিওয়েজ, কাহিনীটা যে বোগাস সেটাতো গল্প পড়লেই বুঝা যায়। সমস্যা হচ্ছে, আমাদের ব্রেনের ঐ আগে থেকেই ধরে নেয়া যে "সৌদি জালিম, বাঙালি দেশি ভাই নির্দোষ, এম্বেসী কিছুই জানেনা এবং এখানে কোন ঘাপলা আছে।" আমাদের অতি বিচক্ষণ মানুষদেরও আমি দেখেছি ভুয়া মিথ্যা কাহিনীটি প্রচার করতে।
এতে কার লাভ হলো? ঐ ভুয়া পোস্টকারীর।
না ছেলে/মেয়েটা জাস্টিস পেল, না বাংলাদেশ এম্বেসির দোষ নিয়ে কেউ কিছু বলল, না সৌদি আরব ওদের আইন পরিবর্তন করলো। এবং ভুয়া পোস্ট করায় আপনাদের ক্রেডিবিলিটি নিয়েও প্রশ্ন উঠলো। আপনারা যা শুনেন তা ভ্যারিফাই ছাড়াই পোস্ট করেন, এইটাইতো প্রমান হলো।
এনিওয়েজ, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে ছেলেটা কতটা দোষী, কতটা নির্দোষী ইত্যাদি কিছুই প্রমান হয়নাই। আমি যতদূর জেনেছি, অথেন্টিক সোর্স থেকে, সেগুলো হচ্ছে,
১. ছেলেটি ২০২২-২৩ সালেই এরেস্ট হয়েছিল। মানে গত তিন সাড়ে তিন বছর ধরে আদালতে কেস চলেছে।
২. আদালতে নাকি দোভাষী হিসেবে সেখানকার স্থানীয় বাংলাদেশী ছাত্রদের ব্যবহার করা হয়েছিল।
৩. ছেলেটি বাবা মাকে ফোনে জানিয়েছিল সে এরেস্ট হয়েছিল। কেন হয়েছিল তা জানায়নি, এবং গত রবিবারেই বাবার সাথে শেষ কথা হয়েছিল।
বাবা মাও এম্বেসি/মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেনি। এইটা অতি স্বাভাবিক, ওদের শিক্ষা দীক্ষা, অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। কাজেই প্রসেসটা ওদের জানার কথাই না।
এখন আসি নাম্বার ওয়ান কালপ্রিট সৌদি আরবের বাংলাদেশ এম্বেসীতে।
ওখানে ওদের কাজটা কি একটু জানার চেষ্টা করেনতো।
বিশ্বজুড়েই বাংলাদেশ এম্বেসি তাঁর নাগরিকদের জন্য কতটা কি করে বলেনতো?
আমেরিকার কারাগারে কয়টা বাংলাদেশী বন্দি আছে জানেন? কয়জন বৈধ নাগরিক, কয়জন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের জন্য এম্বেসী কি করছে বলেনতো? কুইজ দিলাম। ইউরোপ-আমেরিকাতেই এম্বেসিগুলোর এই অবস্থা, সৌদি আরবেতো বেশিরভাগই অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের সদস্য - ওদের জন্য এম্বেসী জীবন দিয়ে দিবে সেটা আশা করি কিভাবে?
আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে সৌদির শ্রম মার্কেট। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স আসে সেখান থেকে। মালিককে ক্ষেপাবে বাংলাদেশ এম্বেসী? লাহাওলা ওয়ালাকুওয়াতা ইল্লাহবিল্লাহ! রেমিটেন্স বন্ধ হয়ে গেলে?
সৌদি আরবে শ্রমিক মৃত্যু নতুন ঘটনা? নারী শ্রমিকদের প্রতি যৌন নির্যাতন নতুন ঘটনা? মন্ত্রণালয় বা দূতাবাস কি করেছে/করছে বলেনতো? আমি একটু জানতে চাই। ওদের নিরাপত্তার জন্য কোন ব্যবস্থা আছে?
