| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সত্যপথিক শাইয়্যান
আমি একজন চিন্তুক, সমাজ নিয়ে চিন্তা করি! সমাজের ভালোর জন্যে গান-গল্প-ছড়া লিখি ও আইডিয়া শেয়ার করি। আপনি?
সামুতে কিছু ব্লগার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ব্যবহার করে পোস্ট লিখেন বলে অভিযোগ আছে। কিছু ব্লগার এ আই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কমেন্ট লিখেন। তবে, খালি চোখে সেইসব লেখা ধরার একটি উপায় হচ্ছেঃ আপনি যদি পোস্টে ছোট এরকম ' - ' এর জায়গায় লম্বা ড্যাশ '—' দেখেন, তাহলে, বুঝে ফেলবেন, এটা এ আই দিয়ে লেখা!
এছাড়া, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ধরার কিছু প্রযুক্তি অনলাইনে পাওয়া যায়। তবে, এক্ষেত্রে, আপনি যদি এ আই দিয়ে লেখা আর্টিকেল জিমেইল/হোয়াটসএপে কপি পেস্ট করে পোষ্ট করার পরে তা আবার কপি করে কোথাও পোস্ট করলে ধরাটা খুবই মুশকিল!
এছাড়াও, স্ক্রিন শট করা ছবিও বাজারে পাওয়া প্রযুক্তি বেশির ভাগই ধরতে পারে না!
সেজন্যে, এমন একটি এপ্লিকেশনের আইডিয়া মাথায় এসেছে, যা দিয়ে উপরে উল্লেখিত এ আই ধরার প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়ার পদ্ধতিকেও ধরা খাইয়ে দিবে! এই পদ্ধতি সামুর মতো লেখা নির্ভর ওয়েবসাইটে দরকার।
২|
১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৯
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
এই পোস্টটি একটি সমসাময়িক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে লেখা তৈরি, সম্পাদনা কিংবা মন্তব্য করার প্রবণতা বাড়ছে। ফলে সামহোয়্যারইন ব্লগের মতো লেখানির্ভর একটি প্ল্যাটফর্মে কোন লেখাটি মানুষের নিজস্ব চিন্তা থেকে এসেছে, কোনটি এআইয়ের সহায়তায় তৈরি হয়েছে এবং কোনটিতে মানুষের সম্পাদনা ও এআইয়ের অবদান মিলেমিশে আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আপনার প্রস্তাবিত অ্যাপ্লিকেশনটি এই সমস্যার সমাধানে কতটা কার্যকর হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
তবে আপনার পোস্টের একটি বক্তব্যের সঙ্গে আমি পুরোপুরি একমত হতে পারছি না। আপনি বলেছেন, লেখায় ছোট হাইফেনের পরিবর্তে লম্বা ড্যাশ ‘—’ থাকলে বুঝে নেওয়া যায়, সেটি এআই দিয়ে লেখা। বাস্তবে এই ধারণাকে নির্ভরযোগ্য শনাক্তকরণ-পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। লম্বা ড্যাশ বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষার সাহিত্যিক ও প্রবন্ধধর্মী লেখায় বহুদিন ধরেই ব্যবহৃত হচ্ছে। কোনো লেখক নিজের লেখায় বক্তব্যের বিরতি, ব্যাখ্যা, বৈপরীত্য কিংবা বিশেষ কোনো ভাবকে জোরালো করার জন্য এই চিহ্ন ব্যবহার করতে পারেন। আবার এআই দিয়ে লেখা কোনো লেখা থেকে লম্বা ড্যাশ সরিয়ে দিলেও সেটি এআইয়ের লেখা হওয়া বন্ধ হয়ে যায় না। সুতরাং বিরামচিহ্নের ব্যবহার লেখকের লেখার ধরন সম্পর্কে কিছু ধারণা দিতে পারে, কিন্তু সেটিকে লেখার উৎসের চূড়ান্ত প্রমাণ বলা যায় না।
এআই শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রয়োজন। কোনো শনাক্তকারী সফটওয়্যার একটি লেখাকে এআই-রচিত বলে চিহ্নিত করলেই সেটি নিশ্চিত প্রমাণ হয়ে যায় না। মানুষের লেখা ভুল করে এআইয়ের লেখা হিসেবে শনাক্ত হতে পারে, আবার এআইয়ের সাহায্যে তৈরি লেখা শনাক্তকরণ এড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে ভাষার বৈচিত্র্য, বাক্যগঠন, বানান, আঞ্চলিক শব্দ, লেখকের ব্যক্তিগত প্রকাশভঙ্গি এবং প্রশিক্ষণ-উপাত্তের সীমাবদ্ধতা ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই কোনো ব্লগারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার আগে শুধু সফটওয়্যারের ফলাফলের ওপর নির্ভর করা উচিত হবে না।
