নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

...............

শ্রাবণধারা

" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."

শ্রাবণধারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশি দৃষ্টিতে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ও ভারতের হিন্দুরাষ্ট্র হয়ে ওঠার প্রচেষ্টা

২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৬


কাল থেকে দুই ধাপে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শুরু হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ভারতের কেন্দ্রীয় শাসনক্ষমতা ও মতাদর্শ দ্বারা যেমন প্রভাবিত, তেমনি এর প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশেও প্রতিফলিত হয়। ভারতে যখন হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদী শক্তি প্রবল হয়, তখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তা প্রভাব ফেলে এবং প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সক্রিয় করে তোলে।

ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বা সহিংসতা বাড়লে একদিকে ভারতবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো এসব ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করে। ভারতে গণতন্ত্র দুর্বল হলে এবং হিন্দুত্ববাদী শক্তি আরও আগ্রাসী হয়ে উঠলে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলোর তৎপরতাও বেড়ে যায়।

স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতে পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদীরা রাজ্য ক্ষমতায় আসেনি। তবে এবার সেখানে তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিতে যেমন জামাত জোটের ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল - যদিও তা বাস্তবে ঘটেনি, একইভাবে পশ্চিমবঙ্গেও ক্ষমতা পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জরিপে দেখা যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস এখন পর্যন্ত কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। তবে ভোটার তালিকা সংশোধন ও প্রপাগাণ্ডা দিয়ে বিজেপি তার সমর্থন বাড়াচ্ছে । জরিপ অনুযায়ী, ২৯৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ১৬১টি, বিজেপি ১২৪টি এবং কংগ্রেস ৯টি আসন পেতে পারে।

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের আগে জামাত ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো যে ধরনের ভীতি ও ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করেছিল, নির্বাচন ঘিরে পশ্চিমবঙ্গেও সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বয়ানে বিভাজন ও আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বিকৃত করে "মমতাজ বেগম" নাম দেওয়া হয়েছে। এমন প্রচার চালানো হচ্ছে যে, বিজেপি ক্ষমতায় না এলে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা উত্তর প্রদেশে চলে যেতে বাধ্য হবে।

নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে ৬০ লাখেরও বেশি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। বাদ পড়া ব্যক্তিদের বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশকারী বলা হচ্ছে। বাংলাভাষী মুসলিম মাত্রই ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী - এমন একটা ধারণা প্রচার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশভীতিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে বিজেপি সীমান্তবর্তী জেলা যেমন মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা ও মালদায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। পরবর্তীতে তারা নির্বাচনী সীমানা পুনর্গঠন করে মুসলিম-প্রভাবিত আসন সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করেছে। এই আসনগুলো ভেঙে হিন্দু-প্রধান আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে অনেক জায়গায় মুসলিম ভোটের ঘনত্ব কমে গিয়েছে।

এই নির্বাচনটি মূলত ধর্মীয় পরিচয় ও গোষ্ঠীগত স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে। এখানে এই ধারণা তৈরি করা হয়েছে যে মুসলিম ভোটাররা বিজেপির বিরোধিতা করছে, তার প্রতিক্রিয়ায় হিন্দু ভোটারদের তৃণমূলকে নির্বাচনে মোকাবিলার জন্য একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বিজেপি বহু বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামসহ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর রাজনীতিতে বাংলাদেশকে একটি ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ, জনসংখ্যার পরিবর্তন, ভোট জালিয়াতি এবং সীমান্তে নিরাপত্তার প্রসঙ্গটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সমাবেশে বারবার ব্যবহার করে "বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের" বিতাড়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের একজন। বাংলাদেশ নিয়ে শুভেন্দু বলেছেন, ‘ইসরায়েল যেমন গাজাকে শিক্ষা দিয়েছে, সেভাবে বাংলাদেশকে শিক্ষা দিতে হবে"। তিনি বলেন, "বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে ভারতের চার-পাঁচটা ড্রোনই যথেষ্ট"।

ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি শক্তিশালী হলে তা বাংলাদেশের ইসলামপন্থী উগ্রবাদীদের আন্দোলিত করে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) মতাদর্শে পরিচালিত বিজেপি কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় আসার পরে সংখ্যালঘুদের প্রতি বিদ্বেষমূলক রাজনীতি ভারতের মূলধারায় জায়গা করে নিয়েছে।

বাংলাদেশে যে ইসলামপন্থী উগ্রধারা আগে প্রান্তিক, বিচ্ছিন্ন ও অবদমিত অবস্থায় ছিল, ভারতের এই রাজনৈতিক পরিবর্তন তা নতুন করে বাংলাদেশের উগ্রপন্থীদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। ফলে এখন বাংলাদেশের উগ্রপন্থীদের মধ্যে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের আকাঙ্ক্ষা বেড়েছে। বাংলাদেশের গত নির্বাচনে দেখা গেছে, জামাতের অনেক প্রচারনাই বিজেপির প্রচারণা থেকে নকল করা।

ভারতে রাজনীতির বাইরেও অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে আরএসএসের প্রভাব যেভাবে গভীর হয়েছে, বাংলাদেশেও জামাত ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পরিসরে প্রভাব বিস্তারে সফল হয়েছে। ভারতীয়দের চিন্তাজগতে হিন্দুত্ববাদী আদর্শের প্রভাব যেভাবে বিস্তৃত হয়েছে, বাংলাদেশেও ইসলামপন্থী উগ্রবাদীদের প্রভাব সেভাবে বেড়েছে।

