নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাস্তবতা নিয়ে কথা বলতে চাই।

সৈয়দ মশিউর রহমান

লিখতে চাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে। রাজনীতি,সাংস্কৃতিক বা ধর্মের ব্যাপারে মতামতের ভিন্নতা থাকা সত্বেও মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে আক্রমনাত্বক বা উষ্কানীমূলক কিছু না লিখে সকলের সহনশীলতার পরিচয়ই লেখার উৎকর্ষ সাধনের একমাত্র হাতিয়ার।যদিও লেখার হাত পাকা না। বাংলা মাতৃভাষা হলেও বানানে হয় অনেক ভুল। তার পরেও চেষ্টা করছি কিছু লেখার। সত্য বলার মতো সাহসী লোকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এখন দেখি সবাই দু\'ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কেউ আওয়ামী লীগ কেউবা বিএনপি। সঙ্গত কারণেই লেখা হয়ে উঠে আওয়ামী পন্থী অথবা বিএনপি পন্থী।পন্থী নিয়ে লিখতে লিখতে আমরা মূল স্রোতধারা থেকে ছিটকে পড়ছি। কি লিখছি বোঝাই দায়। মনে হয় কোন দলকে গালি দিচ্ছি।

সৈয়দ মশিউর রহমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ সহজ করতে তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়। ১৮৫০ সালের মধ্যে ইংরেজি ও উর্দুকে ব্রিটিশ ভারতের সরকারি কাজের অন্যতম ভাষা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

যখন সোহরাওয়ার্দী আর শরৎচন্দ্র বসু "বঙ্গভূমি" করতে চাইলে জিন্নাহ বাধা দেয় না। কিন্তু হিন্দু মহাসভা নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী প্রতিবাদ করে বাংলা ভাগ করে ফেললো। কংগ্রেসও শ্যামা প্রসাদকে বাংলা ভাগকে সমর্থন করেছিল। আজকের পশ্চিমবঙ্গকে তারা বাংলার সংগে দিতে মোটেও রাজি ছিলোনা।

জিন্নাহ কখনোই বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় নাই। কিন্তু সেই ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা আমাদেরকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে! জিন্নাহ বহু ভাষাভাষী পাকিস্তান রাষ্ট্রের সরকারি কাজের জন্য একটা ভাষা নির্বাচন করেছেলেন সেটা হলো উর্দু।

জিন্নাহ বলেছিলেন "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার বিষয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গি আরেকটাবার ব্যাখ্যা করেছি। এই প্রদেশের অফিশিয়াল ব্যবহারের জন্য এই প্রদেশের লোকজন যেমনটা চায় তেমন এক ভাষা তারা পছন্দ করতে পারে। এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই। দেশের লোকজন নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে নিজেদের পছন্দমত ভাষা পছন্দ করে নিবে। যাইহোক লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা অর্থাৎ বিভিন্ন দেশের মধ্যে অন্তর যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত ভাষা অবশ্যই উর্দু হতে হবে অন্য কিছু নয়। সুতরাং রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু এবং অবশ্যই উর্দু যা এমন একটি ভাষা যা উপমহাদেশের লাখ লাখ মুসলমানদের নিবিড় পরিচর্যার বেড়ে উঠেছে পাকিস্তানের প্রতিটি কোনায় কোনায়।

অথচ আমাদেরকে কী শেখানো হলো? আমাদের শেখানো হলো ওরা আমাদের মুখের ভাষা বাংলা কেড়ে নিতে চায়! তারা আমাদের শেখালো রাস্ট্রভাষা ও মাতৃভাষা একই। তারা আমাদের জিন্নাহর বক্তব্যের এই অংশটুকু কাঁটছাট করে ভুল বোঝাতে লাগলো।


জিন্নাহ তার ভাষনের একপর্যায়ে আরো বললেন:
যদিও তারা তাদের চেষ্টা থেকে নিরস্ত রাখছে না প্রতিটা দিন একগাদা মিথ্যা বানোয়াট ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে যাতে দেখানো যায় যে মুসলমানদের মধ্যে সৌহার্দ্য নেই এবং তাদেরকে আইন বিরোধী কাজকামে উদ্বুদ্ধ করা যায় সাম্প্রতিকালের ভাষা বিষয়ক বিতর্কের কথায় ধরুন আমি অতি দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি আপনাদের অনেকেই প্রাদেশিকতাবাদের পাতা ফাদে পা দিয়ে ফেলেছেন। আপনাদের মনে কি এটা কখনো জাগে না যে প্রদেশের পত্রিকা সমূহের কাছে পাকিস্তান কেবল একটি অভিশাপের নাম তারাই ভাষার ব্যাপারে আপনাদের অধিকার শেখাতে আসছে এটা কি মনে হয় না যে অতীতে যে মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে কিংবা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে হুট করে ভাষার বিষয়ে সে এখন আপনাদের ত্রাতা হিসেবে আবর্ভূত হচ্ছে আপনাদেরকে অধিকার সচেতন হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শিখাচ্ছে এই ফিফথ কলামিষ্ট থেকে সাবধান হন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার বিষয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গি আরেকটা বার ব্যাখ্যা করেছি এই প্রদেশের অফিশিয়াল ব্যবহারের জন্য এই প্রদেশের লোকজন যেমনটা চায় তেমন এক ভাষা তারা পছন্দ করতে পারে। এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই। দেশের লোকজন নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে নিজেদের পছন্দমত ভাষা পছন্দ করে নিবে। যাই হোক লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা অর্থাৎ বিভিন্ন দেশের মধ্যে অন্তরযোগের জন্য ব্যবহৃত ভাষা অবশ্যই উর্দু হতে হবে। অন্য কিছু নয়। সুতরাং রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু এবং অবশ্যই উর্দু যা এমন একটি ভাষা যা উপমহাদেশের লাখ লাখ মুসলমানদের নিবিড় পরিচর্যার বেড়ে উঠেছে। পাকিস্তানের প্রতিটি কোনায় কোনায়। যে ভাষা অন্য যেকোনো প্রাদেশিক ভাষার চেয়ে লোকে ভালো বুঝতে পারবে। মুসলমানদের কৃষ্টি এবং সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং অন্যান্য ইসলামী রাষ্ট্রের ভাষাগুলোর মোটামুটি কাছাকাছি রয়েছে।

