নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হোক না কিছু অচৈতন্য বাক

অব্যক্ত কাব্য

এই প্রকৃতি,এই যে আকাশ! আমার মুগ্ধতায় তার ভিন্ন ভিন্ন বহিঃপ্রকাশ

অব্যক্ত কাব্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

আহা! নক্ষত্রের পতন! এই ধরাদামের সর্বশ্রেষ্ট খেলোয়াড়ের আজই যেনো ইতি!

২০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৬






আর্জেন্টিনার আরেকটি সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো আজ। দুই সোনালী যুগের(প্রথমটি ম্যারাডোনার সময়কাল আর দ্বিতীয়টি মেসির সময়কাল) শিরোপা জয়ে সময়ের ব্যবধান ছিলো ৩৬ বছর। দুই সোনালী যুগের দুই কিংবদন্তী ম্যারাডোনা আর মেসি আজীবন স্মরণীয় ও চর্চিত হবেন নিঃসন্দেহে বলা চলে।
১৯৯০ এর পর এবার ২০২৬ দুইটা ফাইনালে রানার্স আপ। দু'টো ছিলো দুই মহাতারকার টানা দ্বিতীয় ফাইনাল। দুইটিতেই দুই মহাতারকার ইতি! এ যেনো নক্ষত্রেরই পতন!
এই বিশ্ব এমন ফুটবল যাদু আর কবে দেখবে!
এমন চাইলেই কি ফুটবল ঢুকে পড়তে পারবে রাষ্ট্র, সাগর-মহাসাগর পেরিয়ে পাড়া মহল্লা থেকে অন্দর মহলে?
এমন বুদ করে রাখবে কেউ দু পায়ের দারুন ড্রিবলীং, মাপা শর্ট আর দৃষ্টিনন্দন সব পাস আর গোলে?
কেউ চাইলে দখল নিতে পারবে এমন মগজ, মস্তিষ্ক?
তরুনদের রক্তে রক্তে এমন আবেশ ছড়িয়ে দিতে পারবে কেউ?
আকাশী নীলের বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া স্পন্দন কি আর এতোটা আন্দোলিত করবে কাউকে?
মেসি মহাকালের মহাতারকা! চাইলেই এমন একজন সহজেই গড়ে উঠেনা। হৃদয় থেকে হৃদয়ে ঠাঁই খুজে পাওয়া এতো সহজ নয়।
৮ বার ব্যালন ডিঅর, ফিফা দ্য বেস্ট ৮বার, ফিফা বিশ্বকাপ গোল্ডেনবল ২ বার, দুইটি কোপা আমেরিকা জয়, তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা, একটিতে চ্যাম্পিয়ন, দুইটি রানার্স আপ, একটি ফাইনালিসিমা, একটি অলম্পিক স্বর্ণপদক জয়, চারটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস্ লীগ জয়, লা লিগা ১০টি, কোপা দেল রে ৭টি, স্প্যানিশ সুপার কাপ ৮টি, উয়েফা সুপার কাপ ৩টি, ফিফা ক্লাব কাপ ৩টি, এক ক্যালেন্ডার বর্ষে সর্বাধিক ৯১ টি গোল, ক্লাব ফুটবলে বার্সোলোনার হয়ে সর্বাধিক ৬৭২টি গোল, লা লিগার ইতিহাসে সর্বাধিক ৪৭৪ টি গোল এবং ১৯২টি অ্যাসিস্ট, ফুটবল ইতিহাসে সর্বাধিক ৩৫০+ অ্যাসিস্টসহ কি নেই অর্জনের তালিকায়?
একা হাতে বয়সের ভারে ন্যূব্জ একটি দলকে টেনে ফাইনালে তোলা। কি করেননি একটি মানুষ। প্রতিটি খেলোয়াড়কে বন্ধুর মতো একই সুতোয় বেধে একটি দলকে অপরাজেয় রেখে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে আসা জাস্ট অসাধারন।
বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ শুধু মেসির জন্যই ফুটবল খেলা দেখতে বসতো।
আহা! আজ বিদায় হলো কান্নায়, অশ্রুসিক্ত চোখে!
এমন চাইলেই কি আরেকটি মেসির জন্ম সম্ভব?
কত শত বছর অপেক্ষার পর এমন আরেকজন মেসির জন্ম হয়?

কবি জীবননান্দ দাশ বলেছিলেন, "পৃথিবী পুরোনো পথের রেখা হয়ে যায় ক্ষয়,
প্রেম ধীরে মুছে যায়,
নক্ষত্রদেরও একদিন মরে যেতে হয়!"