আরএসএসের লক্ষ্য ছিল ভারতে হিন্দুত্ববাদের পুনর্জাগরণ। হিন্দুরাষ্ট্র গঠনের ধারণাটি শুরু থেকে আরএসএসে যুক্ত ছিল। তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। ভারতের প্রায় ১৯টি রাজ্যে একক বা জোটে বিজেপি ক্ষমতায়, লোকসভায় তাদের আসন সংখ্যা ২৪০, সেখানে কংগ্রেসের মাত্র ৯৯ টি।

আরএসএসের প্রতিষ্ঠাকালীন গুরু গোলওয়ালকর জার্মান নাৎসিদের বিশেষ ভক্ত ছিলেন। ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্রে রূপান্তরের ধারণা তাঁর দ্বারাই বপিত হয়েছিল। ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে লিকুদ পার্টি নতুন নাৎসি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, এবং নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপিও নাৎসি-অনুরাগী থেকে ইসরায়েলপন্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

জায়নবাদীরা যেমন "ঈশ্বরের মনোনীত জাতি" তেমন হিন্দুত্ববাদীরাও বর্ণশ্রেষ্ঠ জাতি। ইসরায়েল যেমন একটি "ইহুদীরাষ্ট্র" এবং অইহুদীরা "গয়িম", হিন্দুত্ববাদীরাও তেমন ভারতে হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিয়োজিত আছে।

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম বিজেপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এই রাজ্যগুলো থেকে মুসলিমদের বিতাড়িত করার দুরভিসন্ধি বিজেপির আছে। মুসলিমদেরকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হলে তা ব্যপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। তাই যদি এই জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখা যায়, তাহলে তারা নিজেরাই একসময় বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে চলে যেতে বাধ্য হবে।

এটাই হিন্দুত্ববাদী পরিকল্পনা, যার সাথে ইসরায়েলের গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি ও অধিগ্রহনের মিল আছে। এর সাথে যদি ১৯৫১ সালের মত ইরাকের ইহুদিদের প্রার্থনালয়ে বোমা হামলার সম্ভাব্য ফলস ফ্লাগের ঘটনা ঘটে, তবে ভারত হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে বহুদূর এগিয়ে যাবে। নরেন্দ্র মোদীর বর্ণিত “ইসরায়েল পিতৃভূমি এবং ভারত মাতৃভূমি” এই কথার সার্থকতাও তখন প্রতিষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য ৩৬ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৩৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: মমতা দিদি নাকি আমাদের পানি দিতে রাজি হতেন না; বিজেপি সরকার নাকি রাজি হয়েছিলো শেখ হাসিনার আমলে। বাংলায় এবার ক্ষমতায় এলে বুঝা যেত আসলে তারা পানির সঠিক হিস্যা দেয় কিনা । পাশাপাশি এ বছর ফারাক্কা চুক্তি মেয়াদ শেষ হতে চলেছে । বিএনপি সংরক্ষিত মহিলা আসনে সুবরণা ঠাকুর নামে মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন কে মনোনয়ন দিয়েছেন । এই নারীর একজন কাজিন ভারতে বিজেপির রাজনীতি করেন । :-B

২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৭

শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার কথা কিছুটা সত্য। বিজেপি নয়, মনমোহনের সময়কার কেন্দ্রীয় সরকার তখন বাংলাদেশকে পানি দিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু তখন মমতা তাতে সম্মত হননি।

২| ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৮

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বিজেপি ক্ষমতায় এলে জামায়াতের পোয়াবারো । জামায়াত এবার প্রায়ই সব সেটিং করেই ফেলেছিলো। ইউনুস সাহেবের যে বিষয়টা আমার সবচেয়ে খারাপ লেগেছে , জামায়াত কে তিনি বাংলাদেশে শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়ে গেছেন। জামায়াত একবার যেখানে ঢুকে সেখানে গেড়ে বসে ।

২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮

শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি রাজ্য ক্ষমতায় এলে জামাতের বাংলদেশে ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুনে বেড়ে যাবে। এই কথাটাই আমার এই পোস্টের মূল বক্তব্য।

ইউনূস সাহেব আমাদেরকে কতগুলো পরশক্তির খেলার মাঠে নিয়ে এসেছে এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে জঙ্গিদের প্রতিষ্ঠা করেছে - বাংলাদেশের এত বড় ক্ষতি আর কেউ করেনি।

৩| ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:১৭

অগ্নিবাবা বলেছেন: আপনারা ঐদিকে নামাজ রোজা করেন, এইদিকে দাদারাও পুজো টুজো করুক, অসুবিধা কি? সবাই তো ধার্মিক, কোনো ধর্ম মারামারি কাটাকাটি শেখায় না, আপনারাই তো এসব বলেন, তবে এখন নাকি কান্না কেনো? আমার অবশ্য ধর্ম নিয়ে চুলাকানি আছে, আমি মনে করি ধর্মই সব সমস্যার গোড়া।

২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনি যদি দৃষ্টিটাকে আরেকটু চোখা করেন তাহলে দেখবেন যে, আসলে নামাজ রোজা করা, এবং দাদাদের পুজো টুজো করা আর ধর্মকে ইউপোনাইজ করে রাজনীতি করাটা খুবই ভিন্ন বিষয়।

