নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কাট ইয়োর বডি এর্কোডিং টু ইয়োর ইমেজ

শরৎ চৌধুরী

তুমি তোমার ইমেজ মতইপ্রোফাইল বানাওকি ব্লগেকি জীবনে

শরৎ চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভঙ্গুর ভবিষ্যৎ এর ভয় কি আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে?

০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১২


আমরা প্রায়ই একটা কথা শুনি—
“ডিপ্রেশন ছিল”, “প্রেশার নিতে পারেনি”, “পারিবারিক সমস্যা ছিল”…

তারপর গল্পটা শেষ।

কিন্তু সত্যি কি এতটাই সহজ?

বাংলাদেশে ২০২৫ সালে অন্তত ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে ৭৭ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, ৯২ জন কলেজ শিক্ষার্থী, ১৯০ জন স্কুলশিক্ষার্থী, আর ৪৪ জন মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ছিল। আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩১০। অর্থাৎ এক বছরে বড় ধরনের বৃদ্ধি হয়েছে।

তাহলে প্রশ্ন হলো: এটা কি শুধু “ডিপ্রেশন”?
নাকি এর পেছনে আরও বড় সামাজিক, পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক, আর ঐতিহাসিক চাপ আছে—যেটা আমরা দেখতে চাই না?

আমার মনে হয়, আসল প্রশ্নটি এখানে: আমাদের শিক্ষার্থীরা কি ভবিষ্যতের উপর আস্থা রাখতে পারছেন?
যে ভবিষ্যতের জন্য তারা এত পড়ছে, এত সহ্য করছে, এত তুলনা মেনে নিচ্ছে—সেই ভবিষ্যৎ কি তাদের কাছে এখনও বিশ্বাসযোগ্য আছে?

শুধু “একাডেমিক প্রেশার” বললে সমস্যাটা ছোট হয়ে যায়। কারণ এই চাপ শুধু পড়াশোনার চাপ না। এর মানে হলো—
বাবা-মার সব আশা তোমার ওপর,
ভালো ফল মানে পরিবারের সম্মান,
খারাপ ফল মানে লজ্জা,
দেরি মানে পিছিয়ে পড়া,
আর ব্যর্থতা মানে যেন মানুষ হিসেবেও ছোট হয়ে যাওয়া।

এখানে পড়াশোনা আর পড়াশোনা থাকে না। এটা হয়ে যায় নৈতিক মূল্য, সামাজিক সম্মান, পরিবারের বিনিয়োগের জবাব। এই জায়গায় এসে শিক্ষার্থীর ফলাফল শুধু মার্কশিটের বিষয় থাকে না; সেটা তার আত্মসম্মান, পরিবারের মুখ, আর ভবিষ্যতের দরজার সঙ্গে জড়িয়ে যায়।

পরিবারকে আমরা সাধারণত নিরাপদ জায়গা ভাবি। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার সত্যিই সবচেয়ে বড় সাপোর্ট। কিন্তু একই সঙ্গে পরিবার অনেক সময় সবচেয়ে বড় চাপের জায়গাও হয়ে ওঠে।
“তুই তো আমাদের আশা”
“আমরা তোকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখি”
“এই রেজাল্ট করলে কী হবে?”
এই কথাগুলো আলাদা করে খারাপ না। কিন্তু যখন একজন শিক্ষার্থী প্রতিদিন এগুলো শুনতে শুনতে বড় হয়, তখন এগুলো ভয়, অপরাধবোধ, আর নিজের প্রতি ক্ষোভে পরিণত হতে পারে। তখন সে শুধু নিজের জন্য ব্যর্থ হয় না; তার মনে হয় সে পুরো পরিবারকেই হতাশ করছে।

এই জায়গাটা সমাজবিজ্ঞানী এমিল দুর্খেইমের কথাকে মনে করিয়ে দেয়। তিনি অনেক আগে বলেছিলেন, আত্মহত্যা শুধু ব্যক্তিগত ব্যাপার না; এটা সামাজিক অবস্থার সঙ্গেও জড়িত। অর্থাৎ মানুষ একা একা ভাঙে না, সমাজের সঙ্গে তার সম্পর্ক, চাপ, বিচ্ছিন্নতা, প্রত্যাশা—এসবও বড় ভূমিকা রাখে। আজকের বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের দিকে তাকালে এই কথাটা নতুনভাবে সত্যি মনে হয়।