আমার মতে, এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো—এআই ব্যবহার করাটাই কি অপরাধ, নাকি এআই ব্যবহার করে নিজের মৌলিক চিন্তা ও অবদান সম্পর্কে পাঠককে বিভ্রান্ত করাটাই মূল সমস্যা? এই দুটি বিষয় এক নয়। একজন লেখক নিজের চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও যুক্তির ভিত্তিতে একটি প্রবন্ধ লিখলেন, পরে বানান সংশোধন, বাক্য পরিমার্জন কিংবা তথ্য গুছিয়ে নেওয়ার জন্য এআইয়ের সাহায্য নিলেন। আরেকজন কোনো বিষয় সম্পর্কে নিজে চিন্তা না করেই এআইয়ের তৈরি লেখা নিজের নামে প্রকাশ করলেন। উভয় ক্ষেত্রেই এআই ব্যবহৃত হলেও লেখকের বৌদ্ধিক অবদান এক রকম নয়।
এআইকে আমি একটি সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে দেখি। একজন লেখক যেমন অভিধান, তথ্যভান্ডার, বই কিংবা সম্পাদকের সহায়তা নিতে পারেন, তেমনি এআইয়ের সাহায্যও নিতে পারেন। কিন্তু এআইয়ের দেওয়া তথ্য যাচাই করা, যুক্তির যথার্থতা বিচার করা, লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব নেওয়া এবং ভুল হলে তা সংশোধন করা লেখকেরই দায়িত্ব। এআইয়ের লেখা অন্ধভাবে গ্রহণ করলে যেমন সমস্যা তৈরি হয়, তেমনি এআইয়ের সহায়তা নেওয়া প্রত্যেক লেখককে অমৌলিক বলে বিবেচনা করাও অন্যায়।
আপনার প্রস্তাবিত অ্যাপ্লিকেশনটি যদি সামহোয়্যারইন ব্লগে চালু করার কথা ভাবা হয়, তাহলে আমার পরামর্শ হবে, সেটিকে শুধু এআই শনাক্তকারী হিসেবে না দেখে লেখার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধির একটি বৃহত্তর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা। যেমন, লেখক চাইলে পোস্টের সঙ্গে জানাতে পারেন—লেখাটি সম্পূর্ণ নিজের রচনা, নাকি তথ্য অনুসন্ধান, ভাষা সম্পাদনা, অনুবাদ কিংবা খসড়া তৈরিতে এআইয়ের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এতে পাঠক লেখাটির প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাবেন। তবে এ ধরনের ঘোষণা কীভাবে দেওয়া হবে, তা ব্লগের নীতিমালা ও লেখকের স্বাধীনতা বিবেচনা করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
আরেকটি বিষয় বিবেচ্য। কোনো অ্যাপ্লিকেশন যদি লেখকের ব্যক্তিগত খসড়া, সম্পাদনার ইতিহাস, কপি-পেস্টের তথ্য কিংবা স্ক্রিনশট বিশ্লেষণ করতে চায়, তাহলে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ও সম্মতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। প্রযুক্তি দিয়ে অসততা কমানোর চেষ্টা করতে গিয়ে যেন লেখকের ব্যক্তিগত তথ্যের অনাকাঙ্ক্ষিত সংগ্রহ বা নজরদারির ব্যবস্থা তৈরি না হয়। প্রযুক্তির কার্যকারিতার পাশাপাশি তার নৈতিক সীমাও নির্ধারণ করতে হবে।
সামহোয়্যারইন ব্লগের জন্য আমার কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নীতি হবে—লেখার মান, মৌলিক চিন্তা, তথ্যের যথার্থতা, যুক্তির গভীরতা এবং পাঠকের প্রতি লেখকের সততাকে গুরুত্ব দেওয়া। কোনো লেখা এআইয়ের সহায়তায় তৈরি হয়েছে কি না, সেটি একটি প্রাসঙ্গিক তথ্য হতে পারে; কিন্তু শুধু এই একটি বৈশিষ্ট্য দিয়ে লেখাটির সাহিত্যিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। এআইয়ের সাহায্যে লেখা দুর্বলও হতে পারে, আবার মানুষের সহায়তায় তৈরি কোনো লেখা যথেষ্ট চিন্তাশীল ও মূল্যবানও হতে পারে। একইভাবে, সম্পূর্ণ মানুষের লেখা হলেই সেটি যে ভালো হবে, তারও নিশ্চয়তা নেই।