হয়তো কবির উক্তির মতই আমাদের স্মৃতি থেকে হয়তো কোনো একদিন মেসি মুছে যাবেন, মুছে যাবেন হয়তো নতুনদের আগমনে।
তবে ইতিহাসের পাতায় পাতায় তিনি রয়ে যাবেন চির উন্নত শির।
চির চর্চিত পুরুষ হিসাবে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট হিসেবে।
বিদায় লিও মেসি!
আমাদের তারুণ্যের ম্যাজিক বয় ভালো থাকুন, আনন্দে থাকুন যেমনটি আনন্দে রেখেছিলে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে ২০০৬-২০২৬ খ্রিঃ পর্যন্ত।

মন্তব্য ৯ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৯) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০২

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: বিদায় মেসি।

২১ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৫

অব্যক্ত কাব্য বলেছেন: পুরো বিশ্ব মিস করবে মেসিকে।
কিংবদন্তির বিদায় নক্ষত্র পতনের মতো।

২| ২০ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:১৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: গতকালের (আমাদের দেশের সময়ের হিসেব অনুযায়ী আজকের) ফাইনালে মেসি অত্যন্ত নিষ্প্রভ ছিলেন। দর্শকদের তাকে মাঠে খুঁজতে হয়েছে, তিনি তার চিরাচরিত স্বভাব অনুযায়ী এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, মাঠের সর্বকোণে দৌড়াদৌড়ি করে বেড়ান নাই। তবে এ কথাও সত্য যে বিপক্ষ দলের একাধিক খেলোয়াড় তাকে ঘিরে শক্ত ব্যূহ তৈরি করে রেখেছিল। Argentina shines if Messi does. কিন্তু মেসিকে গতকাল একজন জয়লাভে অনাসক্ত, হতাশাগ্রস্ত , উদাসীন খেলোয়াড় বলে মনে হয়েছে। তবে আর্জেনটিনার গোলরক্ষক খুব ভালো খেলেছেন। জান প্রাণ দিয়ে ম্যাচের পুরো সময়টাতে তো বটেই, দ্বিতীয় অতিরিক্ত সময়ের অর্ধেক পর্যন্ত তিনি অনেকগুলো চমৎকার গোলরক্ষা করে দলকে গোলশূন্য রেখেছিলেন। এর জন্য কৃ্তিত্ব তাকে দিতেই হয়। একেবারে তীরের কাছে এসে যে গোলটিতে তরী ডুবেছিল, সেটাতে তার করার কিছু ছিল না। সেটাও তিনি প্রথম ধাক্কায় ঠেকিয়েছিলেন, কিন্তু রি-বাউন্ডে স্পেনের ৭ নং (বদলি) খেলোয়াড়টি যে দর্শনীয় শটের মাধ্যমে গোলটি অর্জন করেছিলেন, কেবলমাত্র “Hand of God” ছাড়া সেটা ঠেকানোর আর কোন উপায়ই ছিল না।

এ কথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে গতকাল স্পেনিয়ার্ডরা একচেটিয়াভাবে মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছে। তাদের সাথে তুলনায় আর্জেন্টাইনদেরকে মোটেই সমগোত্রীয় মনে হয় নাই। তবুও এই একপেশে খেলায় যে আর্জেন্টাইনরা খেলাটিকে প্রায় শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য রাখতে পেরেছিল, সেটা সম্ভব হয়েছে তাদের গোলরক্ষক এবং রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের জন্য। স্পেনিয়ার্ডদের ছোট ছোট পরিচ্ছন পাস দেয়া ও নেয়ার দক্ষতা ও কৌশল অত্যন্ত দর্শনীয় ছিল। এইসব ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে মাঠের দৈর্ঘ-প্রস্থ ইচ্ছেমত অবলীলায় অতিক্রম করে সুসমন্বিত আক্রমণ রচনায় তাদের দলের প্রত্যেকটি খেলোয়াড় মুন্সীয়ানার স্বাক্ষর রেখেছে। অভিনন্দন স্পেন দলকে, দু'ঘণ্টার এক মহাকাব্যিক ফুটবল সারা বিশ্বের ফুটবল পাগল দর্শকদেরকে উপহার দেয়ার জন্য।

