নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

সত্যপথিক শাইয়্যান

আমার কাছে অনেক আইডিয়া আছে এবং আমি তা ব্লগে এপ্লাই করি! জানেনই তো, পৃথিবীর সব কিছুর মূলে রয়েছে আইডিয়া!

সত্যপথিক শাইয়্যান › বিস্তারিত পোস্টঃ

দারিদ্র্য দূরীকরণ: জাতীয় নিরাপত্তার অবহেলিত স্তম্ভ

২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৫৮

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বলতে আমরা কী বুঝি? সীমান্তে সেনা, আকাশে যুদ্ধবিমান, সমুদ্রে নৌবহর—এই দৃশ্যই আমাদের মানসচক্ষে ভাসে। জাতীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়, যা নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকে যায় - ক্ষুধার্ত, বেকার ও হতাশ জনগোষ্ঠী নিয়ে কি কোনো রাষ্ট্র নিরাপদ থাকতে পারে?

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বাস্তবতা বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না; এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শান্তির ওপর নির্ভরশীল। আর এই স্থিতিশীলতার ভিত্তি হলো দারিদ্র্য হ্রাস ও জীবিকার নিরাপত্তা।

বাজেটের আয়নায় নিরাপত্তা নীতি: প্রতিরক্ষা বনাম কৃষি

২০২৪–২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৪২,০১৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। অন্যদিকে, একই বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ ছিল প্রায় ২৭,২১৪ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের মাত্র ৩.৮ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান আমাদের সামনে একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে—রাষ্ট্র নিরাপত্তার ধারণা এখনো প্রধানত সামরিক খাতে কেন্দ্রীভূত, অথচ দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষিনির্ভর।

২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দের অংশ প্রায় ৫.৮–৬ শতাংশের কাছাকাছি, যা বিশেষজ্ঞদের মতে প্রয়োজনের তুলনায় কম। অর্থাৎ, বাজেটের আকার বাড়লেও কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির ভাগ বাড়ছে না।

কৃষি বাজেট কমে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে

বাজেটে কৃষির অংশ কমে গেলে এর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়। কৃষিতে বিনিয়োগ কমে গেলে উৎপাদন ঝুঁকি বাড়ে, গ্রামীণ দারিদ্র্য বাড়ে, শহরমুখী অভিবাসন বাড়ে এবং সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়। ইতিহাস বলছে, খাদ্য সংকট ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বহু দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণঅভ্যুত্থান ও সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে গ্রামীণ দারিদ্র্য বাড়া মানে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। অর্থনৈতিক হতাশা রাজনৈতিক চরমপন্থা, সামাজিক বিভাজন ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের জন্য উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে—যা কোনো যুদ্ধবিমান দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪২

আলামিন১০৪ বলেছেন: কৃষিখাতে বাজেট বাড়ালেই কি কৃষকদের উন্নতি হবে? কৃষিপ্রকল্পগুলো ঘেটে আসুন- দেখবেন কিরকম হরিরলুট চলে...
বাংলােদেশের প্রতিরক্ষা খাতে অর্থ ব্যয় জরুরী তবে সব খাতেই সীমাহীন দুর্নীতির কারণে- ব্যয়িত অর্থের সামান্যই কাজে লাগে..মূল সমস্যা এখানেই

২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



হরিলুটের পরেও কিছু অংশ কৃষকের থাকে।

ধন্যবাদ।

২| ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: এই স্থিতিশীলতার ভিত্তি হলো দারিদ্র্য হ্রাস ও জীবিকার নিরাপত্তা।

......................................................................................
আমাদের দেশের রাজনীতি ও সরকার গঠন সঠিক পথে চালিত না
হলে এসব কিছুই আপগ্রেড হবেনা ।

২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৮

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



দারিদ্রতা হ্রাস করতে হলে আগে কৃষির উপরে নজর দিতে হবে।
ধন্যবাদ নিরন্তর।

৩| ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪০

রাজীব নুর বলেছেন: পড়লাম।
শিক্ষা এবং কৃষিখাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন।

২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৯

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



শিক্ষা ও কৃষিখাতের উপরে নজর দিতে হবে।
ধন্যবাদ নিরন্তর।

৪| ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৪০

আলামিন১০৪ বলেছেন: উদাহরণ দিই কয়েকটা,

১। কৃষকের ধান/ফসলের উৎপাদন বাড়াতে কোটি কোটি টাকার প্রকল্পের নামে স্যাটেলাইট চিত্র হতে পানির প্রয়েজেনীয়তা নিরূপনের নামে অপচয়
২। ডিজিটাল ইলিভেশন মডেল তৈরীর প্রকল্প- অথচ বাংলাদেশে কৃষিখাতে জমিসমূহের উচ্চতাভিত্তিক শ্রেণীবিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় উপাত্ত বহু আগে থেকেই বিদ্যমান-
৩। কৃষি উৎপাদনের জরিপের নামে ড্রোন প্রযুক্তির প্রকল্প, যেখানে প্রতি উপজেলায় একজন মাত্র কর্মী নিয়োগ করে কৃষকদের নিকট হতে অল্প খরচে ফসলের জরিপ করা যায়...

এ টাকার কোন অংশ কৃষক পাবে বলে আপনার ধারনা?



২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:১০

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



আপনি আমার কনসেপ্টটা ভালো করে পড়েন নাই।

শেয়ার্ড এগ্রিকালচারাল ডাটার ধারনা দিয়েছি আমি। এর অর্থ - স্যাটেলাইট হতে প্রাপ্ত কৃষি ডাটা কোন একক দেশের হবে না। তা রিজিওনালই কালেক্ট এবং ডিসসেমিনেট হবে।

যেমন - সার্ক, আসিয়ান, ই.ইউ ইত্যাদি সংগঠন যদি মিলিত ভাবে কৃষি স্যাটেলাইট পাঠায় তখন সেই ডাটা একে ওপরের সাথে শেয়ার করতে পারবে।

কিছু বুঝেছেন?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.