আপনার প্রযুক্তিগত উদ্যোগের ধারণাটি তাই আলোচনার যোগ্য। তবে অ্যাপ্লিকেশনটির সাফল্য নির্ভর করবে সেটি কতটা নির্ভুলভাবে কাজ করে, ভুল শনাক্তকরণ কতটা কমাতে পারে, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা কতটা রক্ষা করে এবং তার ফলাফলকে চূড়ান্ত রায় না বানিয়ে যাচাইয়ের একটি সহায়ক উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয় কি না, তার ওপর।
সবশেষে বলব, প্রযুক্তির কাজ হওয়া উচিত লেখককে ভয় দেখানো নয়, বরং লেখালেখির পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। এআইয়ের ব্যবহার বন্ধ করা হয়তো বাস্তবসম্মত সমাধান নয়; বরং দায়িত্বশীল ব্যবহার, তথ্য যাচাই, মৌলিক চিন্তার মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই অধিক কার্যকর পথ। আপনার প্রস্তাবিত অ্যাপ্লিকেশনটি যদি এই লক্ষ্য সামনে রেখে তৈরি করা হয়, তাহলে সেটি সামহোয়্যারইন ব্লগের জন্য সত্যিই উপকারী উদ্যোগ হয়ে উঠতে পারে।
৩|
১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এআই ইউজ করে লিখে সামনে নোবেল পাবে । মিলিয়ে নিয়েন।
৪|
১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৪
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনি যে সামহোয়্যারইন ব্লগে (সামুতে) বসে লেখালেখি করছেন, সেই লেখালেখির সুযোগটুকুও কিন্তু আধুনিক
প্রযুক্তিরই অবদান। কাজেই প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করতে করতে সেই প্রযুক্তিরই একটি উন্নত প্রয়োগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
বা এআই নিয়ে এমন সব কথা বলার আগে একটু ভেবে দেখা প্রয়োজন।
সামু কোনো একাডেমিক প্রতিষ্ঠান নয়, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার হলও নয় যে এখানে কে কতটা মৌলিক,
কে কতটা মেধাবী, আর কে কতখানি নিজের মগজ খাটিয়ে লিখছেন, তার আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন করতে হবে। সামু
মূলত মুক্তচিন্তা, মতবিনিময়, অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি এবং ভাবের আদান-প্রদানের একটি প্ল্যাটফরম। এখানে কেউ
সাহিত্যিক হওয়ার পরীক্ষা দিতে আসেন না, আবার প্রত্যেক ব্লগারকেও নিজের মেধার সনদ জমা দিয়ে লিখতে
বসতে হয় না।
কেউ বইপত্র ঘেঁটে লেখেন, কেউ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লেখেন, কেউ চিন্তাভাবনা করে লেখেন, আবার কেউ
প্রযুক্তির সহায়তায় নিজের বক্তব্যকে আরও সুন্দর, সাবলীল ও মানসম্মত করে তোলেন। পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে,
কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো লেখাটি কতটা অর্থবহ, কতটা যুক্তিসংগত এবং পাঠকের চিন্তায় কতটা প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
একটি বিষয় মনে রাখা দরকার প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া আর নিজের মেধা বিসর্জন দেওয়া এক কথা নয়। এআই
ব্যবহার করলেই কেউ মেধাহীন হয়ে যান না, ঠিক যেমন কলম, কম্পিউটার, ক্যালকুলেটর কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার
করলেই কারও চিন্তাশক্তি বিলুপ্ত হয়ে যায় না। বরং এসব প্রযুক্তিকে কতটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করা যায়, সেটিও
একধরনের যোগ্যতা।