ভারতীয় ইউনিয়ন থেকে উর্দুর বিতরণ এমনকি অফিশিয়াল ব্যবহার থেকে উর্দুকে বাদ রাখা বিনা কারণে ঘটেনি। ভাষা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে যারা জল খোলা করতে চাইছে ব্যাপারটা তাদের অজানা নয়। এ ঝামেলা স্বীকার না করে উপায় নেই। যদিও তারা স্বীকার করবে না। কেননা তা তাদের মনোবাসনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের ভাষা বিতর্ক সৃষ্টির একমাত্র কারণ মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন তৈরি এবং অবাঙালি মুসলমানদের প্রতি ঘৃণার প্রচারণা প্রদান করা। অবশ্য ভাষা বিতর্কে আপনাদের প্রধানমন্ত্রী করাচি থেকে ফিরে যে স্পষ্ট বয়ান দিয়েছেন যে বাঙালিরা ইচ্ছে করলে বাংলাকে অফিশিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ বানাতে পারে শুনে তারা তাদের কর্মপরিকল্পনা পরিবর্তন করেছে এখন তারা চাচ্ছে বাংলাকে পুরো পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বানাতে এবং আরেকটি মুসলমান রাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুর দাবিকে তারা অগাহ্য করছে তারা বলছে বাংলা এবং উর্দু দুটোকে রাষ্ট্রভাষা করতে এ বিষয়ে আপনাদের ভুল করা উচিত নয় রাষ্ট্রের একক স্বার্থে কেবল একটা রাষ্ট্রভাষা থাকতে পারে এবং আমার মতে তা উর্দু হতে পারে। এ বিষয়ে অনেক আলোচনা করেছি আমাদের শত্রুদের এবং কিছু সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ্দের ব্যাপারে। তাই আপনাদের সতর্ক করছি। আপনারা যারা জীবনের বিস্তীর্ণ পথে হাঁটতে যাচ্ছেন তারা নিজেদেরকে এইসব মানুষ থেকে দূরে রাখবেন। যারা আরো কিছুদিন পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন তারা নিজেদেরকে স্বার্থান্বেষী রাজনীতিবিদদের বলির পাঠা হতে দিবেন না।


ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখুন নিজেই বুঝতে পারবেন কীভাবে আমাদেরকে দখলদার ভারতীয় বয়ান মন মনন ও মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য ২৩ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১১

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: জিন্নাহ কখনোই বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় নাই।
.......................................................................................
তাহলে পশ্চিম পাকিস্হানে তখন পান্জাবী ভাষা কেন সেই মর্যাদা পেলনা ?
পুশতু বা বেলুচরা কেন অবহেলিত হবে ?
উনার কি উচিৎ ছিলনা , আন্চলিক ভাষাগুলো অন্চল ভিত্তি মর্যাদা পাবে
এবং দাপ্তরিক ভাষা কেন্দ্রীয়ভাবে সবার জন্য ইংরেজী হবে ।
তাহলে আন্চলিক নেতারা তা মেনে নিতে বাধ্য হতেন ।

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৭

সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: বৃটিশরা ১৮৩৭ সালে উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ সহজ করতে তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়। ১৮৫০ সালের মধ্যে ইংরেজি ও উর্দুকে ব্রিটিশ ভারতের সরকারি কাজের অন্যতম ভাষা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। যেহেতু সেই সময় মুসলিমরা সবাই প্রায় উর্দু জানতো তাই হয়তো জিন্নাহ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

আপনি কি ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখেছেন?

২| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮

নতুন বলেছেন: যখন রাস্ট ভাষা উর্দু হইতো তখন বাংলাভাষার প্রয়োজন কমে যেতো। সরকারী বেসরকারী সকল চাকুরীতেই উর্দু ভাষার দক্ষতার উপরেই জোর থাকতো। বাংলা হইতো অপসনাল বিষয়।

দুনিয়াতে অনেক দেশেই নিজেদের ভাষা/ বর্ণ বাদ দিয়ে অন্য দেশী ভাষা ব্যবহার করছে।

আস্তে আস্তে বাংলাভাষার অবস্থাও তাই হইতো।

আপনি যেহেতু বুঝতে পারেন নাই আর বুঝতে পারবেন ও না। তবুও কমেন্ট করলাম হুদাই। B-)

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: ইংরেজরা ১৮৩৭ সালে উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে। কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ সহজ করতে তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়। ১৮৫০ সালের মধ্যে ইংরেজি ও উর্দুকে ব্রিটিশ ভারতের সরকারি কাজের অন্যতম ভাষা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সেই কারণে ভারতের কোন আঞ্চলিক ভাষা কি বিলুপ্ত হয়েছিল? হয়নি। হিন্দি বাংলা পাঞ্জাবি সহ যত আঞ্চলিক ভাষা আছে কোনটিই হারিয়ে যায়নি।

আপনাদের মন, মনন ও মগজে দখলদার ভারতীয় বয়ান ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে তাই আপনারাও বুঝতে পারবেন না। এই কথাটিই সেই সময় জিন্নাহ বলেছিলেন। পুরোটা পড়েন অথবা ভিডিও পুরো দেখেন তাহলে অবশ্যই বুঝতে পারবেন।

৩| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৯

ভুয়া মফিজ বলেছেন: জিন্নাহর সম্পূর্ণ ভাষণটা শুনলেই সবকিছু পরিস্কার হয়। এর সাথে যদি নিজের জ্ঞান-বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করা যায়, তাহলে বিষয়টা একেবারেই ফকফকা হয়ে যায়। সমস্যা হলো, নিজের জ্ঞান-বুদ্ধিকে কাজে না লাগিয়ে আম্লীগ আর ভারতের দালালরা ভারতের স্বার্থে যে রেটোরিক বয়ান উৎপাদন আর প্রতিষ্ঠিত করে এসেছে আজ অবধি, এর বাইরে যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব না।

এই দালালরা ভারতে হিন্দি কেন কেন্দ্রের অফিসিয়াল ভাষা আর বাংলাভাষী রাজ্যগুলোতে বাংলা কিভাবে কোনঠাসা হচ্ছে দিনকে দিন, সেসব নিয়ে কোন প্রশ্নই করে না।

বহু ভাষাভাষী একটা দেশে কেন্দ্রের একটা ভাষা থাকবে, সেইসাথে অন্চলভেদে আন্চলিক ভাষা চালু থাকবে; এই স্বাভাবিক বিষয়টা বোঝার মতো সক্ষমতা অর্জন করা কি খুবই অসম্ভব ব্যাপার? তখন যদি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা হতো, তাহলে পান্জাবী, বালুচ, কাশ্মিরি, সিন্ধি সবাই একই দাবী তুলতো। আজ যদি সিলেটিরা বা চাকমারা বলে যে তাদের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করতে হবে, তাহলে বাংলাদেশ সরকার কি করবে? :-B

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১

সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: উহাদের ভারতীয় বয়ান মন, মনন ও মগজে এমনভাবে প্রথিত হয়েছে এরা ফকফকা পানির মতো সরল কথা বুঝেও বুঝতে চাচ্ছেনা।



এই কথাটিই জিন্নাহ সেই সময় বলেছিলেন---
যাদের পত্রিকা সমূহের কাছে পাকিস্তান কেবল একটি অভিশাপের নাম তারাই ভাষার ব্যাপারে আপনাদের অধিকার শেখাতে আসছে এটা কি মনে হয় না যে অতীতে যে মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে কিংবা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে হুট করে ভাষার বিষয়ে সে এখন আপনাদের ত্রাতা হিসেবে আবর্ভূত হচ্ছে আপনাদেরকে অধিকার সচেতন হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শিখাচ্ছে এই ফিফথ কলামিষ্ট থেকে সাবধান হন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার বিষয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গি আরেকটা বার ব্যাখ্যা করেছি এই প্রদেশের অফিশিয়াল ব্যবহারের জন্য এই প্রদেশের লোকজন যেমনটা চায় তেমন এক ভাষা তারা পছন্দ করতে পারে। এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই। দেশের লোকজন নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে নিজেদের পছন্দমত ভাষা পছন্দ করে নিবে। যাই হোক লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা অর্থাৎ বিভিন্ন দেশের মধ্যে অন্তরযোগের জন্য ব্যবহৃত ভাষা অবশ্যই উর্দু হতে হবে। অন্য কিছু নয়।

৪| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আমাদের এখানে আইরিশ, স্কটিশ, ওয়েলশ সবার নিজস্ব ভাষা আছে। কিন্তু কেন্দ্রের ভাষা ইংলিশ। এটা নিয়ে তো কেউ ক্যাচাল করে না। কারন যুক্তরাজ্যের পাশে ভারতের মতো কোন হারামী দেশ নাই আর বৃটেইনে কোন দালালও নাই।