সোশ্যাল মিডিয়া এই চাপকে আরও তীব্র করে। ফেসবুক খুললেই দেখি—
কেউ স্কলারশিপ পেয়েছে,
কেউ বিদেশে গেছে,
কেউ স্টার্টআপ করছে,
কেউ “পারফেক্ট লাইফ” দেখাচ্ছে।
তখন নিজের দিকে তাকালে অনেকের মনে হয়:
“আমি পিছিয়ে পড়ছি।”
“আমি কিছুই করতে পারিনি।”
“সবাই এগোচ্ছে, শুধু আমি না।”

এখানে সমস্যা শুধু তুলনা না। সমস্যা হলো, তুলনাটা থামে না।
স্ক্রল শেষ হয় না,
অন্যের সাফল্যের দৃশ্য শেষ হয় না,
নিজের অপ্রতুলতার অনুভূতিও শেষ হয় না।
ফলে ভবিষ্যৎ আর নিজের ভেতর থেকে তৈরি হয় না; সেটা ক্রমশ অন্যের জীবনের সঙ্গে তুলনা করে মাপা হয়।

কোভিড-পরবর্তী বাস্তবতাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোভিড শুধু কিছু মাস বা বছর নষ্ট করেনি; এটা অনেক শিক্ষার্থীর জীবনের ছন্দ নষ্ট করেছে। পড়াশোনার রিদম ভেঙে গেছে, আত্মবিশ্বাস কমেছে, সময়ের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়েছে, অনেকে পিছিয়ে গেছে। অথচ সমাজের প্রত্যাশা কমেনি। আগে যেমন ফল চাইত, এখনো তেমনই চায়। আগে যেমন “সময়মতো সফলতা” চাইত, এখনো তেমনই চায়।
বাংলাদেশের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বড় অংশ বলেছে যে কোভিড-লকডাউন তাদের মানসিক সুস্থতাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে; বিশেষ করে সময়মতো গ্র্যাজুয়েশন ও চাকরি পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ ছিল খুব বেশি।

অর্থাৎ, এখানে মানসিক কষ্ট শুধু দুঃখ বা টেনশন না। এখানে একটা বড় বিষয় হলো—
জীবনের টাইমলাইন ভেঙে যাওয়া।
যে ছন্দে একজন শিক্ষার্থী ভাবত: পড়বো → পাশ করবো → বের হবো → কাজ পাবো → পরিবারকে সাহায্য করবো—
সেই ধারাবাহিকতায় ফাটল ধরেছে।
যখন এই সময়ের ওপর ভরসা নষ্ট হয়, তখন ভবিষ্যতের ওপরও ভরসা নষ্ট হয়।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ স্তর যোগ করেছে। ওই সময় বহু তরুণ-তরুণী অনুভব করেছে—
আমরা একসঙ্গে কিছু বদলাতে পারি,
আমাদের কণ্ঠস্বরের শক্তি আছে,
আমরা ইতিহাসের অংশ।
একটি ২০২৬ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর আন্দোলনের সময় আত্মহত্যার কিছু সূচকে সাময়িক পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। এর মানে এই না যে কষ্ট উধাও হয়ে গিয়েছিল; বরং অনেকের ব্যক্তিগত কষ্ট সাময়িকভাবে সমষ্টিগত শক্তি, অংশগ্রহণ আর অর্থবোধের ভেতর ঢুকে গিয়েছিল।

কিন্তু আন্দোলনের পর?
আবার ফিরে এসেছে—
ক্লাস,
রেজাল্ট,
অ্যাসাইনমেন্ট,
পারিবারিক চাপ,
চাকরির অনিশ্চয়তা।
অর্থাৎ, একবার বড় স্বপ্ন দেখে আবার ছোট, ভঙ্গুর, চাপপূর্ণ বাস্তবতায় ফিরে আসা—এটাও এক ধরনের ধাক্কা।
একবার যদি মনে হয় “আমরা ইতিহাস বদলাতে পারি”, তারপর যদি বাস্তবতা আবার বলে “এখন CGPA, deadline, চাকরি, টিকে থাকা”—তাহলে সেই মানসিক ফারাকও গভীর হতে পারে।

সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গা সম্ভবত এখানেই:
শিক্ষার্থীরা একা না, তবুও একা।
চারপাশে পরিবার আছে, সহপাঠী আছে, শিক্ষক আছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার মানুষ আছে—
কিন্তু কেউ সত্যিকার অর্থে “শোনে” না।
আমরা জিজ্ঞেস করি, “কেমন আছো?”
কিন্তু উত্তর শোনার জন্য থামি না।
আমরা ফল জানতে চাই, অনুভূতি না।
আমরা সাফল্য দেখতে চাই, সংকেত না।
আমরা সমস্যা বোঝার আগে ব্যাখ্যা দিয়ে দিই।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর করা একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে, perceived social support বা অনুভূত সামাজিক সমর্থন যত বেশি, আত্মহত্যামূলক চিন্তার ঝুঁকি তত কম। আর distress, stress, anxiety, depression যত বেশি, ঝুঁকিও তত বেশি। অর্থাৎ, এখানে একটা বড় শিক্ষা আছে: সমস্যাটা শুধু “মনের অসুখ” না; সমস্যাটা সমর্থনের অভাব, একাকিত্ব, অশ্রুত কষ্টও।

এই জায়গায় আমি একটি ধারণা ব্যবহার করতে চাই: ভাঙা ভবিষ্যৎ-আস্থা।
আর একটু তাত্ত্বিক ভাষায় বললে, এটা fractured futurehood—
অর্থাৎ এমন এক অবস্থা, যেখানে ভবিষ্যৎ আর ভরসার জায়গা থাকে না; বরং চাপ, ভয়, দায়, তুলনা আর অনিশ্চয়তার জায়গা হয়ে যায়।

আমাদের শিক্ষার্থীরা আজ শুধু পড়াশোনা করছেন না। তারা একসঙ্গে লড়ছেন—
পরিবারকে খুশি রাখতে,
নিজের সম্মান বাঁচাতে,
অন্যদের সঙ্গে তাল মিলাতে,
ভবিষ্যৎকে “সার্থক” প্রমাণ করতে,
এবং সবসময় মানসিকভাবে “ঠিক আছি” এমন একটা মুখোশ ধরে রাখতে।
কিন্তু সেই ভবিষ্যৎ যদি পরিষ্কার না হয়,
চাকরি যদি অনিশ্চিত হয়,
সময় যদি ভেঙে যায়,
সমাজ যদি শুধু মূল্যায়ন করে কিন্তু ধরে না,
তাহলে শিক্ষার্থীরা কীভাবে সেই ভবিষ্যতের ওপর আস্থা রাখবে?

সুতরাং, সমস্যাটা শুধু “ডিপ্রেশন” না।
সমস্যা হলো—
আমরা এমন এক সমাজ বানিয়েছি, যেখানে ভবিষ্যৎটাই অনেকের কাছে ভয়ংকর, ভারী, আর অবিশ্বাস্য হয়ে উঠছে।

কী করা যেতে পারে?

প্রথমত, “সমস্যা ছিল” বলে গল্প শেষ করা যাবে না।
দ্বিতীয়ত, রেজাল্টের আগে মানুষটাকে দেখতে হবে।
তৃতীয়ত, তুলনা কমাতে হবে—“ও পারে, তুই পারিস না” এই কথাগুলো অনেক সময় ছুরির মতো কাজ করে।
চতুর্থত, কাউন্সেলিং আর সাহায্য চাওয়াকে লজ্জার কিছু ভাবা যাবে না।
পঞ্চমত, পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয়, আর সমাজ—সবাইকে শিখতে হবে:
সব চাপই চোখে দেখা যায় না,
সব ভাঙনই প্রকাশ পায় না,
সব বিপদই শেষ মুহূর্তে আসে না।

শেষ কথা একটাই:

সমস্যা এটা না যে আমাদের শিক্ষার্থীরা দুর্বল হয়ে গেছে।
সমস্যা হলো—
আমরা তাদের এমন এক ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছি,
যেটার ওপর তারা নিজেরাই ধীরে ধীরে আস্থা হারাচ্ছেন।

ভবিষ্যৎ যদি আর ভরসার জায়গা না থাকে,
তাহলে বেঁচে থাকাটাও কঠিন হয়ে যেতে পারে।

তাই এখন সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন হলো:
আমাদের শিক্ষার্থীরা কি ভবিষ্যতের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন?
যদি উত্তর “না” হয়,
তাহলে সমস্যাটা শুধু ব্যক্তির না—সমগ্র সমাজের।

শরৎ চৌধুরী, ৫ই এপ্রিল, ২০২৬।

মন্তব্য ৯ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৯) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫

শায়মা বলেছেন: অবশ্যই সমস্যাটা শুধু ব্যক্তিকেন্দ্রিক নহে।

একটি শিশুর জীবনে যেমন প্রথম বিদ্যালয় তার পরিবার ঠিক তেমনই সকল সার্থকতা, ব্যার্থতা, হতাশা বা আশার কারনের মূলে প্রথমেই থাকে পরিবার। এমনটাই মনে হয় আমার। একজন মা বা বাবা নিজে যা তার থেকেও তার সন্তানকে আরও উচ্চস্থানে আসীন দেখতে চান আর তাই নিজেদের আশা নিরাশা ব্যর্থতা সব চাপিয়ে দেন সন্তানের উপরে। এতে সন্তানের সামর্থ কতখানি দেখার কথা যেমনই ভাবেন না তেমনই ছলে বলে কৌশলে প্রেশার ক্রিয়েট করতেই থাকেন। বকাঝকা, লজ্জা দেওয়া, ভয় দেখানো এসব তো উনিশবিশ হলেও অনেক বাবা মা বাচ্চাদের ঘাড়ে চাপাতেই থাকেন।

এরপর আছে পারিপার্শ্বিক আর সামাজিক চাপ। সেই একই লজ্জা ভয় হতাশা। সব মিলিয়ে একটা মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিতে জানেই না যেন আমাদের সমাজ। হ্যাঁ যা খুশি তাই করতে দিলে, যা মনে চাই সেভাবে চলতে দিলে মানে যথেচ্ছাচারী জীবন মাইকেল মধুসূধনের পরিনতিও মনে করিয়ে দেয়। তবে এটাও সত্য মাইকেল মধুসূধন যথেচ্ছাচারী জীবনের বিনিময়ে তার প্রতিভার স্ফূরনও দেখিয়েছিলেন।

০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:২৪

শরৎ চৌধুরী বলেছেন: শায়মা, খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। সমস্যাটা সত্যিই শুধু ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়; এর গভীরে পরিবার, সামাজিক প্রত্যাশা, তুলনা, লজ্জা আর ভয়—সবই কাজ করে। পরিবার একজন শিশুর প্রথম আশ্রয় হওয়ার কথা, কিন্তু অনেক সময় সেখানেই অপূর্ণ স্বপ্ন, অতিরিক্ত প্রত্যাশা আর চাপের শুরু হয়। তারপর সমাজ এসে সেটিকে আরও কঠিন করে তোলে।

২| ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মানুষ একা একা ভাঙে না, সমাজের সঙ্গে তার সম্পর্ক, চাপ, বিচ্ছিন্নতা,
প্রত্যাশা—এসবও বড় ভূমিকা রাখে।

...............................................................................................
সব চাপই চোখে দেখা যায় না,
সব ভাঙনই প্রকাশ পায় না,
সব বিপদই শেষ মুহূর্তে আসে না।

..............................................................................................
অনেক কথা বলেছেন , সহমত এবং দ্বী-মত ও আছে, তবে এই প্রসঙ্গর
অবতারনার দরকার আছে, কিন্ত বিড়ালের গলায় ঘন্টা বার্ধবে কে ???
দেখছেন না আমাদের ভালো করবে বলে ইন্ট্রীম সরকার এলো , নিজের
আখের গোছাতে এতই ব্যস্ত ছিল যে, শিশুদের টিকা কেনা বন্ধ করে দিল
টিকাদান কর্মসূচী অবহে লা করে চালু রাখল না, এখন শিশু মৃত্যুর হার দ্রুত বেড়ে যাওয়ায়
সবার হুশ হলো ।

.................................................................................................................
আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্হার পরিবর্তন না করলে কাঙ্খিত ফলাফল আসবেনা ।
সম্প্রতি আমি জার্মান ঘুরে এলাম । সেখানে সামাজিক বন্ধন ও পরিবারে শিশু শিক্ষার
পদ্ধতি দেখে বল্লাম , এযে দেখছি বাপ- দাদার আমলের কালচার অনুসরন করছে, সেই
সাথে প্রয়োজনীয় আধুনিকতা যোগ হয়েছে ।

০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

শরৎ চৌধুরী বলেছেন: স্বপ্নের শঙ্খচিল, খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। আপনার মন্তব্যের সঙ্গে আমি মূলত একমত—মানুষের ভাঙনকে শুধু ব্যক্তিগত দুর্বলতা দিয়ে ব্যাখ্যা করলে আমরা বৃহত্তর বাস্তবতাকে আড়াল করি। সম্পর্ক, সামাজিক চাপ, বিচ্ছিন্নতা, অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন—এসবই গভীরভাবে কাজ করে। আর ঠিকই বলেছেন, সব সংকট চোখে দেখা যায় না, সব ভাঙনও প্রকাশ্য হয় না।