ধর্ম নিয়ে আমার আপত্তি নেই, যতক্ষণ এটা আপনার ব্যক্তিগত পালনের বিষয় এবং আপনার সাথে আপনার স্রষ্টার বোঝাপড়ার বিষয়। ধর্ম যদি ঈশ্বরের সাথে মিলনের বিষয়ই হয়ে থাকে, তাহলে তো মানুষে মানুষে মিলন হবার কথা তার আগেই।

৪| ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:১০

অগ্নিবাবা বলেছেন: যুক্তির খাতায় নাকি হিসাব মিটেই গেছে—দেশভাগের সময় মুসলিমরা তাদের “শেয়ার” পেয়ে গেছে; বিশাল ভুখণ্ড—পূর্ব পাকিস্তান, পশ্চিম পাকিস্তান। বাকি যা রইল, সেটাই নাকি হিন্দুদের সম্পত্তি। একেবারে সোজা হিসাব!

তারপরও আমরা যারা মাঝামাঝি, সেই “সেকু-মাকু”রা, কোনোভাবে সহাবস্থানের চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু আপনারা কী করলেন? পাকিস্তান আর বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের তাড়ালেন, আবার ভারতে হিন্দুর সংখ্যা বেশি বলে ভারতকেই চিরশত্রু বানালেন—সকাল-বিকাল ভাষণে আগুন ঝরালেন।

ফলাফল? এখন ভারতে আমাদের মতো মধ্যপন্থীদের কোনো দামই নেই। আপনারা যারা নিজেকে “মডারেট” বলেন, তারা সবসময় নিজের অবস্থান বাঁচিয়ে সুবিধা নিয়েছেন। এখন সেই সুবিধার দিন শেষ—এবার চাপ আসবে দুই দিক থেকেই।

একদিকে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা বলবে, “তুমি মুসলমান”—অন্যদিকে মোল্লারা বলবে, “তুমি পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড় না, তুমি মুর্তাদ।” ঠ্যালা সামলাও।

২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:১৩

শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার এই মন্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ। মুসলমানেরা হিন্দুদের সঙ্গে থাকতে চায়নি, দেশভাগ করে ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান বানিয়েছে - ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদের এই যুক্তি আমি শুনেছি। তো এখন এই যুক্তিতে তারা কি বলতে চাচ্ছে যে, ভারত থেকে বাকি সব মুসলমান পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে চলে যাক?

আপনার মন্তব্যের দ্বিতীয় প্যারাটি নিয়ে আলোচনার অবকাশ আছে। ভারতে হিন্দুর সংখ্যা বেশি বলে ভারতকে চিরশত্রু বানানো - বিষয়টা বাংলাদেশের জন্য তেমন ছিল না। হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় আধিপত্যবাদকে এখানে আলোচনায় আনতে হবে। খ্রিস্টান হওয়ার জন্য নাৎসিদের কেউ ঘৃণা করত না, এবং ইহুদি হওয়ার জন্য জায়নিস্টদের কেউ ঘৃণা করে না। সেরকম, ভারতে হিন্দুর সংখ্যা বেশি বলে ভারতকে কেউ শত্রু বানায়নি। এর আসল কারণগুলো খোলা মনে ভাবতে হবে।

যুক্তি ও সহিষ্ণুতার চেয়ে ভয় ও ঘৃণাকে সহজে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানো যায়। সে কারণে এখন মধ্যপন্থী ও সেক্যুলারদের তেমন নেই।

৫| ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৪৮

অগ্নিবাবা বলেছেন: " তো এখন এই যুক্তিতে তারা কি বলতে চাচ্ছে যে, ভারত থেকে বাকি সব মুসলমান পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে চলে যাক?" - ভারতে হিন্দুত্ববাদীরা চাইছে ঘর বাপসী, তারা বলছে হিন্দু থেকেই মুসলমান হয়েছে, তাই হিন্দু ধর্মে আবার ফিরে আসুক, বন্দে মাতরম বলুক, জয় শ্রীরাম বলুক, ঝামেলা শেষ, না চাইলে রিজার্ভ ফরেস্ট পাকিস্থানে ফিরে যাক।

খ্রিস্টান হওয়ার জন্য নাৎসিদের কেউ ঘৃণা করে না, সঠিক। তবে ইহুদি হওয়ার জন্যই ইসরাইলকে মুসলিমরা ঘৃণা করে, কারন
অনেক রিকোয়েস্ট, প্রলোভন, ভয় দেখানোর পরেও মহম্মদের কাছে ইহুদিরা ইসলাম কবুল করে নি, কোরান হাদিসের ছত্রে ছত্রে আছে ইহুদী বিদ্বেষ। আর শুধু ভারতে হিন্দু বেশী হওয়ার জন্যই বাংলাদেশে ভারত বিদ্বেষ এটা পুরো কারন না হলেও, ভারত যে মুক্তি যুদ্ধে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে যাহায্য করেছে, মুসলিম রাষ্ট্র ভেঙ্গে দুটুকরো করেছে, এটা সাচ্চা ইমানদার মুসলিমরা কোনো দিন মেনে নেবে না। এটা অস্বীকার করতে পারবেন না।