যে কাজ প্রযুক্তির সহায়তায় কয়েক মিনিটে করা সম্ভব, সেই একই কাজ কেবল নিজের মেধা প্রমাণের জন্য ঘণ্টার
পর ঘণ্টা ব্যয় করে করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা কোথা থেকে এল? বাস, ট্রেন কিংবা বিমানে দ্রুত গন্তব্যে
পৌঁছানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি বলেন, নিজের পায়ের শক্তি ও মেধার প্রমাণ দিতে হলে হেঁটেই যেতে হবে,
তাহলে তাঁর যুক্তিকে আমরা কতটা যৌক্তিক বলব? প্রযুক্তি তো মানুষের শ্রম, সময় ও দক্ষতার সর্বোত্তম ব্যবহার
নিশ্চিত করার জন্যই। তাকে কাজে লাগানো বুদ্ধিমত্তার পরিচয়; অকারণে প্রত্যাখ্যান করা নয়।
অবশ্যই, এআইয়ের ওপর অন্ধ নির্ভরতা কাম্য নয়। নিজের চিন্তা, বিচারবোধ ও সৃজনশীলতাকে বিসর্জন দিয়ে
যন্ত্রের তৈরি লেখা হুবহু চালিয়ে দেওয়ার মধ্যে বিশেষ কৃতিত্ব নেই। কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতার সমালোচনা আর এআই
ব্যবহারের বিরুদ্ধে সামগ্রিক বিদ্বেষ ছড়ানো এক বিষয় নয়। প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করতে হবে, কিন্তু সে
অজুহাতে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারকেও অস্বীকার করা যায় না। সমালোচনা হওয়া উচিত অপব্যবহারের,
প্রযুক্তির অস্তিত্বের নয়।
সামুর কপি-পেস্ট বিতর্ক থেকেও শিক্ষা নেওয়া উচিত।
বেশ কয়েক বছর আগে, নামটি ঠিক মনে না থাকলেও যতদূর মনে পড়ে, ব্লগার বিলিয়র রহমান সামুতে লেখার
কপি-পেস্ট নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি শুরু করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সামুর বিভিন্ন ব্লগারের লেখা অন্যত্র কপি
করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমনকি আমার কিছু লেখাও অন্যত্র নকল করে প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি
উদাহরণসহ উল্লেখ করেছিলেন।
এরপর সামুর লেখা কপি করার সুবিধা বন্ধ করার দাবিতে তিনি এবং তাঁর সঙ্গে আরও অনেকে জোরালো প্রচার-
আন্দোলন শুরু করেন। পরিণতিতে সামু কর্তৃপক্ষ লেখার কপি করার সুবিধা বন্ধ করে দেন।
কিন্তু তাতে সমস্যার কতটা সমাধান হয়েছিল? লেখাচুরি কি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল? নাকি সাধারণ পাঠকদের
জন্য প্রয়োজনীয় একটি সুবিধাই সীমিত হয়ে গিয়েছিল? সামুর লেখা যে এখনো কত সহজে কপি করা যায় তা নীচে
গেলেই দেখতে পাবেন । কোনো লেখার উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধৃত করে তার প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা করা, যুক্তি খণ্ডন
করা কিংবা গঠনমূলক মন্তব্য করার প্রয়োজন প্রায়ই হয়। কপি করার সুবিধা বন্ধ থাকলে সেই সাধারণ কাজটিও
দুরূহ হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, অসৎ উদ্দেশ্যে যারা লেখা চুরি করে, তাদের ঠেকানোর প্রচেষ্টায় সৎ উদ্দেশ্যে লেখা উদ্ধৃত
করতে চাওয়া পাঠকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হল।সামুতে মন্তব্য করার সুযোগ রহিত হয়ে যাওয়ার ফলতো দেখতেই
পাচ্ছেন । বেশীর ভাগ মন্তব্যই এখন yes, not , very good তথা পড়লাম , ভাল লাগল , সুন্দর এই গুটি কয়েক
শব্দে পরিনত হয়েছে ।
আরও লক্ষণীয়, যাঁরা একসময় এ নিয়ে এত তীব্র আন্দোলন করেছিলেন, তাঁদের অনেককেই পরবর্তী সময়ে আর
তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি। ফলে প্রশ্ন জাগে একটি সাময়িক উত্তেজনার বশে নেওয়া সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি সুফল
-অসুফল কি যথেষ্ট বিবেচনা করা হয়েছিল?