আপনাকে বিষাক্ত গোখরা সাপের গর্তে কোন প্রস্তুতি ছাড়াই ঠেলে দেয়া হচ্ছে - সাপ কামড়ালে দোষ কার বেশি?
আরও একটা রিপোর্টে পড়েছিলাম বাংলাদেশ এম্বেসী নাকি ভিক্টিমদেরই উল্টো শোষণ করে। যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে এক নারী গেলেন কর্তৃপক্ষের কাছে। সেই নারীর কোন ব্যাকাপ নাই। দেখতে সুন্দরী। এই অবস্থায় এম্বেসির লোকটা যদি হয় লম্পট স্বভাবের, তাহলে কি হতে পারে বলে আপনার ধারণা? ঠিক এই কারণেও অনেকে যায়না বিচার নিয়ে।
সৌদিতে আমাদের কতজন প্রবাসী বাস করেন? সাড়ে তিন-চার মিলিয়নতো হবেনই। উনাদের অনেকেই ল এবাইডিং সিটিজেন। জানেন তাঁরা বিপদে পড়লে কোন বাবা মা আসবে না ওদের উদ্ধারে।
ওদের বর্বরতার খবর জেনেও কিন্তু প্রতিবছর লাখ লাখ শ্রমিক সৌদি যাচ্ছেন। নারী শ্রমিকের সংখ্যা তিন লাখের বেশি। ওদেরকে কি সম্ভাব্য বিপদের ব্যাপারে অবহিত করা হয়? বিপদে যেন না পড়ে বা পড়লে কোন কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে হবে সেই ব্যবস্থা থাকে?
আমরা চোখ বন্ধ করে বলতেই পারি কেন যাচ্ছে? যাওয়ার কি দরকার? যাওয়ার দরকার কারন আমাদের রাষ্ট্র সেসব পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতেও ব্যর্থ। ওরা যে দেশে কিছু করে খাবে, সেই সুযোগটা আমরা দিতে ব্যর্থ। না ওদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারছি, না কারিগরি শিক্ষায়। ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে অমানুষিক পরিশ্রম করতে সৌদি ও আরব দেশগুলোতে ওদের যেতে হচ্ছে।
সবাই যুক্তি দিচ্ছেন আমেরিকা/ইউরোপের কোন নাগরিকের সাথে এমন করতে পারতো?
এই যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়মিত বিএসএফের জোয়ানরা পাখির মত বাংলাদেশিদের মারতো/মারে, কেন?
রিয়েলিটি মেনে নেন। আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে গরিব হওয়াটা সবচেয়ে বড় অপরাধ। আপনার যদি টাকা পয়সা থাকে, তাহলে আপনি শিশু ধর্ষণ করেও আমেরিকার মতন দেশের প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন। কেউ আপনার কিছু করবে না।
যে যুবকটা মারা গেল, ওর বাবা জানালো ধারের সাত সাড়ে সাত লাখ টাকা নিয়ে ওরা বিপদে পড়েছে। ছেলেটাই ওদের একমাত্র কর্মক্ষম সদস্য ছিল। যদি যুবকটির প্রতি সত্যিই সহমর্মী হয়ে থাকেন, তাহলে ওর দেনা শোধের ব্যবস্থা নিন। ওর পরিবার যেন মোটামুটি একটা ভাল অবস্থায় উঠে আসতে পারে, খেয়ে পরে চলতে পারে, সেই ব্যবস্থা নিন। ভুয়া বানোয়াট কাহিনী প্রচার করার চেয়ে সেটা বরং ফ্রুটফুল কিছু।
২|
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪৮
শ্রাবণধারা বলেছেন: এই ঘটনার মূল বিষয়টা হলো, এই দুই বাংলাদেশি শ্রমিকের ওপর বর্বর সৌদিদের জঘন্য অবিচার, সুষ্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন ও চরম অমানবিকতা। আর দ্বিতীয়ত, আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চরম দায়িত্বহীনতা ও নিষ্ক্রিয়তা এবং উল্টো সৌদির আইনের পক্ষে সাফাই গাওয়া।
আপনি এর কোনোটাই না দেখে আপনার উর্বর মস্তিষ্ক দিয়ে শুধু এটুকুই দেখলেন যে, কিছু লোক এটা নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে! আপনি কি মানুষ, নাকি একটা বড় মাপের উজবুক?
