| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
"ভাই, এইখানেই নামবেন?"
হেল্পার ছেলেটা দরজার হাতল ধরে আমার দিকে ঠিক এমনভাবে তাকালো, যেন আমি জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করতে যাচ্ছি। বাসের ভেতরের হলদে আলোয় ওর মুখটা কেমন বিবর্ণ দেখাচ্ছিল। চোখের নিচে কালি, ঠোঁট শুকনো।
আমি মাথা নাড়লাম। "হ্যাঁ, এখানেই।"
ছেলেটা কিছু বলতে গিয়েও বলল না। শুধু একবার বাইরের গাঢ় অন্ধকারের দিকে তাকালো, সেই অন্ধকার যেখানে রাস্তার আলো থেমে যাওয়ার পরে শুরু হয় আর কিছু দেখা যায় না। তারপর আমার দিকে তাকালো। ঠোঁট নাড়লো, কিন্তু কিছুই বললো না।
বাস ছেড়ে দিলো। বাসের লাল ব্যাকলাইটটা ধীরে ধীরে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল প্রথমে ঝাপসা, তারপর ছোট হতে হতে লাল বিন্দু, তারপর অন্ধকার। আমি কিছুক্ষণ একা দাঁড়িয়ে রইলাম। ঘড়ির দিকে তাকালাম রাত বাজে দুইটা পনেরো। চারদিকের নিস্তব্ধতা এতটাই গাঢ় যে অনুভব করা যায় আমি অন্ধকারে হারিয়ে যেতে বসেছি। আর সেই হেল্পারের শেষ চাহনিটার কোনো কারণ ছিল কি না জানি না, কিন্তু মাথা থেকে কোনোভাবেই যাচ্ছে না।
---
ঢাকায় গিয়েছিলাম অফিসের কাজে। ভেবেছিলাম কাজ শেষ করতে সময় লাগবে, কিন্তু বিকেলের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল। তাই সায়েদাবাদ থেকে রানিং বাসে উঠে পড়লাম, এমনিতে সব সময় লাস্ট বাস ধরার ট্রাই করি। লাস্ট বাস ধরলে সকালে নামিয়ে দেয় কিন্তু আজকে বিকেলেই উঠে গেলাম বাসে আর সেই বাসটাই আমাকে নামিয়ে দিলো এমন এক জায়গায়, যেখান থেকে রাতে রিকশা বা সিএনজি পাওয়া যায় না। তবে এখান থেকে একটা শর্টকাট রাস্তা আছে। দশ-পনেরো মিনিটের পথ, সোজা বাড়ির পেছনের দিয়ে ঢোকা যায়। সমস্যা একটাই রাস্তাটা খুব নির্জন, আর রাস্তার মাঝামাঝি জায়গায় একটা পুরোনো বটগাছ আছে, যেটাকে এই তল্লাটের মানুষ "শহীদ বট" বলে ডাকে।
এই নামের পেছনে একটা ঘটনা আছে। আজ থেকে প্রায় তিরিশ বছর আগে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক লাইনম্যান রাতের ডিউটিতে বের হয়েছিলেন লোকাল ফল্ট সারাতে। ঝড়ের রাত ছিল। তিনি ওই গাছের পাশের খুঁটিতে উঠেছিলেন, আর তারপর আর নামেননি। গ্রামের মানুষ পরের দিন সকালে দেখে তার শরীর তারে জড়িয়ে বটগাছের একটা শাখায় ঝুলছে। সেই থেকে গাছটার নাম "শহীদ বট"। এই গাছের আরো পুরোনো কিছু ঘটনা আছে। গাছটার পাশে একটা বাড়ি ছিল। ঐ বাড়িতে একটা পরিবার থাকতো। গ্রামের কারো সাথে মিশতো না কথা বলতো না যেন তারা অন্য জগতের মানুষ। একদিন তারা স্বপরিবারে গায়েব হয়ে গেল৷ কিছুদিন পর তাদের লাশ পাওয়া যায় সেই বট গাছের উপরে। এই গল্প সত্য কি না জানি না শুনেছি এটা বিদ্যুৎ কর্মী মারা যাওয়ার আরো অনেক আগের ঘটনা। ছোট ছোট আরো কিছু গুজব আছে এই গাছ গিরে যেমন পুজা করা, কালোজাদু করে বিভিন্ন কিছু বলি দেওয়া কেউ কেউ বলে এখানে নাকি বাচ্চাও বলি দেওয়া হতো। মানুষ কি যে বলে। যা ঘটে তার চেয়ে বেশি রটে। কিন্তু একটু হলেও ঘটে তো।আমি অবশ্য এসব বিশ্বাস করি না। জন্ম থেকে এই গ্রামেই আছি, এই রাস্তায় কতবার সিগারেট টেনেছি বন্ধুদের সাথে। কখনও কিছুই দেখি নি। মাঝে মাঝে বিরি-সিগারেট টানার জন্য রাতে চলে আসতাম এখানে। কখনও অদ্ভুত কিছু দেখি নি। পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে একটা সিগারেট ধরিয়ে, মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে হাঁটা শুরু করলাম।