২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:২৩

শ্রাবণধারা বলেছেন: মুসলিমদের ইহুদি-বিদ্বেষ নিয়ে আপনার উপরের মন্তব্যের জবাব দেওয়ার মতো যথেষ্ট জ্ঞান আমার নেই। তবে একথা স্মরণ করা প্রয়োজন যে, ইহুদিদের নবী ইসলামেরও নবী। কোরআন-হাদিসের উদাহরণগুলো নিশ্চিতভাবেই ইহুদিদের কোনো একটি বিশেষ দল বা ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে বলা হয়েছে, সকল ইহুদি ধর্মাবলম্বীর জন্য নয়।

এখন উগ্র ডান-পন্থিরা যার পূজা করছে তাকে বলে শক্তি-পূজা। সেই শক্তি-পূজারই চরম প্রবণতা এখন ইসরায়েলে দেখা যাচ্ছে, যা আবার ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীরা গ্রহণ করেছে।

এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ কী বলেছেন, শুনুন: "য়িহুদির জিহোবা এককালে মুখ্যত য়িহুদিজাতিরই পক্ষপাতী দেবতা ছিলেন। তিনি কী রকম নিষ্ঠুর ঈর্ষাপরায়ণ ও বলিপ্রিয় দেবতা ছিলেন তা ওল্ড টেস্টামেন্ট পড়লেই বোঝা যায়। সেই দেবতা ক্রমশ য়িহুদি সাধুঋষিদের বাণীতে এবং অবশেষে যিশুখ্রীস্টের উপদেশে সর্বমানবের প্রেমের দেবতা হয়ে প্রকাশ পেয়েছেন। কিন্তু তাঁর মধ্যে আজও যে দুই বিরুদ্ধভাব জড়িয়ে আছে তা লৌকিক ব্যবহারে স্পষ্ট দেখিতে পাই। আজও তিনি যুদ্ধের দেবতা, ভাগাভাগির দেবতা, সাম্প্রদায়িক দেবতা।"

৬| ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:০০

গহীনে রক্তক্ষরণ বলেছেন: বাংলাদেশের জামাত দলটা কি ওদের হিন্দুত্ববাদী দলের অনুরূপ ? কি বলতে চাইলেন ? আজ পর্যন্ত দেখাতে পারবেন, জামাত বিজেপির কট্রর নেতাদের মত কারো মন্দির ভেংছে ? কোন হিন্দুর জমি দখল করেছে ? কছিম খাওয়ার জন্য কোন হিন্দুকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে ? আপনি কোথায় পেয়েছেন, ইহুদীরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেনাই বলে তাদের প্রতি মুসলমানদের বিদ্বেষ ? ইহুদীদেরকে অভিশপ্ত বলেছেন স্বয়ং আল্লাহ । কারণ তারা সরাসরি আল্লাহর সাথে বিরোধিতা করেছে । সেটা তাদের সাথে তাদের শ্রষ্টার বিষয় । মুসলমান কোন মানুষের বিষয় নয় । তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতে কোন মুসলমানকে আল্লাহ বলেছেন নাকি ? একটা আয়াত দেখাতে পারবেন, যেখানে আল্লাহ বলেছেন, তোমরা ইসলাম যারা কবুল করবে না, তাদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়াও ? না জেনে আন্দাজে ইহুদীদের প্রতি মোহাম্মাদের ভয় দেখানো, প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ দিলেন ? কোন রেফারেন্স আছে ? ইতিহাসের কোন পাতায় আছে ? থাকলে কমেন্ট বক্সে দিন । যেখানে আল্লাহ মুসলমানদের সাবধান করেছেন এই বলে যে, “তোমরা তাদের দেবতাকে গালি দেবে না, তাহলে ভুলক্রমে তারাও তোমাদের আল্লাহকে গালি দেবে [ ৬ নম্বর সূরা আন-আম এর আয়াত ১০৮ ] ।” সেই মুসলমান কাউকে ভয় দেখিয়ে , প্রোলোভন দেখিয়ে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করতে চেয়েছে ? একটা দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবেন ? যদি কোন দৃষ্টান্ত থেকে থাকে, আমি চ্যালেঞ্জ করছি, সেই লোক কুরআনের আদেশ অনুযায়ী মুসলমান নয় । সে মুসলমান বেশধারী কোন ভন্ড , কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে ইসলাম ধর্মের গায়ে কলংক লাগানোর চেষ্টা হিসেবে সে হয়তো মুসলমান সেজেছে । দেখুন, ইসলাম নিয়ে, প্রকৃত মুসলমানদের নিয়ে কোন ভুয়া ন্যারেটিভ ছড়াবেন না । কেননা মুসলমানের ঘরে জন্ম নিলেই কেউ মুসলমান হতে পারে না । মুসলমানের সংগা অনুযায়ী পৃথিবীর যে কোন মানুষ, তিনি যার ঘরেই জন্ম নিক না কেন, যদি তিনি তার শ্রষ্টার কাছে ১০০% অনুগত মানুষ হতে পারেন, তাকেই মুসলমান বলে । অতএব জেনে বুঝে তেমন মুসলমান সম্পর্কে বানোয়াট কথা বলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ রইল । আপনি যে অভিযোগ করেছেন, তার স্বপক্ষে উপযুক্ত তথ্য দিয়ে প্রমাণ করার জন্য অনুরোধ করছি ।

২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩

শ্রাবণধারা বলেছেন: জামাত দলটা কি খুব ভালো? হা হা :)

"ইহুদীদেরকে অভিশপ্ত বলেছেন স্বয়ং আল্লাহ।" আপনার এই ধারনা সঠিক নয়। উপরে এটা সম্পর্কে অল্প কথায় লিখেছি। বর্তমান সময়ে বহু উন্নত চরিত্রের ইহুদি রয়েছেন যাদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। যেমন ধরেন নোম চমস্কি, বার্নি স্যাণ্ডার্স, ইলান পাপে, ম্যাক্স ব্লুমেন্টাল ইত্যাদি। আপনি হয়তো এদের কারও নাম শোনেন নি, সেটা বিষয় নয়।

৭| ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫২

রাজীব নুর বলেছেন: শুভেন্দু অধিকারী একটা ইতর।

২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬

শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, সঠিক। তবে বিজেপি এবং জামাতের মত দলে এধরনের ইতরদের দরকার পরে!

