| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শ্রাবণধারা
" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."
গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি অনুসারীর জন্য সিনেমাটি সম্পূর্ণ সম্প্রচার করেন, তখন এটি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
গল্পটি একটি ইউরোপীয় শহরকে ঘিরে। সেখানে দেখানো হয় মুসলিম অভিবাসীরা হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ করেও উদারপন্থী শাসনব্যবস্থা ও আইনের ফাঁকফোকরে শাস্তি না পেয়ে পার পেয়ে যায়। কাহিনীটি এরকম: একজন নারী তাঁর সন্তানের সামনে অভিবাসীদের হাতে ধর্ষণ-হত্যার শিকার হন। এরপর শহরজুড়ে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তখন মারদাঙ্গা থ্রিলার গল্পে যেমনটা প্রায়ই দেখা যায়, একজন উদ্ধারকর্তা নায়ক সেই শহরে আসে। তার নাম মাইকেল স্যান্ডার্স, আমেরিকান সাবেক সেনা অফিসার। তিনি বাবার ব্যবসার দায়িত্ব নিতে ইউরোপের সেই শহরে আসেন। শহরটিতে অভিবাসীদের হাতে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তিনি ক্ষুব্ধ। তাঁর ধারণা হয় দেশটির বিচারব্যবস্থা ও সরকার স্থানীয়দের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই তিনি নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে অপরাধীদের ধরে ধরে হত্যা করতে বেরিয়ে পড়েন। শুধু অপরাধী নয়, পুলিশ এবং বিচারকদেরও তিনি হত্যা করেন। কারণ, এসব ব্যক্তি অপরাধীদের শাস্তি না দিয়ে প্রকারান্তরে তাদের সহায়তা করেছে, অতএব তারাও অপরাধী।
স্যান্ডার্সের সাথে এক কিশোরীর দেখা হয়, যে ছয়জন অভিবাসীর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছিল; কিন্তু মামলার বিচারক অভিযুক্তদের শাস্তি না দিয়ে মুক্তি দেন। বিচারকের যুক্তি ছিল, অভিযুক্তরা ইউরোপীয় সমাজে একীভূত হতে গিয়ে নানা ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাধার সম্মুখীন হয়েছে, তাই তাদের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। কিশোরী স্যান্ডার্সকে জানায় সে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এরপর স্যান্ডার্স বিচারককে হত্যা করে এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে সাজায়।
সিনেমার শেষদিকের একটি অংশ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে। সেই অংশে দেখা যায়, স্যান্ডার্স সন্তানের সামনে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেন। ধর্ষক ও হত্যাকারী একজন সিরীয় শরণার্থী, নাম ইউসুফ। স্যান্ডার্স ইউসুফের বাড়িতে যায় এবং তার পরিবারের সবাইকে আটক করে। এরপর ইউসুফের বাবার সঙ্গে তার নিম্নোক্ত কথোপকথন হয়:
স্যান্ডার্স: তুমি কি এই ধরনের শিক্ষা তোমার ছেলেকে দিয়েছ?
ইউসুফের বাবা: আমি তাকে কোরআনের শিক্ষা দিয়েছি এবং পরিবারিক মূল্যবোধ শিখিয়েছি।
স্যান্ডার্স: বেশ, এটাই যদি তোমার মূল্যবোধ হয় যে নারীর পোশাকের কারণে আমেরিকা ও ইউরোপের নারীরা ধর্ষিত হওয়ার যোগ্য, তাহলে তুমি কেন এদেশে এসেছো?
ইউসুফের বাবা: আমার মনে হয়, সেটা (ধর্ষন ও হত্যা) খুবই খারাপ ছিল।
স্যান্ডার্স: আর আমার মনে হয়, তোমরা প্রাচীন ধ্যানধারণা এদেশে সাথে করে নিয়ে এসেছ। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের চেয়ে ধর্মের প্রতি আনুগত্য তোমাদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এরপর স্যান্ডার্স ইউসুফ ও তার পরিবারের সবাইকে - বাবা, মা, ভাই ও বোনকে হত্যা করে।
সিনেমাটি শেষ হয় স্যান্ডার্সের একটা স্বগতোক্তিতে। সেখানে সে বলে, এখন সময় হয়েছে ঘর থেকে বাহিরে এসে দেখিয়ে দেওয়া যে অপরাধ করে এরা যাতে ছাড়া না পায়। স্যান্ডার্সের লড়াই চলতে থাকবে, যতক্ষণ না মানুষ নিজেকে রক্ষার দায়িত্ব নিজেরাই গ্রহণ করে।
সিনেমাটি প্রচারের জন্য ইলন মাস্ক এমন সময় বেছে নিয়েছেন যখন ইউরোপে অভিবাসন ও মুসলিমবিরোধী উত্তেজনা নতুন করে বাড়ছে। ইলন মাস্ক যে এই প্রথম এ ধরনের ঘৃণা ও দাঙ্গাকে উসকে দিলেন, তা নয়। অতীতে তিনি বহুবার এমন অপকর্ম করেছেন এবং উগ্র ডানপন্থিদের উসকানি দিয়েছেন।
গত মাসে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে, এক সুদানি শরণার্থীর ছুরিকাঘাতের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উগ্র ডানপন্থীরা বিক্ষোভের ডাক দেয়। সেখানে অভিবাসন-বিরোধী প্রতিবাদ সহিংসতায় রূপ নেয়। ইলন মাস্ক আরেক উগ্র ডানপন্থী টমি রবিনসনের সাথে তখন জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানায়। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই মুখোশধারী জনতা বেলফাস্ট ও তার আশেপাশে অভিবাসীদের বাড়িঘর, যানবাহন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
আরেকটি ঘটনা ঘটে গত সপ্তাহে ডাবলিনে। সেখানে একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
মুসলিম অভিবাসীদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করে তাদের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে নায়কোচিতভাবে দেখানোর পেছনে যে কারণগুলো তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পাশ্চাত্য সমাজে সম্পদের অস্বাভাবিক কেন্দ্রীকরণ এবং সেই সূত্রে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ। ট্রিলিয়ন ডলারের অধিকারী ইলন মাস্কের যে ক্ষমতা তা অসামান্য ও অভূতপূর্ব। অতি ক্ষুদ্র ধনী গোষ্ঠীর হাতে যখন বিপুল পরিমাণ সম্পদ কেন্দ্রীভূত হয়েছে, তখন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, গণমাধ্যমগত এবং প্রযুক্তিগত ক্ষমতাও তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
একদিকে সাধারণ মানুষ প্রবল মূল্যস্ফীতি, যুদ্ধ এবং এআইকে ঘিরে সম্ভাব্য বেকারত্ব ও হতাশায় নিমজ্জিত, অন্যদিকে সমাজের মোট সম্পদের বড় অংশের মালিকানা অল্প সংখ্যক অতি-ধনীদের হাতে কেন্দ্রীভূত। ফলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা এক গভীর খাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের জন্য ইলন মাস্কের মতো অতি-ধনীরা যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হন, সেজন্য এই সংকটের জন্য অভিবাসীরাই দায়ী, এমন একটি বয়ান এবং সেই সাথে দাঙ্গা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।
মানুষ তাদের অর্থনৈতিক শ্রেণি-পরিচয়ের চেয়ে ধর্ম, জাতি বা বর্ণপরিচয়ের ভিত্তিতে বেশি সংগঠিত হয়। এই প্রবণতা কাজে লাগিয়ে ইলন মাস্কের মতো ক্ষমতাবানেরা শ্রেণিবৈষম্য ও সম্পদের কেন্দ্রীকরণের প্রশ্ন আড়াল করতে মুসলিম অভিবাসী পরিচয়কে সামনে নিয়ে এসেছে।
এর সাথে আছে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইসরায়েলের গণহত্যা ও ধ্বংসলীলা সম্পর্কে পশ্চিমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি। ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা হলে পরিকল্পিতভাবে আলোচনা ইসরায়েল থেকে সরিয়ে ইসলাম ও মুসলিমদের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এটি ইসরায়েলের ভাবমূর্তি রক্ষার একটি কৌশল। পশ্চিমা বিশ্বে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন পুনরুদ্ধারের উপায় হিসেবে উগ্র ইসলাম, শরিয়া ও জিহাদ নিয়ে ভয় তৈরি করা হয়। ইসরায়েলের নীতির সমালোচনার জবাব না দিয়ে মুসলিমদের প্রতি ভয় ও ঘৃণা উসকে দিয়ে জনমত সরিয়ে নেওয়া যায়।
এখন "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি"-এর যে বক্তব্য, সেটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, প্রবলভাবে রাজনৈতিক এবং স্পষ্টতই বর্ণবাদী উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শের প্রচার। কিন্তু সংকীর্ণ হলেও এই বয়ানের মধ্যে একটি প্রশ্ন বা চ্যালেঞ্জ আছে যা নিয়ে মুসলিম অভিবাসীদের আত্মপর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। প্রশ্নটি হলো, একজন মুসলিম অভিবাসী হিসেবে আমরা কি সত্যিই ধর্মের প্রাচীন ধ্যানধারণাগুলোই সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি, নাকি আমাদের সংস্কৃতির ভেতরেও বৈচিত্র্য, ভিন্নতা, যুক্তিবোধ ও সৃজনশীলতা রয়েছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী নয় বরং সহায়ক?