পা টিপে টিপে এগোচ্ছি। শরির'টা কেন জানি ভারি হয়ে আছে হাত-পা ঝিমঝিম করছে টানা এতক্ষণের জার্নির পর আবার হাঁটাহাঁটি করছি তাই ক্লান্তিতে পুরো শরির জমে গেছে মনে হচ্ছে। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, দূরে কুকুরের ঘেউ ঘেউ, তারও দূরে শেয়ালের ডাক একটু থামে আবার ডাকে। কাঁচা রাস্তা, দু'পাশে গাছের শিকড় বেরিয়ে আছে এই রাস্তার দুই পাশে গাছ লাগানো আছে আর তেমন পরিচর্যা হয়নি এগুলোর সেজন্য যে যেভাবে পেরেছে বেড়ে উঠেছে। সম্ভাবত ওদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল কে আগে বড় হবে তাই রাস্তার এই অবস্থা। ফ্ল্যাশলাইটের বৃত্তের বাইরে সবকিছু একদম কালো অন্ধকার। সিগারেট টানতে টানতে এগিয়ে যাচ্ছি আর ধোয়া ছাড়ছি, ধোয়া দেখতে কুয়াশার মত লাগে।
পেছন থেকে একটা আলো এগিয়ে আসছিল। আমার ছায়াটা সামনে দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আর দৈত্যের মতো বড় হয়ে যাচ্ছিল। পেছন ফিরে দেখি, একটা সাইকেল। সামনে ছোট টর্চ লাগানো ঐ আলো যতই কাছে আসছে ছায়া পেছনে যাচ্ছে ট্রাই করবেন আপনারও হবে এমন দূরের আলো কাছে এলে ছায়া বড় হয়ে যায়। সাইকেলটা কাছে এসে থামলো।
"কিরে! এতো রাইতে তুই কই থেইক্যা আইলি?"
"আরেহ শরিফুল! শালা তুই? আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম।"
ও আমার ছোটবেলার বন্ধু। স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি সবই একসাথে। গত বছর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি পেয়েছে, পোস্টিং সিলেটে। খুবই ভাল ছেলে। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড বলতে পারেন।
"এইদিক দিয়া যাইতাছোস ক্যান? শর্টকাট মারোস? শহীদ বটের নিচ দিয়া রাইতে কেউ যায় না জানোস না?"
"আরেহ ঐসব হুদাই কিন্তু তুই এই সময়ে এইখানে? তোর না সিলেট থাকার কথা?"
"আইলাম গতকাল রাইতে। ছোট খালার মাইয়ার বিয়া।"
"তসলিমার"
"হ"
"বিয়া তো আগামী সপ্তাহে। তুই আসবি, আমারে কল দিবি না?"
"শালা, মোবাইল চেক কর।"
ফোন বের করলাম। দেখি সাতটা মিসড কল শরিফুলের নম্বর থেকে। "ওহ সরি দোস্ত দিছিলি তো, মিটিং-এ ছিলাম তাই খেয়াল নাই।"
কথা বলতে বলতে দু'জন এগোতে লাগলাম। মনটা হালকা লাগছিল। একা হাঁটার অস্বস্তিটা কমে গেল।
"চাকরি কেমন চলতেছে?"
"চলে। বদলির চেষ্টায় আছি। লাইন মেরামতের ডিউটি বেশি পড়ে আমার ভাগে। রাইত-বিরাইতে কল আসে।"
বাতাসে ভেজা মাটির গন্ধ, পুরোনো পাতার গন্ধ আর আরেকটা গন্ধ, কড়া, পোড়া পোড়া, যেন তারে আগুন ধরে গেলে যেমন গন্ধ হয় কিছুটা পুরোনো। ঐ দিকে নজর দিলাম না।
"তুই সাইকেল পাইলি কই?"
"খালার বাড়ির। মামাতো ভাইয়ের।"
"এত রাইতে কই থেইকা আসতেছোস?"