এই পুরোনো অভিজ্ঞতা থেকে অন্তত একটি শিক্ষা নেওয়া যায়: কোনো সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে এমন ব্যবস্থা
নেওয়া উচিত নয়, যাতে সমস্যার মূল অপরাধীকে ঠেকানোর চেয়ে সাধারণ ব্যবহারকারীর অসুবিধাই বেশি বেড়ে যায়।
এআই নিয়ে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি কি আমরা দেখতে যাচ্ছি?
সম্প্রতি লক্ষ করছি, সামুর বেশ কিছু ব্লগার এআইয়ের সাহায্যে লেখালেখির বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করছেন।
এআই ব্যবহার করে কেউ যদি নিজের বক্তব্যকে আরও স্পষ্ট করেন, বানান ও ব্যাকরণগত ভুল সংশোধন করেন,
বাক্যগঠন উন্নত করেন কিংবা লেখার মান বাড়ান, তাহলে বিরোধিতাকারীদের প্রতি সন্মান দিয়েই বলছি তাতে
আপত্তির জায়গাটি ঠিক কোথায়? কেউ নিজের লেখার বানান ভুল মুহূর্তের মধ্যে সংশোধন করতে পারছেন,
দুর্বোধ্য বাক্যকে সাবলীল করতে পারছেন, কিংবা নিজের ভাবনাকে আরও সুসংগঠিতভাবে প্রকাশ করতে পারছেন
প্রয়োজনে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারছেন , এগুলি কি লেখালেখির মানোন্নয়নের সহায়ক নয়?
এআইয়ের সাহায্য নেওয়া মানেই এআইকে দিয়ে নিজের হয়ে চিন্তা করানো নয়। একজন লেখক নিজের বক্তব্য,
অভিজ্ঞতা, উপলব্ধি ও অবস্থান নিজেই নির্ধারণ করে নেন আগে পরে এআই সেখানে ভাষা পরিমার্জন, তথ্য
সাজানো কিংবা প্রকাশভঙ্গি উন্নত করার সহায়ক হতে পারে। আবার কেউ চাইলে এআইকে দিয়ে খসড়া তৈরি
করিয়ে সেটি যাচাই-বাছাই ও সম্পাদনার মাধ্যমে নিজের উপযোগী করে নিতে পারেন। কোন পদ্ধতি কতটা
কার্যকর হবে, তা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর দক্ষতা, সততা ও নিজস্ব বিচারবোধের ওপর।
এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এআইকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতেও দক্ষতা লাগে। কী প্রশ্ন করতে হবে,
কী নির্দেশনা দিতে হবে, প্রাপ্ত উত্তরের ভুল কোথায়, কোন তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন, কোন বক্তব্য বাদ দেওয়া
উচিত এবং কীভাবে ফলাফলকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত করতে হবে এসবই দক্ষতার অংশ। এআইয়ের
উত্তর হুবহু গ্রহণ করা আর এআইকে কাজে লাগিয়ে নিজের কাজকে উন্নত করা এক বিষয় নয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, এমনকি বাংলাদেশেও, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া
হচ্ছে। সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতে উদ্যোগ নিচ্ছে বলেই প্রযুক্তিটির গুরুত্ব বোঝা যায়। অতএব, বিশ্ব যখন
নতুন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন আমরা যদি কেবল
পুরোনো ধারণা আঁকড়ে ধরে এর বিরোধিতায় ব্যস্ত হয়ে পড়ি, তাহলে নিজেদেরই পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
আমার বক্তব্য খুবই পরিষ্কার এআইয়ের ব্যবহার হোক মানুষের মেধা, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও লেখার মান