আমাদের নাগরিক আচরণের মাধ্যমে দেখাতে হবে যে মুসলিম সমাজ একরৈখিক, স্থির ও জড় নয়। এর ভেতরে চিন্তা, সংস্কৃতি ও বহুত্বের বৈচিত্র্য রয়েছে। মুসলিম মানেই দেড় হাজার বছর আগের সামাজিক বিধিবিধানের অনড় অনুসারী নয়। আমাদের মধ্যে পরিবর্তনের সক্ষমতা রয়েছে। মুসলিম অভিবাসী হিসেবে আমার দায়িত্ব হল আমার আচরণ ও সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রমাণ করা যে আমি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ব্যক্তি-স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং বহুত্ববাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আর এটাই ইলন মাস্ক ও উগ্র ডানপন্থী বয়ানের সবচেয়ে কার্যকর জবাব।
০২ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৯
শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ এটা অবশ্যই যে মুসলিম অভিবাসী মানেই খুনি বা ধর্ষক নয়, কিন্তু ঠিক সেটাই এই সিনেমায় ফ্রেমিং করা হয়েছে। ইসলামকে পশ্চিমা সভ্যতার শত্রু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
২|
০২ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:১১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার বর্ণিত ছবির শেষ অংশ নিয়ে সোশাল মিডিয়ার আলোচনা-সমালোচনা চোখে পড়েছে । এই যে সিরিয়া , সুদান সহ গরিব মুসলিম দেশগুলো থেকে রিফিউজি হিসাবে মানুষ যান এরা কেনো নিজেদের দেশে ভালো ভাবে থাকতে , খেতে আর নিজের মূল্যবোধ নিয়ে জীবন যাপন করতে পারে না ? মুসলিম বেশিরভাগ দেশই সম্পদ সৃষ্টি করতে পারে না , তাদের ইউনিভার্সিটি গুলো কেনো ইউরোপের মানের হয় না ; মিডল ঈষ্টের ধনী দেশ গুলো অভিবাসনে খুবই কড়া । সৌদি তে যাওয়া কতজন পারমানেন্ট নাগরিক হিসাবে সুযোগ পায় পড়াশোনা শেষে কিংবা চাকুরি করতে গেলে ? মুসলিম ধনী দেশগুলোর উচিত মুসলিম অভিবাসীদের তাদের দেশের সিটিজেনশীপ দিয়ে ঘরে তোলা । তাহলে ইউরোপে গিয়ে বিপদে পড়তে হতো না ।
০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৬
শ্রাবণধারা বলেছেন: পশ্চিমা দেশগুলোর বিপুল অর্থনৈতিক উন্নতি ও সম্পদ যেটার বড় অংশ তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে লুট করা, সেই সাথে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, সেকুলার শিক্ষা ব্যবস্থা, বাক স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন অভিবাসীদেরকে আকৃষ্ট করেছে। এখন ইলন মাস্করা এসে সব সম্পদ দখল করে ঘোষনা দিতে চাচ্ছে যে, এইসব গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন তারা মানে না।
আবার সিরিয়া, সুদান ও আফগানিস্তানের ইতিহাস থেকে আমরা জানি যে এসব দেশে সম্পদ থাকলেও সেখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দেশগুলোতে ধর্মীয় এবং জাতিগোষ্ঠিগত সমস্যা থেকে মাথা তুলে দাড়াতেই পারেনি।
৩|
০২ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৩
নতুন বলেছেন: ছবিতে বাড়াবাড়ি করেছে সম্ববত।
তবে সমস্যা মুসলিমরাই শুরু করে। তারা সহী মুসলমান দেশে থাকতে চায় না। আফগানস্থানে শরীয়া আইনে যাবেনা। বরং ইউকে, আমেরিকায় গিয়ে থাকবে। এবং শরীয়া আইন চালুর স্বপ্ন দেখতে শুরু করবে।
মুসলমানেরাও যদি ঐসব দেশে গিয়ে তাদের সমাজে মিলেমিশে থাকে, বিধর্মদের ইসলামের দাওয়াত না দেয়, ঐ দেশের নিয়ম না ভাঙ্গে, তবে কেউই সমস্যা মনে করবেনা।
ইউকে তে হালাল খোজা অনেক পাকিস্তানিরাই অনলাইনে ১২-১৬ বছরের মেয়েদের সাথে চ্যাট করে তাদের সাথে দেখা করতে গেছে এমন ঘটনা আছে। রাস্তায় তাকরিব দিয়ে মিছিল, বক্তিতায় শরিয়া আইনের স্বপ্ন প্রচার করে অনেকেই।
এমন ঝামেলা থেকেই অনেকের মনে অভিবাসীদের উপরে বিরুপ ধারন হয়েছে।
০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:৩০
শ্রাবণধারা বলেছেন: সিনেমাটা শুধু বাড়াবাড়ি নয়, এটা একটা বিশেষ ফ্রেমিং এবং উগ্র ডানপন্থিদের অস্ত্র বিশেষ। এই জাতীয় প্রোপাগাণ্ডা তৈরি করে এখন দাঙ্গা ছড়িয়ে দেওয়া ইলন মাস্কের মত লোকের পক্ষে এখন কোন কঠিন বিষয় নয়।
ইউকে তে পাকিস্তানিরা এবং তাদের দেখাদেখি অভিবাসী বাংলাদেশিরাও সেই সমাজের সাথে একিভূত হবার চেষ্টা না করে নিজেদের মধ্যে একধরনের বর্বর মোল্লা বা মাদ্রাসা সংস্কৃতি তৈরি করেছে।
৪|
০২ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫১
রাজীব নুর বলেছেন: দেখিনি।
তবে দেখিব।
০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:৩৪
শ্রাবণধারা বলেছেন: অকে
৫|
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০৭
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
প্রিয় ভাই, বেশ লম্বা সময় ধরে লক্ষ্য করছি - বাংলাদেশের মুসলিম সহ পাকি মুসলিম ও আরব মুসলিম শরণার্থী ইউরোপে যেইভাবে মুসলিম ধর্ম প্রচার কাজ করছে তা সত্যি সত্যি অনৈতিক। এবং এর বিপরীতে “ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়” তত্ত্ব এখন কাজ করতে বাধ্য। আমার মনে হয় ইউরোপীয়রা মুসলিমদের বেশি দিন সহ্য করবে না।
আমার দুইটি প্রশ্ন: -
১। বাংলাদেশ পাকি ও আরব মুসলিম ইউরোপে কেনো গিয়েছে “ভাতের জন্য নাকি ধর্ম প্রচারের জন্য”?
২। ইউরোপ আমেরিকার ভিন্ন ধর্মের লোকজন, যাদের অর্থনৈতিক শক্তি ও জ্ঞান আছে তারা বিষয়টিকে কিভাবে দেখবে?