৩|
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৫২
আলামিন১০৪ বলেছেন: বিস্তারিত ঘটনা যা দাবী করা হয়েছে-
নজরুল, মসজিদুল হারাম শরীফে ক্লিনার হিসেবে নিয়োজিত ছিল, মেয়েটিও তাই। ঘটনা ট হারাম শরীফের সীমানার কোন এক এক সিড়িতে এবং তা কী হয়েছিল- যারা ভিডিও দেখেছে তাদের মধ্যে একজনের মন্তব্য উপরে শেয়ার করা হলো।
৪|
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৩৪
আলামিন১০৪ বলেছেন: আরেকটি সোর্স থেকে পাওয়া-
মসজিদ আল হারাম মক্কায় (নাজ্জাফা পদে) কাজ করেন এমন এক বাংলাদেশি ভাই গতকাল ম্যাসেজ করলেন। সৌদি বিচার বিভাগ কর্তৃক দুইজন বাংলাদেশীর শিরুচ্ছেদ দেয়ার ঘটনার বাস্তবতা তিনি তাঁর মতন দাবি করলেন। ২০২৩ সালের ঘটনা এটি। এতদিন পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়াধীন থাকলেও শিরুচ্ছেদ কার্যকর করা হয় গত ১৪ ই অক্টোবর ২০২৬।
অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হুদুদে; আরও নির্ধারিত করে বললে মসজিদে হেরেমের ভেতরেই অনৈতিক কাজ করেছে। হারামে এমন কাজ করেছে কথাটা প্রথমে আমি বিশ্বাস করতে চাইনি। তাই উনাকে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করেছিলাম, অনৈতিক বলতে পুরো সে’ক্স করেছে? নাকি প্রাথমিক কিছু কাজ। কিসিং বা জড়িয়ে ধরা এই টাইপ।
তাঁর দাবি একদম সবটাই করেছে। এবং ছেলে মেয়ে উভয়েই নাজ্জাফার কাজ করতেন। তাঁরা একসঙ্গেই কাজ করতেন এমন দাবি তাঁর। ভিডিও করা ছেলেটা ইন্ডিয়ান। ইউপি থেকে। উর্দু ভাষাভাষী। সে নিজেও মেয়েটার সঙ্গে অনৈতিক কাজ করতে চেয়েছিল। সোজা বাংলায় বললে বাঙালি ছেলের কাছে ভাগ চেয়েছে। ছেলেটা দেয়নি। এইজন্যে ছেলেটা ভিডিওটা পাবলিশ করে দেয়। টিকটকসহ বেশ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে এটা আপলোড করলে রাতারাতি ভাইরাল হয়। এবং সৌদি সরকার এটা নিয়ে ধরপাকড় শুরু করে।
ভিডিওটা সৌদি পুলিশ পরবর্তীতে যাদের ফোনে সেইভ পেয়েছে তাঁদের অনেককেও গ্রেফতার/এক্সিটসহ নানারকম হয়রানী করেছে। হেরেমের অনেক নাজ্জাফার কর্মী এর ভুক্তভোগী।
৫|
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৩৮
অগ্নিবাবা বলেছেন: দুইজন প্রাপ্তবয়স্কের সম্মতিতে চুমাচুমি বা লাগালাগির জন্য যে দেশের আইনে তাদের গলা কাটা হয়,
সেই আইনে হিসু করি। স্থান কাল পাত্র বিবেচনার বিষয়, তারা যদি গলদ জায়গায় গলদ সময়ে মিলনেও
লিপ্ত হয়, আধুনিক মানবিক মানুষ তাদের মৃদু ভর্ৎসনা করে বা কিছু জরিমানা করে ছেড়ে দেয়, গলা কাটার কথা কেউ কল্পনাও করে না। সৌদির আইনে হিসু, সৌদির আইন যার ভিত্তিতে তৈরি তাতেও হিসু।
৬|
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৩
আলামিন১০৪ বলেছেন: বাংলাদেশে শরীয়া আইন থাকলে অগ্নিবাবার'র মন্তব্যের জন্য গলা না কাটা গেলেও হিস্যু করার নুনু কাটা যেত। আর বর্তমান আইনে লাল দালানে কিছুকাল ফ্রী থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে-
জনাব কোন দেশে থাকেন- দাদাদের দেশে?