উন্নয়নের স্বার্থে। প্রযুক্তি যেন মানুষের চিন্তাশক্তিকে প্রতিস্থাপন না করে, বরং চিন্তাশক্তিকে আরও কার্যকর
করে তোলে। এআইয়ের ভুল থাকলে তা চিহ্নিত করতে হবে, অপব্যবহার হলে তার সমালোচনা করতে হবে,
তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে হবে। কিন্তু এসব করতে গিয়ে প্রযুক্তির উপকারী ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করার
কোনো যৌক্তিকতা নেই।
খেয়াল রাখতে হবে প্রযুক্তিবিরোধিতার নামে আমরা যেন পিছিয়ে না পড়ি।একটি প্রচলিত অর্থনৈতিক ধারণা
আছে Bad money drives out good money। অর্থনীতির নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত এই ধারণাটিকে
এখানে সরাসরি প্রয়োগ করা না গেলেও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বলা যায় ভুল দৃষ্টিভঙ্গি যেন ভালো উদ্যোগ
ও কার্যকর ব্যবহারের পথ বন্ধ করে না দেয়।
প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করার পরিবর্তে প্রযুক্তির বিরোধিতাকেই যদি আমরা কৃতিত্ব বলে মনে করতে
শুরু করি, তাহলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিটা আমাদেরই হবে। শুনেছি, ভূতের পা নাকি পেছন দিকে হাঁটে। প্রযুক্তির
বিরোধিতা করতে গিয়ে আমাদের মানসিকতা ও চিন্তাভাবনাও যেন সেই ভূতের পায়ের মতো পেছন দিকে
চলতে শুরু না করে!
সবশেষে বলি, কে এআই ব্যবহার করবেন আর কে করবেন না, সেটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ। কেউ নিজের
হাতে লিখে আনন্দ পান, কেউ প্রযুক্তির সহায়তায় লেখেন উভয়েরই সেই স্বাধীনতা থাকা উচিত। কিন্তু নিজের
পছন্দকে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কিংবা এআই ব্যবহারকারীদের মেধা ও যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করাকে
কোনোভাবেই যুক্তিসংগত বলা যায় না।
আর সামুতে যদি এআই শনাক্ত করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করতেই হয়, তাহলে মনে রাখতে হবে, সেই
শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও প্রযুক্তিনির্ভর হবে। অর্থাৎ, এক প্রযুক্তিকে প্রতিরোধ করতে আরেক প্রযুক্তির আশ্রয় নিতে
হবে। অথচ এআই শনাক্তকারী ব্যবস্থাও ভুল করতে পারে; মানুষের লেখা এআইয়ের লেখা বলে চিহ্নিত হতে
পারে, আবার এআইয়ের লেখা শনাক্তকরণ এড়িয়ে যেতে পারে। তাই শুধু শনাক্তকরণের ফলের ভিত্তিতে কাউকে
অভিযুক্ত করাও সমীচীন নয়।
প্রযুক্তিকে ভয় দেখিয়ে, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কিংবা ব্যবহারকারীর মেধা নিয়ে প্রশ্ন তুলে থামিয়ে রাখা যায় না। বরং
প্রযুক্তিকে বুঝতে হয়, শিখতে হয় এবং সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হয়।
আর মজার বিষয় হলো সামুতে লেখা কপি করা সুবিথা বন্ধ থাকলো আর আপনার এই পোস্টের লেখাটিই এখানে
কত অনায়াসে কপি-পেস্ট করা গেল, সেটি নীচে দেখে একবার ভেবে দেখুন , লাভ কী কিছু হল একটি