আমি বিশ্বের কোনো ধর্মের বিপক্ষে না। তবে কোনো ধর্ম প্রচারে অনৈতিক পথ অবলম্বন করবে তার পক্ষে ও না। আপনি আমার কথা পড়ে হয়তো হাসবেন। আমার কাছে একটি ধর্ম প্রচারের ছোট সূত্র আছে।
ধর্ম প্রচারের সূত্র = বেশি বেশি বিয়ে করো, বেশি বেশি বাচ্চা জন্ম দাও। তারাই হবে তোমার ধর্মের অনুসারী। ভিন্ন ধর্মের মানুষের দিকে হাত বাড়িও না, তাতে দ্বন্দ্ব ছাড়া আর কিছুই হবে না। - ঠাকুরমাহমুদ
সিনেমার যেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা আমি ১০০ তে ১০০ সমর্থন করি।
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:০৮
শ্রাবণধারা বলেছেন: অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্তব্য করেছেন। বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও আরব মুসলিমদের সম্পর্কে আমার যতটুকু জানাশোনা, তাতে তাদের অনেককে উগ্রভাবে ধর্ম পালন করতে দেখেছি। তবে, আমার মতে, এটিকে ধর্ম প্রচার বলা যাবে না, কারণ এ ধরনের আচরণ তারা সাধারণত নিজেদের সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে করে থাকে। আমি বিভিন্ন সময়ে এমন ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি এবং ব্যথিত হয়েছি। আবার ধরুন বিদেশের শিক্ষা-দীক্ষা এবং সুযোগসুবিধা পাওয়া সত্ত্বেও এদের অনেককে জামাতের মত রাজনৈতিক দল সমর্থন করতে দেখেছি!
তবে এই সিনেমার প্রেক্ষাপটে আলোচনার মূল বিষয়টি হলো অপরাধ। এটা নিশ্চিত যে মুসলমানরা ধর্ম পালন করার কারণে বেশি খুন বা ধর্ষণ করে না। পশ্চিমা সমাজে কিছু মুসলমানের আচরণ অনেক ক্ষেত্রে অমার্জিত বা অসংবেদনশীল হতে পারে, কিন্তু সেই কারণে তাদের খুন বা ধর্ষণের মতো অপরাধের সাথে যুক্ত করে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করার যৌক্তিকতা নেই।
৬|
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:৩১
অগ্নিবাবা বলেছেন: এটা নিশ্চিত যে মুসলমানরা ধর্ম পালন করার কারণে বেশি খুন বা ধর্ষণ করে না -- এটা কিভাবে নিশ্চিত হলেন? কোরান হাদিস পড়ে দেখেছেন? বিধর্মীদের সম্পর্কে ইসলাম কি বলে??? আপনারা মডারেটরা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেস্টা করেন, এজন্যই মোল্লাদের এত বাড় বাড়ন্ত। দেখেন সেই দিন আর নেই, মুসলিমরা যত কট্টর হবে, অমুসলিমরা তত ছেচা দেবে। নাকি কান্নার দিন শেষ। আমরা সেকু মাকুরা আর আপনাদের রক্ষা করতে পারবা না।
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪১
শ্রাবণধারা বলেছেন: হা হা
ধন্যবাদ, অগ্নিবাবা। আপনার মন্তব্য মানেই নিখাদ বিনোদন।
মুসলমানরা যে কোরআন-হাদিস পড়ে পশ্চিমা সমাজে এসে বেশি বেশি খুন বা ধর্ষণ করছে, এমনটা আমি দেখিনি বা শুনিনি। এ বিষয়ে কোনো গবেষণা হয়ে থাকলে জানাতে পারেন। পড়ে দেখার চেষ্টা করব।
উপরে ব্লগার নতুন যেটা লিখেছেন, কানাডায় মাঝে মাঝে নারীদের উত্যক্ত করা বা তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার কিছু খবর চোখে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখেছি, অপরাধী তার অপরাধের সাফাই হিসেবে দাবি করেছে যে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো যেসব দেশ থেকে সে এসেছে, সেখানে এসব কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। মজার বিষয় হল, এসব যুক্তি অপরাধীর আইনজীবীই তাকে আদালতে উপস্থাপনের জন্য শিখিয়ে দেন! ![]()
৭|
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৬
অগ্নিবাবা বলেছেন: বিনোদন দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। এই দেখেন মুসলমানেরা ধর্ম পালন করে বিধর্মীদের কি মনে করে।
কুরআনে অমুসলিমদের সম্পর্কে বিভিন্ন কটূক্তি করা হয়েছে। নিচে তা সূরা ও আয়াত এর নাম্বারসহ উল্লেখ করা হল। আপনারা নিজে কুরআন খুলে সূরা ও আয়াত নাম্বার মিলিয়ে দেখে নিতে পারেন। যদি কুরআন মানতে চান তাহলে অমুসলিমদেরকে ওরকম মনে করতে হবে, কারণ তা কুরআনে আছে। এই সব যাদের অন্তরে আছে, তারা কিভাবে বিধর্মীদের সাথে সহাবস্থান করবে???
কটূক্তিসমূহ
সূরাঃ আয়াত
তারা গাধা
৬২ঃ৫, ৭৪ঃ৫০
তারা কুকুর
৭ঃ১৭৬
তারা গরু বাছুর
৭ঃ১৭৯, ২৫ঃ৪৪, ৪৭ঃ১২
তারা দুর্ভাগা
২ঃ১২১, ৩ঃ৮৫, ৫ঃ৫, ৮ঃ৩৭, ১০ঃ৯৫, ২৭ঃ৫, ২৯ঃ৫২, ৩৯ঃ৬৩, ৩৯ঃ৬৫
তারা পাপিষ্ঠ
৮ঃ৩৭
তারা উদ্ধত
৬ঃ১৪৬, ৭ঃ১৬৬, ৪০ঃ৭৫, ৬৭ঃ২১
তাদের পাষাণ হৃদয়
৩৯ঃ২২, ৫৭ঃ১৬
তারা কালা (শ্রবণশক্তিহীন)
২ঃ১৭১, ৫ঃ৭১, ৬ঃ৩৯, ১৭ঃ৯৭, ৩০ঃ৫২
তারা অন্ধ
২ঃ১৭১, ৫ঃ৭১, ১৭ঃ৯৭, ৩০ঃ৫৩, ৪১ঃ৪৪
তারা নির্বোধ
২ঃ১৭১, ৬ঃ৩৯, ১৭ঃ৯৭
তারা জ্ঞানহীন
৬ঃ১১১, ৩৯ঃ৬৪
তারা কঞ্জুস
৪ঃ৩৭
তারা বিদ্বেষপূর্ণ
৩ঃ১২০
তারা অপরাধী
৫ঃ৬৪, ৫ঃ৭৮, ৬ঃ১১০, ৭ঃ১৮৬, ১০ঃ১১,১০ঃ৭৪, ৩৭ঃ৩০, ৫০ঃ২৫
তারা কলুষিত
৫ঃ৬৪, ১০ঃ৪০
তারা নোংরা
৯ঃ২৮
তারা নগণ্য
১৯ঃ৭৩-৭৪