"একটু কাম ছিল।"
"কি কাজ"
সে হাসলো, একটু অদ্ভুতভাবে। তারপর উত্তর না দিয়ে প্রশ্ন করলো "আনিকার খবর কি? বিয়ে শাদি কি করবি না? তারেই তো করবি নাকি? আন্টিরে কমু তোর জন্য আনিকারে ঘরে নিয়ে আসতে?"
''আরেহ বেডা, আগে আরেকটু গুছিয়ে নেই। আরেকটু শক্ত হয়ে দাঁড়াই''
''ক্যান এখন দাঁড়ায় নাই?ডাক্তার দেখা, কোলকাতা হারবাল''
"দূর শালা" আজাইরা আলাপ, আচ্ছা তোর মনে আছে, স্কুল থেকে একবার বাজি ধরে এই বটতলে আসছিলাম আর শহীদ বটে ঢিল মারতে গিয়া কি হইছিল?"
সে চুপ করে গেল কিছুক্ষণ। তারপর বললো, "মনে আছে। আমরা কোনোদিন ঐদিনের ঘটনা নিয়ে কোন কথা বলি নাই, খেয়াল করছোস?"
আমি কিছু বললাম না। হাঁটছি।
"তুই জানোস," শরিফুল আবার বললো, "ঐ লাইনম্যান লোকটা মরার আগে নাকি কন্ট্রোল রুমে রিপোর্ট দিতে চাইছিল। রেডিওটা হাতে ধরাই ছিল। আমার ডিউটিতে মাঝে মাঝে ভাবি যদি আমিও কোনোদিন...।"
কি কস আবুল-তাবুল। তোর কিছু হবে না প্যারা নিস না। সাবধানে কাজ করবি আর একা যাইস না কোথাও।
আমি ওর দিকে তাকালাম। ফ্ল্যাশলাইটের আলো ওর মুখে পড়লো। ওর চোখের দুইটা মণিটা নরমালের চেয়ে একটু বেশি বড়, রঙটা একটু বেশি কালচে-সাদাটে লাগলো। ঘুমের ঘোরে এমন লাগছে হয়তো।
"তোর চোখে কি হইছে?"
"কই"
"বড় হয়ে গেছে মনে হয়"
"ঐ ঘুম হয় ঠিক মত তাই হয়তো"
আমরা বটগাছের কাছাকাছি এসে গেছি। গাছটা এই গ্রামের সবচেয়ে পুরোনো, পাঁচ-সাতজন মানুষ জড়িয়ে ধরলেও পুরোটা ধরা যাবে না। আমি থামলাম।
"কী হইলো?"
"কিছু না। চল।"
পা এগোচ্ছে না। কোনো যুক্তি নেই, শুধু মনে হচ্ছে ওই গাছের নিচে যাওয়া ঠিক হবে না।
"ভয় পাইতেছোস?"
"না।" হেসে ফেললাম। "চল।"
গাছের ছায়ায় ঢুকতেই ঝিঁঝিঁর ডাক বন্ধ হয়ে গেল। একসাথে কুকুর/শেয়ালের ডাক বন্ধ, বাতাসও বন্ধ। এমন নিস্তব্ধতা নামলো যে নিজের হার্টবিট শুনতে পাচ্ছিলাম। আর তখনই খেয়াল করলাম শরিফুলের পায়ের নিচে শুকনো পাতাগুলো মচমচ করছে না। কোনো শব্দই হচ্ছে না।
আমি ওর দিকে তাকালাম না। মাথা তুললাম।
গাছের একটা মোটা শাখায়, মাটি থেকে বারো-পনেরো ফুট ওপরে, একটা মানুষের মতো কিছু একটা ঝুলছিল। ভাল করে খেয়াল করে দেখার চেষ্টা করলাম উল্টো করে পা দুটো শাখার সাথে জড়ানো তার দিয়ে, কোমরে একটা পুরোনো ছেঁড়া বেল্ট তাতে ঝুলছে মরচে ধরা টুলবক্স, একটা ক্লিপ। মুখটা নিচু ছিল দেখা যাচ্ছিলো না। তারপর মুখটা ধীরে ধীরে উপরে উঠলো। নিজে নিজে। মাধ্যাকর্ষণের বিরুদ্ধে।
মুখটা আমার দিকে ঘুরলো। চোখের জায়গায় দুটো গর্ত। ঠোঁটের জায়গাটা ফাঁক হলো। কোনো শব্দ এলো না কিন্তু ভেতরে অনুভব করলাম যেন সে বলছে- "আসো উপরে আসো"
"শ-শরিফুল—"বলে ডাক দিলাম, আমার আওয়াজ বের হচ্ছে না।
শরিফুল উত্তর দিলো না। তার চোখ আমার পেছনে কিছু একটা দেখছিল। পেছনে ঘুরতে ইচ্ছে করছিল না তবুও ঘুরলাম। কেউ নেই। শুধু একটা গরম শ্বাস ঘাড়ে পড়ছে এমন অনুভব হলো কিন্তু আশে-পাশে কেউ নেই।
"শরিফুল। কিছু কি দেখা যাচ্ছে?"
