নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে কড়কড় মড়মড় শব্দ হয়। বাতাসে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো পাতা গুলো উড়ে যায়। কেউ কেউ এই সমস্ত শুকনো পাতা গুলো ঝুড়ি ভরে বাড়ি নিয়ে যায়। রান্নার কাজে লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করে। এদিকে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ার কারনে গাছ গুলো দরিদ্র বলে মনে হয়। কিন্তু গাছ গুলো বেশি দিন দরিদ্র থাকে না। সমস্ত পাতা ঝরে যাওয়ার পরই আবার নতুন করে নতুন পাতা গজায়। কচি সবুজ পাতা দেখতে কি যে সুন্দর লাগে। সবুজ রঙে চোখের আরাম হয়।

এই যে ১৪ ও ১৫ই আগস্ট পাকিস্তান ও ভারত রাষ্ট্রদ্বয়ের জন্ম হলো।
পাঞ্জাব বিভক্ত হল, বঙ্গদেশ বিভক্ত হইল, আসাম বিভক্ত হল। লক্ষ লোকের কাফেলা বাস্তভিটা ত্যাগ করে ভিনদেশ পানে যাত্রা করলো। যাত্রাপথে কেউ প্রাণ হারাল, কেউ স্বদেশেই পলকের মধ্যে বিদেশী হল ও অনেকে রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যায় ভূষিত হলো, কেউ মুহূর্তের মধ্যে কাঙ্গাল ভিক্ষুকেও পরিণত হলো, কেউ গৃহহারা ও বাস্তহারা হলো। মুসলিম আধিক্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সীমানা চিহ্নিত করা হয়। যার ফলে পাকিস্তানের মানচিত্রে দুটি পৃথক অঞ্চল অনিবার্য হয়ে ওঠে যার একটি পূর্ব পাকিস্তান এবং অপরটি পশ্চিম পাকিস্তান।

২৪ এপ্রিল হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন-
"বাংলা ভাগ হবেনা। বাংলা পাকিস্তানের সাথেও যাবেনা, ইন্ডিয়ার সাথেও যাবেনা। পূর্ব বাংলা, পশ্চিম বাংলা ও আসাম মিলে একটি পুর্নাঙ্গ স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।" হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উপলব্ধি করেন যে, যদি বাংলাকে পুনরায় ভাগ করা হয়, অধিকাংশ শিল্প কারখানা, শিল্প নগরী কলকাতা চলে যাবে পশ্চিম বাংলা তথা ভারতের দখলে। ফলশ্রুতিতে, পুর্ব বাংলা অর্থনীতিতে চরম ভাবে পিছিয়ে পরবে। বেঙ্গল মুসলিম লীগের সভাপতি, মৌলানা আকরাম খাঁ, জনসম্মুখে ঘোষণা দিয়েছিলেন, বাংলার মুসলমানদের লাশের ওপর দিয়েই কেবল বাংলা বিভাগ করা সম্ভব।

সারা পৃথিবীতে অশান্তির মূল কারন হলো ধর্ম।
ধর্ম না থাকলে পৃথিবীতে এত মারামারি কাটাকাটি হতো না। জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত, এ দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। কোনো ধর্ম সত্য না মিথ্যা তা প্রমান করার জন্য আমাদেরকে সেই ধর্মের গ্রন্থগুলোর দিকে ফিরে যেতে হবে। যেহেতু সব ধর্মের মানুষই দাবী করে তাদের ধর্মগ্রন্থ তাদের ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে, কাজেই সেই ধর্মের গ্রন্থে সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই এমন কিছু দিয়ে দেবেন যার দ্বারা মানুষ বুঝতে পারবে যে ঐ ধর্মটা সন্দেহাতীতভাবে সত্য। ধর্মীয় কিচ্ছা কাহিনীতে বহু গোজামিল বা উদ্ভটত্ব থাকলেও মানুষ সেটা থেকেই জীবনের মূল্য খুজতে চেষ্টা করে।