তারা বিশ্বাসঘাতক
৫ঃ১৩, ২২ঃ৩৮
তারা মিথ্যাবাদী
(১০ টির বেশি আয়াত)
তারা বিপথগামী
৫ঃ৭৫, ৯ঃ৩০, ১০ঃ৩৪, ৩৫ঃ৩, ৪০ঃ৬৩
তারা পরশ্রীকাতর
২ঃ৯০, ২ঃ১০৯, ২ঃ২১৩, ৩ঃ১৯
তারা অন্যায়কারী
(১০ টির বেশি আয়াত)
তারা অধঃপতিত
৫ঃ৪১
তারা দুর্বল
২২ঃ৭৩
তারা বিভ্রান্ত
৩ঃ২৪, ৬ঃ১৩০, ৭ঃ৫১, ৩৫ঃ৪০, ৪৫ঃ৩৫, ৬৭ঃ২০
তারা অহংকারী
(১০ টির বেশি আয়াত)
তারা বেপরোয়া
(১০ টির বেশি আয়াত)
তারা আত্মাভিমানী
৩৮ঃ২
তারা অকৃতজ্ঞ
২২ঃ৩৮, ৩৫ঃ৩৬, ৩৯ঃ৩
তারা আল্লাহর দৃষ্টিতে জঘন্যতম পশু
৮ঃ৫৫
তারা সৃষ্টির নিকৃষ্টতম জীব
৯৮ঃ৬
তারা আল্লাহর শত্রু
২ঃ৯৮, ৮ঃ৬০, ৪১ঃ২৮, ৬০ঃ১
তারা মুসলমানের শত্রু
৪ঃ১০১, ৮ঃ৬০, ৬০ঃ১-২
তারা অপবিত্র হৃদয় অধিকারী
৫ঃ৪১
তারা scadenfreude
৩ঃ১২০
আল্লাহ তাদের ঘৃণা করেন
৩৫ঃ৩৯, ৪০ঃ১০
আল্লাহ তাদের ভালবাসেন না
৩ঃ৩২, ২২ঃ৩৮, ৩০ঃ৪৫
আল্লাহ তাদের ধ্বংস করেন
৩ঃ১৪১, ১৭ঃ৫৮, ২১ঃ৬, ২৮ঃ৪৩
আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করেন
৯ঃ২, ১৬ঃ২৭
আল্লাহ তাদের কলুষিত করেন
৬ঃ১২৫, ১০ঃ১০০
আল্লাহ তাদের নির্যাতন করেন
৪ঃ৫৬, ১৮ঃ২৯, ২২ঃ১৯-২২, ৪০ঃ৭১-৭৩
আল্লাহ তাদের পরিত্যাগ করেন
৭ঃ৫১, ২০ঃ১২৬, ৩২ঃ১৪, ৪৫ঃ৩৪
আল্লাহ তাদের অভিশাপ দেন
(১০ টির উপরে আয়াত)
আল্লাহ তাদের অপমানিত করেন
(১০ টির উপরে আয়াত)
আল্লাহ তাদের মধ্যে ত্রাসের সৃষ্টি করেন
৩ঃ১৫১
আল্লাহ তাদের শিম্পাঞ্জি বানিয়ে দেন
২ঃ৬৫, ৫ঃ৬০, ৭ঃ১৬৬
আল্লাহ তাদের শুকর বানিয়ে দেন
৫ঃ৬০
আল্লাহ তাদের শয়তানের উপাসক বানিয়ে দেন
৫ঃ৬০
আল্লাহ তাদের গাদ বানিয়ে দেন
২৩ঃ৪১
আল্লাহ তাদের পিছনে শয়তান লেলিয়ে দেন
১৯ঃ৮৩
আল্লাহ তাদের ভাল কাজ হিসাবে ধরেন না
১৮ঃ১০৫
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২২
শ্রাবণধারা বলেছেন: এরপর থেকে এই ধরনের লিস্ট নিয়ে আমার পোস্টে হাজির হলে, এর পাশাপাশি দয়া করে মনুসংহিতা এবং ওল্ড টেস্টামেন্টের লিস্টও উল্লেখ করতে ভুলবেন না। তাহলে আমাদের আলোচনা সহজ হবে।
এই একশ বছর আগেও বাংলাভাষী হিন্দুরা পশ্চিমা বা অন্য ধর্মের মানুষদের যবন, অস্পৃশ্য, নেড়ে ইত্যাদি বলে সম্বোধন করত। ইহুদিরাও অ-ইহুদিদের বলত গয়িম। আজ অন্য ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস ও কাজ করছে। এটা কিন্তু মুসলমানরা আরও আগেই শিখেছিল, কিন্তু সেটা আবার অনেকে ভুলেও গিয়েছিল। আর সেকারনে নতুন করে মুসলমানদের অনেক কিছু শিখতে হচ্ছে - এটাই আমার বক্তব্য।
৮|
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৯
অগ্নিবাবা বলেছেন: ধর্মপালন করবেন করেন, কিন্তু এইসব কি?? কোনো ধনীমুসলমান দেশ তো আর আশ্রয় দেয় না, শেষে বিধর্মীদের কাছেই আশ্রয় নিতে হয়, অথচ মনে বিষ, ইন্টারনেটের যুগে আর বেশীদিন লুকাতে পারবেন না। আগে গোড়া খুজে কাটুন, না হলে দিন গোনা শুরু করেন, ইউরোপে ইসলাম শেষ, মৃতধর্ম খ্ৃস্টানকে আপনারা বাচিয়ে দিয়েছেন। গড আপনাদের মঙ্গল করবেন বলে মনে হয় না।
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩১
শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার তিক্ত মন্তব্যের মধ্যেও মাঝে মাঝে ভালো প্রশ্ন থাকে। ধর্মের দড়ি দিয়ে কাউকে বেঁধে রাখা আমার পোস্টের উদ্দেশ্য নয়। আমার বিশ্বাস ধর্মের উদ্দেশ্যও সেটি নয়।
৯|
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯
অগ্নিবাবা বলেছেন: দ্বিতীয় পর্ব লেখার সময় কোরান হাদিসের কথা মাথায় রাখিয়েন।
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪
শ্রাবণধারা বলেছেন: ধর্ম বিষয়ে বিরক্তিকর আলাপের যথেষ্ট সময় বা অবসর আমার নেই। আমি সাধারণত আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকি। তাই আমার পোস্টে মন্তব্য করার আগে দয়া করে বিষয়টি মাথায় রাখবেন।
১০|
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩১
রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।
১১|
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩
অগ্নিবাবা বলেছেন: চাহিবা মাত্র হাজির, এই যে দিলাম মনুসংহিতার লিস্ট, বামুনেরা শুদ্রদের মানুষ বলে মনে করে না, তাদের হাতিয়ার হইল, মনু সংহিতা, যেমন আপনার হইল কোরান, হাদিস। আর ওল্ড টেস্টামেন্ট একজন সাদা চামড়ার খ্রীস্টানকে আনতে বলেছি।
এইবার আসেন আলোচনা করি।
ব্রাহ্মণ
এই পরিচ্ছেদে আমরা দেখব মনুসংহিতায় কীভাবে ব্রাহ্মণকে সকলের ঊর্ধ্বে রেখে তাদের জন্য সামাজিক, ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগসুবিধা ভোগ করার বিধান বানানো হয়েছে।
ব্রাহ্মণের অধিকারঃ-
উত্তমাঙ্গোদ্ভবাজ্জৈষ্ঠ্যাদ্ ব্রহ্মণশ্চৈব ধারণাৎ।
সর্বস্যৈবাস্য সর্গস্য ধর্মতো ব্রাহ্মণঃ প্রভু ১ম, ৯৩