"ত-তোর পিছনে... কিছু একটা ছিল..."
"বন্ধু কিছু নাই, পেনিক হইস না।" আমি কিছু দেখেছি সেটা তাকে বুঝতে দিলাম না।
মাটিতে একটা ছায়া দেখা যাচ্ছে, ওপরে-নিচে বা আশেপাশে কেউ নেই, তবু ছায়াটা নড়ছে, ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। আমি শরিফুলের হাত ধরলাম। ওর হাত বরফের মতো ঠান্ডা। ওকে বললাম-
"চল!"
"কই চল?"
"আরেহ শালা দৌড়া"
"চল,চল,চল"
আমরা দৌড়াতে শুরু করলাম। মাথার ওপর গাছের শাখা নামছিল, যেন গাছটা ঝুঁকছে। কিছু একটা আমার মাথায় ছুঁলো ঠান্ডা, শক্ত, তারের মতো। তারপর একটা শব্দ এলো। প্রথমে মনে হলো রেডিও স্ট্যাটিকের মতো খসখসে, ভাঙাচোরা তারপর-
"কন্ট্রোল রুম... কন্ট্রোল রুম... লাইন ফল্ট, লাইন অফ করেন..."
তারপর শব্দটা বদলে গেল। আমার নাম শুনতে পাচ্ছি। তাও একজন বলছে না অনেকগুলো মানুষ একসাথে ডাকছে আমার নাম ধরে।
পেছন ফিরে দেখলাম বটগাছের গোড়া থেকে মুখের মতো কিছু একটা বেরিয়ে আসছিল, আর সেই মুখ থেকে আওয়াজ বের হচ্ছে বার-বার আমার নাম।
বটগাছের শেষ শাখা পেরিয়ে গেলাম। সব শব্দ আবারও ফিরে এলো ঝিঁঝিঁ, কুকুর, বাতাস। আমরা দাঁড়ালাম, হাঁপাচ্ছি দু'জনই। আবার পেছনে তাকালাম। গাছটা স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে, কিছু নাই সব শান্ত, যেন কিছুই হয় নি, সব স্বাভাবিক। দু'জনই চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম কিছুক্ষন।
বাড়ির কাছে এসে গেছি। উঠোনের আলো দেখা যাচ্ছে।
"আজকে থেকে যা আমাদের বাসায়।"
"না রে। আমার যাওয়া লাগবো।"
"কোথায়?"
"আছে এক জায়গায়।"
''কোথায়?''
"আর কই বাড়িত যামু"
"শোন, ঐ গাছের দিকে একলা যাইস না কোনোদিন।"
সে এক মুহূর্ত তাকালো। "তুইও যাইস না।"
প্যাডেল মারলো। সাইকেলের পেছনের লাল রিফ্লেক্টরটা ছোট হতে হতে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। ঠিক বাসের লাল ব্যাকলাইটের মতো।
দরজায় টোকা দিতেই মা দরজা খুলে দিলো।
"এত দেরি করলি ক্যান? বাস থেকে নামছোস তো ২টা বাজে আসছোস ফজরের সময়"
"শরিফুলের সাথে দেখা হইছে রাস্তায়, কথা বলতে বলগে দেরি হয়ে গেল।"
মায়ের মুখটা সূক্ষ্মভাবে বদলে গেল। "শরিফুল?"
"হ্যাঁ। তাসলিমার বিয়াতে আসছে।"
মা চুপ করে রইলো অনেকক্ষণ। তারপর বললো, "শরিফুল তো সিলেট থেকে আসে নাই। আমি সন্ধ্যায়ই শরিফুলের বাসা থেকে আসলাম"
"মা, ভুল কইতেছ। আমি এইমাত্র ওর সাথে কথা কইতে কইতে আসলাম। বাসায় দিয়ে সে গেলো, সকালে আসবে বলছে এক সাথে নাস্তা করবে"
মা কিছু বললো না। দোয়া পড়ে ফুঁ দিলো আমার মাথায়। মা-কে কিছুটা চিন্তিত মনে হচ্ছিল।
পকেট থেকে ফোন বের করলাম শরিফুলকে কল দেওয়ার জন্য বাড়ি পৌছেছে কি না জানা দরকার। কল লগে চোখ পড়তেই থমকে গেলাম। শফিকুলের নামটা সেখানে নেই। শুধু একটা পাঁচ অঙ্কের সংখ্যা- 72014, সাতবার রিপিট হওয়া।
কাঁপা হাতে শরিফুলের আসল নম্বর বের করে কল দিলাম। তিনবার রিং হওয়ার পর ধরলো।
"হ্যালো?"
