নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

...............

শ্রাবণধারা

" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."

শ্রাবণধারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

পারমাণবিক বিস্ফোরণের আগে সন্তানের সাথে আমি যে কথাগুলো বলবো

১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১০


যদি শুনি আজ রাত আটটায় পারমাণবিক বোমা হামলা হবে আমাদের এই শহরে, যেমন ইরানে সভ্যতা মুছে ফেলা হবে বলে ঘোষণা দিলেন পৃথিবীর সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী মহামান্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, তাহলে আমি আমার সন্তানদের কাছে ডেকে নেব। ছেলেটি হয়তো তখনও তার খেলা নিয়ে মেতে থাকবে।

আমার ছেলের বয়স আট; তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। ফুটবল খেলতে সে খুবই ভালোবাসে। এখানে শীতের কারণে বছরের প্রায় অর্ধেক সময় খোলা মাঠে খেলার মতো আবহাওয়া থাকে না, তাই সপ্তাহে একদিন তাকে ইনডোর মাঠে নিয়ে যাই। দিনটার জন্য সে সারা সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করে। বাকিটা সময় ঘরের ভেতরেই ধুপ ধাপ করে বলে লাথি মারে আর মায়ের বকা খায়। এখানে ঘরের দেয়ালগুলো ড্রাইওয়াল নামে একধরনের কাগজের বোর্ডে তৈরি। বলে জোরে লাথি মারলে শব্দ হয় প্রচণ্ড, মনে হয় এই বুঝি দেয়াল ভেঙে পড়লো।

মেয়েটি হয়তো তখন তার ঘরে পিয়ানো বাজাচ্ছে। আমার ১৪ বছর বয়সী মেয়ে বাজাতে খুব পছন্দ করে। তার বুক-শেলফে থরে থরে সাজানো পিয়ানোর বই, সুরগুলো অধিকাংশ বিষণ্ণ। সে ছবি আঁকতেও ভালোবাসে। কোনো একটা প্রাকৃতিক দৃশ্য বা স্থির চিত্র নয়, তার আঁকার প্রিয় বিষয় জাপানি বা অন্যদেশীয় পুতুল। তার আঁকাগুলো এত সূক্ষ্ম আর নিখুঁত যে, আমি বুঝতে পারি না সেগুলোর ভেতরে কী গল্প লুকানো আছে।

বাংলাদেশের মফস্বল শহর থেকে জীবন শুরু করে, সে তার বাবা-মায়ের সাথে পশ্চিমে এসেছিল। পূবে থেকে পশ্চিমে যাত্রা শুরু করে আসতে আসতে তার হৃদয় হয়তো প্রাচ্যেরই কোন এক অচেনা শহরে বসে বিশ্রাম নিতে চেয়েছে। যে শহরের রাস্তাগুলো বসন্তে চেরি ফুলে ছেয়ে যায়, আর গ্রীষ্মের রাতে জোনাকির আলো জ্বলা দেখতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে মানুষ।

আমি তাদের দুজনকে কাছে বসাবো। পারমাণবিক বোমা শব্দটা আমার মেয়ে বুঝলেও, ছেলে বুঝবে না। শব্দটি আমি উচ্চারণ করতে চাই না। তার বদলে বলবো, আজ রাতে একটু অন্ধকার হতে পারে, তবে আমরা সবাই একসাথে থাকবো। আমি জিজ্ঞাসা করবো তারা তাদের দাদি বা নানা-নানির সাথে কথা বলতে চায় কি না। বিদায় শব্দটা আমি উচ্চারণ করবো না।

আমার ছেলে ম্যাকডোনাল্ডসের খাবার খেতে পছন্দ করে। তাকে জিজ্ঞাসা করবো আজ সে এই ধরনের কিছু খেতে চায় কি না। মেয়ের কাছে জানতে চাইবো, কোনো আইসক্রিম আজ তার জন্য নিয়ে আসবো কি না।

বিকেল হওয়ার আগেই ছেলেকে বলবো, তার প্রিয় রোনাল্ডোর সাত নম্বর হলুদ জার্সিটা সে যেন পরে নেয়, সাথে তার প্রিয় এয়ার জর্ডান জুতো জোড়া। বলবো, আজ তার সঙ্গে ঘরের ভেতরে আমিও ফুটবল খেলবো। আমি থাকবো গোলকিপারে, আর সে পেনাল্টি শট অনুশীলন করবে।

মেয়েকে বলবো পিয়ানোতে তার কোনো প্রিয় সুর বাজাতে, তবে সেটা যেন কোন বিষাদসংগীত না হয়। আমার মেয়ে হয়তো চুপ করে বসে থাকবে। তারপর ধীরে ধীরে পিয়ানোর সামনে গিয়ে বসবে। একটা সুর তুলবে। আমি জানি, সে বুঝে গেছে।