৭|
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:০৬
অগ্নিবাবা বলেছেন: মনে হচ্ছে আলামিন ভাইয়ের ধর্মানুনুভুতিতে আঘাত লেগেছে। হ ভাই আমিও আশায় আছি বাংলাদেশে শরিয়া ল চালু হবে, এই ব্লগে কিছু আধা মুসলমান আছে তাদের ধরে ধরে কাটাকাটি শুরু করবেন। তয় আমার নুনু হাতাতে পারবেন না, কারন আমি ধর্মোন্মাদ পাগলা কুত্তাদের থেকে তফাতে থাকি।
৮|
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১
ঢাবিয়ান বলেছেন: বাংলাদেশে আইনের শাষন না থাকায় , বাংলাদেশিরা আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ বিশেষ করে অল্পশিক্ষিত লোকজন। যে দেশে খুনের আসামীদের পাঁচ হাজার টাকার মুচলেকা দিয়ে জামিন পাবার খবর পত্রিকায় আসে, সে দেশে চুরি ডাকাতি, রেপ ,যেনা, ব্যভিচারতো কোন অপরাধের পর্যায়েই পড়ে না!
বাঙালি যখন দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে পা রাখে, তখন আইন কানুন ও এর প্রয়োগ সম্পর্কে কোন প্রকার জ্ঞান না থাকায় বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে। সিঙ্গাপুরে প্রায়শই বাংলাদেশী প্রবাসী শ্রমিকদের বিভিন্ন অপরাধের মৃত্যূদন্ডের খবর পত্রিকায় আসে। এখানকার মিনিস্ট্রি অভ ম্যানপাওয়ারে চাকুরিরত বিভিন্ন বাংলাদেশীর বরাতে জেনেছি যে, অপরাধীরা তাদের অপরাধের মাত্রার বিষয়ে একেবারেই অজ্ঞ। বিভিন্ন দালাল মারফত সিঙ্গাপুরের ওয়ার্কপারমিট নিয়ে ঢুকে পড়েছে , সিঙ্গাপুরের আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনেই। কেবল এম্বেসীকে দোশারোপ করে লাভ নাই। সমস্যার মুল শিকড় বাংলাদেশের মিনিস্ট্রি অভ ম্যানপাওয়ারে।
শরিয়া ল আপনি পছন্দ করেন কি না করেন তাতে সৌদিয়ারবের কিছু যায় আসে না। কুরআন , হাদিসের আলোকে প্রতিষ্ঠিত শরিয়া ল আপনি মানতে বাধ্য , সৌদিআরবে পা দেয়া মাত্র। সোস্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশি এম্বেসীকে খুব গালাগাল করা হচ্ছে মৃত্যূদন্ডের বিষয়টা না জানায়। আরে বাংলাদেশী এম্বেসির মুল কাজতো সরকারের মন্ত্রী এম্পিদের এন্টারটেইন করা। তাদের বিদেশ সফরের হোটেল, ডাক্তার এপয়েন্টমেন্ট , ট্যূর ফিক্স করা। তাদের এত বারতি সময় কোথায় যে , একজন সাধারন শ্রমিক লিগাল এডভাইস বা আইনি সহায়তা পেয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করার? সৌদিআরব বাংলাদেশী এম্বেসীকে ঘটনা সম্পর্কে পুর্বে অবহিত না করার বিষয়টা প্রমান করে যে , তাদের বাংলাদেশকে কোন দৃষ্টিতে দেখে!
৯|
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ওদের বর্বরতার খবর জেনেও কিন্তু প্রতিবছর লাখ লাখ শ্রমিক সৌদি যাচ্ছেন।
......................................................................................................