নাস্তিকতা শুধু যে একটি অযৌক্তিক ও অন্ধ-বিশ্বাস তা-ই নয়-
সেই সাথে সবচেয়ে অমানবিক ও বিপদজনক বিশ্বাস। কারণ নাস্তিকরা হিটলার ও স্ট্যালিনের মতো গণহত্যাকারি ও তাদের ভিকটিমদের ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করে না। বিজ্ঞানের প্রধান রহস্যগুলোর সমাধান হয়ে যাওয়ার পরেও মানবজীবনের কিছু প্রশ্ন অজানাই থেকে যাবে। ধর্ম যদি মানব প্রগতির বাধা হতো, তাহলে আজ বিজ্ঞানের এই অগ্রগতি হতো না। ধর্মীয় সংকীর্ণতা মানুষকে ছোট করে। ধর্মীয় রাজনীতি মানুষকে অসহিষ্ণু ও হিংস্র করে তোলে।

ধর্ম মানুষকে পুণ্যবান ও ধার্মিক করে।
উদার ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয় ধর্ম। ধর্ম পালন মানুষকে সত্যিকার মানুষে পরিণত করে। মানুষ ও মানবতার প্রকৃত শান্তি ও সার্বিক মুক্তি ধর্ম পালনের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। বিদায় হজ্বের ভাষণে হযরত মোহাম্মদ (সা.) বলে গেছেন 'হে মানবমন্ডলী! সাবধান, তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না। কেননা তোমাদের পূর্বের জাতিগুলো ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করার কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে।' ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, সমুদ্র হোক বা সংসার, যে ধর্মের নৌকা প্রস্তুত করে সে ঠিকই পার হয়ে যায়।

আমি কে, জীবনের উদ্দেশ্য কি এই প্রশ্নগুলি সবার মনেই থাকবে।
ঐতিহাসিক ভাবেই এই প্রশ্নের সন্ধানে লোকে গীতা, কোরান বা আধুনিক বিজ্ঞান ভিত্তিক দর্শনের মধ্যে এসবের উত্তর সন্ধান করবে। ধর্ম মানুষের তৈরী সামাজিক ব্যবস্থা। আস্তিকতা হচ্ছে মনের বিকৃত অবস্থা। পৃথিবীতে প্রচলিত ধর্মগুলোতে মানুষের যুক্তিবোধ ও বিবেকবোধ ছোটবেলা থেকেই নষ্ট করে দেয়া হয়। নাস্তিকতা মানুষের মনের স্বাভাবিক অবস্থা। আস্তিকতা হচ্ছে মনের বিকৃত অবস্থা। মানুষের অসহায়্ত্ব থেকেই ঈশ্বর ধারণার উৎপত্তি। আদি কালে আগুনকে মানুষ ভয় পেত কারণ তা নিয়ণ্ত্রণ করার সাধ্য মানুষের ছিল না। সে কারণে তখন আগুনকে পূজা করতো।

মানুষ যখনই জীবনের অর্থ খুজতে গীতা, বাইবেল অথবা
কোরানের মধ্যে ঢুকবে তখনই সে দিক ভ্রান্ত হয়ে পড়বে, পড়তে বাধ্য আর তখনই তার ধর্ম পরিচয় আবার চাগাল দিয়ে উঠবে। মুক্তির জন্য মানুষকে নিজেরই চেষ্টা করতে হবে। কোনো দৈব সাহায্য সে পাবে না। প্রার্থনা একটা অন্তঃসার শূন্য ব্যাপার। উপাসনা নিরর্থক। ঈশ্বর মানুষ সৃষ্টি করেছেন’ এই তত্ত্বটির মধ্যে রয়েছে ধর্মের সবচেয়ে বড় ফাঁকি। নাস্তিক-আস্তিক সবাই রক্তে মাংসে গড়া মানুষ। আসলে, সব ধর্মই কি মূলত এক নয়? যারা ধর্ম নিয়ে ঝগড়া ফ্যাসাদ করেন তারা কেন শুধু মানব ধর্ম পালন করেন না? ধর্ম এমনেই এক অদ্ভুদ জিনিস, যে হাজার মাইল দুরের ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতির মানুষ একীভূত করলেও পাশের বাসার একই ভাষাভাষি, সংস্কৃতির মানুষকে এক করতে পারে না। সেই ধর্মই যখন মানবতার বানী শোনায়, তখন অবাকই হতে হয়। পৃথিবীতে প্রবর্তিত সব ধর্মের একটি অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মানবকল্যাণ।