বঙ্গানুবাদ। যেহেতু ব্রাহ্মণগণ ব্রহ্মার মুখ থেকে উদ্ভূত, প্রথম জাত এবং বেদকে অবলম্বন করেন সে কারণে তাঁরা অধিকার বলে এই সৃষ্ট জগতের প্রভু।
ভূতানাং প্রাণিনঃ শ্রেষ্ঠা নরেষু প্রাণিনাং বুদ্ধিজীবিনঃ
বুদ্ধিমৎসু নরাঃ শ্রেষ্ঠা নরেষু ব্রাহ্মণাঃ স্মৃতাঃ। ১ম, ৯৬
বঙ্গানুবাদ। সৃষ্টি মধ্যে সজীব প্রাণী শেষ্ঠ, জীবের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান তারা শ্রেষ্ঠ, বুদ্ধিমান প্রাণীদের মধ্যে মানুষ শ্রেষ্ঠ এবং মানুষের মধ্যে ব্রাহ্মণ শ্রেষ্ঠ।
ব্রাহ্মণো জায়মানো হি পৃথিব্যামধিজায়তে।
ঈশ্বরঃ সর্বভূতানাং ধর্মকোষস্য গুপ্তয়ে ১ম, ৯৯
বঙ্গানুবাদ। ব্রাহ্মণ জন্মগ্রহণ করা মাত্রই সমস্ত লোকের অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হয়। কারণ, ব্রাহ্মণই সকলের ধর্মসমূহ রক্ষার জন্য প্রভুসম্পন্ন হয়ে থাকে।
সর্বং স্বং ব্রাহ্মণস্যেদং যৎ কিঞ্চিজ্জগতীগতম্।
শ্রৈষ্ঠ্যেনাভিজনেনেদং সর্বং বৈ ব্রাহ্মণো ্হর্হতি ১ম, ১০০
বঙ্গানুবাদ। বিশ্বের যাবতীয় সবকিছুই ব্রাহ্মণের সম্পদ। তার জন্মসূত্রে শ্রেষ্ঠতার জন্য বস্তুত ব্রাহ্মণই এই সম্পদের অধিকারী।
স্বমেব ব্রাহ্মণো ভুঙ্ক্তে স্বং বস্তে স্বং দদাতি চ।
আনৃশংস্যাদ্ ব্রাহ্মণস্য ভুঞ্জতে হীতরে জনাঃ ১ম, ১০১
বঙ্গানুবাদ। ব্রাহ্মণ যে খাদ্য গ্রহণ করে, যে পরিধেয় বস্ত্র পরিধান করে, তা অন্যের দ্বারা প্রস্তুত হলেও, তা তার নিজের। কারণ অন্য মরণশীলগণ ব্রাহ্মণদের অনুগ্রহে জীবন ধারণ করে।
অবিদ্বাংশ্চৈব বিদ্বাংশ্চ ব্রাহ্মণো দৈবতং মহৎ।
প্রণীতশ্চাপ্রণীতশ্চ যথাগ্নির্দৈবতং মহৎ ৯ম, ৩১৭
বঙ্গানুবাদ। পবিত্র হোক বা অপবিত্র হোক, অগ্নি যেমন মহান দেবতা, তেমনি ব্রাহ্মণ বিদ্বান বা মূর্খ যাই হোক না কেন, সে দেবতাতুল্য।
এবং যদ্যপ্যনিষ্টেষু বর্তন্তে সর্বকর্মসু।
সর্বথা ব্রাহ্মণাঃ পূজ্যাঃ পরমং দৈবতং হি তৎ ৯ম, ৩১৯
বঙ্গানুবাদ। ব্রাহ্মণ সকল প্রকার নিন্দাজনক কাজে নিযুক্ত থাকলেও সকলের নিকট পূজ্য, যেহেতু ব্রাহ্মণ দেবতা-স্বরূপ।
বৈশেষ্যাৎ প্রকৃতিশ্রৈষ্ঠ্যান্নিয়মস্য চ ধারণাৎ।
সংস্কারস্য বিশেষাচ্চ বর্ণানাং ব্রাহ্মণঃ প্রভুঃ ১০ম, ৩
বঙ্গানুবাদ। প্রথম জাত হওয়ার কারণে, মৌলিক শ্রেষ্ঠতার কারণে, নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রিত আচরণে, সংস্কারের পবিত্রতার কারণে ব্রাহ্মণই সকল জাতির প্রভু।
বিধাতা শাসিতা বক্তা মৈত্রী ব্রাহ্মণ উচ্যতে।
তস্মৈ নাকুশলং ব্রূয়ান্ন শুষ্কা গিরিমীরয়েৎ ১১শ, ৩৫
বঙ্গানুবাদ। ব্রাহ্মণকে সমসড় বিশ্বের স্রষ্টা, শাস্তিদাতা, শিক্ষক এবং সর্বপ্রকার সৃষ্ট প্রাণীর হিতৈষী বলে ঘোষণা করা হয়েছে। অপ্রসন্ন হতে পারে এমন কোনো বাক্য অথবা কোনো অশালীন বাক্য তাকে কেউ বলবে না।
বিস্রব্ধং ব্রাহ্মণঃ শূদ্রাদ্ দ্রব্যোপাদানমাচরেৎ।
ন হি তস্যান্তি কিঞ্চিৎ স্বং ভর্তৃহার্যধনো হি সঃ ৮ম, ৪১৭
বঙ্গানুবাদ। ব্রাহ্মণ নিঃসঙ্কোচে শূদ্রের জিনিস বাজেয়াপ্ত করে নিতে পারে। কারণ, শূদ্রের নিজের বলতে কোনো ধন নেই, সে প্রভুর জন্যই ধন আহরণ করে।
ব্রাহ্মণকে কখনও অসন্তুষ্ট করা যাবে না। এর বিরুদ্ধে মনুস্মৃতি নিম্নলিখিত শ্লোকে রাজাকে সতর্ক করে দিয়েছেন ঃ-
পরামপ্যাপদং প্রাপ্তো ব্রাহ্মণান্ ন প্রকোপয়েৎ।
তে হ্যেনং কুপিতা হন্যুঃ সবলবাহনম্ ৯ম, ৩১৩
বঙ্গানুবাদ। রাজা যতই বিপদে পড়ুক না কেন ব্রাহ্মণকে নিন্দা করে ক্রোধান্বিত করবে না। কেননা ব্রাহ্মণ ক্রুদ্ধ হলে তিনি তৎক্ষণাৎ তার সৈন্য এবং যানবাহনসহ তাকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
ন ব্রাহ্মণো বেদয়েত কিঞ্চিদ্ রাজনি ধর্মবিৎ।
স্ববীর্যণৈব তান্ শিষ্যান্মানবানপকারিণঃ ১১শ, ৩১
বঙ্গানুবাদ। ভাল করে আইন জানে এমন কোনো ব্রাহ্মণের কোনো ক্ষতির জন্য রাজার কাছে অভিযোগ করার প্রয়োজন নেই, কারণ তার নিজের ক্ষমতাবলে সে অনিষ্টকারীকে কঠোর শাস্তি দিতে পারে।
স্ববীর্যাদ্রাজবীর্যাচ্চ স্ববীর্যং বলবত্তরম্।
তস্মাৎ স্বেনৈব বীর্যেণ নিগৃহ্নীয়াদরীন্ দ্বিজঃ ১১শ, ৩২
বঙ্গানুবাদ। নিজের (ব্রাহ্মণের) ক্ষমতা রাজার ক্ষমতা অপেক্ষা শক্তিশালী। অতএব একজন ব্রাহ্মণ তার নিজ শক্তি দ্বারা তার শত্রুকে দমন করতে পারে।
সৈন্যাপত্যঞ্চ রাজ্যঞ্চশ দণ্ডনেতৃত্বমেব চ।
সর্বলোকাধিপত্যঞ্চ বেদাশাস্ত্রবিদর্হতি ১২শ, ১০০
বঙ্গানুবাদ। রাজ্যের প্রধান সেনাধ্যক্ষের পদ, যা সরকারের সর্বোচ্চ পদ, এবং প্রত্যেকের উপর যার পূর্ণ আধিপত্য, তা একজন বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণের প্রাপ্য।
হত্বা লোকানপীমাংস্ত্রীনশ্নন্নপি যতস্ততঃ।
ঋগ্বেদং ধারয়ন্ বিপ্রো নৈনঃ প্রাপ্নোতি কিঞ্চন ১১শ, ২৬২
বঙ্গানুবাদ। ঋগ্বেদধারী ব্রাহ্মণ ত্রিজগতের সকলকে হত্যা করলে এবং যত্রতত্র ভোজন করলেও কোনো পাপে লিপ্ত হয় না।
ঋক্সংহিতাং ত্রিরভ্যাস্য যজুযাং বা সমাহিতঃ।
সাম্নাং বা সরহস্যানাং সর্বপাপৈঃ প্রমুচ্যতে ১১শ, ২৬৩