আটটা বাজার আগে আগে আমি তাদের জড়িয়ে ধরব। শক্ত করে।

মন্তব্য ১৬ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (১৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:০১

সন্ধ্যা রাতের ঝিঁঝিঁ বলেছেন: একটু বিষাদময় লেখা কিন্তু পড়তে ভালো লেগেছে। পিয়ানো আর বেহালা এই দুইটার সুর অদ্ভুত সুন্দর মনে হয় আমার কাছে। আপনি এবং আপনার পরিবারের জন্য শুভকামনা।

১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬

শ্রাবণধারা বলেছেন: ধন্যবাদ। আসলে পারমাণবিক বোমা এই বিষয়বস্তুটাই ভয়ংকর বিষাদময়।

আপনার জন্যও অনেক শুভকামনা।

২| ১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: মহামান্যরা আলোর বদলে অন্ধকার উপহার দেয়।

১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫১

শ্রাবণধারা বলেছেন: এরা মহামান্য নয়, এরা অতিনিচু চোর-বদমায়েশ গুণ্ডা-মাস্তান। এদেরকে কীভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে নির্মূল করা যায়, তা নিয়ে বিশ্ববাসীকে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে এবং এদেরকে হটাতে মাঠে নামতে হবে।

৩| ১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫৭

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: এত মায়ার পরও
পৃথিবী একদিন ধংস হবে,
তখনও কোন বাবা, মায়েরা সন্তানের মঙ্গল কামনা
করতে করতে মারা যাবেন ।

১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৫

শ্রাবণধারা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ স্বপ্নের শঙ্খচিল।

এত মায়ার পরও পৃথিবী একদিন ধ্বংস হলেও হতে পারে, তবে সেটা আলাদা প্রসঙ্গ বলে মনে করি। মানুষের বুদ্ধিমত্তা এবং টিকে থাকা বিষয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল সাগান এবং বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী আর্নস্ট মেয়ারের মধ্যে একটা বিখ্যাত বিতর্ক আছে।

জানি না এবিষয়ে আপনার আগ্রহের বিস্তার কতটুকু, তবে আমার কিছুটা আগ্রহ আছে, যেটা পরিবেশের প্রশ্নগুলো সামনে নিয়ে আসে।

৪| ১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার মতো অনেরকের মনেই এখন নানা আশংকা কাজ করছে ; দেশে দেশে যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, তার চূড়ান্ত পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে; এমনকি পারমাণবিক বোমা হামলার মতো ধ্বংসাত্মক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ক্ষমতা দখলের এই প্রতিযোগিতা মানব সভ্যতাকেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। ছোটবেলায় পড়েছিলাম , বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ? এখন মনে হচ্ছে, মানুষ যেন বিজ্ঞানের অভিশাপ দিকটাই বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫

শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার এই মন্তব্যটা অনেক ভালো হয়েছে। হ্যাঁ, প্রশ্নগুলো ঠিক এধরনেরই।

আপনি দেখবেন যে ট্রাম্প এন্টি-পরিবেশবাদী, ঠিক পিটার থিয়েল বা তারমত উগ্রপুজিবাদীরাও তাই। ইলন মাস্কও তাই, তবে সে একধাপ বেশি চালাক। আসলে সেও এন্টি-পরিবেশবাদী, তবে সে ধ্বংস করতে চায় মহাকাশ। সে তার রকেটের আবর্জনা দিয়ে মহাকাশ মুছে দিতে চায়।

এরা সবাই দেখবেন গ্রেটা থর্ণবাগের মত পুচকে একটা মেয়ের নাম শুনলে থরথরিয়ে কাপে।

৫| ১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১

আলামিন১০৪ বলেছেন: আমাদের পারমানবিক বোমা মারার কেউ আছে নাকি?

১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬

শ্রাবণধারা বলেছেন: না, আপাতত তা হয়তো নেই।

৬| ১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৬

রাজীব নুর বলেছেন: পারমাণবিক বিস্ফোরণ হবে না। নিশ্চিন্তে থাকুন।

আপনার ছেলেমেয়ের জন্য ভালোবাসা।

১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪৬

শ্রাবণধারা বলেছেন: রাজীব নুর বলেছেন: পারমাণবিক বিস্ফোরণ হবে না। নিশ্চিন্তে থাকুন।

আপনি কি করে জানলেন? পরাশক্তির উপর এই ধরনের বিশ্বাস, বড় নির্বোধের লক্ষন। ইরানে পারমাণবিক হামলার জন্য ট্রাম্পের উপর জায়নবাদীদের চাপ ছিল। এই চাপ আবার আসবে।

ডুমসডে ক্লক (Doomsday Clock) বা "মহাপ্রলয়ের ঘড়ি" বলে একটা বিষয় আছে, নাম শুনেছেন? জানি শোনেননি। এটা একটা প্রতীকী ঘড়ি, যেটা মানবসৃষ্ট বিপর্যয় বোঝায়। পারমাণবিক যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন এগুলো বিবেচনায় আমরা মহাপ্রলয় থেকে মাত্র ৮৫ সেকেণ্ড দূরে আছি।

৭| ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

শায়মা বলেছেন: কি কঠিন কষ্টকর দিনগুলো ....... ভাবনার বাইরে ভাবনাগুলো ভাবতে গিয়ে বুকের ভেতর ব্যাথার কাঁপন....