৮| ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৩৮

নতুন নকিব বলেছেন:



উগ্রবাদী মোদী গং ভারতকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে।

২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারতের গণতন্ত্র ও ধর্ম-নিরপেক্ষ রাষ্ট্রীয় কাঠামো মোদী গংয়ের কারণে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

৯| ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮

নতুন বলেছেন: আমাদের দেশেও পীরের মাজারে আক্রমন করে পিটিয়ে মেরে ফেলা, কবর থেকে উঠিয়ে লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

ধর্মান্ধতা আমাদের দেশেও বাড়ছে।

আশা ছিলো দিন দিন ধমান্ধতা কমবে, এখন মনে হচ্ছে বাড়ছে।

গতকাল ফেসবুকে দেখলাম এক ছাগল নারীদের কেন গর্ভবতী হলে ডাক্তারী কেয়ার লাগে কিন্তু গরু ছাগলের লাগে না সেটা নিয়ে লম্বা লেখা পোস্ট করেছে। তার আবার ২ লাখের মতন ফলোয়ার :|

২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, আমাদের দেশে ধর্মান্ধতা ভয়াবহভাবে বেড়েছে।

এর একটি বড় কারণ আমার মনে হয়, হাসিনা আমলের ব্যাপক দুর্নীতি। লুটপাট ও দুর্নীতি-ডাকাতির একটি অংশ দান-খয়রাতের মাধ্যমে কওমী ধারার প্রতিষ্ঠানে গেছে, যেটা এই ধর্মান্ধ গোষ্ঠির বসে খাওয়ার অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করেছে। আবার অনেক দুর্নীতিবাজ এই দানকে পাপমোচন ও পরকালের বিনিয়োগ হিসেবে দেখেছে, ফলে দুর্নীতি ও ধর্মান্ধতা একে অপরকে শক্তিশালী করেছে।

আর ইউনূসের সময় জামাত এবং ইসলামিস্টদের ক্ষমতায় নিয়ে গিয়ে এই ধর্মান্ধতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।

১০| ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

কিরকুট বলেছেন: তৃণমূল আবার আসবে ।

২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

শ্রাবণধারা বলেছেন: জরিপগুলো সেরকমই ইংগিত দিয়েছে।

১১| ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৫৭

মাথা পাগলা বলেছেন: জামাত ও বিজেপির মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নাই। প্রয়োজনে বিজেপি যেমন নবীকে পূজা করতে পারে, তেমনি জামাতও দুর্গাকে পূজা করতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে ভারত থেকে সব মুসলিমকে বের করে দেয়া জায়েজ - ইহা একটি জঙ্গি মনোভাবপূর্ণ চিন্তাধারা। তবে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের দিক থেকে চিন্তা করলে সঠিক। আর এই ক্ষতিগ্রস্থ কেবলমাত্র বাঙ্গালী হিন্দুরাই হয়েছেম গুজরাটিরা নয়। যতোদূর জানি, নির্বাচন SIR - এ প্রচুর বাঙ্গালি হিন্দু বাদ পড়েছে। মোদির যদি এতো হিন্দুপ্রেম থাকতো, এদের বাদ দিয়েছে কেন?

২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬

শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, সঠিক। এরা দু’টিই উগ্র ডানপন্থী এবং প্রো-ক্যাপিটালিস্ট, প্রো-ইম্পেরিয়ালিস্ট ও প্রো-ইসরায়েলি।

তবে বিজেপি তাদের উগ্রবাদের সঙ্গে পশ্চিমা নব্য-উদারনীতিবাদভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি ভালো সমন্বয় করতে পেরেছে। ফলে মানুষ কনভিন্সড হয়েছে যে বিজেপি মানেই আয়-উন্নতি, চকচকে দালান, দোকানপাট, গাড়ি-বাড়ি।

বাংলাদেশে জামাত ততদূর যেতে পারেনি। তাই আপাতত তারা জান্নাতের টিকিট, অর্থাৎ চকচকে দালান, দোকানপাট, গাড়ি-বাড়ি, এসব মৃত্যুর পর পাওয়া যাবে, এই পর্যায়েই রয়েছে।

তবে জামাতের বড় নেতাদের আগে ছিল মধ্যপ্রাচ্যে লেবার সাপ্লাইয়ের দালালের ব্যবসা, সেখান থেকে খুব সম্ভবত তারা টার্কিশ অস্ত্র ব্যবসা পর্যন্ত উন্নতি করেছে।

১২| ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:১০

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ। এখনো।

২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:২০

শ্রাবণধারা বলেছেন: হা হা! :)

আমার মনে হয়, জ্ঞান-বুদ্ধি অর্জনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আপনি তা কাজে লাগাতে পারেননি। তাই আপনার চিন্তা-ভাবনায় পরিবর্তন আসবে, এমনটা আশা করিনা।

তবুও, ভারতে বর্তমানে গণতন্ত্রের অবস্থা বোঝার জন্য বিবিসির এই সংবাদ নিবন্ধটি পড়ে দেখতে পারেন। ভারতে কি ধর্মনিরপেক্ষতার কোনও ভবিষ্যৎ আছে? ভারতে কি ধর্মনিরপেক্ষতার কোনও ভবিষ্যৎ আছে?

