| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বনলতা এক্সপ্রেস আজ থামানো হয়েছে, কাল থামানো হবে নাটক, বই, গান, কবিতা- তারপর থামানো হবে চিন্তা।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই ঘটনায় শুধু একটি সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ হয়নি; উন্মোচিত হয়েছে আমাদের সাংস্কৃতিক বাস্তবতার নগ্ন চিত্র।
একসময় এই দেশের লেখক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন অন্ধকারে জ্বলা মশাল। জনতার হাততালি নয়, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোই ছিল তাদের পরিচয়। গালি, মামলা, কারাবাস, নিষেধাজ্ঞা- কিছুই তাদের থামাতে পারেনি।
কিন্তু এখন?
এখন অধিকাংশ শিল্পী-বুদ্ধিজীবী নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকেন। ঝুঁকি নিতে চান না। জনপ্রিয়তার বাজারে তারা অনেকেই জনমতের অনুসারী, পথপ্রদর্শক নন। ফলে একের পর এক সাংস্কৃতিক আক্রমণ ঘটলেও প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি তাই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি বিপজ্জনক বার্তা।
যদি একটি রাষ্ট্র-অনুমোদিত চলচ্চিত্র কিছু লোকের চাপের মুখে প্রদর্শিত না হতে পারে, তাহলে আগামীকাল কোনো নাটক মঞ্চস্থ হতে পারবে না, কোনো বইমেলা বন্ধ হয়ে যাবে, কোনো চিত্রপ্রদর্শনী বাতিল হবে, কোনো গান নিষিদ্ধ হবে।
প্রশ্ন হচ্ছে- সিদ্ধান্ত নেবে কে?
আইন, সংবিধান ও রাষ্ট্র?
নাকি রাস্তার চাপ সৃষ্টি করা কিছু গোষ্ঠী?
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, যে দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে সিনেমা দেখেন, সেই দেশের একটি জেলায় মানুষ সিনেমা দেখতে পারবে না- এ কেমন দ্বিচারিতা?
রাজনীতিবিদরা চুপ। কারণ ভোটের হিসাব আছে।
প্রশাসন নীরব। কারণ ঝামেলা এড়ানোর প্রবণতা আছে।
শিল্পীরা নিশ্চুপ। কারণ ঝুঁকি নেওয়ার সাহস কমে গেছে।
কিন্তু ইতিহাস বলে, নীরবতা কখনো কাউকে রক্ষা করেনি।
আজ বনলতা এক্সপ্রেস।
গতকাল ছিল বাউল, গান, নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আগামীকাল হয়তো আপনার বই, আপনার চলচ্চিত্র, আপনার মতপ্রকাশের অধিকার।
সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা হারিয়ে গেলে ক্ষতি কোনো এক চলচ্চিত্রের নয়, ক্ষতি পুরো জাতির।
কারণ সভ্য সমাজে শিল্পের জবাব শিল্প দিয়ে দেওয়া হয়, যুক্তি দিয়ে দেওয়া হয়, সমালোচনা দিয়ে দেওয়া হয়।
হুমকি দিয়ে নয়।
ভয় দেখিয়ে নয়।
প্রদর্শনী বন্ধ করে নয়।
আজ প্রশ্ন একটাই—
অন্ধকারে একা দাঁড়িয়ে থাকার মতো সেই শিল্পী, সেই বুদ্ধিজীবী, সেই সাংস্কৃতিক কর্মীরা কোথায়?
৩১ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬
এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: সঠিক বলেছেন ।
২|
৩১ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৭
কাঁউটাল বলেছেন: কালচাড়াল বাংগুরা এখন আর আয়না ঘরে নিয়ে চুপ করাইতে পারতেছেন না। হাগু করার স্বাধীনতা আগের চেয়ে কমে গেছে।
৩১ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬
এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: টাকা দিলে সরব আবার হতেও পারে।
৩|
৩১ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মব কালচার চলছে ,
এদের বাগে আনবে কে ?
অবশ্যই রাষ্ট্রকে দ্বায়িত্ব নিতে হবে ।
৩১ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৭
এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: রাষ্ট্র যেখানে নিজেই মব করে
৪|
৩১ শে মে, ২০২৬ রাত ১০:৫২
রানার ব্লগ বলেছেন: হাসিনা এদের লাইসেন্স দিয়ে গেছেন। এদের কে থামাতে হলে তাকে এসেই থামাতে হবে।
©somewhere in net ltd.
১|
৩১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৪১
কাঁউটাল বলেছেন: আয়না ঘর আর নাই।