১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১

শ্রাবণধারা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ শায়মা। আমার ভিটরেও এরকমই এক ব্যাথার কাঁপন তৈরি হয়েছিল সেদিন।

ট্রাম্প যেদিন মঙ্গলবারে পাওয়ার প্লান্ট, বুধবারে ব্রীজ - এভাবে ইরান ধ্বংসের ঘোষণা দিল, তখন তেহেরানের একটা ছবিতে দেখলাম যে ইরানের মানুষ তাদের এই স্থাপনাগুলোতে মানব-ঢাল তৈরি করেছে। তখন মনে হলো, ইরানের সব মানুষ পারমানবিক বোমার আঘাতে মৃত্যুর জন্য একরকম প্রস্তুত হয়ে আছে। সেখান থেকেই এই লেখাটার সূত্রপাত।

৮| ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৫৫

করুণাধারা বলেছেন: পারমাণবিক বিস্ফোরণ আমার ভাবনায় আমার শৈশব থেকেই আছে। নিয়ে আপনার ভাবনাটা কেমন লেগেছে বলবো বুঝতে পারছিনা। কিন্তু লেখাটা মনকে বিষন্ন করে তুলেছে।‌

মনে পড়ছে, আমিও আমার ছেলে মেয়েকে পারমাণবিক বিস্ফোরণের পরের পৃথিবী নিয়ে একটা গল্প পড়ে শোনাতাম, তখন আমার ছেলেরও বয়স ছিল আট বছর। গল্পের নাম The Chrysalids, জানিনা পড়েছেন কিনা। করলার রস খাবার মতো চেহারা করে আমার ছেলেমেয়ে সেই গল্প গিলতো! আবার আমার মায়ের কাছে শুনেছিলাম হিরোশিমা নাগাসাকির কথা। ধ্বংস যজ্ঞের পর আমার নানা সেখানে গিয়েছিলেন, আমার মা তার কাছ থেকে এই ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা শুনেছিলেন। এরপর আশির দশকে দেখেছিলাম টেলিফিল্ম the day after. কিছু দৃশ্য এখনও মনে আছে। এভাবে আমার মাথায় সবসময় পারমাণবিক বিস্ফোরণের ভয় থেকেই গেছে। আমি ব্লগে কয়েকটি লেখাও দিয়েছি এই নিয়ে।‌

বিকৃতমনা উন্মাদ ট্রাম্প ইরানে পারমানবিক বোমা ফেলতেই পারে, নিজেকে বিজয়ী দেখানোর জন্য। এটা কোন অসম্ভব ব্যাপার না। কিন্তু তারপর কি হবে???

চেরনোবিলে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিস্ফোরণের ধাক্কা বাংলাদেশেও এসেছিল। সে সময় বহুদিন ধরে ইউরোপের উৎপাদিত গুঁড়া দুধে ক্ষতিকর মাত্রার তেজস্ক্রিয়তা পাওয়া গিয়েছিল।

এখন উজ্জ্বল দুপুর। জানিনা আর কতগুলো এমন দুপুর দেখতে পাবো!!

১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:১২

শ্রাবণধারা বলেছেন: পারমাণবিক বিস্ফোরণ নিয়ে আপনার এই স্মৃতিচারণ খুব স্পর্শ করে গেল।

আমাদের বাংলা পাঠ্যপুস্তকে সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণিতে হিরোশিমা-নাগাসাকি নিয়ে একটি প্রবন্ধ ছিল। কিশোর বয়সে সেটি আমাকে বেশ নাড়া দিয়েছিল। আপনি যে গল্পটির কথা বললেন, সেটি আমার পড়া হয়নি। আপনার কথা শুনে পড়ার আগ্রহ তৈরি হলো।

আমি সাদাকো এন্ড দ্যা থাউজ্যান্ড পেপার ক্রেইনস - এটার গল্প পড়েছিলাম। সেখানে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে এক ছোট মেয়ের ক্যান্সার হয়, তাকে নিয়ে গল্প।

যুদ্ধ, ইসলামোফোবিয়া ইত্যাদি বিষয়ে কি করে বাচ্চাদের সাথে কথা বলা যায়, এটা আমি এখনও শিখতে পারিনি। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি চলছে এটা আর কিছুদিন চললে এগুলো নিয়ে বাচ্চাদের সাথে খুব বড় আলাপ করতে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.