বঙ্গানুবাদ। উপনিষদসহ ঋক্, যজু এবং সামবেদ তিনবার আবৃিত্ত করলে সকল পাপ থেকে মুক্ত হওয়া যায়।
শস্ত্রং দ্বিজাতিভির্গ্রাহ্যং ধর্মো যত্রোপরুধ্যতে।
দ্বিজাতীনাঞ্চ বর্ণানাং বিপ্লবে কালকারিতে ৮ম, ৩৪৮
আত্মনশ্চ পরিত্রাণে দক্ষিণানাং চ সঙ্গরে।
স্ত্রীবিপ্রাভ্যুপপত্তৌ চ ধর্মেণ ঘ্নন্ ন দুষ্যতি ৮ম, ৩৪৯
বঙ্গানুবাদ। ধর্মদ্বারা প্রতিষ্ঠিত ন্যায্য অধিকারে কোনো শক্তি বাধা প্রদান করলে এবং কোনো দুঃসময়ে দ্বিজ শ্রেণীর উপর কোনো আকস্মিক বিপদ নেমে এলে দ্বিজগণ অস্ত্র ধারণ করতে পারবে।
ক্ষত্রস্যাতিপ্রবৃদ্ধস্য ব্রাহ্মণান্ প্রতি সর্বশঃ
ব্রহ্মৈব সন্নিয়ন্ত্ স্যাৎ ক্ষত্রং হি ব্রহ্মসম্ভবম্ ৯ম, ৩২০
বঙ্গানুবাদ। ক্ষত্রিয়দের কেহ (সৈনিক বা রাজা) যদি ব্রাহ্মণের বিরুদ্ধে অস্ত্র উত্তোলন করে তবে ব্রাহ্মণ নিজেই তাকে শাস্তি দেবে, কারণ সৈনিকবৃত্তি ব্রাহ্মণ থেকেই প্রথম শুরু হয়।
যদা স্বয়ং ন কুর্যাত্তু নৃপতিঃ কার্যদর্শনম্।
তদা নিযুঞ্জ্যাদ্বিদ্বাংসং ব্রাহ্মণং কার্যদর্শনে ৮ম, ৯
বঙ্গানুবাদ। রাজা যখন স্বয়ং সব কাজ (বিবাদ বিষয়ে) দেখাশোনা করতে পারবে না, তখন সেই সব কাজ দেখার জন্য বিদ্বান ব্রাহ্মণকে নিযুক্ত করবে।
সোহস্য কার্যাণি সম্পশ্যেৎ সভ্যৈরেব ত্রিভির্বৃতঃ
সভামেব প্রবিশ্যাগ্র্যামাসীনঃ স্হিত এব বা ৮ম, ১০
বঙ্গানুবাদ। সেই বিদ্বান ব্রাহ্মণ আরও তিনজন সহকারীসহ রাজদরবারে বিচারের জন্য আগত সমস্ত বিষয়ে উপবিষ্ট বা দণ্ডায়মান থেকে সে সব বিষয় বিচার করবে।
বিদ্বাংস্তু ব্রাহ্মণো দৃষ্ট্বা পূর্বোপনিহিতং নিধিম্।
অশেষতোহপ্যাদদীত সর্বস্যাধিপতির্হি সঃ ৮ম, ৩৭
বঙ্গানুবাদ। বেদবিদ বিদ্বান ব্রাহ্মণ পূর্বের কোনো ধন যদি ভূমিমধ্যে পায়, তবে সেই ধন সে নিজেই সম্পূর্ণ নিয়ে নেবে। তার কোনো অংশ রাজাকে দেবার প্রয়োজন নেই; যেহেতু ব্রাহ্মণই ধনের প্রকৃত অধিকারী।
যন্তু পশ্যেন্নিধিং রাজা পুরাণং নিহিতং ক্ষিতৌ।
তস্মাদ্ দ্বিজেভ্যো দত্ত্বার্দ্ধমর্দ্ধং কোষে প্রবেশয়েৎ ৮ম, ৩৮
বঙ্গানুবাদ। রাজা যদি ভূমিমধ্যে কোনো ধন পায়, তবে তার অর্ধেক ব্রাহ্মণদের দান করে বাকি অর্ধাংশ রাজকোষে গ্রহণ করবে।
দত্ত্বা ধনন্তু বিপ্রেভ্যঃ সর্বদণ্ডসমুত্থিম্।
পুত্রে রাজ্যং সমাসৃজ্য কুর্বীত প্রায়ণং রণে ৯ম, ৩২৩
বঙ্গানুবাদ। যদি রাজা তার মৃত্যু সন্নিকট অনুভব করে, তবে সেই দণ্ড দ্বারা প্রাপ্ত সমস্ত ধন ব্রাহ্মণদের দান করে পুত্রের হাতে রাজ্যভার সমর্পণ করে যুদ্ধ কিংবা উপবাসাদি দ্বারা প্রাণত্যাগ করবে।
সর্বেষামপ্যভাবে তু ব্রাহ্মণা রিক্থভাগিনঃ
ত্রৈবিদ্যাঃ শুচয়ো দান্তাস্তথা ধর্মো ন হীয়তে ৯ম, ১৮৮
বঙ্গানুবাদ। যদি কোনো ব্যক্তির ধনের কোনো অধিকারী না পাওয়া যায়, তবে তা বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণগণ পাবে। এর ফলে তার শ্রাদ্ধাদি ক্রিয়ার কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।
অহার্যং ব্রাহ্মণদব্যং রাজ্ঞা নিত্যমিতি স্হিতিঃ।
ইতরেষান্তু বর্ণানাং সর্বাভাবে হরেন্নৃপঃ ৯ম, ১৮৯
বঙ্গানুবাদ। এটা হল শাশ্বত নিয়ম যে, রাজা কখনও ব্রাহ্মণের ধন গ্রহণ করতে পারবে না। তবে উপযুক্ত উত্তরাধিকারী না থাকলে অন্য বর্ণের ব্যক্তিদের ধন রাজাই গ্রহণ করবে।
অনাম্নাতেষু ধর্মেষু কথং স্যাদিতি চেদ্ভবেৎ।
যং শিষ্টা ব্রাহ্মণা ব্রূয়ুঃ স ধর্ম স্যাদশঙ্কিতঃ ১২শ, ১০৮
বঙ্গানুবাদ। এমন কোনো পরিস্হিতি বা বিষয়ের সম্মুখীন যদি হতে হয় যা সম্পর্কে কোনো বিধান দেওয়া নেই, তা হলে শিষ্ট ব্রাহ্মণেরা যা বলবে তাকেই অকাট্য বিধান বলে গ্রহণ করতে হবে।
ব্রাহ্মণের কর্মঃ-
ব্রাহ্মণের জীবিকা নির্বাহের জন্য মনু যেসব কর্মের বিধান দিয়েছেন।
অধ্যাপনমধ্যয়নং যজনং যাজনং তথা।
দানং প্রতিগ্রহঞ্চৈব ব্রাহ্মণানামকল্পয়ৎ ১ম, ৮৮
বঙ্গানুবাদ। শিক্ষা, বেদপাঠ, নিজের এবং অপরের কল্যাণের জন্য যজ্ঞানুষ্ঠান, ভিক্ষা দেওয়া এবং দান গ্রহণ করা তিনি (ব্রহ্মা) ব্রাহ্মণের জন্য নির্দিষ্ট করে দিলেন।
অধীয়ীরংস্ত্রয়ো বর্ণাং স্বকর্মস্থা দ্বিজাতয়ঃ।
প্রব্রূয়াদ্ ব্রাহ্মণস্ত্বেষাং নেতরাবিতি নিশ্চয়ঃ ১০ম, ১
বঙ্গানুবাদ। দ্বিজবর্ণ তিনটি অর্থাৎ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য। এই তিন বর্ণই ধর্মপরায়ণ হয়ে বেদ অধ্যয়ন করবে। কিন্তু এদের মধ্যে একমাত্র ব্রাহ্মণ ব্যতীত অন্য দু’টি বর্ণ অর্থাৎ ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য বেদের অধ্যাপনা করতে পারবে না।
বৈশেষ্যাৎ প্রকৃতিশ্রৈষ্ঠ্যান্নিয়মস্য চ ধারণাৎ।
সংস্কারস্য বিশেষাচ্চ বর্ণানাং ব্রাহ্মণঃ প্রভুঃ ১০ম, ৩
বঙ্গানুবাদ। জন্মগত কারণে উৎকর্ষতা, বেদ অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও ব্যাখ্যানে, উপযুক্ত নিয়ম ধারণে যোগ্যতা এবং ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র অপেক্ষা সংস্কারের বিশিষ্টতাযুক্ত ব্রাহ্মণ সকল বর্ণের শ্রেষ্ঠ।