আমাদের পিও বঙ্গবন্ধু তো পাহাড়িদেরকে বাঙ্গালী হয়ে যেতে বলেছিল; কেন তাদের বাংলায় কথা বলতে বাধ্য করার এই প্রচেষ্টা? তার মাথায় কি তখন আমাদের ভাষা অন্দোলন ছিল না!!!!! ;)

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: ওহ্ আপনি তো দারুণ কথা বলেছেন---
আমাদের পিও বঙ্গবন্ধু তো পাহাড়িদেরকে বাঙ্গালী হয়ে যেতে বলেছিল; কেন তাদের বাংলায় কথা বলতে বাধ্য করার এই প্রচেষ্টা? তার মাথায় কি তখন আমাদের ভাষা অন্দোলন ছিল না।

এই কথাটি আমার মনে ছিলোনা এটা নিয়েও একটি পোস্ট রেডি করা যায়। আপনি লিখতে পারেন না হলে ছোট পরিসরে আমি লিখবো।

৫| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আপনেই লেখেন, আমার টাইম নাই। তবে সেই লেখায় সিলেটিদের ''রাষ্ট্রভাষা সিলেটি চাই'' আন্দোলনের সমর্থনেও কিছু কথা অবশ্যই লিখবেন!!!!! =p~

৬| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২

অরণি বলেছেন: উর্দু এন্ড উর্দু শ্যাল বি দা স্টেট ল্যাঙ্গুয়েজ অফ পাকিস্তান। ছোট বেলা থেকে শুধু এই কথায় শুনেছি এখন দেখি এ এক ভয়ানক ষড়ষন্ত্র। আগে পিছের কথা বাদ দিয়ে কিভাবে পুরো বিষয়টাকে বিকৃত করা হয়েছে। ভেবে অবাক হচ্ছি।

ডাকসুকে অশেষ ধন্যবাদ তারা যদি জিন্নাহর ছবি না লাগাইতো তাহলে আজেকে এই সত্য উন্মোচিত হতোনা সেই সংগে ধন্যবাদ যুগান্তর পত্রিকাকেও ।

৭| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১

ভুয়া মফিজ বলেছেন: @অরণিঃ কোন একটা সম্পূর্ণ বিষয়ের সুবিধামতো খন্ডিত অংশকে ইতরামির উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হাইলাইট করা একটা ভয়ংকর চক্রান্ত। যারা এটা করে, আর যেসব দালালরা এটাকে প্রোমোট করার কাজ করে; তারা এর মাধ্যমেই সাধারন জনগনকে বিভ্রান্ত করে একটা বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ক্ষেপিয়ে তোলে। অনেক সময় সফলও হয়। এইভাবেই ভারত দীর্ঘদিন আমাদের মগজ ধোলাইয়ের চেষ্টা করে এসেছে। এখন তাদের সব জারিজুরি ধরা পড়ে যাওয়াতে তারা নাখোশ!!!! ;)

পুরো বিষয়টা বোঝার জন্য একটা উদাহরন দেই আপনাকে।

সূরা আল-বাকারাহ এর আয়াত ১৯১ তে বলা হয়েছে........''আর তাদেরকে যেখানেই পাও হত্যা করো এবং যেখান থেকে তারা তোমাদের বের করে দিয়েছে, তোমরাও তাদের সেখান থেকে বের করে দাও..." । এখন ইসলাম বিদ্বেষীরা শুধু এইটুকুই তুলে ধরবে আর বলবে দেখো........বিধর্মীদেরকে হত্যা করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এর আগে-পিছে কি বলা হয়েছে, এই কথার কনটেক্সট কি বা কোন পটভূমিতে আল্লাহ এটা বলেছেন, সেসব কিছু তার বেমালুম এড়িয়ে যাবে। এটাই এদের চালাকি!!!!

৮| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১৩

অরণি বলেছেন: @ভুয়া মফিজ একইভাবে ৩ লক্ষ ৩০ লক্ষ হয়ে গেলো। প্রখ্যাত সাংবাদি সিরাজুল ইসলাম শেখ মুজিবুরকে বললেন দেশ স্বাধীন হয়েছে ৩ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছে মুজিব সেটা অবলীলায় ৩০ লক্ষ বানিয়ে ফেললো। এভাবেই হয়তো হাজারো অজানা সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে ভারতীয় বয়ান ও আওয়ামী দুষ্টচক্রে।

৯| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১৫

নিমো বলেছেন: তাই। আআারও ছেলেমানুষি পাতিহাস নিয়ে হাজির হয়েছেন। সাথে লনৃডনের জনৈক ছাগল তার শিশুতোষ কথামালা নিয়ে হাজির। পূ্র্ব পাকিস্তান কেন কেন্দ্র হলো না? ব্রিটেন নিজেই যেখানে ভাঙার মুখে সেখানে লন্ডনের আবালের উদাহরণটা কৌতুক ছাড়া আর কিছু না। পাহাড়তো দ্বিজাতি তত্ত্ব অনুসারে পাকিস্তানেই হওয়ার কথা ছিল না। কারা যে আগে পিছে উপরে নিচে না দেখে পাতিহাস কপচাতে বসেছে সেটাতো স্পষ্ট। হা!হা!