আপনার আরেকটি কথাও খুবই জরুরি—এই আলোচনা কেবল নৈতিক আহ্বান দিয়ে শেষ করা যাবে না; আর্থ-সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন ছাড়া টেকসই সমাধান আসবে না। পরিবার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা, শিশুর বিকাশ, মানসিক সুস্থতার পরিবেশ—এসবকে একসঙ্গে ভাবতে হবে। শুধু “সচেতনতা” দিয়ে হবে না, নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়ও নিতে হবে।

আপনি যে জার্মানির উদাহরণ দিলেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সমাজে আধুনিকতা মানে পরিবার বা সামাজিক বন্ধনকে ধ্বংস করা নয়; বরং পুরোনো মানবিক ভিত্তিকে ধরে রেখে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো। আমাদের সংকট হলো, আমরা অনেক সময় না পুরোনো মানবিক কাঠামো ধরে রাখতে পারছি, না আধুনিক সহায়ক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারছি।

৩| ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



আগে জানতে হবে আত্মহননের মূল কারণ কি? ছাত্রছাত্রী হলেই যে পড়ালেখার চাপে / ভালো ফলাফলের কারণে / পারিবারিক চাপে - আত্মহত্যা করেছে বিষয়টি এমন নাও হতে পারে (হয়তো)। তাই আগে জানতে হবে মূল কারণ / সমস্যা কি? - তাহলে সমস্যার সমাধানও সম্ভব।

ভালো বিষয় নিয়ে লিখেছেন। আপনাকে অশেষ অশেষ ধন্যবাদ।

০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬

শরৎ চৌধুরী বলেছেন: মূল কারণ বোঝা খুব জরুরি। একজন মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে দিতে পারে মানসিক চাপ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, অনিশ্চয়তা, সম্পর্কের সংকট, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়, পারিবারিক পরিবেশ, অথবা এগুলোর সম্মিলিত প্রভাব। অনেক সময় যে সংকট বাইরে থেকে ছোট মনে হয়, ভেতরে তা অনেক বড় হয়ে উঠতে পারে।

আমার লেখার উদ্দেশ্যও সেটাই—সহজ ব্যাখ্যায় থেমে না গিয়ে, সমস্যাটিকে আরও গভীরভাবে দেখা। কারণ কারণগুলোকে সৎভাবে চিহ্নিত করতে না পারলে, কার্যকর সমাধানও সম্ভব নয়।

আপনার মনোযোগ দিয়ে পড়া এবং মূল্যবান মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

৪| ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৫২

আজাদী হাসান রাজু বলেছেন: অসুস্থ জেনারেশন

০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬

শরৎ চৌধুরী বলেছেন: আজাদী হাসান রাজু, আমি একে শুধু “অসুস্থ জেনারেশন” বলে দেখলে একটু সতর্ক হব। কারণ এতে দায়টা পুরোপুরি তরুণদের ঘাড়ে চলে যায়, কিন্তু যে সমাজ, পরিবার, শিক্ষা-ব্যবস্থা, প্রতিযোগিতা, অনিশ্চয়তা আর বিচ্ছিন্নতার ভেতর তারা বড় হচ্ছে—সেটা আড়ালে থেকে যায়।

অনেক সময় জেনারেশন অসুস্থ না, বরং তাদের ঘিরে থাকা পরিবেশটাই অসুস্থ হয়ে ওঠে। তাই শুধু তরুণদের দোষ দিলে হবে না; আমাদেরও দেখতে হবে আমরা কেমন সমাজ তৈরি করেছি, যেখানে মানুষ ক্রমেই বেশি চাপ, বেশি তুলনা, কম সহমর্মিতা আর কম নিরাপত্তার মধ্যে বাঁচছে।

আরও ছোট, একটু তীক্ষ্ণ ভার্সন:

“শুধু ‘অসুস্থ জেনারেশন’ বললে সমস্যাটা খুব সহজ করে ফেলা হয়। অনেক সময় জেনারেশন না, বরং সমাজের চাপ, বিচ্ছিন্নতা, অনিশ্চয়তা আর সহমর্মিতার অভাবই বেশি অসুস্থ হয়ে ওঠে।”

৫| ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৬

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন এখনকার জেনারেশন আমাদের চেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে। আমি “স্বাধীন ভাবে চলাফেরা” না বলে ভোগ বলেছি! কারণ ভোগ / উপভোগ সব সময় ভালো ফলাফল দেয় না। বেশ কিছু সমস্যা দেখার পর, জানার পর আমার মনে হয়েছে অতিরিক্ত স্বাধীনতা বা স্বাধীনতা ভোগের ফলে জীবনাবসান হয়েছে।

আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনি সময় ব্যয় করে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও মূল্যবান একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.