অধ্যাপনমধ্যয়নং যজনং যাজনং তথা।
দানং প্রতিগ্রহশ্চৈব ষট্ কর্মাণ্যগ্রজন্মনঃ ১০ম, ৭৫
বঙ্গানুবাদ। ব্রাহ্মণদের ছয়টি কর্ম হল- অধ্যয়ন, অধ্যাপনা, যজন, যাজন, দান ও প্রতিগ্রহ (দান গ্রহণ করা)।
ষণ্নাস্তু কর্মণামস্য ত্রীণি কর্মাণি জীবিকা।
যাজনাধ্যাপনে চৈব বিশুদ্ধচ্চ প্রতিগ্রহঃ ১০ম, ৭৬
বঙ্গানুবাদ। এই ছয়টি কর্মের মধ্যে অধ্যাপনা, যাজন ও সৎপ্রতিগ্রহ- এই তিনটি ব্রাহ্মণদের জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্দিষ্ট।
ত্রয়ো ধর্মা নিবর্তন্তে ব্রাহ্মণাৎ ক্ষত্রিয়ং প্রতি।
অধ্যাপনং যাজনঞ্চ তৃতীয়শ্চ প্রতিগ্রহঃ ১০, ৭৭
বঙ্গানুবাদ। ক্ষত্রিয়ের জীবিকার ক্ষেত্রে অধ্যাপনা, যাজন ও প্রতিগ্রহ- এই তিনটি নিষিদ্ধ।
বৈশ্যং প্রতি তথৈবৈতে নিবর্তেরন্নিতি স্হিতিঃ।
ন তৌ প্রতি হি তান্ ধর্মান্ মনুরাহ প্রজাপতিঃ ১০ম, ৭৮
বঙ্গানুবাদ। ক্ষত্রিয়ের ন্যায় বৈশ্যদের ক্ষেত্রেও মনু অধ্যাপনা, যাজন ও প্রতিগ্রহ- এই তিনটি কর্ম নিষিদ্ধ করেছেন।
অর্থাৎ অধ্যাপনা, যাজন ও দান গ্রহণ করা ব্রাহ্মণদের একচেটিয়া অধিকার। ওই কাজে অন্য কেউ ভাগ বসাতে পারবে না।
শাস্ত্রাস্ত্রভৃত্ত্বং ক্ষত্রস্য বণিক্পশুকৃষির্বিশঃ।
আজীবনার্থং ধর্মস্তু দানমধ্যয়নং যজিঃ ১০ম, ৭৯
বঙ্গানুবাদ। প্রজারক্ষার জন্য অস্ত্রধারণ ক্ষত্রিয়ের বৃত্তি। পশুপালন, কৃষি ও বাণিজ্য বৈশ্যের বৃত্তি। দান, যাগ ও অধ্যয়ন- এই তিনটি কর্ম ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্যের কর্তব্য বলে জানবে।
বেদাভ্যাসো ব্রহ্মণস্য ক্ষত্রিয়স্য চ রক্ষণম্।
বার্তাকর্মৈব বৈশ্যস্য বিশিষ্টানি স্বকর্মসু ১০ম, ৮০
বঙ্গানুবাদ। জীবিকা অর্জনের জন্য যে সমস্ত উপায়ের কথা বলা হয়েছে তন্মধ্যে সবচেয়ে ভাল হল ব্রাহ্মণের পক্ষে বেদ-অধ্যাপনা, ক্ষত্রিয়ের পক্ষে প্রজাপালন এবং বৈশ্যের পক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্য।
অজীবংস্তু যথোক্তেন ব্রাহ্মনঃ স্বেন কর্মণা।
জীবেৎ ক্ষত্রিয়ধর্মেণ স হ্যস্য প্রত্যনন্তরঃ ১০, ৮১
বঙ্গানুবাদ। ব্রাহ্মণ যদি নিজ বৃত্তি দ্বারা জীবিকা অর্জন করতে না পারে, তবে সে ক্ষত্রিয়ের বৃত্তি অবলম্বন করে জীবিকা অর্জন করতে পারবে।
উভাভ্যামপ্যজীবংস্তু কথং স্যাদিতি চেদ্ভবেৎ।
কৃষিগোরক্ষমাস্থায় জীবৈদ্বৈশ্যস্র জীবিকাম্ ১০, ৮১২
বঙ্গানুবাদ। ব্রাহ্মণ যদি তার নিজের ও ক্ষত্রিয়ের বৃত্তি দ্বারা জীবিকা অর্জন করতে না পারে তবে, সে বৈশ্যের বৃত্তি দ্বারা জীবিকা অর্জন করতে পারবে। অর্থাৎ ব্রাহ্মণ তার খুশি মত যে কোনো বৃত্তিই অবলম্বন করতে পারবে।
বৈশ্যবৃত্ত্যাপি জীবংস্তু ব্রাহ্মণঃ ক্ষত্রিয়োহপি বা।
হিংসাপ্রায়াং পরাধীনাং কৃষিং যত্নেন বর্জয়েৎ ১০ম, ৮৩
বঙ্গানুবাদ। ব্রাহ্মণ বা ক্ষত্রিয়কে যদি বৈশ্য বৃত্তি অবলম্বন করে জীবিকা অর্জন করতে হয়, তবে তাদের হিংসামূলক কৃষিকার্য বর্জন করতে হবে।
কৃষিং সাধ্বিতি মন্যন্তে সা বৃত্তিঃ সদ্বিগর্হিতা।
ভূমিং ভূমিশয়াংশ্চৈব হন্তি কাষ্ঠময়োমুখম্ ১০ম, ৮৪
বঙ্গানুবাদ। কৃষিকার্য উত্তম বৃত্তি হলেও সজ্জন ব্যক্তিরা তা নিন্দনীয় মনে করে; যেহেতু কৃষিকার্য করতে গেলে হল চালনাকালে মৃত্তিকাস্হিত বহু প্রাণী মারা যায়।
ইদন্তু বৃত্তিবৈকল্যাত্ত্যজতো ধমনৈপুণম্।
বিট্পণ্যমুদ্ধৃতোদ্ধারং বিক্রেয়ং বিত্তবর্ধনম্ ১০ম, ৮৫
বঙ্গানুবাদ। ধর্মানুগ বৃত্তির দ্বারা জীবিকা অর্জন সম্ভবপর না হলে, তারা বৈশ্য বৃত্তির মধ্যে আপত্তিকর জীবিকা বাদ দিয়ে ধনবর্ধক অন্যান্য বৃত্তি গ্রহণ করবে।
অদ্রোহেণৈব ভূতানামল্পদ্রোহেণ বা পুনঃ।
যা বৃত্তিস্তাং সমাস্থায় বিপ্রো জীবেদনাপদি ৪র্থ, ২
বঙ্গানুবাদ। আপৎকাল ব্যতীত অন্য সময়ে যাতে কোনো প্রাণীর কিছুমাত্র অনিষ্ট না হয়, অথবা স্বল্পমাত্র পীড়ন হয়, এরূপ বৃত্তি আশ্রয় করে ব্রাহ্মণ জীবিকা নির্বাহ করবে।
যাত্রামাত্রণ্ডপ্রসিদ্ধ্যর্থং স্বৈঃ কর্মভিরগর্হিতৈঃ।
অক্লেশেন শরীরস্য কুর্তীত ধনসঞ্চয়ম্ ৮র্থ, ৩
বঙ্গানুবাদ। জীবন ধারণের জন্য শরীরকে কোনো রূপ ক্লেশ না দিয়ে ব্রাহ্মণ নিজের বর্ণবিহিত অনিন্দিত কর্মের দ্বারা ধন অর্জন করবে।
ম্রিয়মাণোহপ্যাদদীত ন রাজা শ্রোত্রিয়াৎ করম্।
ন চ ক্ষুধাহস্য সংসীদেচ্ছ্রোত্রিয়ো বিষয়ে বসন্ ৭ম, ১৩৩
বঙ্গানুবাদ। রাজা অর্থাভাবে বিপন্ন হলেও কোনো ব্রাহ্মণের নিকট থেকে কর গ্রহণ করতে পারবে না। অপরপক্ষে কোনো বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ যেন ক্ষুধায় কষ্ট না পায় তার প্রতি রাজাকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
বাহ্ কী চমৎকার ব্যবস্থা! ব্রাহ্মণের কাছ থেকে কখনও কর নেওয়া চলবে না, বরং ব্রাহ্মণ জীবিকা অর্জনে অসমর্থ হলে রাজা তার ভরণপোষণেরও ব্যবস্থা করবে!