প্রযুক্তিগত সুবিধা বন্ধ করার জন্য বেহোদা আন্দোলন করে! প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ, প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা নিয়ে
আলোচনা এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার এই তিনটি বিষয়কে এক করে দেখার কোনো কারণ নেই।
প্রযুক্তি আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, মেধা হননের হাতিয়ার নয়, সঠিক ব্যবহারে প্রযুক্তিই হতে পারে আমাদের
দক্ষতা, চিন্তা ও সৃজনশীলতার সহযাত্রী। কাজেই এআইয়ের বিরোধিতা নয়, বরং এআইয়ের যথাযথ ব্যবহার,
সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল প্রয়োগ নিয়েই আমাদের আলোচনা হওয়া উচিত।
নীচে আপনার লেখাটি কপি করে তুলে ধরে দেখানো হল :-
যে প্রযুক্তি সামহ্যোয়ার ইন ব্লগকে এগিয়ে দিবে
সামুতে কিছু ব্লগার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ব্যবহার করে পোস্ট লিখেন বলে অভিযোগ আছে। কিছু ব্লগার এ আই
প্রযুক্তি ব্যবহার করে কমেন্ট লিখেন। তবে, খালি চোখে সেইসব লেখা ধরার একটি উপায় হচ্ছেঃ আপনি যদি
পোস্টে ছোট এরকম ' - ' এর জায়গায় লম্বা ড্যাশ '—' দেখেন, তাহলে, বুঝে ফেলবেন, এটা এ আই দিয়ে লেখা! ![]()
এছাড়া, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ধরার কিছু প্রযুক্তি অনলাইনে পাওয়া যায়। তবে, এক্ষেত্রে, আপনি যদি এ আই
দিয়ে লেখা আর্টিকেল জিমেইল/হোয়াটসএপে কপি পেস্ট করে পোষ্ট করার পরে তা আবার কপি করে কোথাও
পোস্ট করলে ধরাটা খুবই মুশকিল! ![]()
এছাড়াও, স্ক্রিন শট করা ছবিও বাজারে পাওয়া প্রযুক্তি বেশির ভাগই ধরতে পারে না!
সেজন্যে, এমন একটি এপ্লিকেশনের আইডিয়া মাথায় এসেছে, যা দিয়ে উপরে উল্লেখিত এ আই ধরার প্রযুক্তিকে
ফাঁকি দেওয়ার পদ্ধতিকেও ধরা খাইয়ে দিবে! এই পদ্ধতি সামুর মতো লেখা নির্ভর ওয়েবসাইটে দরকার।
৫|
১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫
আলামিন১০৪ বলেছেন: এআই দিয়েও কেউ কেউ মন্তব্য করেন, তা বেশ বুঝা যায়। আমার মনে হয়, এআই দিয়ে কেউ যদি কিছু জানতে চায় তাহলে সামুতে আসবেনা। সামুতে আসে একে অপরের সাথে আইডিয়া-মত-শেয়ার করা বা নিজের কোন উপলব্ধিকে কম্পিউটারের পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে।
আমার মনে হয়, কেউ এআই ব্যবহার করে লম্বা পোস্ট দিয়ে বিরক্তির কারণ হলে নীর পাতায় তার লেখা স্থান হওয়া উচিত না। তা না হলে লোকজন এআই ব্যবহার সামুকে পাঠকহীন বানিয়ে ছাড়বে।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৩৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: পোস্ট লিখেন
পোস্ট পড়ুন
পোস্ট আলোচনা করুন
...........................................................
এর জন্য চাই লেখক ও পাঠক ,
কতজন সময় দেওয়ার লোক আছে ?
তাই প্রযুক্তির যুগে, প্রযুক্তির সাহায্য সবাই নেবে
সেজন্য সাহিত্য থেমে যাবেনা ।