১০| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১৭

নিমো বলেছেন: গোটা ভিডিওতে একটা ছবি লটকিয়ে অডিও দিলেই প্রমাণ হয়ে যায় না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ডিপফেক দিয়ে এটা বানানো হয় নি সেটার প্রমাণ কী?

১১| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৮

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার লেখা পড়ে বুঝতে পারলাম সে সময়কার বাঙালিরা ভুল বুঝেছিলো জিন্নাহকে । জিন্নাহ সাহেব আসলে খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তার নামে অপবাদ দেয় ভারতীয় দালালেরা ।

১২| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৭

ভুয়া মফিজ বলেছেন: ব্লগে একটা অর্ধ-শিক্ষিত নিমো-কহারাম আছে, যেটা কিনা আবার নিজেকে বিরাট জ্ঞানী মনে করে। আলোচনা হচ্ছে, একটা দেশের রাষ্ট্রভাষার দাবী আর সেইসবের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিহাস বিকৃতি এবং তার বেনিফিসিয়ারীদের নিয়ে; সেইখানে অর্ধ-শিক্ষিতটা নিয়ে আসলো ব্রিটেইনের ভাঙ্গার প্রসঙ্গ। ছাগলটার এটাও জানা নাই যে, একটা দেশের অঞ্চলগুলোর মধ্যে বহুবিধ ইস্যু থাকে আলাদা হয়ে যাওয়ার!!! যখন যুক্তি দিতে পারে না, তখন এইভাবেই এইসব দালালেরা প্রসঙ্গ পাল্টে বিতর্ক অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করে।

অবশ্য এই ধরনের ছাগলগুলো মগজের সেরেব্রামের সামনের অংশের ফ্রন্টাল লোব নামের অঞ্চলটা (যেটা মূলত যৌক্তিক চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, বুদ্ধিমত্তা এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়ী) ইনএকটিভ হয়ে যাওয়ার কারনে স্থায়ীভাবে গাছ বলদে পরিণত হয়। আমি সচেতনভাবে এইসব বলদদেরকে এড়িয়ে চলি, কারন আমার সময়ের দাম আছে। দালাল গোণার সময় বা সুযোগ কোনটাই নাই। দুঃখিত!!!! =p~

১৩| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:০৭

নিমো বলেছেন: @মফিজ, যুক্তি না থাকলেই এসব আবালীয় প্রলাপ দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করা হয়। হা!হা! আপনিতো বু্দ্ধির ঢেঁকি ব্রিটেনের কথা নিজেই এনেছেন, এখন বিতর্ক অন্য দিকে চলে গেছে। আপনি পলায়ন করলেও ইতিহাস বদলে পাতিহাস হবে না। বাংলাদেশও পাকিস্তান হবে না। চেষ্টা করতে থাকুন। =p~ দালালেই দালাল চিনে। ছাপড়িগিরি ছাড়ুন, এতে লন্ডন, ব্লগ সবই পরিস্কার থাকবে। আর একটু লেখাপড়াশোনা করুন, তাতে শিশুতোষ পাতিহাস কপচিয়ে বালখিল্যতার প্রমাণ দিতে হবে না।

১৪| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৬

ভুয়া মফিজ বলেছেন: @নিমোঃ বলদরা যখন ''যুক্তি'' নিয়ে কথা বলে, তখন কৌতুকের মতো শোনায়!!! আমি বৃটেইনের কথা এনেছি ভাষার প্রসঙ্গে প্রাসঙ্গিকভাবেই। আমার মন্তব্য আরেকবার পড়েন, যদিও তাতে আপনার মগজের কোন উন্নতি হবে বলে মনে হয় না। আর আপনি বৃটেইন ভাঙ্গার প্রসঙ্গ এনেছেন, যার সাথে ভাষা সংক্রান্ত কোন রকম কনফ্লিক্টের কোন যোগসূত্রই নাই। বুঝতে কি পারছেন আবালীয় প্রলাপ কে করছে? যদিও সেটা আপনার বোঝার সক্ষমতা নাই; কাজেই আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করার কোন ইচ্ছা আমার নাই। তাছাড়া আগেই বলেছি, গাছ-বলদ জাতীয় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর পেছনে নষ্ট করার মতো সময়ও আমার নাই।

ছাপড়িগিরিকে তো আপনারা আর্টের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন। আপনাদের তুলনা নাই। আর লন্ডন নিয়ে বেশি চিন্তা করবেন না, বরং ব্লগ নিয়েই ভাবেন। দেশ থেকে লাথি দিয়ে আপনাদেরকে গুষ্ঠিসুদ্ধ ভাগানোর পরে এই ব্লগজাতীয় মাধ্যমগুলোই আপনাদের শেষ ভরসা, কান্নাকাটি করার জন্য। আর হ্যা, আমাকে উপদেশ না দিয়ে নিজেই আরো পড়ালেখা করেন, দেখেন দালালির পেশা বাদ দিয়ে অন্য কোন পথে আয়-রোজগার করতে পারেন কিনা!!!! :P

