| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চে সারা বিশ্ব যখন মেতে ওঠে, তখন আমাদের দেশের একদল মানুষের অতি-উৎসাহ এবং অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড সমাজের একটা বড় অংশকে বিভ্রান্ত ও বিরক্ত করেছে। ফাইনাল ম্যাচের রাতেও এর কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। তৌহিদী জনতার বাধার মুখে পড়ে ইদগাহ মাঠে হাজারো সাধারণ মানুষ খেলা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে তাদের এ ধরনের একের পর এক বাধা দান কর্মসূচি দেখা গেছে।
কখনো তারা বিদেশি পতাকাকে ইসলামের জন্য হুমকি মনে করে সেগুলোর বিরুদ্ধে ইসলামী পতাকা টাঙিয়ে নিজেদের মতো করে প্রতিবাদ করেছেন, আবার কখনো সাধারণ মানুষের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম খেলা দেখাকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। মিডিয়ায় পতাকার এই ব্যবহার নিয়ে একের পর এক খবর প্রচার হওয়া এবং সরকারিভাবে চাপ আসার পর এই ধরনের চরমপন্থা কিংবা বাধা দান কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
এমন অদ্ভুত ঘটনাও এবার সাধারণ মানুষ দেখতে পেয়েছে যেখানে মাদ্রাসার তহবিলের অনুদানের টাকা পর্যন্ত খরচ করে নানা দেশের পতাকার বিপরীতে কালেমা খচিত কালো পতাকা টানানোকে অনেকে তাদের ইমানি দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করেছেন। তাদের মনে একটিই গভীর আক্ষেপ যে মানুষ নাকি বিদেশি কালচারের জোয়ারে ভেসে গিয়ে নিজেদের সৃষ্টিকর্তাকে পুরোপুরি ভুলে বসে আছে। তারা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে মানুষ ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে আসে না, অথচ রাতের পর রাত জেগে ফুটবল খেলা উপভোগ করে। কিন্তু একটা বিষয় অদ্ভুত লাগে; দেশের তরুণেরা কিন্তু সারা বছর জুড়েই স্প্যানিশ লা লিগা কিংবা ফ্রেঞ্চ লিগের আন্তর্জাতিক খেলাগুলো নিয়মিত উপভোগ করে। কিন্তু তৌহিদী জনতার সমস্ত চুলকানি এবং আপত্তি কেন যেন কেবল চার বছর পর আসা বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় এসে একেবারে তুঙ্গে ওঠে ?
এবার কিছু প্রভাবশালী মুসলিম দেশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। সৌদি আরব কিংবা মিসরের ধর্মীয় আলেম ও উলামারা কি তৌহিদী জনতার মতো এই ধরনের উগ্র ও হঠকারী কাজ করেছেন? এমন কোনো সংবাদ কিন্তু কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে আসেনি। তাহলে কেবল বাংলাদেশের তৌহিদী জনতার মূল সমস্যাটা ঠিক কোন জায়গায়?
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যে ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে, পরিসংখ্যান কিন্তু তেমন তথ্য দেয় না। দেশে বর্তমানে কওমি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখে গিয়ে ঠেকেছে, যা পৃথিবীর যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তান কিংবা ভারতের তুলনায় এই সংখ্যাটি প্রায় তিন গুণ। এখন অলিগলিতে এবং পাড়ায় পাড়ায় কওমি মাদ্রাসা ও ধর্মীয় দান তহবিলের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে।
দেশের সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন পেশার প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বরা ইদানীং ধর্মকর্মের দিকে এতটাই ঝুঁকছেন যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রনায়িকা ববিতাও জীবনের শেষ বয়সে একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। তাহলে সমাজ যখন এমনিতেই ধর্মের স্বাভাবিক ধারায় চলছে, তখন এই তৌহিদী জনতা কেন অহেতুক এমন লফালাফি ও চরমপন্থা প্রদর্শন করছে? সময় তো এখন তাদেরই অনুকূলে, মানুষ ধর্মকর্মে মনোযোগী হচ্ছে, তাহলে কেবল খেলাধুলা নিয়ে এত হইচই এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কী কোনো যৌক্তিকতা আছে? মানুষ যখন নিজেরাই একসময় উপলব্ধি করে খেলা থেকে সরে আসবে, সেই সময়টুকুর অপেক্ষা করাই তো তাদের জন্য সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত হতো।
তৌহিদী জনতা কি আসলেই জানে যে এই দেশের সাধারণ তরুণ বা মধ্যবিত্ত মানুষ যারা গভীর রাত জেগে খেলা দেখছে, তারা কিন্তু দিনের বেলায় ঠিকঠাকমতো নিজেদের চাকরি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যায় ? তারা নিয়মিত দান-খয়রাত করছে, সময়মতো সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছে এবং নিজেরাও কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গতিশীল ও সচল রেখে চলেছে মূলত এই খেলাপাগল খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষগুলোই। অন্যদিকে তৌহিদী জনতা কেবল মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করা ছাড়া এমন আর কোন উৎপাদনশীল কাজ করছে, যার ভিত্তিতে তারা সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়ে বলতে পারে যে খেলা দেখার কারণে তাদের পেশাগত বা জাতীয় কাজকর্মে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ?