১৩| ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭

অগ্নিবাবা বলেছেন: শ্রাবনধারা ভাই, আপনার দেওয়া লিনংকে পড়লাম,
-
মণিশঙ্কর আইয়ার একবার বিজেপির প্রাক্তন নেতা অরুণ শৌরিকে জিজ্ঞাসা করেন, "মুসলিম হওয়ার কারণে কি ভারতীয় হয়ে ওঠা কঠিন হয়ে যায়?"
এর উত্তরে অরুণ শৌরি বলেন, "ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করে বহু-সংস্কৃতি ও বহু ধর্মের সমাজে বাস করা অসম্ভব, কারণ ইসলামের মূলনীতি অনুসরণ করে তা করা যায় না।"
মণিশঙ্কর আইয়ার অরুণ শৌরিকে পাল্টা প্রশ্ন করেন- “তার মানে আপনি বলতে চাইছেন যে আপনি যদি একজন ভালো ভারতীয় হিসাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন তবে আপনি খারাপ মুসলিম?”
জবাবে অরুণ শৌরি বলেন, "আমার মনে হয় আপনি একটু কড়া ভাষায় কথাটি বলছেন তবে অবশ্যই তাকে কোরআন-হাদিসের মূল নীতিমালা থেকে কিছুটা সরে আসতে হবে।"
-
আপনার মতামত জানতে চাই।

২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪১

শ্রাবণধারা বলেছেন: আমি তো ভারতীয় নই। ভারতীয় হতে কোরআন-হাদিসের কোন নীতিমালা থেকে সরে আসতে হয়, এই প্রশ্নটি আপনি কোন ভারতীয় মুসলিম, যে কোরআন-হাদিসের নীতিমালা নিয়ে চর্চা করেন, তাকে করতে পারেন।

তবে প্রশ্ন করার আগে এটাও জেনে নেবেন যে, ভারতীয় হতে হলে একজন হিন্দুকে মনুসংহিতা এবং বেদের কোন নীতিমালা থেকে সরে আসতে হবে কি না। এই প্রশ্নটাও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

ম্যাক্স মূলারের নাম শুনেছেন? তিনি বেদের সাথে কান্টের দর্শনের তুলনা করতে গিয়ে লিখেছিলেন, "বেদে আমরা মানব সভ্যতার শৈশব অধ্যয়ন করতে পারি, আর কান্টের দর্শনে আমরা সেই মনের প্রৌঢ়ত্বকে অধ্যয়ন করতে পারি।" ম্যাক্স মূলার যেটা বেদ সম্পর্কে বলেছেন, সকল ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কেই আমার সেই মত।

১৪| ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।

১৫| ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৬

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



আমি একটি প্রশ্ন করতে চাই - “ধর্ম ব্যবসা আর কতোকাল চলবে”?

২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৩২

শ্রাবণধারা বলেছেন: শ্রদ্ধেয় ঠাকুরমাহমুদ ভাই, আপনার প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই।

আমাদের দেশে ধর্মব্যবসার যে প্রকোপ, তা আমাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং অর্থনীতির সর্বত্র ক্যান্সারের মতো বাসা বেঁধেছে। তার ওপর এখন একে নিয়ে শুধু হুজুররা নয়, রাজনীতিবিদ থেকে বুদ্ধিজীবী, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, পত্রিকার সম্পাদক সবাই এটিকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানিয়েছেন। এখান থেকে আমাদের আশু মুক্তির কোনো সম্ভাবনাই আমি দেখি না।

১৬| ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮

কিরকুট বলেছেন: বিজিপি আর জামাত হৃদয় মন বাক্যে এরা আপন জমজ ভাই । যাস্ট কোন এক পক্ষ কে ধরে ধর্ম পরিবর্তন করে দিন দেখবেন এদের নিতী টিতি সব এক ।

মরলে শহীদ বাচলে গাজী , সুজুগ পাইলে বিশ্ব পাজি ।

২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২২

শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, বিজেপি আর জামাতের মধ্যে বেশ মিল আছে। ভারতের বিজেপির উত্থান আমাদের দেশে জামাতিদের উৎসাহিত করে।

তবে আরও একটি দুর্ভাবনা আছে, যেটা এখানে লিখিনি। সেটা হলো, বাংলাদেশে মৌলবাদ এবং জামাতের স্বাভাবিকীকরণ ও উত্থান যেমন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিরাপত্তাহীন করে তোলে, তেমনি পার্শ্ববর্তী দেশে বিজেপি এবং আরএসএস শক্তিশালী ও আগ্রাসী হয়ে উঠলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যেও হিন্দুত্ববাদী চেতনা জেগে ওঠে। যেটার একটা প্রকাশ আমরা ইসকনের মিছিলে বিগত বছরে দেখেছি।