ব্রাহ্মণের জন্য দণ্ডবিধানঃ-
বিভিন্ন রকম অপরাধে ব্রাহ্মণদের জন্য শাস্তি হিসাবে মনুর বিধান দেখুন।
কৌটসাক্ষ্যং তু কুর্বাণাংস্ত্রীন্ বর্ণান্ ধার্মিকো নৃপঃ।
প্রবাসয়েদ্ দণ্ডয়িত্বা ব্রাহ্মণং তু বিবাসয়েৎ ৮ম, ১২৩
বঙ্গানুবাদ। ক্ষত্রিয়াদি তিনটি বর্ণ মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে বিধান অনুসারে রাজা তাদের অর্থদণ্ডসহ দেশ থেকে বহিষ্কার করবে। কিন্তু ব্রাহ্মণকে অর্থদণ্ড না করে কেবলমাত্র বহিষ্কার করবে।
দশ স্থানানি দণ্ডস্য মনুঃ স্বায়ম্ভুবো ্হব্রবীৎ।
ত্রিষু বর্ণেষু যানি স্যুরক্ষতো ব্রাহ্মণো ব্রজেৎ ৮ম, ১২৪
বঙ্গানুবাদ। স্বায়ম্ভূব মনু দণ্ডদানের দশটি স্থানের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এগুলি কেবলমাত্র ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্রদের জন্য। ব্রাহ্মণদের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার দৈহিক দণ্ড না দিয়ে কেবলমাত্র দেশ থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
ব্রাহ্মক্ষত্রিয়াভ্যাং তু দণ্ডঃ কার্যো বিজানতা।
ব্রাহ্মণে সাহসঃ পূর্বঃ ক্ষত্রিয়ে ত্বেব মধ্যমঃ ৮ম, ২৭৬
বঙ্গানুবাদ। ব্রাহ্মণ এবং ক্ষত্রিয়ের মধ্যে পারস্পরিক নিন্দাবাদ হলে প্রত্যক্ষদর্শী রাজা ব্রাহ্মণকে সবচেয়ে কম (প্রথম সাহস) দণ্ড দেবে এবং ক্ষত্রিয়ের মাঝামাঝি মধ্যম সাহস) দণ্ড দেবে।
মৌণ্ড্যং প্রাণান্তিকো দণ্ডো ব্রাহ্মণস্য বিধীয়তে।
ইতরেষাং তু বর্ণানাং দণ্ডঃ প্রাণান্তিকো ভবেৎ ৮ম, ৩৭৯
বঙ্গানুবাদ। প্রাণদণ্ডের যোগ্য অপরাধে ব্রাহ্মণের দণ্ড হবে মস্তক মুণ্ডন। অন্যান্য বর্ণের প্রাণদণ্ডই করবে- এই হল শাস্ত্রের বিধান।
ন জাতু ব্রাহ্মণং হন্যাৎ সর্বপাপেষ্বপি স্হিতম্।
রাষ্ট্রাদেনং বহিষ্কুর্যাৎ সমগ্রধনমক্ষতম্ ৮ম, ৩৮০
বঙ্গানুবাদ। সর্বপ্রকার পাপে পাপী হলেও ব্রাহ্মণকে কখনও বধ করবে না- বরং সমগ্র ধনের সঙ্গে তাকে অক্ষত দেহে রাজ্য থেকে বহিষ্কার করবে।
ন ব্রাহ্মণবধাদ্ ভূয়ানধর্মো বিদ্যতে ভুবি।
তস্মাদস্য বধং রাজা মনসাপি ন চিন্তয়েৎ ৮ম, ৩৮১
বঙ্গানুবাদ। পৃথিবীতে ব্রাহ্মণবধের তুলনায় গুরুতর অধর্ম (পাপ) কিছুই নেই। এই জন্য ব্রাহ্মণকে বধ, অঙ্গচ্ছেদনাদি করার কথা রাজা কখনও চিন্তাও করবে না।
প্রাজাপত্যমদত্ত্বাশ্বমগ্ন্যাধেয়স্য দক্ষিণাম্।
অনাহিতাগ্নির্ভবতি ব্রাহ্মণো বিভবে সতি ১১শ, ৩৮
বঙ্গানুবাদ। সম্পদ থাকা সত্ত্বেও যে ব্রাহ্মণকে এবং দেবতাকে অশ্ব দক্ষিণা না দেয়, সে অগ্নি আধানের ফলপ্রাপ্ত হয় না।
পুণ্যান্যন্যানি কুর্বীত শ্রদ্দধানো জিতেন্দ্রিয়ঃ।
ন ত্বল্পদক্ষিণৈর্যজেতেহ কথঞ্চন ১১শ, ৩৯
বঙ্গানুবাদ। যজ্ঞের উপযুক্ত দক্ষিণা দিতে না পারলে সে অন্যান্য অনুষ্ঠান করবে; কিন্তু দক্ষিণার যে বিধান আছে তা দিতে সমর্থ না হলে কখনও যজ্ঞ করাবে না।
ইন্দ্রিয়াণি যশঃ স্বর্গমায়ুঃ কীর্তিং প্রজাঃ পশূন্।
হন্ত্যল্পদকিণো যজ্ঞস্তস্মান্নাল্পধনো যজেৎ ১১শ, ৪০
বঙ্গানুবাদ। অল্প দক্ষিণা প্রদান করলে তার যশ, স্বর্গ, আয়ু, কীর্তি, প্রজা ও পশু সবই নষ্ট হবে। তাই স্বল্প সম্পদসম্পন্ন ব্যক্তি কখনও যজ্ঞ করবে না।
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩
শ্রাবণধারা বলেছেন: আমার কথাটা ছিল এই যে, এই ধরনের আজগুবি কথা তো সব ধর্মেই আছে, তাহলে শুধু মুসলিমদের দিকেই বিশেষভাবে আঙুল তোলার কারণ কী?
বরং আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত, মুসলিমরা কীভাবে এসব পুরোনো ধারণা অতিক্রম করে বাস্তব জ্ঞান-বুদ্ধি, যুক্তি, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং নাগরিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।
আপনি যদি শুরুতেই তাদের একেবারে খরচের খাতায় তুলে রাখেন, তাহলে তো সমস্যাটা আরও জটিল হয়ে যায়, তাই নয় কি?
১২|
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪১
অগ্নিবাবা বলেছেন: কথা বলতে চাইলে কথা আগে বাড়ানো যেতে পারে, আপনার হাতে সময় কম তাই আর কথা বাড়ালাম না, আপনি মানবতাবাদী মানুষ, মনে বিদ্দ্বেষ পোষন করেন না, তাই আপনার পোষ্টের উদ্দেশ্য ভালো। কিন্তু আপনারা সমস্যার গোড়ায় কেহ হাত দেন না, তাই মাঝে মাঝে নাড়া দিতে আসি। ধর্মই অধর্মের কারখানা। ধন্যবাদ।
০৩ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩
শ্রাবণধারা বলেছেন: রামকৃষ্ণকে কেন পরমহংস বলা হয় জানেন নাকি? ধর্ম পালনের বিষয়টি এরকম। দুধ এবং জল থেকে দুধ আলাদা না করতে পারলে সমস্যা। আমার কাছে এটাই সমস্যা, ধর্মীয় পুস্তকে কি লেখা আছে সেটা নয়।
১৩|
০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৩৮
মাথা পাগলা বলেছেন: মুসলিম দেশগুলোর অধিকাংশ রাজনীতিবিদ, সামরিক কর্মকর্তা এবং জনগনের কথা শুনলে মনে হয় তাদের স্বপ্নই হলো আম্রিকা-ইউরোপ ধবংস করা। তাহলে মুভিতে মুসলিম জনগোষ্টিকে নেতিবাচকভাবে দেখানোটা কি মিথ্যা?
আপনি গ্রেটার ইজরায়েল বানানোর জন্য সবসময় তাদের ধবংস লীলার কথা বলেন, তাহলে হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথি আর বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠী বছরের পর বছর যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে - এরা কি দেশপ্রেমিক?
০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৪৭
শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার প্রশ্নগুলো সরল, কিন্তু উত্তরগুলো সরল নয়। তাই আপনার প্রশ্নের উত্তরটা অন্যভাবে দিই। একটা বই পড়েছিলাম, নাম দ্য থিন লাইন (The Thin Line)। লেখক একজন আলবেনীয়-কানাডীয়, নাম পেরপারিম কাপলানি। বইটি একটা ছেলের গল্প, যে বসনিয়ার যুদ্ধে তার পরিবারের সবাইকে নিজেদেরই প্রতিবেশীদের হাতে নিহত হতে দেখেছে। এখন ছেলেটার জীবনের একটাই লক্ষ্য, একটা অটোমেটিক রাইফেল কিনে নিজের দেশে ফিরে গিয়ে সেই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিবে।
এ রকম আরেকটি বই আছে, দ্য সোমালি ক্যামেল বয় (The Somali Camel Boy), এই নামে, লেখকের নাম নুর আবডি। সেখানে সোমালিয়ার এক উটের রাখাল শরণার্থী হয়ে টরন্টোতে আসে। কিন্তু তার ধ্যান-জ্ঞান একটাই, দেশে ফিরে গিয়ে যে অন্য গোত্রের লোকেরা তার বাবাকে হত্যা করেছিল, তাদের খুঁজে বের করে পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিবে।
ঠিক উপরের গল্পগুলোর মতই হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথি এরা প্রধানত প্রতিরোধশক্তি। তাদের প্রতিরোধের পদ্ধতিটা জঙ্গি বাহিনীর হলেও হতে পারে। এই আলোচনায় যাওয়ার আগে আপনাকে প্রথমে খোলা মনে ইসরায়েল ও আমেরিকার অপকর্মের ধারাবাহিক ইতিহাস পড়াশোনা করে জানতে হবে।
©somewhere in net ltd.
১|
০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মুসলিম অভিবাসী হিসেবে আমার দায়িত্ব হল আমার আচরণ ও সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে
প্রমাণ করা যে আমি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ব্যক্তি-স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং বহুত্ববাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
...............................................................................................................................................
মুসলিম অভিবাসী মানেই হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ করে বা সমর্থন করে তা হতে পারেনা ।
সে কারনে তথ্যগত সম্প্রচার ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালাতে হবে ।
পাশাপাশি খৃষ্টান সমাজে কিছু উগ্র জনগন কিভাবে বন্দুক যুদ্ধ করে শিশু, নারী হত্যা করে, তার
বয়ান থাকতে হবে ।