১৮ বছর বয়স্ক, ১৯ নম্বর জার্সি্ধারী লামিন ইয়ামাল এর শুধু মাঠব্যাপী ক্ষিপ্রতা, দক্ষতা ও আক্রমণের কৌশলই যে চোখে পড়েছে, তা নয়। তার খেলা-পরবর্তী বিনয় এবং বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের প্রতি সহৃদয়তা ও সুআচরণও নজর কেড়েছে। পক্ষান্তরে আর্জেন্টিনা দলের দুই একজন খেলোয়াড়ের খেলা-পরবর্তী সহিংসতা এবং বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের প্রতি চড়াও হওয়ার অ-খেলোয়াড়সুলভ আচরণ খুবই দৃষ্টিকটু লেগেছে। এহেন আচরণ ফুটবল খেলোয়াড় এবং খেলাপ্রিয় দর্শকদের নিন্দা কুড়িয়েছে।

খেলাশেষে নিঃসন্দেহে যোগ্যতর দলই জয়লাভ করে বিশ্বকাপ নিয়ে ঘরে ফিরেছে। খেলাটি দেখেছেন, এমন কেউই এ কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারবেন না বলে মনে করি। বিজয়ী দলের প্রতি অভিনন্দন রইলো, বিজিত দলের প্রতি সমবেদনা এবং উভয় দলের প্রতি ভবিষ্যতে আরও ভালো খেলার শুভকামনা।


৩| ২০ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৯

অর্ক বলেছেন: উপরে খায়রুল ভাইয়েট মন্তব্য অনেকটাই আমারও মত। আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েও বলবো, জয় স্পেনেরই প্রাপ্য। শ্রেয়তর দল হয়েই জয়লাভ। আর্জেন্টিনা আসলে দল হিসেবেই ব্যর্থ হয়েছে খেলায়। হতাশাজনক পার্ফরমেন্স। মেসিসহ বাকিরাও একেবারেই নিস্প্রভ ছিলো পুরো ম্যাচে। আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের দুয়েকজনের আচরণ দারুণভাবে হতাশ করেছে। দুঃখজনক। আর্জেন্টাইনরা বিশ্বের সভ্যতম জাতিগুলোর একটি। গতকাল ব্যতিক্রম ছিলো। যাই হোক এদিকওদিক হতেই পারে। সবাই মানুষ তো। তবে স্পেনের জয়েও খুশি। শিরোপা জয় তাদের প্রাপ্য। দারুণ খেলেছে পুরো টুর্নামেন্টে। ২০৩০ এর জন্য শুভকামনা সবার জন্য। ধন্যবাদ।

৪| ২০ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৪১

রাজীব নুর বলেছেন: আমি তো নক্ষত্রের পতন দেখছি না।
মেসি কখনও মুছে যাবে না। ম্যারাডোনা কিংবা প্লে কি মুছে গেছেন?

২১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮

অব্যক্ত কাব্য বলেছেন: নক্ষত্রের বিদায়তো তাকে জাতীয় দলের জার্সিতে খেলতে না দেখা। ধরে নিতে পারেন আগামী বিশ্বকাপে মেসিকে খেলতে দেখবেন না।
তাই নক্ষত্রের পতন বলা হয়েছে।

৫| ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১০

জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার কিন্তু তাদের এই পরাজয়ের কারণে তেমন কষ্ট পাইনি, কারণ ওরা এত বাজে খেলেছে যে ট্রফি ওরা ডিজার্ভ করে না। একদম একতরফা খেলা হয়েছে, ১০ মিনিটের জন্যও আর্জেন্টিনা ভালো খেলেনি। এই বিশ্বকাপে আমি ২০২২ এর আর্জেন্টিনাকে খুঁজে পাইনি, কোন একটি ম্যাচে ও তারা একক আধিপত্য দেখিয়ে জিতে পারেনি, প্রত্যেকটি খেলায় তারা হারতে হারতে জিতে গিয়েছে আর ফাইনালে তো এক মুহুর্তের জন্যও দাঁড়াতেই পারেনি তাই এই পরাজয়ের পিছনে কোন ধরণের অজুহাত খুঁজা ঠিক হবে না।

কষ্ট লাগছে মেসির জন্য, বেচারার বিদায়টা সুখকর হলো না। :((

যোগ্য দল হিসেবে স্পেন চ্যম্পিয়ন হয়েছে- তাদের অভিনন্দন।

২১ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১১

অব্যক্ত কাব্য বলেছেন: একটা দিন যেকোনো দলের খারাপ যেতে পারে। তাই হতাশ না হওয়ায় উচিৎ।
আগামী বিশ্বকাপে সকলে মেসিকে মিস করবে।

৬| ২১ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১২

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.