১৭| ৩০ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৫

গহীনে রক্তক্ষরণ বলেছেন: সম্মানিত লেখক তার জবাবের প্রেক্ষিতে প্রতি জবাবের অপশন রাখেননি । তাই ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩ সময়ের মন্তব্যের জবাব দিচ্ছি । যদিও রুচি ছিল না ।কিন্তু যেহেতু বুঝলাম, লেখক আমার দৃষ্টিভংগিকে শুধুমাত্র জামাত কেন্দ্রিক ভেবেছেন, তাই জবাব দিতে বাধ্য হলাম । অবাক হই । লেখা কি পুুরোটা পড়েন ? আপনার নিজের লেখা রিভিউ করুন । আপনার মূল থিম কি ? আপনা মূল থিম জামাতকে হিন্দুত্ববাদীদের চরিত্রের মিলিয়েছেন ( যা আদৌ সঠিক নয় ) । আর সেটা করতে গিয়ে আপনি গোটা ইসলাম সম্পর্কে ভুল মেসেজ দিয়েছেন । আপনার সেই ভুল মেসেজ যাতে অর্ধ শিক্ষিত, লেখা পড়া বিমুখ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে না পারে, তার জন্য ছিল আমার কমেন্ট । জামাত সম্পর্কে আমাদের ছাত্র জীবন থেকে গল্প খাওয়ানো হয়েছিল, তা আমরা পূর্ণ বয়সে এসে বুঝতে পেরেছি । আমি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের দেশের কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য নই । কিন্তু আমি একজন প্রাকটিচিং মুসলিম । আর এককজন মুসলিম হিসেবে আমার দায় রয়েছে । শুধু তাই নয়, আদমের সন্তান “মানুষ” হিসেবেও আমাকে সকল “মানুষ” সম্পর্কে আমার চিন্তা-ভাবনা কিরকম হওয়া উচিৎ আর সকল মানুষের জন্য আমার করনীয় কি, সে বিষয়েও আল্লাহ আমাকে দায়বদ্ধ করেছেন । এ জন্য “মানুষ” হিসেবে পৃথিবীর সকল জাতি, ধর্মের , বর্ণের মানুষদের আমাকে সম্মান করতে বলা হয়েছে একজন ভাই হিসেবে । আর মুসলিম হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন কুরআন -হাদীস মোতাবেক ব্যক্তি, পরিবারকে গড়তে, সমাজকে গড়তে এবং ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝতে এবং অন্য মানুষকে বোঝাতে । আমি আপনার লেখা মিথ্যা ন্যারেটিভ সম্পর্কে আমাকে সহ আমাদের সকল মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেছি । জামাতের লোক ভালো না কি মন্দ, সেটা আমার বিবেচ্য বিষয় নয় । তারা আর যাই করুক, হিন্দুত্ববাদীরা যা করে, তার সাথে তাদের কোন মিল নেই, যা আপনি তাদের বিরুদ্ধে লাগিয়েছেন । আমি এর তীব্র প্রতিবাদও জানিয়ে রাখলাম । সেই সাথে আপনি যেসব ভুয়া তথ্য দিয়েছেন, তার স্বপক্ষে আপনার কাছে দলিল প্রমাণ দিতে বলেছিলাম, তাতো দেনই নাই , উপরন্ত নিজের সাফাই গাইছেন ? আপনি যে তথ্য দিয়েছেন, তার পক্ষে প্রমাণ দিতে না পারলে আশা কর এর পর আপনার কোন কমেন্ট এর প্রেক্ষিতে কারোই কাম্য নয় । ব্লগের মলিককে অনুরোধ করব, একটা ধর্মের মানুষদের বিরুদ্ধে কোন রকম তথ্য প্রমাণ ছাড়া যারা ভূয়া ন্যারেটিভ ছড়াবেন, তাদের কোন পোষ্ট এখানে থাকা উচিৎ কি না, সেটা বিবেচনার দাবী রাখে ।

৩০ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৭

শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনি উপরের মন্তব্যটা মূলত অগ্নিবাবা কে উদ্দেশ্য করে করেছিলেন। লক্ষ্য করুন:

অগ্নিবাবা বলেছেন: " ...ইহুদি হওয়ার জন্যই ইসরাইলকে মুসলিমরা ঘৃণা করে, কারন
অনেক রিকোয়েস্ট, প্রলোভন, ভয় দেখানোর পরেও মহম্মদের কাছে ইহুদিরা ইসলাম কবুল করে নি, কোরান হাদিসের ছত্রে ছত্রে আছে ইহুদী বিদ্বেষ।"


গহীনে রক্তক্ষরণ বলেছেন: আপনি কোথায় পেয়েছেন, ইহুদীরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেনাই বলে তাদের প্রতি মুসলমানদের বিদ্বেষ ? ইহুদীদেরকে অভিশপ্ত বলেছেন স্বয়ং আল্লাহ । কারণ তারা সরাসরি আল্লাহর সাথে বিরোধিতা করেছে । সেটা তাদের সাথে তাদের শ্রষ্টার বিষয় । মুসলমান কোন মানুষের বিষয় নয় । তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতে কোন মুসলমানকে আল্লাহ বলেছেন নাকি ?

এখন আমাকে করা আপনার প্রশ্নটা ছিল, শুধু এটুকু: গহীনে রক্তক্ষরণ বলেছেন: বাংলাদেশের জামাত দলটা কি ওদের হিন্দুত্ববাদী দলের অনুরূপ ? কি বলতে চাইলেন ? আজ পর্যন্ত দেখাতে পারবেন, জামাত বিজেপির কট্রর নেতাদের মত কারো মন্দির ভেংছে ? কোন হিন্দুর জমি দখল করেছে ? কছিম খাওয়ার জন্য কোন হিন্দুকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে ?