বিশ্বকাপের সময় দেশের অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে একধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সাধারণ শিক্ষার্থী বিশ্বকাপের সময় মাত্র এক মাস জার্সি বিক্রি করে লাখ টাকার ওপরে ইনকাম করেছেন। দেশের অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে খেলাধুলার এই পরোক্ষ প্রভাব অনস্বীকার্য। অফিশিয়াল সাবস্ক্রিপশন না কিনে সেই টাকাটা তৌহিদী জনতার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান করলেই হয়তো তারা সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট হতেন। এছাড়া আর কোনো লজিক মাথায় আসে না ।
photocard courtesy : bd24report
২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৪৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: শেখ হাসিনার উন্নয়ন , মাদরাসার শিক্ষার সম্প্রসারণ ।
২|
২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৪
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বিশ্বকাপের সময় দেশের অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে একধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
.............................................................................................................................
এটা বুঝার বিজ্ঞান তাদের জানার প্রয়োজন নাই । তাদের মাথা ওয়াশ করা হয়ে গেছে
যা ফরমান আসবে তাই করবে । বিশ্বকাপ শুরুর দিনই আমি এই বিষয়ে মসজিদের
বয়ান শুনেয়িছিলাম ।
২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৫০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এরা বয়ান দিয়েই বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলবে ।
৩|
২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৭
নাহল তরকারি বলেছেন: ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম। ইসলাম একটি ভালো ধর্ম।
২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৫০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার সাথে একমত ।
৪|
২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৫৪
ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: ব্যক্তিগতভাবে আমি ফাইনাল ম্যাচ ছাড়া এবারের বিশ্ব কাপের আর কোন ম্যাচ দেখিনি, দেখার প্রয়োজনও মনে হয় নি। আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি হলো, যারা খেলছে তারা টাকা কামাচ্ছে অন্যদিকে আমি আমার টাকাও নষ্ট করছি আবার মূল্যবান সময়ও অপচয় করছি। এটা এক ধরনের আর্থিক ও সময়ের বিলাসিতা যেটা করার মত সক্ষমতা আপাতত আমার নেই। তাই বলে কেউ এসে আমাকে দেখতে বারণ করবে বা করতে বাধ্য করবে সেই ধারনার সাথেও আমি একমত নই। এই ধরনের অযাচিত চুলকানি বাঙালীর একটু বেশীই দেখা যায়। আম জনতা মিলে তৌহিদী জনতাকে সরাসরি ফেইস করুন নয়তো ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এগুলো শুভ লক্ষণ নয়। ধন্যবাদ।
২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:১৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
৫|
২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:২৪
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: নিপাত যাক তৌহিদী জনতা।
২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সামনে ফাগুনে এরা দ্বিগুণ হবে ।
৬|
২১ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:৩৬
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
তৌহিদী চুতিয়া।
৭|
২১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪১
সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: আপনি তো মাতিয়ে ফেললেন! ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০৬
নতুন বলেছেন: আমাদের দেশে আমীষ গোস্ঠির এমন আবাদ কেন বেড়ে যাচ্ছে সেটা নিয়ে সমাজ বিজ্ঞানীদের একটু গবেষনা করা দরকার।

দেশের এমন অবস্থা হইলে ১০-১৫ বছর পরে ভবিষ্যত অন্ধকার।
বিশ্বের মানুষ এআই শেখে, মঙ্গলে যাবার পরিকল্পনা করে, আমাদের দেশের মানুষ মাদ্রসা খোলে।