@মশিউরঃ আপনার পোষ্টে যে অর্ধ-শিক্ষিত নিমো-কহারামদের উৎপাত আছে, এইটা তো আগে বলেন নাই!!! এদের অঢেল সময় আছে কান্নাকাটি করার, আর ফাউল টক করার; আমার তো তা নাই। এখন বাকী সময়টা এই গাছ বলদদেরকে আপনিই সামলান, আমি বিদায় নেই। অফিসে কাজের ফাকে ফাকে যে সময় পাই, তা এদের পিছনে নষ্ট করার কেন মানে হয়? B:-)

১৫| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪

নিমো বলেছেন: @মফিজ, আহারে!যুক্তির ভান্ডার। ভাষার প্রসঙ্গ ব্রিটেন ভাঙাতেও আছে খালি লন্ডনে গাছের উপর বসে না ৎেকে একটু স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ঘুরে আসুন। পলায়ন করাই আপনার পাকি বাপ, জা-শু বাপদের বৈশিষ্ট্য। দেশে কোন আকাম কুকাম করেই লন্ডনে পালিয়েছেন সন্দেহ নাই। আমি দেশেই আছি গুস্টিসহ। সবাইকে নিজের মত ভাবলে হবে। সম্প্রতি বোধহয় মগজ পঁচা রোগে ধরেছে। দোয়া করি দ্রুত সুস্থ হন। :P

১৬| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪

নিমো বলেছেন:
ব্রিটেনে (যুক্তরাজ্য) ভাষা সংক্রান্ত সমস্যা বা ভাষাভিত্তিক বৈচিত্র্য ও দ্বন্দ্ব একটি বহুমাত্রিক বিষয়। ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক এবং অভিবাসনগত কারণে এটি একটি জটিল রূপ নিয়েছে।
যুক্তরাজ্যে ভাষা সংক্রান্ত প্রধান সমস্যা ও বিষয়গুলো নিচে কয়েকটি ভাগে আলোচনা করা হলো:
১. ঐতিহাসিক আঞ্চলিক ভাষা বনাম ইংরেজি
যুক্তরাজ্যের মূল ভাষা ইংরেজি হলেও এর অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন অঞ্চলের নিজস্ব ঐতিহাসিক ভাষা রয়েছে। এগুলোকে কেন্দ্র করে এক ধরনের ভাষাগত ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে:
ওয়েলশ ভাষা (Welsh): ওয়েলসে ওয়েলশ ভাষাকে টিকিয়ে রাখার জন্য দীর্ঘ লড়াই হয়েছে। বর্তমানে এটি সেখানে ইংরেজির পাশাপাশি সরকারি ভাষার মর্যাদা পেলেও ইংরেজিভাষী এবং ওয়েলশভাষীদের মধ্যে মাঝেমধ্যে সামাজিক ও শিক্ষাগত বিভাজন দেখা যায়।
স্কটিশ গ্যালিক (Scottish Gaelic): স্কটল্যান্ডের এই ঐতিহ্যবাহী ভাষাটি এখন বিলুপ্তির পথে। এটি রক্ষায় সরকারি খরচ বাড়ানো হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এর ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
আইরিশ ভাষা (Irish): উত্তর আয়ারল্যান্ডে আইরিশ ভাষা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক বিষয়। এটি সেখানকার জাতীয়তাবাদী (যারা আয়ারল্যান্ডের সাথে যুক্ত হতে চায়) এবং ইউনিয়নিস্টদের (যারা ব্রিটেনের সাথে থাকতে চায়) মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতীক।
২. অভিবাসন ও বহুভাষিকতা (Multilingualism)
যুক্তরাজ্য বিশেষ করে লন্ডন, বার্মিংহাম এবং ম্যানচেস্টারের মতো বড় শহরগুলো এখন অত্যন্ত বহুভাষিক। এশিয়ান (বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয়), আফ্রিকান এবং পূর্ব ইউরোপীয় অভিবাসীদের কারণে এখানে শত শত ভাষা বলা হয়। এর ফলে যে সমস্যাগুলো দেখা দেয়:
যোগাযোগের ঘাটতি: অনেক বয়স্ক বা নতুন অভিবাসী ইংরেজি ভালোভাবে বলতে পারেন না, যা স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সুবিধা এবং সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
অনুবাদ ও দোভাষী খরচ: সরকারি হাসপাতাল (NHS) এবং আদালতে বিভিন্ন ভাষার মানুষের জন্য দোভাষী ও অনুবাদক রাখতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হয়, যা নিয়ে স্থানীয় করদাতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
৩. উপভাষা ও সামাজিক বৈষম্য (Accents and Dialects)
যুক্তরাজ্যের ভেতরেই ইংরেজির শত শত উপভাষা বা অ্যাকসেন্ট (Accent) রয়েছে (যেমন- ককনি, জর্ডি, স্কলাউস ইত্যাদি)।
শ্রেণি বৈষম্য: ব্রিটেনে মানুষের অ্যাকসেন্ট বা কথা বলার ধরন দেখে তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণি বিচার করার একটি প্রবণতা রয়েছে। একে "অ্যাকসেন্ট প্রিজুডিস" (Accent Prejudice) বলা হয়।
চাকরির বাজারে প্রভাব: ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড ইংরেজি (Received Pronunciation - RP) ছাড়া অন্য আঞ্চলিক টানে কথা বললে অনেক সময় করপোরেট চাকরিতে বৈষম্যের শিকার হতে হয়।
৪. ইংরেজি শিক্ষার অভাব (ESOL - English for Speakers of Other Languages)
যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী অনেক অভিবাসীর জন্য ইংরেজি শিক্ষার (ESOL) পর্যাপ্ত সরকারি বাজেট বা সুযোগের অভাব রয়েছে। এর ফলে তারা মূলধারার সমাজ ও অর্থনীতির সাথে পুরোপুরি যুক্ত হতে পারেন না, যা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা (Social Isolation) তৈরি করে।
আপনি কি ব্রিটেনের অভিবাসীদের ভাষা শিক্ষার সমস্যা নিয়ে জানতে চাচ্ছেন, নাকি আঞ্চলিক ভাষাগুলোর (যেমন ওয়েলশ বা স্কটিশ) রাজনৈতিক সংকট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান? বিষয়টি জানালে আমি নির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারব।
AI responses may include mistakes. Learn more