জামাত হলো ইসলামপন্থী দল, আর হিন্দুত্ববাদীরা হিন্দুদের দল। এখন জামাতকে বিজেপির অনুরূপ হতে চাইলে কি ঠিক একই অপরাধ করতে হবে? যেমন, কাছিমের মাংস খাওয়ার অভিযোগে হিন্দুকে পিটিয়ে মেরে ফেলা, বা বিজেপির কট্টর নেতাদের মতো মসজিদ ভেঙে ফেলা?

জামাতের জঙ্গিবাদী অপকর্মের ফিরিস্তি খুবই লম্বা। তার ওপর তারা পাকিস্তান-এরদোয়ানের তুরস্ক-আমেরিকা-ইসরায়েলপন্থী। অর্থাৎ উগ্র ডানপন্থী ক্ষমতাকেন্দ্রিক একটা শক্তি। মুখোশটা ইসলামের এবং রাজনীতিটা ইসলামের নাম ভাঙিয়ে; কিন্তু ভিতরটা উগ্র ডানপন্থী ক্ষমতাবান ব্যবসায়ী ও ধনতান্ত্রিক গোষ্ঠীর। বিজেপির মুখোশটা হিন্দুর, রাজনীতিটা হিন্দুধর্মের অনুভূতি কাজে লাগিয়ে; কিন্তু ভিতরটা উগ্র ডানপন্থী আদানি বাহিনীর। সেই অর্থে তাদের মিল।

৩০ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮

শ্রাবণধারা বলেছেন: গহীনে রক্তক্ষরণ বলেছেন: ব্লগের মলিককে অনুরোধ করব, একটা ধর্মের মানুষদের বিরুদ্ধে কোন রকম তথ্য প্রমাণ ছাড়া যারা ভূয়া ন্যারেটিভ ছড়াবেন, তাদের কোন পোষ্ট এখানে থাকা উচিৎ কি না, সেটা বিবেচনার দাবী রাখে ।

আমার পোস্টের কোন লাইনটা একটা ধর্মের মানুষদের বিরুদ্ধে ভুয়া ন্যারেটিভ?

১৮| ৩১ শে মে, ২০২৬ ভোর ৬:১৯

গহীনে রক্তক্ষরণ বলেছেন: জামাতের জংগীবাদী ফিরিস্তির উপযুক্ত তথ্য, প্রমাণ (ক্যাংগারু কোর্টের ভুয়া তথ্য ব্যতিত) উপস্থাপন করতে না পারলে ওটাই আপনার লেখা ভুয়া ন্যারেটিভ বলে বিবেচ্য । তা ছাড়া আমার জানা মতে ধর্মীয় দল হিসেবে জামাত কোন মানুষকে ধর্মীয় সুড়সুড়ি লাগিয়ে রাজনীতি করে না, তাদেরকে রাজনীতি করতে বলেছেন স্বয়ং আল্লাহ এবং তাদের রাসুল(সঃ) । তারা কেবল সেই হুকুম পালন করেন, কাউকে জবরদস্তি করে তাদের রাজনীতিতে আনার কোন অধিকার নেই । সুতরাং এটাও একটা ভুয়া ন্যারেটিভ । ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সাথে জামাতের রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলাই ভুয়া ন্যারেটিভ । কেননা ইসলামের রাজনীতি আদমকে পৃথিবীতে পাঠানোর পর শুরু থেকেই ছিল, আছে , থাকবে । এটা ইসলাম যারা অনুসরণ করে তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব বটে । তবে অধিকাংশ মুসলিম তাদের নিজেদের ধর্ম বোঝেন না বলেই মানুষের কল্যাণে রাজনীতি কতটা যৌক্তিক, তা তারা বোাঝেন না, তাই তারা এই রাজনীতি করেন না ( ব্যতিক্রম ব্যতিত ) । তবে যারা বোঝেন, তারা প্রত্যেকেই তাদের পারিবারিক রাজনীতি করেন । যেমন আমিও আমার পারিবারিক রাজনীতি করি । নিজের পরিবারের নেতৃত্ব সঠিকভাবে দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি । পরিবারকে সঠিক পথে পরিচালিত করা, সত্য কথা বলার চর্চা, মানুষের কল্যাণ করা ( জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ), প্রতিটি মানুষের হক্ব আদায় ইত্যাদি সকল রাজনৈতিক, নৈতিক শিক্ষা দেবার চেষ্টা করে যাচ্ছি । এখনো পূর্ণ সফল হতে পারিনি । তাই পরিবারের বাইরে সামাজিক রাজনীতি করার যোগ্যতা অর্জন করিনি । আশা করি আমি ক্লিয়ার করতে পেরেছি । কি বলেন ?

৩১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৫

শ্রাবণধারা বলেছেন: গহীনে রক্তক্ষরণ বলেছেন: জামাত কোন মানুষকে ধর্মীয় সুড়সুড়ি লাগিয়ে রাজনীতি করে না, তাদেরকে রাজনীতি করতে বলেছেন স্বয়ং আল্লাহ এবং তাদের রাসুল(সঃ)।

হা হা !! :) :)

আমার পোস্ট থেকে দূরে থাকুন। রাজাকারের বাচ্চাদের পক্ষে আমার পোস্ট বোঝার কথা নয়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.