মূলত পৃথিবীতে বুদ্ধ ধর্ম হচ্ছে প্রকৃত পক্ষে জ্ঞানীদের জন্য।
যাদের পূর্ণ জ্ঞান আছে তারাই বুঝতে পারবে বুদ্ধের অমৃত বাণী। পৃথিবী কিংবা পৃথিবীর বাইরে এমন কোন ব্যক্তি কিংবা মহাপুরুষ নাই যে বুদ্ধের বাণী গুলাকে মিথ্যা প্রমাণ করবে। সকল ধর্মেই কিন্তু মানবতার কথা বলে। যদি সব ধর্ম একসাথে বিবেচনা করেন তাহলে একটি মাত্র ধর্মের উদয় হবে এবং সেটিই হল মানব ধর্ম। এই পৃথিবীতে একমাত্র বুদ্ধ ধর্মেই বুদ্ধ তাঁর মৈত্রী প্রেমে সবাইকে আবদ্ধ করে জয় করেছিলেন রাজ সিংহাসন ত্যাগ করে তাও আবার বিনা যুদ্ধে।

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:


আমি ধর্মবিহীন বিশ্ব দেখতে চাই।

২| ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:

প্রশ্ন করতে শিখতে হবে। এটা সবার জন্যই জরুরী। যে ছেলেটি ক্লাসে শিক্ষককে ঘনঘন প্রশ্ন করে সে অবশ্যই একজন যুক্তিবাদী ও উদার মানুষ হবে। কারণ, তার জানার আগ্রহ আছে। তার সাহস আছে। আসুন, আমরা প্রশ্ন করতে শিখি। গণতন্ত্রের একটি অন্যতম দিক এই প্রশ্ন করা। প্রশ্নন করতে জানলে স্বচ্ছতা আসবে। জবাব আসবে। জবাবদিহিতা আসবে। সমাধান আসবে। চুপচাপ সব কিছু মেনে নেয়া কোন ভালো মানুষের লক্ষণ নয়।
যে ছেলেটি আর যে মেয়েটিকে সৌদি আরবের মুর্খ মানুষগুলো গলা কেটে মেরে ফেলেছে তাদের পিতা-মাতা বিষয়টি জানতে পেরেছিল। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়- ছেলেটি তার পরিবারের সাথে মাঝে কথা বলতো।
অথচ তার পরিবার রহস্যজনকভাবে চুপ ছিল। কাউকে জানায়নি। কাউকে প্রশ্ন করেনি।
পরিবারের উচিত ছিল ব্যাপক চেষ্টা করা যাতে মানুষ জানতে পারে। তারা যেটা করতে পারতো-
১। এলাকার মেম্বার সাহেবকে জানিয়ে সাহায্য চাইতে পারতো।
২। এলাকার চেয়ারম্যান সাহেবকে জানাতে পারতো।
৩। এলাকার হাইস্কুলের কোন শিক্ষককে জানাতে পারতো।
৪। এলাকার এমপি সাহেবকে জানাতে পারতো।
৫। এলাকার কোন সাংবাদিককে জানাতে পারতো।
৬। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের ব্যবস্থা করা।
৭। টিভি চ্যানেলে খবর প্রচার করা
৮। টক শোতে আলোচনার ব্যবস্থা করা
৯। অন্ততঃ ফেসবুকে পোস্ট করে মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে পারতো।
তারা প্রশ্ন করেনি। তারা জনমত তৈরি করতে চায়নি। তারা এগুলোর কোন কিছুই করেনি। তারা নীরব ছিল। ছেলেটির
পরিবার তার জীবন বাঁচাতে কিছু্ই করেনি।

৩| ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: গোজামিল লেখা ।

৪| ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:০৪

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




আপনার লেখার অর্থ আমি বুঝি নাই।

৫| ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:২৪

নাহল তরকারি বলেছেন: ভদ্রলোক রিপ্লাই দেয় না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.