যুক্তরাজ্যের (UK) অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর আঞ্চলিক ভাষা (যেমন: ওয়েলশ, স্কটিশ গ্যালিক এবং আইরিশ) কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এগুলো গভীর রাজনৈতিক সংকট, জাতীয়তাবাদ এবংIdentity বা পরিচয়ের লড়াইয়ের সাথে যুক্ত।
নিচে এই আঞ্চলিক ভাষাগুলোর রাজনৈতিক সংকটের প্রধান দিকগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. উত্তর আয়ারল্যান্ড: আইরিশ ভাষা এবং রাজনৈতিক বিভাজন
যুক্তরাজ্যের মধ্যে ভাষাগত রাজনীতি সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং সহিংস ইতিহাসের মুখোমুখি হয়েছে উত্তর আয়ারল্যান্ডে।
রাজনৈতিক প্রতীক: এখানে আইরিশ (Irish Gaelic) ভাষাটি কেবল একটি ভাষা নয়, এটি চরম রাজনৈতিক প্রতীক। ক্যাথলিক বা জাতীয়তাবাদীরা (যারা আয়ারল্যান্ডের সাথে যুক্ত হতে চায়) আইরিশ ভাষাকে তাদের পরিচয়ের মূল ভিত্তি মনে করে। অন্যদিকে, প্রোটেস্ট্যান্ট বা ইউনিয়নিস্টরা (যারা যুক্তরাজ্যের অংশ থাকতে চায়) এটিকে তাদের ব্রিটিশ সংস্কৃতির প্রতি হুমকি হিসেবে দেখে।
আইনগত লড়াই: বছরের পর বছর ধরে চলা রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর ২০২২ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে "Identity and Language (Northern Ireland) Act" পাস হয়, যা আইরিশ ভাষাকে সরকারি মর্যাদা দেয়। তবে এটি কার্যকর করা এবং সাইনবোর্ডে আইরিশ ভাষার ব্যবহার নিয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে।
২. ওয়েলস: ওয়েলশ ভাষা ও স্বাধিকার আন্দোলন
যুক্তরাজ্যের মধ্যে ওয়েলশ (Welsh) ভাষা রক্ষার আন্দোলন সবচেয়ে সফল হলেও এটি বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বাধ্যতামূলক শিক্ষা বনাম ক্ষোভ: ওয়েলস সরকার ২০৫০ সালের মধ্যে ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) ওয়েলশভাষী তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর অংশ হিসেবে স্কুলে ওয়েলশ ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং সমস্ত সরকারি চাকরি ও সাইনবোর্ডে এটি ব্যবহার করা হয়।
রাজনৈতিক সংকট: এই নীতির কারণে একটি বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওয়েলসের অনেক ইংরেজিভাষী বাসিন্দা মনে করেন, ওয়েলশ ভাষা না জানার কারণে তারা সরকারি চাকরিতে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এটিকে অনেকে ওয়েলশ জাতীয়তাবাদী দলগুলোর (যেমন- Plaid Cymru) একটি রাজনৈতিক চাল হিসেবে দেখেন, যা সমাজকে দুই ভাগে ভাগ করছে।
৩. স্কটল্যান্ড: স্কটিশ গ্যালিক এবং স্বাধীনতার রাজনীতি
স্কটল্যান্ডে মূলত দুটি আঞ্চলিক ভাষা রয়েছে—স্কটস (Scots) এবং স্কটিশ গ্যালিক (Scottish Gaelic)। এর মধ্যে গ্যালিক ভাষাকে কেন্দ্র করে রাজনীতি বেশি দৃশ্যমান।
জাতীয়তাবাদের হাতিয়ার: স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (SNP), যারা স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই করছে, তারা স্কটিশ গ্যালিক ভাষাকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য প্রচুর সরকারি তহবিল বরাদ্দ করেছে। যেমন—পুলিশের গাড়ি এবং রেল স্টেশনে গ্যালিক ভাষায় নাম লেখা।
অর্থনৈতিক বিতর্ক ও সংকট: স্কটল্যান্ডের মাত্র ১% মানুষ এই ভাষায় কথা বলে। তাই ইউনিয়নিস্ট বা স্বাধীনতা-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, SNP সরকার মূল অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা থেকে জনগণের চোখ সরাতে এবং কৃত্রিমভাবে 'ব্রিটিশ বিরোধী' জাতীয়তাবাদ উস্কে দিতে গ্যালিক ভাষার পেছনে কোটি কোটি পাউন্ড অপচয় করছে।
সংকটের মূল সারসংক্ষেপ
যুক্তরাজ্যের আঞ্চলিক ভাষাগুলোর রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ হলো "Identity Politics" বা পরিচয়ের রাজনীতি। লন্ডন-কেন্দ্রিক ব্রিটিশ সরকার ঐতিহাসিকভাবে ইংরেজি ভাষাকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এখন স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের আঞ্চলিক সরকারগুলো তাদের ভাষার পুনরুদ্ধারকে লন্ডনের শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার বা নিজেদের আলাদা জাতীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