"দোস্ত কই তুই? বাড়ি পৌছাইছিস?"
ঘুম জড়ানো গলায় সে অবাক হলো।
"কী বলতেছোস তুই? কই পৌছামু?"
"কি রে বাড়ি গিয়েই ঘুম?"
"আরেহ বেডা এতো রাইতে মজা লস?"
"তুই কই?"
"রুমে"
"রুমে মানে কোন রুমে"
"আমার রুমে"
"বাড়িতে?"
"শালা বাড়িতে কি করমু আমি? আমি সিলেটে"
"সিলেট মানে? তাসলিমার বিয়েতে আসোস নাই?"
"না কালকে রওনা দিবো"
"দুপুরে কল দিছিলি আমাকে?
"আমি কল দেই নাজ, তুই না দিছিলি, আমি কাজে ছিলাম দেখি নাই পরে দেখলাম ৭টা মিসকল, কল ব্যাক দিছিকাম তোর নাম্বার বন্ধ ছিল। কী হইছে?"
"তুই আজ রাইতে আসোসই নাই?"
"না তো ভাই। কালকে আসমু।"
আমি ফোনটা কেটে দিয়ে হাত থেকে বিছানার উপর ফেলে দিলাম। বাইরে বাঁশঝাড়ে বাতাস লাগছিল। সেই শব্দের মধ্যে, খুব আস্তে, যেন কেউ একটা ফল্ট রিপোর্ট দিতে চাইছে এখনো।
কন্ট্রোল রুম... কন্ট্রোল রুম... লাইন ফল্ট, লাইন অফ করেন...
৩০ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:২১
ডি এইচ তুহিন বলেছেন: আমি ভাবতাম আমিই ভয় পাই। এখন দেখছি আমার কাতারে আরো অনেকে আছে। পড়ার জন্য ধন্যবাদ ❤️
২|
৩০ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৬
হুমায়রা হারুন বলেছেন: অপ্সরা আপুর সাথে একমত।
৩০ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৩
ডি এইচ তুহিন বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য ❤️
৩|
৩০ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:২১
মিরোরডডল বলেছেন:
তুহিনের কিছু লেখা আগেও পড়েছি, ভালো লেখে।
আজকের লেখাটা অনেক বেশি এঞ্জয় করেছি।
মনে হয় অনেকদিন পর সামুতে এতো চমৎকার একটা গল্প পড়লাম।
খুব একটা টুইস্ট ছিলো না, অনুমান করা যাচ্ছিলো।
তারপরও বলবো লেখাটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পেড়েছে।
থ্যাংকস তুহিন।
৩০ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬
ডি এইচ তুহিন বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপনার এমন সুন্দর মন্তব্য সত্যিই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমার লেখা পড়ে সময় দিয়েছেন, এত সুন্দর করে অনুভূতি শেয়ার করেছেন, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। সামনে আরও লেখার চেষ্টা করবো। আশা করি পাশে থাকবেন। ❤️
৪|
০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:১৩
রাজীব নুর বলেছেন: পড়লাম।
০১ লা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫২
ডি এইচ তুহিন বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই ❤️
৫|
০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৫
হুমায়রা হারুন বলেছেন: শরিফুল বেঁচে থাকাতে শান্তি পেলাম।
বাস্তবে কারো dopple gang (a non-biologically related lookalike of a living person)দেখতে পাওয়ার অর্থ হলো মূল ব্যক্তিটি আর বেঁচে নেই। অবশ্য সেটা বাস্তবে হয়ে থাকে। সেভাবে গল্পটা শেষ হলে মনটা খারাপ লাগতো।
সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৩
ডি এইচ তুহিন বলেছেন: ধন্যবাদ আপু।
©somewhere in net ltd.
১|
৩০ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:২২
অপ্সরা বলেছেন: আমার সাথে এমন হলে বাড়ি ফেরার পর হাত থেকে ফোনটা বিছানায় পড়তো না... আমি নিজেই পড়তাম.......চিরতরে।