অর্থনৈতিক টানে অবশ্যই যাবে, সরকার ডলারের জন্য এক ধাপ এগিয়ে থাকে
কিন্ত এই সব শ্রমিক / কর্মচারীর প্রশিক্ষন ও নূণ্যতম আরবী শিক্ষা দিয়ে পাঠালে
এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারতনা ।
আমাদের মূল সমস্যায় আসতে হবে এবং তার সমাধান/ উন্নয়ন লক্ষ্যে কাজ করতে হবে ।
১০|
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭
নতুন বলেছেন: মসজিদের ভেতরে সেক্স করলে তাদের জীবন শেষ করার আইন ধর্ম মতে সহী হতে পারেনা।
মসজিদের ভেতরে সেক্স করলে সাজা কি সেটা কোরানে নাই! এবং কোন মানুষের একটা ভুলের জন্য তাদের জীবন শেষ করার কোন বিচার অন্য মানুষের নাই।
সৌদি বিচারকরা দৃস্টান্তমুলক বিচার করছে শরিয়া আইনে, এই শরিয়া আইন মানুষই বানিয়েছে।
এখানে ধর্মীয় আইন না বরং এমন কাজ যেন কেউ করার সাহস না পায় সেটাই করেছে বিচারক।
জামাল খসেগীকে এম্বাসির ভেতরে মেরে কেটে টুকরা করার হুকুমে বাদশার কিছুই হয় না। কিন্তু দরিদ্র দেশের দুই মানুষ মসজিদে সেক্স করলে তারা মৃত্যুদন্ড দিয়ে দেয়।
১১|
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:২৫
ক্লোন রাফা বলেছেন: নতুনের,প্রশ্নের উত্তর লেখক দিয়েছেন।টাকা থাকলে শিশু ধর্ষণকারিও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হোতে পারে। এখানে ইউরোপ আমেরিকার নাগরিক থাকলে শরিয়া কিংবা আল্লাহর আইনও পরিবর্তন হয়ে যায়। এবং ইহা প্রমাণিত সত্য। বহুবার জঘণ্য অপরাধ করেও বহু দেশের নাগরিক স্বসন্মানে চলে গেছে। এখানে সবচেয়ে বড় অপরাধি হলো সৌদি আরবে আমাদের এম্বাসির কতৃপক্ষ।আমাদের এম্বেসগুলো পৃথিবীর কোনো দেশেই আমাদের নাগরিকদের জন্য ন্যুনতম কাজ করেনা! যে কোনো এম্বেসিতে পাসপোর্ট সংক্রান্ত কোনো সমস্যা নিয়ে গিয়ে দেখতে পারেন। শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে যে কোনো অবৈধ কাজও হয়ে যাবে।
আমরা আইন না মানা একমাত্র জাতি। যারা মনে করি মানবতার বিরুদ্ধে করা অপরাধের বিচার করা অন্যায়!!সৌদির বিচার ব্যবস্থায় আমার বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। কিন্তু তারা প্রাগ-ঐতিহাসিক যুগের ঐতিহ্যকে তাদের আইন হিসেবে বলবৎ রেখেছে। কাজেই সেটা একান্ত তাদের ব্যাপার।সেটা জেনে শুনে কেউ সে দেশে থাকলে তা তার উপর বর্তায়।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩
মাথা পাগলা বলেছেন: বাংলাদেশের সরকার বলেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যাপারে আরব কোন কিছু জানায়নি এবং এব্যাপারে বাংলাদেশ আরবের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।
যে দেশের যে আইন - বলে কোন প্রশ্ন তোলা যাবে না এগুলা ভালো কোন চিন্তা-ভাবনা না। বিচার এবং ন্যায়বিচারের পার্থক্যটা বুঝতে পারলে আপনার চিন্তা-ভাবনা পরিস্কার হয়ে যাবে। ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এগুলো সম্পর্কে একটু জানার চেষ্টা করতে পারেন। নিম্ন আদালতে রায় পছন্দ না হলে মানুষ উচ্চ আদালতে যায়।