১৭| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৭

নিমো বলেছেন: লন্ডন-কেন্দ্রিক ব্রিটিশ সরকার ঐতিহাসিকভাবে ইংরেজি ভাষাকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এখন স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের আঞ্চলিক সরকারগুলো তাদের ভাষার পুনরুদ্ধারকে লন্ডনের শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার বা নিজেদের আলাদা জাতীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। কী বোঝা গেল রে মফিজ

১৮| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫

মেঠোপথ২৩ বলেছেন: একটা রাস্ট্রে রাস্ট্রভাষা থাকতে হয় ।আয়তন হিসাবে যেহেতু পশ্চিম পাকিস্তান বৃহৎ ছিল তাই স্বাভাবিক ভাবেই জিন্নাহ উর্দুকেই রাস্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বরাবরই সচেতন এবং প্রতিবাদী। তাই কার্জন হলে সেদিন ছাত্ররা জ্বলে উঠেছিল এটাও সত্য । তবে জিন্নাহর মৃত্যু ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ সালে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ছাত্রদের মৃত্যূতে জিন্নাহর কোন ভুমিকা ছিল না। ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটা অন্যতম মাইলফলক। এই আন্দোলনের বিরুদ্ধচারন কেউ করেছে বলে দেখিনি।

ইতিহাসকে বিচার করতে হয় নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে। মুসলিমদের জন্য জিন্নাহ যা করে গেছেন তা কোণভাবেই অগ্রাহ্য করার কোন উপায় নাই। নীপিড়িত ভারতের মুসলিমদের জিজ্ঞাষা করে দেখেন যে, তারা কেমন আছে নিজ মাতৃভুমিতে। তাহলেই জিন্নাহকে বোঝা সহজ হবে। ভাষা আন্দোলন সম্পুর্ন ভিন্ন একটা প্রেক্ষাপট। দুটো গুলিয়ে ফেলার কোন সুযোগ নাই। ভাষা আন্দোলনকে ইউজ করে জিন্নাহ বিদ্বেশী বয়ান তৈরীর উদ্দেশ্য এখনও যদি আমরা না বুঝতে পারি তাহলেতো সমস্যা। তবে আশার কথা যে, আজকের এআই যুগে তরুনদের অন্ধকারে রাখার কোন উপায়ই নাই।

১৯| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৫

মেঠোপথ২৩ বলেছেন: ব্লগার নিমো সাহেবের পাতিহাস পইড়া মনে হল যে, জিন্নাহ সাহেবের সেইদিন বলা উচিত ছিল '''Bangla alone would be the state language and sole lingua franca for Pakistan .''!!! =p~ একমাত্র তাইলেই জিন্নাহকে প্রসংসা করা যাইতে পারে। যেহেতু সে তা বলে নাই তাই মুসলিমদের জন্য তার পুর্বেকার বছরের পর বছর লড়াই বা অবদানের কথা আমাদের ভুলে যেতে হবে!!

নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার করতে গেলে বলতে হয় রাস্ট্র ভাষার বিষয়ে রাজনীতিবিদ জিন্নাহর দৃষ্টিভঙ্গি যেমন তার দিক থেকে সঠিক আবার ঢাবির সচেতন ও প্রতিবাদী ছাত্রদের ঋনাত্মক প্রতিক্রিয়াও খুবই স্বাভাবিক ছিল। তাই এই একটি্মাত্র ভাষন দিয়ে জিন্নাহকে সমালোচনা করার কোন সুযোগই নাই। এই ভাষন তিনি দিয়েছিলেন ১৯৪৮ সালের ২৪শে মার্চ এবং এর মাত্র কয়েক মাস পরেই ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ সালে তিনি মৃত্যূবরন করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাথে তার কোন সম্পর্কই নাই। অথচ এই দেশের মুরুক্ষ ছাত্রদল না বুঝে এবং বামদল জেনেশুনেই মিথ্যাচার করছে যে, জিন্নাহ ভাষা আন্দোলনের বিরুদ্ধচারন করেছিলেন!!!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.